Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩১

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩১

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩১
Sadiya Jahan Simi

ধীর কদমে পা ফেলে নিজের রুমের দিকে চলল উদ্যান। রুমে ঢুকে আলো জ্বালাতেই সহসা ভ্রু কুঁচকে গেল তার। সকালে তো রুম গোছানো দেখে গিয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা নিজের হাতে গুছিয়েছিল রুম। কিন্তু এখন সেটা আস্ত একটা কারখানায় যেন পরিণত হয়েছে। বিছানার ধবধবে সাদা চাদরটি কুঁচকে আছে। দুটো বালিশ একসাথে রাখা ছিল যা এখন একটি খাটের কিনারায় এবং অন্যটি আরেক প্রান্তে। প্রায় অর্ধেক বালিশ বেডের বাইরে। একটু নড়েচড়ে উঠলেই তার স্থান হবে ফ্লোরে। কমফোর্টারটি পুরো বেড জুড়ে সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। মেঝেতে পটোটো চিপসের প্যাকেট দুই তিনটে। জানালা সম্পূর্ণ হা করে খুলে রাখা। সাদা পর্দা গুলো মৃদু বাতাসে দুলছে। জানালার ফাঁক গলে ডিসেম্বরের কনকনে ঠান্ডা হাওয়া বয়ছে রুমে। সোফার কুশন গুলো একটাও তার জায়গায় নেই। বিছানায় একটা আর বাকিগুলো ফ্লোরে। পুরো রুমের যা – তা অবস্থা।‌ বুকশেলফ এর বই এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। উদ্যান পুরো রুম অবলোকন করে ভ্রু কুঁচকে বিড়বিড় করে বলল,

” তার রাগ সব যেন আমাকে না পেয়ে রুমের উপর চালিয়েছে।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাতের মুঠোয় ধরে রাখা এপ্রোনটা রেখে দাঁড়ায়। বিছানা গুছানোর জন্য এগিয়ে যায় সেদিকে। কমফোর্টারটি হাতে নিতেই কিছু একটা ভেবে রেখে দিল। ইন করা সাদা শার্টটা বের প্যান্টের উপর ফেলল। ওয়াচ খুলে রাখল ড্রেসিং টেবিলের উপর। একে একে শার্টের প্রতিটি বোতাম দক্ষ হাতে খুলল। তারপর তাওয়াল নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায় ওয়াশরুমে। সারাদিনের ক্লান্তি পানির সাথে ধুয়ে যাবে।

মিনিট পাঁচেক বাদেই বেরিয়ে এলো ফ্রেশ হয়ে। গলায় তাওয়ালটা ঝুলছে। এলোমেলো অবিন্যস্ত ভেজা চুলগুলো ছড়িয়ে আছে কপালে। পানির কোনাগুলো কাঁধ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। চুল থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে । যেন তড়িঘড়ি করে কোনোরকম ফ্রেশ হয়েই বেরিয়েছে। আলমারি খুলে কালো হুডি আর কালো জিন্স বের করে পরে নিল।একটা আলাদা ভাইব চলে এসেছে। ভেজা চুলগুলো হেয়ার ড্রায়ারের হালকা গরম বাতাসে শুকাতে শুকাতে আঙুল দিয়ে সেট করে নিল,একটু এলোমেলো, কিন্তু ঠিকঠাক স্টাইলিশ। ওয়াচ কালেকশন থেকে আরেকটি ওয়াচ বের করে পরে নিল। সবশেষে পারফিউম স্প্রে করে সম্পূর্ণ রেডি হয় উদ্যান। ওয়ালেট পকেটে ঢুকিয়ে গম্ভীর হয়ে বেরোয় রুম থেকে।
উদ্যানের পদযুগল থামল রাফসার রুমের নিকট। দরজা ভেজিয়ে রাখা। আলগোছে মৃদু ধাক্কা দিতেই তা খুলে গেল। রুমের ভেতর অন্ধকার বিরাজমান। দক্ষিণ দিকের জানালাটা খোলা। পর্দাগুলো দুই পাশে টেনে দেওয়া। মাঝখান দিয়ে বাইরের সোডিয়ামের আলোটুকু জানালা ভেদ করে ঘরে সোনালী আলোয় ঝলমল করছে একটুখানি। ভেতরে ঢুকেই উদ্যান নিঃশব্দে দরজা লক করে ঘরে আলো জ্বালিয়ে দেয়। মুহূর্তেই পুরো ঘর দিনের আলোর মতো ফকফকা ফর্সা হয়ে উঠল। উদ্যানের দৃষ্টি স্থির হয় বেডে। মুহূর্তেই ভ্রু কুঁচকে এলো তার। কপালে কয়েক স্তর ভাঁজ পড়ল।

বেডের মাঝখানে শুয়ে আছে রাফসা। মাঝখানে বললে ভুল হবে। মাথাটা বেডের এক কোণে হালকা করে বালিশে ঠেকিয়ে রাখা। পা জোড়া খাটের আরেক প্রান্তে। মাঝখানে শুধু তার কোমড়টাই রয়েছে। পা হতে মাথা অব্দি কম্বল মুড়ি দেওয়া।রাফসার এহেন ঘুমানোর স্টাইল দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে উদ্যান। এতো বড় বেড নিজে একলাই পুরো জায়গাটা দখল করে কেমন করে ঘুমাচ্ছে। নিজের ভবিষ্যৎ ভেবে শুকনো ঢোক গিলে উদ্যান। ঠোঁট বাঁকিয়ে আওরাল।
” আমার জায়গা বেডে হবে বলে মনে হচ্ছে না। তার একাই আস্ত একটা বেড লাগে। সে জায়গায় আমার স্থান পাওয়া বিলাসীত মাএ।” নাক মুখ কুঁচকে এগোয় সেদিকে।এক হাতছ ধীরে সুস্থে মাথা থেকে কমফোর্টার সরিয়ে দিল। মুহূর্তেই দেখা যায় শ্যামলা বর্ণের এক অধিকারীনিকে। ঘন পাপড়ি যুক্ত চোখজোড়া একদমই স্থির হয়ে আছে। ভ্রু যুগোল কুঁচকানো।যেন ঘুমের মধ্যে বিরক্ত সে। পুরো মুখ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে উদ্যানের দৃষ্টি এসে আটকে গোলাপের পাপড়ি ন্যায় ঠোঁটে। পাতলা অধর জোড়া খানিকটা ফাঁক হয়ে আছে। সেদিকে ক্ষয়িৎকাল তাকিয়ে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে আনলো। নড়েচড়ে বসল সে। গম্ভীর গলায় ডাক দিল এইবার।

” এই যে উঠুন মেডাম। আর কত ঘুমাবেন! আমার রুম লন্ডভন্ড করে আরামে ঘুমোনো হচ্ছে?” উদ্যানের ভারিক্কি কন্ঠেও জেগে উঠেনি রাফসা। উল্টো নড়েচড়ে কমফোর্টার আরেকটু টেনে নিল নিজের দিকে। হাত দুটো একসাথে করে মাথার নিচে রেখে পুনরায় ঘুমে তলিয়ে গেল। উদ্যান এতোক্ষণ যাবত গতিবিধি দেখে চুপ ছিল। হয়তো চোখ খুলবে ভেবেই তাকিয়ে ছিল। কিন্তু এই মেয়ে তো নড়েচড়ে আবার ঘুমাচ্ছে। এতে ভ্রু কুঁচকে যায় তার। হুট করেই বসে গেল বিছানার এক কোণে। খানিকটা ঝুঁকে পরে রাফসার পানে। দুই হাত বালিশের দুই পাশে নিবদ্ধ হলো তার। রাফসা উদ্যানের দুই হাতের মাঝে বন্দি। ভ্রু কুঁচকে বলল,
” আপনি উঠবেন নাকি আমায় কিছু করতে হবে ব্লিডিং হার্ট?”
এতেও নড়চড় নেই রাফসার। সে অতল ঘুমের মধ্যে তলিয়ে গেছে যেন। উদ্যান ঠাঁই সেভাবেই বসে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে আরো খানিকটা ঝুঁকে এলো। রাফসার বন্ধ চোখজোড়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। বলল,

” মিসেস রাওদ আর কত ঘুমাবেন? পুরো রাত পড়ে আছে ঘুমোনোর জন্য। বাড়িতে হাসবেন্ড এসেছে, সেই খবর নেই। এটা আপনার বাবার বাড়ি নয় মিসেস। শ্বশুর বাড়িতে আছেন আপনি। হাসবেন্ডে হসপিটাল থেকে ফিরেছে,তার সেবা করবেন। সেটা না করে ঘুমাচ্ছেন?”
উদ্যান কিছু একটা ভেবে ঠোঁট ছোঁয়ায় রাফসার কপালে। শুষ্ক একটা চুমু। শরীর যেন খানিকটা কেঁপে উঠলো রাফসার। কপাল থেকে ঠোঁটজোড়া নেমে এলো গালে। হালকা করে ঠোঁট ছুঁয়ে বিড়বিড় করে বলল,
” আরো চায়! এক্ষুনি চোখ না খুললে নেক্সট স্টেপগুলো শুরু করব।”
রাফসা যেভাবে ছিল সেভাবেই রইলো। একবিন্দুও নড়েচড়েনি। উদ্যান আরো দু মিনিট তাকিয়ে বলল, ” ওকেহ এজ ইউওর উইস। ইউ ওয়ান্ট মি টু কিস ইউ। আই হ্যাভ নো প্রবলেম।” এবার কাজ করল উদ্যানের কথায়। তড়াক করে চোখজোড়া খুলে ফেলল রাফসা। কমফোর্টারটি নাক অব্দি টেনে নিল। ঘন পাপড়ি যুক্ত চোখগুলো কেমন কেঁপে কেঁপে উঠছে। আতংক কন্ঠে আওড়াল।

” দূরে সরুন অশ্লীল লোক। বলেছিনা কাছে আসবেন না? সরুন এক্ষুনি।”
” দূরেই তো ছিলাম। এতো বার করে ডাকলাম আপনি উঠেননি।তাই সামান্য কিছু.”
রাফসা ধমকে উঠলো। ” চুপ। কেন এসেছেন আমার রুমে! পারমিশন ছাড়া রুমে ঢুকেছেন কেন?”
উদ্যান সোজা হয়ে বসে। তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলল, ” আপনার পা থেকে মাথা অব্দি সবটুকুই আমার অধিকার। সেখানে রুমে ঢুকতে পারমিশন নিতে হবে!”
রাফসা বিরক্ত হয়ে উঠে বসল। সে ঘুমিয়ে ছিল ঠিকই। রুমে কারো উপস্থিতি ঘুমের মধ্যে টের পাওয়া মাএই ঘুম ভেঙ্গে যায়। বরাবরই রাফসার ঘুম একবারে হালকা। রুমে কে এসেছে সেটাও বুঝতে পেরেছে। বুঝেই ওমন ঘাপটি মেরে ঘুমের ভান করে শুয়ে রইলো। উদ্যান ডাকার পরেও সাড়া দেয়নি। ভেবেছে না উঠলেই চলে যাবে। কিন্তু এই লোক তো ওর থেকেও এক কাঠি উপরে। রাফসা এতোক্ষণ যাবত দম খিচে রেখেছিল। উদ্যানের পরবর্তী কথা শুনে আর সাহস হয়নি শুয়ে থাকার। বুক কাঁপছে এখনো রাফসার। কি সাংঘাতিক লোক এটা।
নাক মুখ কুঁচকে বলল, ” সমস্যা কি! কাজ থেকে ফিরেছেন নিজের রুমে থাকুন না। মানুষের রুমে এসে এমন করার মানে কি?”

উদ্যান শুনলো রাফসার বিরক্তমাখা কথাগুলো। ভ্রু নাচিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
” মানুষের রুমে আসেনি। বউয়ের রুমে এসেছি।”
রাফসা রেগে বলল, ” বেরিয়ে যান আমার রুম থেকে।”
উদ্যান তাকিয়ে রইল ওর দিকে। নিজের দিকে তাকালে মাঝেমধ্যে আফসোস হয়। চার আনার দামটুকু দেয়না এই মেয়ে। ভারিক্কি কন্ঠে শুধায়,
” এই রুম থেকে আমার রুমে নিয়ে যেতে এক সেকেন্ড লাগবে না। জাস্ট টাইম দিচ্ছি গুছিয়ে নিতে। নয়তো সে কবেই আপনার এই নাম মাএ রুম থেকে বিদায় হতো।”
” আপনার রুমে যেতে আমি মরে যাচ্ছি যেন!”
” সেটা সময় হলে বোঝা যাবে। আর তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে নে। শপিংয়ে যাবো।”
রাফসা ভ্রু কুঁচকে বলল, ” কিসের শপিং! এখন কেন শপিংয়ে যাবো?”
” মিমের বিয়ের শপিং। সবার করা শেষ। এখন আমরা হাসবেন্ড – ওয়াইফ বাকি।”
উদ্যানের কথায় ঠোঁট বাঁকালো রাফসা। শপিংয়ে যায়নি ফ্রেন্ডসদের সঙ্গে দেখা করার জন্য। এটা ভাবেতেই কেমন হাসি ফুটে উঠল রাফসার মুখে। ওরা কি জিনিয়াস। এতো বড় ছেলেকে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছিল! ভিডিওটা গ্ৰুপে দিতে হবে। শপিংয়ে না যাওয়ার জন্য একটু আফসোস হচ্ছিল রাফসার। নতুন কিছু কিনতে পারলেই খুশিতে যেন সাগরে ভাসে সে। রাফসাকে এমন একলা একলা হাসতে দেখে ভ্রু কুঁচকালো উদ্যান। এই মেয়ে এমন করে হাসছে কেন!

গম্ভীর গলায় বলল, ” এভাবেই হাসছিস কেন?”
উদ্যানের কথায় মুখ স্বাভাবিক করে নিল রাফসা। কমফোর্টারটি সরিয়ে অলসতায় উঠে দাঁড়ালো। বলল,
” আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। আপনি আসুন এখন।”
রাফসার কথা যেন কানেই নিল না উদ্যান। ঠাঁই বসে রইল একইভাবে। এতে ভ্রু কুঁচকে রাফসা জিজ্ঞেস করল,
” কি হলো! আমি আসছি, আপনি যান।”
” আমি এখানেই আছি। ফাস্ট রেডি হয়ে আয়।”
নাক মুক কুঁচকে রাফসা ফ্রেশ হতে চলে যায়। উদ্যান লম্বা একটা শ্বাস ফেলে পকেট থেকে ফোন বের করল। মিনিট পাঁচেক পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো রাফসা। হাত মুখ মুছে ময়শ্চারাইজার দিল। আলমারি খুলে একটা কালো বোরকা আর হিজাব বের করে আনলো। তারপর ভাঁজ করে রাখা বোরকা গুলো একে একে গুনল। রিশান বার্থডে গিফট হিসেবে আঠারোটা বোরকা দিয়েছিল,এসব সে বোরকা গুলো। আলমারিতে এখন আঠারো থেকে নয়টা বোরকা আছে। বাকি নয়টা ঊষা, জারা, মাইশা ওদের তিনটা করে দিয়েছে। উদ্যান এতোক্ষণ যাবত রাফসার দিকে তাকিয়ে ছিল। মুখটা কেমন করে রেখেছে যেন। গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল,

” কি হয়েছে?”
” আঠারোটা বোরকা থেকে এখন নয়টা আছে।”
রাফসার কথায় ভ্রু কুঁচকে যায় উদ্যান। তিন মাসে বোরকা গায়েব! বলল,
” আর নয়টা কোথায়?”
” আপুদের দিয়েছি। আরো কয়েকটা বোরকা নিতে পারলে হতো।”
” আমি আর কিনে দিব না বোরকা। নিজের টাকায় কিনে নে।” উদ্যানের এহেন কথায় পেছনে ফিরে রাফসা। অবাক হয়ে বলল, ” আপনি কিনে দিয়েছেন নাকি? ভাইয়া দিয়েছে সব।”
” এগুলো আমি বিদেশ থেকে কুরিয়ার করে পাঠিয়েছিলাম। তোর আঠারো তম জন্মদিনে। আসতে লেইট হয়েছিল। তাই তো বার্থডের এতো দিন পর রিশান এগুলো দিয়েছিল।”
উদ্যানের কথায় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল রাফসা। এসব উদ্যানের দেওয়া! কোনো আন্দাজই করতে পারেনি। আলমারির দিকে তাকিয়েই ভুলে গেল উদ্যানের কথা। আলমারিটা বন্ধ করে আফসোস করে বলল,
”ইশ্ আমার যদি অনেক গুলো বোরকা থাকতো। আমার স্বপ্ন চারদিকে বোরকা থাকবে। আলমারি – ওয়্যাড্রভ বোরকা ভর্তি থাকবে।”

উদ্যান রামসার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকালো কেমন করে। ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল, ”কতটা বোরকা আপনার আলমারি – ওয়্যাড্রভ ফিলাপ হবে?”
”এই যে হবে একশ বোরকা।”
উদ্যান কিছু একটা ভেবে আচমকা বলে উঠলো, ”আমি নিয়ে দিব বোরকা। কিন্তু একটা শর্ত আছে।” উদ্যানের এহেন কথায় পেছনে ফিরে রাফসা। বোঝার চেষ্টা করছে কি বলেছে এই লোক। রাফসার দৃষ্টি দেখে উদ্যান পুনরায় বলল,
” একশটা বোরকা আমি নিয়ে দিব। বিনিময়ে কিছু চাই। রাজী হলে ডিল ফাইনাল।”
রাফসা ভ্রু কুঁচকে শুধায়, ” ফাজলামো করেন আমার সাথে! নিজেকে উপন্যাসের নায়ক মনে করেন? আমি বলাতেই একশোটা বোরকা এনে দিবেন। এসব উপন্যাসে হয় বাস্তবে নয়।”
” হুঁ বাস্তবে হয়। হাজারে একজন। এন্ড সে একজনটা আমি হতে চাইছি। ডাক্তারের কি টাকার অভাব! একজন রোগী এলেই কমে পাঁচ হাজার টাকা আর্ন হয়।”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩০

” সেটা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আপনার লাভ কি!”
” লাভ অবশ্যই আছে। উদ্যান রাওদ ফরাজী লাভ ছাড়া কাজ করে না কখনো। এন্ড উপন্যাসের কোনো নায়কের সঙ্গে আমাকে জড়াবি না। আমি শুধু আমিই।”
রাফসা নাক মুখ কুঁচকে বলল, ” ঢং দেখলে গা জ্বলে।”
” ওকেহ রেডি হয়ে নে। আজ এতো শপিং করে দিবো তোর সব ধারণা ভেঙ্গে যাবে। এন্ড আমি হিরো নই জান আ‘ম ভিলেন।”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩২