Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩৪

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩৪

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩৪
নওরিন কবির তিশা

সুদীর্ঘ তমসাচ্ছন্ন রজনীর সমাপ্তি ঘটিয়ে নীলিমা রাঙালো ভোরের অরুণরাগ।স্নিগ্ধ হিরণ্ময় দ্যুতি ধরিত্রীর অবহেলিত ধূলিকণা হতে বনস্পতির পল্লবশীর্ষ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত হয়েছে। তবে তৃষার কাছে আজকের এই প্রভাতটি অন্য দিনগুলোর মতো সাধারণ হয়ে আসেনি। বড্ড বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করতেই আজ এ নতুন সূর্যোদয় হয়েছে বোধহয়। ঝটপট সকালের নাস্তা সেরে, টুইঙ্কেলকে খাওয়াতে মগ্ন তৃষা। পাশেই নিজ মনে প্রাতঃরাশ সারছে আর্য দৃষ্টি নিবদ্ধ মোবাইল স্ক্রিনে।
আর্যর নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় তৃষার পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে। ও মনে মনে ওকে অনবরত গালমন্দ করতে লাগল,

‘অসভ্য লোক! ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের দোকানদার একটা! সামনে এমন ভান করছে যেন ও দুনিয়ার সবচাইতে বড় সাধু, অথচ মনে মনে ডেটে যাওয়ার জন্য নিশ্চয়ই লাড্ডু ফুটছে! শা’লা ধূর্ত শেয়াল, আজকে তোর এই শেয়ালগিরি আমি ঘুচাবো। তৃষা নেওয়াজের মতন মেয়ের বর হয়ে পরকীয়া? তোর বারোটা বাজাচ্ছি আজ‌ ‌আমি!
হঠাৎ আর্য ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সরাসরি তৃষার দিকে তাকাল। আর্যর সেই অন্তর্ভেদী চাউনিতে ধরা খেয়ে গিয়ে তৃষা থতমত খেয়ে টুইংকেলের নাকের কাছে চামচ নিয়ে গেল। আর্য এক পলক ওর অস্থির মুখভঙ্গি দেখে অগোচরে হালকা হাসল, অতঃপর কফির মগে শেষ চুমুক দিয়ে খুব স্বাভাবিক গলায় শুধাল,
-‘ কি হয়েছে? ওভাবে দেখছিলেন কেন?
তৃষা অপ্রস্তুত হয়ে তড়িঘড়ি করে টুইংকেলের মুখ মুছিয়ে দিতে দিতে তোতলামি করে বলল,
-‘ আ-আমি? ওহ না তো! আমি তো দেখছিলাম আপনার কফি শেষ হয়েছে কি না, ফ্লাস্কটা নিয়ে যেতাম তাই।
আর্য ঘড়ির দিকে একবার চেয়ে বরাবরের ন্যায় গম্ভীর স্বরে বলল,

-‘ অহ, আচ্ছা। শুনেন, আজ কলেজ ছুটির পর আপনাকে পিক করতে পারবো না। উবারে চলে আসবেন অথবা বাসে। আমার একটু ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে।
তৃষা কৌতূহলী হওয়ার ভান করে ভ্রু কুঁচকে শুধাল,
-‘ ইম্পর্ট্যান্ট কাজ? কিসের কাজ? হঠাৎ করে?
আর্য ফোনের স্ক্রিন অফ করে পকেটে রাখতে রাখতে বলল,
-‘ তেমন কিছু না। একজনের সাথে মিট করার ব্যাপার আছে। দ্যাটস ইট।
তৃষা মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, ‘শুধু কি আর একজনের সাথে মিট? বললেই তো হয় অনলাইন প্রেমিকার সাথে পরকীয়া করতে যাচ্ছিস!
তবে ও মুখে একরাশ সরলতা ফুটিয়ে তৃষা বলল,
-‘ ওহ, তাই? আচ্ছা ঠিক আছে। কাজ সেরে সাবধানে ফিরবেন।
আর্য চেয়ার ছেড়ে উঠে কক্ষের দিকে এগিয়ে গেল। আর্যর পায়ের আওয়াজ মেঝের ওপর মিলিয়ে যেতেই পিছে তৃষা রণচণ্ডী মূর্তিতে রূপ নিল। ও চামচটা থালায় সশব্দে রেখে বিড়বিড়িয়ে বলল,
-‘ শা’লা চোর! তোর ইম্পর্ট্যান্ট কাজের আমি নামতা পড়াবো আজ। আমাকে মিথ্যে বলে পরকীয়া করতে যাওয়া বের করছি তোর!
এদিকে তৃষার আকস্মিক বদলে ভ্রু কুঁচকে চাইলো সম্মুখে উপস্থিত টুইংকেল,

-‘ কি হয়েছে বানি? তুমি কি আংগ্রী?
টুইংকেলের কথায় সঙ্গে সঙ্গে আদল বদলায় তৃষা,নিজের সমস্ত ক্ষোভ ক্রোধ সন্তপর্নে আড়াল করে জোরপূর্বক একচিলতে হাসি ফুটিয়ে তোলে ঠোঁটের কোণে,
-‘ না সুইটহার্ট। আ’ম নট অংগ্রী।
-‘ বাট ওভাবে তাকাচ্ছিলে কেনো?
তৃষা এইবার ঝুঁকে টুইংকেলের সমউচ্চতায় এসে ওর তুলতুলে চোয়াল আলতো করে স্পর্শ করে বলল,,
-‘ এমনি সুইটহার্ট। যাইহোক আজকে বানির ফিরতে লেট হবে। তুমি দুপুরে ঝুমা আন্টির কাছে খেয়ে নিয়ো কেমন?
টুইংকেল হেসে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল।তৃষা ওর চোয়ালে চুমু খেয়ে বলল,,
-‘ গুড্য গার্ল।

তপ্ত দ্বিপ্রহরের প্রখর দাবদাহে তিলোত্তমা নগরী হাঁসফাস করছে। পিচঢালা রাস্তার উত্তাপ কলেজ ক্যাম্পাসের গাছগাছালি ঘেরা প্রান্তরেও এসে হানা দিয়েছে। ক্লাস শেষে তৃষা আর মেহসানা এসে থিতু হয়েছে ক্যাম্পাসের সেই পুরনো কড়ই গাছটার নিচের সিমেন্ট বাঁধানো বেদিতে। এক চিলতে ছায়ার জন্য তখন রীতিমতো হাহাকার। তৃষার কপালে মুক্তো ন্যায় জমছে ঘামবিন্দু, ওড়নার আঁচল দিয়ে বারবার মুখটা মুছেও শান্তি পাচ্ছে না ও।
​মেহসানা কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলে চুমুক দিয়ে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তৃষাকে বোঝানোর উদ্দেশ্যে বলল,
-‘ দেখ তৃষা। আই থিঙ্ক এত বড় রিস্ক নেওয়া ঠিক হবে না।
তৃষা অগ্নিশর্মা হয়ে আছে রীতিমতো,-‘ তুই চুপ থাক। ওই বেডার সাহস কি করে হয় ঘরে বউ রেখে পরকীয়া করতে, চায়!
মেহেসানা অন্য কিছু বলতে যাচ্ছিল হয়তো,তবে তৃষা মুখে ‘বউ’শব্দটা কর্নোগোচর হতেই কিঞ্চিৎ বিস্মিত হয়ে কৌতূহলী দৃষ্টিতে চাইল ও,

-‘ ওয়েট ওয়েট তৃষা। কি বললি? বউ? সিরিয়াসলি?
তীব্র ক্রোধাবৃত তৃষার কাছে মেহেসানার কথাটা বড্ড বিরক্তিকর শোনালো,
-‘ আর ইউ্য জোকিং? বউ ছাড়া আর কি হই আমি ওনার?
মেহেসানা এবার ঈষৎ শব্দ করে কেশে উঠলো,-‘ ইয়ে মানে…!
ওকে কথা শেষ করতে না দিয়ে তৃষা উঠে দাঁড়িয়ে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,,
-‘ যেভাবেই হই আর আমাদের সম্পর্ক যেমনই হোক না কেনো ওনার বউ হই আমি।তৃষা আর্য এহসান। তাই আমি ভিন্ন অন্য কোনো মেয়ের সাথে ডেট কি তাদের দিকে তাকোনোর চেষ্টা করলেও ওনাকে নিঃশেষ করে দিব আমি।

উতপ্ত মধ্যাহ্নের রুদ্র রোষ যেন রাজপথের পিচ গলিয়ে দিচ্ছে। ক্ষণকাল অতিবাহিত হয়েছে,বনানীর সেই অভিজাত কাফে রিদমের সুসজ্জিত প্রবেশদ্বারের সামনে তৃষা দাঁড়িয়ে আছে। কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছে না ও। ওর হৃদপিণ্ড অবাধ্য অশ্বের ন্যায় বক্ষপঞ্জরে আঘাত হানছে বারংবার।
কাঁচের ওপারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক শীতল পরিবেশ, আর এপারে প্রখর দাবদাহে ও ঘেমে নেয়ে একাকার। তৃষা আজ নিজেকে আগাগোড়া আবৃত করে এসেছে, পরনে কালো বোরখা, মাথায় নিখুঁত হিজাব আর মুখমণ্ডলে সার্জিক্যাল মাস্ক। একমাত্র ওর ওই কাজলটানা বাদামি চোখদুটো ছাড়া চেনবার জো নেই এটিই সেই চঞ্চল তৃষা।
অতঃপর এক বুক নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে ​কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই এসির হিমেল পরশ ওর তপ্ত ললাট ছুঁয়ে গেল।ভেতরে আলোকসজ্জা বেশ স্নিগ্ধ, হালকা নীলচে আভার মাঝে কফির সুবাস ম ম করছে। তৃষা একবার চারধারে সন্ধানী দৃষ্টি বুলাল। ঠিক তখনই ওর নজর স্থির হলো একদম বাম দিকের নিভৃত কোণের টেবিলটিতে।
​পরনে সেই নেভি ব্লু শার্ট, যা কাল ও নিজেই আয়রন করে আলমারিতে রেখেছিল;সেটাই পরিহিত আর্য এহসান এক হাতে কফির মগ ধরে অন্য হাতে অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে একটি বিজনেস ম্যাগাজিনের পাতায় চোখ বুলাচ্ছে। টেবিলের ওপর অবহেলায় পড়ে আছে সেই নীল রুমাল। আর্যর ওই প্রশান্ত গম্ভীর মুখচ্ছবি দেখে তৃষার পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে রীতিমতো।
​তৃষা কাঁপাকাঁপা হাতে ফোনটা বের করে ডেটা অন করল। মেসেঞ্জারে নক দিল সেইলিং কিংকে।

​-‘ কই মিস্টার? আমি তো ভেতরে। আপনাকে তো দেখছি না!
​আর্যর হাতে থাকা ফোনটা জ্বলে উঠল। ও ম্যাগাজিন রেখে ফোনটা হাতে নিল। মুহূর্তেই মাঝেই ‌এলো রিপ্লাই,
-‘ আমি তো ঠিক জায়গাতেই আছি ম্যাম। লেফট কর্নারের টেবিলটায় খেয়াল করুন।
​তৃষা মাক্সের আড়ালে বিদ্যমান গোলাপী ঠোঁট কামড়ে টাইপ করল,
-‘ ও আচ্ছা।
​তৃষা এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল। ফোনটা ব্যাগে পুরে ধীর পায়ে আর্যর টেবিলের দিকে অগ্রসর হলো। তীব্র আক্রোশ মিশ্রিত পদক্ষেপে ও আর্যর ঠিক উল্টো পাশের চেয়ারটার সামনে গিয়ে ও স্থির হয়ে দাঁড়াল। আর্য তখনও ফোনে মগ্ন। তৃষা নিজের তর্জনী উঁচিয়ে আর্যর ম্যাগাজিনের ওপর হালকা টোকা দিল।
​আর্যর ধ্যান ভাঙল। ও ধীরে ধীরে মাথা তুলল। হিজাব আর মাস্কে আবৃত এই রহস্যময়ী রমণীর চোখের দিকে তাকাতেই ওর চাউনি মুহূর্তের জন্য তীক্ষ্ণ হলো। আর্য খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল,
​-‘ স্বপ্নবিলাসী ম্যাম? ওয়েলকাম। বসুন!
​তৃষা কথা বলল না, শুধু নিঃশব্দে চেয়ার টেনে আর্যর ঠিক মুখোমুখি বসল। আর্য ওয়েটারকে ইশারা করে দু-কাপ ক্যাপুচিনো অর্ডার দিয়ে তৃষার দিকে ঝুঁকে এল,
​-‘ পুরো মুখটাই তো ঢেকে রেখেছেন ম্যাম। কফি খাবেন কী ভাবে?

‌তৃষা আড়ষ্ট হয়ে বসে আছে। হিজাব আর মাস্কের আড়ালে ওর নিঃশ্বাস যেন ক্রমশ ভারী হয়ে আসছে। আর্যর সেই অন্তর্ভেদী চাউনি যেন বোরখার প্রতিটি সুতো ভেদ করে ওর আসল পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টায় মগ্ন। আর্য হেলান দিয়ে বসে ওকে নিরক্ষন করতে করতে অতি শান্ত স্বরে বলল,
-‘ ইনবক্সের সেই কনফিডেন্ট মানুষটা এখন এমন স্ট্যাচুর মতো চুপ কেন? আমি কি এতটাই ভয়ংকর যে আপনার ভয়ে কথা আটকে যাচ্ছে? দ্যিস ইজ্য টোটালি আনএক্সপেক্টেড।
তৃষা তবুও নিরুত্তর। ওর ভেতরে তখন আগ্নেয়গিরির লাভা টগবগ করে ফুটছে। মনে মনে ও ক্রমাগত আর্যকে তুলোধোনা করছে ও,
‘অসভ্য! একটা পরনারীর সাথে বসে ফ্লার্ট করতে তোর লজ্জা করছে না? বউয়ের সামনে তো সাধু সেজে বসে থাকিস অন্য নারীর সামনে এসেই সাধুত্ব ফুটুস?
তবে মুখে ফুটছে না কিছুই। সব কথা যেন কণ্ঠনালীতে এসে আটকা পড়ছে। ঠিক তখনই ওয়েটার ট্রে সাজিয়ে দু-কাপ ধোঁয়া ওঠা ক্যাপুচিনো টেবিলের ওপর রাখল। কফির ঘ্রাণ ম ম করছে চারধারে। আর্য কফির কাপটা তৃষার দিকে কিঞ্চিৎ ঠেলে দিয়ে গভীর কণ্ঠে বলল,

-‘ কফিটা নিন ম্যাম। বাই দ্য ওয়ে, মাস্কটা কি খোলা যায় না? অন্তত কফি খাওয়ার জন্য হলেও।
তৃষা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। ওর মনে হলো এখানে আর এক মুহূর্ত থাকা মানেই নিজের সত্তাকে অপমান করা। ও ঝটকা দিয়ে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। কোনো কথা না বলে প্রস্থানের উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই আর্য বিদ্যুৎগতিতে নিজের আসন ছেড়ে উঠে এল। তৃষা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আর্য ওর কবজিটা তীব্র মালিকানায় চেপে ধরল।
তৃষা বিস্ফোরিত নয়নে আর্যর চাইতেই ওর দৃষ্টিগোচর হলো আর্যর ঠোঁটের কোণে বিদ্যমান বাঁকা হাসি।
-‘ কোথায় যাচ্ছেন ম্যাডাম? শপিংয়ে যাব তো আমরা।
তৃষা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। ক্ষিপ্রতার সহিত ঝটকা মেরে নিজের হাতটা ছাড়ানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে খানিক উঁচু স্বরে বলল,
-‘ হাত ধরেছেন কেন? ছাড়ুন। আর আমি কোথাও যাবো না আপনার সঙ্গে। আমার ফ্যামিলি আছে। বলে আসিনি আমি। বকবে আমায়।
আর্যর বাঁকা হাসির রেখা এবার প্রসারিত হলো। ও নিজের বাঁবড়ি চুলগুলো সামান্য ঝাকিয়ে ‌অতি লৌকিক স্বরে তৃষার কানের কাছে ঝুঁকে এসে ফিসফিসিয়ে বলল,

-‘ আমার বউকে নিয়ে আমি শপিংয়ে যাব। এতে কে কি বলবে?
‘মানে?’– তৃষার পায়ের তলা থেকে যেন মেঝেটা সরে গেল। ও স্তব্ধ হয়ে আর্যর দিকে চেয়ে রইল। আর্য ওর কবজি থেকে হাতের বাঁধনটা আলগা করে দিয়ে পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল,
-‘ আপনার কি মনে হয়? ড্রামা শুধু আপনি একাই জানেন?
আর্যর কথাগুলো কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই ‌তৃষার হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গিয়ে পরক্ষণেই দ্বিগুণ বেগে ছুটতে শুরু করল। ও ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল আর্যর দিকে। আর্য খুব সাবধানে তৃষার মুখের মাস্কটা আলতো করে সরিয়ে দিল। উন্মোচিত হলো তৃষার সেই ঘর্মাক্ত, বিস্ময়ে বিমূঢ় মুখচ্ছবি। তৃষা অস্ফুট স্বরে তোতলামি করে বলল,
-‘ আ-আপনি… আপনি আগে থেকেই জানতেন? কিন্তু কী করে? আমি তো…
আর্য চেয়ারে আয়েশ করে বসে কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল,
-‘ তৃষা, আই অ্যাম আ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। সাগরের দিগন্ত দেখে ঝড় পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতা রাখি, আর ঘরের ভেতরে আমার পিচ্চি বউটা যে আমার ফোন চেক করে আমারই কিনে দেওয়া ফোন দিয়ে আমাকে টেস্ট করছে,সেটা বুঝব না?
তৃষা অপমানে আর লজ্জায় লাল হয়ে গেল। ও রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে টেবিলের ওপর সজোরে থাপ্পড় মেরে বলল,

-‘ তাহলে এত নাটক করার কী দরকার ছিল? আপনি কি আনন্দ পাচ্ছিলেন আমাকে এভাবে গাধা বানিয়ে?
আর্য এবার গুরুতর ভঙ্গিমায় তৃষার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ধীরস্থিরভাবে বলল,
-‘ নাটকটা আমি করিনি তৃষা, শুরুটা আপনিই করেছিলেন। আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম এটা আর কতদূর যায়।
তৃষা তখন ওর হাত ছাড়ানোর চেষ্টায় অব্যহত,,
-‘ নাটক করবেন না! আপনি তো পরকীয়া করতে এসেছেন। যদি এখানে অন্য কোনো মেয়ে আসত, তবে নিশ্চয়ই তাকে নিয়েও শপিংয়ে যেতেন, তাই না?
আর্য এবার কিঞ্চিৎ রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপপূর্বক ওর চোখের মণি বরাবর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে গম্ভীর স্বরে বলল,
-‘ স্টপ টকিং লাইক অ্যান ইডিয়েট। ইউ্য নো ভেরি ওয়েল যে আমি কারো রিপ্লাইও করিনা। বাট আমি জানতাম ওটা আপনি ছিলেন এইজন্যই পাত্তা দিয়েছিলাম।
তৃষা আর কিছু বলল না,মুখ বাকালো ইঞ্চি খানেক। কি আর করবে এমনিতেও আর্যকে শায়েস্তা করতে এসে নিজেই নাস্তানাবুদ হয়েছে ও। আর এখন যাই বলবে আর্য নিশ্চিত সেগুলোর এমন যুক্তি দিবে যা খন্ডন করা ওর সাধ্যের বাইরে। এমতবস্থায় তাই চুপ থাকাই শ্রেয়। তবে ও শান্ত থাকলেও ক্ষুদ্র মুহূর্তের ব্যবধানে আর্য বলল,,

-‘ বাই দ্য ওয়ে ইউ্য লুকিং গর্জিয়াস ইন দ্যিস আউটফিট। আই মাস্ট সে, এই মডেস্ট লুকে আপনাকে আরও বেশি ডিভাইন লাগছে। এখন থেকে বাইরে বেরোলে এটাই কন্টিনিউ করবেন, বোরখায় আপনাকে একটু বেশিই সুন্দর লাগে।
আর্যর আকস্মিক প্রশংসায় তৃষার ফর্সা মুখশ্রী আপেল বর্ণ ধারণ করল;লোকটার ওপর বেশিক্ষণ চটে থাকাও দায়! তবে ও অত সহজে দমে যাওয়ার পাত্রী নয়, ও কৃত্রিম গাম্ভীর্য ধরে রেখে বলল,
​-‘ আমার সুন্দর লাগা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না মিস্টার! এখন চলুন, এখান থেকে বের হই। মানুষজন অদ্ভুতভাবে তাকাচ্ছে আমাদের দিকে।
​আর্য একচিলতে মৃদু হাসি হেসে বিলটা মিটিয়ে একসঙ্গে বের হলেও ক্যাফে থেকে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আর্যর গাড়ি এসে থামল রাজধানীর এক অভিজাত শপিং কমপ্লেক্সের সুউচ্চ প্রবেশদ্বারের সম্মুখে। ​কাঁচ আর ইস্পাতের কারুকার্যে নির্মিত সেই বিশাল অট্টালিকাটির প্রবেশপথের প্রশস্ত কাঁচের দরজায় বিকেলের ম্লান রোদ্দুর প্রতিফলিত হয়ে এক মায়াবী আভার সৃষ্টি করেছে। আর্য গাড়ির লক খুলে তৃষার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
-‘ নামুন ম্যাম।
তৃষা এক ঝলক ওর দিকে তাকিয়েই নেমে পড়ল। আর্যও নামলো পরপর। দুজনে মিলে এগিয়ে চলো ভেতরের দিকে।

ভেতরে ঢুকেই প্রতিবারের ন্যায় রীতিমতো এলাহি কাণ্ডের সূচনা করেছে আর্য। তৃষা আজ কোন কথা না বলে এক কোনে চুপিসারে দাঁড়িয়ে থাকতে চেয়েছিল তবে শেষমেষ তাতে ব্যর্থ হলো ও। এগিয়ে এসে কপট দেখিয়ে বলল,
-‘ আরে মিস্টার আর ইউ ক্রেজি? এত ড্রেস-শাড়ি এগুলোতে আমি করব কি?
কে শোনে কার কথা, আর্য অর্ডার কনফার্ম করে দিয়ে তবেই তৃষার দিকে ফিরল। কিঞ্চিত ভ্রু কুঞ্জনপূর্বক চেয়ে আছে তৃষা ওর দিকে।
-‘ প্রতিদিন নতুন নতুন ড্রেস পড়বেন আর প্রতিদিন ছবি তুলে আমাকে পাঠাবেন। প্রতিদিন সকালে আপনার একটা নতুন ছবিসহ মেসেজে আমার ঘুম ভাঙানো চাই আন্ডারস্ট্যান্ড?
বিস্ময়ের তৃষার মুখশ্রী হাঁ হয়ে গেল,-‘ শুধুমাত্র ছবি তুলে পাঠানোর জন্য এত ড্রেস!
-‘ ওই যে বললাম প্রত্যেকদিন একটা করে।
অতঃপর ও এক ঝলক সম্মুখে থাকা শপিং ব্যাগগুলো দিকে তাকিয়ে বলল,-‘ কম হয়ে যাবে নাকি?
-‘ আপনি কি পাগল হয়েছেন মিস্টার? এত ড্রেস আমি রাখবো কোথায়?
-‘ আরেকটা আলমারি কিনতে হবে বলছেন?
-‘ না এত ড্রেস নিতে হবে না বলছি।
-‘ আমি কোনো নিষেধাজ্ঞা শুনি না।
পরক্ষণেই ও সেলসম্যানের দিকে চেয়ে নির্দেশনা ছুঁড়লো,-‘ কুরিয়ার করার ব্যবস্থা করবেন।
ওরা সম্মতির সূচক মাথা নাড়তেই আর্য প্রস্থান করতে করতে বিস্মিত ‌তৃষার উদ্দেশ্যে বলল,,
-‘ এখানেই দাঁড়িয়ে থাকার প্রমিস করেছেন নাকি?
আর্যর ত্যাড়া কথায় সম্বিত ফিরল তৃষার। মুখ কুঁচকে আর্যর বলিষ্ঠ পদক্ষেপের পিছু পিছু হাঁটতে লাগলো।

তপ্ত মধ্যাহ্ন এখন গোধূলির ম্লানিমায় ম্রিয়মাণ। দিবাকরের বিদায়ী আভা পশ্চিম আকাশে সিন্দুররাগের ন্যায় বিচ্ছুরিত হয়ে ধরিত্রীর বুকে এক দীর্ঘশ্বাসমাখা আঁধার নামিয়ে আনছে। নগরের ব্যস্ততম রাজপথে সোডিয়ামের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্ত বিদ্যমান। আলোআঁধারির সন্ধিক্ষণে ব্যস্ত প্রকৃতি।
রাজপথের সেই বিসর্পিল বুক চিরে দ্রুতবেগে ধাবমান ‌আর্যর গাড়িটা, হুট করে কপোত-কপোতীদের কলকাকলিতে মুখর এক মনোরম লেকের পাড়ে এসে সশব্দে ব্রেক কষল। তৃষা জানালার বাইরে গোধূলির মায়া দেখছিল, হুট করে গাড়ি থামতেই ও চমকে আর্যর দিকে তাকালো। ওর ডাগর চোখদুটোতে রাজ্যের বিস্ময়।
-‘ হুট করে গাড়ি থামালেন কেন? আর এখানে..
তৃষার কথার মাঝপথেই আর্য স্টিয়ারিং থেকে হাত সরিয়ে ওর দিকে স্থির দৃষ্টিতে চাইল,খুব সংক্ষিপ্ত অথচ অকাট্য স্বরে বলল,
-‘ নামুন ।
তৃষা ভ্রু কুঁচকে কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে শুধাল,
-‘ কেন?এখানে আবার কী কাজ?
আর্য এবার সরাসরি তৃষার চোখের মণি বরাবর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে গম্ভীর স্বরে ফের তাগাদা দিল,
-‘ আমি বলছি তাই নামুন।
তৃষা আর্যর এই হুকুমদারিত্বে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড়িয়ে বলল,

-‘ অসভ্য লোক! সব কিছুতেই নিজের মনমর্জি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা!
মুখ বাঁকিয়ে বিরক্তি নিয়ে তৃষা গাড়ির দরজা খুলে নিচে নামল। লেকের ধারের সেই মৃদু সমীরণে ওর হিজাবের কার্নিশটা অবাধ্য হয়ে উড়তে শুরু করল। আর্যও গাড়ি থেকে নেমে ধীরপায়ে ওর পাশে এসে দাঁড়াল। চারধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যুগলদের ভিড়ে বড্ড অস্বস্তি অনুভব করছে ও। আর্য বোধ হয় বুঝল, ওর খানিক কাছাকাছি এসে ওর গতিতেই হাঁটতে হাঁটতে বলল,,
-‘ ডোন্ট ওয়ারি আমি আছি। আপনি শুধু সামনে চলুন।
তৃষা এক পলক তাকালো ওর দিকে, পরক্ষণেই সম্মুখে অগ্রসর হতে হতে বলল,,
-‘ কিন্তু আমরা চাচ্ছি টা কোথায়?
-‘ ফুচকা খেতে।
-‘ হ্যোয়াট?
তৃষা থেমে যেতেই আর্য ওর দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে শুধালো,
-‘ কেন ফুচকা পছন্দ করেন না?
-‘ ভীষণ।
-‘ তাহলে?
তৃষা কিঞ্চিৎ অপ্রস্তুত হয়ে উঠল পরক্ষণেই নিজেকে সামলে বলল,,-‘ আপনি হুট করে বললেন তো তাই।
-‘ তো এখন চলুন ম্যাডাম সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত হতে চলল।

তৃষা প্লেটে সাজানো ফুচকার দিকে পরম তৃপ্তিতে তাকিয়ে আছে। এক হাত দিয়ে হিজাব সামলানো আর অন্য হাতে ফুচকা মুখে পুরে তৃষা যখন গাল ফুলিয়ে চিবুচ্ছে, আর্য তখন এক হাতে তৃষার হিজাবের পিন ধরে যেটা ফুচকা খাওয়ার সময় হা করার দরুন খুলে গিয়েছিল। ও একদৃষ্টে তৃষার এমন ছেলেমানুষি খুব কাছ থেকে পরখ করছে।
​তৃষার ঠোঁটের কোণে ঝালের চোটে সামান্য লাল আভা ফুটে উঠেছে। আর্য আলতো হাসল। ও নিজের রুমালটা বের করে তৃষার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-‘ আস্তে খান ম্যাম। ফুচকা কিন্তু কোথাও পালিয়ে যাচ্ছে না!
​তৃষা লজ্জায় আর্যর হাত থেকে রুমালটা কেড়ে নিয়ে মুখ মুছল। সঙ্গে সঙ্গে আরজোর হাতের সঙ্গে সংঘর্ষ হল ওর হাতের আর্যর আঙুলের স্পর্শ পেয়ে এক মুহূর্তের জন্য যেন স্থবির হয়ে গেল তৃষা।
সঙ্গে সঙ্গে লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে নিম্নপাণে চাইল তৃষা। পরক্ষণে পূর্বের ন্যায় পূর্ন্যোদমে ফুচকা খেতে মনোনিবেশ করল তৃষা। তবে হঠাৎই ওর শরীরটা কেমন অস্বস্তিতে সংকুচিত হয়ে এল। ওর ডাগর চোখদুটো হঠাৎ সামনে রাখা এক বেঞ্চের দিকে নিবদ্ধ হলো। আর্য তাৎক্ষণিক তৃষার এই সূক্ষ্ম পরিবর্তন ধরে ফেলল। ও নিচু স্বরে শুধাল,

-‘ হোয়্যাট হ্যাপেন তৃষা? আর ইউ্য ওকে?
​তৃষা কোনো কথা না বলে সরাসরি সামনের দিকে ইশারা করল। আর্য ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, পঁচিশ-ছাব্বিশ বছরের এক যুবক খুব নির্লজ্জভাবে একদৃষ্টিতে তৃষার দিকে তাকিয়ে আছে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে নিচু স্বরে হাসাহাসি করছে। আর্যর মুখশ্রী মুহূর্তেই তপ্ত তামাটে বর্ণ ধারণ করল। ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপে ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেল।
​ছেলেটির একদম সামনে গিয়ে ও সরাসরি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসল। আর্য ছেলেটির কাঁধে এক মালিকানাধীন চাপড় দিয়ে খুব শান্ত, কিন্তু তীক্ষ্ণ স্বরে শুধাল,
-‘ কী হলো ব্রো? পছন্দ হইছে?
​ছেলেটা প্রথমটায় একটু থতমত খেয়ে গেল, কিন্তু আর্যর শান্ত ভঙ্গি দেখে ভাবল হয়তো সমগোত্রীয় কেউ। ও দাঁত বের করে এক বিচ্ছিরি হাসি দিয়ে বলল,
-‘ হ্যাঁ ভাই, ভীষণ! একদম ফাটাফাটি!
​আর্যর চোয়াল এবার শক্ত হয়ে এল। ও একটা বাঁকা হাসি মেলে বলল,,
-‘ নিজের মরন কে নিজে ডেকে আনে ভাই?
ছেলেটা এবার সত্যিই অপ্রস্তুত হয়ে উঠলো,-‘ মানে?
-‘ ওই যে মেয়েটাকে দেখছিস, শি’জ আর্য এহসান’স পার্সোনাল প্রপার্টি। তাই ওর দিকে যে তাকায় তাকে কব’রে পাঠাতে এই আর্য এহসান সর্বোচ্চ দুই মিনিট সময় নেয়।
ছেলেটির মুখের হাসি মুহূর্তে মিলিয়ে গেল। আর্যর চোখের সেই খুনে দৃষ্টি আর কণ্ঠের গাম্ভীর্যে ও কুঁকড়ে গেল,-‘ স্যরি স্যরি ভাই আসলে আমি বুঝতে পারিনি।
আর্য বাঁকা হাসলো,-‘ ব্যাপার না সুন্দরী বউ থাকলে সবাই এমন একটু আধটু তাকায়। তবে আমার বউ সুন্দর হোক বা কুৎসিত ওর দিকে শুধু আমি তাকাবো আর কেউ নাই আন্ডারস্ট্যান্ড?
ছেলেটা ঘর্মাক্ত হয়ে মাথা নাড়ল। আর্য ওর দিকে তাচ্ছিল্যের হাসি মেলে বলল,

-‘ আরে, আরে ক্লাম ডাউন। তুই আজকে এমনিতেই বেঁচে গিয়েছিস; পবিত্র ফুলকে যে হাতে আগলে এনেছি সে হাত আমি তোদের মত চুনোপটি মেরে অপবিত্র করবোনা নিশ্চয়?
ছেলেটা ঢোক গিলে কিছু বলতে যাওয়ার আগেই আর্য প্রস্থান করে তৃষার দিকে এগিয়ে গেল। এতক্ষণ যাবৎ তৃষা ওদের দিকেই তাকিয়ে ছিল। আর্য কাছাকাছি আসতেই ও অস্ফুট স্বরে শুধাল,
-‘ কী হলো? আপনি ওখানে গিয়ে কী বললেন ওকে?
আর্য অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে ফুচকাওয়ালার বিল মেটাল। তৃষার দিকে একপলক তাকিয়ে ওষ্ঠাধরে সেই চিরচেনা ধূর্ত হাসি ফুটিয়ে বলল,
-‘ তেমন কিছু না। স্রেফ একটা জীবনবিমার গুরুত্ব বোঝাচ্ছিলাম ওকে। ছেলেটা ইদানীং খুব ঝুঁকি নিয়ে ফেলছিল, তাই একটু সাবধান করে দিলাম।
তৃষা ভ্রু কুঁচকে আর্যর চোখের দিকে চাইল। ও জানে আর্যর এই তেমন কিছু নার আড়ালে নিশ্চয়ই কোনো বড়সড় ধমক লুকিয়ে আছে। আর্যর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আর এই তীব্র অধিকারবোধ তৃষার মনের গহীনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে দিল। ও আর কথা না বাড়িয়ে ধীরপায়ে আর্যর পাশে পাশে হাঁটতে শুরু করল।
লেকের শান্ত পানিতে তখন সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটিয়ে রুপোলি চাঁদের ছায়া পড়তে শুরু করেছে। আর্য হুট করে তৃষার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিল। তৃষা চমকে ওর দিকে তাকালে ও নির্লিপ্ত গলায় বলল,

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩৩

-‘ রাস্তা পার হতে হবে।
তৃষা ফিসফিস করে বলল,-‘ গোটা জীবনটা পার হতে পারলেও মন্দ হতো না।
আর্য ঠিক শুনতে পারলো না তৃষার ফিসফিসানি ও কিঞ্চিত ভ্রু কুঁচকে শুধালো,
-‘ কি বললেন?
তৃষা মুচকি হেসে বলল,-‘ কিছু না।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩৫