Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৬
শানজানা আলম

তাহিরা বেগম স্বামীকে জানালেন, অথৈ কনসিভ করেছে। এখন জার্নি করে আসতে চায় না।
অথৈ এর বাবা কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললেন, না আসতে চাইলে থাকুক।
ঐশি রুম থেকে বের হয়ে এলো।
কি হয়েছে?
তাহিরা বেগম স্বামীর দিকে তাকালেন।
ঐশির বাবা উত্তর দিলেন, অথৈ রা আসবে না বলেছে।
কেন? না আসার কি হলো? আমি আছি বলে- ঐশি জানতে চাইল।
না।
তাহলে?
তাহিরা বেগম বললেন, লুকিয়ে লাভ নেই, ও কি জানবে না? অথৈ কনসিভ করেছে! তাই এহসান জার্নি করতে চাচ্ছে না।

জার্নি করতে চাচ্ছে না, তো ঢাকায় ফিরবে কিভাবে?
বাই এয়ারে ফিরবে হয়তো-
ঐশি বলল, কালামপুরের রাস্তা বেশ ভালো। ওদিক থেকে আসতে বলো। বিয়ে হয়েছে এক কথা, বাচ্চা হলে সবাই কি জেনে আরো ছি ছি করবে। তার চাইতে আগে ডাকো, ডেকে জানিয়ে দাও সবাইকে।
তাহিরা বেগম বললেন, দরকার নেই, না আসতে চাইলে থাকুক।
ঐশি বলল, আমি কথা বলছি এহসানের সাথে।
তাহিরা বেগম বললেন, কোনো দরকার নেই।
ঐশি শুনলো না। এহসানকে ফোন করলো সবার সামনেই।
এহসান ঐশির নম্বর ব্লক করে রেখেছে, বারবার ব্লক নম্বর মিসড কল এলার্ট পেয়ে নিজেই কল ব্যাক করল।
হ্যালো-
ঐশি বলল, এহসান, ঐশি বলছি।
হ্যা, বলো।

অথৈকে নিয়ে আসার কথা ছিল। প্রোগ্রামটা ক্যান্সেল করো না। কালামপুরের দিকের রাস্তাটা ভালো আছে। ওদিক থেকে আসতে পারো।
এহসান স্বাভাবিক ভাবে বলল, অথৈ এর শরীরটা একটু খারাপ। আমরা দেখি আলোচনা করে, যেটা ভালো হয়, সেটাই করা হবে। আসলে আমরাই তো আসতে চাচ্ছিলাম, সিচুয়েশন পাল্টে গেছে।
সেটা বুঝতে পারছি, তবে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সব মিলিয়ে তো সমাজ, তোমাদের ফেস করতে হবে।
এহসান বলল, বাইরের কারো জন্য তো আমি অথৈ এর কোনো সমস্যা তৈরি হতে দেব না।
আমি সেটা বলি নি এহসান, সামাজিক ভাবে তোমাদের বিয়ের খবরটা সবাইকে জানানো দরকার। নতুন সদস্য আসছে, সেটা ওয়েলকাম করারও একটা বিষয় আছে।
হুম। – এহসান সংক্ষিপ্ত করে বলল।
তবে ফোনটা কেন ঐশি দিলো, এই বিষয়টা এহসান সহজ ভাবে নিতে পারল না। কথাগুলো তার শাশুড়ী বললেও হতো।
এহসান একটু ভেবে বলল, আমি সবার সাথে আলাপ করে জানাব। আর আমরা প্রোগ্রাম সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছি। তোমাদের ওখানেও কোনো আয়োজন করার দরকার নেই। আমরা আসলেও সেটা নিজেদের মধ্যে থাকবে। তারপর সবাইকে জানানোর অন্য ব্যবস্থা হবে। এই মুহুর্তে অথৈকে আমি কোনো গ্যাদারিংয়ে নিতে চাচ্ছি না।

ঐশি বলল, ঠিক আছে।
ফোন রেখে ঐশি বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, ভেবে দেখছে কি করা যায়। আমাকে নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। এহসানের জন্য আমার কোনো ধরনের কোনো ফিলিং নেই।
তবে ঐশি চিন্তা করল, এহসান কী ভীষণ পসেসিভ অথৈ কে নিয়ে, এমনটা কি তার জন্যও ছিল? কখনো।এহসানকে নিয়ে আলাদা করে ভাবে নি ঐশি।
সম্পর্কের যত্ন করে নি! এহসান বারবার বলতো, সংসার গুছিয়ে করতে, ঐশির ভালো লাগতো না। মন বসতো না ঘর গোছানো কিংবা রান্নায়, হোয়াটএভার, সবাই তো একরকম হয় না। ঐশিও এমন ছিল না, এহসান তাকে এভাবে একসেপ্ট করে নি, দিনের পর দিন ঝগড়াঝাটি করে সম্পর্ক বিষিয়ে তুলেছে। যে কারনে নাসিরের মিষ্টি কথা তাকে প্রলুব্ধ করেছে সহজেই। এক তরফা ঐশিই কি দায়ী? এহসানের কি কোনো দোষ নেই?

চিন্তার এ পর্যায়ে ঐশি ভাবল, এসব পুরনো বিষয় ব্যবচ্ছেদ করার সময় চলে গেছে। তাকে স্ট্রং থাকতে হবে।
অনেক ছোটবেলার একটা কথা মনে পড়ে গেল। বড় মামা সেবার চায়না থেকে ফিরে ঐশিকে একটা পুতুল দিয়েছিলেন, আর অথৈ কে দিয়েছিল একটা রান্নাবাটির সেট। দু বোন মিলে মিশে খেলবে, এমনই ভেবেছিলেন হয়তো। কয়েকদিন খেলার করে ঐশির পুতুলটা পড়ে রইল অযত্নে। অথৈ তার খেলনাবাটি খেলে গুছিয়ে রাখল একটা জুতার বাক্সে।
দিনে দিনে ঐশির পুতুলের জামা নোংরা হয়ে গেল। ঐশি সেটা ছুড়ে ফেলে দিলো। অথৈ আবার সেই পুতুলটা তুলে নিয়ে মায়ের পুরনো শাড়ির পাড় কেটে পুতুলটাকে শাড়ি পরালো, নিজের একটা পায়েল কেটে পুতি নিয়ে মালা বানিয়ে দিলো। শেষে এত সুন্দর হয়ে গেল, ঐশির ইচ্ছে হলো পুতুলটা নিয়ে নেয়। কিন্তু অথৈ ততদিনে পুতুলটাকে তার খেলাঘরে রেখে দিয়েছে।
ঐশি চক্ষুলজ্জায় আর পুতুলটা নিতে পারে নি। ঈশ্বরের চোখ কিছুই এড়ায় না। অতীতের পুনরাবৃত্তি কি আবার হচ্ছে?

গভীর রাতে ঐশি নায়েব পাশাকে ফোন করল।
নায়েব ফোন তুলল না৷
ঐশি টেক্সট করে রাখল, ইটস আর্জেন্ট!
নায়েব পাশা সিন করে ফোন ব্যাক করল আরো ঘন্টাখানেক পরে।
ঐশি ঘুমিয়ে পড়েছিল।
নায়েব পাশা জানতে চাইল,কি ব্যাপার, আর্জেন্ট ইস্যু কি?
ইস্যু তেমন কিছু না। আমি কনসিভ করেছি!
আচ্ছা, নায়েব আগ্রহ প্রকাশ করল না।
নাসিরকে জানিয়েছি, আমাকে বলেছে সব ব্যবস্থা করে রাখবে। এবর্ট করে ফেলতে।- ঐশি বলল।
তুমি কি ভেবেছ? কি করবে? নাসির টাকা অফার করে নি?
ঐশি এই কথার উত্তর না দিয়ে বলল, নাসির আমাকে মেরে ফেলার প্ল্যান করবে।
করতেই পারে, অস্বাভাবিক কিছু না।
আমি ঢাকায় ফিরে তোমার সাথে দেখা করতে চাই।
আমার সাথে? আমি কি করতে পারব?
নায়েব পাশা আকাশ থেকে পড়ল যেন।

ঐশি জিগ্যেস করল, কোনো হেল্প করতে পারবে না? তুমি না কত প্ল্যান করবে বলেছিলে?
নায়েব পাশা বলল, আমি কিছু পলিটিকাল ইস্যুর কারনে সামনে আসতে পারব না৷ তবে তোমার সাথে প্রথম অন্ধকার থেকে একজন যোগাযোগ করবে। তুমি চাইলে এক্সপোজ করতে পারো নাসিরকে।
ওরা পাবলিশ করার পরে সাংবাদিকরাই তোমাকে খুঁজে বের করবে। সিকিউরিটি নিশ্চিত করবে সোশ্যাল মিডিয়া। রিস্ক নিতে হবে। পারবে তো?
ঐশি বলল, ভেবে দেখি কি করব।
নায়েব পাশা ভড়কে গেল। ঐশির কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে না, সে খুব একটা অসহায় ফিল করছে। নাসিরকে নাকানিচুবানি দেওয়ার সুযোগ এটাই। ঐশিকে হাতছাড়া করা যাবে না।
নায়েব পাশা বলল, আরে, এত টেনশন করো না। আমি দেখছি, কিভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারি।
ঐশি হাই তুলে বলল, দেখো কি করতে পারো। না পারলেও সমস্যা নেই।

না না, অবশ্যই কিছু করব।
ঐশি বলল, আমি গুলশানের রিস্টিন পার্ক হোটেলে মিডিয়া ফেস করতে চাই। নেক্সট উইকে। তুমি সব আয়োজন করবে। আর দুবাইয়ে সেটল করার কথা বলেছিলে, মনে আছে কিনা বুঝতে পারছি না।৷ কল রেকর্ড চেক করতে হবে। তবে সে বিষয়ে পরে কথা বলব। এখন রাখছি।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৫

নায়েব আবারো চমকালো। ঐশি তাকে অর্ডার করছে, ঐশি বুঝে গেছে, নায়েব তাকে ইউজ করে নাসিরকে ফাঁসাতে চেয়েছে! চাইলেই সে ঐশিকে এভয়েড করতে পারবে না। ঐশিও জোঁকের মতন মনে হচ্ছে।
মফস্বলের অবলা মেয়ে ভেবে আন্ডারস্টিমেট করা ঠিক হয় নি! এরা শহরের মেয়েদের চাইতে এক ধাপ এগিয়ে থাকে সব সময়!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৭