Home বাঁধনহারা প্রেম বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬০

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬০

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬০
shanta moni

_দুপুর ১১ টা ৩০ মিনিট
_চৌধুরী বাড়ির সামনে মানুষের ভীড়, বিয়ে বাড়িতে নিস্তব্ধতা। সামনে ভীড়ের মধ্যে থেকে কান্না শব্দ আসছে। কিছুটা দূরে দেয়ালের সাথে মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে শুভ্র। বাড়ির গেট খুলে সামনে দিকে হাঁটা দেয়, রোমান। মাথায় ব্যান্ডেজ। এক হাতে ব্যান্ডেজ করা। তাকে দেখে বোঝায় যাচ্ছে। গুরুতর ভাবে আহত সে। পা টেনে টেনে সামনের দিকে এগিয়ে আসে রোমান। ভীড় ঠেলে ভিতরে ডুকে। সাদা কাপড়ে ডাকা কারো লাশ।
_লাশের পাশে হেনা বেগম, আরাফ চৌধুরী,জুঁই বসে কাঁদছে। হেনা বেগম,নীলা কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে আছে। রোদ কিছুটা দূরে মাটিতে বসে আছে। সবাই কাঁদলেও রোদের চোখে কোনো পানি নেই। চোখ মুখ কেমন শক্ত হয়ে আছে। রোমান সবাই এক যায়গা দেখলেও রুহিকে কোথাও না দেখে আসে পাশে চোখ ভোলায়। রুহির কোথাও না দেখে বিচলিত হয়ে, জিজ্ঞেস করে।
রোমান: রুহি কোথায়?

_রোমানের কথায় কারো ভাব অন্তর হয় না। রোমান হেনা বেগমের কাছে গিয়ে, বলে।
রোমান: দাদি আমার রুহি কই? ও দাদি তোমরা এমন চুপ করে আছো ক্যানো। রুহি কই আমার?
_হেনা বেগম ডুকরে কেঁদে উঠে, হেনা বেগমকে কাঁদতে দেখে রোমানের বুক অজনা ভয়ে কেঁপে ওঠে। এক নজর মুখ সাদা কাপড়ে মোড়ানে লাশের দিকে চোখ দেয়। তারপর নিজে নিজে বিড়বিড় করে বলে উঠে।
রোমান: নাহ, নাহ, এটা কখনোই হতে পারে না।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

_“হেনা বেগমের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে। রোদের কাছে ছুঁটে যায়। রোদ এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে সাদা কাপড়ে মোড়ানো লাশের দিকে। রোমান রোদের দুই হাত ধরে অনুরোধের স্বরে বলে উঠে।
রোমান: বোন তুই আমার বোন, প্লিজ বলনা, আমার রুহি কোথায়? আমার বুকের ভিতর ভীষন যন্ত্রণা হচ্ছে বোন। তোরা এমন ভাবে চুপ করে থাকিস না।
প্লিজ আমায় বল রুহি কোথায়?

_রোদ আগেই ন্যায় বসে আছে। রোমান রোদের হাত ছেড়ে পা চেঁপে ধরে, ডুকরে কেঁদে উঠে।
_রোমান: আমায় প্লিজ বল রুহি কই? প্লিজ রোদ। তুই এইভাবে চুপ করে থাকিস না।
_রোদ দ্রুত রোমানের থেকে নিজের পা ছাড়িয়ে এনে। কাঁপা কাঁপা হাতে আঙ্গুল দিলে সামনে সাদা কাপড়ের মোড়ানো লাশের দিকে দেখায়। রোমান লাশের দিকে চোখ পড়তেই ভয়ে কেঁপে উঠে। দৌড়ে গিয়ে লাশের সামনে দাঁড়ায়।
_মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে, চিৎকার করে উঠে।
_চোহারার অবস্থা খুবই খারাপ। চেনার মতো কোনো অবস্থায় নেই। পাশ থেকে একজন পুলিশ অফিসার এসে রোমানের সামনে দাঁড়ায়। তাঁরপর বলে উঠে।

_পুলিশ; আপনারদের বাড়ির পিছনে পুড়ানো একটা জঙ্গল আছে। পুড়ানো এক বাড়ি থেকে মিস রুহির লাশ আমরা শনাক্ত করেছি। পোস্টমাঠম রিপোর্ট অনুযায়ী এটাই রুহি, ওনাকে প্রথমে রেফ করা হয়েছে। তারপর আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়েছি। এই কাজ কে, বা কারা করেছে। তার কোনো প্রমান পাইনি৷ তবে আমরা চেষ্টা করছি। সবটা খুব তাড়াতাড়ি খুঁজে বেড় করতে।

_পুলিশের কথা শুনে ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে রোমান।
_কালকে রাতে বাড়ির পিছনে রোমান রুহিকে আসতে বলেছিল। রুহি তো বলেছিল, সে আসতে পারবে না। তাহলে রুহি এত গভীর জঙ্গলে কি করে গেল। আর কেনোই বা গেলো। রোমান কাল রাতে একটা জরুরি কাজে বাহিরে যায়। রুহির জন্য গিপ্ট অডার করেছিল। এতো রাতে পথ ঘাট চিনে না। তাই রোমানকে যেতে হয়৷ অডার রিসিভ করতে। যাওয়া পথে রুহি কয় একবার কল করেছিল। কিন্তু রুহি ফোন না তোলায় রোমান মনে করেছে। রুহি হয়তো ঘুমিয়ে গেছে। রোমান কালকে রাতে গাড়ি এ্যাকসিন্ডেট
করে। কেমর যেনো সব কিছুই অস্থির লাগছিল তার। সে রকম আঘাত না পেলেও। দুই তিনদিন বেড রেস্ট থাকতে বলেছিল। ডক্টর কিন্তু কারো কথায় না শুনে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে আসে বাড়ি থেকে। রাত থেকে কেনো জানি মনে হয়েছিল। তার রুহি কোনো বিপদে পড়ছে। তাই যতক্ষণ রুহিকে সে না দেখবে। তার মন শান্ত হবে না।

_বর্তমান_
_রোমান শান্ত হয়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। রুহির লাশের দিকে। এক হাত সাঁদা কাপড়ে মোড়ানো লাশের উপর রেখে করুন কন্ঠে বলে উঠে।
রোমান: এটা তো কথা ছিল না, বোকা নারী। এইভাবে আমাকে ছেড়ে যাওয়া কথা ছিল না। এমন টা কখনোই হতে পারেনা।” এইভাবে আমাকে তুই ছেড়ে যেতে পারিস না রুহি।
_কথা গুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে রোমান। রোমানের বুক ফাটা কান্নায় চারপাশে মানুষ জীম মেরে আছে। রোমান কাঁদতে কাঁদতে লাশের উপরে ধাক্কা দিতে দিতে বলে উঠে।
রোমান: আমাদের তো সংসার করা বাকি রুহি। তুই এইভাবে আমাকে একা করে যাস না জান। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
আমি মরে যাব।

_রোমানে কান্না বেগ আসতে আসতে বাড়তে থাকে।
রোমান: এটা হতে পারে না। আমি মানি না। আমার রুহির কিছু হয়নি। তোমরা দেখো, আমার রুহি এখনি আমার সাথে কথা বলবে৷
রোমান: রুহি এই রুহি ওঠ তাড়াতাড়ি, দেখ সবাই অপেক্ষা করছে আমাদের বিয়ে জন্য, দেখ দেরি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, ওঠ না তাড়াতাড়ি। রুহি এই রুহি।
_রোমানের এমন কান্নায় আশে পাশে সবার চোখে পানি। রোমান দৌড়ে শুভ্র কাছে চলে যায়। শুভ্রের বাহু ধরে ঝাঁকিয়ে বলে উঠে।
রোমান: শুভ্র দেখ সবাই কেমন করে কাঁদছে আজকে তো আমার আর রুহির বিয়ে তাহলে এইভাবে কাঁদছে ক্যানো সবাই৷ তুই একটু বারন কর, সবাই যেনো না কাঁদে। এই ভাবে তোদের কাঁদতে দেখলে রুহি কষ্ট পাবে তো।
_শুভ্র রোমানের কান্না দেখে ডুকরে কেঁদে উঠে রোমানকে জড়িয়ে ধরে।

_রোমান বিরক্ত হয়ে বলে উঠে।
রোমান: তুই কেনো কাঁদছিস? এইভাবে কাঁদিস না। আমি রুহিকে সব সময় হাঁসি খুঁশি রাখবো। কখনো কষ্ট দিব না। এইভাবে কাঁদিস না।
_শুভ্র কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।”
শুভ্র: আমাকে মাফ করে দিস ভাই। আমার বোনটার খেয়াল আমি রাখতে পারলাম না। আমার কলিজার টুকরো বোনটাকে তোর হাতে তুলে দিতে পারলাম না। মাফ করে দিস আমায়। ওই জানোয়ার গুলো আমার বোনটাকে শেষ করে দিয়েছে ভাই।

_ভাই হিসেবে ব্যর্থ আমি _নিজের বোনকে সেইভ রাখতে পারিনি।
_রোমানের হাত হালকা হয়ে আসে। ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে।
_বিড়বিড় করে বলে উঠে _
রোমান: নাহ, এটা হতে পারে না শুভ্র! এটা তো হওয়ার কথা ছিল নাহ।
_রোমান আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠে।”
রোমান: হে আল্লাহ কোন ভুলের শাস্তি আমায় দিলে। আমার কাছ থেকে আমার ভালোবাসা কেড়ে নেওয়ার আগে আমার জানটা নিয়ে নিতে।

_কেমন করে সইব আমি এই যন্ত্রণা” আমাকে নিয়ে যাও আমার বোকা নারী কাছে। আমি বাঁচতে চাই না।”
_রোমান আর কোনো কিছু বলতে পারেনা। চারদিকে কেমন অন্ধকার হয়ে আসে। ঢোলে পড়ে মাটিতে। অতিরিক্ত মাথায় চাঁপ নেওয়ার কারনে সেন্সলেস হয়ে গেছে।
_রাত ১২ টা রুহিকে সেই বিকালে মাটি দেওয়া হয়েছে। বাহির পিছনে কদম গাছের নিচে। রোমান সেই বিকাল থেকে ইনজেকশন পুস করে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হ’য়েছে। রুহিকে নিয়ে যখন খাটিয়ে তুলে তখন রোমান অনেক বার বাঁধা দিছে। তারপর থেকে রোমানকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। জেগে থাকলে রুহি রুহি করছে।
_বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র। সেখান থেকে বোনের কবর টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বাহিরে প্রচন্ড বাতাস বইছে। মনে হচ্ছে মুসুল দাঁড়ায় বৃষ্টি শুরু হবে। রোদ ধীর পায়ে হেঁটে শুভ্রের পাশে দাঁড়ায়, আলতো হাত দেয়, শুভ্রের কাঁদে শুভ্র চমকায় না। পিছন ফিরে রোদকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠে।

_কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলে।
শুভ্র: ভাই হিসেবে আজ আমি ব্যর্থ রোদ।
আমি আমার মায়ের দেওয়ার কথা রাখতে পারিনি। না পেড়েছি, তোমার খেয়াল রাখতে না পেড়েছি, বোনের খেয়াল রাখতে।
_নিজের বোনের লাশ কাঁধে বয়ে নিয়ে এই হাত দিয়ে মাটি দিয়েছি। আমার ছোট ফুলের মতো বোনটাকে ওই অন্ধকার কবরে শুয়ে দিয়ে এসেছি রোদ। এই হাত দিয়ে।
রোদ শুভ্রকে শান্ত করতে আবার জড়িয়ে ধরে। তখনি বাহিরে দিকে নজর যায়। রুহির কবরে পাশে আলো দেখা যাচ্ছে। সাথে সাথে শুভ্রকে বলে উঠে রোদ।
রোদ: দেখুন তো রুহির কবরের পাশে কেউ হয়তো আছে।
শুভ্র দেখে, সাথে সাথে দুই জন রুম থেকে দৌড়ে বেড়িয়ে এসেছে৷

_এইদিকে বাহিরে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়ে গেছে। রোমান রুহির কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রুহির কবরের কাছে বসে বিড়বিড় করে বলে
রোমান : কি সুন্দর আমায় একা করে, শান্তি ঘুমিয়ে আছিস। এইভাবে আমায় যন্ত্রণা কেনো দিস। এমন করিস না রুহি প্লিজ আমার কাছে ফিরে আয়৷
_রোমান কাঁদতে কাঁদতে রুহির কবরের মাটি দুই হাতে জাপটে ধরে বলে।
_রোমান: আমাদের কেনো সংসার হলো না৷ আমাদের তো ছোট্ট একটা সংসার হওয়ার কথা ছিল। এইভাবে কেনো চলে গেলি।

_রোমানের কান্নায় আজ যেনো বৃষ্টিটাও তাল মেলাচ্ছে। তুমুল বেগে বৃষ্টি হচ্ছে।
_রোমান: তুই তো তোর মতো চলে গেলি।
আমায় একা করে কেনো গেলি। আমাকেও নিয়ে গেলিনা কেনো।

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৯

_অসমাপ্ত_
কিছুদিনের জন্য এই গল্প টা অসমাপ্ত থাকবে। আর হ্যা খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাজে। আমার জন্য দোয়া করবেন সবাই।

বাঁধনহারা প্রেম বোনাস পর্ব