Home বিষাদ ও বসন্ত বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২৭

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২৭

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২৭
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

মিথির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। চোখমুখ কিছুটা ভেজা লাগছে ঘামের দরুন। শ্বাস নিতে গিয়ে কম্পন অনুভূত হলো যেন। মিথি বারকয়েক শ্বাস ফেলে চোখ বুঝে। সহ্য করার চেষ্টা চালাবার পরও মনে হলো ব্যথাটা আরও তীব্র হচ্ছে ক্রমশ। পেটের নিচ থেকে কোমর, এবং কোমরের পেছনে ছড়িয়ে পড়ছে যেন যন্ত্রনাময় হয়ে। ও হাঁটু মাড়িয়ে বসে শ্বাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করল। ব্যাথা তীব্র হতেই ওর মনে হলো, ও কি সহ্য করতে পারবে? মনের ভেতর এই প্রশ্ন বারবার ঘুরছে।

মিথি অনেকটা সময় নিশ্চুপ থেকে এই ব্যাথাটা সহ্য করার চেষ্টা চালাল। ঘন্টা এক পর ওর মনে হলো যখন ও ব্যাথাটা সহ্য করতে পারছে না তখন হিয়াকে ডাকল ফিসফিস করে। ঘড়িতে তখন রাত চারটা কি চারটার একটুর পরের সময়। হিয়া তখন ঘুমে। ফিসফিস করে ডাকাতে যখন হিয়ার নড়চড় দেখল না তখন মিথির চোখজোড়া হুট করেই টলমল করল কেন জানি না। হিয়াকে হাত দিয়ে ঠেলে ডাকল ও। ঘুমে মশগুল হিয়া তখন ঘুমঘুম চোখে তাকায়। আবছায়ায় মৃদু আলোতে মিথিকে দেখে ও তাকানোর চেষ্টা করল। ঘুমঘুম গলায় বলল,

“ কিরে, কি হয়েছে? ”
এইটুকু ঘুমঘুম গলায় বলার পরই ও স্পষ্ট ভাবে তাকানোর চেষ্টা করল। মিথিকে কেমন অস্বাভাবিক ভাবে পেটে হাত রেখে বসে থাকতে দেখে হিয়া ভ্রু কুঁচকায়। কিয়ৎক্ষন পর মস্তিষ্ক স্পষ্ট জানান দিতেই ও হকচকিয়ে বসে গেল। মিথিকে ব্যস্তভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল,
“ কি সমস্যা হচ্ছে মিথি? পেট ব্যাথা হচ্ছে তোর? যন্ত্রনা হচ্ছে? ”
মিথির যেন বান্ধবীর আহ্লাদ দেখে কান্না গুলে গলায় আরো ভীষণ ভাবে আটকে রইল। অস্ফুট স্বরে বলল,
“ ব্যাথা হচ্ছে হিয়া।”
হিয়া এক মুহুর্তের জন্য নিশ্চুপ হয়ে শুনল। আকস্মিক এত রাতে কি করা যায় এটা মাথায়ও আসল না যেন। হিয়া ছোটশ্বাস টানে। মিথির ব্যাথার তীব্রতা এবং গলার স্বর শুনে আশ্বাস দেয়। কাঁধে হাত রেখে বলে,
“ বেশি? সেদিনের মতো হলে তো কমে যাবে হয়তো মিথি। কিছু হবে না। ”
মিথি প্রিয় বান্ধবীর দিকে চাইল। বলল,

“ উহ! সেদিনের ব্যাথার মতো নয় হিয়া। এটা কেবল বাড়ছে মনে হচ্ছে। তোকে একটু কষ্ট দিচ্ছি হিয়া। নিচে দারোয়ান চাচাকে বলে একটা অটো অথবা কিছু যদি ম্যানেজ করা যেত। আমি প্রায় দেড়- দুই ঘন্টা বসে থেকে সহ্য করার চেষ্টা করছি হিয়া। কিন্তু… ”
হিয়া বুঝল যেন। দ্রুত উঠে আলো জ্বালাল। মিথি তখন একহাতে বিছানা ছাদর টা খামচে আছে। অপর হাত পেটে। হিয়া দ্রুতই ফিজা এবং রিধিকেও ডাকল। দুইজনকে বিষয়টা বলে রিধিকে সাথে করে নিচে গেল খুব দ্রুতই। সাথে দীপ্রকেও কল করল বহুবার। অথচ এই দরকারের সময়টাতেই দীপ্র কল তুলছে না। হিয়ার বিরক্ত লাগে। এই মুহুর্তে রাগ সব গিয়ে জমা হয় যেন দীপ্রর উপরেই। হিয়া আর রিধি মোটামুটি দারোয়ান চাচাকে মিনিট দশ সময় নিয়ে সবটা বুঝায়। সবটা বলে কয়ে বুঝানোর পর দেখা গেল রাস্তা শুনশান। অন্য সময় শহর, রাস্তা সব ব্যস্ত হলেও আজ খালি গাড়ির খুব একটা দেখাই মিলল না যেন। অবশেষে দারোয়ান চাচার এক পরিচিত অটোওয়ালাকেই কল করে বলা হলো এত রাতে আসতে। হিয়া আর রিধ আবার তাড়াহুড়ো করে গেল উপরে। দীপ্র ততক্ষনে কল ব্যাক করেছে। হিয়া সর্বপ্রথম রাগটাগ ছুড়ে বলেছে শুধু প্রয়োজন আছে, একটু যাতে আসে। অপরদিকে ফিজাও কল করেছিল আয়মানকে। অথচ আয়মান নাকি বাসায় নেই, চট্টগ্রাম গিয়েছে বন্ধুর সাথে ঘুরতে। ঠিক এই মুহুর্তটায় এসে মিথির মনে হলো আসলেই একজন পুরুষ সদস্যের খুব প্রয়োজন যেন। যদি তার ভাই থাকত? যদি তার ভাই তাকে অনেক ভালোবাসত, অনেক স্নেহ করত, আগলে রাখত তাহলে কি মিথির এভাবে সংকোচ বোধ করা লাগত এই সময়ে? তার নিজের ভাই-়ভাবীই তো সবটা দেখত। সবটা মানিয়ে নিত। মিথির কান্না পায় যেন। নিজের জন্য চিন্তিত এতগুলো মুখ দেখে ও নিশ্চুপ। মিথির মনে হলো সময়ের সাথে সাথে ব্যথাটা ঢেউয়ের মতো আসে, কিছুক্ষণ স্থির থাকে, তারপর আরও শক্তিশালী হয়। সে ফ্লোরে হেলান দিয়ে বসে, চোখ বন্ধ করে। অতঃপর কিয়ৎক্ষন পর শোনা গেল অটো এসেছে। হিয়া অনেক দ্রুত এসেই শুধাল,

“ মিথি, মিথি, অটো চলে এসেছে। যেতে হবে দোস্ত। পারবি তো হু?বেশি কষ্ট হবে? ”
মিথির নিজের ব্যাথা সম্পূর্ণই সহ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। এবং স্ট্রংলিই উত্তর দিল,
“ পারব, পারব হিয়া। কিন্তু এতরাতে তুই আমার সাথে যেতে পারবি? যাওয়াটা একটু অনিরাপদ না? দারোয়ান চাচাকে বলে নাহয় নিয়ে যাব।”
“ দারোয়ান চাচা তোর শারিরীক কন্ডিশনের খোঁজ খবর রাখবে? বড়জোর নিরাপত্তা দিতে পারবে মিথি। দীপ্রকেও বলেছি আসতে। যদি আসতে দেরি করে তাহলে নাহয় দারোয়ান চাচাকেই বলব। ”
মিথি মাথা নাড়াল। ক্লান্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাথা সহ্য করল। অতঃপর দুটো তোয়ালে,এবং নিজের জমানো কিছু টাকা ওসব বের করে হিয়াকে দিল। ছোটস্বরে বলল,
“ তোয়ালে গুলো রাখ। কাঁথা তো বানানো হয়নি ওর জন্য। এগুলো দিয়ে কোলে নেওয়া যাবে।”
হিয়া তাকায়। মাথা নাড়িয়ে বলে,

“ হ্যাঁ, হ্যাঁ। ভালো কথা।”
অতঃপর হিয়ার সাথে সাথে এক পা দুই পা করে পা বাড়াল মিথি৷ ব্যাথাটা ওর সহ্য হচ্ছে না। এই মনে হচ্ছে একটু করে কমে এল, আবার এই মনে হচ্ছে আগের চেয়েও দশগুণ শক্তি নিয়ে ব্যাথাটা আঘাত হানছে। ব্যাথাটা এমনই? মা হওয়ার ব্যাথা? মিথির প্রথমবারের মা হওয়ার যন্ত্রনা? মিথির কান্না এল। চোখ ভিজে এল। চোয়াল হয় শক্ত হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ও সহ্য করে গেল একটা মিষ্টি ব্যাথা। একইসাথে যন্ত্রনা এবং অপেক্ষার অবসানের সুখ। মিষ্টি এক সুখ। মিথির ভাবতেই আনন্দ আনন্দ লাগছে যে কিছুটা সময় পর তার কোলে তার এতদিনের অপেক্ষার ফল, তার ছোট্ট প্রাণ, তারই মিষ্টি বাচ্চাটা থাকবে।

মিথিকে দারোয়ান চাচার পরামর্শে এখানকার সরকারী হাসপাতালেই আনা হলো।সাথে দারোয়ান চাচাকেও আনা হয়েছে কিছুটা সাহায্য হবে বলে। এইছাড়া দীপ্র আর হিয়া এসেছে। কিন্তু আসার পরের এক ঘন্টা সময় কেঁটে গেলেও ডক্টরের দেখা মিলল না।মিথি যন্ত্রনায় কাতর যেন। হিয়ার জামাটা খামচে ধরেছে। দীর্ঘ যন্ত্রণা শরীরকে ক্লান্ত করে তুলেছে। পেটে, কোমরে ব্যথা, ঘাম আর কান্নার মিল সব মিলিয়ে যেন একটি দীর্ঘ যুদ্ধ। ভেতরের চাপ এত বেশি যে, শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু সে জানে, আর একটু ধৈর্য ধরলেই তার প্রাণটা তার কোলে আসবে৷ দীপ্র বারকয়েক ছোটাছুটি করে খোঁজ নিয়েছে। ডক্টরকে বলা সত্ত্বেও আসতে না দেখে হিয়ার উপর বিরক্ত হলো ও। বিড়বিড় করে রাগ দেখিয়ে বলল,
“ তোকে কে বলেছে সরকারি হসপিটালে আনতে? এখন যদি এসবের জন্য বাচ্চার কিছু হয়ে যায়? কি করবি? ”
হিয়া দীপ্রর দিকে তাকাল কেমন করে। আসলেই কি এখানে আনা ভুল হয়েছে? যদি ডক্টর সত্যিই না আসে? তখন? ভয়ে ভয়ে ও মিথির দিকে চাইল। মেয়েটার অবস্থা যাচ্ছেতাই। বেহাল। ও মিথির মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে লাগল,
“ এই তো মিথি। আর অল্প, ডক্টর চলে আসবে। আর একটু ব্যাথাটা সহ্য কর লক্ষী।আমি একটু দেখে আসি হুহ? তুই একটু বোস।”

দীপ্রকে রেখে হিয়া এইটুকু বলেই পা বাড়াল। দারোয়ান চাচাকে ডেকে এনে এটা সেটা বলে উনি সহই গেলেন ফের। জানানো হলো, রোগীর কষ্ট হচ্ছে। অতঃপর তারও মিনিট দশ পর ডক্টর এলেন।
শেষ দিকের ব্যাথাটা যেন সবচেয়ে তীব্র। শরীর যেন আর সাহায্য করছে না, শুধু ভেতরের ব্যাথাটা তীব্রই বোধ হলো। মিথি দাঁতে দাঁত চেপে শক্ত হাতে হিয়ার হাত ধরে শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করছিল। এই সময়ে এসে ওর মনে হলো, ব্যথা আর কখনো শেষ হবে না। অথচ তার কিয়ৎক্ষন পরই সমস্ত ব্যাথা,যন্ত্রনার অবসান ঘটিয়ে মিহি স্বরের কান্নার সঙ্গে একটা আদুরে বাচ্চা জন্ম নিল। নরম, ক্ষুদ্র,ছোট্ট একটা প্রাণ। মিথির চোখে জল তখনও। যখনই মৃদু আওয়াজে কান্নাটা তার কানে পৌঁছাল তখনই ওর মনে হলো ওর কান্নারা আজ বেসামাল। ওর কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে। পৃথিবীকে জানান দিতে ইচ্ছে হচ্ছে যে ওর ছোট্ট প্রাণটা এসেছে।ওকে মা বলে ডাকার জন্য তার প্রাণটার আগমণ হয়েছে।মিথি চোখে জল নিয়েই হাসে। হৃদয় ভরে ওঠে আনন্দে। যন্ত্রণা, ক্লান্তি, ভয় সব মিলিয়ে এক মিশ্রিত সুখে রূপান্তরিত হয়।

মিথির একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে। তার নরমাল ডেলিভারিই হয়েছে।যার দরুন ভোর ভোর হলেই বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে। অথচ একটা নবজাতক বাচ্চার যে কিভাবে সেবা করা হয়, কিভাবেই বা নবজাতক শিশুর মায়ের সেবা করা হবে এই বিষয় হিয়া,মিথি সকলেই নতুন। প্রথম অভিজ্ঞতা বলে কথা। তাই নিজের বাসাতে নিয়ে যাওয়াই সেইফ মনে হলো যেন। হিয়া তাই এই ভোর ভোরে তার আম্মুকে কল দিল। ওপাশ থেকে আম্মি তৎক্ষনাৎই জানান দিল রূড স্বরে,
“ আমি তোমাকে পড়তে পাঠিয়েছিলাম হিয়া, মিথির সেবা করতে পাঠিয়েছি? ওকে নিয়ে তুমি এতোটা পড়ে আছো কেন? ওর জন্য রাত বিরাতে বাইরে যাচ্ছো! এসব কি হ্যাঁ? ”
হিয়া মিনমিন করল। দ্রুত মিথির দিকে চাইল। ও শুনছে না তো? বিড়বিড় করে বলল,

” হসপিটালেই তো এলাম। ওর এতোটা কষ্ট হচ্ছিল, তুমি বলতে চাইছে আসব না আমি? ”
“ ওর নামে গ্রামে এমনিতেই কত কথা হয় জানো? ওর ভাই ভাবী তো ভাবে তুমিই ওকে বুঝিয়ে শুনিয়ে নিয়ে চলে গেছো। ওর জন্য তুমি কেন দোষী হবে? এখন ওকে যদি বাসায় আনো তাও গ্রামে কথা হবে। লোকজন বলবে যে ওর বাড়িতে না গিয়ে এখানে কেন এসেছে এইসেই। ”
হিয়া ছোটশ্বাস ফেলে। মৃদু স্বরে বলে,
“ সেসব পরে দেখা যাবে। আপাতত আমরা বাসায় আসছি। অল্প কয়েকদিন থাকব আম্মু। কোন বাড়তি প্রতিক্রিয়া দেখাবে না প্লিজ ওর সামনে। যা বলার আমাকে বলিও। ”

হিয়া একপাশে কথা বলছে। মিথি অবশ্য অতো মনোযোগ দিল না। ওর মনোযোগ তখনই সদ্য জম্মানো আদুরে মুখটার দিকে। এতোটা আদর, এতোটা ছোট লাগছিল। দীর্ঘ যন্ত্রনা, লড়াই এর পর মিথির গলা শুঁকিয়ে এসেছে। শরীর কাঁপছে তখনও। অথচ ওর হৃদয়ে তৃপ্তি। মন প্রাণ জুড়ে নতুন একটা প্রাপ্তির আনন্দ। সুখ! মিথি কাঁপা হাত বাড়ায়। তার ফুটফুটে প্রাণটার দিকে চেয়ে সে আর কান্না আটকাতে পারল না। বিড়বিড় করল,
“ আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম প্রাণ। তোমার আম্মুর জন্য তুমি এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার। শ্রেষ্ঠ সুখ। তুমি দেখো, যে মানুষটা তোমায় অস্বীকার করেছিল। বাবা হওয়ার মতো সুন্দর অনুভূতিকে এভাবে অপমান করেছিল। আমি তার ছায়াও তোমার উপর পড়তে দিব না আম্মু। তুমি আমার, শুধুই আমার। আমার সুখ, আমার প্রাণ, আমার বিষাদ সবই তুমি আম্মু। ”
অতঃপর আদুরে বাচ্চাটার নরম, মিহি হাত ছুঁয়ে মিথি কেঁদে ফেলল।মিষ্টি কান্না।মিথির এখনো রাত তিনটা থেকে ছয়টা এই সময়টাকে যেন দীর্ঘ দুইদিন মনে হয়। অনেকটা সময়।অনেকটা!যেন ফুরিয়ে আসছিলইই না।

আয়মানরা প্রায় সাত আটজন বন্ধুবান্ধব ঘুরতে এসেছে। রাতে ফিজা কল করলেও আয়মান অতোটা গুরুত্ব নিয়ে ঘুমের মধ্যে না শুনলেও প্রায় সকাল ছয়টার দিকে খবর পেয়েছিল ফিজার থেকে যে মিথির ছোট্ট একটা মেয়ে হয়েছে। ফিজা তো বলতে বলতেই বেশ ছটফট করছিল খুশিতে। আয়মান হাসে। ফিজার সাথে স্বপ্ন বোনার একধাপে সেও এমন একটা বাচ্চার স্বপ্ন দেখে। পিচ্চি, মিষ্টি এক বাচ্চা! আয়মান মনে মনে হাসে। পাশে বসে থাকক হিমেলকে চাপড় মেরে বলে,

“ জানিস? মিথির একটা ছোট্ট মেয়ে হয়েছে। ”
হিমেল শিথীল চাহনিতে ঘাড় বাঁকাল। বলল,
“ কবে? ”
“ এই তো আজ সকালেই। ”
হিমেল ফের ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ আজ সকালেই? ”
এইটুকু বলেই একটু থেমে ফের আবার জিজ্ঞেস করল,
“ মিথি কেমন আছে? আর বাচ্চা? সুস্থ আছে দুইজনে? ”
আয়মান বোকার মতো মাথা চুলকাল। বলল,
“ ওটা তো জিজ্ঞেস করা হয়নি। শুধু ফিজা বলল যে ওর মেয়ে হয়েছে।”
হিমেল এবার মুখচোখ টানটান করে তাকাল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ গর্দভ! ”
ফের বলল,
“ ফিজাকে কল কর। কেমন আছে দুইজনে খোঁজ নে। আর হ্যাঁ, আমরা আজকেই বাসায় ফিরব।”
আয়মান সঙ্গে সঙ্গে বলল,
“ কেন? মিথির মেয়ে হয়েছে বলে? ”
“ তোকে কল দিতে বলেছি না?”
আয়মান কল দিল। খোঁজ নিল মা মেয়ে ভালো আছে। সাথে এইটুকুও জানল ওরা বাড়ি যাচ্ছে।আয়মান ফের কল রেখে বলল,

“ হ্যাঁ, ভালো আছে মা মেয়ে। আমায় রাতেও কল করেছিল ফিজা। ওরা একা একা সবটা কত কষ্ট করে ম্যানেজ করেছে ভাব। যাক, তবুও সব ভালো হলো। ”
হিমেল সবাটা শুনে কিছুটা সময় নিরব চেয়ে থাকল। সত্যিই তো। চারজনই মেয়ে। একা একা এতকিছু ম্যানেজ করেছে। মিথি? মিথির কতটুকু কষ্ট হলো। হয়তো অনেক সমস্যা পোহাতে হয়েছে। ইশশ! তাকে এই সময়টাতেই কেন ট্যুরে আসতে হলো? এই সময়টাতেই কেন? যদি মিথির পাশে থাকতে পারত, সাহায্য করতে পারত। হিমেল বিড়বিড় করল শুধু নিজের উপর রাগ নিয়ে,
“ আমাদের এই সময়ই কেন ঘুরতে আসার প্ল্যান করতে হলো? রাগ হচ্ছে নিজের উপর। অন্য সময়ে এলেও তো হতো। ”
এইটুকু বলেই ফের আয়মানকে বলল আজই বাসায় ফিরবে। আয়মানের যেন যেতে ইচ্ছে হলে না। বলল,
” গিয়েও কি করবি? মিথিরা তো বাড়ি যাবে। ”
” তবুও ফিরব। ”
আয়মান এবারে হাসল উত্তরটা শুনে। হিমেল সেই হাসিটা লক্ষ্য করেই বলল,
“ আর এই যে হাসছিস, এই হাসি যদি এখানকার কারোর মধ্যে ছড়ায় তো তোর কি খবর হবে তা বুঝাতে হবে না নিশ্চয়? ”

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২৬

আদ্রর বাবা একটা বিজন্যাস ট্যুরে দুয়েকদিন বাইরে ছিল। কিন্তু ফেরার পথেই বিপত্তি বাঁধল। উনার গাড়ি এক্সিডেন্ট করল। পথচারীরা তাড়াহুড়ো করে নিয়ে এল এখানকার সরকারি হসপিটালেই। অতঃপর উনার ফোনে কল আসা নাম্বার রিসিভড করেই একজন পথচারী তার দূর্ঘটনার কথাটা জানালেন।
অপরপাশের আদ্র বাবার দূর্ঘটনার কথা শুনে চমকাল। ঠিক কেমন প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত বোধহয় বুঝলই না। তবে বাবাকে কোথাও নেওয়া হয়েছে সেই হসপিটালের ঠিকানাটুকু নিয়েই এই সাতসকালে বের হলো ও।

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২৮