বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৬০
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
মিথি যখন ফের আবারও হিমেলের কপালে ঠোঁট স্পর্শ করল এবং ফের আবারও চোখের উষ্ণ নোনা পানি যখন হিমেলের কপাল ছুঁল তখনই হিমেল বিস্ময় নিয়ে চাইল। মিথি তাকে এই মাত্র চুমু দিল? অবিশ্বাস্য এই কার্যটি মিথি করেছে ভেবেই হিমেল যখন ওভাবেই মিথিকে পরখ করছিল ঠিক তখনই মিথির খেয়াল হলো যে হিমেল চেয়ে আছে তার দিকে। মুহুর্তের মধ্যেই মিথি সরে বসল। হিমেল ভাই চোখ মেলছিল না মেলছিল না বলে এতোটা সময় যে হাহাকার নিয়ে অপেক্ষা করছিল তা এক মুহুর্তেই রূপ নিল এক লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে। মিথি তবুও মাথা তুলে তাকানোর চেষ্টা করল। অথচ হিমেলের দৃষ্টি দেখে এবার তার অনুশোচনা হচ্ছে। কি ভাবছে হিমেল ভাই তাকে? বোহায়া? নাকি অন্য কিছু? ভেবেই কোন রকমে নিজের হয়ে সাফাই দিল,
“ আপনার কপালের দিকে কি যেন ছিল হিমেল ভাই। ভুলে ঠোঁট লেগেছে আপনার কপালে। ”
হিমেল শুধু ভ্রু বাঁকাল। ভুলে? বিশ্বাস করবে এটা হিমেল? তখনও কথা বলতে পারছিল না হিমেল। শরীর দুর্বল। নয়তো মিথিকে জিজ্ঞেস করত,আসলেই ভুলে? হিমেল ওভাবেই চেয়ে থেকে কিছুক্ষন স্থির নজরে পরখ করল মিথির মুখটা। তখনও চোখ ভেজা। মুখচোখ ফোলা-ফোলা। কপালের দিকে কালচে দাগ, এলোমেলো চুল, বিধ্বস্ত রূপ সবই স্পষ্ট। যেন ক্লান্ত নগরীর পথিক এক। হিমেল চেয়েই থাকল কেবল। তারপর আচমকাই বাম হাতটা বাড়িয়ে মিথির কপালের দিকে ঘামে লেপ্টে থাকা চুল গুলো সরিয়ে কানে গুঁজল। মিথি তখন হুট করেই ফুফিয়ে কেঁদে উঠল।ঐ এক মুহুর্তে, ঐরকম খবর পেয়ে মিথি সত্যিই ভেবে নিয়েছিল হিমেল ভাই আর কখনো আসবে না তার সামনে। এভাবে যত্ন, ভালোবাসা নিয়ে আগলে নিবেন না হয়তো আর কখনো।ঐ মুহুর্তটা মনে উঠলেই কলিজা কেমন করছে। শক্তপোক্ত মিথিকে আবারও কান্না করাচ্ছে বারবার ঐ মুহুর্তটার স্মৃতি। মিথি ওভাবেই ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে স্বাভাবিক স্বরেই বলল,
“ আমার জীবন থেকে কখনো হারানোর ভাবনা মাথায় আনবেন না হিমেল ভাই। যদি কখনো হারান, আমি আপনাকে আজন্মের ঘৃণা করব। ”
হিমেল শুনল। এই কথার বিপরীত অর্থ কি এমনই যে, আমার জীবনে সবসময়ই থেকে যাবেন হিমেল ভাই। ভুলেও হারানোর চিন্তা করবেন না।হ্যাঁ, এমনই তো। হিমেল শুনল। এরপরের সময়টুকু কাঁটল নিরবতায়। মিথি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছিল পুরুষটাকে। শান্ত, স্থির চোখজোড়া বারবার তার দিকেই ফিরে দেখছিল কেবল।
হিমেলের জ্ঞান ফেরার পর একে একে আয়মান, ফিজা, মিষ্টি সহ হিমেলের পরিবারের সবাই ও এসেছিল। একে একে দেখে গিয়েছিল সবাই। একটু আগে সাবিহাও এসেছিল। হিমেলকে দেখে প্রায় কেঁদেই ফেলছিল মেয়েটা। মিথি দূর থেকে দেখছিল এক দৃষ্টিতে চেয়ে। এই মেয়েটা হিমেল ভাইকে অনেকটা ভালোবাসত তো। আর সেখানে মিথি? মানুষটাকে বারংবার অবহেলা দিয়েছিল। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। সাবিহা চলে যেতেই হিমেলের সামনে এল। অতঃপর হিমেলের দিকে চাইল। বাসা থেকে আয়মানকে দিকে জামাকাপড় আনিয়েছে একটু আগেই। হিমেলের শরীর মুঁছে দেওয়াটা দরকার। ঐ দূর্ঘটনার পর এত কিছু গেল! নিশ্চয় ফ্রেশ হলে ভালো লাগবে। এইটুকু ভেবেই কিছু বলতে নেওয়ার আগেই হিমেল ভ্রু উঁচু করে প্রশ্ন ছুড়ল,
“ আসলেই ভুলে ঠোঁট লেগেছিল? ”
কোন প্রসঙ্গ উল্ল্যেখ না করে হুট করেই এরূপ প্রশ্ন করলে অন্যসময় হয়তো মিথি ভ্রু কুঁচকাত। অথচ আজ বুঝতে একটুও সময় লাগল না যেন। মুহুর্তেই মুখে ফুটে উঠল অপ্রস্তুত ভাব। উত্তর করল,
“ হ্ হ্যাঁ, ভুলেই তো। ”
“ ভুলে ঠোঁটই কেন লাগল? ”
মিথি ছোট ছোট চোখে চাইল এবারে। বলল,
“ তো, তাহলে ইচ্ছে করে করেছি নাকি আমি? ”
হিমেল আর উত্তর দিল না এবারে। একটু আগে আয়মানই বলছিল মিথির পাগলামির কথা। কি কি করছিল, কি কি বলছিল সব। সাথে এটাও যে, মিথি তাকে ভালোবাসে। হিমেল চোখ বুঝে। গম্ভীর গলায় বলল,
“ এই জায়গায় আমি হলে তুই নির্ঘাত ভাবতি যে আমি তোর সুযোগ নিচ্ছিলাম। তাই না? ”
মিথি তাকাল। হিমেল ভাই এর মুখচোখ গম্ভীর। তারমানে কি হিমেল ভাই ও এটাই ভাবছে? এটাই ভাবছে যে মিথি সুযোগ নিয়েছে। ছিঃ ছিঃ! মিথি মুহুর্তেই বলল,
“ আপনিও কি তাই ভাবছেন? সুযোগ নিয়েছি ভাবছেন? ”
“ আমি কি ভাবছি তা কি জরুরী মিথি ?”
মিথির দৃষ্টি ছোট ছোট হয়ে এল। মনের মধ্যে অনুশোচনা হলো। এতদিনে কি হিমেল ভাইয়ের ভালোবাসা কমে গিয়েছে তার অবহেলায়? খুব ছোটস্বরে এবারে ধীরগলায় বলল,
“ আচ্ছা, যদি কেউ ঠিক সময়ে কাউকে ভালোবেসে উঠতে না পারে, অবহেলা করে এবং পরবর্তীতে ঐ মানুষটিকেই ভালোবেসে ফেলে সেক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী অবহেলার জন্য কি শাস্তি পাওয়া উচিত? কি শাস্তি পেলে তার ভালোবাসা বুঝানো যায়? ”
হিমেল তখন উঠে হেলান দিয়ে বসেছিল। কথাগুলো শুনেই তাকাল হিমেল।উত্তর করল,
“ যারা ভালোবাসে, তারা অবহেলা পেয়েও ভালোবাসে মিথি। বেহায়ার মতো আড়ালে আবড়ালে হলেও ভালোবাসে। আর বেহায়ারা অবহেলার বিনিময়ে শাস্তি হিসেবেও ভালোবাসাটাই দেয় কেবল। ”
মিথি শুনল। বলতে চাইল যে,“ আমি যদি আপনাকে এখন ভালোবাসি বলি। বিশ্বাস করবেন হিমেল ভাই? ” অথচ স্বভাববিরুদ্ধ এই কথাটা মিথি বলতে পারল না। শুধু বলল,
“ যদি মিথিয়া মাহমুদ আপনার থেকে সে শাস্তি টুকু পেতে চায় দিবেন শাস্তিটা হিমেল ভাই?”
এইটুকু বলে মিথি চাইল হিমেলের দিকে। উত্তরের আশায় চেয়ে থেকেই হুট করে মনে হলো তার অস্বস্তি হচ্ছে। হিমেল ভাই উত্তর কেন দিচ্ছেন না? দেওয়া উচিত তো। অথচ হিমেল উত্তর দিল না। বেশ অনেকটা সময় উত্তরের আশায় থেকেও যখন মিথি উত্তর পেল না তখন মিথি উল্টো ঘুরল। পা বাড়াতেই হিমেল গম্ভীর গলায় জানাল,
“ মিথিয়া মাহমুদকে শাস্তি দিবে হিমেল? এতটুকু তো ভাবা হয়নি। তবে শাস্তিটুকু যদি ভালোবাসাই চান তা হিমেল মৃত্যুর পরও বাসবে। হিমেলের জীবনে আপনি ব্যাতীত কেউ নেই। ”
মিথির পা জোড়া থেমে গেল প্রথমেই। অতঃপর ওভাবেই উল্টো ঘুরে দাঁড়ানো অবস্থাতেই শুনতে পেল সবটা। মিথি চোখ বুঝের।একটা লম্বা শ্বাস ফেলে মিথি ধুপধাপ পা ফেলল। আর একটু ও দাঁড়াল না মেয়েটা ওখানে। এক অদ্ভুত অনুভূতি যেন ঘ্রাস করল সমস্ত শরীর।
হিমেলকে বাসায় আনা হলো ঠিক দুদিন পর। এই দুইতিনদিন বাসায় না থাকার দরুন আজ এসেই সব গোছাতে হলো। হিমেল বিছানায় বসে মিষ্টির সাথে যখন অল্প দুয়েক কথা বলছিল তখন মিথি রান্না ঘরে। দুপুরের রোদের দরুন বাইরে বেশ উত্তাপ৷ মিথি রান্নাটা অল্প সময়ে সেরেই হিমেলের ঘরে এল৷ কপালের ঘাম মুঁছতে মুঁছতে বলল,
“ হিমেল ভাই, আপনার দুপুরের ঔষধ আছে তো। ”
হিমেল শুনল। মিষ্টির হাতে তখনও তার আঙ্গুল ধরা। এইসেই বলে মজা করছিলি সে। মিথির কন্ঠ পেয়েই চেয়ে দেখে বলল,
“ গোসল করব। মাথায় পানি না দিয়েই করব। দুদিন যাবৎ হসপিটালে থেকে আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। ”
মিথি তাকাল। হসপিটালে থেকে নাকি অসুস্থ হয়ে গেছে? কেমন কথা! বলল,
“ হসপিটালে অসুস্থ ছিলেন বলেই দুদিন ছিলেন হিমেল ভাই। ”
হিমেল কিঞ্চিৎ হাসল। জানাল,
“ অথচ প্রথম দিনেই সুস্থ হয়ে গেছি আমি। ”
“ অনেক সুস্থ হয়েছেন! এখনো মাথায় ব্যান্ডেজ। ”
এইটুকু বলতে বলতেই মিষ্টিকে কোলে নিল মিথি। পরমুহুর্তেই বলল,
“ গোসল করতে পারবেন? ”
“ না পারলে? ”
মিথি চাইল। হিমেলের মাথায় আঘাত লাগার কারণেই বেশ রক্তপাত হয়েছিল। তেমন বিপদ আশংকা না থাকলেও শরীর এখনো দুর্বল বলেই মিথি প্রশ্নটা করেছিল। অথচ প্রশ্নের বিপরীতে এমন প্রশ্ন শুনে ইতস্থত বোধ করল মিথি।হিমেল বোধহয় বুঝল তা। মুহুর্তেই বলল,
“ পারব। অতোটুকুও অসুস্থ নই আমি।”
অতঃপর হিমেল গোসল নিজেই করল। শুধু মাথায় পানি দিল না ব্যান্ডেজ থাকার কারণে৷ মিথি ঠিক বার্থরুমের দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকল । যদি দরকার হয়? সে কারণেই। অথচ মিথির ডাক পড়ল না। হিমেল একটু পরই একটা তোয়ালে কোমড়ে পেঁচিয়ে বের হলো। আর বের হয়েই মিথিকে দেখে ভ্রু কুঁচকাল। বলল,
“ এভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ”
মিথি তাকাল। খালি গায়ে এভাবে হিমেল বের হবে সে ভাবেনি। আবার হিমেলও বোধহয় ভাবেনি যে মিথি এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। মিথি উত্তরে বলল,
“ আপনার কিছু দরকার হবে কিনা তাই দাঁড়িয়ে ছিলাম। শরীর সুস্থ লাগছে এখন? ”
“ লাগছে। ”
“ আচ্ছা। ”
মিথির সেদিনের পরীক্ষাটার পর মাঝখানে একটা পরীক্ষা দেওয়া হয়নি আর। পরের বছর নাহয় সে পরীক্ষাটা আবার দেওয়া যাবে। তবে বাকিগুলো গ্যাপ দিতে নিষেধ করল হিমেলই। এই যে আজও পরীক্ষা আছে। মিথি অসুস্থ হিমেল এবং মেয়েকে রেখে পরীক্ষা দিতে যাবে না বললেও হিমেলই কাল রাতে গম্ভীর গলায় আদেশস্বরূপ জানিয়েছে পরীক্ষা দিতে। মিথি তবুও না করেছিল। তবে হিমেলই বুঝিয়েছে। অতঃপর মিথি ও রাজি হয়েছিল। রাত জেগে পড়েছেও টেবিলে বসে। মাঝে কয়েকবার ঘুমন্ত হিমেলকে দেখেও এসেছে সযত্নে ধীরেসুস্থে পা ফেলে। অতঃপর ভোর রাতের দিকেই টেবিলে পড়তে পড়তেই চোখ লেগে এসেছিল। তারপর সকাল সকাল উঠতেই দেখল হিমেল এসে তার পাশেই দাঁড়ানো। পড়ার টেবিলে যেভাবে চোখ লেগে এসেছিল ঠিক সেভাবেই ঘুমিয়ে গিয়েছিল মেয়েটা। বোধহয় এটাই দেখছিল। হিমেল মুহুর্তেই বলল,
“ ঘাড় ব্যাথা করছে না? পরীক্ষা কি ঘাড় ব্যাথা নিয়ে দিবি তুই? ”
“ না, ঘাড় ব্যাথা করছে না তো। ”
“ মিথ্যে বলবি না। ”
মিথি উঠে দাঁড়াল। জানাল,
“ ঐটুকু ঘাড়ব্যাথায় কিছু হয়না। আপনি এত তাড়াতাড়ি উঠেছেন কেন? খারাপ লাগছে হিমেল ভাই? ”
হিমেল চেয়ে দেখল। মিথির চোখপানে চেয়ে থেকে বলল,
“ খারাপ লাগলে কি করবি? ”
মিথি মুহুর্তেই পা এগিয়ে হিমেলের একদম সামনে দাঁড়াল। অস্থির কন্ঠে বলল,
“ কোথায় খারাপ লাগছে? মাথায় ব্যাথা হচ্ছে? নাকি অন্য কোথাও? বলুন..”
“ পড়। আমাকে নিয়ে এত ভাবতে হবে না। ”
এইটুকু বলেই পিছন ফিরল হিমেল। যেতে যেতে ফের বলল,
“ পরীক্ষা দিবি, এরপর সোজা বাসায় চলে আসবি মিথি। ঐ দুটো ছেলের সাথে ভুলেও কথা বলবি না। তাকাবিও না। নাহলে কিন্তু আমি সত্যিই অসুস্থ ফিল করব। ”
মিথি ফ্যালফ্যাল করে তাকায়। এটা কোন কথা? এই ভোরবেলায় হিমেল ভাই এর মাথায় এটাই এল? বলল,
“ হিংসে করছেন ওদের? সামান্য অপরিচিত ঐ দুটোকে ছেলেকে হিংসে করছেন? ”
হিমেল উত্তর করে না। শুধু পা বাড়ায়। হিংসে করবে না? যাকে এতকাল চেয়েও, এত কষ্ট পেয়েও, এত যন্ত্রনায় থেকেও ভালোবেসেছে তাকে দুদিনের কোন ছেলে এসে কেন কথা বলবে? কোন অধিকারে?
মিথি মুখচোখ ধুঁয়েই গেল রান্না করতে। হিমেলের জন্য নাস্তা তৈরি করে রুটি বানানোর জন্য আটা নিল। অতঃপর রুটি বানিয়ে সবে সব গোছগাছ করল ঠিক তখনই চোখ পড়ল দরজায় দাঁড়ানো হিমেলের দিকে।মিথির গালের ডানদিকে কিছুটা ময়দা লাগানো। একইভাবে কপালের বামপাশটায় ও ময়দা লাগানো। হিমেল এতোটা সময় বুকে হাত গুজে রেখে দরজায় হেলান দিয়ে দেখছিল শুধু। এবারে এগোল। একদম মিথির কাছাকাছি গিয়ে ঝুঁকে হুট করেই মিথির ডানগালে লেগে থাকা ময়দাটুকু মুঁছে দিল হাতের আঙ্গুলে। মুখটা আরেকটু কাছাকাছি এনে ফু দিলে কপালের অংশটুকুতেও। ভ্রু জোড়া নাচিয়ে কেমন এক ঠান্ডা স্বরে বলল,
“ আমি ঐ ময়দাটুকুকেও হিংসে করছি মিথি। যেখানে আমিই পৌঁছাতে পারলাম না ওখানে ওই ময়দার কণাগুলোর অধিকার হলো কি করে পৌঁছানোর? ”
কন্ঠস্বরটায় কি জানি ছিল যে মিথি ঈষৎ কাঁপল। হিমেলের দিক থেকে চাহনি এবারে কিঞ্চিৎ নড়বড়ে হলো। ঈর্ষা? হিংসে? ঐ সামান্য ময়দার সাথে? মানা যায় এমন কথা?
সাইয়ারা মেহজাবীন অনেকটা সময় তাকিয়ে ছিল আদ্রর দিকে। দূর থেকেই। এই পুরুষটির প্রতি কিঞ্চিৎ হলেও তার আগ্রহ আছে বলেই সে এই পুরুষটির প্রতি এতোটা মনোযোগী। সাইয়ারা পা এগোয়। আদ্রকে দেওয়ালে চোখ বুঝে থাকতে দেখেই প্রশ্ন ছুড়ল,
“ চোখ বুঝে থেকে কার কথা কল্পনা করছেন আদ্র? বউয়ের কথা? ”
আদ্র চোখ বুঝে থেকেই হাসে। অফিসার স্বরূপ সম্মান তো সাইয়ারাকে দেখানো হয় না। তাই ওভাবেউ বসে থেকে হেসে উত্তর করল,
“ আমি নিজেই তাকে বউ সম্পর্কটা থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম অফিসার। নিজেই ডিভোর্স দিয়েছিলাম। তবুও দেখুন, আমি আজকাল তার কথাই ভাবি। তার কথাই মনে করি। অনুশোচনায় দগ্ধ হই আর অনুভব করি ভালোবাসা আসলেই ভুল সময়ে অনুভব করা যায়। ”
সাইয়ারা মেহজাবীন আদ্রর দিকে মনোযোগ দিয়েই তাকাল। অতঃপর ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,
বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৫৯
“ বউকে খুব ভালোবাসেন আদ্র? এত ভালোবাসেন যে সে আপনাকে একটাবার দেখতেও আসে না?”
আদ্র হাসল। উত্তরে দীর্ঘশ্বাস টেনে বলল,
“ বাসতাম না তো।বেশ জুলুম ও করেছি। তবে এখন বোধহয় বাসি। জানেন মিস সাইয়ারা? এখন আমি প্রতিটা সেকেন্ডে সেকেন্ডেই আফসোস করি এই ভেবে যে যদি ঐ সময়টায় আমি তাকে ভালোবাসতাম। ইশশ!কেন যে বাসলাম না ভালো। ”
