Home ভুলভাল অন্তরাল ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৪

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৪

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৪
মুশফিকা রহমান মৈথি

সাতজন পটনভী বড়কাকার ঘর থেকে গাড়ির চাবিখানা চুরি করে গাড়ি নিয়ে বের হলো রাত সাড়ে বারোটায়। উদ্দেশ্য, হালিম খেতে খেতে বড় পর্দায় খেলা দেখা। আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল পর্ব পার করে ফেললেই তারা ব্রাজিলিয়ান দুটো ভেড়াকে নিজে বুড়িগঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাবে। বুড়িগঙ্গার কালো পানিতে তারা একটু কাঁদবে। জন্মের পর থেকে চারটে বিশ্বকাপের তিনটির ফাইনালে পিও দলকে খেলতে দেখেছে। একটু কাঁদা তো উচিত।
রিদম এবং তাশদীদ ঘোষণা করেছে আজ থেকে তারা আর্জেন্টিনা। তারা যে দল সাপোর্ট করে সেটাই হারছে। শেষ ভরসা ফ্রান্সেরও ভরাডুবি হলো। তাই নিজেদের বিশ্ব কুফা বলেই আখ্যা দিয়েছে তারা। কথা হচ্ছে কুফা যখন লাগছেই কেননা আসল টার্গেটকে কুফা লাগানো যাক।

আজ তারা মন প্রাণ দিয়ে আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করবে। কাঞ্চনের অবশ্য খেলা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। সে রাতের ঢাকা দেখবে। ফোনের জন্য ট্রাইপড, লেন্স এবং একটা ফ্লাশ লাইট ব্যাগে নিয়েছে। বেশ কয়টা ভিডিও করবে সে। পেজের রিচ ভালো। একটা লাইভও করা যায়। রাতে খেলা দেখতে দেখতে লাইভ ব্লগ? কেমন হবে? ভেতরে খুব উত্তেজনা কাজ করছে। এডভ্যাঞ্চার বিষয়টা কাঞ্চনকে ভীষণ টানে। আগামী মুহূর্তে ঠিক কি হবে তারা জানা নেই। ফলে বুকের ভেতর কেমন দুরুদুরু করে।
গাড়িটা আট সিটের। পটনভীদের সবচেয়ে বড় গাড়ি এটা। মাঝের সারিতে চাপাচাপি করে বসলো চারজন। কারণ পেছনের সারিতে একেবার পা ছড়িয়ে বসেছে তাশদীদ। অঞ্জনা এতে ভীষণ চেতে গেলো। ক্ষুব্ধ স্বরে বললো,
“এই তুই এমন কাতলা মাছের মতো পেছনের সিট গুলো দখল করে বসেছিস কেন? আমরা এখানে চারটে প্রাণী চাপাচাপি করে বসেছি। নিজেদের আঁটাতেও পারছি না। সোজা হ। তাকবীর পেছনে বসবে।”
তাশদীদ দায়সারা ভঙ্গিতে বললো,

“তো তোদের আসতে বলেছে কে? ঘরে যা। আমি তো এমনেই যাব। কাতলা মাছের মতো। একটা অফার আছে, তুই চাইলে চাইলে পেছনে আয়। শুধু আমার মাথার ভারটা সইতে হবে।”
তাশদীদ কথাটা শেষ করতে পারলো না। অঞ্জনা নিজের হাতের পানির বোতলটা ছুড়ে মারলো ওর মুখে। তাশদীদ দু হাতে সেটাকে ক্যাচ ধরে ফেললো। একটুর জন্য খাড়া নাকটা ভাঙ্গে নি। বিরবির করে বললো,
“আমার বিল্লি, আমাকেই ম্যাও!”

গাড়ি চালাচ্ছে রিদম। গত বছর ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়েছে। কাজিনমহলের মধ্যে তার-ই লাইসেন্স আছে। তাই সবাই গাড়ি চালাতে পারলেও কেউ চালানোর সাহস করে না। গাড়ির কাগজপত্র এবং নিজের লাইসেন্স গাড়ির গ্লাভ বক্সে রাখা। রিদমের এক হাত স্টিয়ারিং হুইলে। দক্ষ, নিপুণভাবে এক হাতে সে গাড়ি চালাচ্ছে। চোখজোড়া কালো পিচের রাস্তাতে নিবদ্ধ রাখার চেষ্টা সে করছে কিন্তু বারে বারে পাশের সিটে বসা কালো পোশাকধারী রমনীতে আঁটকে যাচ্ছে। পৃথুলা শাকচুন্নী দৌড়ে এসে এই সিটটা দখল করেছে। সে যেনো আগ থেকেই টের পেয়েছে তাশদীদ ফাতরামী করবে। সমস্যা সেখানে নয়, সমস্যা মেয়েটি একটা গাঢ় মেরুন রঙের লিপস্টিক দিয়েছে ঠোঁটে। মুখে কোনো মেকাপ নেই। এমনকি চোখেও কাজল নেই অথচ মুখশ্রী সুপ্রতিভ লাগছে। চুলগুলো খোলা। চশমাটা আপাতত মাথায় তুলে রেখেছে। মোটেই সুন্দর তাকে লাগছে না। তবুও রিদমের কেন যেন দেখতে ইচ্ছে করছে। গাড়ি থামিয়ে স্টিয়ারিং হুইলে মাথা ঠেকিয়ে নির্নিমেষ চোখে তাকে দেখতে ইচ্ছে করছে। অবাধ্য চোখের তৃষ্ণা গলায় এসে ঠেঁকছে। মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে। লিপস্টিকটা একেবারে নষ্ট করে দিতে ইচ্ছে করছে। রিদমের রাগ হলো নিজের চিন্তাতেই। আজকাল একটু বেশি বেয়াড়া হয়ে উঠছে না সে। নিজের সংযমগুলো বারবার ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে যাচ্ছে। মস্তিষ্ক বারবার লজিক দিচ্ছে,

“সামনে বিপদ, ঝাপাস না। মরে যাবি। এই মেয়ে তোকে মেরে ফেলবে।”
অথচ নিজেকে কিছুতেই আঁটকাতে পারছে না। সূক্ষ্ণ টান তাকে বারবার চোরাবালিতে টানছে। না এমনটা হতে দেওয়া যাবে না। মোটেই না। তাই চোখ সরিয়ে রাস্তায় নিবদ্ধ করে কঠিন স্বরে বললো,
“পৃথুলা, লিপস্টিক মোছ!”
পৃথুলা তাকিয়ে ছিলো বাহিরের দিকে। রাতের শান্ত পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করছিলো। মনে হচ্ছিলো গাড়িটা কখনো না থামুক। চলতেই থাকুক, চলতেই থাকুক। সেই চিন্তার ছেদ ঘটালো রিদমের ভারী স্বর। কপাল কুঁচলে ভীষণ বিরক্তির সাথে সে তাকালো রিদমের দিকে। রিদম তার দিকে একটা টিস্যু এগিয়ে ধরেছে। তার চোখ রাস্তায়। ডান হাত স্টিয়ারিং হুইলে। ছেলেটা কি জানে তাকে এখন কতটা নয়নাভিরাম লাগছে। বাউন্ডেলে ছেলেটি জানে না।
ফাতরামি স্বভাব এবং বাউন্ডেলে ভাবখানা ছাড়া রিদম নামের এই পুরুষের মধ্যে সেই সব বৈশিষ্ট্য আছে যাতে নারীরা আঁটকায়৷ হয়তো সেকারণে পৃথুলা নিজেও আঁটকেছে। খারাপ ছেলেকে ভালোবাসা দিয়ে ভালো করার মতো ধৈর্য্য পৃথুলার নেই। সে শুধু একটা জিনিস বুঝে তা হলো বিশ্বস্ততা। রিদম যদি তার হয় তবে সে শুধু তার হবে। অন্য কোনো মেয়ের সাথে তার হাসিটাও পৃথুলার চক্ষুশূল।হয়তো তার এই স্বভাব রিদমের কাছে শেকলের মতো লাগে। সেকারণেই সাতদিনের মধ্যেই সে “ব্রেকাপ” ঘোষণা করেছে। তবুও পৃথুলার মনে একটা সূক্ষ্ণ বিশ্বাস, রিদম তাকে ভালোবাসে। তাই তো তাকে পোড়াতে ভালো লাগে পৃথুলার। একা সে কেনো পুড়বে। পুরুষটা অকারণেই তাকে পোড়াবে, আবার কোনো দায় নিবে না– এটা কি অন্যায় না? অবশ্যই অন্যায়। সিটে গা এলিয়ে দিলো পৃথুলা। জুতো টা খুলে দু পা তুলে বসলো আয়েশ করে। রিদমের দিকে চেয়ে একটু খোঁচা দিয়ে বললো,

“আমার ঠোঁট, আমার লিপস্টিক। নিজের টাকায় কেনা। বাপের টাকায় না। তাই আমার মর্জি!”
রিদমের চোয়াল শক্ত হলো। সে তাকালো না পৃথুলার দিকে। রাস্তায় চোখ স্থির রেখে বললো,
“ভালোয় ভালোয় বলছি, মোছ। বাজে লাগছে। একেবারে চোখে ধরাম করে এসে লাগছে?”
পৃথুলার ঠোঁট বাঁকলো, মুখটা একটু এগিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
“জেলাস? কে জানে হয়তো কারোর চোখ আঁটকে যেতে পারে!”
“অন্যদের আঁটকানোটা সমস্যা নয়, সমস্যা হল আমি আঁটকে যাচ্ছি।”
কথাটা মাথায় আন্দোলিত হলো। পৃথুলা এক মুহূর্তের জন্য থমকালো। রিদম কথাটা খুব ধীরে বললেও তার কান ঠিক শুনতে পেয়েছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রিদমের বাড়িয়ে থাকা হাতের থেকে টিস্যুটা নিলো। মুছে ফেললো লিপস্টিকটা। আজকে এই পর্যন্তই ঠিক আছে। আগামীকাল আবার পোড়ানো যাবে।

আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে সরাসরি টিএসসি চত্বরে গেলো পটনভীরা। আকাশ কৃষ্ণ মেঘে ঢাকা। গুমোট বাতাস পায়তারা করছে বৃষ্টি নামানোর। অথচ এতোটা বৈরি আবহাওয়ায় সেখানে শয়ে শয়ে মানুষ জার্সি পরিহিত। ভপু বাজাচ্ছে। উল্লাস উত্তেজনায় জমজমাট একটা পরিবেশ। মেসিকে মেরেছে সেটা নিয়েও কলরব। এখানে যে সবাই আর্জেন্টিনার ভক্ত এমনটা নয়। রিদম এবং তাশদীদের মতো মানুষও আছে। রিদম এবং তাশদীদের মতো তারা ভন্ড। ইংল্যান্ডের পায়ে বল গেলেই তাদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হত। মুখিয়ে উঠতো একটা গোল দেখার জন্য।
একটা ফাঁকা জায়গায় গাড়ি পার্ক করলো রিদম। এখান থেকে পর্দা দেখা যাচ্ছে। ভীড় থেকে বেশ দূরেই অবস্থান। গাড়ির বোনেটের উপর বসলো তাশদীদ। গাড়ির ছাঁদ খোলা। সিটের উপর দাঁড়িয়ে মেয়েরা খেলা দেখছে। তাকবীর কোথা থেকে একটা বেঞ্চ নিয়ে এলো রিদম, তাকবীর এবং ইকরাম সেটায় দাঁড়িয়ে দেখলো। প্রথম অর্ধেক খেলা শেষ হলো। উত্তেজনা এখনো শিখরে। লোকের ভীড় কম এখানে। রিদম ঘড়ির দিকে চেয়ে বললো,

“কি খাবি? এখানে অনেককিছু পাওয়া যায়। বার্বিকিউ, হালিম, নেহারি। যা চাস পাবি। অবশ্য গোলও খাবি!”
“তোরা না আর্জেন্টিনা।”
“প্রথমদিন তো। ভেতরের ব্রাজিলটা বেরিয়ে আসছে।”
কাঞ্চন তার ভিডিওটা বন্ধ করে বললো,
“আমি কোক খাবো, গলা শুকিয়ে গেছে। বৃষ্টি শুরু হবে। এর আগেই আনিস।”
“আচ্ছা তোরা গাড়িতে থাক। বের হইস না। এখানে অনেক ছেলে পেলে। আমরা আসতেছি।”
“চারজন কি মিছিল করতে যাচ্ছিস। একটা থেকে যা!”
“আম্মারা আমাদের দশহাত না। এতো খাবার কি মাথায় করে আনবো?”
রিদমের কথায় কাঞ্চনের থামতে হলো। চারভাই একসাথে গেলো খাবার কিনতে। এখন হাফ টাইমের ব্রেক। গাড়ির এদিকটায় ভীড় নেই প্রায়। রিদম বেশ দূরেই দাঁড় করিয়েছে। অঞ্জনার জন্য তাই দেখা কষ্টকর। সে মোবাইলে নেট খরচে খেলা দেখছে।গাড়িতে অহেতুক বসে থাকা কষ্টকর। তাই পৃথুলা বললো,
“গাড়িতে গরম লাগছে। একটু বের হই। একটু সেল্ফি না তুললে হয়? এতো সেজেছি অহেতুক!”
অঞ্জনা এবং কাঞ্চন সায় দিলো। তারা বের হলো গাড়ি থেকে। ছবি তুললো। চার ভাই এখনো ফিরে নি। কাঞ্চন অধৈর্য্য গলায় বললো,

“গলা শুকিয়ে গেছে। গাধারা কই?”
“হালিম কি ওরা বানাচ্ছে?”
অঞ্জনার প্রশ্নে পৃথুলা বললো,
“আমার মনে হয় ওরাই চুলায় বসে গেছে। পাতিল হয়েছে তাশদীদ।”
পৃথুলার কথায় হাসির রোল পড়লো। কাঞ্চন আশেপাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখলো এক হাত দূরেই একটা টং। কাঞ্চন পৃথুলাকে বললো,
“তোরা থাক, আমি কোক কিনে আনি।”
“একা যাবি? রিদম চিল্লাবে। একেই আমাদের গাড়িতে থাকতে বলেছিলো!”
“ভাই পরিবেশ ফকফকা। কিছু হবে না। তুই আমাদের নাজুককলির সাথে থাক। ওকে তুলে নিলে বিপদ। মেহেদী কাকার দুলালী!”
কাঞ্চনের কথায় অঞ্জনা অভিমানী স্বরে বললো,

“তাশদীদের প্রক্সি দিচ্ছিস?”
“সরি বাবু, রাগ করে না।”
বলেই এক দৌড়ে টং এর দিকে চলে গেলো কাঞ্চন। পৃথুলা এবং অঞ্জনা গাড়িতে হেলান দিয়ে ছবি দেখছে। এর মধ্যেই একটা উস্কানিমূলক স্বর কানে এলো,
“ম্যাডামরা কোন দল?”
পৃথুলা মাথা তুলে তীক্ষ্ণ চোখ তাকালো সামনে। কয়েকটা ছেলে। পরণে তাদের আর্জেন্টিনার জার্সি। গলায় মোটা চেইন। হাতে সিলভার রঙ্গের ব্রেসলেট। হাতে ভপু ধরে আছে। ছেলেগুলোর চোখ অসম্ভব লাল। নির্ঘুমের কারণে নাকি ভিন্ন কারণ সে নিয়ে ভাবনা করলো না পৃথুলা এবং অঞ্জনা। তবে যা তাদের অস্বস্তিতে ফেললো সেটা হলো ছেলেগুলোর দৃষ্টি। প্রচন্ড বিশ্রী। পুরুষের দৃষ্টি ভালো না খারাপ সেটা চেনা মেয়েদের জন্য খুব সহজ। তাদের দেহে যখন তারা চোখ বুলায় তখনই তারা সেই দৃষ্টির ধাঁর অনুমান করতে পারে। পৃথুলা এবং অঞ্জনার ক্ষেত্রেও এই ছেলেদের মানসিকতা এবং দৃষ্টি বুঝতে সময় লাগলো না। অঞ্জনা ভীতু মেয়ে। ছেলেগুলোর নোংরা দৃষ্টিতে সে থিতু হয়ে গেলো। শক্ত করে পৃথুলাকে ধরে বসলো। পৃথুলার মধ্যে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হলো না। সে স্থির দৃষ্টিতে ছেলেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করছে।

ছেলেগুলো অঞ্জনার ভীত মুখখানা দেখে আনন্দ পেলো যেন। কানাঘুঁষা করছে। হাসছে। হাসির দমকে তামাক খাওয়া কালো দাঁত নজরে পড়ছে। এর মধ্যেই কাঞ্চন ফিরে এলো। হাতে কাচের কোকের বোতল। তার ভ্রু কুঞ্চিত হলো যখন সাত-আটটা ছেলেকে দেখলো তাদের সামনে। এই এলাকা জনবহুল। একটা চিৎকারে লোক জমায়েত হবে। তবুও ছাগলগুলো ম্যা ম্যা করছে। কাঞ্চনকে আসতে দেখে একজন শিষ বাজালো। একজন বলে উঠলো,
“আপু কি এনাদের বডিগার্ড নাকি? একটা কোক আনলেন? তিনজনের হবে? বলেন তো আমরা কিনে দেই?”
ছেলেটা কথা শেষ করার আগেই আরেকজন দাঁত বের করে বললো,
“আমি চশমাওয়ালা আপুটারে কিনে দিব। উনাকে আমার ভালা লাগছে!”
কাঞ্চনের কপাল কুঁচকে এলো। মাথায় আগুণ ধরালো আরেকটি বাক্য,
“একা একা না খেয়ে আমাদেরও খাওয়ার সুযোগ দিন ম্যাডাম। আফসোসের অবকাশ দিবো না।”
কাঞ্চন প্রায় খিঁচিয়ে উঠে বললো,

“কি সমস্যা? সুখে থাকতে কি ভুতে কিলায় তোদের?”
“তুই তুকারি করছেন যে ম্যাডাম। আমরা তো আপনাদের প্রটেকশন দিচ্ছিলাম। একা একা খেলায় তো মজা নেই! তা আপু কোন দল? ইংল্যান্ড নাকি আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা জিতলে কিন্তু ট্রিট আমাদের।”
অঞ্জনা কাঞ্চনকে থামতে ইশারা করলো। নরম স্বরে বললো,
“বাজে ছেলে এরা, কথা বলিস না কাঞ্চন।”
ফলে ছেলেগুলো অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। যেন এর থেকে হাস্যকর কথা তারা শুনে নি। সেই সুযোগে একটি ছেলে এগিয়ে এলো তাদের দিকে। হেসে বললো,
“আমরা ভালো ছেলে ম্যাডাম। ভয় পাচ্ছেন কেন! আমরা তো শুধু বন্ধুত্ব করতে চাই। মেসির গোলের চেয়ে তো এ ম্যাডামে রাগ বেশি। এতো রাগলে হয়?”
ছেলেটি অনেক কাছে চলে এসেছে। প্রায় গা ছুঁই ছুঁই। অঞ্জনা কাঁপা স্বরে বললো,
“দেখুন ভাই, আমাদের বিরক্ত কইরেন না। খেলা দেখতে এসেছি। আমাদের সাথে আমাদের ভাইরাও আছে।”
অঞ্জনার ভীত স্বর ছেলেগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ালো। কাছে আসা ছেলেটি দাঁত বের করে কুৎসিত হাসি হেসে বললো,

“আপনারা কি ভাইয়ের সাথেই এসেছেন নাকি! সমস্যা নেই। আমরাও অমন ভাই হতে চাই। আমাদেরও পুরুষত্ব আছে। ট্রাই করবেন?”
অঞ্জনাদের উত্যক্ত করা ছেলেগুলো আবার বিশ্রীভাবে হাসবে। গা গুলিয়ে উঠছে অঞ্জনার। পৃথুলার ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গলো এবার। তারা কিছু বোঝার আগেই পৃথুলা সামনে এগিয়ে আসা ছেলেটির ঠিক পায়ের মাঝে লাথি দিলো। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো বেচারা। প্যান্ট ধরে সে রাস্তায় মুরগীর মতো ছটফট করছে। এমন আক্রমণ আশা করে নি সে। পৃথুলা তখনও নির্বিকার।
এদিকে ছেলেটির ব্যথায় নীল মুখ দেখে বাকিদের মধ্যে উত্তেজনা ছলকালো। একজন “ম” বর্গীয় গালি দিয়ে পৃথুলার দিকে এগিয়ে আসতেই কাঞ্চন তার হাতের কাচের বোতলটা সজোরে ছেলেটির মাথায় মারলো। বোতল ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো হয়ে গেলো। ছেলেটি মাথা ধরে বসে পড়লো। কাঞ্চন শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে বললো,
“উপস, ব্যথা লেগেছে বাবু? এখনো পুরুষত্ব দেখাতে চাও?”
হালিম কিনতে দেরি হলো রিদমদের। এতো লাইন ছিলো। প্যাকেট গুলো নিয়ে গাড়ির কাছে আসতেই তাদের পা আঁটকে গেলো। কাঞ্চন রীতিমতো একটা ছেলের চুল মুঠো করে ধরে আরেকটা ছেলের হাত কামড়ে আছে। পৃথুলা কাঞ্চনের ট্রাইপড দিয়ে উড়াধুরা মেরে যাচ্ছে। কার গায়ে লেগেছি কি না দেখার সময় নেই। আর অঞ্জনা হাতে একটা ইট নিয়ে তাদের ভয় দেখাচ্ছে। তাকবীরের চোয়াল ঝুললো,

“ফুটবলে রেস্লিং শুরু হলো কি করে? দ্যা পটনভীস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌছে গেলো!”
“আমরা এন্ট্রি নিবো না!”
ইকরামের প্রশ্নে রিদম এবং তাশদীদ তার দিকে এক সাথে চাইলো। হাতের প্যাকেটগুলো সব তার হাতে ধরিয়ে তাশদীদ বললো,
“আমরা নিবো, তুই না। আপাতত তুই রেফারি!”
কথা শেষ করেই ঝাপিয়ে পড়লো তারা। একটা ছেলে অঞ্জনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করতেই তাশদীদ তার ঘাড় করে মাথাটা বোনেটে চেপে ধরলো। অঞ্জনার মুখটা সাদা হয়ে গেছে। তাশদীদ ছেলেটির মাথা বোনেটে ঠেসে অঞ্জনার দিকে কোমল চোখে চেয়ে ফিঁচেল স্বরে বললো,
“বিল্লি, আমার বেলায় যেমন কামড় দিস। অন্যদেরও বেলাতেও একটু খামচা। আমি অলওয়েজ তোকে বাঁচাবো না!”

মারামারি তুমুল পর্যায়ে চলে গেলো। ছেলেগুলোকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি,চড় মেরে প্রায় কুপোকাত করে ফেললো পটনভীরা। নাক থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছে তাদের। ঠোঁট কেটে গেছে। সারা দেহে মারের দাগ। মুখে কালশিটে পড়েছে। এদিকে মারামারি তুঙ্গে উঠায় জটলা জমে গেলো। এর মধ্যে দুজন ঠহল পুলিশ এসে হাজির হলেন। মারামারি থামলো। কিন্তু বাদী-বিবাদীর অবস্থান হলো থানায়।
বাংলাদেশি সিনেমায় সবসময় একটা সিন খুব কমন। মারামারি শেষ পুলিশের আগমন। কাঞ্চনদের ক্ষেত্রে সেটা হয় নি। পুলিশের আগমণ আগেই হয়েছে। টহল পুলিশ এসেছে। তারা মারামারির মধ্যেই এসেছে। কিন্তু তাদের চিরচারিত নিয়ম অমান্য করে নি। দোষীকে রেখে নির্দোষকে তারা জেলে পুরেছে। পটনভীরা জেলের ভেতর আর বাহিরে ওই লম্পট ছেলেগুলো। পুলিশের কাছে মনে হয়েছে বড়লোকের বাউন্ডেলে ছেলেরা নিরীহ জনগণকে মেরেছে। অবশ্য মনে হবার যথেষ্ট কারণ কাছে। প্রতিটা ছেলেকে মেরে আলুভর্তার মতো বানিয়ে দিয়েছে। মাথায় ফোলা অংশ, নাক ভেঙ্গেছে, কামড়ে কাঞ্চন রক্ত বের করে দিয়েছে। আর পৃথুলা হিল দিয়ে পুরুষত্বে আক্রমণ করেছে। রিদম এবং তাশদীদের হাতের অবস্থাও যাচ্ছে তাই। চামড়া ছিলে গেছে, রক্ত জমাট বেঁধে আছে। তাকবীরের ঠোঁট কেঁটেছে। রিদমের কনুইয়ে বেশ ঘা লেগে কালো হয়ে আছে। পৃথুলা একটু পর পর সেখানে গুতা দিচ্ছে আর বলছে,

“ব্যথা করছে?”
“না শাকচুন্নী, আরাম লাগছে। আমি তোর হাতটা মুচকে দেই? বুঝছি আরামের বহর।“
পৃথুলা ঠোঁট চেপে হাসছে। কাঞ্চন লোহার শিকে মুখটা বের করে দাঁড়িয়ে আছে। রমনা থানার ওসি চেয়ারে বসা। তার পান খাওয়ার অভ্যাস। পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে বসে আছেন। কাঞ্চন তাকে অনুনয় করে বললো,
“স্যার, আমরা নির্দোষ। বিশ্বাস করুন।“
“সব আসামী-ই বলে সে নির্দোষ।“
“এই কুত্তার বাচ্চাগুলো আমাদের টিজ করেছিলো স্যার।“
লোকটা কঠিন চোখে তাকাতেই সে জিভে কামড় দিয়ে বললো,
“বেবি অফ ডগিগুলো আমাদের প্রভোক করেছিলো স্যার।“
ওসি চরম বিরক্তির সাথে তাকালেন। মেয়েটির পোশাক আশাকেই একটা উচ্ছঙ্গে যাওয়া ভাব রয়েছে। কাঞ্চন লোকটির দৃষ্টি অনুধাবন করতে পারলো। ওসি সাহেব চেয়ারে গা এলিয়ে বললেন,
“তোমাদের মত ছেলেমেয়েদের খুব ভালো করে জানা আছে। বড়লোক বাপেদের লাফাঙ্গা। এখন বাপের নাম্বার দাও। দ্রুত। ফোন দিব। এসে ছেলেমেয়েদের ছাড়িয়ে নিক।“

বড়কাকা এবং রিদমের বাবা যদি জানেন খেলা দেখার নামে তারা আকাম করেছে নিশ্চিত মাথা ভেঙ্গে দিবে। পৃথুলার বাবা ইলিয়াস পটনভী জানলেও তাদের রক্ষা নেই। মেজকাকা এবং সেজো ফুফাও ছাড়বে না তাকবীর এবং ইকরাম কে। সবথেকে বড় বিপদের নাম জুলফিকার পটনভী। পকেট মানি বন্ধ করে দিবেন সবার। ফলে অনেকক্ষণ শান্ত থেকে মাথায় একটা বুদ্ধি ফাঁদলো কাঞ্চন। প্রায় কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো,
“স্যার, বিশ্বাস করেন আমরা ভালো ঘরের ছেলেমেয়ে। আমার তো পার্ফেক্ট হাজবেন্ডও আছে, সে র‍্যাবের অফিসার। একটা ফোন করতে দিন প্লিজ। আমার হাসবেন্ডটা আমাকে না পেয়ে মনে হয় এখন কাঁদছে।“
এই পর্যায়ে কাজিনমহলের অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে গেছে। তারা কাঞ্চনকে ছেড়ে দিয়েছে। যা পারে করুক। ওসি এবার আরোও বিরক্ত হলেন। তিনি রেগেও গেলেন। কড়া স্বরে বললেন,
“হ্যা, তোমার বর র‍্যাব অফিসার আর আমার বউ ঐশ্বরিয়া।“
“সত্যি স্যার। আমার একটা র‍্যাব হাসবেন্ড আছে। এখন পকেটে নিয়ে থুরি না ঘুরবো। একটা ফোন করতে দিন। সুপারম্যানের মতো চলে আসবে।“
ওসি সাহেবের ভ্রুর ভাঁজ সটান হলো না। তিনি ঝাঁঝালো স্বরে শুধালেন,

“কি পোস্ট? কোন ব্যাটেলিয়ন?”
কাঞ্চন এবার থতমত খেলো। স্নিগ্ধ ভাইয়ের পোস্ট এবং ব্যাটেলিয়ন সে জানে না। জানার প্রয়োজনবোধ হয় নি। আগে জানলে একটা খাতায় টুকে রাখতো। পেছনে ফিরে ভাইবোনদের দিকে চাইলো। তারাও ঠোঁট উল্টালো। তারাও জানে না। এতে ওসি সাহেব বেশ মজা পেলেন। তার ঠোঁট বাঁকালো। টিটকারির স্বরে বললেন,
“স্বামীর র‍্যাংক, পোস্ট জানেন না? আর বলছেন স্বামী র‍্যাবে! বোকা বানাচ্ছেন?”
“স্যার আমি মিথ্যে বলি না। মিথ্যে বললে পাপ হয়।“
কাঞ্চন এমন ভাবে বললো যে রিদম আর তাশদীদ হেসে দিলো। কড়া চোখে তাকালো কাঞ্চন তাদের দিকে। ওসি সাহেব এবার একটু মজাই নিলেন। মোবাইল এগিয়ে বললেন,
“নাম্বার লিখে দেন। ফোন করি।“
এখানেও কাঞ্চন ধরা। স্নিগ্ধের ফোন নাম্বার তার মুখস্ত নেই। মোবাইলে সেভ করা আছে। কিন্তু নাম্বারটা সে মুখস্ত রাখে নি। নীরিহ মুখ করে বললো,
“আমি অগা ছাত্রী, নাম্বার মুখস্ত থাকে না। আমার মোবাইলে সেভ করা। দেওয়া যাবে ওটা?”
মোবাইল, খাবার সব সিজ করেছে অফিসাররা। ফলে হাতে তাদের কিছুই নেই। ওসি নাটকের শেষ দেখতে চান। তাই নিজেই কনস্টেবলকে বললেন,

“এই এই মেয়ের ফোন থেকে নাম্বার বের করে আনো।“
রাত তিনটে বিশ। স্নিগ্ধ গভীর ঘুমে। এর মধ্যে কর্কশ শব্দে বাজছে ফোন। প্রথমে দুবার বেজে বেজে থেমে গেলো। স্নিগ্ধ ফোনটা হাতে নিল তৃতীয়বার। অপরিচিত নাম্বার। স্নিগ্ধ ফোনটা রিসিভ করে ঘুমঘুম স্বরে বললো,
“হ্যালো।“
“জী, আমি রমনা থানা থেকে বলছি। আপনার স্ত্রী এবং শালা-শালিকাকে আমরা থানায় নিয়ে এসেছি। তারা এখন জেলে আটক। একটু থানায় আসলে ভালো হয়।“
স্নিগ্ধের গভীর ঘুম ছু মন্তর হয়ে গেলো। ধাঁরালো চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। মস্তিষ্ক স্থবির। কিছু সময় সে ওভাবেই বসে রইলো। তারপর গম্ভীর স্বরে বললো,
“আমি আধা ঘন্টার মধ্যে আসছি।“

কাঞ্চন এখনো লোহার শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে। স্নিগ্ধকে খবর দেওয়াটা যে কত ভয়ংকর একটা কাজ সে বুঝতে পারছে। কিন্তু এখন সে ছাড়া কাউকে ফোন করা যাবে না। ব্যাটা সারাক্ষণ পারফেক্ট হাসবেন্ডের বুলি ছাড়ে। এইটাই সুযোগ। ডিলে রাজী হবার থেকে সিমেন্টের বস্তা তাকে গোল দিচ্ছে। একটু গোল খাওয়ার সময় এসে পড়েছে। ঠিক তখন ই নবাবী চালে প্রবেশ করলো স্নিগ্ধ। কালো আইরন করা শার্ট ইন করে একেবারে ফিটবাবু বনে সে এসেছে। প্রশস্ত, সুঠাম গড়ণে বেশ ভালোই মানিয়েছে তাকে। কে বলবে রাত পৌনে চারটায় সে ঘুম থেকে উঠে এসেছে। চোখে ঘুমে বিন্দু মাত্র লেশ নেই। এসেই সে কোনো ভনীতা ছাড়া চেয়ারটা টেনে এক হাত চেয়ারের পেছনে ফেলে পিঠ ঠেসে পায়ের উপর পা তুলে বসলো। মনে হলো কোনো নবাব এসে বসেছে। পকেটে পুরা হাতটা বের করে নিজের কার্ড টেবিলে রাখলো। কার্ডটা দেখা মাত্র ওসি উঠে একটা স্যালুট ঠুকলো। তার সিনিয়র অফিসার এই লোক। স্নিগ্ধর সেদিকে নজর নেই। সে হাজতের ভেতরে বন্দি তার বউ এবং ভাই-বোনদের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে। ধাঁরালো সেই দৃষ্টিতে ভাইবোনেরা থিতু হয়ে গেলো। স্নিগ্ধকে বাঘের মতো লাগছে। সামনে এই নীরিহ প্রাণীগুলো তার শিকার। এখন ই থাবা দিয়ে প্রাণ হরণ করবে। শুধু কাঞ্চন হাসছে। হাত নাড়িয়ে বললো,

“এই তো আমার পারফেক্ট হাসবেন্ড এসে গেছে। কি স্যার, বলেছিলাম না। আমার হাবি আমার বিপদের কথা শুনে মোটেই বসে থাকবে না। তুমি ঘুমাচ্ছিলে তাই না। দেখো না, আমাদের বিনা কারণে তুলে এনেছে। আমরা তো খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা কিছু করি নি।“
পাশ থেকে বেঞ্চে বসে থাকা লম্পট ছেলেদের একটা বলে উঠলো,
“আমাদের মেরে ভর্তা বানিয়ে দিয়েছে স্যার।“
“এই তোদের ওয়ার্ন করেছিলাম আমি। শালাহ গোসল করস না দু সপ্তাহ। আমার মুখে কিটানু কিটানু হয়ে গেছে। বেশি কথা বললে এখন কেডস ছুরে মারবো।“
ওসি করুন স্বরে বললো,
“আপনার বউটা একটু বেশি চঞ্চল স্যার।“
স্নিগ্ধ এখনো তীক্ষ্ণ চোখেই তাকিয়ে রয়েছে। কাজের জায়গায় ফাতরামী তার সহ্য হয় না। তার মুখ কঠিন ইস্পাতের মতো হয়ে আছে। বসার ভঙ্গিতেই সেই কাঠিন্য প্রকাশ পাচ্ছে। শানিত দৃষ্টি যথেষ্ট অপরপক্ষকে কাবু করতে। কিন্তু কাঞ্চন একটু বিকার দেখালো না। স্নিগ্ধ এবার ওসির দিকে চাইলো। টেবিলে আঙ্গুল ঘষতে ঘষতে বললো,

“ওদের চেক করেছেন?”
“জি স্যার, ক্লিন।“
স্নিগ্ধ চোখ তুলে ওসির দিকে তাকালো। তারপর উঠে লম্পট ছেলেদের কাছে গেলো একজনের মাজায় আঘাত করতেই প্যান্টের নিচ থেকে একটা পুটলি বেরিয়ে এলো। গাঁজার পুরিয়া। স্নিগ্ধ পকেটে হাত পুরে ওসির দিকে তাকিয়ে বললো,
“এটা চেক করার নমুনা।“
ওসি শুকনো ঢোক গিললেন। স্নিগ্ধ এবার কাঞ্চনের দিকে তাকিয়ে বললো,
“পুরো ঘটনা কি?”
কাঞ্চন দাঁড়ি, কমা সহ পুরোটা ঘটনা বললো। স্নিগ্ধ ওসির দিকে আবার ধাঁরালো চোখে চাইলো। ওসি এবার ঘামছেন। শুকনো গলায় বললেন,
“আমি লকাপ খুলে দিচ্ছি।“
“কুইক।“
অবশেষে ছাড়া পেলো পটনভীরা। থানা থেকে স্নিগ্ধর পিছু পিছু সবাই বের হলো। গাড়ির কাছে এসে স্নিগ্ধ প্রতিটার মুখের দিকে তাকিয়ে ভারী স্বরে বললো,

“হ্যাভ ফান? কোটা শেষ নাকি বাকি আছে আমার প্রিয় শালা-শালীরা?”
সবাই চুপ। কোনো কথা বের হচ্ছে না। সে কপালের চামড়া টেনে নিজের রাগ দমানোর চেষ্টা করলো। ঘাড় ব্যথা করছে। সবগুলোকে চড় মারতে পারলে রাগ কমতো। কিন্তু সেটা সে করবে না। তাই ভারী গলায় বললো,
“বাসায় যা। এখন ই। আমি আর আমার ওয়াইফ পরে আসছি। আজ যা ঘটেছে, এটাই যেন শেষ হয়। এরপর আমি কোনো ওয়ার্নিং দিব না।“
রিদম মাথা কাঁত করলো। সুরসুর করে সব কয়টা গাড়ির দিকে গেলো। কাঞ্চনও তাদের পিছু নিতে গেলে হাত টেনে ধরলো স্নিগ্ধ। এতো জোরে ধরলো যে হাত লাল হয়ে উঠলো। কাঞ্চন তার কঠিন মুখের দিকে তাকাতেই সে হিসহিসিয়ে বললেন,

“আপনি কোথায় যাচ্ছেন ওয়াইফি?”
“ওদের সাথে।“
“আপনি আমার সাথে যাবেন।“
“কিন্তু…”

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৩

কথাটা শেষ করতে পারলো না কাঞ্চন। তার আগেই অনুভব করলো তার পা মাটিতে নেই। শূণ্যে ভাসছে। রীতিমত তার কোমড় ধরে কাঁধে তুলেছে স্নিগ্ধ। কাঞ্চনের মাজা বাঁকিয়ে শরীরের অর্ধেক অংশ নেমে এলো স্নিগ্ধের কাঁধ বেয়ে। ফলে ছটফট করে উঠলো কাঞ্চন। প্রশস্ত কাঁধে হাত ভর নিয়ে সোজা হয়ে বললো,
“নামাও আমাকে। কি করছো?”
“অনেক বেশি প্যাম্পারিং হয়ে গেছে। Now, you need little punishment wifey.”

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here