Home মিহি মিহি পর্ব ১৩+১৪

মিহি পর্ব ১৩+১৪

মিহি পর্ব ১৩+১৪
রুপন্তী সরকার

মিহি চুপ করে ক্লাস করেছে!
ক্লাস শেষে রিদ ছুটে মিহির কাছে আসলো! মিহি মুখ গুমরো করে দাঁড়িয়ে আছে! রিদ মিহির কাছে বসে ওকে জিজ্ঞেস করলো
“কি হয়েছে প্রিন্সেস ক্লাস ভালো লাগেনি?”
মিহি আস্তে করে বললো
“তোমার সাথে তথা বলবো না! তুমি মিহিকে রেখে চলে এসেছো! মিহি ও তোমাকে রেখে চলে যাবে”
হুট করেই রিদের বুকের ভেতর ব্যথা অনুভব হলো! রিদ সঙ্গে সঙ্গে মিহিকে আঁকড়ে ধরলো
“এসব কেমন কথা প্রিন্সেস? এমন কথা আর বলবে না! আমি কার জন্য এত কিছু করছি বলো? তোমার জন্যই তো করছি! এমন কথা বলতে পচাঁ লোক কষ্ট পাবে তুমি কি চাও পচা লোক কষ্ট পাক?”
মিহি রিদ কে জড়িয়ে ধরে বললো

“না আমি চাইনা পঁচা লোক কষ্ট পাক!”
“তাহলে কি এমন কথা আর বলবে?”
“এমন তথা আর বলবো না”
“তাহলে চুমু দাও?”
মিহি টুপ করে রিদকে চুমু খেলো!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এভাবেই ৩ মাস কাটলো!
মিহি নিয়মিত স্কুল করছে! এখন মিহি আর স্কুলে যাওয়ার জন্য কান্না করে না! স্কুলের মিহির বেশ কিছু ফ্রেন্ড হয়েছে!
রিদ ও সবদিক সামলাচ্ছে!
আজকে শুক্রবার…!
অভ্র আর রিদ মিহিকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছে!
মিহি অনেক খুশি আজকে! ওরা একটা পার্কে গেলো! মিহি অনেকক্ষণ খেললো!
ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যেবেলায় বাসায় আসলো
অভ্র রিদকে বললো

“আজকে আমি এখানেই থাকবো”
রিদ বললো
“ভদ্রলোকের মতো মেসে চলে যা!”
“এমন করিস কেন রিদ আজকে আমি থাকবো টুইংকেলের কাছে!”
মিহি বললো
“হ্যাঁ অভ থাকো”
“দেখো টুইংকেল তোমার পচাঁ লোক আমাকে থাকতে দিচ্ছে না”
মিহি রিদকে বললো
“অভ থাকুক না পঁচা লোক”
“ঠিক আছে তবে ওই আছে বলে আজকে কিন্তু তোমার ছুটি নেই! চুপচাপ পড়তে বসো”
অভ্র বললো

“না আজকে টুইংকেল পড়বেনা! আজকে শুক্রবার আজকে আবার কিসের পড়া?”
“ঠিক আছে তাহলে তুইও ভাগ তোকেও থাকতে হবে না ”
“এটা কেমন কথা রিদ?”
মিহি ওদের কথা শুন বললো
“না না মিহি পড়তে বসবে”
রিদ বললো
“এই তো আমার সোনা প্রিন্সেস”
অভ্র চট করে বলে উঠলো
“সেদিন আমি যখন সোনা টুইংকেল বললাম! তখন আমার দিকে তেড়ে আসলি!আর আজকে যে নিজে বললি? নিজের বেলায় ষোল আনা”
“ও আমার বউ হয়! আমি বলতেই পারি তুই কেন বলবি?who are you?”
অভ্র বলল
“ও আমার টুইংকেল হয় আমিও বলতেই পারি”
“হ আর তোরে আমি জুতা দিয়ে পিটতেই পারি”

বেশ কিছুদিন পর…!
আজকে রিদের কাজের চাপ বেশি তাই অভ্রই মিহিকে স্কুলে নিয়ে আসতে গেলো!
স্কুল শেষে অভ্র মিহিকে নিয়ে বাজারে গেলে! কারণ কালকে কালকে ১২ ই এপ্রিল রিদের জন্মদিন! তাই মিহি আর অভ্র ঠিক করেছে রিদকে সারপ্রাইজ দিবে!
অভ্র মিহি কে বললো
“টুইংকেল তুমি এখানটাই দাঁড়াও! আমি ওই দোকান থেকে কিছু বেলুন দিয়ে আসি!”
মিহি বললো

” আচ্ছা,”
এই বলেই অভ্র মিহিকে দাড় করিয়ে রেখে দোকানে চলে গেল!
দোকান থেকে কেনাকাটা করে এসে দেখে মিহিকে যেখানে রেখে গিয়েছিলো সেখানে মিহি নেই
অভ্রর মাথা ঘুরতে শুরু করে
গলা শুকিয়ে আসছে!
অভ্র জোরে জোরে মিহিকে ডাকতে লাগলো! আসেপাশে খুঁজতে লাগলো! কিন্তু মিহি কেথাও নেই!
অভ্র তাড়াতাড়ি করে রীদ কে ফোন দিলো!
“রিদ কই তুই টুইংকেল কে কোথাও পাচ্ছিনা”
আচমকা এমন কথা শুনে রিদের কলিজা কেঁপে উঠলো!
“পাচ্ছিনা মানে? তুইতো ওকে নিয়ে গেলি? কোথায় ও? আচ্ছা তুই আছিস কোথায়? আমি যাচ্ছি!
রিদ রেস্টুরেন্টের সব কাজ ফেলে দৌড়ে গেল অভ্রর কাছে
অভ্র মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিলো! রিদকে আসতে দেখেই অভ্র বলে উঠলো
“ভাই টুইংকেল কে কোথাও পাচ্ছিনা!”
রিদ রেগে বললো

“অভ্র তুই এতটা কেয়ারলেস কিভাবে হতে পারিস? একটা বাচ্চাকে সামলাতে পারিস না?”
অভ্র মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে!
রিদের হাত পা কাঁপছে!
অভ্র আর রিদ মিলে মিহি অনেক খুঁজলো! কিন্তু মিহি কোথাও নেই!
রিদআর অভ্র পাগলের মতো গোটা শহর খুঁজলো!
সকাল থেকে বিকেল হয়ে আসলো এখনো অব্দি মিহির কোন হুদিশ নেই! অভ্র তখনো খুঁজে চলেছে
রিদ ওর বাবার কাছে ছুটে গেলো
ওর বাবার কাছে গিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
“বাবা প্রিন্সেস কে কোথাও পাচ্ছিনা! আমাকে একটু খুঁজে দাও না বাবা”
আরাফ রায়ান চৌধুরী গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো বললো
“আমি কোথায় পাবো ওকে?”
“আমি জানিনা বাবা তুমি যে করেই হোক ওকে এনে দাও প্লিজ”
“আচ্ছা আমি দেখছি বিষয়টা”

রিদ কোন কথা না বলেই চলে গেলো!
কখন থেকে খুঁজে চলেছে! মেয়েটা কি উধাও হয়ে গেলো?
রিদ নদীর ধারে গেলো তীরে বসে চিৎকার করে বললো
“প্রিন্সেস কোথায় তুমি? চলে আসো না তোমার পচাঁলোকের কাছে! তোমার পচাঁলোক খুব কষ্ট পাচ্ছে তোমাকে ছাড়া! আল্লাহ ও তো একটা বাচ্চা! এই শহরের কিচ্ছু চেনে না! আমি কোথায় খুঁজবো ওকে? আপনি পথ দেখান আমাকে! আর কত নিঃস্ব করবেন আমাকে? আপনার কাছে তো বেশি কিছু চাইনি আমি! শুধু ওকে নিয়ে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছি! তাও কেড়ে নিচ্ছেন আমার থেকে?”
রিদ আবারো খুজতে লাগলো কিন্তু পেলো না
এবার রিদ রাস্তায় বসে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো
“আল্লাহ এমন করেন না! আপনি আমার মাকে নিয়ে নিলেন, এখন যাকে নিয়ে বাঁচতে চাচ্ছি তাকেও নিয়ে নিচ্ছেন? আমি কি এতই খারাপ?একটু দয়া করুন আমার ওপর! ও একটা বাচ্চা ওর যেনো কোন ক্ষতি না হয় ওকে ফিরিয়ে দিন আমার কাছে”

রিদের কান্না দেখে রাস্তায় যাওয়া সব মানুষ ওর দিকে তাকিয়ে আছে! ওখানকার কিছু মানুষ বলা বলি করছে
“আহারে ছেলেটা কতটা অসহায়! আল্লাহ আপনি ছেলেটার দোয়া কবুল করুন
রিদ চিৎকার করে কাঁদছে! হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি নামলো!
রিদের চোখের পানি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে যাচ্ছে!
অভ্র এসে দেখে রিদ কাঁদছে! অভ্র এসে রিদকে জড়িয়ে ধরলো! অভ্র কে কাছে পেয়ে রিদ ওকে জড়িয়ে ধরে বলে
“ভাই এনে দে না আমার প্রিন্সেস কে! আমার দম আটকে আসছে আমি মারা যাবো ভাই! প্লিজ এনে দে! তুই তো জানিস ও ছাড়া আমার কিচ্ছু নেই কেউ নেই! আমি তো বেশি কিছু চাইনি একটু ওকে নিয়ে বাঁচতেই চেয়েছি সেটাও কি আমার কপালে নেই? ”

“রিদ এমন করিস না আমরা খুজবো ওকে যে করেই হোক”
রিদের বাবা দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে!
রিদের বাবা অনেক অবাক হচ্ছে, রিদ কে উনি কখনো এতো অসহায় হতে দেখে নি কখনো কাঁদতে দেখেনি! রিদের মা মারা যাওয়ার সময় রিদ কেঁদেছিলো! এরপর আর কখনো রিদ কাঁদেনি! আরাফ রায়ান চৌধুরী বুঝতে পারে তার ছেলে এই বাচ্চার উপর খুব বাজে ভাবে আসক্ত!
উনি রিদের কাছে এসে ওর ঘারে হাত দিয়ে বলে
“রিদ কান্না করো না মানুষজন দেখছে!

রিদের কান্না কিছুতেই থামছে না! মনে হচ্ছে কেও কলিজা ছিঁড়ে নিয়ে গেছে! পাগলের মতো মাটি খামচে কান্না করছে!
চিৎকার করে করে বলছে
_”আল্লাহ আমি আর পারছি না! ফিরিয়ে দিন না ওকে আমার কাছে! ও একটা বাচ্চা ওর যদি কিছু হয় মরে যাবো আমি! দয়া করুন আমার উপর”
এইদিকে বৃষ্টি ও থামছে না! রাস্তার লোকজন রিদ কে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে!
একজন বললো
_”ইসস আল্লাহ ছেলেটার কথা শুনুন মেয়ে টা কে ফিরিয়ে দিন! ইসস কতো কান্না করছে!”
রিদের বাবা আর পারছে না ছেলের এই কষ্ট দেখতে! উনি ছুটে চলে যায়!
এইদিকে…!
মিহি কে একটা গুদাম ঘরের ভিতর আটকে রাখা হয়েছে
মিহি কান্না করছে আর বলছে

_”আমাকে ছেড়ে দাও না আমি পঁচা লোকের তাছে যাবো! আমাকে পঁচা লোকের তাছে যেতে দাও না আমি থাকবো না এখানে”
একটা মেয়েলি কন্ঠ বলে উঠলো
_”বালের পঁচা লোক পিচ্ছি বেডি আমার ভালবাসা কে কেড়ে নিয়েছিস তুই! তোর পচাঁলোক শুধু আমার”
তোর জন্য আমার জান আমার সাথে কথা বলে না! তোকে ও কি করে উদ্ধার করে সেটাই দেখবো”
মিহি বললো
_”কে তথা বলছো আমাকে পঁচা লোকের কাছে নিয়ে চলো”
এর মধ্যেই হন্তদন্ত করে আরাফ রায়ান চৌধুরী ছুটে আছে নিশির কাছে
_”নিশি ওকে ছেড়ে দাও মা আমার ছেলেটা মরে যাচ্ছে আমি আর পারছি না ওর কষ্ট সহ্য করতে”
_”মানে কি আঙ্কেল আপনি কি বলছেন এসব? রিদ শুধু আমার! এই মেয়ে ওর জীবনে থাকলে আমি কি করে রিদ কে কাছে পাবো?”

_”মা এখন ওইসব ভাবার টাইম নেই! আমার ছেলেটা শেষ হয়ে যাচ্ছে! মা তুমি মিহি কে ছেড়ে দাও”
আরাফ রায়ান চৌধুরী নিশি কে কিছু না বলে মিহি কে নিয়ে চলে যায়!
এইদিকে নিশি বলে
_”আমাকে আপনি ঠকালেন আঙ্কেল এটা ঠিক করলেন না! আমি যে করেই হোক ওদের আলাদা করবো রিদ শুধুই আমার! কতদিন আর আমার হাত থেকে ওকে বাঁচাবে?”
আরাফ রায়ান চৌধুরী মিহির দিকে তাকিয়ে ভাবলো
_”না জানি কোন জাতের মেয়ে! এর জন্য আমার ছেলের এতো চিন্তা ছি”
মিহি হুট করেই আরাফ রায়ান চৌধুরী কে বললো
_”আচ্ছা আঙ্কেল আমার পঁচা লোক তোথায় ?”
_”আছে চলো ওর কাছেই নিয়ে যাচ্ছি!”
আরাফ রায়ান চৌধুরী মিহির হাত ধরে রিদের কাছে নিয়ে যায় রিদ তখনো পাগলের মতো হাওমাও করে কান্না করছিলো!

আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে কান্না করছে!
মিহি এসে রিদের গালে চুমু খাই! মিহির ছোয়া পেতেই রিদ মিহির দিকে তাকাই!
রিদ সঙ্গে সঙ্গে মিহিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেই
পাগলের মতো বলতে থাকে
-“প্রিন্সেস তোমার কি কোথাও ব্যাথা লেগেছে? কই ব্যাথা পেয়েছো প্রিন্সেস? দেখি কই চলে গিয়েছিলে?”
মিহি রিদের আদর পেয়ে ফুপিয়ে উঠলো
হাত দেখিয়ে বললো

“একানে বেথা পেয়েছি”
রিদ মিহির হাতে চুমু দিয়ে বলে
“চলো ওষুধ লাগিয়ে দিবো! আর আমাকে ছেড়ে যেও না প্রিন্সেস! তোমার পচা লোক পাগল হয়ে যাবে!”
রাস্তায় থাকা মানুষজন ওদের অবাক হয়ে দেখছে!
ওখানকার মধ্যে একজন বলে উঠলো
“যাক আল্লাহ বাঁচাইছে! ছেলেটার কান্না কবুল হয়েছে”
অভ্র অনেক খোঁজাখুঁজির পর এসে দেখে! রিদ মিহিকে জড়িয়ে ধরে আছে!
অভ্র ছুটে এসে মিহি কে নিজের কাছে নেই
“কই ছিলে টুইংকেল? তোমার কোথাও ব্যাথা লাগেনি তো? আমার খুব বড় ভুল হয়ে গেছে টুইংকেল! আমি আর কখন এমন করবো না!
মিহি বললো

“জানো আমাকে আতকে রেখেছিল”
রিদ অবাক হয়ে বললো
“কে আটকে রেখেছিল? তোমাকে কি ব্যাথা দিয়েছে?”
“না বলেছে আমার পচা লোক শুধু ওর”
আরাফ রায়ান চৌধুরী দুরে দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছিলো! মিহিকে ওসব বলতে দেখে উনি বলে
“আচ্ছা সব বাদ দাও! রিদ ওকে নিয়ে চলো! আর তুমি ভেজা কাপুরের বসে থেকো না! ঠান্ডা লেগে যাবে!
রিদ কোনো কথা না বলে এক হাতে মিহি কে কোলে নিলো আর অন্য হাত দিয়ে অভ্রর হাত ধরলো!
ওরা চলে যেতে নিলেই পেছন থেকে আরাফ রায়ান চৌধুরী বলেন

মিহি পর্ব ১১+১২

” রিদ বাড়ি চলো”
রিদ বলে
“বাড়িতেই তো যাচ্ছি”
“মানে তোমার আসল বাড়িতে চলো”
“না আমি আগেই বলেছি পাপা! দরকার পড়লে ভিক্ষা করবো তবুও আপনার কাছে যাবো না! আর রিদ রায়ান চৌধুরী নিজের কথার খেলাপ করে না! আমি এভাবেই আমার বউকে কে বড় করবো!

মিহি পর্ব ১৫+১৬