মিহি পর্ব ১৫+১৬
রুপন্তী সরকার
পরের দিন সকালে…!
অভ্র সকাল সকাল রিদের বাড়িতে চলে আসে! আজকে রিদের জন্মদিন! অভ্র আর মিহি আগে থেকেই প্লান করেছিলো রিদের জন্ম দিনে ওকে সারপ্রাইজ দিবে!
অভ্র ঠিক করে রিদ কাজে চলে গেলে রিদের ঘর টা আগে সুন্দর করে সাজাবে!
তবে রিদ কাজে যাওয়ার আগে মিহি কে অভ্রর কাছে রেখে দরজায় তালা মেরে দেয়!
তাই অভ্র মনে মনে একটা প্লান করে!
রিদ ওয়াশরুমে গিয়েছে!
তাই অভ্র মিহি কে কাছে ডাকে!
মিহি চুপ চুপ করে অভ্রর কাছে গেলো
অভ্র মিহি কে ফিসফিস করে বললো
“টুইংকেল শোনো আজকে তোমার পচা লোকের জন্মদিন! সন্ধ্যাবেলায় যখন তোমার পচা লোক আসবে তখন তাকে আমরা চমকে দিবো! কিন্তু ওকে জানতে দেওয়া যাবে না ঠিক আছে?”
“আচ্ছা ঠিক আছে বলো কি কি তরতে হবে!”
অভ্র বললো তোমার পাশের বাড়ির মেয়েটা কে ডেকে আনো!
মিহি দৌড়ে চলে গেল মিষ্টিকে ডাকতে
মিষ্টি অভ্রর কাছে আসলো
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
অভ্র মিষ্টিকে সবকিছু খুলে বললো!
অভ্রর প্ল্যানগুলো মিষ্টিকে বুঝিয়ে বললো!
অভ্রর কথাতে মিষ্টি রাজি হয়ে গেলো
অভ্র মিষ্টি কে বললো
“শোনো এখন তুমি দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকো! যখন আমি শিস বাজাবো তখন তুমি ঘরে ঢুকবে আর আমি যা যা বললাম তাই তাই বলবে!”
মিষ্টি মাথা নাড়িয়ে আচ্ছা বললো! মিষ্টি চলে যেতেই
অভ্র মিহিকে ওসব শিখিয়ে দিলো!
রিদ ওয়াশরুম থেকে বের হতে অভ্র রিদ কে বললো
“শুন রিদ আমি আজকে একটু আমার বাড়িতে যাবো! ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হবে আমি কি মিহি কে নিয়ে যাবো?”
“না তুই একাই যা! তোর সাথে আর আমার প্রিন্সেসকে ছাড়বো না! তুই জা*উরা আছিস”
“আরে নিয়ে যায় না কি হবে? এমন করস ক্যান ইয়ার?”
“অভ্র আমি কিন্তু এক কথা বারবার পছন্দ করি না!”
অভ্র বললো
“তাহলে টুইংকেল কোথায় থাকবে?”
রিদ বিরক্তির সুরে বললো
“আজব কোথায় আবার থাকবে আমি ওকে আমার সাথে কাজে নিয়ে যাবো!”
অভ্র হুট করেই শিস বাঁচাতে লাগলো! তখনি হুরমুর করে মিষ্টি ঘরে ঢুকলো!
রিদ অভ্র কে বললো
“বোকাচ*দার সাথে সাথে কি পাগলও হয়ে গেছিস?হুদাই শিস বাজাচ্ছিস কেন”
অভ্রম মুখ কাচুমাচু করে মিষ্টির দিকে তাকিয়ে চোখ মারলো!
তখন মিষ্টি বললো
“বলছিলাম ভাইয়া মিহিকে আজকে আমার কাছে রেখে যাবেন? আসলে আজকে বাড়িতে বাবা মা নেই মিহি চলে গেলে আমার খুব একা লাগবে! ও আমার কাছে থাকুক প্লিজ?”
রিদ বললো
“কিন্তু”
অভ্র রিদকে কথা শেষ করতে না দিয়ে বললো
“হ্যাঁ হ্যাঁ টুইংকেল মিষ্টির কাছেই থাকুক! মিষ্টি ওকে দেখে রাখবে! তাই না মিষ্টি?”
মিষ্টি মাথা নাড়ালো
রিদ মিহি কে বললো
“প্রিন্সেস তুমি কি আমার সাথে যাবে নাকি মিষ্টির কাছে থাকবে?”
মিহি নাটক করে বললো
“উপ কি পেত বেতা !মিহি তোমার সাথে যেতে পালবো না পচা লোক! উপ মরেই যাচ্ছি”
মিহির কথা শুনে রিদের প্রানপাখি উরে যাওয়ার উপক্রম
রিদ দৌড়ে মিহির কাছে গেলো
হন্তদন্ত করে জিজ্ঞেস করলো
” কি হয়েছে প্রিন্সেস খুব ব্যথা করছে? থাক আজকে আমি কাজে যাবো না! চলো তোমাকে নিয়ে ডক্টরের কাছে যাই!”
অভ্র কপাল চাপড়াতে লাগলো মনে মনে বলে উঠলো
” খাইছে রে ওভার অ্যাকটিং এর দোকান এই পিচ্চিটা! তোরে কইলাম কি আর তুই করলি কি!”
মিহি অভ্রর দিকে তাকালো! অভ্র মিহিকে চোখের ইশারায় চুপ করতে বললো!
অভ্র মিহি কে বললো
“আরে না টুইংকেল কই তোমার পেটে ব্যথা করছে? এতো মজা করতে নেই তো টুইংকেল”
রিদ ক্ষেপে গিয়ে বললো
“আজব তো ওর পেটে ব্যথা করছে আর তুই বলছিস ও মজা করছে?”
মিহি বললো
“না পেতে ব্যথা সেরে গেছে! আমি মিষ্টি আপুর কাছেই থাকবো! তুমি কাজে চলে যাও পচা লোক!”
“তুমি তো মাত্র বললে তোমার পেটে ব্যথা এত তাড়াতাড়ি চলে গেলো? না থাক চলো তাও ডক্টর দেখিয়ে আনি!আজকে কাজে যাবো না!”
অভ্র কপাল থাপড়াতে থাপড়াতে বলে
“আরে রিদ তেমন কিছু হয়নি ভাই তুই কাজে চলে যা না?
তোর কাজ করাটা ইম্পর্টেন্ট”
রিদ মিহির দিকে তাকিয়ে বললো
“আমার জীবনের সবথেকে ইম্পর্টেন্ট আমার প্রিন্সেস,
ওর থেকে মূল্যবান আমার জীবনে কিচ্ছু নেই! আর এমন কাজ আমি অনেক পাবো, কাজের জন্য আমি আমার প্রিন্সেসের কষ্ট দেখতে পারবো না”
মিহি রিদের কপালে চুমু দিয়ে বললো
” মিহির পেত বেতা করছে না পচালোক, তুমি কাজে যাও”
রিদ মিহি কে জড়িয়ে ধরে বললো
“পরে যদি আবার ব্যথা করে?”
“আর বেতা তরবে না”
“শিওর তো?”
অভ্র বললো
“হ ভাই কোটি% সিওর”
রিদ বললো
“না থাক আমি ওকে নিয়ে যাই”
মিহি বললো
“না না না মিহি যাবে না”
রিদ মিহি কে হালকা ধমক দিয়ে বললো
“আমার সাথেই যাবে তুমি”
মিহি কান্না করতে করতে বললো
“আমি তোমার সাথে যাবো না”
অভ্র রিদ কে বললো
“আরে ও থাকতে যাচ্ছে থাকুক না ভাই এমন করিস কেনো?”
মিষ্টি এতক্ষন চুপ করে ওদের কথা শুনছিলো
এবার মিষ্টি বলে উঠলো
” থাকুক না মিহি আমার সাথে?”
রিদ বললো
“আচ্ছা দেখে রেখো!”
এই বলেই চলে গেলো! তবে আজকে আর মিহি কে আদর করলো না!
রিদ চলে যাওয়ার পর মিহি অভ্র কে বললো
“পচা লোক আমার উপর লাগ তরেছে”
অভ্র অন্যমনস্ক হয়ে বললো
“লাগ তরে নি I mean রাগ করে নি টুইংকেল”
অভ্র মিহির মত কথা বলছে দেখে মিষ্টি হাসতে লাগলো
অভ্র মিষ্টি কে বললো
“বেশি হাইসেন না আফা কাম করেন রিদ চলে আসবে”
এই বলেই ওরা ঘর সাজানোর কাজে লেগে পড়লো! মিহি মন খারাপ করে বারান্দায় বসে আছে, কারণ ওর পচালোক ওর উপর রেগে আছে! অভ্র মিহিকে ওর ফোন দেখতে দিলো,
মিহি একটা কার্টুনে দেখলো
একটা বর শেয়াল বউ শেয়ালের উপর রাগ করে বাড়ি থেকে চলে গেছে, তাই বউ শেয়াল বর শিয়ালের পছন্দমত অনেক খাবার রান্না করেছে, ওইগুলো খাবার খেয়ে বর শেয়ালের রাত একদম কমে গেছে!
এই দেখে মিহি ও ভাবলো ও ওর পচালকের জন্য খাবার রান্না করবে!
এই জন্য ছুটে গিয়ে মিষ্টি কে ডেকে আনবো বারান্দায়
“আপু আমি লান্না তরবো”
মিষ্টি বললো
“তুমি কি খাবে বুনু বলো? আমি বানিয়ে দিচ্ছি!”
“আমি পচা লোকের জন্য লান্না তরবো”
“আমি করে দিচ্ছি তোমাকে রান্না করতে হবে না তুমি এখন অনেক ছোট”
“না না আমিই তরবো”
মিষ্টি না পেরে বললো
“আচ্ছা চলো চলো”
অভ্র ঘর সাজাতে সাজাতে চেচিয়ে উঠলো
“এই না আমার টুইংকেলের হাত পুড়ে যাবে ওকে দিয়ে রান্না করিও না”
মিষ্টি ও চেঁচিয়ে বললো
“সেটা আপনাকে ভাবতে হবে না আমি দেখে নিচ্ছি”
মিষ্টি আর মিহি মিলে রিদের জন্য অনেক খাবার রান্না করলো যদিও মিহি কিছুই করে নি মিষ্টির কোলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুন্তি নাড়িয়েছে , ব্যাস এতেই মিহির রান্না হয়ে গেছে!
এইদিকে অভ্র ঘর সাজিয়েছে, কেক এনেছে, কিছু ফুল এনেছে, তবে সেটা মিহির জন্য! অভ্র জানে মিহি ফুল খুব পছন্দ করে তাই ওর জন্য ফুল কিনে এনেছে!
সন্ধ্যা বেলায় রিদ তাড়াতাড়ি চলে আসে!
এসে দেখে পুরো বাড়ি অন্ধকার, রিদের আত্মা শুকিয়ে যায়! কারণ মিহি অন্ধকারে ভয় পাবে! আর তাছাড়া কারো কোনো সাড়া শব্দ আসছে না, মিহি কোথায়? রিদ জোড়ে জোড়ে ডাকতে লাগলো
_”প্রিন্সেস? কই তুমি? মিষ্টি? কোথায় তোমরা?”
হুট করেই একটা বেলুন ফাটার শব্দ হয় আর আলো জ্বলে উঠে, রিদ অবাক হয়ে যায়!
অভ্র মিষ্টি এসে অভ্র কে এক সাথে বলে
“হ্যাপি বার্থডে”
রিদ বলে
” এসব কি? আর প্রিন্সেস কোথায়?”
অভ্র বললো
“ও ঘরে আছে আগে বল সারপ্রাইজ টা কেমন লাগলো?”
রিদ বললো
“ভালো”
এই বলেই হনহন করে ঘরে চলে আসে! ঘরে এসে রিদের চোখ কপালে উঠে যায়!
মিহি একটা ছোট্টো বউ সেজে বসে আছে! পুরাই পুতুল লাগছে! রিদের মুখে অজান্তেই চলে আসে
“রিদের বউ?”
মিহি রিদের দিকে কাঁদো কাঁদো করে তাকিয়ে আছে কিন্তু কেনো? রিদ গিয়ে মিহি কে কোলে নিয়ে বললো
“এতো মিষ্টি বউ যদি মুখ ভাঁড় করে রাখে তাহলে কি ভালো লাগে?”
মিহি রিদ কে জড়িয়ে ধরে বলে
“তুমি কি মিহির উপর এখনো লেগে আছো পঁচা লোক?”
রিদ কিছু না বলেই মিহি কে কোল থেকে নামিয়ে দিলো
পেছন পেছন অভ্র আর মিষ্টি এসে ওদের কান্ড দেখতে থাকে!
মিষ্টি বললো
“ভাইয়া মিহি কিন্তু আপনার রাগ ভাঙ্গাতে আপনার জন্য হাত পুড়িয়ে রান্না করেছে”
রিদ আতকে উঠে
হাত পুড়িয়ে রান্না করেছে মানে? ওর প্রিন্সেসের হাত কি পুড়ে গেছে?
তাড়াতাড়ি করে এসে মিহির কাছে বসে
হন্তদন্ত করে বলতে থাকে
“দেখি প্রিন্সেস কোথায় পুড়ে গেছে?”
মিহি দুই হাত এগিয়ে দেই, হাত পুড়ে নি! মিষ্টি ওইটা কথার কথা বলেছে! কিন্তু রিদ ভেবেছে যে সত্যিই হয়তো মিহির হাত পুড়ে গেছে,
রিদ মিহির ছোট ছোট হাতগুলোতে চুমু খেয়ে বলে
“আমি রাগ করি নি প্রিন্সেস, আমি রাগ করি নি, পচা লোক কি কখনো তার প্রিন্সেস এর উপর রাগ করতে পারে? তুমি আর কখনো রান্না করবে না যদি হাত সত্যিই পুড়ে যেতো?”
পাশ থেকে অভ্র বলে উঠলো
“আরে ইয়ার উত্তেজিত হোস না ওর কিছুই হতো না কারণ মিষ্টি ওর কাছেই ছিলো! তুই কি ভাবিস আমি কি আমার টুইংকেলের হাত পুড়ে যেতে দিবো?”
রিদ বললো
“থাম তুই,”
মিহি বললো
“তুমি খাবে না পচা লোক?”
রিদ মিহি কে জরিয়ে ধরে বললো
“হ্যাঁ খাবো তো প্রিন্সেস, আমার প্রিন্সের যে খাবারে হাত দিয়েছে সে খাবার না খেলে আমার পাপ লাগবে”
অভ্র বললো
“বাল এহন কেকটা কাইটা আমাগো উদ্ধার কর”
রিদ উঠে অশ্রোকে জড়িয়ে ধরলো
“অনেক অনেক থ্যাংকস ভাই, এত কাজের মাঝে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আজকে আমার জন্মদিন, তোরা যে আমাকে এত সারপ্রাইজ দিবি আমি কখনোই ভাবি নি!”
রিদ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বললো
“থ্যাঙ্ক ইউ”
মিষ্টি হেসে বললো
“ওয়েলকাম”
এই বলেই মিষ্টি রান্না ঘরে চলে গেল খাবার আনার জন্য!
মিহি রিদ কে বললো
” আমি তোমার জন্য শাড়ি পলেছি পচা লোক! আমাকে তেমন লাগছে?”
“তোমাকে আমার বউয়ের মত লাগছে, মনে হচ্ছে রিদের হার্টবিট বউ সেজে দাঁড়িয়ে আছে, তুমি যেদিন বড় হবে, সেদিন ঠিক এই ভাবেই তোমাকে আমার বউ সাজিয়ে আমার বাড়িতে নিয়ে যাবো”
মিহি চিন্তাই পড়ে যায়
মিষ্টি খাবার নিয়ে চলে আসে
অভ্র এবং রিদ কে খেতে দেই
রিদ মিহি কে খাইয়ে দিচ্ছে, অভ্র ও খাওয়া শুরু করলো
অভ্র মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বললো
মিহি পর্ব ১৩+১৪
“আপনাকে কি খাওয়ার জন্য দাওয়াত কার্ড দিতে হবে?”
মিষ্টি বললো
“মানে?”
“খেতে বসুন”
