Home মিহি মিহি পর্ব ২৮

মিহি পর্ব ২৮

মিহি পর্ব ২৮
রুপন্তী সরকার

রিদ মিহির দিকে রাগী চোখে তাকাতেই মিহি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার নাটক করে রিদের গায়ে ঢলে পড়লো। রিদ সঙ্গে সঙ্গে মিহিকে নিজের কাছে মিশিয়ে নেয়। মিহি মনে মনে নিজেকে বাহবা দিয়ে বলে
” মিহি তুই একদিন সেরা অভিনেত্রী হবি দেখিস। বকা শুনতে পারবো না বাবা আপাতত একটু মটকা মেরে পড়ে থাকি।

রিদ মিহিকে কোলে তুলে গাড়ির ভেতরে গেলো। মিহি কে নিজের কোলে বসিয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি করে ওর গালে কয়েকটা টুপ টুপ করে চুমু খেয়ে নিলো। গাল গুলো কি সুন্দর নরম চুমু খেয়ে সেই শান্তি। রিদ জানে মিহি সজাগ থাকলে ওকে চুমু খেতে দিবে না। রিদ কাছে গেলেই মিহি পালাই পালাই করে। তাই এখন অজ্ঞান আছে এই সুযোগের সৎ ব্যবহার করে নেওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ। চুমু খাওয়ার পর রিদের ভয় হচ্ছে বউটা অজ্ঞান হয়ে গেছে। এখন কিভাবে ওর জ্ঞান ফিরাবে? ভয়ের কারণে আবারও ঠোঁটে কয়েকটা চুমু খেয়ে নিলো।
মিহি মনে মনে বলে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“ধুর বাবা ভালোই বিপদে পড়েছি। বাল তখন থেকে চুমু খেয়েই যাচ্ছে এখন যদি জ্ঞান ফেরার নাটক করি তাও বকা দিবে। ভালো লাগে না”
মিহি রিদের এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে টিপটিপ করে চোখ খুলে। আর নাটক করে বলে
“আমি কোথায়? আমি তো ভার্সিটিতে ছিলাম। এটা কোথায় আমি কে? আপনি কে? আমাকে চুমু খেলেন কেনো?”
রিদ মিহির গালে আরেকটা চুমু খেয়ে বললো
“নাটক কম করো। এতক্ষন ধরে ঢং করে পড়ে থাকার মানে কি? তুমি প্রতিবার ভুল করবা আর বকা খাওয়ার আগে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার নাটক করবা? এরপর থেকে কোনো ছেলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করো না প্রিন্সেস কারণ তোমাকে আঘাত করতে কলিজা কেঁপে উঠে আমার। নিজের কলিজাকে আঘাত করার ক্ষমতা রিদ রায়ান চৌধুরীর নেই। তাই সাবধান করছি।”

মিহি রিদকে পটানোর জন্য জড়িয়ে ধরে বললো
“আমি আর কখনো কথা বলবো না পঁচালোক। সত্যি”
রিদ বললো
“তাহলে ঠোঁটে চুমু দাও”
মিহি রিদের ঠোঁটে হালকা চুমু দিলো। রিদের কাছে এটা কেমন নেশা নেশা মনে হয়। মিহি ওর কাছে থাকলে মনে হয় মেয়েটাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে। এত্তো ভালো লাগে। প্রতিরাতে মিহি যখন ঘুমিয়ে যায় তখন রিদ চুপি চুপি মিহির ঘরে আসে। এরপর প্রায় অনেকক্ষণ ওর দিকে একভাবে তাকিয়ে থাকে৷ ঘুমন্ত অবস্থায় মিহিকে দেখে মনে হয় সদ্য ফোটা ফুল। রিদের মনে হয় মিহি ওর সব থেকে বাজে নেশা। যেই নেশায় ও খুব বাজে ভাবে আসক্ত। ঘুমন্ত মিহিকে ইচ্ছে মতো চুমু খায়। যখন রিদ একদম কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে তখন তাড়াহুরো করে অন্য রুমে চলে যায়। মিহি রিদ কে বুঝতে পারে না। রিদ কি চায় সেটাও বুঝে না। কবে বুঝবে রিদ কে? কবে ভালোবাসবে রিদকে? ? রিদ মিহির ভালোবাসা পাওয়ার জন্য উন্মাদের মতো অপেক্ষা করে।
এসব কথা ভাবতে ভাবতে রিদ গাড়ি স্টার্ট দিলো। মিহি রিদ কে বললো

” আমি হাওয়াই মিঠাই খাবো”
“হাওয়াই মিঠাই না খেয়ে বরকে তো চুমু খেলেও পারো। তাও কাজে দিবে। ওইসব পচা খাবার না খেয়ে আমাকে চুমু খাও। দেখবা শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে”
মিহি বললো
“কিনে দিলে দাও না দিলে না দাও।”
রিদ গাড়ি থেকে নেমে অনেক গুলো হাওয়াই মিঠাই কিনে আনলো।
রিদের কাছে আমজাদ সাহেবের কল আসলো উনি রিদকে ইমিডিয়েটলি দেখা করতে বলে। রিদ মিহি কে বাড়িতে রেখে উনার কাছে গেলো।
রিদকে দেখে আমজাদ সাহেব বললো

“হেই ইয়াং ম্যান কেমন আছো? আঙ্কেলকে কি ভুলে গেছো?”
“ছি ছি আঙ্কেল কি যে বলেন আপনাকে কি ভোলা যায়? বলুন আঙ্কেল কি বলবেন?”
“তোমার মনে আছে রিদ আমি তোমার থেকে কিছু চাইবো বলেছিলাম?”
“জ্বী আঙ্কেল মনে আছে বলুন কি চায় আপনার?”
” আমার মেয়েকে বিয়ে করবে বাবা? ও অনেকদিন ধরে তোমাকে পছন্দ করে। ওই আমাকে বলেছে তোমাকে টাকাগুলো দিতে। যাতে তুমি তোমার নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আমার মেয়েকে সসম্মানে বিয়ে করতে পারো”
রিদ ঠান্ডা গলায় বলে

“আমি বিবাহিত। আমার একটা বাচ্চা বউ আছে।”
আমজাদ সাহেব একটু অবাক হওয়ার ভান করে বললো
“তোমাকে তো আমি অনেকদিন ধরে চিনি। তুমি কবে বিয়ে করলে?”
“আমার বউয়ের বয়স যখন পাঁচ বছর তখন ওর সাথে আমার বিয়ে হয়ে যায়। এরপর থেকে ওকে আমিই নিজ হাতে বড় করি।”
“তুমি সত্যি বলছো রিদ?”
” আপনাকে মিথ্যে কেন বলবো আমি?আপনি এটা বাদ দিয়ে যে কোন জিনিস চাইতে পারেন”
আমজাদ সাহেব বললো
“আচ্ছা বাবা কি আর করার।দোয়া করি তোমরা সারা জীবন হাসি খুশি থাকো।আমার মেয়েকে আমি বুঝিয়ে বলবো। চলো একসাথে ডিনার করবো”

“আজকে না, আঙ্কেল অন্যদিন। বাড়িতে বউ একা আছে ভয় পাবে আমাকে যেতে হবে”
এই বলেই আমজাদের সাথে হ্যান্ডশেক করে চলে গেলো।
মিহি আজকে রান্না করতে গেলো। ভাবলো নিজের হাতপ রিদের জন্য বিরিয়ানি রান্না করবে। তবে এর আগে কখনো রান্না করে নি। youtube দেখে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি দেখে নিলো। এরপর বস বস একটা ভাব নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে গেলো। বেশ ভালো করেই রান্না করতে থাকে। এরমধ্যেই ওর মাথায় একটা শয়তানি বুদ্ধি লারা দিলো।
ও ঠিক করলো আজকে পচাঁলোক কে একটা উচিত শিক্ষা দিবে। সব সময় শুধু চুমু খায় আজকে এর প্রতিশোধ নিবে এই জন্য বিরিয়ানি রান্না করার পর কিছু বিরিয়ানি আলাদাভাবে সরিয়ে রাখে। এরপর রিদের বিরিয়ানি তে ইচ্ছে মতো ঝালের গুড়ো মিশিয়ে দিলো। রিদ একদম ঝাল খেতে পারে না।
রান্না করতে করতে রিদ চলে আসে। মিহিকে কিচেনে দেখে রিদ তেড়ে ওর কাছে গেলো

“তুমি আবার রান্না করতে এসেছো? বাড়িতে হেলপিং হ্যান্ড নেই? হাতটা যদি পুড়ে যেতো? এসব কেনো করো পাখি?”
মিহি বললো
“তেমার জন্য বিরিয়ানি রান্না করেছি। খেয়ে বলো কেমন হয়েছে”
রিদ বললো
“তাই? আমি ফ্রেশ হয়ে আসি? তুমি খাবার নিয়ে উপরে আসো”
এই বলেই রিদ চলে গেলো। রিদ যাওয়ার পর মিহি হাহা করে হাসতে থাকে এরপর একটা কবিতা বলে
“হাহাহা বিরিয়ানি খাওয়ার পর তোমার লাগবে ঝাল। এরপর মুখ দিয়ে পড়বে লাল। কি করতাছি কিছুই বুঝিতাছিনা বা*ল”
মিহি আবারো হেসে বলে

” মিহি তুই একদিন কবি হবি দেখিস। আমারে শয়তানে এতো লারে ক্যান?”
মিহি রিদের জন্য বিরিয়ানি নিয়ে উপরে চলে গেলো। রিদ ফ্রেশ হয়ে বিরিয়ানি খেতে বসলো। রিদ মিহির উদ্দেশ্যে বললো
” ভালো স্মেল বের হচ্ছে। তাড়াতাড়ি দাও প্রিন্সেস। তবে এত লাল কেন?”
মিহি লজ্জা পাওয়ার ভান করে বললো
“আসলে আমি একটু লজ্জা পেলে লাল হয়ে যায়।”
রিদ বললো
“বাট আমি তো তোমাকে লাল বলিনি আমি বলেছি বিরিয়ানি টা এত লাল কেনো।”
মিহি মুখ গুমরো করে বললো
“খেলে খাও নাহলে অভ কে খাইয়ে দিবো”
রিদ একটু রাগি চোখে মিহির দিকে তাকালো।
মিহি বললো

“আমি কি তোমাকে খাইয়ে দেবো?”
রিদ বললো
“অবশ্যই জান দাও”
মিহি রিদকে এক লোকমা খাইয়ে দিলো। রিদ কোনো রিঅ্যাকশন না দিয়ে খেয়ে নিলো। মিহি একেরপর এক লোকমা দিচ্ছে আর রিদ কিছু না বলেই খেয়ে নিচ্ছে। মিহি মনে মনে বললো
“এতোগুলো ঝাল কিভাবে খাচ্ছে? নাকি খাবারে ঝাল হয় নি?”
মিহি রিদকে বললো
“আমিও একটু খেয়ে দেখি”
রিদ মিহি কে বাধা দিয়ে বলে
“খবরদার এটা খাওয়ার দরকার নেই।”
মিহি বললো

“কেনো কি হবে একটু খেলে? তোমার মনে এতো হিংসা কেনো?”
ঝালের কারণে রিদের পুরো মুখ লাল হয়ে গেছে চোখ থেকে জল পড়ছে। গলা অব্দি জ্বলে যাচ্ছে।
রিদ বললো
“খেও না এটা শুধু আমার তুমি অন্যটা খাও”
মিহি বললো
“আচ্ছা এখন বলো রান্না কেমন হয়েছে?”
“অনেক বেশি মজা হয়েছে প্রিন্সেস। আরো দাও”
মিহি রিদের অবস্থা দেখে আর দিলো না। রিদ বললো
“কি হলো খাইয়ে দাও?”

মিহি পর্ব ২৭

মিহি নিজে এক লোকমা খেয়ে দেখলো মারাত্মক ঝাল। ঝালে মিহি চিৎকার দিয়ে উঠলো। রিদ তাড়াতাড়ি করে ফ্রিজ থেকে মিষ্টি এনে মিহি কে দিলো। মিষ্টি খেয়ে মিহির ঝাল কমলো। মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে ভাবে রিদ এতো গুলো কিভাবে খেলো?
মিহি রিদ কে বলে মিষ্টি খাও তাড়াতাড়ি। রিদ মিহওর কাছে এসে বললো”ওকে”
এই বলেই মিহির ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দেই। এভাবে ২০ মিনিট পর রিদ মিহির ঠোঁট ছেড়ে বললো
“এমন মিষ্টি প্রতিদিন দিলে আই প্রমিস কালকে থেকে আরো ঝাল খাওয়া প্র্যাকটিস করবো।”
মিহি মনে মনে বলে
“কি লাভ হলো? যেই লাউ হেই কদু। আই মরি না ক্যান”

মিহি পর্ব ২৯