মিহি পর্ব ২৯
রুপন্তী সরকার
পরের দিন…
আজকে রিদের অফিসে কাজ থাকায় ও অভ্রকে বললো মিহি কে যেনো ভার্সিটিতে নিয়ে যায়। রিদ ছুটির পর মিহি কে নিয়ে আসবে। অভ্র মিহি কে নিয়ে চলে গেলো।
ভার্সিটিতে মিহির দুইটা বান্ধবী আছে। সানা আর মেঘ। মিহি সব সময় ওদের সাথেই বসে। আর ৩ জন একসাথে বসলে শয়তান ওদের লাড়া দেই। যার কারণে হিলহিল কিলকিল করতেই থাকে।
ক্লাসে স্যার আসলো। সবাই উঠে সালাম দিলো। এই স্যারের নাম রফিক। অনেক বেশি রাগি। উনার ক্লাসে কেউ কোনো কথা বলে না। সবাই ভদ্র হয়ে থাকে। উনি ক্লাস নিতে শুরু করলো। কিন্তু আজকে মিহিদের ক্লাস করার মুড নেই। ওরা ক্লাস না করে চুপি চুপি গল্প করছে।
সানা চুপি চুপি বললো
“আরে জানস না বুন্দু এই ক্লাসের তিশা না ফিশা আছে না? ওই মহিলা এক লগে ৪ টা পেম করে। কালকে তো কট খাইছে।”
সানার কথা শুনে মেঘ বললো
“তুই যে ৬ টা প্রেম করিস তার বেলায়? নিজের বেলায় আটিশুটি পরের বেলায় চিমটিকাটি হু”
মিহি ওদের কথা শুনে নিজের হসি আটকে রাখতে না পেরে জোড়ে হেসে দেয়। মিহির হাসি শুনে রফিক স্যার ওর দিকে চোখ গরম করে তাকায়। এরপর বলে
“এই মেয়ে বেয়াদবি করছো কেনো? এটা ক্লাস নাকি সার্কাস? পড়া না বুঝে পাগলের মতো হাসছো কেনো? এইদিকে আসো”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মিহি রফিক স্যারের কাছে গেলো। উনি একটা স্টিলের স্কেল দিয়ে মিহির হাতের তালুতে পরপর ৪ বার মারলো। মিহি কে মার খেতে দেখে গোটা ক্লাস হেসে উঠলো। উনি মিহি কে আরো অপমান করেন। মিহির এতো অপমান সহ্য হচ্ছে না। কিন্তু কিছু করার নেই দোষ টা ওর-ই।
মিহি এসে ওর জায়গায় বসলো সানা বললো
“তুই হাসলি কেনো মিহু। দেখলি মদনাটা তোরে মারলো।”
মিহি হালকা হেসে বললো
“আরে বাদ দে খুব একটা লাগে নি। আমি কি করবো বল হাসি এসেছে তাই হেসে দিয়েছি”
মেঘ মিহির হাত ওর হাতে নিয়ে বলে
“লাগে নি? তাহলে হাত এমন লাল হয়ে গেলো কেনো? তালু এতো গরম হয়ে আছে কেনো? ওতো জোরে জোরে মারলো আর তুই বলছিস ব্যাথা পাস নি?”
মিহি মেঘের কাধে মাথা দিয়ে বললো
“আমি ক্যারাটে শিখি ভাই আমার এতো অল্প আঘাতে কিছু মনে হয় না”
এভাবেই ক্লাস শেষ হয়ে যায় এরপর অভ্র আসে ক্লাস নিতে। অভ্র মিহির কাছে এসে বলে
“খিদে পেয়েছে টুইংকেল? কিছু খাবে?”
মিহি বলে
“না খাবো না”
ক্লাসের একটা ছেলে বলে উঠলো
“ও একটু আগেই যেই মাইর খাইছে এখন ওর কিছু খাওয়ার মুড থাকবে কিভাবে?”
এই বলেই সবাই হাসতে থাকে। অভ্র বললো
“কে মেরেছে টুইংকেল?কই মেরেছে দেখি?”
মিহি অভ্র কে বললো
“কিছু হয় নি স্যার পড়ানো শুরু করেন”
মেঘ বললো
“স্যার রফিক স্যার ওর হাতে মেরেছে কারণ স্যারের ক্লাসের সময় ও হেসেছে তাই”
অভ্রর মাথা গরম হয়ে গেলো। ও নিজে কোনোদিন ওর টুইংকেল এর গায়ে ফুলের টোকা দেই নি আর কথাকার কোন স্যার ওর হাতে মেরেছে। কিন্তু অভ্র যেহেতু নিজেও একজন টিচার তাই ও যদি অন্য টিচার কে কিছু বলে তাহলে বিষয় টা ভালো দেখাবে না। অভ্র ক্লাসের বাহিরে গিয়ে রিদ কে কল দিলো। রিদ একটা মিটিং এ ছিলো। তাই অভ্রর কল টা ধরলো না। অভ্র আবারো কল দিলো। তারপর রিদ রিসিভ করলো
অভ্র বললো
“টুইংকেল কে একটা স্যার হাতে মেরেছে বুঝলি। বেচারি একটু কথা বলেছিলো শুধু”
ব্যাস রিদের মাথা হ্যাং হয়ে গেলো। সঙ্গে সঙ্গে ওর সামনে থাকা কাঁচের টেবিল টা উল্টে দিলো। মিটিং এ উপস্থিত সবাই উঠে দাড়ালো। রিদ হুংকার দিয়ে বলে উঠলো
“কোন জানোয়ারের বাচ্চা মেরেছে? আসছি আমি”
এই বলেই হনহন করে বেড়িয়ে যায়।
এইদিকে… আমজাদ সাহেব উনার মেয়ের কাছে আসে
“মা একটা কথা ছিলো”
কল্পনা বললো
“বলো আব্বু”
“রিদ বিবাহিত ১৩ বছর আগে ওর বিয়ে হয়ে গেছে”
“মানে কি আব্বু? আমি এতোদিন ধরে ওকে পছন্দ করি এখন এটা বললে আমি কি করে শুনবো? আমি জানি না যে করেই হোক ওকে আমার লাগবেই তুমি এনে দাও ওকে”
“আরে মা ও তো বিবাহিত আর পৃথিবীতে কি ছেলের অভাব? যে একটা বিবাহিত ছেলেকে তোমার লাগবে?”
কল্পনা মনে মনে বললো
“আমার চোখ যখন তোমার দিকে পরেছে তাহলে একদিনের জন্য হলেও তোমাকে আমার লাগবে জান”
অভ্র ক্লাস করাচ্ছিল রিদ হুরমুর করে ক্লাসে ডুকে। সবাই রিদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। রিদ ডুকার সাথে সাথে ওর বডি থেকে একটা মিষ্টি স্মেল গোটা ক্লাসে ছড়িয়ে পড়লো। রিদের চুল গুলো এলেমেলো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মেয়ে গুলো খুব নিখুঁতভাবে রিদকে পর্যবেক্ষণ করছে। রিদ মিহির কাছে দৌড়ে গেলো।
উন্মাদের মতো বললো
মিহি পর্ব ২৮
” লদেখি কই ব্যথা পেয়েছো দেখি? অনেক জোরে মেরেছে তাই না প্রিন্সেস?”
ক্লাসের সবাই রিদের পাগলামি দেখে থমকে গেলো। এতো হ্যান্ডসাম ছেলেটাও একটা মেয়ের জন্য কেমন করছে। ওদের কপাল খারাপ
