মিহি পর্ব ৩০
রুপন্তী সরকার
অভ্র একটা মেয়েকে বললো
“যাও তো রফিক স্যার কে ডেকে নিয়ে আসো”
মেয়েটা ডাকতে চলে গেলো।
মিহি রিদের হাত ধরে বললো
“পঁচালোক একটু বাহিরে চলো কথা আছে ”
এই বলেই রিদকে বাহিরে নিয়ে গেলো।
রিদ মিহির হাতে চুমু দিয়ে বললো
“বেশি ব্যাথা পেয়েছো প্রিন্সেস?”
মিহি রিদকে জড়িয়ে ধরে বললো
“প্লিজ পচাঁলোক তুমি স্যার কে কিছু বলো না। দোষ টা আমারই ছিলো। আমি ক্লাস চলাকালীন সময়ে কথা বলেছি”
রিদ বললো
“তাই বলে মারবে? মারার রাইট ওকে কে দিয়েছে?”
মিহি বললো
“প্লিজ কিছু করো না প্লিজ পঁচালোক।”
প্রথমত মিহি রিদ কে নিজ থেকে জড়িয়ে ধরেছে। এতেই রিদ অর্ধেক ঠান্ডা হয়ে গেছে। তার উপর আবার এভাবে বলছে। রিদ ঠান্ডা না হয়ে যাবে কোথায়। এই মেয়ে জানে রিদ কে কিভাবে সামলাতে হয়।
রিদ ক্লাসে গিয়ে স্যারের চেয়ার টেনে পায়ের উপর পা দিয়ে বসলো।
এরপর রফিক স্যার আসলো। রিদ রফিক স্যারের দিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। রফিক স্যার রিদের উদ্দেশ্য বললো
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“কি হয়েছে ভাই?”
অভ্র বললো
“আপনি টুইংকেল কে মেরেছেন কেনো? ও দোষ করেছে ভালো কথা। বুঝিয়ে বলতেন?”
রিদ ঠান্ডা কন্ঠে বললো
“আপনার ১৪ গুষ্টির ভাগ্য ভালো আপনি আমার বউয়ের স্যার। এরপর যদি এমন ভুল আবারো হয় সেদিন আপনার কলিজা ছিড়ে কাঁচাই খেয়ে ফেলবো। মাইন্ড ইট”
ক্লাসের সবাই হা করে রিদের দিকে তাকিয়ে আছে। একটা ছেলের পারসোনালিটি কথা বলার টোন সব কিছুই এতো পারফেক্ট কিভাবে।
ক্লাসে সবার সামনে যে এভাবে অপনান হতে হবে সেটা উনি ভাবে নি। উনি রিদের উদ্দেশ্য বললো
” আচ্ছা ভাই। আর কখনো হবে না দোষ টা আমারই মিহি মা কে বুঝানো উচিত ছিলো।”
এই বলেই উনি চলে গেলো।
রিদ মিহি কে নিয়ে চলে গেলো।
রিদ মুখ গম্ভীর করে গাড়ি চালাচ্ছে। মিহি গাড়ি জানালা দিয়ে বাহিরে সৌন্দর্য দেখতে ব্যস্ত। হটাৎ ওর চোখ যায় ঘাসের উপর একটা সাদা রঙের ছোট্ট বিলাই ছানা। মিহি রিদ কে বললো
“গাড়ি থামাও, গাড়ি থামাও এক্ষুনি থামাও”
রিদ বিরক্ত হয়ে বললো
“হোয়াই”
মিহি রিদ কে বললো
“তাড়াতাড়ি থামাও।”
রিদ গাড়ি থামাতেই মিহি দৌড়ে গিয়ে বিড়াল টা ওর কোলে নিলো। বিড়াল ছানাকে দেখে ওর মিকির কথা মনে পরছে। মিকি তো অনেক আগেই মারা গিয়েছে। মিহি ওকে কোলের মধ্যে নিয়ে গাড়ির ভেতরে এসে বসলো। মিহির কোলে বিড়াল দেখে রিদ বললো
“আবার একটা ঝামেলা? একটাকে সামলাতেই পারছি না তার উপর আরেকটা যোগ দিলো”
মিহি রিদের কথা পাত্তা না দিয়ে বিড়ালটা কে চুমু খেতে লাগলো। ওর নাম দিলো, “কোকো”।
এসব ন্যাকামু দেখে রিদের রাগ উঠছে। কই ওকে তো এভাবে নিজ থেকে চুমু খায় না। অথচ বালের বিড়াল কে চুমু খেয়েই যাচ্ছে। রিদ মিহি কে বললো
এসব চুম্মাচুম্মি বন্ধ করবা নাকি গাড়ি থেকে নামিয়ে দিবো?”
মিহি বললো
“এমন করছো কেনো পঁচালোক তুমি আমাকে ভালোইবাসো না”
রিদ বললো
“আমি ভালোবাসা দিলে সামলাতে পারবা না জান। তাই চুমু দাও”
মিহও ওর কথার আগা মাথা কোনো কালেই বুঝে না। তাই রিদের গলায় চুমু দিয়ে ওর বিড়াল কে আদর করতে থাকে
এইদিকে….
আরাফ রায়ান চৌধুরী আগে থেকেই রিদের বাড়িতে বসে আছেন। রিদ বাড়ি এসে অবাক হয়ে যায়। এতো বছর পর পর বাবা এসেছে। রিদ কে দেখে আরাফ রায়ান চৌধুরী উঠে দাড়ালো। মিহি উনাকে সালাম দিলো। উনিও সালামের উওর দিয়ে বললো
“কেমন আছেন মা?”
রিদ আর মিহি অনেক অবাক হলো। ওর বাবা মিহওর সাথে এতো ভালো করে কথা বলছে। মিহি বললো
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আঙ্কেল। আপনি কেমন আছেন?”
উনি বললেন
“আমিও ভালো আছি মা।”
তিনি রিদের উদ্দেশ্য বলেন
“আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না?”
রিদ চুপ করে থাকলো। উনি আবারো মিহির উদ্দেশ্য বললো
“মা আপনি আমাকে মাফ করবেন না? আমি আমার কৃতকর্মের জন্য সত্যিই লজ্জিত মা। আমার একটা ভুলে আমার ছেলেটা এতো বছর আমার থেকে দূরে। এখন এই শেষ বয়সে এসে আমি আর আপনাদের ছাড়া একা থাকতে পারবো না।”
আরাফের চোখ ছলছল করছে।
মিহি হেসে বললো
“এভাবে কেন বলছেন আঙ্কেল? আমি এসব কথা অনেক আগেই ভুলে গেছি। আপনি একটু বসুন আমি আসছি।”
এই বলেই মিহি দৌড়ে কিচেনে চলে গেলো।
রিদের ও খুব খারাপ লাগছে। আরাফ রায়ান চৌধুরী এতেটা অসহায় হয়ে কথা গুলো বলছে। উনি রিদ কে বললো
“আর রেগে থেকো না রিদ৷ আমাকে ক্ষমা করো বাবা”
রিদ হঠাৎ ওর বাবা কে জড়িয়ে ধরলো। বুদ্ধি হওয়ার পর এই প্রথম বাবাকে এভাবে জড়িয়ে ধরলো। আরাফ রায়ান চৌধুরী নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না। তিনি খুশি খুব খুশি। এবার যদি উনার মরণ ও হয় তাও কোনো আপসোস থাকবে না। রিদ উনাকে জড়িয়ে ধরে মনে মনে বললো
“তোমাকে খুব ভালোবাসি পাপা। খুব ভালোবাসি।”
মিহি রিদের বাবার জন্য চা নাস্তা নিয়ে আসলো। আরাফ রায়ান চৌধুরী বললো
“মা এবার আমি আপনাদের বিয়েটা আবারো দিতে চাই”
মিহি কিছু টা লজ্জা পেলো। রিদ তো সেই লেভেলের খুশি। এবার তাহলে বাসর টা করা হবে।
আরাফ রায়ান চৌধুরী বললো
“থাকো আমি এখন যায়। বিয়ের আয়োজন শুরু করি। খুব শীঘ্রই শুভ কাজ সম্পন্ন করতে হবে”
উনি মিহি কে বললো
“মা আপনিও চলুন আমার সাথে”
রিদ বললো
“মানে ও কেনো যাবে?”
“বিয়ের আগে আমার মেয়েকে তোমার কাছে থাকতে দিবো না।”
মিহি ও রাজি হয়ে গেলো যাওয়ার জন্য। কিন্তু রিদ কিছুতেই রাজি না। এ আবার কেমন নিয়ম ছোট থেকে ও বড় করলো। এখন বিয়ের আগে নাকি ওর বউকে ওর কাছে থাকতে দিবে না”
মিহি রিদ কে একটু সাইটে নিয়ে গিয়ে বললো
“আমাকে যদি যেতে না দাও তাহলে তুমি বিয়ে করতে পারবে না। আর বিয়ে না করলে কিন্তু আমি আর তোমাকে চুমু দিবো না বলে দিলাম”
এ আবার কেমন কথা? রিদ মানলো ও একটু চুমু খেতে ভালোবাসে তাই বলে এভাবে ব্ল্যাকমেইল করবে? মনে দুঃখ নিয়ে রিদ বললো
“আচ্ছা যাও আমি কালকে যে করেই হোক বিয়ে করবো”
মিহি বললো
“এই তো ভালো পচালোক”
রিদ বললো
মিহি পর্ব ২৯
“ভালো ভালো মারাইয়ো না চুমু দিয়ে তারপর বিদায় হও বেয়াদব মেয়ে”
মিহি রিদ কে টুপ করে একটা চুমু দিলো। রিদ মিহি কে ভুলিয়ে ভালিয়ে ২০-২৫ টা চুমু নিলো।
মিহি, আর কোকো আরাফ রায়ান চৌধুরীর সাথে চলে গেলো….
