Home মিহি মিহি পর্ব ৩১

মিহি পর্ব ৩১

মিহি পর্ব ৩১
রুপন্তী সরকার

রায়ান কুঞ্জ,
মিহি আর আরাফ চৌধুরী গাড়ি থেকে নেমে দাড়াতেই বাড়ির সকল কাজের লোক বিশেষ করে রহিম মিয়া এসে উপস্থিত হয়। রহিম মিয়া এই বাড়িতে বহুদিন ধরে কাজ করেন। রিদ বাড়ি ছাড়ার সময় তিনি ছিলেন না। উনার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলো। সেদিন উনি থাকলে হয়তো রিদ কে বাড়ি ছাড়া হতে হতো না। উনি রিদ কে অসম্ভব ভালোবাসেন। রিদের মা মারা যাওয়ার পরে আরাফ রায়ান চৌধুরী রিদের কখনো তেমন যত্ন নিতে পারতো না। নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। তখন এই রহিম মিয়াই রিদকে বেশি যত্ন করতো স্কুলে পাঠাতো এমন কি খাইয়েও দিতে। উনি যখন থেকে শুনেছে রিদ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তখন অনেক কান্না করেছে। আরাফ রায়ান চৌধুরীর ভয়ে রিদের কথাও জিজ্ঞেস করতে পারেনি। তবে আড়ালে রিদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু রিদের খোঁজ পায়নি।
উনি মিহি কে বললো

“কেমন আছেন আম্মা? আমার রিদ বাবা আসে নাই না?”
মিহি হেসে বললো
“না আঙ্কেল। পঁচালোক কালকে আসবে”
রহিম মিয়া সহ বাকিরাও অবাক হয়ে গেলো।
রহিম মিয়া বললো
“পঁচালোক আবার কে আম্মা?”
মিহি সবার অবাক হওয়া দেখে বললো
“পঁচালোক মানে অভর বেস্ট ফ্রেন্ড”
সবাই আবারো অবাক হলো এই অভ আবার কে? সবার অবাক হওয়া দেখে আরাফ রায়ান চৌধুরী বললো

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“ও রিদের কথা বলছে”
আরাফ রায়ান চৌধুরীর কথায় সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো।
রহিম মিয়া একটা মহিলা কাজের লোক কে দিয়ে মিহি কে নিয়ে বাড়িতে ডুকতে যাবে এমন সময় মিহি আরাফ রায়ান চৌধুরী কে বললো
“আঙ্কেল, আপনি যাবেন না বাড়ির ভিতরে? দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? চলুন?
আরাফ রায়ান চৌধুরী মিহির কাছাকাছি এসে দাড়িয়ে মিহির মাথায় হাত রেখে বলেন,

“আঙ্কেল বলছেন কেনো মা?এখন থেকে আব্বু ডাকবেন আমায়। বুঝেছেন? ”
মিহি আরাফ চৌধুরীর কথায় অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।
হঠাৎ চোখ ভরে উঠে পানিতে। মিহি মিষ্টি হেসে বললো
“হ্যাঁ !আব্বু ডাকা যায়।”
কিছুক্ষণ এভাবেই চলে মিহির কান্না।
আরাফ রায়ান চৌধুরী বললো
“মা আপনি ভেতরে যান আমি একটু বাহিরে যাবো দরকার আছে”
এই বলেই উনি বেরিয়ে যায়।
আর রহিম মিয়া মিহিকে নিয়ে যায় বাড়ির ভিতরে।

এদিকে রিদ রাতে ঘুমাতে মিহির কথা মনে পড়ছে। আজকে মিহি ঘুমিয়ে গেলে ওকে মন ভরে দেখতেও পারবে না আর চুম ও খেতে পারবেনা। রিদের খুব চুমুর ক্রেভিং উঠেছে। ভিষন চুমু চুমু পাচ্ছে। এখন কি করবে? হঠাৎ রিদ অস্থির হয়ে উঠলো। মনে হচ্ছে চুমু খেতে না পারলে মরেই যাবে। না পারছে ঘুমাতে আর না পারছে কোনোভাবে কথা বলতে। তার উপর মিহি ফোন সাইলেন্ট করে রেখেছে। রিদ মিহি কে পরপর ৪০ বার কল দিলো। কিন্তু মিহি ফোন ধরছে না।

এইদিকে মিহি আরামসে ফোন সাইলেন্ট রেখে কাজের লোকদের সাথে গল্প জুড়ে দিয়েছে এই মধ্যরাতে।
রিদের খুব চুমুর নেশা উঠেছে। একটা হলেও মিহি কে চুমু খেতে হবে নাহলে হার্ট ফেল করে মরে যাবে। ও ঠিক করে রায়ান কুঞ্জে যাবে তাই নিজেকে পরিপাটি করে বের হয়ে যায়।
রিদ ঠিক মতো গাড়ি চালাতে পাড়ছে না। হাত পা কাঁপছে। নিজেকে খুব দুর্বল লাগছে। রিদ অস্থিরতায় ঘেমে একাকার হয়ে গেল। আগে এই বাজে চুমুর নেশা টা ছিলো না। তবে ও বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছে যে আজকাল ও উন্মাদের মতো করছে চুমুর জন্য। এটা আবার কেমন নেশা? আগে হতো তবে এমন তো হতো না। আগে কেনো হতো না? তখন মিহি ছোট ছিলো বলে? এই অসহ্য নেশা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে?

রিদ বাড়িতে এসে দেখে মিহি কি সুন্দর ড্রয়িং রুমে বসে সবার সাথে গল্প করছে। এইদিকে ফোন তুলছে না।
রিদ মিহি কে বকা দেওয়ার কথাও চিন্তা করলো না। দৌড়ে গিয়ে মিহির হাত ধরলো। হঠাৎ আক্রমণে মিহি হক চকিয়ে উঠলো। এতো রাতের বেলা রিদ এসেছে কিন্তু কেনো? রিদ বললো
“উঠো উঠো তাড়াতাড়ি উঠো। উপরে চলো আমার সাথে। প্লিজ ইয়ার মরে যাবো আমি”
কাজের লোক গুলো ভয় পেয়ে গেলো
মিহি ও কিছুটা ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলো

“কি হয়েছে পঁচালোক এমন করছো কেনো? তোমার কি শরীর খারাপ করছে? তুমি এমন ঘেমে একাকার হয়ে গেছো কেনো?”
রিদ জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে বললো
“হ্যাঁ, হ্যাঁ খুব শরীর খারাপ লাগছে চলো প্রিন্সেস তাড়াতাড়ি চলো। উপরে চলো”
মিহি বললো
“উপরে কেনো যেতে হবে?”
রিদ কোনো দিকে না তাকিয়ে মিহি কে কোলে তুলে উপরে যেতে যেতে বললো

“চুমুর ক্রেভিং উঠেছে। চুমু খাবো”
ড্রয়িং রুমে উপস্থিত কাজের মহিলা গুলো একটু লজ্জা পেলো। মিহি রিদের মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে বললো
“আস্তে কথা বলো পঁচালোক”
রিদ মিহি কে ওর রুমে নিয়ে গিয়ে ইচ্ছে মতো চুমু খেয়ে নিলো। এবার খুব শান্তি লাগছে।
রিদ এখন রেগে বললো
“সমস্যা কি তোমার? ফোন কেনো ধরো না তুমি? বেশি বেড়ে গেছো?খুব বড় হয়ে গেছো তাইনা? আমাকে মেরে ফেলতে চাও?”
মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে জিভ কেটে চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলে,

” এই রে ভুল হয়ে গেলো,এই পঁচা লোক তো রেগে গেলো।”
মিহি রিদ কে শান্ত করার জন্য দুহাত দেখিয়ে বলে,
“এই যে দেখো পঁচা লোক তোমার জন্যই তো আমি মেহেদী দিয়েছি।আর হ্যা এখানে তোমার নাম ও আছে”
রিদ চুপচাপ শুধু মিহিকে দেখছে এতোক্ষণের সব চিন্তা যেনো দূর হয়ে গেছে তাকে দেখে।রিদ চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে দু’বার নিশ্বাস ফুঁকে,মুচকি হেসে মিহির দিকে তাকায়।তারপর কিছুক্ষণ দু’জন কথা বলে। এরপর রিদ মিহি কে আবারো কয়েকটা চুমু দিয়ে বিদায় নিলো।

আরাফ রায়ান চৌধুরী মিহি কে বললো পার্লারে যেতে। কিন্তু রহিম মিয়া বলে
“সাহেব পার্লারের বেডিগো এইখানে আনলেই হয়। হুদাই আমার আম্মারে গিয়া সাজন লাগবো? ”
আরাফ রায়ান চৌধুরী বললো
“তোমার কি সমস্যা রহিম? মিহি মা যাক। ও একটু বাহিরের পরিবেশ টাও উপভোগ করতে পারবে”
মিহি সব গুছিয়ে নিয়েছে পার্লারে যাবে বাড়ির একজন কাজের লোক যাবে মিহির সাথে।মিহি তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতেই আরাফ চৌধুরীর সাথে দেখা। তিনি ড্রয়িংরুমে বসে চা খাচ্ছিলেন আর,কারো সাথে ফোনে কথা বলছিলেন।মিহি আরাফ চৌধুরীর সামনে এসে দাড়ায়,

“আব্বু আমি যাচ্ছি আর উনিও যাচ্ছেন আমার সাথে।”
একজন কাজের মহিলাকে দেখিয়ে বলে কথাটা মিহি।আরাফ চৌধুরী মিহিকে কাছে ডেকে মাথায় রেখে বলেন,
“সাবধানে যাবেন মা চোখ কান খোলা রাখবেন ,বলা তো যায় না কখন কি হয়ে যায়।”
মিহি বললো
“ঠিক আছে আব্বু আমি গেলাম।”
এই বলেই মিহি কাজের লোকটাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
মিহি কাজের লোকটার সাথে অনেক কথা বলছে আর বাহিরে এদিক সেদিক দেখছে।কথা বলতে বলতে পার্লারে এসে পৌঁছায়। মিহিসহ কাজের লোক নেমে পরে,আর ড্রাইভার গাড়ি পার্কিং করতে চলে যায়। মিহি পার্লারে ঢুকে পরে।
মিহির অর্ধেক সাজানো শেষ,তখন পাশ থেকে কেউ বলছে,

“সাবধানে কাজ কর কোন ভুল যেন না হয়। কোন ভুল হলে স্যার কিন্তু আমাদের ছাড়বে না।”
মিহি, চুপচাপ শুধু শুনতে থাকে।মিহির সাজ শেষে লেহেঙ্গা পড়ানো শেষে একজন মেয়ে এসে জানায় তাকে আবার সেটিং স্প্রে দিতে হবে।
মিহি বললো
-“কেনো একবার তো দিয়েছেন আবার কেনো দিতে হবে।”
মিহির কথায় এক ঘাবড়ে যায় কিন্তু অপরজন মিহিকে কি বলে বুঝিয়ে নেয়।
মিহিও রাজি হয়ে যায়।

মিহি পর্ব ৩০

মিহিকে চেয়ারে বসিয়ে দেয় আর স্প্রে করে দেয়।তারপর মিহি বের হতে যাবে তখনই মাথা ঘুরে পরে যেতে নিলে দুজন এসে ধরে ফেলে।কিন্তু তারা ছিলো পুরুষ বাকির যারা পার্লারে সার্ভিস নিতে এসেছে সবাই অবাক মহিলা সালুনে আবার পুরুষ কেনো?কিন্তু তারা কিছু বলার সুযোগ পায়না কারণ ওই দুজনের সাথে ছিলো রিভলবার।
দুজনের একজন মিহিকে কোলে করে নিয়ে গাড়িতে শুইয়ে দেয়। আর গাড়িটা চলতে শুরু করে মিহির গন্তব্যের ঠিক বিপরীত পাশে।

মিহি পর্ব ৩২