Home মিহি মিহি পর্ব ৩৭

মিহি পর্ব ৩৭

মিহি পর্ব ৩৭
রুপন্তী সরকার

ফ্ল্যাশব্যাক
অভ্রর আজকে ভার্সিটিতে একটা জরুরী মিটিং আছে। তাই ও আগেই চলে গিয়েছে। মিহি ঢং করতে করতে বাহিরে বের হলো। পঁচালোক অভ নেই তো কি হয়েছে ও একাই ভার্সিটি যাবে। আজকে গাড়িতে করে যেতে মন চাইলো না।
ভাবলো আজকে নাহয় রিক্সা করে যাবে। যেভাবে সেই কাজ হেলতে দুলতে রাস্তায় গিয়ে রিক্সা আসার জন্য অপেক্ষা করছে। মিহি কিছু বুঝে উঠার আগেই পেছন থেকে কেও মুখে রুমাল চেপে ধরলো।
এর পর তাড়াহুরো করে গাড়িতে বসালো। গাড়ি চালানো শুরু করেছে। সঙ্গে সঙ্গে মিহির চোখে কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে দিলো আর একজন মিহির হাত চেপে ধরলো। মিহি পা দিয়ে লোকটার মাঝখানে একটা লাথি দিলো। লোকটা ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে।

মিহি কে আরো শক্ত করে বাঁধে। এবার মিহি শান্ত হয়ে যায়। মিহি মাথা ঠান্ডা করে। কে ওকে হুট করে কিডন্যাপ করলো সেটা বুঝার চেষ্টা করছে। মিহি গতিবিধি লক্ষ করতে থাকে। লোকগুলো মিহি কে একটা গোডাউনের ঘরে নিয়ে গিয়ে চোখ খুলে দেই। মিহি কে মাটিতে ফেলে দেয়।
এরপর এক এক করে সবাই চলে যায়। হঠাৎ মিহির ব্যাগে থাকা ফোনের কথা মনে হয়। মিহি লক্ষ করলো ঘরে কেও নেই। বাঁধা হাত দিয়েই কোনো রকম রিদের নাম্বারে কল দিয়ে ফোনটা জামার সাথে লুকিয়ে নেই। এর মধ্যেই গগন ফাটানো হাসি দিয়ে ক্রিভান ঘরে ডুকলো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

বর্তমান….
রিদ পানিতে নেমে মিহিকে ঝাপটে ধরে কোলে তুলে কিনারাই নিয়ে এলো। মিহি অনবরত কাশছে, পানি খেয়ে ফেলেছে। শরীর কাঁপছে, শ্বাস ঠিকমতো নিতে পারছে না। রিদ মিহির মাথায় হাত বোলাতে থাকল। চোখ দিয়ে অজান্তেই পানি ঝরে পড়ছে, এই অবস্থায় মিহিকে দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। রিদ মনে হচ্ছে কেঁদেই ফেলবে পাগলের মতো মিহি কে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললো
“কোথায় কষ্ট হচ্ছে জান? খুব খারাপ লাগছে? কেনো ঝাপ দিলে তুমি?”
কিছুক্ষণের মধ্যেই মিহির কাশি ধীরে ধীরে থেমে গেল। এখন ও জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। হঠাৎ কাঁপা কাঁপা আঙুল তুলে ক্রিভানের দিকে ইশারা করল।

এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা ক্রিভান দৌড়ে এসে মিহির পাশে বসে পড়ল।
“বার্বিড তুমি আমাকে ডাকছো? আমি তো তোমার কাছেই আছি। বলো, কী হয়েছে?”
রিদ ক্রিভানকে দেখেই রাগে চোখ লাল হয়ে গেলো এতক্ষণ মিহিকে সামলাতে গিয়ে ঠিকভাবে খেয়ালই করেনি ক্রিভানকে।
অন্য দিকে ক্রিভান অস্থির হয়ে পাগলের মতো কথা বলেই যাচ্ছে,
“বার্বিডল, আমি তোমার সব কথা শুনব। তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসবে বলো? ভালোবাসবে? নাকি ওর মতো আমাকে ছেড়ে চলে যাবে? আমাকে ভালোবাসবে না বার্বিডল? শুধু আমারই হবে একবার বলো, প্লিজ…”
বলেই সে মিহির দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। ঠিক তখনই মিহি চিৎকার দিয়ে কান্না করে ওঠে,
“দয়া করে আমাকে স্পর্শ করবেন না! দূরে থাকুন আপনি দূরে থাকুন! ওকে বলো পঁচালোক, আমাকে স্পর্শ যেনো না করে”
ভয়ে, অসহায়তায় পুরো শরীর শক্ত হয়ে গেছে। চোখে আতঙ্ক।

“পচাঁলোক ওই লোকটা আমাকে বাজে ভাবে ছুঁয়েছে। আমার খুব কাছে এসেছে। ঘৃণা পাচ্ছে খুব ”
কাঁদতে কাঁদতে রিদের দিকে তাকিয়ে আরও জোরে চিৎকার,
“আমি সহ্য করতে পারি নি ওর ছোঁয়া। ওর ছোঁয়া বিষের মতো বিঁধছে আমার শরীরে। ও আমাকে এতো নোংরা ভাবে কেন ছুলো?
এই কথা শোনা মাত্র রিদ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ঝাঁপিয়ে পড়ল ক্রিভানের ওপর।
“শুয়োরের বাচ্চা। তুই আমার কলিজায় হাত দিয়েছিস এবার তোর কলিজা কেটে আমি কুকুরকে খাওয়াবো।”
একটার পর একটা ঘুষি পড়তে থাকল। এক পাশে মিহি জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে,নিজের মতো করে বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছে।

আর মাটিতে পড়ে থেকেও ক্রিভান পাগলের মতো হাসছে।
“আমার বার্বিডল আমাকে ভালোবাসবে আমি জানি। ও আমাকে ভালোবাসে, তোকে না… ”
এই বলে ক্রিভান রিদ কে মারতে লাগে। রিদ একের পর এক পাঞ্চ মারছে ক্রিভানের মুখে।
একপর্যায়ে ক্রিভানের শরীর ঢলে পড়লো মাটিতে। ও সেন্সলেস হয়ে গেল
রিদ সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এসে মিহিকে জড়িয়ে ধরল। পুরো মুখে, কপালে, গালে একের পর এক চুমু একে দিচ্ছে র।
“আমি আছি প্রিন্সেস। আমি আছি। কিচ্ছু হয় নি। কেউ স্পর্শ করে নি তোমাকে। ভুলে যাও ওই কুত্তার বাচ্চার স্পর্শ। আমি ছাড়া তোমাকে কেউ স্পর্শ করবে না।”

মিহি রিদকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করতে করতে বলল,
“ও আমাকে বাজে ভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করেছে। আমার ঘৃণা হচ্ছে। আমি অপবিত্র হয়ে গেছি
এইভাবে বিড়বিড় করতে করতেই মিহি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেল।
রিদ মিহির ব্যবহারে অবাক হচ্ছে রিদ কখনো মিহি কে এতো দুর্বল ভাবে গড়ে তুলে নি মিহি এর আগেও গুন্ডাদের সাথে ফাইটিং করেছে। তবে কখনো এতোটা প্যানিক করেনি তাহলে আজ এমন করার কারণ কি? রিদের মাথা কাজ করছে না।
রিদ ওকে শক্ত করে আগলে ধরল।

“প্রিন্সেস। কেনো এমন করছো? বললাম তো আমি ছাড়া তোমাকে কেউ স্পর্শ করবে না। তোমার পুরো শরীর জুড়ে রিদ রায়ান চৌধুরীর স্পর্শ। তুমি রিদের পবিত্র ফুল। অপবিত্র নয় তুমি ”
ঠিক সেই সময় অভ্র এসে হাজির হয়। রিদ আসার সময় অভ্র কে খবর দিয়েছিলো। অভ্র সোজা চলে আসে দুজনের কাছে।
“টুইংকেল। কি হয়েছিলো তোমার? ঠিক আছো তুমি? রিদ এভাবে বসে আছিস কেন? টুইংকেল সেন্স হারিয়ে ফেলেছে তাড়াতাড়ি উঠ ওকে নিয়ে যেতে হবে।”

রিদ সঙ্গে সঙ্গে মিহিকে কোলে তুলে নেয়। অন্যদিকে অভ্র পুলিশের কাছে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এসে ক্রিভানকে ধরে নিয়ে যায়। রিদ মিহিকে শক্ত করে বুকে চেপে ধরে গাড়িতে উঠলো
অভ্র পুলিশদের সাথে কোনরকম কথাবার্তা বলেই রিদের পিছু নিলো। রিদ মিহি কে ঝাপটে ধরে রেখেছে নিজের বুকের ভিতর, মিহিকে এই অবস্থায় দেখে একদম ভালো লাগছে না। রিদ মিহি কে এতোটা ভেঙে পড়তে দেখে নি কখনো ও সব সময় মিহি কে স্ট্রং হওয়া শিখিয়েছে। তাহলে ওর প্রিন্সেস একটুতেই কেন ভেঙে পড়লো কেনো? সহ্য হচ্ছে না ওর।
মন কে শান্ত করতে রিদ মিহির কপালে একটা চুমু এঁকে দিল।

২০ মিনিটের ভিতর ওরা বাড়ির কাছে চলে আসলো বাড়ির কাছে আসতেই রিদ মিহিকে নিয়ে ঘরে নিয়ে গিয়ে খাটের উপর শুইয়ে দিল। অভ্র ওদের পিছন পিছন আসছিল ও ছুটে এসে রুমে ঢুকলো সরাসরি ততক্ষণে রিদ পানি নিয়ে এসে মিহির মুখে ছিটাতে লাগলো।
কিছুক্ষণের মধ্যে কিছুক্ষণের মধ্যেই মিহি চোখ পিটপিট করে খুলল। অভ্র রেখে বলল
“তুই টুইংকেল কে দেখ আমি ওর জন্য সুপ বানিয়ে আনি ওর জন্য।”
রিদ মিহির দিকে কটমট করে তাকিয়ে বললো
“তোমার এতো সাহস হ্যাঁ? কই থেকে পাও এতো সাহস? কোন সাহসে জলে ঝাপ দিয়েছো তুমি ?”
মিহি কে চুপ করে থাকতে দেখে রিদ এবার চিৎকার করে বলে
“আনসার মি স্টুপিড কেনো ঝাপ দিয়েছো? মরতে চাও?এতো কিসের মরার শখ? চড়িয়ে তোমার মরার শখ বের করে দিবো।”

মিহি হুহু করে কেঁদে উঠলো। রিদ আবারো ধমক দিয়ে বলে
“চুপপপপ একদম চুপপপ। এই মেয়ে কাদছো কেনো? কেনো কাদছো? ন্যাকা হচ্ছো দিনদিন? আমি তো এই মিহি কে চিনি না। আমি আমার স্ট্রং প্রিন্সেসকে চিনি।আর একটা কান্নার শব্দ যদি আমার কানে আসে তাহলে…”
রিদের শেষের কথা বলতে না দিয়েই মিহি চিৎকার করে বললো
“কেনো বুঝতে পারছো না তুমি? ওই বাজে লোকটা আমার কতো কাছে এসেছে আমাকে বাজেভাবে স্পর্শ করেছে অথচ আমি কিছুই করতে পারিনি। আমি কি করতাম?”
রিদ মিহির কাছে এসে বললো

“চলো আজকে ওর স্পর্শ তোমার মন, মস্তিষ্ক, দেহ সব জায়গা থেকে মুছে দিবো। কাছে আসো ”
রিদ এই বলেই মিহির জামার ফিতা খুলে ফেললো। হঠাৎ কিছু মাথায় আসতেই ঘরের দরজা টা লাগিয়ে দিলো। এইদিকে অভ্র সুফ বানিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু এসে দেখে দরজা লাগানো। অভ্র ডেকে বলে
“কিরে বাল। দরজা আটকাইলি কেন? দরজা খুল হালা সুফ ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”
“ভিতরে জরুরী কাজ হচ্ছে পরে আসিস।”
অভ্র বললো
“কিসের কাজ? আর কতক্ষণ লাগবে?”
রিদ বিরক্ত হয়ে বললো
“৫-৬ ঘন্টা পর আসবি। এর আগে আসলে তোর মন ধন সব কাইটা বিক্রি করে দিমু বলে দিলাম”
অভ্র বললো

“৫-৬ ঘন্টা ঘরে তুই কি এমন জরুরী কাজ মারাবি শুনি?”
রিদ এবার রেগে বললো
“১ বছরের মাথায় যেনো তোকে মামা বা কাকা ডাক শুনাতে পারি সেটারই প্রসেসিং চলবে এখন যা”
অভ্র কিছু না বলেই চলে গেলো
এইদিকে….
রিদ দরজা লাগিয়ে পিছনে ঘুরে মিহির দিকে তাকালো মিহি চুপ করে দাড়িয়ে আছে। রিদ ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে এক ঝাটকাই মিহিকে কোলে তুলে নিলো
রিদ মিহি বিছানায় শুয়ে দিলো তারপর নিজের শার্টের বোতাম গুলো ধীরে ধীরে খুলে শার্টটা দূরে ছুড়ে মারলো এরপর মিহির দিকে ঝুঁকে পড়লো,

” আজকে অনেক আদর দিবো তোমাকে। আজ কোনো বাধা থাকবে না। তোমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিবো প্রিন্সেস।”
বলেই মিহির অধরে জোড়াই নিজের অধর মিলিয়ে দিল। নিজের রিদের স্পর্শ পেয়ে কেঁপে উঠলো। তারপর নিজেও রিদের গলা চড়িয়ে নিয়ে তাল মেলাতে থাকলো, দীর্ঘ সময় ধরে দুজন একে অপরের অধরের রাজত্ব চালানো। তারপর একে অপরের অধর ছেড়ে দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিলো।
“লজ্জা পাচ্ছো?”
মিহি ‘হু’ বলে চোখ বুঁজে নিলো। রিদ সেটা দেখে মুচকি হাসলো হাত বাড়ি মিহির গলার পিছনে ধরে ওকে সামান্য উঁচু করলো তারপর তারপর ওর জামার চেন ধরে টান দিলো। আস্তে আস্তে পরলো জামাটা খুলে দূরে টান মারলো। তারপর মিহি র দিকে ভালোভাবে নজর দিল মিহির বুক নিঃশ্বাসে তোপে পরে বারবার ওঠা নামা করছে। সেটা দেখে রিদ একটা ঢোক গিললো।

তারপর মিহির গলায় মুখ গুঁজে ছোট ছোট চুমু দিতে শুরু করলো আস্তে আস্তে তা উন্মাদনাই রূপ নিলো। মিহি নিজেকে সামলাতে রিদের পিঠ খামচে ধরল যার ফলে মিহির নক রিদের পিঠে গিতে গেলো, হালকা ব্যাথা অনুভব করলো রিদ তবু সেদিকে পাত্তা না দিয়ে নিজের কাজে মত্ত হলো মিহির গলা ছেড়ে আস্তে আস্তে নিচের দিকে ঠোঁট নামাতে লাগলো,

মিহি পর্ব ৩৬

তারপর মিহির মেদহীন পেটে একটা চুমু খেয়ে তারপর একটা কামড় বসিয়ে দিল।
তারপরে ধীরে ধীরে একে অপরের ভালোবাসায় মত হয়ে পড়ল। গভীরভাবে একে অপরকে আলিঙ্গন করতে লাগলো। আস্তে আস্তে রুম জোরে নরনারীর নিঃশ্বাসে ঘর ভরে উঠলো। এত বছরের সাধনার ফল, তাদের ভালোবাসার সবকিছুর পূর্ণতা পাচ্ছে গভীরভাবে।

মিহি পর্ব ৩৮