Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ১৯

শেহেজাদার আদর পর্ব ১৯

শেহেজাদার আদর পর্ব ১৯
সুমাইয়া ইসলাম নূর

ইউভি শাওয়ার নিয়ে যখন ওয়াশরুম থেকে বের হলো—
চুল ভেজা।গায়ের উপর এখনো পানি টপটপ করে পড়ছে দরজাটা ঠেলে বাইরে আসতেই—
এক মুহূর্তে থেমে গেল ইউভি
চোখ গিয়ে আটকালো বিছানার দিকে…
ইনায়া তার বিছানায়।গভীর ঘুমে ডুবে আছে।
মনে হলো।সময়টা যেন হঠাৎ থেমে গেছে।
হালকা খোলা চুলগুলো বালিশে ছড়িয়ে আছে,
মেহেদি রাঙা হাতটা গালের পাশে রাখা…
ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁকা।নিঃশ্বাসের সাথে ধীরে উঠানামা করছে বুকটা ঘরের নরম আলোয়—
মনে হচ্ছে কোনো রূপকথার রাজকন্যা এসে ঘুমিয়ে আছে তার ঘরে।
ইউভির বুকের ভেতরটা কেমন যেন হয়ে গেল…

একটা অদ্ভুত শান্তি আবার অস্থিরতাও।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল বিছানার পাশে এসে থেমে গেল।
হালকা হেসে মনে মনে বলল—
কী আজব ব্যাপার নিজের বিয়ে করা বউএর কাছে যেতে পারি নি এতো দিন ইউভি
ধীরে বসে পড়ল বিছানার পাশে…
চোখ সরাতে পারছে না ইনায়ার থেকে—
এমনভাবে দেখছে যেন এই দৃশ্যটা বুকের ভেতর জমিয়ে রাখতে চায় সারাজীবনের জন্য।
মনে মনে বলল ইউভি
তুই জানিস না আদর…

এইভাবে তোকে দেখলে আমি নিজেকেই সামলাতে পারি না বড্ড বেশামাল হয়ে পরি আমি।
এই শেহেজাদার ইউভি চৌধুরী কে তুই সামলাতে পারবি না দ্রুত বড় হ।
ইউভি একটু ঝুঁকে এল ইনায়ার মুখের কাছে
কিন্তু আবার থেমে গেল—
নিজেকে সামলে নিল কষ্ট করে।
শুধু খুব আস্তে করে
ইনায়ার হাতের কাছে নিজের হাতটা রেখে দিল।
ইনায়া ঘুমের মাঝেই হালকা নড়ল…
আর অজান্তেই তার আঙুলগুলো এসে ছুঁয়ে গেল ইউভির হাত।
ইউভি ধীরে উঠে গিয়ে ইনায়ার পাশে শুয়ে পড়ল—
একটু দূরত্ব রেখে…
কিন্তু ইউভির চোখ এখনো ইনায়ার দিকে
আজ তোকে জাগাবো না আজ শুধু এভাবেই দেখবো তোকে। লন্ডন থেকে ফিরি তারপর তোকে আমার রুমে রাখবো কথা দিচ্ছি আদর একদিন ও ঘুমোতে দেবো না
আমি ভালো করেই বুঝে গেছি
এই মেয়েটাই আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা…

আর সবচেয়ে সুন্দর শান্তি।
ইউভি কিছুক্ষণ নিজেকে আটকে রাখার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না।
তার চোখ আবার গিয়ে থামল ইনায়ার মুখে উপর
এই শান্ত, নির্ভার ঘুমিয়ে থাকা
এই নির্দোষ মুখটা যেন তাকে আরও টেনে নিচ্ছে।
ধীরে ধীরে সে একটু কাছে এগিয়ে এল…
ইউভির নিঃশ্বাস গরম হয়ে উঠছে বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দটা নিজেই শুনতে পাচ্ছে।
তারপর সাবধানে একদম আলতো করে ইনায়াকে নিজের দিকে টেনে নিল।
ইনায়ার শরীরটা এসে ঠেকল তার বুকে…
এক মুহূর্তের জন্য ইউভির চোখ বন্ধ হয়ে গেল—
যেন এতদিনের অস্থিরতা এক সেকেন্ডে থেমে গেল।
ইউভি ইনায়াকে শক্ত করে না খুব যত্ন করে জড়িয়ে ধরল—
যেন কোনো নরম জিনিস ভেঙে না যায়।
ইনায়া ঘুমের মাঝেই হালকা নড়ল…
তার হাতটা নিজের থেকেই উঠে এসে থামল ইউভির বুকে…
ইউভির ঠোঁটে অদ্ভুত এক শান্তির হাসি ফুটে উঠল।
ধীরে মাথাটা ঝুঁকিয়ে
ইনায়ার কপালে খুব নরম করে একটা চুমু দিল—

আমার আদর…
ফিসফিস করে বলল—
তুই বুঝিস না…
তোকে ছাড়া আমি একদমই থাকতেই পারি না…”
ইউভি আরও একটু কাছে টেনে নিল ইনায়া কে
এবার ইনায়ার মাথাটা ঠিক তার বুকের ওপর…
ইউভির আঙুলগুলো আলতো করে ঘুরে বেড়াতে লাগল তার চুলের ভেতর—
যেন আদর করছে নিঃশব্দে।
ঘরের নীরবতায়—
শুধু ইনায়ার বুকের ধুকপুক শব্দটা শোনা যাচ্ছে
ইউভি চোখ বন্ধ করে শুধু অনুভব করল—
এই মুহূর্ত
ইনায়াকে বুকে জড়িয়ে রেখে ইইউভি ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলঠিক দশ বছর আগে সেদিনটা ছিল শুক্রবার।
পুরো চৌধুরী পরিবার গিয়েছিল গ্রামের বাড়িতে—
লিখন চৌধুরীর ছোট চাচার একমাত্র মেয়ের বিয়েতে।

চারপাশে আলো, কোলাহল, মানুষের ভিড়ে
এক কোণে বসে আছে ছোট্ট ইনায়া তার পাশে ইউভি, আর সামনে তাদের দাদুভাই আতিক চৌধুরী।
ইনায়ার বয়স তখন মাত্র সাত আর ইউভির ষোল।
কাজী সাহেব যখন বিয়ে পড়াচ্ছেন—
সবাই যেখানে ব্যস্ত,
সেখানে ইনায়া মন দিয়ে শুনছে প্রতিটা শব্দ…
“কবুল…”
শব্দটা শুনেই সে কৌতূহলী হয়ে ইউভির দিকে তাকাল ইউভি ভাইয়া কবুল বললে কী হয়?
ইউভি হালকা হেসে বলল কবুল বললে বিয়ে হয়।
বিয়ে কী?
বিয়ে মানে যাকে কবুল করে গ্রহণ করা হয় তার সাথে সারাজীবন একসাথে থাকা ইনায়ার চোখ দুটো চকচক করে উঠল—
সে একটু ভেবে বলল—
তাহলে… আমিও তো সারাজীবন তোমার সাথে থাকতে চাই!
তুমি আমাকে চকলেট এনে দাও…
আমি তোমার সাথে থাকবো!
বলেই ছোট্ট করে হাত তুলল ইনায়া
আমি কবুল বললাম… কবুল… কবুল… কবুল!
তারপর মিষ্টি করে বলল—
তুমি ও বলো না ইউভি ভাইয়া ইউভি হেসে ফেলল—
ধুর পাগলি! তুই কবুল বললেও চকলেট দেবো, না বললেও দেবো…
কিন্তু ইনায়া ঠোঁট ফুলিয়ে দিল…
তারপর চোখে পানি চলে এল দাদুভাই ইউভি ভাইয়াকে বলো না কবুল বলতে আতিক চৌধুরী মুচকি হেসে তাকালেন একবার ইউভির দিকে… একবার ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বললো একবার বল। একবার বললে হবে না তিন বার ই বলো
শেষমেশ—

ইনায়ার কান্না থামানোর জন্য ইউভি মাথা নত করল বললো কবুল কবুল কবুল
আতিক চৌধুরী নিঃশব্দে সাক্ষী হয়ে রইলেন।
ইনায়া মুহূর্তেই হাসিতে ফেটে পড়ল—
দৌড়ে গিয়ে ইউভিকে জড়িয়ে ধরল—
থ্যাংক ইউ ভাইয়া! সেই ছোট্ট, মিষ্টি, নির্দোষ মুহূর্তেই
না বুঝেই হয়ে গেল তাদের সম্পর্কের শুরু…
কিছুদিন পর চৌধুরী বাড়িতে দাওয়াত ছিল নতুন বর-বউয়ের।
সবাই খাচ্ছে, গল্প করছে ঠিক তখনই ইনায়া দৌড়ে গিয়ে লিখন চৌধুরীর পাশে দাঁড়াল আচ্ছা চাচ্চু ওরা কি বর-বউ?
লিখন চৌধুরী হেসে বললেন—
হ্যাঁ, ওদের বিয়েতে তো আমরা গিয়েছিলাম—মনে আছে? হ্যাঁ, মনে আছে!
ইনায়া খিলখিল করে হেসে বলল আমিও তো কবুল বলেছি, চাচ্চু! লিখন চৌধুরী হেসে উড়িয়ে দিলেন—
ছোট বাচ্চার কথা ভেবে তেমন গুরুত্ব দিলেন না।
কিন্তু পাশে বসা চৌধুরী বাড়ির বড় কর্তা—
ইনায়ার দাদুভাই আতিক চৌধুরী
গম্ভীর কণ্ঠে বললেন ও কিন্তু এখন থেকে এই বাড়ির শুধু মেয়ে না মেয়ে প্লাস বউ।চারপাশ হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল…
তিনি আবার বললেন—

ওর সাথে আমার নাতির বিয়ে হয়ে গেছে।লিখন
লিখন চৌধুরী হতভম্ব।মানে…কী বলছেন বাবা
শুনে রাখো ওদের দুজনের বিয়ে হয়ে গেছে—সাক্ষী আমি নিজেই। খেলার ছলে হলেও বিয়ে টা সত্যি চৌধুরী
বাড়ির ভেতর যেন হঠাৎ এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো।
আতিক চৌধুরী কণ্ঠে কোনো দ্বিধা ছিল না—একেবারে দৃঢ়, স্পষ্ট।ওরা দুজন কবুল বলে বিয়ে করেছে। মোহর না থাকলেওইসলামি নিয়ম অনুযায়ী ওদের বিয়ে হয়ে গেছে।
লিখন চৌধুরী যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।কি বলছো তুমি, বাবা ?তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
পরক্ষণেই তিনি উচ্চস্বরে ডাকতে লাগলেন— ইউভি! ইউভি কোথায় তুই
ঠিক তখনই স্কুল থেকে ফেরা ইউভি দৌড়ে ভেতরে ঢুকল জি বাবাডেকেছো কথা শেষ হওয়ার আগেই
একটা চড় এসে পড়ল ইউভির গালে।
সবাই স্তব্ধ।

রাতিব চৌধুরী এগিয়ে আসতেই লিখন চৌধুরী গর্জে উঠলেন তুই চুপ কর! আমার ছেলেকে আমি শাসন করবো!ইউভি হতভম্ব হয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।
লিখন চৌধুরীর চোখে তখন আগুন।তোর সাহস কী করে হলো নূরকে বিয়ে করার? কী যোগ্যতা আছে তোর?
ইউভি কাঁপা গলায় বলল আমি আমি নূরকে কেন বিয়ে করবো বাবা…? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।৷ তুই তোর ফুপির বিয়েতে গিয়ে। কবুল।বলে নূরকে বিয়ে করেছিস! হ্যাঁ বাবা কিন্তু
আর কিছু বলার সুযোগ পেল না সে।
আরেকটা চড়।
তোর সাহস দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি ছিঃ তুই আমার ছেলেভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে চলে যা আমার সামনে থেকে!”
ইউভির চোখে পানি চলে এলো।
বাবা ওটা আমি বিয়ে বলে মানি না ওটা তো
“চুপ! আবার অস্বীকার করছিস? নূরকে বিয়ে করার যোগ্যতাও তোর নেই।
এইবার ইউভির ভেতরের সব চেপে রাখা আবেগ বিস্ফোরিত হলো—
চুপ করো বাবা সবাই চমকে উঠল।
হ্যাঁ আমার ইনায়াকে ভালো লাগে বড় হলে আমি ওকে বিয়ে করবো কিন্তু আমি এখন বুঝে শুনে কিছু করিনি লিখন চৌধুরীর মুখ শক্ত হয়ে গেল।

ধীরে ধীরে বললেন আগে নিজের পায়ে দাঁড়া… প্রমাণ কর তুই ইনায়ার যোগ্য। তারপর এসে বলবি ভালোবাসি চারপাশে থাকা সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল।
এই আচরণ এই কঠোরতা কেউ আশা করেনি।
ঠিক তখনই ইউভির দাদু এগিয়ে এসে তার হাত ধরলেন। চল আমার সাথে।ইউভি কে।বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়ে তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন—
তুমিও শুনে রাখো লিখন।
একদিন আমার দাদুভাই এত বড় হবে।এত বড়যে তোমাদের আফসোস হবে।
পারলে নিজের মেয়েকে সামলিও
“আমি ওকে এমন এক শেহেজাদ ইউভি চৌধুরী বানাবো যা তোমাদের কল্পনার বাইরে।
আমি কথা দিলাম সে আগে নিজেকে ইনায়ার যোগ্য প্রমাণ করবে।”
ইউভি আর একবারও পেছনে তাকাল না।
চলে গেল।

বাড়ির ভেতর নেমে এলো ভারী নীরবতা।
লিখন চৌধুরী ধপ করে বসে পড়লেন।
দু’হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে ফিসফিস করে বললেন
আমাকে মাফ করে দিস বাবা তোর সাথে এমন ব্যবহার না করলে অন্য কেউ করত। আর আমি বাবা হয়ে সেটা সহ্য করতে পারতাম না
রেশমা চৌধুরী ছুটে এসে বললেন—
কি করলে তুমি? আমার কলিজার টুকরোকে এভাবে বললে কেন? ও কি বুঝে করেছে? ও কি জানে কবুল বললে সত্যি বিয়ে হয়ে যায়?
রাতিব চৌধুরী এবার শান্ত গলায় বললেন—
ভাইয়া তুমি ঠিক করোনি। ইনায়া যেমন এই বাড়ির মেয়ে… ইউভিও তেমনই এই বাড়ির ছেলে। ইনায়াকে বিয়ে করার যোগ্যতা ওর আছে।লিখন চৌধুরী হতভম্ব।
তিনি ভেবেছিলেন তার ভাই রেগে যাবে কিন্তু সে উল্টো এ কথা বলছে।
ঠিক তখনই রিমঝিম এগিয়ে এলো—
ভাইয়া তুমি এটা কি করলে? আমার একটা ভুলের জন্য ছোট ভাইয়া এই বাড়ি ছেড়ে গেল আজ ইউভিও চলে গেল তুমি জানো… বাবা ওকে এই বাড়িতে আনবে না যতদিন না ও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে বাবা ওকে কতটা ভালোবাসে—আমরা জানি।

ইউভিকে ছাড়া আমি কীভাবে থাকবো, ভাইয়া
সেদিনের পর—
ইউভি আর এই চৌধুরী বাড়িতে থাকেনি।
আতিক চৌধুরী নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন তাকে গড়ে তুলতে।
হোস্টেলে থাকা, একা লড়াই করা—সেই ছোট ইউভি ধীরে ধীরে বদলে গেছে।
মাঝে মাঝে রেদোয়ান বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার অজুহাতে গিয়ে ইউভির কাছে থাকত রিমঝিম লুকিয়ে রান্না করে খাবার নিয়ে যেত।
এইভাবেই কেটে গেছে বছরগুলো।
দীর্ঘ দশ বছর।
শুধু প্রতি শুক্রবার দাদুর কথা রাখার জন্য ইউভি এই বাড়িতে আসত।
কিন্তু এই দশ বছরে লিখন চৌধুরীর সাথে একটা কথাও বলেনি সে। তার ভেতরে জমে আছে— অসংখ্য অভিযোগ অসংখ্য অভিমান
ইউভি ইনায়াকে বুকে নিয়েই শুয়ে আছে…
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে বাইরে থেকে ধীরে ধীরে ভেসে আসছে ফজরের আজান…
সেই সুরেই ধীরে ধীরে ইনায়ার ঘুম ভাঙল…
চোখ মেলতে গিয়েই হালকা থমকে গেল ইনায়া
নিজেকে আবিষ্কার করল ইউভির বুকের ওপর…

আর ঠিক তখনই ইউভি দ্রুত চোখ বন্ধ করে ফেলল যেন ইনায়া মনে।করে ইউভি এখনো গভীর ঘুমে আছে
ইনায়া একটু উঠে তাকাল তার চোখ থেমে গেল ইউভির ওপর খালি গায়ে ইউভি জরিয়ে ধরে আছে ইনায়া কে ভেজা চুলের কয়েকটা গোছা কপালের ওপর পড়ে আছে গায়ের ফর্সা ত্বকে হালকা পানি শুকানোর দাগ মজবুত বুকটা উঠানামা করছে ধীরে ধীরে জিমে গড়া শরীর কাঁধগুলো চওড়া… বুকটা শক্ত আর নিখুঁত হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে
সব কিছু ইনায়া কে মুগ্ধ করে তুলছে
ইনায়ার গাল লাল হয়ে উঠল…
এভাবে আগে কখনো দেখেনি ইউভি কে।নিজের প্রিয় মানুষ টা কে এভাবে এতো কাছে পেয়ে কেমন কেমন লাগছে ইনায়ার

মনে মনে বলল একটা মানুষ সব দিক দিয়ে এত পারফেক্ট হয় কীভাবে
তার চোখ বারবার আটকে যাচ্ছে ইউভির মুখে…
উফফ আমার শেহেজাদা মারাত্মক সুন্দর রে মাইরি
হঠাৎ নিজের অবস্থানটা টের পেয়ে আরও লজ্জা পেল সে…
ইউভির বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছে ইনায়া
ধীরে ধীরে সরে যেতে চাইল কিন্তু ঠিক তখনই…
ইউভির হাতটা অজান্তেই (বা ইচ্ছাকৃতভাবে) একটু শক্ত হয়ে জড়িয়ে ধরল ইনায়া কে
ইনায়ার নিঃশ্বাস আটকে গেল…
চোখ বড় বড় হয়ে গেল…
ইউভি চোখ বন্ধ রেখেই ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি দেখা গেল
ইনায়ার বুঝতে বাকি থাকলো না ওর শেহেজাদা জেগে আছে কথা টা ভাবতেই ও লজ্জাই ইউভির বুকে মুখ গুজে শুয়ে রইলো।

ইনায়া দুষ্টুমি করে হঠাৎ ইউভির বুকে জোরে কামড় দিল—
হালকা চিৎকার করে ইউভি একদম উঠে বসে পড়ল।
ইনায়া রাগের বান করে বললো এত কারেন্ট কেন আপনার শরীরে? ইউভি ভ্রু তুলে তাকাল—
“কেন? শর্ট করছিস নাকি?
ইনায়া আরও লজ্জা পেয়ে গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করল।আপনি আগে কিছু পরেন ইউভি নির্লজ্জ ভাবেই বলল কেন? কী পরবো? খুলি নি তো কিছুই
ইনায়া এবার সত্যি সত্যি লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলল—
খালিগায়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছেন… আবার জিজ্ঞেস করছেন কী পরবেন!
আপনার লজ্জা না থাকতে পারে…

আমার তো লজ্জা করে যান প্লিজ!
ইউভি এবার পুরো বুঝে গেল ইনায়ার অবস্থা…
আর সেটাকেই কাজে লাগিয়ে একটু কাছে এগিয়ে এল হালকা ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল।শুধুই লজ্জা করছে নাকি আর কিছু হচ্ছে ?
ইনায়া সাথে সাথে একটা বালিশ তুলে দুজনের মাঝে রেখে দিয়ে বললো দিন দিন এত অসভ্য হয়ে যাচ্ছেন কেন?!
লজ্জা-শরম কিছু নাই?
দিন দিন ওই খারাপ লোকগুলোর মতো হয়ে যাচ্ছেন!
ইউভি হেসে ফেলল—
চোখে সেই চেনা দুষ্টু ঝিলিক নিয়ে বললো
হুম হবোই তো
এইসব পদবী আমি শুধু তোর মুখ থেকেই শুনতে চাই ধীরে ধীরে বালিশটার ওপর হাত রেখে সামনে ঝুঁকল ইউভি
ভালোবাসার মানুষের সামনে একটু নিলজ্জ না হলে, ভালোবাসা যেন পূর্ণতা পায় না আদর
কারণ সত্যিকারের প্রেমে লজ্জা কমিয়ে রাখলে অনুভূতি বাড়ে।
ভালোবাসার মানুষটার সামনে একটু বেহায়া, একটু অসভ্য হতে হয়
তাকে নিজের সবচেয়ে সত্য রূপটা দেখাতে হয়
যার সামনে তুমি নির্দ্বিধায় হাসতে পারো,
অকারণে অভিমান করতে পারো
ভালোবাসা মানে শুধু দূর থেকে দেখা নয়,
ভালোবাসা মানে কাছে এসে হৃদয়ের সব কথা বলে ফেলা।
তাই কখনো কখনো—

একটু পাগলামি, একটু দুষ্টুমি, একটু বেয়াদবি…
এইসব নিয়েই তো তৈরি হয় সব চেয়ে সুন্দর প্রেম।
আর আমি সবসময় সেই প্রেমিক পুরুষ হয়ে থাকতে চাই পৃথিবী সবার কাছে আমি ভালো থাকলেও তোর কাছে আমি সব সময় খারাপ অসভ্য লুচ্চা বেটা এসব পদবি নিয়েই থাকতে চাই।
না হলে আর বাবা ডাক সোনা লাগবে না।
ইউভির শেষ কথাটা শুনে ইনায়া কপাল কুঁচকে তাকাল—
বাবা ডাক মানে?”
ইউভি একটু হেসে মাথা নেড়ে বলল—
আরে বিয়ের পর তো বাবা হবো তাই বললাম!
ইনায়া চোখ বড় বড় করে—
কি সব আজেবাজে ভাবেন আপনি! এত নেগেটিভ ভাবেন কেন?
বিয়ে করতে এখনো অনেক দেরি আছে…
আগে চুটিয়ে প্রেম করবো তারপর বিয়ে!
ইউভি চুপ করে তাকিয়ে রইল ইনায়ার দিকে
মনে মনে বলল ১০ বছর আগে আমাকেই ফাঁসিয়ে বিয়ে করলি…
আর এখন বলছে বিয়ে করবো না বাহ!
ধীরে ধীরে এগিয়ে এল সে…
ইনায়ার একদম কাছে দাঁড়িয়ে নরম গলায় বলল—
তোর কি ইচ্ছে করে না আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে?”
ইনায়া থমকে গেল…
ইউভি নিজেই উত্তর দিল জানি করে…

আমারও করে তোকে বুকে জড়িয়ে ঘুমাতে একটু ঝুঁকে বললো এই জন্যই তো বলছি তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে ফেলতে হবে ইনায়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল এখনো তো আপনি একবারও বলেননি ‘ভালোবাসি’…
আর বিয়ের কথা বলছেন?”
ইউভি মুচকি হাসল আমি অন্য সবার মতো না, আদর
কতো টা ভালোবাসি মুখে বলে না…
কাজে প্রমাণ করতে হয়… বুঝলি?”
এক সেকেন্ডের জন্য ইনায়া চুপ করে তাকিয়ে রইলো ইউভির দিকে
তারপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না—
দৌড়ে বের হয়ে গেল ইউভির রুম থেকে…
করিডোর দিয়ে নিজের রুমে যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলছে—
“উফফ! অসভ্য লোক একটা
আর নিচু গলায় কয়েকটা গালিও দিল—

সকাল হতেই বিয়ের প্রোগ্রামের কোলাহলে জমে উঠল পুরো চৌধুরী বাড়ি…
ঘরের ভেতর, উঠান, করিডোরসবখানেই দৌড়ঝাঁপ…
বাড়ির কর্তা থেকে শুরু করে সবাই প্রচণ্ড ব্যস্ত—
কেউ খাবারের দিকটা দেখছেকেউ খোঁজ নিচ্ছে বরযাত্রী কতদূর ইউভি আর রেদোয়ান ভোরেই বেরিয়ে গেছে—
এয়ারপোর্টে কাউকে রিসিভ করতে.এদিকে—
রিমঝিমকে সাজানো হচ্ছে…
বাড়ির মেয়েরাও একে একে রেডি হচ্ছে—
প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা বিউটিশিয়ান আনা হয়েছে…
হঠাৎ—
রেশমা চৌধুরী ঢুকলেন রিমঝিমের রুমে…
হাতে বড় একটা ডালাভর্তি গয়না এক ঝলক দেখেই সবাই অবাক!
ইনায়া চোখ বড় করে বলল.বড় মা! এত গয়না পরে ফুপিমনি হাঁটবে কীভাবে? রেশমা চৌধুরী হেস ললেন.আরো অনেক আছে…

কিন্তু এত ভার তো সহ্য করতে পারবে না—
তাই এই কয়েকটাই আনলাম।”
নুসরাত চৌধুরী হেসে বললেন—
“এই বাড়ির প্রতিটা মেয়ের জন্য অনেক গয়না রাখা আছে…
বাড়ির বউদের জন্যও…
তোর জন্য, পিয়াসা, আয়াত, আতিকা—সবার জন্যই আছে বুঝলি?
পিয়াসা তখন ইনায়ার কাছে এসে ফিসফিস করে বলল আমার কিছুই লাগবে না বেবি।শুধু তোর ভাইটাকে দিলেই হবে
ইনায়া হালকা ধাক্কা দিল।চুপ কেউ শুনে ফেলবে ঠিক তখনই—
বাইরে থেকে আওয়াজ উঠল বরযাত্রী চলে এসেছে
সবাই খুশিতে দৌড়ে গেল গেটের দিকে…
ইনায়া, পিয়াসা, তুবা, রানি—
তারাও যাওয়ার জন্য করিডোরে এল…
ঠিক তখনই—

একসাথে ইনায়া আর পিয়াসার ফোনে মেসেজ ঢুকল…
পিয়াসা ফোন খুলে পড়তেই থমকে গেল সবসময় ফুপিমনির কাছেই থাকবেন, ম্যাডাম না হলে আপনার ময়েন কী করতে পারে—আপনি নিজেও জানেন না
বেচারা ইনায়ার মেসেজ টা ছিলোএমন
ছেলেদের থেকে ১০০ হাত দূরে থাকবি, আদর…
এক হাত কাছে এলেই—
একটা করে চুমু খাবো…
আর ঠিক কোথায় কোথায় খাবো—
তুই নিজেও জানিস না…
তাই সবসময় পি র কাছে থাকবি
ইনায়ার গাল লাল হয়ে গেল—
রাগে না লজ্জায়নিজেই বুঝতে পারল না…
পাশে পিয়াসাও নিজের ফোন দেখে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে…
দুজন একসাথে বুঝে গেল—

শেহেজাদার আদর পর্ব ১৮

এইটা কাদের কাজ ও
দিকে—
ইউভি আর রেদোয়ান—
দূরে দাঁড়িয়ে শয়তানি হাসি দিচ্ছে
ঠিক তখনই—
পরিচিত একজন এসে জড়িয়ে ধরলো।
দুজন কে
“সালা হিটলার
ওদিকে

শেহেজাদার আদর পর্ব ২০