শেহেজাদার আদর পর্ব ১৮
সুমাইয়া ইসলাম নূর
রাজ্জোকে নিয়ে ইউভি আর রেদোয়ান মঞ্চের দিকে নিয়ে গেল।
আর ইনায়া তুবাকে নিয়ে রেশমা চৌধুরী আর রিমঝিমের কাছে চলে গেল।
এইদিকে ইউভি মাইক হাতে নিয়ে ঘোষণা করল—
লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান এখনই শুরু হতে যাচ্ছে আমাদের চৌধুরী বাড়ির গ্রুপ ডান্স
জানি ছেলেদের কাছে মেয়েরা পারবে না তবুও করতে তো হবেই।
ঠিক তখনই—
ইনায়া দৌড়ে গিয়ে ইউভির হাত থেকে মাইক নিয়ে বলল—
চৌধুরী বাড়ির মেয়েরা ও কম না নেবেন নাকি চ্যালেঞ্জ?
ইউভি হেসে বলল—
হয়ে যাক সমস্যা কোথায়!
টিম
ছেলেরা:
ইউভি, রেদোয়ান, রাজ্জো,
মেয়েরা
ইনায়া, তুবা, পিয়াসা, সাম্মি, রানি,
বক্সে গান বাজতেই—
ছেলেরা এগিয়ে এসে—
ইয়ে কুড়িয়াঁ নশে দি পুড়িয়াঁ
মেয়েরা—
ইয়ে মুন্ডে গলি দে গুন্ডে
ছেলেরা—
ইয়ে কুড়িয়াঁ নশে দি পুড়িয়াঁ
মেয়েরা—
ইয়ে মুন্ডে গলি দে গুন্ডে…
ছেলেরা আরেকটু এগিয়ে—
ইয়ে কুড়িয়াঁ নশে দি পুড়িয়াঁ…
ইনায়া এগিয়ে এসে ইউভির দিকে তাকিয়ে—
ইয়ে মুন্ডে গলি দে গুন্ডে…
ইউভি—
নশে দে পুড়িয়াঁ…
ইনায়া—
গুন্ডে!
ইউভি—
“হো ও ও ও… হো ও ও ও…”
“মেহেন্দি লাগা কে রখনা
ডোলি সাজা কে রখনা
মেহেন্দি লাগা কে রখনা
ডোলি সাজা কে রখনা
লেনে তুঝে ও গোরি
আয়েঙ্গে তেরে সাজনা…”
সব ছেলেরা একসাথে এগিয়ে এসে
“মেহেন্দি লাগা কে রখনা
ডোলি সাজা কে রখনা
লেনে তুঝে ও গোরি
আয়েঙ্গে তেরে সাজনা…”
ইনায়া ইউভিকে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ডান্স শুরু করল—
“হো ও ও ও… আ আ আ…”
“সেহরা সাজা কে রখনা
সেহরা ছুপা কে রখনা
সেহরা সাজা কে রখনা
সেহরা ছুপা কে রখনা
ইয়ে দিল কি বাত আপনে
দিল মে দবা কে রখনা…”
সব মেয়েরা একসাথে—
“সেহরা সাজা কে রখনা
সেহরা ছুপা কে রখনা…”
ছেলেরা—
“মেহেন্দি লাগা কে রখনা
ডোলি সাজা কে রখনা…
এইদিকে—
রেদোয়ান পিয়াসার হাত ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে নিল—
“উড় উড় কে তেরি জুলফে
করতি হ্যায় কেয়া ইশারে
দিল থাম কে খড়ে হ্যায়
আশিক সবি কাঁওয়ারে…”
পিয়াসা—
“ছুপ যায়ে সারে কুড়িয়াঁ
ঘর মে শরম কে মারে
গাঁও মে আ গয়ে হ্যায়
পাগল শহর কে সারে…”
ওদিকে—
ইউভি ইনায়ার লেহেঙ্গার ওড়না ধরে নিজের কাছে টেনে নিল—
“নজরা ছুপা কে রখনা
দামন বাঁচা কে রখনা
নজরা ছুপা কে রখনা
দামন বাঁচা কে রখনা
লেনে তুঝে ও গোরি
আয়েঙ্গে তেরে সাজনা…”
শেষে—
আজ চৌধুরী বাড়ির ছেলেদের কাছেই
মেয়েরা হেরে গেল
ডান্স শেষ হতেই চারপাশ আবার হাসি আর হাততালিতে ভরে উঠল।
সবাই মজা করছে,
এই ভিড়ের মাঝেই—
রেশমা চৌধুরী একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তিনি ধীরে লিখন চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন কতদিন পর ছেলেটাকে এভাবে হাসতে দেখলাম…
লিখন চৌধুরী হালকা হাসলেন।
রেশমা আবার বললেন—
শোনো তোমাকে বলে দিচ্ছি—
আমি আমার ছেলেকে সারাজীবন এমন হাসিখুশি দেখতে চাই।
রিমঝিমের বিয়েটা হোক…
তারপরই আমি ওদের বিয়েটা দিয়ে দেবো।
বলেই দিলাম।
লিখন চৌধুরী শুধু মুচকি হেসে মাথা নাড়লেন…
মনে মনে তিনিও রাজি।
এইদিকে—
ইনায়া দৌড়ে গিয়ে রিমঝিমের পাশে দাঁড়িয়ে নালিশের সুরে বলল
দেখো না ফুপি ওরা চিটিং করেছে।
রিমঝিম হেসে ফেলল হারলে সবাই এই কথাই বলে নূর। ফুপি তুমি ওদের দলে
ঠিক তখনই—
ইউভি ধীরে ধীরে এগিয়ে এল ইনায়ার দিকে।
চোখে দুষ্টু হাসি নিয়ে বললো
চ্যালেঞ্জ তো তোরাই নিয়েছিলি
ইনায়া সাথে সাথে বলল মোটেই না!
এই যে শুনেন আপনি আমার সাথে পারতেন না!
শুধুমাত্র ভারী লেহেঙ্গা পরা ছিল তাই।
ইউভি একটু ঝুঁকে এল…
ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে খুব আস্তে ফিসফিস করে বলল লেহেঙ্গা না পরা থাকলেও… তুই পারবি না
ইনায়া একদম থমকে গেল…
তারপর চোখ বড় করে তাকাল ইউভির দিকে
সময় হলে দেখা যাবে এইবার জিতছেন কিন্তু আর জিততে দেবো না।
ইউভি মুচকি হেসে সোজা হয়ে দাঁড়াল তার পর বললো
তাই নাকি, আদর?
শুনে রাখো ইনায়া নূর চৌধুরী…
তুমি আমার কাছে সারাজীবন হারবা—
মাঠে, ঘাটে…খা টে
আরও অনেক জায়গায়
কথাটা শেষ হতেই—
ঠাস করে
ইনায়া নিজের জুতা দিয়ে ইউভির পায়ের ওপর চাপ দিল।
ইউভি কুঁকড়ে উঠল।
ইনায়া রাগে বলল—
অসভ্য লোক একটা!
সবসময় শয়তানি চিন্তা-ভাবনা মাথায় ঘোরে!
অসভ্য।।।।
ইউভি পা চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও হেসে ফেলল—
তোর জন্যই তো
ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল—
কিন্তু তার গালের লালচে আভা আর লুকানো হাসি
টা ইউভির চোখের আরাল হলো না।
এর পর আর কিছু নাচ গান দিয়ে।শেষ হলো মেহেনদির প্রোগ্রাম
মেহেদির প্রোগ্রাম শেষ হতে হতে রাত প্রায় একটা বাজে গেছে
সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে একে একে সবাই নিজেদের রুমে চলে গেল ঘুমোতে
কিন্তু বিপত্তি ঘটল ইনায়ার ক্ষেত্রে।
আজ নতুন করে আত্মীয় এসেছে চট্টগ্রাম থেকে… আয়াত, আতিকাদের সব কাজিনরা মিলেই ঠিক করেছে ইনায়ার রুমেই ঘুমাবে।
বেচারা ইনায়া এত মানুষের ভিড়ে তার ঘুম আসবে না।এইদিকে পিয়াসার রুমেও ভিড় তাই সে-ও এসে ঢুকে পড়েছে ইনায়ার রুমে।
কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার চেষ্টা করেও ইনায়া বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ল।
চুপচাপ দরজা খুলে করিডরে বেরিয়ে এল।
চারপাশ নিস্তব্ধ হালকা আলো সবাই গভীর ঘুমে বিভোর
ইনায়া ধীরে ধীরে হাঁটছে করিডোর দিয়ে হঠাৎই মনে পড়ল ইউভির কথা।
একটু থেমে চুপচাপ গিয়ে উঁকি দিল ইউভির রুমে…
ঠিক তখনই একটা শক্ত হাত তার কব্জি ধরে টান দিল!
“আহ—!”
এক টানে ইনায়া কে রুমের ভেতরে নিয়ে গেল ইউভি দরজা বন্ধ করে দিল ইউভি
ইউভি দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ঠোঁটে দুষ্টু হাসি নিয়ে বললো কি ম্যাডাম ঘুম আসছে না নাকি?
ইনায়া একদম থমকে দাঁড়িয়ে আছে কথা বলতেই পারছে না।
ইউভি ধীরে ধীরে এগিয়ে এল…
নরম গলায় বলল তাড়াতাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়… কাল সকালে উঠতে হবে।
কথা বলতে বলতেই তার হাতটা আলতো করে ইনায়ার কোমরে ছুঁয়ে গেল।
ইনায়ার নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল।
ইউভি আরও একটু ঝুঁকে এল তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল—
এত রাতে আমার রুমে কি চাই, আদর।
ইনায়া যেন কথা বলতেই ভুলে গেছে…
চোখ বড় বড় করে তাাকিয়ে আছে ইউভির দিকে শ্বাস আটকে যাচ্ছে ইনায়ার ।
ইউভি তার এই অবস্থা দেখে মুচকি হেসে ফেলল।আর একটু জালানোর জন্য
আরও কাছে টেনে নিল তাকে…
কি হলো বলবি না নাকি আমি বুঝে নিবো।তোর কি চাই?
ইনায়ার গাল লাল হয়ে উঠল।
সে আস্তে করে বলল আমি আমি তো শুধু
কথা শেষ করতে পারল না।
ইউভি হালকা হেসে তার থুতনিটা আঙুল দিয়ে তুলে ধরল।
শুধু আমাকে দেখতে এসেছিলি?
ইনায়া চোখ নামিয়ে নিল।
এই চুপটাই তোর উত্তর।
ইউভি একটু নরম হয়ে গেল…
ধীরে তার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল।
পাগলি একটা
তারপর আস্তে করে তাকে বুকের কাছে টেনে নিল।
কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলল না।
শুধু দুজনের নিঃশ্বাস মিশে গেল একসাথে…
ইউভি ফিসফিস করে বলল—
ঘুম না আসলে আমার কাছে আসবি
মনে মনে ইনায়া ভাবল
উনি জানলো কী করে আমার ঘুম আসছিল না।
তারপর আস্তে বলল আমার রুমে অনেক মানুষ ঘুম আসছে না।
ইউভি হালকা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল—
আমার রুমে কেউ নাই ঘুমাতে পারিস তুই কথা দিচ্ছি আমি একটু ও বিরক্ত করবো না।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল—
আপনি কি ছোট বাচ্চা…? যে আমাকে বিরক্ত করবেন।
ইউভি একটু দূরে সরে গিয়ে দাঁড়াল।
তারপর দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল—
আমি তোকে কতটা বিরক্ত করতে পারি…
তার ওয়ান পার্সেন্টও তোকে দেখাইনি।
সেই বাচ্চাবয়স থেকেই সব কিছু জমিয়ে রাখছি…
সব সুদসহ ফিরিয়ে দিবো তোকে—ইনায়া নূর চৌধুরী
ইনায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ইউভির দিকে।
ইউভি বললো তুই ঘুমোতে যা আমি শাওয়ার নিবো
এতো রাতে শাওয়ার নিবেন কেন…?”
হঠাৎ—
ইউভি এক টানে ইনায়া কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল।
ইনায়ার পিঠ গিয়ে ঠেকল ইউভির বুকের সাথে
ইউভি তার গলার উপর থেকে কিছু চুল সরিয়ে
খুব হালকা করে ঠোঁট ছোঁয়াল।
নরম গলায় বলল তুই যদি আমার রুমে না আসতিস তাহলে আমাকে শাওয়ার নিতে হতো না তুই যে হট
তুই আমার মতো কুল, ইনোসেন্ট একটা মানুষকে করে হট করে দিয়েছিস এই জন্য আমাকে কুল হওয়ার জন্য শাওয়ার নিতে হবে
ইনায়া তাড়াতাড়ি ইউভিকে ধাক্কা দিয়ে সরে গেল দূরে গিয়ে বললো ইউভি ভাইয়া কী বললেন আপনি! আমি হট? আর আপনি ইনোসেন্ট হাসালেন।
ইউভি মুচকি হেসে বলল—
“হুম… হট প্লাস…”
ইনায়া লজ্জায় একদম লাল হয়ে গেল
আর কী! ইউভি হেসে বলল—
“যা, ঘুমাতে যা…
না হলে তোকে এখনই আমার সাথে গোসল করানোর ব্যবস্থা করবো।
আর শেহেজাদ ইউভি চৌধুরীর রাইট আছে—
তোকে মাঝরাতে গোসল করানোর
ইনায়া যেন আজ নতুন ইউভিকে দেখছে…
লজ্জায় তার মাটির নিচে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করছে—
এক নম্বরের লুচ্চা সালা!
বলে কি না গোসল করিয়ে ছারবে।
ডেভিল প্রো সালা আমার কপালেই জুটছে একটা
বালের কপাল হলে যা হয় আর কি
ইনায়া যখন রুম থেকে বের হয়ে যেতে চায়—
ঠিক তখনই ইউভির গম্ভীর কণ্ঠ বলে কোথাও যাবি না।
ইনায়া থেমে গেল।ইউভি ধীরে বলল—
তুই এই রুমেই ঘুমাবি আমি একটু আগে যা বলেছি
সেটা কাজ করে দেখাবো, আদর…
ইনায়া আস্তে বলল—
আপনার রুমে ঘুমালে বাড়ির সবাই কি বলবে?
ইউভি শান্ত গলায় বলল—
তোকে এসব নিয়ে ভাবতে হবে না…
তুই আমার সাথে সারাজীবন থাকলেও
কেউ কিছু বলবে না
একটু থেমে আবার বললো।
কারণ তোর অধিকার আছে
এই রুমে ঘুমানোর
এই বলে ইউভি ওয়াশরুমে চলে গেল।
আর বেচারা ইনায়া
দাঁড়িয়ে আছে ঘুমাবে কি ঘুমাবে না এই ভাবনাতেই হারিয়ে গেল
রাত তখন প্রায় দুইটা বাজে
চারপাশ নিস্তব্ধ, করিডরের হালকা আলোয় ছায়াগুলো লম্বা দেখাচ্ছে
পিয়াসা ইনায়াকে কোথাও না পেয়ে ঘর থেকে বের হয়।
ঠিক তখনই চোখে পড়ে রেদোয়ান ফোনে কথা বলতে বলতে ছাদের দিকে যাচ্ছে।
হঠাৎ তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল…
এতো রাতে কার সাথে কথা বলছে?
পিয়াসা চুপচাপ পেছন পেছন উঠে গেল ছাদে।
রেদোয়ান কথা শেষ করে ঘুরতেই—
দেখল পিয়াসা কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাগি চোখে
রেদোয়ান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তার প্রিয়তমার দিকে
পিহু! এতো রাতে তুই এখানে?
পিয়াসা এক ধাক্কা দিয়ে রেদোয়ান এর বুকে হাত রাখল—
এতো রাতে কার সাথে কথা বলছিলে?
কথা বলতে বলতে পিয়াসা রেলিংয়ের দিকে এগোতে থাকে—
হঠাৎ রেদোয়ান তার কোমর ধরে টেনে নেয় নিজের বুকে।
লন্ডন থেকে একটা জরুরি কল ছিল অন্য কারো সাথে না, বুঝলি?তারপর একটু নরম গলায় বললো আগে বল—ঘুমাসনি কেন?”
পিয়াসা মুখ ফিরিয়ে—
ইনায়াকে খুঁজতে বের হয়েছিলাম…
পরে দেখি তুমি কারো সাথে কথা বলছো…
বোনু কোথায়?”
জানি না…
এই জন্যই তো খুঁজছি…
রেদোয়ান এবার তাকে আরও কাছে টেনে নিল—
মাঝে মাঝে এভাবে কাছে আসতে পারিস তো
পিয়াসা ভ্রু কুঁচকে বললো
কেন আসবো?
নিজের তো কোনো টান নেই
রেদোয়ান হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে—
টান আছে, পিহু…
কিন্তু সময় হচ্ছে না…
ভাইয়া নিজের বিজনেসের ৫০% বোনুর নামে করে দিচ্ছে…
কিছুই বুঝতে পারছি না
আবার লন্ডন থেকেও চাপ আসছে…
বুঝতে পারছি না কী করবো…
পিয়াসা আস্তে করে তার বুকে মাথা রাখল—
জানো তোমাকে একবার দেখার জন্য আমি কতটা ছটফট করি
আর তোমার বোনু… সব বুঝে গেছে।
ভালো না বাসলে কেউ ভালোবাসার মানে বুঝে না…
ও যদি ভাইয়াকে এতটা ভালো না বাসতো—
আমাদের ব্যাপারটা বুঝতেই পারত না…”
রেদোয়ান নরম গলায়—
“কিছুদিনের জন্য আমাকে লন্ডন যেতে হবে…
আর ভাইয়াকে এই কথা বোনু কে আগে বলিস না…
সময় হলে ভাইয়াই বলবে
পিয়াসা কিছু দিন মানে।কতো দিন
জানি না তবে অনেক দিন
কিছুক্ষণ দুজন চুপচাপ কথা বলা শেষ করে
হঠাৎ রেদোয়ানের মনে পড়ে ইনায়ার কথা।
সে ফোন বের করে ইউভিকে কল দেয়—
“ভাইয়া…”
ওপাশ থেকে—
হুম বল বোনুকে কোথাও পাচ্ছি না
ইউভির ঠোঁটে দুষ্টু হাসি নিয়ে বললো সালা বাবু
তোর বোন এখন তার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় আছে…
মানে?
আমার রুমে এবং আমার বুকে
চিন্তা করিস না…
বউটা খুব শান্তিতে ঘুম দিচ্ছে।আমার বারোটা বাজিয়ে…
রেদোয়ান অবাক হয়ে বললো
ভাইয়া! তুমি বোনুকে বউ বললে? তুমি তো বলছিলে—
ইউভি এবার গম্ভীর কন্ঠে বললো
আজ আমাদের কাবিননামা হাতে পেয়েছি আমি…
আর শেহেজাদ ইউভি চৌধুরী কথা দিয়ে কথা রাখে।
যতোই শরীরে লিখন চৌধুরীর রক্ত থাকুক না কেন—
আমি কথা রেখেছি।
তারপর হালকা হেসে বললো
এখন ঘুমাতে যা…
আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দে…
এমনিতেই বউকে ছাড়া অনেকদিন দূরে থাকতে হবে
রেদোয়ান হাসল—
ঠিক আছে ভাইয়া…
ইউভি আবার বলল—
অনেক রাত হয়েছে… ঘুমোতে যা
কাল সকালে উঠতে হবে—অনেক কাজ আছে।
মনে আছে তো?
হ্যাঁ ভাইয়া
শেষে ইউভি মজা করে বলল—
শেহেজাদার আদর পর্ব ১৭
“যে বয়সে বাপ-চাচারা আমাদের নিয়ে চিন্তা করবে—
সেই বয়সে আমরা ওনাদের মান-অভিমান ভাঙাতে ব্যস্ত হয়ে ভাবা যাই
কথাটা শুনে—
দুই ভাই একসাথে হেসে উঠল…
