শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৩৩
অনামিকা তাহসিন রোজা
গরমে বাঁচা মুশকিল! মানুষের জীবনের সবচেয়ে বিরক্তিকর জিনিসগুলোর মধ্যে একটি হলো ট্রাফিক জ্যাম! তা যদি আবার হয় ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম, তবে তো হয়েই গেলো! প্রায় বিশ মিনিট যাবৎ জ্যামে আটকে আছে শ্রাবণ আর ধারা। মাত্র বিশ মিনিট শ্রাবণের কাছে কিছুই না। সে গুনগুন করে মনের সুখে গান গাইছে। তবে ধারার কাছে এটা জটিল বিষয়! বিরক্ত হয়ে মুখ কুঁচকে সে সামনের গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। সে দেখতে চায় সবার সামনে যে গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে, সেই গাড়ি কী এমন মহাভারত অসুদ্ধ করার মত কাজ করেছে যে চলছে না। জ্যামের প্রথম গাড়িটা কী করে? চলছে না কেনো? শেষমেশ ধারা বিরক্ত হয়ে শ্রাবণ কে বলেই ফেলল,
—” ভীষণ গরম লাগছে।”
শ্রাবণ স্টিয়ারিং এ হাত রেখেই ধারার দিকে চোখ বড় করে তাকালো,
—” কীহ? এসি থাকার পরেও গরম লাগছে?”
ধারা এবারে আরো মুখ কুঁচকালো,
—” এসির বাতাস ভালো লাগে না। গাড়িতে তো আরো না। কেমন যেন গন্ধ লাগে।”
শ্রাবণ মাথা নাড়লো। এরপর এসিটা মিডিয়াম লেভেলে দিয়ে নিজের পকেট থেকে রুমাল বের করল। ধারার হাত ধরে টেনে এনে কপালে জমে যাওয়া বিন্দু বিন্দু ঘাম গুলো সযত্নে মুছিয়ে দিল। ধারা প্রস্তুত ছিল না। তাই হা হয়ে তাকিয়ে রইলো। শ্রাবণ কপাল মুছিয়ে দেয়ার পর ধারার মুখের দিকে তাকালো। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে ফিক করে হেসে ফেলল। ধারা এবারে ভ্রু কুঁচকালো। একটু জোরেই বলল,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—” হাসছেন কেনো?”
শ্রাবণ হাসতে হাসতেই এক আঙুলে ধারার নাকটা ছুঁয়ে দিল। এরপর রুমাল দিয়ে সেখানেও মুছে নিয়ে বলল,
—”তোমার নাক ঘেমে গেছে।”
মুখ ফুলিয়ে রাগান্বিত স্বরে ধারা বলল,
—” তো এতে হাসার কী আছে?”
যৌক্তিক! হাসার মত কিছু নেই। কিন্তু শ্রাবণের ভীষণ হাসি পাচ্ছে। সে ঠোঁট চেপে বলল,
—” কোথায় যেন শুনেছিলাম! যেসব মেয়ের নাক ঘামে, সেসব মেয়েরা নাকি জামাইয়ের থেকে অনেক আদর পায়। তাই ভাবছিলাম….! ”
একটু লজ্জা পেলো ধারা। কিন্তু তা প্রকাশ করলো না। গলার তেজটা বহাল রেখে জোর গলায় বলে উঠলো,
—” কী ভাবছিলেন? ”
শ্রাবণ ঠোঁট উল্টিয়ে না বোঝার ভান করে বলল,
—” ভাবছিলাম তুমি পাও কিনা। ”
বলেই সে ধারার দিকে তাকিয়ে ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
—’ পাও?”
ভ্রু কুঁচকালো ধারা,
—” কী পাব?”
শ্রাবণ বাচ্চাদের মত মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,
—” আদর, আদর!”
নাক ফুলিয়ে রেগে গেলো ধারা। এই ট্রাফিক জ্যামে তার মাথায় রক্ত টগবগ করছে, তার উপর ডিম ভাজার মত গরম আবহাওয়া! সব মিলিয়ে মাথা ঠিক থাকারই কথা না। অথচ এই লোক রীতিমতো ফাজলামো করছে। ঢাকার মানুষরা কি রোবট? অভ্যস্ত হয়ে গেছে এসব। কিন্তু ধারার ভালো লাগে না। তাই সে ভীষণ বিরক্ত। শ্রাবণের কথায় এবার সে আগের মতই তেজি গলায় বলল,
—” না, পাই না। আমাকে কেও আদর করে না হুহ!”
শ্রাবণ রসগোল্লার থেকেও বড় বড় চোখ করে তাকালো ধারার দিকে। এমনভাবে দৃষ্টি ফেলল যেন ধারা কোনো ভয়ংকর আজব কথা বলেছে।
—” হোয়াট? আসলেই? সত্যি? ”
ধারা জেদ নিয়ে বলল,
—” অবশ্যই সত্যি। ”
চোখ সরু করে সন্দিহান দৃষ্টি ফেলল শ্রাবণ,
—” ভালো করে ভেবে বলো। কেও আদর করে না?”
ধারা নাছোড়বান্দা। গরমে মাথায় জেদ চেপেছে। আবারো বলল,
—” না, করে না।”
শ্রাবণ চোখ সরু করলো আরেকটু। ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো ধারার দিকে। মেয়েটার কি স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। শ্রাবণের ইচ্ছে করল গত রাতের কথা বলার। মন চাইলো এখনি ধমক দিয়ে বলতে, বেয়াদব ছলনাময়ী নারী, কেও আদর করেনা মানে? গত রাতে কি শ্রাবণ শেখ তোর সাথে বেহাইন-বেহানির আলাপ করেছিল? কিন্তু ভদ্র লোক শ্রাবণ! তাই এভাবে সরাসরি বলল না কিছু। সিটে সোজা হয়ে বসে ঠোঁট কাঁমড়ে কিছু একটা ভাবল। এরপর সেকেন্ডের মধ্যে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল। ভদ্রমানুষ শ্রাবণ শেখ বোধহয় কোনো বড়সড় পরিকল্পনা সেড়ে নিয়েছে। বেচারি ধারা! ফাজলামো করার কঠিন শিক্ষা পেয়েই যাবে। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
ভার্সিটিতে পড়েছিল মুনিরা। সেই ভার্সিটিতে পড়ার সময়টা মুনিরার জন্য জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অথচ সবচেয়ে দুঃসহ স্মৃতি হয়ে রয়ে গিয়েছিল। লাস্ট ইয়ারের এক সিনিয়র ভাই তাকে ভীষন ডিস্টার্ব করতো। বলা যায়, সিরিয়াস ডিস্টার্ব। ক্লাসের ভিড়ে, লাইব্রেরির নিস্তব্ধতায় কিংবা ক্যান্টিনের ব্যস্ততায় সর্বত্র তাকে অনুসরণ করত সেই এক সিনিয়র। প্রথমে হয়তো সাধারণ কথোপকথনের ভান করত, পরে ধীরে ধীরে সীমা অতিক্রম করতে থাকে। প্রথমে মুনিরা বিষয়টা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটির আসল রূপ প্রকাশ পায়। হুমকি, প্রলোভন, কুপ্রস্তাব, একসময় সরাসরি বলে ফেলেছিল,
— “তোমাকে আমি বিয়েই করব, না করলে তুলে নিয়ে যাব।”
এমন ভয়ংকর পরিস্থিতির ভেতর দিয়েই মুনিরাকে ভার্সিটি জীবন কাটাতে হয়েছিল। অনেক রাত জেগে অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করেছে, ক্লাস টেস্ট দিয়েছে, প্রেজেন্টেশন করেছে, কিন্তু বুকের ভেতরে সবসময় একটা ভীতি লুকিয়ে ছিল। বন্ধুদের কাছেও কিছু বলেনি, পরিবারের কাছেও না। কেবল নিজের ভেতরেই গোপন রেখেছিল। এটাই ভুল ছিল তার। আর পাঁচটা রেগিং এর মত এটাকে ভেবেছিল। কিন্তু ওই ছেলে যে এতটা সিরিয়াস আর ড্যান্জারাস তা ভাবেনি। এরপর ভার্সিটি লাইফ শেষ হওয়ার পরও মুক্তি মেলেনি। ওই ছেলে বাড়ির সামনেও আসত, রাস্তায় ফলো করত। মুনিরা চুপচাপ সহ্য করত, কাউকে কিছুই বলত না। এমনকি জিহানকেও না। সে চাইত না, তার কারণে অন্য কারও অশান্তি হোক।
কিন্তু একদিন থেকে ফোনে আসতে শুরু করল একের পর এক ভয়ংকর মেসেজ। ব্ল্যাকমেইলের মতো, শ্লীলতাহানির মতো, কুৎসিত হুমকিতে ভরা। তবুও মুনিরা সেগুলো পাত্তা দেয়নি। ভেবেছিল সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে। এভাবেই চলতে চলতেই তো মুনিরা নিখোঁজ হয়ে গেল।
আলাদা ভাবে পুলিশ লাগিয়েছিল শ্রাবণ। সেই পুলিশের তদন্তে বের হলো, মুনিরার অতীতের সেই ভয়ংকর অধ্যায়ের সুত্রপাতেই আজকের এই অন্তর্ধান। জিহান তখনও কিছু জানত না। পুলিশই প্রথম বলে দিল এই সত্য। তদন্ত করে জানা গেছে মুনিরা নিখোঁজ হওয়ার দিনই তার ফোনে ব্লাকমেইল টাইপ মেসেজ এসেছিল। তাই প্রাথমিক ভাবে ধারনা করাই যায় যে সেই ছেলেই কিছু করেছিল। ভার্সিটিতে খবর নিয়েছে পুলিশরা। জানতে পেরেছে সেই ছেলের নাম সুফিয়ান। বড়লোক বাবার উচ্ছন্নে যাওয়া একমাত্র ছেলে। ছোট থেকেই বেপরোয়া, ছন্নছাড়া। আদরে বাঁদর হওয়া যাকে বলে। তবে সেও নিখোঁজ। কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাকেও। এ বিষয়ে সরাসরি শ্রাবণকেই জানালেন পুলিশরা।
শ্রাবণ যখন জানতে পারলো বিষয়টা, সে তখনও গাড়িতে। পাশে ধারা এখনো মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। জ্যাম ছেড়েছে মিনিটখানেক আগে। ধারার মাথা ঠান্ডা করতে সে আগে একটা ছোট্ট ক্যাফে তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কলে সম্পূর্ণ বিষয়টা জানার পরেও চুপ থাকলো শ্রাবণ। ধীরে সুস্থে ক্যাফে তে পৌঁছে ধারা কে ঠান্ডা জুস খেতে দিল। এরপর বললো,
—” তুমি একটু বোসো। আমি ওদিকটায় আছি। একটা ইম্পর্ট্যান্ট কল করব।”
ধারা মাথা নাড়ালো। শ্রাবণ স্বভাবসুলভ হেসে একপাশে এসে দাঁড়ালো। মমিনুর সাহেব কে কল করে পুরো বিষয়টা জানালো। ভদ্রলোক সবটা শুনে একটু অবাকই হলেন। ভয় তো পেয়েছেনই। তার জানামতে তার মেয়ে কখনোই এমন করে না। অন্তত কথা লুকোয় না। তবে এ বিষয়ে কেনো এমন হলো বুঝতে পারলেন না তিনি। ভেঙে পড়লেন খানিকটা। অনুনয় করলেন শ্রাবণের কাছে।
—” আমার মেয়ে টাকে খুঁজে এনে দাও শ্রাবণ। ও যা চাইবে,তাই হবে। ওকে জিহানের সাথে বিয়েও দেব। আমি কথা দিচ্ছি।”
শ্রাবণ মাথা নাড়লো। সে তো আগে থেকেই এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিল। কিন্তু মুনিরা কে খুঁজবে কোথায়। কোথায় পাবে। সবটা তো পুলিশের হাতে না দিয়ে উপায় নেই। সাধারন মানুষ শ্রাবণ! ওরকম গোপন কোনো ক্ষমতা নেই যে মুনিরা কে খুঁজে আনতে পারবে। তাই শ্রাবণ মমিনুর সাহেব কে শান্ত হতে বলে পুলিশের তদন্তের অপেক্ষা করতে বলল, আর আশ্বাস দিল যে সব ঠিক হয়ে যাবে।
জিহান সিগারেট খাচ্ছিল। এই কয়েকটা দিন তার যে কেমন কেটেছে সেটা সে ছাড়া আর কেও জানবে না। খাওয়া, ঘুম কোনো কিছু হয়নি। বেঁচে থাকতে শুধু পানি খেয়েছে। আর থমকে যাওয়া শরীর নিয়ে ঘরের এক কোণে পড়ে থেকেছে। আজও তার ব্যাতিক্রম নয় জিহান সিগারেট টেনে লম্বা ধোঁয়া ছাড়ল। শরীর থেকে শক্তি ঝরে গেছে পুরোপুরি। বিছানায় শোওয়ার মতো স্বাভাবিক আরামও যেন হারিয়ে ফেলেছে সে। রাতগুলোতে সে মেঝেতে পড়ে থাকত। অচল, নিস্তব্ধ হয়ে। বুকের ভেতর শুধু একটাই নাম প্রতিধ্বনি তুলে।
অসংখ্যবার ফোন হাতে তুলে নিয়ে আবার ফেলে দিয়েছে। টেবিলে রাখা এক প্লেট ভাত দুইদিন ধরেই একইভাবে শুকিয়ে শক্ত হয়ে আছে। অথচ সে স্পর্শও করেনি। জিহানের চোখ লাল হয়ে ফুলে গেছে অনিদ্রায়। সিগারেটের টুকরো চারপাশে ছড়িয়ে আছে, ঘরের ভেতর ভারী ধোঁয়ার গন্ধ জমে আছে। মেঝেতে শুয়ে থাকা সেই বিধ্বস্ত মানুষটা যেন এখন আর আগের জিহান নেই।কেবল এক ভাঙা, নিঃশেষ হয়ে যাওয়া শরীর, আর অন্তহীন দুঃখে ভরা এক আত্মা।
তবে আজ এতদিন পর তার ফোনে রিংটোন বেজে উঠলো। জিহানের মন চাইলো না কলটা ধরার। দেখলোও না কে কল করেছে। সে স্তব্ধ হওয়া চোখে তাকিয়ে রইলো ছাদের দিকে। দু তিনবার কল টা অনবরত বাজতে থাকলে সে মিইয়ে যাওয়া অচল হাত টা উঠিয়ে ফোনটা তুলল। চোখের সামনে নিয়ে দেখলো অচেনা নাম্বার। ধরতে মন না চাইলেও কি যেন একটা ভেবে সে কলটা ধরে কানের কাছে নিল।
ফোনটা কানে নিতেই প্রথমে কেবলই হালকা নিঃশ্বাসের শব্দ পেল জিহান। তারপর ভাঙা, কাঁপা এক কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
—” জি..হান.. আমি মুনিরা। আমাকে বাঁচাও.. জিহান,প্লিজ!”
কাঙ্খিত কন্ঠটা এতদিন পর শোনার সাথে সাথে যেন মৃতপ্রায় শরীরটাতে হঠাৎ প্রাণ ফিরে এলো। ছাদের দিকে স্থির হয়ে থাকা চোখদুটো জ্বলে উঠল তীব্র উত্তেজনায়। পুরো শরীরটা যেন বিদ্যুতের শক খেলো। জিহান এক লাফে উঠে বসে পড়ল মেঝে থেকে।
—” মুনিরা? জান! তুমি! কোথায় আছো তুমি? আমি এখনই চলে আসছি! একটুও ভয় পেয়ো না! কোথায় তুমি জান? বলো না কোথায়?”
জিহানের গলা কেঁপে উঠল, বুক ধকধক করতে লাগল অস্থিরতায়। যে মানুষটা এতদিন ধরে নিখোঁজ,তাকে হঠাৎ এইভাবে পাওয়া, বিশ্বাসই করতে পারছিল না সে। ওপাশ থেকে আবার ফিসফিস করে শোনা গেল,
—” জানোয়ারটা… আমাকে শেষ করে ফেলবে জিহান,…আমি মরে যাব। তুমি আমাকে ক্ষমা করো!”
কথাগুলো শোনার পর জিহানের হাত কাঁপতে লাগল। চারপাশের অন্ধকার, ধোঁয়ার গন্ধ, সবকিছু ভুলে গিয়ে সে শুধু একটাই কথা ভাবল যে মুনিরাকে বাঁচাতে হবে।৷ ফোনের ওপাশে নিঃশ্বাসের শব্দটা আরও কাঁপা কাঁপা শোনাচ্ছিল। জিহান ব্যাকুল হয়ে বারবার ডাকতে লাগল,
—” মুনিরা! ভয় পেও না। তুমি কোথায় আছো? ঠিকানা বলো! আমি এখনই বের হচ্ছি।”
ওপাশে মুনিরার কণ্ঠ আরও ম্রিয়মাণ হয়ে এলো, যেন কারো চাপে গলা আটকে আসছে,
—” জিহান…প্লিজ… তাড়াতাড়ি…!”
এরপর আচমকাই একটা ধাক্কার শব্দ, কারো রূঢ় চিৎকার আর ভাঙা চেয়ারের মতো শব্দ কানে এলো। তারপর, হঠাৎ ফোনটা কেটে গেল।
শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৩২
“হ্যালো? হ্যালো মুনিরা!” চিৎকার করে উঠল জিহান। ফোনটা হাতে কাঁপতে কাঁপতে আবার রেডায়াল করল, কিন্তু স্ক্রিনে ভেসে উঠল ‘Number Unreachable’। এক মুহূর্তে যেন পৃথিবীটা স্থির হয়ে গেল। বুকের ভেতর জোরে ধুকপুক করতে লাগল, ঘরের চারপাশে যেন শ্বাস নেওয়া দায় হয়ে উঠল। সে মরিয়া হয়ে ফোনটাকে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে মাথা চেপে ধরল। না, আর দেরি করা যাবে না। মুনিরাকে আমি খুঁজে বের করতে হবে, যেভাবেই হোক।
