Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ১৪

সে খলনায়ক পর্ব ১৪

সে খলনায়ক পর্ব ১৪
ফারহানা সানিয়াত

গেস্ট হাউজে‌ দামিয়ানের বেড রুমে জানালার ধারে
আর্ট করার জন্য ক্যানভাস সেট করা, পাশে টেবিল নানান রঙের এক্রলিক রং সাথে রং তুলি যা প্রাণপ্রিয়া এত বছর ধরে ড্রইং করার পরও এত কিছু তার কাছে নেই যা এখানে আছে। প্রাণপ্রিয়া নার্ভাস হয়ে দাঁত দিয়ে নখ কাটা শুরু করে এমনিতেই তার অস্বস্তিতে ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে দম ফেলতে কষ্ট হচ্ছে কারণ কিছুক্ষণ আগে দামিয়ান যখন তাকে জিজ্ঞেস করে এখানে কি দাঁড়িয়ে থাকার জন্য এসেছ তার তো যায় যায় অবস্থা হয়ে গিয়েছিল কিন্তু ভাগ্যক্রমে তখনই দামিয়ানের ফোন আসাতে তাকে গম্ভীর কণ্ঠে এই বেডরুমে ঢুকতে বলে সে বাহিরে চলে যায়। কিন্তু সে আর্ট করবে কিভাবে তার তো মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে।

দামিয়ান গেস্ট হাউজের বাহিরে রাশিয়ান ভাষায় ফোনে কারো সাথে কথা বলা শেষ করে আবার গেস্ট হাউসে ঢুকে,,
প্রাণপ্রিয়া ঠোট কামড়ে দাড়িয়ে সে কি করবে ,কি করবে ভাবছে তবে হঠাৎ দরজা খোলার শব্দে সামনে তাকাতে ই দামিয়ান‌কে দেখে বুকটা তার আবার ধক করে উঠে সাথে সাথে মাথা নত করে ফেলে,,
না‌ না স্বাভাবিক থাকতে হবে,,কিছুর করার নেই এখানে বসে আর্ট করতেই হবে মানে তার স্বাভাবিক থাকতে মনে মনে নিজেকে বুঝাতে থাকে প্রাণপ্রিয়া।
দামিয়ান দৃষ্টি প্রানপ্রিয়ার দিকে রেখে ঘরের সিঙ্গেল সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে,, জানালা ধারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণপ্রিয়ার মুখে স্পষ্ট অস্বস্তি সাথে পুরো শরীরের ছটফট ভাব, দামিয়ান মনে মনে মৃদু হাসে চোখে ভেসে ওঠে এই মেয়ের আবেদনময়ী প্রথম দেখা রূপ যা এখন ঢেকে আছে ,,,
এমন কিছু আর্ট করো যা আমার এক দেখায় ভালো লাগে। দামিয়ানের গম্ভীর কন্ঠ,
প্রাণপ্রিয়া মাথা নত করা অবস্থাতে দ্রুত উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে জিজি বলে তার কাঁধের ব্যাগ থেকেপ্রয়োজনীয় রং ‌,রং তুলি আর ফোন কাঁপা কাঁপা হাতে বের করে পাশের টেবিলের উপর রাখে।
দামিয়ানের দৃষ্টি গভীর হয় সামান্য এই আশ্রিতা মেয়ের প্রতি তার দিন দিন আকর্ষণ খুব বিরক্ত তবে খারাপ না অপ্রয়োজনীয় হলেও সে এই মেয়েকে তার সামনে চেয়েছে কারণ তার অস্বস্তি সে উপভোগ করতে চায় যেন ‌এটা এক ধরনের বিনোদন।

প্রাণপ্রিয়া এসির শীতল হাওয়াতেও ঘামছে খুব আস্তে ধীরে নিজের ব্যবহৃত রং তুলি দিয়ে ই কি কিভাবে আর্ট করবে ভেবে ভেবে রং মিক্স করছে নতুন কোনো কিছুই ধরছে না সে অতিরিক্ত নার্ভাস তারমধ্যে ঘাড় গুড়ালেই বরাবর দামিয়ান বসা তাই তার চোখ শুধু সোজা ক্যানভাসে আশেপাশে কি হবে কোনো দিকে তাকাবে না মনোযোগ দিয়ে আর্ট করবে আর এখান থেকে কেটে পড়বে।
দামিয়ান তার সামনে টেবিলে উপর রাখা আইপ্যাড নিয়ে স্ক্রোল করা শুরু করে সাথে প্রাণপ্রিয়া কেও দেখে, আর এর মাঝে কেটে যায় ঘন্টাখানেক সময়,,
মনোযোগ দিয়ে প্রাণপ্রিয়া তার আর্ট কমপ্লিট করে ডাগর ডাগর চোখ দিয়ে দেখে রং তুলে দিয়ে কিছু কিছু জায়গা ঠিক করে,ভেতর ভেতর সে ঘন্টাখানেক পার হওয়ার পর ও বিরক্তিকর নার্ভাসনেস অস্থিরতায় ভুগছে তবে আপাতত ঘরে দামিয়ান নেই কেটে যাওয়া সময়ের মধ্যে সে অনেকবার বাইরে গিয়েছে আবার ভেতরে এসেছে, প্রাণপ্রিয়া কোমড়ে হাত দিয়ে বলে ,, যা হয়েছে হয়েছে পছন্দ হলে হবে না হলে নেই,,

___ কিন্তু আমার পছন্দ হয়েছে, ভারী গলায় পিছন থেকে বলে ওঠে দামিয়ান,
সাথে সাথে প্রাণপ্রিয়ার চোখ বড় বড় হয়ে হাত থেকে রং তুলি নিচে পড়ে যায়।
দামিয়ান আস্তে আস্তে প্রাণপ্রিয়ার অনেকটা কাছে গিয়ে হালকা ঝুঁকে প্রাণপ্রিয়ার ঘাড়ের পাশ থেকে ক্যানভাসে দিকে তাকায়,,
সবুজ ঘাসে ভরা জায়গায় একটা মেয়ে হাতে কিছু ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে, এখানে খেয়াল করলে বোঝা যাবে আর্ট করা মেয়েটা কিছু টা সারার মত ,
এদিকে দামিয়ান কে নিজের এতটা কাছে দাঁড়াতে দেখে প্রাণপ্রিয়া এতক্ষণ যতটা না অস্বস্তি বোধ করছিল এখন মনে হচ্ছে নিঃশ্বাস সত্যিই বন্ধ হয়ে যাবে,
দামিয়ান ক্যানভাস থেকে চোখ সরিয়ে এক নজর
প্রাণপ্রিয়া কে দেখে সে বাঁকা হাসে ইচ্ছে করে আরো একটু ‌কাছে দাড়ায় এরপর তার শরীর স্মেল নেয়,
প্রাণপ্রিয় কেঁপে ওঠে দ্রুত সরে যেতে নিলে দামিয়ান হাত দিয়ে পথ আটকে দেয়,,তখনই দরজায় নক, স্যার আসবো?
দামিয়ান কিছুটা বিরক্ত হয়ে সরে দাঁড়ায় হুম কাম ইন,,
দামিয়ানের অনুমতি পেয়ে একজন সার্ভেন্ট হাতে ট্রেতে করে কিছু একটা নিয়ে এসে টেবিলের উপরে রেখে আবার চলে যায়।

প্রাণপ্রিয়া কাঁপছে সে চোখ বন্ধ করে ঠোঁট এত জোরে কামড়ে ধরেছে যে রক্ত বের হয়ে যাওয়ার মত,
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়াকে এক নজর দেখে তার সিঙ্গেল সোফায় গিয়ে আবার পায়ের উপর পা তুলে বসে আপাতত প্রাণপ্রিয়ার অবস্থা তাকে বিনোদন দিচ্ছে,
,তোমার আর্ট দেখে আমি ইম্প্রেস আমার এক্সপেক্টেশন থেকেও ভালো আর্ট করেছ এর জন্য তোমাকে মূল্য দেওয়া হবে তবে মূল্য ছাড়া ও তোমার জন্য কিছু আছে,,
প্রাণপ্রিয়া জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে চোখ খুলে তাকায় তার ইচ্ছে করছে দৌড়ে এখান থেকে চলে যেতে, ভেতরে তার ভয় অস্বস্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে মুখ দিয়ে কথা বের হওয়া মুশকিল তবুও কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে,,জিজি ধন্যবাদ,, বলেই দ্রুত হাতে কোনমত ব্যাগের ভেতর রং আর রং তুলি পরিষ্কার না করেই ঢুকিয়ে মাথা নত করে ঘুরে দাঁড়ায়,,
দামিয়ান বুকে হাত গুজে ঘাড় হালকা কাত করে বলে,

__ সামনে এসে বসো,
হাতের ব্যাগটা শক্ত করে ধরে শুকনো ঢোক গিলে প্রাণপ্রিয়া। মনে মনে নিজেকে আর কিছুক্ষণ থাকার সাহস দেয় এরপর ধীর পায়ে দামিয়ানের বরাবর সোফায় বসতেই দামিয়ান টাকার খাম প্রাণপ্রিয়া র কোলে ছুড়ে মারে।
প্রাণপ্রিয়া ঠোট কামড়ে ছুরে দেওয়া টাকার খামটার দিকে তাকিয়ে ভীষণ অপমান বোধ হয়,, তার মাথায় আসে আশ্রমে বলে সুফিয়া আন্টির কথা যে বলেছিল বড় সাহেবের মত তার ছেলে ও দয়ালু।
__ তোমার জন্য ট্রেতে কিছু ‌রাখা আছে,
প্রাণপ্রিয়া টাকার খাম‌ থেকে চোখ তুলে এক নজর দামিয়ান কে দেখে সামনে টেবিলে রাখা ট্রের দিকে তাকায় তার ইচ্ছে করছে না ট্রের কি দেখার কিন্তু না পারতে কাঁপাকাঁপা হাতে ট্রের উপর থেকে ঢাকনা সরাতে ই প্রাণপ্রিয়া অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে,, আইসক্রিম!
দামিয়ানের দৃষ্টি প্রানপ্রিয়ার দিকেই সে তার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষাতে ছিল তার মনে আছে কাল ডক্টরের ছেলের সাথে এই মেয়ে খুব হাসি খুশির সাথে আইসক্রিম খাচ্ছিল কিন্তু এখন এই প্রতিক্রিয়া!
প্রাণপ্রিয়া জিভ দিয়ে ঠোট বেজায় কাল ইভানের সাথে অনেকগুলো আইসক্রিম খাওয়ার ফলে রাতে খুব গলা ব্যথা ছিল এখন আবার এই আইসক্রিম!!

__ বসে আছো কেন? দামিয়ানের প্রশ্ন
প্রাণপ্রিয়া আইসক্রিম থেকে চোখ সরিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বাসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,আ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কিন্তু আমি এই আইসক্রিম খেতে পারব না দুঃখিত আআমার গলায় সমস্যা আছে ।এখন তাহলে আমি যাই ‌বলেই প্রাণপ্রিয়া চলে যেতে নিলে,,
দামিয়ান বলে ওঠে,, আমি কি যেতে বলেছে?
প্রাণপ্রিয় থেমে দামিয়ানের দিকে তাকায়,দামিয়ানের শীতল দৃষ্টি,,বসো ,,
দামিয়ানের গম্ভীর কন্ঠ শীতল চাহনি দেখে ভীত হয়ে প্রাণপ্রিয়া আবার নিজের জায়গায় বসে পড়ে,,
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়া অস্থিরতা উপভোগ করলে আপাতত তার মাথায় আসছে তার দেওয়া আইসক্রিম এই আশ্রিতা না করছে ,,

__ খাও!
প্রাণপ্রিয়ার মনে মনে ‌ বিরক্ত হয় কিন্তু তার বিরক্ত প্রকাশ করা সম্ভব না তবে ঠিক আছে আইসক্রিম খেয়ে নাহয় গলা ব্যথা হোক এই ভয় আর অস্বস্তি থেকে তো বের হতে পারবে, প্রাণপ্রিয়া হাত বাড়িয়ে চকলেট ফ্লেভার ‌ আইসক্রিম নিয়ে মাথা নত করে চুপচাপ খাওয়া শুরু করে।
সামনে বসা দামিয়ান তার খাওয়া দেখে বাঁকা হাসে তার কিছু যায় আসে না এই মেয়ের ‌ গলা ব্যাথা নিয়ে তার কাছে তার কথা মান্য করতে হবে এটাই আসল।
প্রাণপ্রিয়া দ্রুত নিজের খাওয়া শেষ করে বসা থেকে উঠে বলে,, এবার আমার যাওয়া উচিত বলেই তার ব্যাগ নিয়ে আরএক মুহূর্ত দাঁড়ায় না দ্রুত ‌পায়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

সে খলনায়ক পর্ব ১৩

সেই সকালের দিকে প্রাণপ্রিয়া আবরার ম্যানসনের এ গিয়েছিল তবে আশ্রমে ফিরতে ফিরতে বেলা দুপুর গড়িয়ে এখন বিকেল বিকেল ভাব,,
সে আশ্রমে এসে সোজা নিজের ঘরে দিকে চলে যায়। নিচে আশ্রমের বাকিরা নানান প্রশ্ন করে কিন্তু উত্তর দেয়না। কেনো যেনো কিছু ই ভালো লাগছে না ভেতর টা কেমন টিপ টিপ করছে তাই নিজের ঘরে এসে ব্যাগ রেখে বিছানায় চুপচাপ শুয়ে পড়ে আর ভাবে এটাই শেষ ছিল ওই লোকের সামনে যাওয়া এরপর ভুলেও যাবে না।
অন্যদিকে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে দামিয়ান হাতে কালো রঙের একটা ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে যেখানে প্রাণপ্রিয়ার হাসি উজ্জ্বল ছবি জল জল করছে,,দামিয়ান বাঁকা হাসে এর মানে ওই আশ্রিতা কে আবার আসতে হবে ভুলে রেখে যাওয়া ফোনের জন্য।

সে খলনায়ক পর্ব ১৫