Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ৪৩

সে খলনায়ক পর্ব ৪৩

সে খলনায়ক পর্ব ৪৩
ফারহানা সানিয়াত

ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি নিয়ে প্রানপ্রিয়ার গলায় পেঁচনো স্কার্ফ টা ছেড়ে দেয় দামিয়ান। প্রানপ্রিয়া চোখ বন্ধ রেখে ই ঘনঘন নিঃশ্বাসের সাথে কম্পিত হাত দিয়ে গলার স্কার্ফ টা ঢিলে করে। দামিয়ান তার থেকে সরে উঠে দাঁড়ায় এরপর ঘুরে ড্রেসিং টেবিলের কাছে এগিয়ে যায়।
__ জোর জরবস্তি করা আমার পছন্দ না। এখন যা হবে মেনে নিবে। নিজের থেকে তুমি এসেছ, বাধ্য হয়ে আর যাইহোক সেটা আমার দেখার বিষয় না।
শার্টের হাতার বোতাম খুলতে খুলতে দামিয়ান।আয়নায় প্রানপ্রিয়ার দিকে চেয়ে বলল।

প্রানপ্রিয়া চোখ বন্ধ করে সেভাবেই শুয়ে আছে। নড়াচড়া করছে না। করবে কি করে এক ফোঁটা শক্তি ও যে নেই শরীরে এবং মনে, মস্তিষ্ক শূন্য, কি হবে? কি হবে তার সাথে এখন ভেবে ই গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। ব্যথা করছে তখন পিছিয়ে ধরার জন্য। উপরওয়ালা এমন কেনো রাখল ভাগ্যে! জীবিত থেকে কি আজ সে মরন যন্ত্রণা সইবে?
দামিয়ান এখনো আয়নায় প্রাণপ্রিয়া কে দেখছে। সে হাতার বোতাম গুলো খোলা শেষ করে বুকের বোতাম গুলোও খুলে শরীর থেকে শার্ট খুলে ফেলে। এতে প্রকাশ হয় তার জিম করা ,ফর্সা ,আকর্ষণীয় লোমহীন চওড়া শরীর। সে ঠোঁটে বাঁকা হাসি বজায় রেখে ঘুরে প্রাণপ্রিয়ার দিকে পা বাড়ায়।
প্রানপ্রিয়া ধীরে ধীরে চোখ খুলে। দামিয়ান তার দিকে আসছে ,সে বুঝতে পারছে, ভেতরে তার চিপ খেয়ে এবার দম বন্ধ হওয়া যাওয়ার মত ।
দামিয়ান তার কাছে এসেছে থেমে কিছুক্ষণ লালসা দৃষ্টিতে পা থেকে মাথা অব্দি দেখে অতঃপর আচমকা তাকে কোলে তুলে নেয়।
প্রানপ্রিয়া চমকে উঠে হাত পা ছুটোছুটি শুরু করে। কান্না মাখা কন্ঠে এত বড় সর্বনাশ না করার আকুতি মিনতি করে।
দামিয়ান বিছানার কাছে গিয়ে বিছানায় এক হাঁটুর ভর দিয়ে ঝুঁকে প্রানপ্রিয়াকে শুইয়ে দেয়।
প্রানপ্রিয়া কাঁদছে, করুন কান্না তার।
দামিয়ান শান্ত ভঙ্গিতে তার পাশে বসে। দৃষ্টি তার চোখে দিকে নিবদ্ধ । প্রানপ্রিয়া না সূচক মাথা নাড়ায় কিছু করতে না বুঝায় তাকে।

__ আমি অবশ্যই করবো লিটল বার্ড, সে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। সম্পূর্ণ অধিকার আছে তোমার প্রতি এখন, তুমি আমার। তুমি সর্বনাশী হলেও আজ থেকে এটা তোমার কর্তব্য, এখন তুমি যদি তোমার কর্তব্য পালন না করো তাহলে আমি যে দায়িত্ব নিয়েছি সেটা ভুলে যেতে হবে। অবশ্যই তুমি এটা চাও না।
প্রানপ্রিয়া চোখ বুজে অন্য দিকে ঘুরে সে অসহায়, কতটা অসহায় করে তুলেছে তাকে, মাফ করবে না, কখনো ও না।
দামিয়ান হাসে, সে প্রানপ্রিয়ার গলা থেকে স্কার্ফ খুলে
তার হাত বাঁধে। আজ আমি তোমার আর্তনাদ শুনতে চাই লিটল বার্ড। আমার স্পর্শ তোমাকে ক্ষত বিক্ষত করবে তবে চিন্তা করো না শোনার মত এখানে কেউ নেই।
দামিয়ান তার বাঁধা হাত দুটো এক হাত দিয়ে তার মাথার উপর বিছানায় সাথে চেপে ধরে। এরপর আরেক হাত দিয়ে তার গাল চেপে নিজের দিকে ঘুরায়।

__ তাকাও আমার দিকে প্রতি মুহূর্তের ছটফট তোমার চোখে আমি দেখতে চাই ।
প্রানপ্রিয়া চোখ খুলে তবে তার চোখে ছিল ভয়ংকর ঘৃণা।
দামিয়ান কামুক দৃষ্টিতে তার গাল ছেড়ে গাল থেকে ঠোঁট এরপর গলায় স্লাইড করতে করতে তার বুক পর্যন্ত আসতেই পাগলের মত তার শার্টের বোতাম টেনে খোলা শুরু করে। প্রানপ্রিয়া তার ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে সে নিজেকে বাঁচাতে পারল না, পারল না সে।
__ Don’t worry little bird will satisfy you,
সে তার শার্ট এবং অন্তর্বাস খুলে ফ্লোরে ছুড়ে ফেলে। নেশালো দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ অতঃপর বুকের মাঝে স্লাইড করতে করতে ঠোঁটের কাছে এগিয়ে ফিসফিস করে,

__ আমার ভাবনার থেকে ও বেশি আকর্ষণীয় তুমি।
প্রাণপ্রিয়ার শরীর থর থর করে কাঁপছে। লজ্জায়, ঘৃণায় চোখ সরাতে চাইলেও সরাতে পাচ্ছে না। সত্যিই তার চোখ দুটো ছটফট করছে আর দামিয়ান এটা দেখে উত্তেজনায় উম্মাদ।
দামিয়ান তার স্কার্টের ভেতর হাত প্রবেশ করে , সঙ্গে সঙ্গে প্রানপ্রিয়া নাহ বলে চিৎকার দিয়ে শব্দ করে কান্না শুরু করে দেয় । ছুটার জন্য পাগল হয়ে উঠে, না চাইতেও উত্তেজনার অনুভূতিতে শরীর মুচড়িয়ে ওঠতে ই তার ঠোঁট দুটো দামিয়ান দখল করে নেয়।
সে সহ্য করতে পারে না এই বাজে অনুভূতি। মরন দেয় না কেনো উপরওয়ালা তাকে? দামিয়ান তার শরীরের ভর আস্তে আস্তে তার ওপর দিচ্ছে । সে তার হাত দুটো এত শক্ত করে ধরে আছে প্রানপ্রিয়া আরো অধৈর্য হয়ে পড়ে। দামিয়ান তার ঠোঁটে চুম্বনের বদলে কামড় দিচ্ছে, কেটে রক্ত বের হচ্ছে সে শুষে নিচ্ছে। কিছুক্ষণ এভাবেই চলে অতঃপর সে ধীরে ধীরে তার বুকের কাছে যেতেই পাগলামো আরো যেন বেড়ে যায়। সে এখানে আকৃষ্ট ছিল আগে থেকে ,তার বুকে তার এক হাত বিচরণ করে শক্ত হাতে চাপ দিচ্ছে।
প্রানপ্রিয়া নিজেকে সামলাতে পারছে না বাজে অনুভূতি হলেও তার প্রথম ছিল। পাগল হয়ে যায় নিজের হাত ছুটানোর জন্য অস্পষ্টভাবে ফিসফিস করে,

__ খুলে দিন, খুলে দিন দয়া করে,
দামিয়ান মাথা তুলে তার দিকে তাকায়। প্রানপ্রিয়া চাহনি বদলে গেছে। ঘনঘন শ্বাস ফেলছে, মন না চাইলেও শরীর তার এখন কাবু। দামিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে, হাতে বাঁধন খুলে দেয়। আবারো তার ঠোঁট থেকে বুক বা যেখানে খুশি সেখানে তার ঠোঁটের স্পর্শ পড়ে, কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে। প্রানপ্রিয়ার দৃষ্টি উপরে সিলিংয়ের দিকে চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে মুখে করুন আর্তনাদ । প্রতি আর্তনাদের সাথে দামিয়ানের পিঠে তার নখের আঁচড়।
নিস্তব্ধ ঘরে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার শব্দের সাথে হাহাকার। প্রানপ্রিয়া সাহায্য করতে পারেনি নিজেকে তার প্রতিটা ক্রিয়াকলাপে দৃঢ়ভাবে ওপরের দিকে চেয়ে ছিল।
__ আমি তোমাকে চাই, আরো গভীরভাবে চাই, দামিয়ান হাঁপিয়ে ফিসফিস করে বলল। দুজনের শরীর থেকে অবশিষ্ট যা জামা কাপড় ছিল তাও খুলে ফেলল।
প্রানপ্রিয়ার চোখ মুখ লাল হয়ে পুরো শরীর থেকে তাপ বের হচ্ছে চিৎকার দিয়ে কেঁদে ওঠে, মস্তিষ্কে চিন্তাভাবনা সব ঘোলাটে হয়ে যায়। কাঙ্খিত মুহূর্ত দামিয়ানের এত দিনের অপেক্ষা চাওয়া আজ পুরন হচ্ছে। সে অবশ্যই এক চুল ও ছাড় দিবে না ।সে গভীর ভাবে অনুভব করছে তাকে অনেকটা গভীরভাবে সে আবারো স্কার্ফ গলায় পেঁচিয়ে ধরে। তাকে আনন্দ দিচ্ছে এই মুহূর্ত।

__ you’re mine, you’re mine my little bird, তার ওপর ঝুঁকে হাঁপিয়ে বলল।
প্রানপ্রিয়া যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, তাকাতে পারছে না শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে। কিছু বলতে চাইলে দামিয়ান স্কার্ফের পেচ আরো শক্ত করে ধরছে।সে দেখছিলো তাকে কষ্ট দিয়ে কতটা আনন্দ অনুভব করছিল এবং কতটা লালসা নিয়ে তাকে ভোগ করছিল।
দামিয়ান তার কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার মাঝে তার ক্ষতবিক্ষত ঠোঁট জোড়া আবারো ক্ষতবিক্ষত করে।
তবে সময়ের সাথে প্রানপ্রিয়া শরীর এসব আর নিতে পারছিল না সে আস্তে আস্তে জ্ঞান শূন্য হয় নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
এরপর,, এরপর তার আর কিছু জানা নেই, কোনো কিছু মনে নেই, একটা বড় রাত কিভাবে কেটে যায় বা দামিয়ান আর কি করেছিল কিছু মনে নেই।

ধরণীতে পূর্ব আকাশে সূর্য উঠেছে অনেকক্ষণ হলো। বাহিরে সবুজ প্রকৃতিতে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ হালকা শীতল বাতাসে গাছের পাতা হেলে দুলে নড়ছে। প্রানপ্রিয়া বিছানায় শুয়ে আছে। তার নগ্নদেহে বুক পর্যন্ত ব্ল্যাঙ্কেট দেওয়া।, জানালার কাঁচ ভেদ করে সূর্যের আলো তার চোখে মুখে এতে ফর্সা মুখ টা হালকা কুচকে উঠছে ।চোখ থেকে ঘুম সরিয়ে ধীরে ধীরে খোলার চেষ্টা করলো। শরীরে প্রচন্ড পরিমান ব্যাথায় নড়তে পারছে না। নড়বে কিভাবে জানোয়ার খুবলে খেয়েছে তো। চোখের কোণ ভিজে উঠছে তার, মস্তিষ্কে চাড়া দিয়ে উঠছে কাল রাতের ভয়ংকর স্মৃতি। সে চারপাশ চোখ বুলায় সুবিশাল বড় কামরা তার কাছে জাহান্নাম মনে হচ্ছে। আশেপাশে কেউ নেই , কেউ না, সে একা। ধীরে ধীরে ব্ল্যাঙ্কেট বুকে চেপে শোয়া থেকে উঠে ফ্লোরে পড়ে থাকা তার জামাকাপড় গুলো এক নজর দেখে এরপর কোন মত বিছানা থেকে নেমে করে কাপড় গুলো নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে ঝর্নার নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। এরপর কম্পিত হাতে ঝর্না ছাড়তেই উষ্ণ জল গায়ে স্পর্শ হতে সাথে সাথে জায়গায় জায়গায় কলিজা ছিড়ে যাওয়ার মতো যন্ত্রণা অনুভব করে ।সে আয়নার দিকে ঘুরে তাকায়। তার দাগহীন ত্বকে হিসাবে ছাড়া কালচে ছোপ ছোপ দাগ গলায় স্কার্ফ পেঁচানো কারনে ও দাগ হয়ে গেছে। ঠোট ফুলে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। নিজের এরূপ দশা দেখে চিৎকার দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ে প্রানপ্রিয়া ঝর্ণার জল পড়ার সাথে তার করুণ চিৎকার চার দেয়ালের মাঝেই রয়ে যায়।
__ কেনো আমার কেউ নেই? কেনো এই অসহায়ত্ব আমাকে এই জায়গায় দাঁড় করালো?কেনো ? কেনো? কেনো? ছাড়বো না আমি তাকে কখনো ও ছাড়বো না এর থেকে বেশি সে অসহায়ত্ব বোধ করবে সে।

ঘড়িতে সময় কয়টা জানা নেই। শীতকাল বলে রৌদ্র ছাড়া পরিবেশ বেলা গড়িয়ে সকাল নাকি দুপুর বোঝা যাচ্ছে না। প্রানপ্রিয়া হাসপাতালের গেটের কাছে এসে দাঁড়ায়। তার শরীর চলছে না তবুও ফার্ম হাউস থেকে সোজা এখানে এসেছে আন্টির সাথে দেখা করে এরপর আশ্রমে ফিরবে। যাইহোক সে ধীর পায়ে হাটা ধরে,
পাঁচ তলায় ৫০৭ নম্বর রুমে সেলিনাকে রাখা হয়েছে। লিফট দিয়ে ওঠার ফলে প্রাণপ্রিয়া মিনিট খানেকের মধ্যে পাঁচ তলায় চলে আসে।, এরপর করিডোরে হাঁটতে থাকে । তার পড়নে আগের জামা চুলগুলো ভেজা বেঁধে রেখেছে, মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে। রাত থেকে না খাওয়া ঘুমও ঠিকমতো হয়নি পা চলছে না শরীর মন দু’জায়গায় বেশ দুর্বল তারমধ্যে পেট ব্যথা সাথে কেমন মোচড় দিয়ে উঠছে।
সে হাঁটছে, হাঁটতে হাঁটতে যখন রুমের অনেকটা কাছে চলে আসে আকম্মিক তার পা দুটো থেমে চোখ বড় বড় হয়ে দেয়ালের সাথে হাত ঠেকিয়ে দাঁড়ায়।
কালো পোলা টি-শার্টের সাথে ফরমাল প্যান্ট ফরমাল গেটাপ। চুলগুলো সেট করে রাখা এক হাতে ফোন আরেক হাত পকেটে গুজে ডক্টরদের সাথে কথা বলছে দামিয়ান ।পাশে তার নিলয় দাঁড়িয়ে।
প্রানপ্রিয়ার শরীর কাঁপছে, ঠান্ডার মধ্যেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম শরীর জ্বলে যাচ্ছে তার চোখ মুখ শক্ত হয়ে উঠেছে।
এদিকে রহমান সেলিনা রুম থেকে বের হয়ে প্রাণপ্রিয়াকে দেখতে পেয়ে তিনি অত্যন্ত হাসি মুখে তার কাছে এগিয়ে বলা শুরু করেন,

__ উপরওয়ালা মুখ ফিরে চেয়েছেন প্রিয়া মা। এখন থেকে ফান্ডের টাকা না। ছোট সাহেব নিজ সেলিনার সকল দায়িত্ব নিয়েছেন আরো ভালো হাসপাতালে স্থানান্তর করবেন ভালো চিকিৎসার জন্য কথা বলতে এসেছেন তিনি।
প্রানপ্রিয়া দামিয়ানের দিকে দৃষ্টি রেখে পরনের স্কার্ট টা খিচে ধরে। মনের ভেতর তার ঝড় হয়ে যাচ্ছে না সহ্য হচ্ছে, না কিছু বলতে পারছে ।
রহমান প্রানপ্রিয়ার কাঁধে হাত রাখেন খুশি মনে কথা গুলো বলার মাঝে প্রাণপ্রিয়া শুকনো মুখটা এত খেয়াল করেনি কিন্তু এখন,

__ তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন প্রিয়া? তুমি কি অসুস্থ?
প্রানপ্রিয়া দৃষ্টি সরিয়ে রহমানে চিন্তিত মুখটা দেখে,
__ আমি ভালো নেই আঙ্কেল, ভেতরটা চুরমার হয়ে গেছে। শরীর জ্বলে যাচ্ছে, মৃত্যুকে বারবার ডাকতে ইচ্ছে করছে। কথা গুলো মনে মনে বললেও মুখে কিঞ্চিৎ হাসি নিয়ে বলে,
__ না ঠিক আছি,
__ কিন্তু তোমাকে দেখে তো লাগছে না। আর ঠোঁটে কি হয়েছে তোমার?
প্রানপ্রিয়া ইতস্ত ভঙ্গিতে দৃষ্টি লুকিয়ে ঠোঁট হাত দিয়ে ঢেকে মাথা নত করে।
__ ব্য,,ব্যাথা পেয়েছি,
রহমান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকে অতঃপর হা করে শ্বাস ফেলে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন।
__ মানুষ জন্ম থেকে মনের দিক দিয়ে শক্ত হয় না প্রিয়া। পরিস্থিতি তাদের শক্ত এবং শক্তিশালী করে তুলে। তুমি যত ভাঙ্গবে তুমি তত শক্তিশালী হবে। সেলিনা কে নিয়ে চিন্তা করো না এবার সব ঠিক হয়ে যাবে।
প্রানপ্রিয়া চোখ দুটো ছল ছল করে উঠে মাথা নত অবস্থায় উপর নিচ মাথা নাড়ায়।

__ এখন আমার সাথে চলো তো, আমাদের অবশ্য ছোট সাহেবকে ধন্যবাদ বলা উচিত। রহমান প্রানপ্রিয়ার হাত টেনে এগিয়ে যান।
প্রানপ্রিয়ার ভেতরটা ধক করে ওঠে, চোখমুখ শক্ত করে ফেলে সে।
দামিয়ানের সাথে ডক্টরদের কথা শেষ হলে তারা নিজ কাজে আবার চলে যান। দামিয়ান হাত ঘড়িতে এক নজর দেখে অতঃপর নিলয় কে কিছু বলতে নিবে তখনি রহমান সামনে এসে দাঁড়ান।
__ অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ছোট সাহেব। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনি সাহায্য না করলে সেলিনাকে বাঁচানো সম্ভব হতো না।
দামিয়ানের মুখ ভঙ্গি শান্ত, সে রহমানের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তার পিছনে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে প্রাণপ্রিয়াকে দেখে।
__ তার অসহায় সাদা গোলাপ , মনে মনে হাসে দামিয়ান।
রহমান প্রানপ্রিয়াকে আস্তে করে বলে,

__ ধন্যবাদ বলো প্রিয়া তোমার আন্টির এত বড় সাহায্য করলেন।
প্রানপ্রিয়া চুপ, না নড়াচড়া করছে , না মাথা তুলে তাকাচ্ছে, না কিছু বলছে ,শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে।
দামিয়ান ঠোঁট কামড়ে ধরে তার এখনো একগুঁয়ে জেদ দেখে। এতো কিছুর পরও সে তার সাহস ভাঙতে পারেনি। তবে খারাপ না অপছন্দনীয় জিনিস আজকাল ভালো লাগে আরো আকর্ষণ অনুভব করে। তার সব ধরনের প্রতিক্রিয়াতে সে ইমপ্রেস ছিল।
রহমান প্রানপ্রিয়াকে ধমকে উঠেন, প্রানপ্রিয়া তো বেয়াদব নয় তাহলে এখন এমন করছে কেনো?
__ কোনো প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন ।কাল নিলয় আসবে ট্রান্সফারের ব্যবস্থাতে সে সাথে থাকবে।
দামিয়ান প্রানপ্রিয়ার দিকে সরু দৃষ্টি রেখে কথাগুলো বলল।
রহমান আবারো তাকে ধন্যবাদ জানায় এরপর আরো কিছু বলতে নিবে তৎক্ষণাৎ একজন নার্স তাকে ডাকা শুরু করেন।
সে তাড়াহুড়ো পায়ে চলে যান। প্রানপ্রিয়া এখনো একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে।
দামিয়ান হালকা ঘাড় কাত করে ফিচেল হাসে,

__ দুঃখজনক ব্যাপার, বলে সে চুক চুক শব্দ করলো।
এত চাপ নিতে হবে না এখন, প্রয়োজন নেই তোমার ধন্যবাদের।
প্রানপ্রিয়ার চোয়াল শক্ত করে ঘনঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
দামিয়ান তার দিকে দু কদম পা বাড়ায় এরপর হালকা ঝুঁকে ফিসফিস করে,
__ রেস্ট নেও, কিছুদিন সময় দিলাম পরে না হয় নিজের মতো করে ধন্যবাদ নিয়ে নিব।
দামিয়ান ঠোঁটে হাসি বজায় রেখে সোজা দাঁড়ায় তাকে পূর্ণ দৃষ্টিতে দেখে এরপর তার দিকে হাত বাড়ায়।
প্রানপ্রিয়া এবার ভীত হয়ে সরে যেতে নেয়। তবে দামিয়ান তার বাঁধা ভেজা চুলগুলো টান মেরে খুলে ফেলে।
__ খোলা রাখবে,
সে বলে, অতঃপর তার পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
প্রানপ্রিয়া শরীর এবার আর ধরে রাখতে পারছে না। তার আশেপাশের সব ঘুরছে, ঝাপসা হয়ে আসছে, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কোনমতে পা বাড়ানোর সে শক্তি যোগায় কিন্তু শরীর যেনো কুলিয়ে উঠতে পারে না সেখানে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়।

গার্ডেনে বাগানের কাছে বসে আছে সারা আর আহনাফ। শীতের কালের মৌসুম বাগানের নানান ধরনের ফুল। সারা হাসি মুখে বাগানের ভিডিও করছে সাথে আহানাফেরও । দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সুন্দর একটা সম্পর্ক। দুজন যখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত তখনই কানে আসে মেইন গেট খোলার শব্দ। তারা ঘুরে তাকায়। কালো রঙের গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করে ধীর গতিতে গেস্ট হাউজের কাছে গিয়ে থামে এর মানে দামিয়ান এসেছে।
__ তোমার যাওয়া উচিত সারা, আহানাফ সেদিকে দৃষ্টি রেখে বলল।সারা চোখ সরিয়ে ফের ফোনে মনোযোগ দেয়।
__ সম্পর্ক গড়ার আগে সম্পর্ক মজবুত করতে হয়। আহানাফ তার দিকে তাকায়,
সারা গভীর শ্বাস ফেলে,,
__ সব সম্পর্ক না, কিছু সম্পর্ক না চাইলেও হয় এত ইম্পরট্যান্ট দেওয়ার কিছু নেই।
__ ভালোবাসা না থাকলে এমনটাই ভাবা হয়। বিয়ে করছো কেনো তাহলে ব্রো কে ?আহানাফ ঠোঁটে হাসি রেখে কথাটা জিজ্ঞেস করল।
সারা ফোন থেকে চোখ সরিয়ে সামনে বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুলগুলোর দিকে দৃষ্টি ফেলে।

__ ছয় বছর ধরে আমার এই বাসায় আসা-যাওয়া কারন আমাকে এই বাড়ির বড় বউ হিসেবে ঠিক করা হয়েছে। অবশ্যই আমার মধ্যে সে যোগ্যতা টা আছে। ভালোবাসার বিষয় এক সময় আমিও ভেবেছিলাম কিন্তু এখন আমি শুধু এই বাড়ির বউ হতে চাই এটা আমার জীবনের পাওয়া হবে।
__ তুমি ভালোবাসা বোঝ না সারা তাই বলছো,
__ তুমি বোঝো? সারা আহানাফের দিকে ঘুরে তাকায়,
আহানাফের ঠোঁট থেকে হাসি গায়েব হয়ে যায় এরপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
__ নিজের না করেও তাকে আরেকজনের সাথে খুশি হতে দেখে নিজে ও খুশি হওয়ার ব্যাপারটাই ভালোবাসা।
সারা হেসে ওঠে, এটা ট্রাইংগেল লাভ,
আহানাফ হা করে শ্বাস ফেলে মাথা দুলায়, হুম সবচেয়ে কনফিউশন হৃদয় বিধায়ক ভালোবাসার একটা চক্র। এখানে থার্ড পার্সন কে সব সময় কষ্ট পেতে হয়। প্রথম কনফিউশন থাকে কে থার্ড পার্সন এরপর যখন থার্ড পার্সন বের হয় এক হলে তার ভালোবাসার খাতিরে নিজের মানুষটাকে অন্যের হতে দিয়ে দিতে হয়। আর না হলে দুজন ভালোবাসার মানুষ সেই থার্ড পার্সন কে সরিয়ে দেয়। ওই ঘুরে ফিরে থার্ড সেই পার্সন কেই কষ্ট পেতে হয়।
এটা শুধু ভালোবাসার ক্ষেত্রে না সবকিছু ক্ষেত্রে যখন নিজেকে থার্ড পার্সন অনুভব করবে ‌ চুপচাপ সেখান থেকে সরে আসবে কারন এটাতেই আসল সুখ।
সারা মুগ্ধ নয়নে আহনাফ কে দেখে তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলো।

__ তুমি খুব ভালো আহানাফ,
আহানাফ হেসে ওঠে, হয়ে কি হলো ? আমাকে তো আর বিয়ে করবে না।
__ হুম কারণ তোমার ভালো হওয়া সাথে আমার খারাপ হওয়া যায় না । তুমি স্যাক্রিফাইস করতে শিখেছ, আমি জিততে শিখেছি । আমার কাছে ভালোবাসার আগে আমি পাবো, আমার, এটা আগে। আমাকে এমনটাই শেখানো হয়েছে।

জ্ঞান হারানোর পর প্রানপ্রিয়ার চোখ খুলেছিল সন্ধ্যার দিকে। সে যখন চোখ খুলে প্রথম রহমান আঙ্কেলের চিন্তিত মুখটা দেখতে পেয়েছিল।তিনি নরম কন্ঠে শরীরের অবস্থা জিজ্ঞেস করার পর একটু শাসনও করেছিল। হ্যাঁ এটাই তো সে মিস করছিল, তবে আন্টি হলে হয়তো বেশি ভালো হতো। যাইহোক তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল । শরীর অতিরিক্ত দুর্বলতা আর না খাওয়ার ফলে জ্ঞান হারিয়েছে। অতঃপর ঘন্টাখানেক হাসপাতালে থেকে রহমান তাকে আশ্রমে দিয়ে গেয়েছিল। আপাতত সে নিজের ঘরে রাত মোটামুটি অনেক হয়েছে, আশ্রমে সকলে হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। সেও লাইট অফ করে বিছানার কাছে জানালার সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। বাহিরে ঘুটঘুটে অন্ধকার নিস্তব্ধে ঝিরঝির পোকার শব্দ শুনা যাচ্ছে। বাহির থেকে ঠান্ডা বাতাস তার গায়ে লাগতেই মোটা কাঁথা টা শরীরে মুরিয়ে নেয়। চুলগুলো তার খোলা, ঢেউ খেলানো চুল শীতল বাতাসে উড়ছে। ঘুম নেই চোখে শরীর ,মন এখনো দুর্বল ভেতরে কষ্টের দলা পেকে নাজেহাল অবস্থা। জীবন কোনো দিকে মোড় নিচ্ছে বুঝতে পারছেনা। আচ্ছা তার জীবনটা এমন কেনো ছোটবেলা মা-বাবার মৃত্যুর পর জায়গা হল আশ্রমে। এখানে এসে কিছু না থাকার পরও অনেক কিছু পেয়েছে। বছর খানেক ভালোভাবেই কাটছিল আশ্রমের সবাই ইভান তার ছোট্ট একটা সাধারন হাসি খুশির জীবন কিন্তু,,,প্রানপ্রিয়া চোখ বন্ধ করে কয়েকবার বড় বড় শ্বাস ফেলে,

তার মনে আছে কিশোরী কালের সেই নিষ্ঠুর ব্যক্তিকে যাকে সে এক সময় ভুলে গিয়েছিল কিন্তু এভাবে তার জীবনে অন্ধকার নিয়ে আসবে। তাকে অসহায়ত্বের শেষ সীমানায় নিয়ে যাবে ।তার কামুক বাসনা বিনোদনের জন্য তাকে বাধ্য করবে ব্ল্যাকমেইল করবে।উপরওয়ালা তার ভাগ্য এমন কিছু রেখেছিলেন কোন অপরাধ?
প্রানপ্রিয়া মুখে হাত দিয়ে হেসে উঠে তবে তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছিল । উপরওয়ালা প্রথম তার মা-বাবা কেড়ে নিলেন। এখন তার জীবন থেকে সব আস্তে আস্তে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন । ভেতরটা তো তার জ্বলে পুরে যাচ্ছে। নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে পরবর্তী দিনগুলোর কথা ভাবলে তার ভয় হয় ভয় আবারো ওই ভয়ংকর নিষ্ঠুর লোক তাকে ছুবে। তবে তার ছোয়াতে পাপ নেই হালাল করে নিয়েছে তো হালাল ভাবে ধর্ষণ করবে এক কথায় হালালভাবে রক্ষিতা । প্রানপ্রিয়া আবারো হেসে ওঠে এবার আকাশের দিকে তাকায় হঠাৎ তিনটে গানের লাইন মনে আসলো।

সে খলনায়ক পর্ব ৪২

“না জানি কি অপরাধে দিলা এমন জীবন”
“আমারে পুড়াইতে তোমার এত আয়োজন”
“আমারে ডুবাইতে তোমার এত আয়োজন”

সে খলনায়ক পর্ব ৪৪