সে খলনায়ক পর্ব ৪৪
ফারহানা সানিয়াত
সময় সাথে বেশ কিছুদিন কেটে গেল। প্রানপ্রিয়ার শরীরের অবস্থা এখন ভালো। সব সময়ের মতই দিনকাল চলছে, স্কুল আশ্রম আর এখন হাসপাতালে আসা যাওয়া। আন্টি শরীরের অবস্থাও আগের থেকে অনেকটা উন্নত হয়েছে। কিছুদিন হয়েছে তাকে আগের হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এখানকার ডাক্তারদের তার সুস্থ হওয়ার পিছনে জোর কারো চোখ এড়চ্ছে না । এসব দেখে রহমান আঙ্কেল খুশি হয়ে দিনরাত সাহায্য করার ব্যক্তির জন্য দোয়া করেছেন। তবে প্রাণপ্রিয়া মনে মনে তাচ্ছিল্য হেসেছিল। তার কিছু করার ছিল না বা নেই তাই এতো সুযোগ সুবিধা আহ! এটা তার বিনিময়ে ফল তার আন্টি সুস্থ হচ্ছে, এখন সে কথা বলতে পারছে, নড়াচড়া করতে পারছে। সত্যি নিষ্ঠুর নির্দয় লোকটির পৈচাশিক মহৎ দয়ার নাটক প্রশংসা করার মত। প্রানপ্রিয়া হা করে শ্বাস ফেলে। শরীর সুস্থ হলেও তার মনে কি চলছে সারাদিন কেটে যখন রাতে ঘুমানোর সময় আসে তখন বোঝা যায়। শুধু এটা সেই বুঝে । আটকে গেছে সে, জঘন্য চাওয়া পাওয়ার মাঝে আটকে গেছে। তার দোষ কি এটাই ছিল সে তার কাছে সাহায্য চাইতে গিয়েছিল? নিজ ভাবনায় নিজেকে প্রশ্ন করে ওঠে প্রানপ্রিয়া কিন্তু আকম্মিক হেডমাস্টারের কন্ঠে ভাবনা থেকে বের হতে হয়।
__ প্রাণপ্রিয়া তুমি এ ব্যাপারে কি বলতে চাও? তার বরাবর বসা হেডমাস্টার জিজ্ঞেস করে উঠলেন।
প্রাণপ্রিয় তার দিকে দৃষ্টি ফেলে কিছুটা আমতা আমতা করে। ভুল জায়গায় ভুল কিছুর ভাবনায় পড়ে গিয়েছিল।
টেবিলের ওপারে চেয়ারে বসা হেডমাস্টার।
__ আ,,,আসলে স্যার আমি চাচ্ছিলাম না যে,,,
__ আমি জানি তুমি চাচ্ছ না। তার কথা শেষ হওয়ার আগে হেডমাস্টার বললেন। আমি চাকরি করার জন্য জোর ও করছি না । এটা অবশ্যই সম্পূর্ণ তোমার উপর। আমি শুধু কিছুদিনের জন্য সাহায্য চাইছি ।আজ তোমার স্কুলে শেষ দিন ছিল। আমি বলছি তুমি আর কিছুদিনের দিনের জন্য চাকরিতে থাকো। স্কুলের শিক্ষকদের কমতি কয়েকদিন পর আরেকজন শিক্ষক জয়েন করবেন। তখন তুমি চাকরি ছেড়ে দিও আমি তোমাকে এর বেতন দিব।
প্রাণপ্রিয়া বিভ্রান্ত মুখে দৃষ্টি নত করে। এক হাত দিয়ে আরেক হাতের তালু ঘষে। কিছুক্ষণ ভাবে,
__ আচ্ছা,, ঠিক,, আছে স্যার। আমি আরো কিছুদিন চাকরিতে থাকব।
হেডমাস্টার খুশি হয়ে ওঠেন।
প্রাণপ্রিয়া ও বিব্রত হয়ে মুখে কিছুটা হাসি টানে।
__ আমি অনেক খুশি হলাম প্রাণপ্রিয়া। তুমি আমার অনুরোধ রাখলে।
প্রাণপ্রিয়া মাথা নত রেখে হাসি চাওড়া করে। যদিও তার মনের যন্ত্রণার মধ্যে হাসার ইচ্ছা নেই তবুও।
আরো কিছুক্ষণ হেডমাস্টার আর তার মধ্যে কথা চললো। অতঃপর কথা শেষ হলে সে হেডমাস্টারের কক্ষ থেকে বের হয়ে আশ্রমের উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরে। আজ স্কুলে শেষ দিন বলে শেষ ক্লাস নিয়েছিল এতে দিনের অর্ধেক পার হয়ে গেছে। তবে বোঝা যাচ্ছে না বেলা কি হবে, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত রৌদ্র দেখা নেই। প্রাণপ্রিয়া মাঠে হাঁটতে হাঁটতে আকাশের দিকে মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে বিষন্ন মনে গভীর শ্বাস ফেলে। আজ তার পড়নে কালো সাদা মিশ্রণ তাঁতের শাড়ি। শীত কাল বলে ফুল হাতা ব্লাউজ সাথে পাতলা একটা চাদর জড়িয়ে রেখেছে। চুলগুলো এক কাঁধে ছেড়ে রাখা, আরেক কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো।
সে যখন মাঠ পেরিয়ে স্কুলের গেট দিয়ে বের হতে নেয় আকম্মিক কালো কোট প্যান্ট পড়া নিলয় তার সামনে এসে হাজির হয়।
__ হ্যালো ম্যাম। ভালো আছেন? মৃদু হাসির সাথে জিজ্ঞেস করে ওঠে।
হঠাৎ প্রানপ্রিয়া তাকে দেখে জমে যায়। তার বুকের ভেতরটা কলিজা টা চিপ দিয়ে ওঠে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম মুহূর্তে ই।
নিলয় তার প্রত্যুত্তরে র অপেক্ষা না করে তার দিকে একটা ফোন বাড়িয়ে দেয়।
__ কথা বলুন ম্যাম।
প্রানপ্রিয়া তার দিক থেকে চোখ সরিয়ে ভীত দৃষ্টিতে বাড়িয়ে দেওয়া ফোনের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে। এরপর কম্পিত হাতে ধীরে ধীরে ফোনটা হাতে নিয়ে কানের কাছে ধরতেই অতি পরিচিত ভারি গলার পুরুষালী কন্ঠ।
__ রেস্ট নেওয়ার অনেক সময় দেওয়া হয়েছে লিটল বার্ড। এখন চুপচাপ নিলয়ের সাথে গাড়িতে ওঠে বসো ।
প্রাণপ্রিয়ার হাত অনবরত কাঁপছে। চোখ দুটো ছলছল করে ঠোঁট কামড়ে ধরেছে।
সে আবারো,,,আবারো তার সাথে,,,,,
বসার ঘরে সারা তার আর দামিয়ানের
এনগেজমেন্টের ছবির সব অ্যালবাম নিয়ে বসেছে। তার সাথে রাইমা আর আহানাফও বসা। রাইমা মুখে বিস্তার হাসি নিয়ে অ্যালবাম উল্টেপাল্টে দেখছেন। আহানাফ ও তাই,, পাশে সারা একটার পর একটা ছবি দেখিয়ে দেখাচ্ছে তাদের।
__ আচ্ছা এটা ভালো হবে না বড় করার জন্য?
আহানাফ তার হাতের ছবির দিকে তাকায় যেখানে দুজন দুজনের দিকে চেয়ে আছে।
__ হ্যাঁ কিন্তু কত ছবি বড় করবে ? দেয়ালে তো জায়গা নিতে হবে। এইগুলো তো দেয়ালেই টানাবে তাই না?
সে তার দিকে তাকায়,
সারা হাসে। দুটো দেয়াল, জায়গা বেশি, ছবি তো বেশি হবেই। আমি শুধু আমার ঘরে দেয়ালে টানাবো না। গেস্ট হাউসে দামিয়ানের বেডরুমে ও টাবানানো হবে।
রাইমা অ্যালবামের দিকে দৃষ্টি রেখে বলেন,, এটা বেশ ভালো হবে। এভাবে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা বাড়বে। আমি তো ভাবছি ভাইজান আসলে বলবো দামিয়ান থাকা অবস্থায় বিয়ে নিয়ে কিছু একটা ভাবা হোক, বাড়ির বউ বাড়িতে একবারের জন্য চলে আসবে আমি আর কিচ্ছু জানি না।
সারা দৃষ্টি নত করে লাজুক হাসে।
আহানাফ এখনো তার দিকে তাকিয়ে। সে ভাবতে পারে না এই মেয়ে কিভাবে নাটক করছে এসব ছবি আর লাজুকতা নিয়ে হাহ।
রাইমা চোখ তুলে সারার দিকে তাকান,, যাইহোক আজ না তুমি আর দামিয়ান তোমাদের বাসায় যাবে? তো কোথায় সে ? বেলা দুপুর তো গড়িয়ে যাচ্ছে।
সারা মুচকি হাসে, সমস্যা নেই আন্টি। সন্ধ্যাবেলা যাওয়ার কথা আমাদের ঘন্টাখানেক পর তাকে ফোন দিব। হয়তো ফ্যাক্টরিতে ইম্পর্টেন্ট কাজে ব্যস্ত।
ফোন করে আশ্রমে বলে দিয়েছে প্রানপ্রিয়া তার আসতে দেরি হবে। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের মিটিং আছে তার ও থাকতে হবে । মিথ্যে কথাটা যখন সে বলছিল তার কণ্ঠস্বর কাঁপছিল। নিজেকে নিজের কাছে ভীষণ ছোট মনে হচ্ছিল। কি কারনে সে মিথ্যে বলছে? কি কারনে? সে কি ওই সব নারীদের মত যারা পুরুষের ব্যক্তিগত নারী থাকতেও তাদের জীবনে আরেক নারী হয়ে থাকে ? হ্যাঁ এটা ঠিক সে বাধ্য হয়ে এসব করছে। কিন্তু এটাও ঠিক সে ওই নারীদের দলের মধ্যে একজন হয়ে গেছে কারন সে ওইসব ই করছে। সে আরো একবার ওই নিষ্ঠুর ব্যক্তিকে মন প্রাণ দিয়ে ঘৃণা করার কথা ভাবে। যেসব নারীদের সে নিজে অপছন্দ করত আজ তাকে সেই জায়গায় দাঁড় করেছে ওই নিষ্ঠুর ব্যক্তি।
প্রানপ্রিয়া হাতের উল্টা পিঠ দিয়ে চোখের জল মুছে। আপাতত সে দাঁড়িয়ে আছে, দাঁড়িয়ে আছে জাহান্নামের দরজার কাছে যেখানে সে এর আগেও এসেছিল। ভীষণ ভয় লাগছে, কতটা ভয় তার জানা নেই কিন্তু লাগছে। বারবার চোখে সেই রাতের তাদের জঘন্য কার্যকলাপের দৃশ্য ভেসে আসছে যা অবশ্যই আজ ও হবে।
তার সামনে নিলয় দরজা খুলে দাড়িয়ে।
__ ম্যাম ভিতরে আসুন। আপনার জন্য স্যার অপেক্ষা করছেন।
প্রাণপ্রিয়ার ভেতরটা আরো একবার চিপ উঠে। অসহায় দৃষ্টিতে নিলয় দিকে তাকায়। কিন্তু তাকিয়ে লাভ কি? সে তো ওই লোকের ই হুকুমের গোলাম।
মনে মনে নানা ধরনের চিন্তা ভাবনা নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো প্রানপ্রিয়া। তার কিছু ই করার নেই এটাই ছিল বাস্তব।
ভেতরে প্রবেশ করতে ই প্রথম বসার ঘর, চারপাশে নামিদামি আসবা পত্রের ছড়াছড়ি সাদা রঙের মধ্যে সবকিছু ডেকোরেশন করা। এর আগে যেদিন এসেছিল এসব কিছুই খেয়াল করেনি প্রানপ্রিয়া। আজও খেয়াল করার ইচ্ছা নেই শুধু চোখে পড়ছে । যাইহোক,
নিলয় কিছুটা শব্দ করে দরজা লাগিয়ে চলে যায়। প্রানপ্রিয়া চমকে পেছনে তাকায়। আজকাল তার ভয় কোন পর্যায়ে ভেতরে বাসা বেধেছে বলতে পারবে না। তার চোখ আবারো ছলছল করে ওঠে তবে কাঁদে না কষ্ট হলেও চোখের জল চোখেই আটকে রাখে। অতঃপর সে আবারো সামনের দিকে ঘুরে তাকায় আর চোখাচোখি হয় দামিয়ানের সাথে যে তার থেকে কিছুটা দূরে পকেটে হাত গুজে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
প্রানপ্রিয়া সাথে সাথে দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে তার দিকে তাকাতেও তার ঘৃণা। কিন্তু সে হঠাৎ কোথা থেকে আসলো?
দামিয়ান তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে ধীরে ধীরে এগোয়।
__ লং টাইম নো সি মাই লিটল বার্ড। তার গম্ভীর ভারী কন্ঠ।
প্রাণপ্রিয়া জোড়োসোড় হয়ে দাঁড়ায়। তার কাতর দৃষ্টি এদিকে ওদিকে ছুটাছুটি করে।
দামিয়ান একদম তার কাছে এসে থেমে হালকা ঘাড় কাত করে তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। চিকন চাকন ছোট মেয়েটাকে শাড়ি পড়ার অনেকটা ম্যাচিওর অন্যরকম দেখা যাচ্ছে। অবশ্য তাকে এর আগে ও এইরূপে সে দুইবার দেখেছে। কিছুটা নিঃশব্দে হাসে দামিয়ান। নাহ তার সব রূপে দেখার পর তার কাছে সেই রাতের বস্ত্রহীন প্রানপ্রিয়াকে বেশি আকর্ষণীয় ও সুন্দর নারী এবং শুধু তার নারী লেগেছে।
সে তার পায়ের কদম বাড়ায়।
প্রানপ্রিয়া তাকে আরো কাছে আসতে দেখে ভয়ে দ্রুত দূরে সরে যায়।
__ তোমার কোনো অপশন নেই আমার কাছে আসা ছাড়া তুমি জানো। দামিয়ান তার দিকে এগোতে এগোতে বলল।
প্রানপ্রিয়া করুন দৃষ্টিতে তাকায়,
__ দয়া করে আজ ,,,
বাকি টা বলার আগে সে তার হাত ধরে নিজের কাছে টেনে এনে ফিসফিস করে বলে,,
__ আজ ও হবে, অবশ্যই হবে। সে তার ব্যাগ আর গায়ের চাদর হাতে নিয়ে ফ্লোরে ফেলে। তোমাকে না পাওয়ার আগে আমার যতটা না আকাঙ্ক্ষা ছিল না, এখন তার চেয়ে বেশি। আমি সেই রাতে কিছু ভুলতে পারছি না প্রানপ্রিয়া। তুমি আমাকে জাস্ট পাগল করে দিয়েছো। নেশালো কন্ঠে দামিয়ান কথা গুলো বলতে বলতে তাকে কোলে তুলে সিঁড়ি দিকে হাঁটা শুরু করে।
প্রানপ্রিয়া একপ্রকার ছোটাছুটির সাথে করুন ভাবে আকুতি মিনতি করছে।
দোতলার একদম শেষের ঘরটায় যেখানে প্রানপ্রিয়া সেদিন রাতে ও ছিল দামিয়ানের সাথে। সেই ঘরে সোফায় কাছে এসে দামিয়ান কিছুটা ছুড়ে ফেলের তাকে সোফার উপর ফেলে ।
প্রানপ্রিয়া দ্রুত উঠে যেতে নিলে দামিয়ান ঝুঁকে কিছুটা, তাকে আটকে ধমকে উঠে,
__ বলেছিলাম না জোর জবরদস্তি আমার পছন্দ না। আর আন্টি সুস্থতা দেখে কি সাহস বাড়চ্ছে নাকি? সাহস কমিয়ে দেই?
মুহূর্তে প্রানপ্রিয়া থেমে দামিয়ানের দিকে তাকায়। এতক্ষণ যে তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল না এবার ঠিক ই পড়া শুরু করে। লোকটা কখনোই ভুলে না তাকে কিভাবে অসহায় বোধ করাতে হয়।
দামিয়ান কিছুটা শব্দ করে হেসে তার থুতনিতে হাত রেখে ফিসফিস করে,,
__ আহ! পাখির ছটফট শেষ? এটা খুব দুঃখজনক।
সোজা হয়ে দাঁড়ায় সে, হাতের ঘড়ি আর শার্টের বোতাম গুলো খুলতে খুলতে বলে,,
__ কখনোই ভেবো না তোমার আন্টি সুস্থ হয়ে গেলে তুমি অবাধ্য হবে। তোমাকে আটকানোর মতো আমার কাছে কিছু থাকবে না।
দামিয়ান তার পড়নের শার্ট খুলে ফ্লোরে ছুড়ে ফেলে এবং তার একদম কাছে এগোয়। প্রানপ্রিয়া তার দিকেই অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে।
__ তোমার আন্টি দ্বিতীয়বারের মতো এক্সিডেন্ট হলে কিন্তু বাঁচনো সম্ভব হবে না। কথাটা বলেই দামিয়ান তার ঠোঁট গাঢ় ভাবে আঁকড়ে ধরে।
প্রানপ্রিয়া চোখ বন্ধ করে নেয়। তার চোখের কোণে বেঁয়ে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে কিছু ভাবার মতো নেই। হ্যাঁ, আর কিছু ভাবার মত হয় না ।
দুজন ধীরে ধীরে সোফায় শুয়ে পড়ে, নিস্তব্ধ ঘর জুড়ে চুম্বনের শব্দে একাকার। সময় জানা নেই আবেগপূর্ণ চুম্বন কতক্ষণ ছিল। দামিয়ান এরমধ্যে প্রানপ্রিয়া বুক থেকে আঁচল সরিয়ে ব্লাউজের বোতাম কয়েক একটা খুলে ফেলেছে এবং সব জায়গায় ঠোঁটের স্পর্শে দিচ্ছে। প্রানপ্রিয়া আজ ও সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে। তার শরীর উত্তেজনায় কাঁপছে, গভীর শ্বাস ফেলছে। তবে ধীরে ধীরে ঠোঁটের নরম স্পর্শ গুলো ভয়ংকর কামড়ে পরিণত হচ্ছে। কারন সে চুম্বনের বদলে কামড় দিতে পছন্দ করতো। উম্মাদের ন্যায় আচারন সেই রাতের মত, প্রতিটা ঠোঁটের স্পর্শ প্রানপ্রিয়ার ত্বকে আবারো দাগ তৈরি করছে। কিছু এখনো ব্যথা
জায়গা গুলোতে আরো ব্যথা বাড়ছে। প্রানপ্রিয়া সহ্য করতে না পেরে করুন চিৎকার করে উঠেছে বারবার। তাকে নিজের কাজ কাছ থেকে সরানোর চেষ্টার সাথে হু হু করে কাঁদছে। দামিয়ান তার গলায় মুখ ডুবিয়ে রেখেছে। তার দু হাত তার বুকে ওপর চাপ দিচ্ছে।
তবে কোনোভাবে প্রানপ্রিয়া সহ্যের সীমা হারিয়ে সর্বোচ্চ শক্তিতে দিয়ে দামিয়ানকে ধাক্কা মেরে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দ্রুত উঠে বসে।
এতে দামিয়ান ও প্রচন্ড পরিমাণ রেগে তার কাছে ফের আসতে নিলে কষিয়ে এক থাপ্পর মেরে বসে তাকে প্রানপ্রিয়া।
__ জানোয়ার! জানোয়ার কোথাকার!
কান্না মাখা কন্ঠে চেঁচিয়ে বলে ওঠে সে, অতঃপর গলায় হাত দিয়ে জোরে জোরে কান্না শুরু করে ।
দামিয়ান স্তব্ধ, ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটলো যে সে ভেবে পারচ্ছে না ।তার চোখ মুখ ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠছে। তার ক্রমাগত রুক্ষ নিশ্বাস ফেলে তার ভয়ংকর ক্রোধের আভাস দিচ্ছে।
প্রানপ্রিয়া আর এক মুহূর্ত নয়। এলোমেলো অবস্থায় ই সোফা থেকে নেমে দাঁড়াতে নেয় তবে থাপ্পড়ের মাসুল তো তার দেওয়ার ছিল। আচমকা দামিয়ান ক্ষ্যাপা বাগের মত তাকে ধরে। প্রানপ্রিয়া ফ্লোরে বসে পড়ে সাথে দামিয়ান তার দিকে ঝুঁকে।
__ অনেক বড় ভুল করে ফেললে না মাই লিটল বার্ড। এর শাস্তি তো অবশ্যই পাওয়া দরকার তাই না।
তার ক্রোধ মিশ্রিত কন্ঠ।
প্রানপ্রিয়ার ভেতর কেঁপে উঠে, ধীরে ধীরে হাতের ভড় দিয়ে পিছনের দিকে যেতে থাকে। কিন্তু দামিয়ান তার পা ধরে টান মেরে নিজের কাছে এনে শরীরের আধ খোলা শাড়ি টেনে খুলে ছুড়ে ফেলে।
প্রানপ্রিয়া কাঁদছে, তার করুন কান্নায় দামিয়ান তার গলা চেপে ধরে ।
__ হুশশশ কোনো শব্দ না। যত শব্দ করবে তত কষ্ট পাবে,
দামিয়ান তার দু পায়ের মাঝে জায়গা করে নিয়ে তার গলা ছেড়ে প্যান্টের বেল্ট খুলে।
__ বলো কতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে পারবে। আমি তার চেয়ে বেশি দিব ট্রাস্ট মি ।
প্রানপ্রিয়া না সূচক মাথা নাড়ায়, না প্লিজ, না এমন করবেন না, প্লিজ দয়া করে এমন করবেন, । সে তার কাছে কেঁদে অনুরোধ করে বলে ওঠে,
দামিয়ান তার পেটিকোট ওপরের দিকে তুলে তুলে বলে,, আহ তোমার জন্য দুঃখ প্রকাশ কিন্তু এমনটা ই হবে। সে প্রানপ্রিয়ার দিকে ঝুঁকে। প্রানপ্রিয়ার ভয়ে তার শরীর ঝাকুনি দিয়ে উঠে,
দামিয়ান তার গলায়, গালে এরপর ঠোঁটে গাঢ় চুম্বনে মেতে ওঠে। এতে তার যন্ত্রণাদায়ক চিৎকার দামিয়ান পর্যন্ত ই নিবদ্ধ হয়ে যায়। সে আবারো সহ্য করতে পারছে না। না পারতে দু হাতের নখ ডাবিয়ে দিচ্ছে দামিয়ানের পিঠে।
সময়ের সাথে দুজনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। শীতকালের ঠান্ডা ফ্লোরে ও দুজন একে অপরের উষ্ণ করে রেখেছে। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে, তারা হাঁপিয়ে উঠেছে । দামিয়ান প্রানপ্রিয়ার কপালে ভেজা ঠোঁটের স্পর্শ করে। প্রানপ্রিয়া ঘৃণা চোখ সরিয়ে নিতে চাইলে তার ফের তাকাতে হয় আসলে তাকাতে বাধ্য হয়।।
দামিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে, মেয়েটির অতিরিক্ত যন্ত্রণা চোখে ঘৃণা ছাড়া কিছু দেখাচ্ছে না।
ঘৃনা, তোমার চোখে ঘৃনা।
__ কতটা ঘৃনা করো আমায়? তার হাঁপিয়ে উঠা কন্ঠ।
__ যতটা একজন মানুষ কে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।
দামিয়ান হাসে, প্রানপ্রিয়ার চুল শক্ত হাতে
পেঁচিয়ে ধরে রেখেছে সে ।
__ কিন্তু এখন যে তোমার নিচে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তুমি কি অনুভব করছো?
প্রানপ্রিয়ার চোখ ছলছল করে ওঠে, কিন্তু সে আটকে রাখে কান্না। চোখের কোণ গড়িয়ে পড়তে দেয় না । নিজেকে ওয়াদা করেছে আর কাঁদবে না। আর কখনোই না, কখনোই না অত্যন্ত এই লোকের সামনে না।
দামিয়ান তার কাঁপালে আবারো ঠোঁট ছোঁয়ায় খুব গাঢ় করে। এরপর গলায় মুখ ডুবিয়ে তার বিশাল দেহের ভাড় তার ওপর ছেড়ে দেয়।
সে খলনায়ক পর্ব ৪৩
__ আমি তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি, অধিকার দিচ্ছি আমাকে ঘৃনা করার।
প্রানপ্রিয়া বিপরীতে কিছু বলে না। ক্লান্ত শরীরে দুজন চোখ বন্ধ করে একে অপরের সাথে শুয়ে থাকে। আর কোনো কথোপকথন হয় না।
