Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৩

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৩

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৩
সাঞ্জেনা শাজ

(অতীত)
শুভ্রতা তখন ছোট, এই বছর নয় কি দশ বছরের চঞ্চল হুর পাখি।
শুধু তার পরিবার মিলে ঘুরতে গেলো কক্সবাজার । মেহরাদ ভাই ছিলো না। সে ছিল পড়াশোনার জন্য দূরে। বাবা ছুটি পেয়েছিল তাই শুধু তারা-ই গিয়েছিলো। সে, তার মা বাবা আর..আর তার ছোট্ট ভাই শুভ্র। তার পাঁচ বছরের ছোট ছিল। তার নেওটা ছিল খুব। চারদিকে থৈ থৈ পানি। সমুদ্র সৈকত, তার তো আনন্দের শেষ নেই। তার ভাইটাও ঘুরঘুর করতো তার সাথে। দু ভাই বোন কত হাত ধরে ঘুরলো ফিরলো ছবি তুললো।
সেদিন কক্সবাজার গিয়েছে তারা তৃতীয় দিন। বাবা মা সে আর শুভ্র একসাথেই বেড়লো। সময়টা বিকেল হয়ে গিয়েছে। মানুষের গিজগিজ। তবে এতে তাদের উচ্ছাসের ভাটা পড়েনি একটুও।

সন্ধ্যার আগ মূহুর্তে দুই ভাই বোন সমুদ্রের জোয়ারের দিকে এগুলো উচ্ছ্বাস নিয়ে। কি সুন্দর সেই দৃশ্য! এতো এতো মানুষের ভীরেও অপার এ সৌন্দর্য একটুও ম্লান হয়নি। মা বাবার পাশেই ছিল দুজন তখন। রিমা বেগম আর শায়ন তালুকদার হেসে কথা বলছিলেন দুই দম্পতির সাথে। যাদের সাথে এখাবে এসেই পরিচয় হয়েছে। কথার ফাঁকে ফাঁকে ছেলে মেয়ের দিকেও বারে বারে তাকাচ্ছিলেন তারা, খেয়াল রাখছিলেন।
কিন্তু এতো সাবধানতার ভিতরেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। সন্ধ্যার জোয়ারের তালে তালে যখন ঢেউ আছড়ে পরছিল তীরে, সেই সাথে শুভ্রতার উচ্ছ্বসতাও হাজার গুন বাড়ছিল। অবুঝ মেয়েটা তার ছোট ভাইকে হাতে ধরেই ঢেউ সাথে তাল মিলিয়ে সমুদ্রের তীরে উঠছিলো আবার কিছুটা গভীরে যাচ্ছিলো।

তেমনি এক সময় হটাৎই এক বড় ঢেউ ছোট্ট দু’জন শিশুকে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো গভীরে। শুভ্রতা সমস্ত শক্তি দিয়ে আকঁড়ে ধরে রাখলো ছোট ভাই শুভ্র’র হাত। সে কি কান্না দু’জনার! সেই সাথে তলিয়ে যাচ্ছিলো ঢেউয়ের সাথে সাথে বাচ্চা দুটো। চারদিকে মানুষের গিজগিজ, সন্ধ্যা হওয়ায় অনেকে আবার হোটেল মুখো। যার যার মতো ব্যাস্ততায় একটু পরেই একে সকলের নজড়ে পড়ল ডুবি ডুবি বাচ্চা দুটোকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা গভীরে দুজন। শুভ্র কে প্রায় দেখা যাচ্ছেনা।
শুভ্রতা কিছুটা সাতার জানলেও শুভ্র পানি খেয়ে ভার হয়ে বোনের হাত ছাড়িয়ে নিয়েছে ততক্ষণে। ছোট্ট শুভ্রতা নিজেও ঠাই পাচ্ছে না, ভাইকেও আটকে রাখতে পারছেনা। সেই সাথে মা বাবা বলে বারবার চিৎকার, ওর নিশ্বাস কেড়ে নিচ্ছে।

সায়ন তালুকদার, রিমা বেগম যখন মেয়েকে দেখলেন দৌড়ে ঝাপ দিলেন সমুদ্রে। এর আগেও দুজন নেমেছে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে। তারা শুভ্রতাকে উদ্ধার করেছে বহু কষ্টে। শুভ্রতা প্রায় অর্ধজ্ঞান। পাগলের মতো ছেলের খবর নিতে থাকলেন দু’জন। সকলে বলা বলি করলো, ‘একজন কে দেখলাম মাঝখানে আরেক জন’ও ছিলো বোধহয়! পুরো পুরি দেখিনি। চারদিকে অন্ধকার! অতল গভীর সুমদ্র! দানবীয় ঢেউ! এতোক্ষণে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বোধহয়! মেয়েটা বড় দেইখা বোধহয় বাইচা রইছে!’
যে যার যার মতো স্বান্তনা,শোক বানী শুনিয়ে গেল। সেই সাথে অনেকে ছোট্ট শুভ্র কে খুজলো যতটুকু সম্ভব। কিন্তু কেউ পেল না। একে একে তালুকদার বাড়ির সকলে উপস্থিত হলো সেখানে। শত ফোর্স, বাহিনী কিছুই কাজে দিলো না। এমনকি ছোট্ট বডিটাও পাওয়া গেলনা।

সেদিন থমকে গিয়েছিল তালুকদার বাড়ির সকলের জীবন। নিজেদের বাড়ির ছোট্ট ফুটফুটে এক সদস্য কে হাড়িয়ে সকলে শোকে থমকে গিয়েছিল। রিমা বেগম পাগল প্রায়। শক্ত পোক্ত আর্মি অফিসার ভেঙে পড়েছিলো। সেই সব কিছু একদিন স্বাভাবিক হলেও মৃত্যুর মুখ থেকে বেচে যাওয়া ছোট্ট শুভ্রতার জীবন আজীবন থমকেই রইলো। সেই সাথে অসহনীয় দুঃখ কষ্ট গুলো সঙ্গী হয়ে রইলো। নিজের মা’য়ের কাছে অপরাধী হয়ে রইলো অপরাধ না করেও। নিজের ভাইকে বাচাতে না পেড়ে নিজে বেচে খুব বড়ো দোষী হয়ে রইলো।
কতো মা’র লাঞ্চনা, অপবাদ নিজের গর্ভধারণী মা’য়ের থেকে পেল! শেষ মেষ তাকে রেখেই চলে গেল তালুকদার বাড়িতে। তখন তাকে এ মানুষ গুলো আগলে নিলো দু হাতে। নিজের দুই জেঠিমা কে মা’য়ের মতো পেয়েছে সে। মেহরাদ ভাইকে নিজের স্বপ্ন পুরুষ হিসেবে দেখে দেখে বড় হয়েছে।

সে চাওয়ার আগেই সব করে ফেলতো।সেদিনের পর থেকে তার স্লিপ ডিজোর্ডার দেখা দিয়েছে, দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙলে কতো এ মানুষটাকে পাশে পেয়েছে সে। তাকে আগলে রেখে ঘুম পাড়িয়েছে। বারবার বুঝিয়েছে সেদিন তার কিচ্ছু করার ছিলো না। সে নিজেও ছোট ছিল। তার পক্ষে আরেক জনকে বাচানো সম্ভব ছিলো না। সেও ভুলতে চাইতো। কিন্তু, তার মা’য়ের ছুড়ির মতো আঘাত করা কথা গুলো তাকে ট্রমায় ফেলে দিতো। বার বার ভাবতে বাধ্য করতো সে দায়ী, সে দোষী!
সেই যে রেখে গেলো, সেই মা আবার ফিরে আসলো তার যখন বয়স ষোল তখন। নতুন এক ইচ্ছে নিয়ে।
নিজের জীবনের অবিস্মরণীয় সেই ট্রমা, দুর্ঘটনা আজও তাড়া করে বেড়ায় তাকে। নিজের হাতের মধ্যে ছোট্ট শুভ্রের হাত খানা এখনো অনুভব করে সে। তাকে ডাকে, তার সাথে হেসে খেলে কথা বলে। রাতে দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দেয় এখনো।

অতীতের সেই দুঃস্বপ্নময় স্মৃতি গুলো ভাবতে ভাবতেই শুভ্রতার কান্নার গতি কমে এলো। চিৎকার থামিয়ে এবার বুকে হাটু চেপে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে থাকলো। তার জীবনটাই এমন কেন? তার সখের কিচ্ছু থাকেনা!
ছোট্ট বেলার সেই আদুরে ভাইটা রইলো না। মা’কে পেল না! যাকে কিশোরী হয়ে ভালোবাসছে তার পরিপূর্ণ অর্ধাঙ্গিনী হয়ে উঠলো না। তার বিশ্বাসের হয়ে উঠলো না।
সে জানে,মেহরাদ ভাই সম্পূর্ণ ঠিক। সেই সাথে এটাও জানে তার মা’কে আবারও তার প্রতি বাজে আচরণ করতে দেখে তার মৃত্যু সমতুল্য কষ্ট হবে। সেই মানুষটা এখন তাকে মেনে নিচ্ছে আস্তে আস্তে। তার খুজ খবর নিচ্ছে। হয়তো সেই আগের মতোই মেয়ের জায়গায় বসিয়েছে! সেই মানুষটাকে সে কিভাবে ফিরিয়ে দিবে?
কিন্তু সে তো বিয়ে করে ফেলেছে! তার মা এটা জানলে নিশ্চয়ই তাকে আবার আগের মতো ঘৃণা করবে? তাকে অবহেলা করবে? কথা শোনাবে? নিজের জীবনের আবার সেই তিক্ত স্মৃতি গুলো আবার ফিরে আসবে? কিন্তু সে তো মেহরাদ ভাইকে ভালোবাসে! তার মা’কে ফিরিয়ে দেওয়া যেমন অসম্ভব, মেহরাদ ভাইকে ছাড়া’ও তার বাচা অসম্ভব! সে কি করবে এবার….?

বসা থেকে উঠে কাপা কাপা পা’য়ে পুরো রুম পাইচারি শুরু করলো শুভ্রতা। পুরো শরীর থরথর কাপছে। পুরো গা সম্পূর্ণ গরম হয়ে আছে। চোখ ফেটে রক্ত বের হবে যেনো! থরথর পা’য়ে কাপতে কাপতে বেড সাইড টেবিলের দিকে গেল সে। ছোট্ট ড্রয়ারটা খুলে দুটো ছোট ছোট কৌট থেকে কয়েকটা ঔষধ মুখে পুরে নিল। এগুলো তার ডিপ্রেশন, আ্যংজাইটির ঔষধ (অ্যাংজিওলাইটিক বা সেডেটিভ, অ্যান্টিসাইকোটিকস,অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টস)।
খুব কম’ই এগুলোর প্রয়োজন হতো তার। তবে আজ আবার হলো। আ্যংজাইটি থেকে তার প্যানিক এট্যাক হয়ে যায়। অনেক আগে হতো প্রায়। এখনও সেরকমই হচ্ছে।
শুভ্রতার মাথা দিয়ে গরম ভাব ছুটছে। সব কিছু কেমন ঘোলাটে ধোঁয়াষা। তার হাত পা শিথিল হয়ে আসছে। বিছানায় বসে শরীর এলিয়ে দিলো শুভ্রতা। যেভাবে পড়ল সেভাবেই চোখ জোড়া বন্ধ হয়ে গেল মৃদু কাপতে কাপতে। চোখের কোল ঘেষে নোনা জলের ছাপ পড়ে গেল। শুভ্র রঙা নাসিকায় কিছুটা রক্তিম তরল শুকালো। এভাবেই অবচেতন হয়ে মধ্যরাত রাত গড়িয়ে নতুন ভোরের সূচনা হলো। শুভ্রতার জীবনে আরও একটি বিভীষিকাময় রাত পের হলো।
যা সে ভুলতে চায়, তাই-ই চোখের পাতায় ভাসে। তার জীবন বিষিয়ে তুলে। হাহাকারে ভরিয়ে দেয়।

সকালে তালুকদার বাড়িতে সেই আগের মতোই নাস্তার তোড়জোড় চলছে। কিন্তু বাড়ির দুই গিন্নির চোখ মুখ ভিন্ন, অন্যান্য দিন থেকে। যেমন- জাহানারা বেগমের চেহারায় দুশ্চিন্তার আভাস। আজ সকালে উঠে তিনি মেহরাদ কে বাড়িতে পায়নি। স্বপ্না বললো খুব ভোরেই নাকি বেড়িয়ে গিয়েছে আজ। অফিসের জন্য হবে হয়তো! তবুও! তাকে তো সব সময় বলে যায়, আজ কিছু জানালো না? ছেলেটা রাতেও কিছু খেলো না। সকালেও চলে গেল ভোরে, না খেয়ে। স্বামীর কাছে যেতে অফিসে যাওয়ার সময় খাবার দিয়ে দিবেন তিনি,মনে মনে ঠিক করলেন।
রিমা বেগমের মুখ থমথমে। চেহেরা সম্পূর্ণ গাম্ভীর্যতায় ভরা। রাতের দৃশ্য কিছুতেই ভুলতে পারছে না তিনি। এতো রাতে একটা মেয়ে তার চাচাতো ভাইয়ের রুমে কি করে? আবার কি রকম দৌড়ে বের হলো। মেয়েটাকে দূরে রেখে উচ্ছন্বে পাঠিয়ে দিলেন না তো? মেহরাদ আর শুভ্রতার মধ্যে কি কিছু চলছে?

অসম্ভব! সেটা কি করে সম্ভব! শুভ্রতা রায়হানের বউ হবে। তার ভাই ভাবিকে কথা দিয়ে রেখেছে তিনি। একটা সময় সে তার ভাইকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। তার ভাই কতো কতো বছর তার সাথে কথা বললো না। সেই ভাই কিছু চেয়েছে সে ফিরিয়ে দেবে? অসম্ভব! আর মেহরাদ নিশ্চয়ই কারো বাগদত্তা, নিজের বোনের মতো ছোট বোনকে অশালীন কোন সম্পর্কে জড়াবে না?
অবচেতন মন অনেক কিছুই ভাবছে তার। কিন্তু সেগুলো এক মন মানলেও আরেক মন মানছে না। মেয়েটার উপর পুরনো রাগ, ক্ষোভ আবার ভেতরে জমা হচ্ছে। মেয়েটা সব সময়ই সব কিছু নষ্টের কারিগড়। একবার তার ছেলেকে নিঃশেষ করেছে, এখন আবার এতো বছর পর জোড়া লাগানো সম্পর্কটা নষ্ট করলে সে কোন দিন মাফ করবে না এ মেয়েকে৷ কোন দিন না!
মনের ভিতর একরাশ রাগ, ক্ষোভ নিয়ে তিনি মেয়ের অপেক্ষায় রইলেন। সুযোগ পেলেই চেপে ধরবে। কঠিন গলায় শাসিয়ে সঠিক পথে আনবে। সে তার সিদ্ধান্তের বাহিরে কোন অনুনয় বিনুনয় গ্রাহ্য করবে না। কিচ্ছু না। মনে মনে দোয়া করলেন, তার চিন্তা যেন সম্পূর্ণ ভুল হয়। সম্পূর্ণ ভুল।

একে একে সকলে নাস্তার টেবিলে হাজির হলো। রোজা, জাবির সহ সকলে। প্রথমে একটু আকটু কথা হওয়ার পর সকলে নাস্তায় মন নিবেশ করলে জাহানারা বেগম বলে উঠলেন,
“অফিসে কি কাজের চাপ বেশি নাকি? মেহরাদ টা আজ এতো তাড়াতাড়ি চলে গেল?”
“তেমন কোন ইমারজেন্সি তো থাকার কথা না। ও কেন গেল? অফিস গেলে জানা যাবে। ” আলতাফ তালুকদার বললেন।
“এই সোহানা, শুভ্রতাকে ডাকিস নি? আজ এখনো উঠলো না যে!” সুরাইয়া বেগম শুধালেন মেয়েকে।
সোহানা কিছুটা বিরক্ত গলায় বললো,
“একবার দু’বার ডেকেছি? কতো বারিই ডাকলাম শুনলে তো! কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমায়। আবার দরজাটাও লক করা। ”
রিমা বেগমের ভিতরটা তিক্ততায় ভরে গেলো। সেই সাথে কিছুটা ঘৃনাও। মেহরাদের রুম থেকে বের হতেই তো দেখলো রাত একটা বাজে। তাই হয়তো এখনো পরে পরে ঘুমাচ্ছে!
“মেয়েটাকে বার বার বলা হয়েছে, দরজা লক না করে ঘুমাতে। তারপরও লক করে রাখে মাঝে মধ্যে। কোন সমস্যা হলে? ” জাহানারা বেগম বলে উঠলেন।

এর মাঝখানে রোজা খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলো,
“শুভ্রতার কি এখনো আগের সমস্যা গুলো দেখা যায় মা? ”
“নাহ তেমন একটা দেখা যায় না। তবুও ডাক্তার বলেছিল সবসময় অবজারভে রাখতে। ”
“কই আমিতো ওর তেমন কিছুই দেখলাম না বাড়িতে এসে। ” রিমা বেগম বললেন।
জাহানারা বেগম মনে মনে বিরক্ত হলেন ছোট জা’য়ের প্রতি। ছোট্ট মেয়েটাকে অবহেলা, লাঞ্চনা দিয়ে ফেলে রেখে গেছে সেই আট বছর আগে। এসেছে দু বছরও হবে না ভালো করে। এসেও মেয়ের সাথে দু ঠোঁটে কিথা বলেছে কি-না সন্দেহ। ও কি করে জানবে, মেয়েটার এখনো সমস্যা আছে নাকি নেই? টেবিলে জাবির বসা দেখে তিনি চুপ করে রইলেন। যতই পুরনো পরিচিত হোক! বাড়ির জামাই তো! বলার বাকি থাকেনা, অতীতের সেই ঘটনার পর থেকে রিমা বেগম যখন অযাচিত আচরণ করতো শুভ্রতার সাথে। সেই থেকেই ছোট জা’য়ের মধ্যে অদৃশ্য এক দেয়াল তৈরি হয়েছে। সুরাইয়াও তাই। তবে এতে তাদের চলমান সম্পর্কে কোন বাধাঁ পরছে না। শুধু মনে একটা চাপা রাগ রয়ে গিয়েছে আরকি!

“থাক,ওসব বাদ দাও। মেয়েটাকে খায়িয়েই কলেজে পাঠিও। বেশি দেরি হয়ে গেলে আবার না খেয়েই রওনা দিতে চাইবে। সোহানা মা, আবার ডাক দিও একটু পর না উঠলে। ” আলতাফ তালুকদার বললেন।
সোহানা মাথা দুলালো। খাবার শেষে একে একে সকলেই ডাইনিং টেবিল ছাড়লো। জাবির একটু পর বের হবে। সে গিয়ে ড্রয়িং রুমে বসলো, সাথে রোজাও। শান্তা সোহানা উপরে উঠে গেল। তারা রেডি হবে কলেজ, ভার্সিটি যাবে বলে।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১২

রুমে যাওয়ার আগে শান্তা একবার মৃদু আওয়াজে ডেকে গেল শুভ্রতাকে। কিন্তু সাড়া শব্দ পেল না। সে তার রুমে চলে গেল। আবার একটু পর ডাকবে। রেডি হতে হবে এখন, না-হয় দেরি হয়ে যেতে পারে।
কেউ ধারণা করতে পারলো না, বন্ধ দরজার ভিতরে কি অবস্থায় আছে শুভ্রতা.……

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৪