হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৪
সাঞ্জেনা শাজ
সোহানা রেডি হয়ে রুম থেকে বের হলো। গায়ে সাদা কলেজ ড্রেস জড়ানো। কাধে ব্যাগ। শুভ্রতার রুমের দিকে তাকিয়ে দেখলো এখনো দরজা বন্ধ। নয়টার উপর বাজে, একটু পর দশটা বেজে যাবে। কলেজ যাবেনা? আজ এতো ঘুমাচ্ছে কেন?
কপালে ভাজ ফেলে এগিয়ে গেল সোহানা। এবার জোরে জোরেই চাপড় মারলো দরজায়। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ পেল না। সে বিরক্ত হলো কিছুটা। মেয়েটা কি ঘুম ঘুমাচ্ছে হে? এতো গভীর ঘুম কার হয়?
সে আরও কতক্ষণ ডাকাডাকি করলো। প্রায় দশ মিনিট পের হলো। শান্তা আসলো। সোহানার দিকে তাকিয়ে দেখল, সোহানার বিরক্তি মাখা মুখে কিছুটা চিন্তার রেশ। সে মোবাইল হাতে নিল। কল করলো শুভ্রতার মোবাইলে। মোবাইল তো বন্ধ! এবার সে চাপড় মারলো দরজায়। একবার, পর পর কয়েকবার।
তাদের দু বোনের দরজা ধাক্কা ধাক্কি তে নিচ থেকে জাহানারা বেগম উঠে আসলেন ভ্রু কুচকে। ওদের সড়িয়ে সে ডাকলো। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ পেল না। একে একে সবাই শুভ্রতার রুমের সামনে হাজির হলো। চিন্তা, বিরক্তি দুটোই তাদের মধ্যে। সবার শেষে আসলেন রিমা বেগম। তার ভিতর কোন অভিব্যক্তি লক্ষ করা গেল না।
সময় গড়ালো, দশটার কাটা ঘুরলো। এতো ডাকাডাকিতে যে কারো ঘুমানোই অসম্ভব পর এক কথায়। দুশ্চিন্তারা হানা দিল সকলের মনে। বাড়িতে তখন শুধু জাবির উপস্থিত। কি করবে না করবে বুঝে পেল না কেউ।
“এই দরজা ছাড়া আর কোন ওয়ে নেই ওর রুমে যাওয়ার? না-হয় দরজা ভাঙ্গতে হবে মনে হচ্ছে। ” জাভির বললো। শুভ্রতার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।
“কিসব বলছেন? দরজা ভাঙ্গতে হবে কেন? ও তো ঘুমচ্ছে। আরেকটু ডাকলেই উঠে যাবে। ” রোজা বললো আতংকিত হয়ে। তার ছোট্ট বোনটার রুমের দরজা ভাঙ্গতে হবে কেন?
“প্রায় এক ঘন্টার উপর হয়ে গিয়েছে ওকে ডাকা হচ্ছে রোজা। আর কখন ঘুম ভাঙ্গবে ওর? কোন স্বাভাবিক ঘুমিয়ে থাকা মানুষ এতো শব্দে ঘুমতে পারেনা রোজা ।”
সকলের ভিতরে অস্থিরতা দেখা গেল। সুরাইয়া বেগম জাহানারা বেগম আহাজারি শুরু করলেন। বার বার দরজায় জোড়ে জোড়ে চাপড় মারলেন। শান্তার ভিতরে অস্থিরতা দ্বীগুন দেখা গেল। গতকাল রাত থেকেই মেহরাদ ভাইয়ের মধ্যে একটা থমথমে ভোতা ভাব দেখেছে সে। সকালেও বাড়িতে নেই। ভাই আর শুভ্রতার মধ্যে কিছু হয়েছে না-কি? মেয়েটা কি ভুলে কিছু….
নাহ! কিসব ভাবছে সে! সোহানার অবস্থাও তেমন ভালো না। সে খুব চিন্তিত, আতংকিত। আতংক নিয়েই কাপা কাপা গলায় বললো,
“বেলকনির দরজাটা যদি খোলা থাকে তাহলে ভিতরে ঢোকা যেতে পারে হয়তো।”
“তোমাদের বেলকনি তো এডজাস্ট করা না। বেলকনিতে যাওয়া যাবে কিভাবে? ” জাবির বললো।
“গাছ বেয়ে যাওয়া যেতে পারে। দাড়ান আমি যাচ্ছি। দোয়া করুন যেন দরজাটা খোলা থাকে। ” উদ্ভেঘ স্বরে বললো শাফি। সেও স্কুলে যায়নি। রেডি হয়েছিলো যাবে বলে। কিন্তু উদ্ভিগ্নতায় যেতে পাড়েনি।।
তড়িৎ গতিতে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে বাড়ির সদর দরজা পেড়িয়ে বাহিরে গেল শাফি। তালুকদার বাড়ির চারিপাশে বিশাল জায়গা খালি পড়ে। চারদিকে বড় বড় কয়েক রকমের গাছ পালা লাগানো। ছেলে হিসেবে শাফি যথেষ্ট গাছ বায়োনে। আগেও উঠেছে প্রচুর গাছে। তাই এটা তেমন ব্যাপার না৷ আর তাদের বেলকনিও উন্মুক্ত। কোন রেলিং টেলিং নেই এটা সুবিধা। বেলকনিতে যেতে কোন সমস্যা হবে না আশা করা যায়।
মিনিট দশেকের মধ্যে শাফি গাছ বেয়ে বেলকনিতে উঠে গেল। এপাশ থেকে শান্তা জিজ্ঞেস করলো,
“শাফি উঠেছিস?”
“উঠেছি আপু। ”
“দরজাটা কি খোলা?”
“দেখছি আপু….” বলতে বলতেই দরজার নব
ঘুরালো শাফি। খুলে গিয়েছে দরজা। সে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে চেচিয়ে বললো,
“খোলা আপু দরজা…. ” বলতে বলতেই ‘শুভ্রতা আপু… ‘ বলে চিৎকার করে উঠলো।
দরজার ওপাশে সকলের কলিজা খামচে উঠলো। দরজায় থাবা পরলো সকলের এক সাথে। শাফি কে ডাকছে।
“শাফি, দরজা খোল। কি হয়েছে? কি হয়েছে শুভ্রতার? ও ঘুমাচ্ছে না?”
শুভ্রতা অবচেতন হয়ে পড়ে আছে বিছানায়। চোখ মুখ ফ্যাকাসে, কেমন রক্ত শূন্য। বিছানার পাশে ছোট্ট টেবিলের উপর ঔষুধের ছড়া ছড়ি। নাকে মুখে রক্ত শুকিয়ে আছে। তার শরীর থরথর করে কেপে উঠলো। তার ছোট্ট মস্তিষ্ক থমকে গেল। এগিয়ে গিয়ে আর্তনাদ করতে করতে শুভ্রতাকে ডাকা শুরু করলো।
শাফির কান্নার গলা শুনে,সোহানা শান্তা কেদে উঠলো। নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে! সোহানা কেদে উঠলো,
“শাফি, ভাই দরজাটা খুল আগে… ভাই দরজাটা খুল। কি হয়েছে ওর?? হে? দরজাটা খুল। ”
ভয়ে,আতংকিত শাফির সৎবিৎ ফিরতে, আবার ছোটল দরজার দিকে। দরজা খুলতেই হুরমুর করে আহাজারি করতে করতে ঢুকলো সকলে। সোহানা দৌড়ে খাটে উঠে বসে শুভ্রতার মাথাটা উঠিয়ে বুকে চেপে ধরলো। কান্না কাটি শুরু করলো। সকলেরি এক অবস্থা। এমনি রিমা বেগম ও থমকে আছে এরকম অবস্থা দেখে। মস্তিষ্কে কিছুই ধরছে না। বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। এরকম অনুভূতি তিনি অনেক বছর পর-ই পেলেন মেয়ের প্রতি। তার মানে, অবশিষ্ট কিছু এখনো বাকি আছে! তবে তার চোখে জল দেখা গেল না।
জাবির ওনাদের সড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে পালস চেক করলো। শ্বাস চলছে।তবে খুব ধীর পালস। শরীর প্রচন্ড ঠান্ডা, শক্ত হয়ে আছে। মাথায় মুখে পানি ছিটালো, কোন লাভ হলো না। জ্ঞান ফিরছে না। কান্নার রোল পড়ে গেল।
শান্তা কাদতে কাদতে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ গুলো মুছে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু উঠছে না। রোজার মস্তিষ্ক এলো মেলো। সে ঔষধ গুলোর কৌটা গুলো দেখছে। সব গুলো পাওয়ারের হাই ডোজের। এগুলো অতিরিক্ত খেয়েছে নাকি? কত গুলো খেয়েছে?
রোজা জাবির কে এগুলো দেখাতেই, জাবির মাথায় হাত দিয়ে বসলো,
“ওহহ, শীটটট! এগুলো বেশি নিয়েছে না-কি? ওকে এক্ষুনি হাস্পাতালে নিতে হিবে। কুইক। ওর পালস খুব উইক। দেখি সড়ো…”
সকলকে সড়িয়ে সে শুভ্রতাকে পাজু কোলে তুলে নিল। নিয়েই হন্তদন্ত হয়ে রুম থেকে বের হয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে গাড়ির কাছে গেল। পিছন পিছন সকলে ছুটছে। শান্তা দরজা খুলে দিলো। ওকে পিছনের সিটে বসিয়ে আবারও ড্রাইভিং সিটে বসলো। পাশে রোজা উঠে বসলো। পিছনে শান্তা আর জাহানারা বেগম শুভ্রতাকে জড়িয়ে ধরে বসলেন। জাহানারা বেগম শুভ্রতাকে বুকে চেপে কান্না করছেন। শান্তার উদ্দেশ্যে বললেন,
“মেহরাদ কে কল দে তো শান্তা, একটা। ওকে আসতে বল। ”
কাপা কাপা হাতে শান্তা কল লিস্টে গিয়ে ভাইয়া নামক নাম্বারে কল করলো। গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে ততক্ষনে। পিছনে সুরাইয়া বেগম, শাফি আর রিমা বেগম রয়ে গেলেন। রিমা বেগম এগিয়ে গিয়ে গাড়িতে বসলেন না মেয়েকে জড়িয়ে ধরে। কেউ তার জন্য বসেও রইলো না।
গাড়ি চলছে রাস্তা জুড়ে। জাবির ব্যস্ত ভঙ্গিতে ড্রাইভ করছে। ভিতরের অস্থিরতা প্রকাশ্য। ফোন কলে হসপিটালের তথ্য নিচ্ছে, কোথায় নিয়ে গেলে ভালো হবে। এদিকে শান্তা মেহরাদ কে লাইনে পাচ্ছে না। এক বার আরেক বার এরকম কয়েক বার কল দিতে থাকলো সে।
বিক্ষিপ্ত মন মেজাজ নিয়ে মিটিং সেড়ে মেহরাদ কেবিনে ঢুকলো। পিছন পিছন এসিটেন্ট রুবেল আসছে।
“স্যার, বার বার কল আসছে মোবাইলে। আপনার কোন বোন হবে হয়তো। একটু দেখুন…” মোবাইলটা ডেস্কের উপরে দিয়ে পিছু সড়ে আসলো রুবেল । আজ তার স্যারের মেজাজ খারাপ। খারাপ বলতে খুব খারাপ। অফিস চলে এসেছে ভোরে। তাকে-ও কল করে আনিয়েছে ভোরে।
আসার পর থেকে দৌড়ের উপরেই রেখেছে তাকে। আর ঝারি তো আছেই..ফ্রী। অবশ্য শুধু তাকে না, অফিসের সকলেই ভয়ে তটস্থ আজ। যাকে পাচ্ছে তাকেই ঝেড়ে দিচ্ছে। সেই সাথে মুখ দুনিয়ার গম্ভীর। সে তো চোখের দিকেই তাকাতে পারছে না।
বড় স্যার রা এসেছিল, সে দেখেছে। তাদের সাথেও কাঠ ছাট করে কথা বলেছে। সে শুধু ঢোক গিলছে ভিতর ভিতর। কখন, কি কারণে তাকে রফা দফা করে দেয় কে জানে!
“ইমারজেন্সী হতে পারে, আগে দিবে তো!”
“আপনি মিটিং এ ছিলেন স্যার। যদি….” ঢোক গিলে আমতা আমতা করলো সে। এখন এটা বলছে তখন ঠিকি ঝাড়তো ডিস্টার্বের কারণে।
গলার টাই টা লুজ করে কোমড়ে হাত চেপে ডেস্কের উপরে মোবাইলটার দিকে তাকালো মেহরাদ। শক্ত, গম্ভীর চোয়াল খানা তীক্ষ্ণ হলো আরও। কপালে ভাজ পড়লো কয়েকটা। এক হাতে মোবাইলটা হাতে নিল।
শান্তার মোবাইল মোবাইল থেকে অনেক গুলো কল। রোজার নাম্বারেও। জাবিরেরও আছে। আধা ঘন্টার মধ্যে এতো এতো কল! বাড়িতে কোন প্রবলেম হয়েছে না কি!
সে কল লিস্টে ঢুকে জাবিরের ফোনে কল করতে যাবে তার আগেই আদনানের ফোন থেকে কল আসলো। রিসিভ করে স্পিকারে দিয়ে, ডেস্কের উপর থেকে পানির বোতল টা হাতে নিল সে। আফিসে আসার পর থেকে কাজের মধ্যে ডুবে আছে সে। রাতের ঘটনা মনে পড়লেই হৃৎস্পন্দন থমকে আসে তার। শুভ্রা কেদেছে তার কথায়, সে জানে। সে ফেরায়নি মেয়েটাকে, ইচ্ছে করেই ফেরায়নি৷
কখনো কিছু কিছু ধাক্কাই মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। পরিনিতিতে পৌছাতে সাহায্য করে। ম্যাচুরিটি এনে দেয়। সে সব সময় শুভ্রা কে দায়িত্ব জ্ঞানের বেড়াজাল থেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু এখন সে চায়, শুভ্রা ম্যাচুরিটিতে পৌছাক। নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সে জানে, শুভ্রা তাকে ভালোবাসে। কিন্তু এর গভীরতা উপলব্ধি ওর জ্ঞানের বাইরে। তাই দু-টানায় ভোগে। তাকে আর ওর মা’কে অপশন হিসেবে দেখে। তার ভালোবাসাকে মেনে নিবে নাকি ওর মা’কে প্লেজার করতে ওনার কথায় রাজি হবে সেটা। কিন্তু সে তো তার ভালোবাসা কে কোন অপশনে দেখতে চায় না! সে সব সময় শুভ্রার জীবনে এভরিথিং হয়ে থাকতে চায়। যার অপশন, চয়েস সবকিছু তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে আর তাতেই শেষ হবে। ব্যাস!
মাটি যত পুড়ে ততই শক্ত হয়, দৃঢ়তা বাড়ায় নিজের। শুভ্রা’ও দৃঢ় হবে তার ভালোবাসায়। একটু পুড়ুক, কষ্ট পাক। সে মানিয়ে নিবে পরে। আগে তার ভালোবাসা টা উপলব্ধি করুক সম্পূর্ণ রূপে।
মেহরাদ পানির বোতলে সিপ লাগিয়ে এক ঢুক পানি খেল। সেই সাথে আদনানের উদ্ভীগ্ন কন্ঠঃ ভেসে আসলো,
“মেহরাদ…মেহরাদ কোথায় আছিস তুই? কই এখন তুই?”
ভ্রু কুচকালো মেহরাদ। মোবাইল হাতে নিয়ে সময় দেখে গম্ভীর স্বরে বললো,
“ঠিক এগারোটা বাজে আমি কোথায় থাকবো বলে তোর মনে হয়? অফকোর্স অফিসে। আ’ম বিজি, ম্যান। কিছু বললে ফাস্ট বল। বাড়িতেও কথা বলতে হবে। মেইবি ইমারজেন্সি। ”
“তুই এখনো অফিসে? বাড়িতে কথা হয়নি তোর? ”
“না,হয়নি। মিটিংয়ে ছিলাম….” বলতে বলতেই দেখলো তার কেবিনের কাচের দরজা ঠেলে আলতাফ আর আকরাম তালুকদার ভিতরে ঢুকছে।
মেহরাদ কপালে ভাজ ফেলে ফোনটা কানে চাপালো স্পিকার অফ করে। ওপাশে আদনান কিছু বলবে তার আগেই আলতাফ তালুকদার ঘাবড়ে যাওয়া ভঙ্গি নিয়ে উৎকন্ঠিত চেহারায় বললো,
“মেহরাদ আমাদের হাসপাতাল যেতে হবে এক্ষুনি। শুভ্রতা হয়তো উলটা পালটা ঔষধ খেয়ে রাত থেকে মনে হয় সেন্সলেস হয়ে পড়ে ছিল। আমরা আসার সময়ও ওকে দেখিনি। জাবির ওরা হসপিটাল এডমিট করেছে। দ্রুত চলো। ”
মেহরাদ অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। হাত দিয়ে কানে চেপে রাখা ফোনটা সশব্দে ফ্লোরে পড়ে গেল। ওপাশে আদনান হ্যালো হ্যালো করছে। বার বার বলছে–‘মেহরাদ রিলেক্স। ওরা ** হসপিটালে আছে। আমি যাচ্ছি। তুই আস…’
হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৩
মেহরাদ সেকেন্ড ব্যয় করলো না। কারো তোয়াক্কাও করলো না। ঝড়ো গতিতে কেবিন ছেড়ে বেড়িয়ে গেল। মোবাইলটাও ফ্লোরে পড়ে রইলো। লিফটের দিকে গেল না মেহরাদ। পকেট থেকে গাড়ির চাবিটা বের করতে করতে দ্রুত বেগে সিড়ি ভেঙে নামতে থাকলো। তার মস্তিষ্ক দিশাহীন। দিশেহারা তার অবস্থা। সারাদিন ধরে রাখা শক্ত গম্ভীর চোয়াল খানা মানুষটার চেহারায় তীব্র উদ্ভেগ, ভঙ্গুরতা দেখলো সকল স্টাফেরা। মেহরাদের প্রবল দৌড় দেখে আতংকে তাঁরা একে একে সকলে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। আশ্চর্য তাদের চাহনি।
পিছন থেকে আলতাফ তালুকদার আর আকরাম তালুকদারও বেড়িয়ে গেলেন তাদের সাথে রুবেলও গেল। তারা নিচে নামতে নামতে মেহরাদের গাড়ি গেট পেড়িয়ে গেছে ততক্ষনে। তারা গিয়ে রুবেল হয় অন্য গাড়িতে উঠে বসলো।
