Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২৬

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২৬

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২৬
রুপান্জলি

,,, অর্পনা ধীরো গতিতে দ্বীপের চুলের ভাজে ভাজে হেয়ার ড্রায়ার চালাচ্ছে,, আর দ্বীপ মন দিয়ে অর্পনাকে দেখছে। অর্পনা দ্বীপকে পরিপাটি করে দিয়ে রুটি ছিড়ে তাতে ভাজি নিয়ে দ্বীপের মুখের সামনে ধরতেই দ্বীপ সেটা খেয়ে নিলো। অর্পনা মৃধু হেসে খাওয়ানো কান্টিনিউ করতে করতে আবেগি কন্ঠে ডাকলো —
,,, দ্বীপ, বেবি!! শুনেন না!!
,,, অর্পনার দিকেই তাকিয়ে ছিলো দ্বীপ,, অর্পনার মিষ্টি স্বরের ডাক শুনে দুবার পলক ঝাপ্টালো,, অর্পনা আরেকটু রুটি এগিয়ে দিয়ে বললো — আপনি তো এখন ঔষধ খেয়ে ঘুমাবেন তাইনা? আর ঘুম থেকে উঠবেন দুপুর বেলা খাওয়ার টাইমে। এটুকু সময়ে আমি একটু ভার্সিটি থেকে ঘুরে আসি? পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে রেগুলার ক্লাস করা খুব দরকার দ্বীপ,, অথচ আমি সাত দিন ধরে ভার্সিটিতে যাইনা। আজকে যাই? দুটো ক্লাস করে আপনার ঘুম ভাঙার আগেই ফিরে আসবো,, যদি ফিরার আগে আপনার ঘুম ভেঙে যায় তাহলে চেচামেচি, ভাঙচুর করবেন না, কথা দিন।
,,,দ্বীপ অসহায়ের মতো প্রশ্ন করলল — ভার্সিটি যেতে হবে?

,,, অর্পনা মাথা ঝাকিয়ে হ্যা বুঝিয়ে বললো — যাই? আসলে পড়ালেখা আমার কাছে খুব ইম্পর্ট্যান্ট। যেদিন আপনি ছেড়ে দিবেন সেদিন তো নিজেকে কিছু করে খেতে হবে নাকি? পাপ্পা তো আমায় ত্যাগ করলো,, যদিও আমার একটা এইট মিলিয়নের পেইজ আছে,, ওখান থেকে অনেক টাকা আসে। সেসব আমার ইউজ করা হয়না,, আস্রম – মসজিদ গুলোতে দেওয়া হয়। এবার থেকে বোধহয় ইউজ করতে হবে,, পাপ্পা যেহেতু নিষেধ করেছে সেহেতু উনার টাকা আমি ছুয়েও দেখবোনা।

,,, অর্পনার দির্ঘ কথার পুরোটা দ্বীপ বুঝলো কিনা জানা নেই তবে সে শান্ত ভাবে খেয়ে গেলো। ওকে শান্ত থাকতে দেখে অর্পনা উত্তর পেয়েছে। এই সাত দিনে দ্বীপকে যতটুকু চিনেছে ততোটুকুতে এটুকু আয়ত্তে এসেছে যে,, কোনোকিছু দ্বীপের মন মাফিক না হলে সে রাগারাগি করুক আর না করু ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকাবেই। নেতা মানুষ বলে কথা,, নেতাদের তো আবার শিরায় শিরায় রাগ থাকে। খাওয়ানো শেষ হতেই দ্বীপের মুখ মুছিয়ে অর্পনা দ্রুত রেডি হতে চলে গেলো,, বেশি একটা সময় নেই,, দুজনের ঘুম থেকে উঠতে উঠতে ৮ টা বেজে গিয়েছিলো। যে অর্পনা আগে ঘুমানোর জন্য কোনো কারন খুজে পেতোনা, শান্তি লাগতো না,, সারা রাত জেগে থাকতো, সেই অর্পনা এখন দ্বীপকে জড়িয়ে ধরে পুরো একখানা রাতের পাশাপাশি, দিনেরও অর্ধেক সময় কাবার করে দেয় তবুও ঘুম ভাঙতে চায়না। সাইকোলজি বলে,,

মানুষ নাকি তার প্রিয় মানুষের সংস্পর্শে থাকলে প্রচুর ঘুমায়। কারন, প্রিয় মানুষের কাছে তারা নিজেদের এতোটাই সেইভ মনে করে যে তার সান্নিধ্যে পেলে বিপদ আপদের কথা মাথায় থাকেনা। দ্বীপ হয়তো এখন অসুস্থ বলে তেমন কিছুই বুঝেনা,, কিন্তু যখন অর্পনাকে বুকের মাঝে ঝাপ্টে ধরে ঘুমোয়, তখন দ্বীপের সংস্পর্শ অর্পনাকে শান্তি দেয়,, অজানা ভালোলাগায় ছেয়ে যায় মনপুট। অর্পনা যখন রেডি হচ্ছিলো তখন দ্বীপ এক দৃষ্টিতে অর্পনাকেই দেখতে থাকলো,, অর্পনাও আয়নার মাধ্যমে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে আছে। তাকানোর মাঝেই হঠাৎ খেয়াল করলো দ্বীপ ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। ব্যাবাচেকা খেয়ে গেলো অর্পনা,, লোকটা এরকম রাগি রাগি লুক দিচ্ছে কেনো? কি নিয়ে অসন্তুষ্ট হলেন আবার?অর্পনা চুলে ঝুঁটি করে দ্বীপের নিকট এগিয়ে গেলো,, চুল গুলো বেক ব্রাশ করে দিতে দিতে বললো — মহাশয় রেগে আছেন কেনো? আমি কি কিছু করেছি?
,,,অর্পনা কাছে আসতেই দ্বীপ ওর টিশার্টের কলার চেপে ধরে একদম কাছে টেনে নিলো। দ্বীপের কান্ডে ভয় পেলো অর্পনা,, হুট করে এমন করলে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। অর্পনার ভয় কাতর মুখটাকে পাত্তা দিলোনা দ্বীপ,, ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো — এসব কি পরেছিস? কি পরেছিস?

,,,অর্পনা অবাক হলো, লোকটা প্রথম দিনের মতো রাগ দেখাচ্ছে। তাও ভালো চুলে ধরেনি,,অর্পনার চুলের গোড়ায় খুব ব্যাথা হয় তাই একটু টান লাগলেই সারাদিন মাথা ব্যাথা করে। সেদিন দ্বীপ চুলে ধরার পর প্রায় ৮-৯ ঘন্টা মাথা ব্যাথা করেছিলো। দ্বীপকে শান্ত করতে হালকা ঝুকে ওর গালে গাল ছুয়ালো অর্পনা। নিজের কাজে নিজেই শিরশিরিয়ে উঠলো,, ৭ দিন আগে সেইভ করায় দ্বীপের গালে খোচা খোচা দাড়ির আবির্ভাব ঘটেছে। আর সেই দাড়ির আচরেই শিরশিরিয়ে উঠলো অর্পনা। তার শ্বাসের গতি তিব্র,, বুকের ভিতর দ্রিম দ্রিম শব্দ হচ্ছে। অর্পনা তার মনে জমা সুক্ষ অনুভুতির জোয়ার সামলে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বললো —

,,, সরি!! শান্ত হোন, চেন্জ করে আসছি আমি।
,,,কথাটা বলতেই দ্বীপ ওর টিশার্ট টা ছেড়ে দিলো,, অর্পনা তড়িৎ গতিতে ওয়াসরুমে ঢুকে গেলো। মির্জা বাড়িটা অর্পনার শ্বশুর বাড়ি হওয়ায় ইরা ওর জন্য টিশার্ট, ট্রাউজার, লুস প্যান্ট, লং শার্ট এর সাথে কিছু কূর্তি, চুড়িদার আর লং গাউন ও এনেছিলো। সেগুলো থেকে একটা অনিয়ন কালারের শর্ট গাউন নিয়ে দ্রুত চেন্জ করে ওয়াসরুম থেকে বেরুতেই দেখলো, দ্বীপ এখোনো জেগে আছে। অন্য সময় হলে ঔষধ খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে যায় যদিও তখন অর্পনা তাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত ভুলিয়ে দেয়। আজকে তো সেসব সম্ভব হচ্ছেনা তাই বোধহয় এখোনো ঘুমায়নি। অর্পনা আয়নার সামনে গিয়ে ঝুটি করা চুলগুলো ছেড়ে সেগুলো গার্ডার দিয়ে আটকে দিলো। দ্বীপ নরম স্বরে ডাকলো — ভেলোরা!!

,,,অন্তরপুট কেপে উঠলো অর্পনার,, এই ডাকটা তার মাঝে আবেশের শিহরন বয়িয়ে দেয়,, অর্পনা অনুভব করতে পারে সে দ্বীপের মাঝে আটকে যাচ্ছে,, হতে পারে ভালোবাসার মতো পাপ সে আবারও করতে যাচ্ছে। অর্পনার ভাবনার মাঝে আবারও নরম স্বরে ডাকলো দ্বীপ — ভেলোরা!!
,,, ডাক শুনে দ্বীপের দিকে এগিয়ে গেলো অর্পনা,, দ্বীপ ওকে টেনে অপরিপক্ক ভাবে উড়নাটা নিয়ে ঘোমটা দিয়ে দিলো,, পরপর অর্পনার হাত টেনে মাথায় রেখে বললো — ঘুমাবো!
,,,দ্বীপের কান্ডে মোহিত হলো অর্পনা। এই অবস্থায় ও লোকটা তাকে শাসন করছে,, ঠিক ভুল ধরিয়ে দিচ্ছে। হয়তো একটু রাগ দেখিয়েছে কিন্তু অপমান তো করেনি? অনেকে তো ঠিক ভুল ধরিয়ে না দিয়ে ডিরেক্ট অভদ্র- অসভ্য বলে গালি দেয়। দ্বীপ হাত বাড়িয়ে অর্পনার সামনে আসা চুল গুলো পিছনে সরিয়ে দিলে। বিনিময়ে মুচকি হাসলো অর্পনা ,, উড়না টেনে ঠিকঠাক ভাবে ঘোমটা দিয়ে দ্বীপকে বিছানায় শুয়িয়ে মাথায় হাত ভুলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পরলো দ্বীপ। ওকে ছেড়ে আসার বেলায় কি যেনো হলো অর্পনার,, মনের মাঝে কিছু নিষিদ্ধ চাওয়ারা উকি দিচ্ছে। সে দমাতে চেয়েও মনকে বুঝাতে পারলোনা,, সহসা দ্বীপের কপালে, গালে ঠোঁট ছুইয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। দ্বীপ জেগে থাকলে বোধয় এমনটা করতে পারতোনা। যতোই হোক লোকটা তো একটা লোক তাইনা?

,,,হিসেব মাফিক দুটো ক্লাস করে বেড়িয়ে এসেছে অর্পনা,,আজ আর বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা দেওয়া হয়নি। ক্লাস করা কালিন সময়েও দ্বীপের জন্য মন কেমন করছিলো,, লোকটা তো আশ্বাস দিলো চেচামেচি করবেনা কিন্তু পরে যদি ভুলে যায়? আবারও চেচামেচি করে? সেসব আশঙ্কা করেই তারাহুরো করে ক্লাস থেকে বেড়িয়ে এসেছে অর্পনা। করিডর দিয়ে হাটার সময় অনেকেই তাকিয়ে ছিলো ওর দিকে,, বিশেষ করে যারা পরিচিত তারা একদম হা হয়ে তাকিয়ে ছিলো,, পল্লব তো অর্পনার নতুন লুক দেখে বুকে হাত দিয়ে একদম ঘাসের উপর লুটিয়ে পরেছিলো। এই ছেলেটা বরাবরি ড্রামা বাজ, কথায় কথায় ড্রামা করা যেনো ওর পেশা। অর্পনা যখন করিডর ধরে তারাহুরো করে হেটে যাচ্ছিলো তখনি ওর সামনে এসে দাড়ায় আদ্রিয়ান। স্থান, কাল না ভেবেই অর্পনাকে জড়িয়ে ধরতে নিলে অর্পনা দূরে সরে গিয়ে রাগি কন্ঠে বললো — এটা ভার্সিটি প্রাঙ্গন, শিক্ষার জায়গা,, একজন শিক্ষক হয়ে আপনার এসব আচরন বেমানান প্রোফেসর।

,,, আদ্রিয়ান যেনো সেসব কানেই তুললো না। সে জোর পূর্বক অর্পনার গাল আকরে ধরে অশান্ত কন্ঠে বললো — কেমন আছো জানেম? আমার জান!! তুমি এক তলা থেকে লাফ দিয়েছিলে কেনো? যদি তোমার কিছু হয়ে যেতো? তুমি জানো, আমি কতো চিন্তিত ছিলাম? সাতটা দিন ধরে ভার্সিটিতে আসোনা,,কল দিলে কল ধরোনা,, এমন করছো কেনো? বলোনা। আমায় এতো কষ্ট দিয়ে কি আনন্দ পাও?
,,, অর্পনা রাগ না দেখিয়ে নিবির ভাবে আদ্রিয়ানের হাতখানা গাল থেকে সরিয়ে নরম স্বরে বললো– আমার জন্য কষ্ট পেতে হবে কেনো? আপনি তো জানেন আমি ম্যারিড, একজন বিবাহিত নারীকে নিয়ে কল্পনা করাও হারাম। একজন মুসলিম হিসেবে আপনার হারাম থেকে দূরে থাকা উচিৎ। আর, আমি আপনাকে আগেও বলেছি আদি, আপনার প্রতি আমার আর কোনো ফিলিংস অবশিষ্ট নেই, যা আছে সবটাই বিরক্তি।
,,,অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আদ্রিয়ান, সে নিজেও জানে অন্যের বউয়ের দিকে নজর দেওয়া মহা পাপ। কিন্তু মন তো বুঝেনা,, আদ্রিয়ান তো ভাবতেই পারেনা তার জানেম তাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করে নিয়েছে আজ ৮ দিন পেরুতে যাচ্ছে। আদ্রিয়ানের চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে উঠলো, সে জলজল চোখে তাকিয়ে বললো — অথচ চার বছর আগে তুমি আমার পায়ে ধরে ভালোবাসা চেয়েছিলে।

,,,, অর্পনা তাচ্ছিল্য হেসে বললো — আর আপনি আমাকে লাত্থি মেরে আপনার পা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।
,,, এই পর্যায়ে আদ্রিয়ানের চোখ ছাপিয়ে জল গড়ালো,, সে কাতর স্বরে বললো — ক্ষমা চেয়েছি,, এখোনো হাজারবার পায়ে পরতে রাজি আছি। আমাকে মাফ করে দাও জানেম,, তুমি হীনা মরে যাবো আমি।
,,,অর্পনা চোখ মুখ শক্ত করে কাট কাট গলায় বললো– ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভেলির নাম শুনেছেন? যেখানে ২০ লক্ষ বছর ধরে বৃষ্টি হয়না, বর্ষা হওয়া তো দূর। সেই রুক্ষ মরুভূমি যতোখানি রুক্ষ আপনার প্রতি আমার ইমোশন তার চেয়েও হাজার গুন রুক্ষ আদ্রিয়ান। ড্রাই বেলিতে বৃষ্টি হওয়ার চান্স যদি ১% ও থেকে থাকে তাহলে বলবো, আপনার প্রতি আমার মন গলার চান্স ০.০০% ও নেই। তাছাড়াও আমি বিবাহিত,, এই বিয়েটা আমি আয়োজন করে করিনি আদি,, পরিস্থিতির মায়ায় পরে করেছি। সবচে ইম্পরট্যান্ট হলো,, আমি আমার উনার মায়ায় পরে গিয়েছি। উনি সুস্থ হলে আমাকে মানুক আর না মানুক, আমি আমার মনে আর কারোর প্রবেশ গ্রহণ করতে পারবোনা।

,,,কথাটা বলে আদ্রিয়ানকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো অর্পনা। আদ্রিয়ান যেনো কোনো একটা ঘোরের মাঝে হাড়িয়ে গিয়েছে,, অর্পনা অন্য কারোর মায়ায় পরেছে? কেনো হলো এমন? এটা তো হওয়ার কথা ছিলোনা। অর্পনা তো তাকে ভালোবাসতো, খুব ভালোবাসতো। সেদিন যদি মেয়েটাকে সে সামান্য মুল্য দিতো তাহলে আজ তারা সুখি দম্পতি থাকতো। তাদের মিষ্টি একটা সংসার হতো,, কিউট কিউট বাচ্চা কাচ্চার বাবা মা হতো তারা। কেনো হলো না সেসব? কেনো ভালোবাসা হয়েও হলোনা তাদের? আদ্রিয়ান নিজেকে সামলাতে ফাকা একটা ক্লাসে ঢুকলো। দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে কয়েকবার মাথাটা দেয়ালের সাথে বারি মেরে নাক টেনে ফোপাঁতে ফোপাঁতে ঠোঁট নাড়িয়ে গাইলো —
,,,তোমার আমার প্রেম,, আমি আজো বুঝিনি,,
,,ঐ চোখের চাওয়াতে ,, প্রেম আজো দেখিনি,,
,,দূরে তবু দূরে,, সরে থাকতে পারিনি,
,,কাছে এসে কেনো,, কাছে আসতে পারিনি,,
,,আমি আজো বুঝিনি,, আমি আজো বুঝিনি,,

রাত,,৮ টা ৪৫ মিনিট,,
,,, ভার্সিটি থেকে আসার পর থেকে অর্পনার মুখটা ভার,, মনপুটে ব্যাথারা এলোমেলো ভাবে হানা দিয়েছে।
ভার্সিটি থেকে বেরুনোর পর গেইট থেকে কিছুটা দূরে আরশাদ জামানের গাড়ি দেখোছিলো সে,, অর্পনা ভাবলো হয়তো পাপ্পা তাকে দেখতে এসেছে,, তাই ছুটে গিয়েছিলো গাড়ির কাছে। কিন্তু অর্পনা গাড়ির কাছে পৌছাতেই ঝানালার গ্লাস উঠিয়ে দিয়েছেন আরশাদ জামান। ওকে এক প্রকার না দেখার ভান করে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সামনের রোড ধরে চলে গেলেন। পাপ্পার কার্যে বড্ড ব্যাথিত হয়েছে অর্পনা,, সেই সাথে অতিতের কিছু তিক্ত সৃতি একসাথে জমাট বেধে মন মস্তিষ্ককে বিষাক্ত করে তুলেছে। যার ফলে দুপুর ৎেকে দ্বীপকে পুরোটা সময় আগলে আগলে রাখলেও প্রতিদিনকার মতো বকবক করা হয়নি। অন্যদিন গুলোতে অর্পনা যখন দ্বীপকে রাতে ঘুম পারাতো তখন অনেক রকম কথা বলতো। গল্প শুনাতো, মাঝে মাঝে গান শুনাতো। আজ সেসবের কিছুই নেই,, সে শুধু মুখ মলিন করে দ্বীপের মাথায় হাত ভুলিয়ে দিচ্ছে। দ্বীপ বোধহয় অর্পনার বকবক গুলো মিস করছে, দ্বীপ উসখুস করে উঠে বসলো। দ্বীপকে উঠে বসতে দেখে অর্পনা মলিন স্বরে বললো — উঠে পরলেন কেনো দ্বীপ,, ঘুমান, আপনি ঘুমালে আমি পড়তে বসবো।

,,,,দ্বীপ শুনলোনা সেসব, অনর হয়ে বসে রইলো। অর্পনা একটু উঠে দ্বীপের হাত টেনে শুয়াতে চাইলো,, দ্বীপ তখনো অনর। অর্পনা অনেক ধৈর্যের সাথে ঠোঁট কামরে নিজের মনের দগ্দতা লুকিয়ে দ্বীপের পাশাপাশি গিয়ে বসলো। অল্প করে দ্বীপে কাধে মাথা ঠেকিয়ে বললো — আমায় একটু বুঝবেন না আপনি? মনটা ভালো নেই,, শুয়ে পরুন না দ্বীপ।
,,,দ্বীপ তখনো শক্ত হয়ে বসে রইলো,, অর্পনা ওর কাদ থেকে মাথা তুলে বললো — কথা শুনছেন না যে? কি হয়েছে? কিছু লাগবে?
,,, দ্বীপ অর্পনার কোলে মাথা রেখে ওর হাত রেনে মাথায় রেখে বললো — কথা বলো।
,,, এখন কথা শুনার সময়? আমি মাথায় হাত ভুলিয়ে দিচ্ছি ঘুমান।
,,,অর্পনার কথা শুনে দ্বীপ ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে উঠতে চাইলে, অর্পনা ওকে আটকে দিয়ে চুলের ভাজে হাত চালাতে চালাতে বললো — বলছি বলছি,, সবসময় খালি জেদ করে,, জেদি লোক একটা। আজকে আপনাকে একটা দুঃখি রাজা আর তার রাজকন্যার গল্প বলবো। আই নো, একটু পর আপনি এসব ভুলে যাবেন,, তাই আপনাকে বলাই যায়। সুন্দর একটি রাজ্যে সুন্দর একজন কিং ছিলো তার নাম আরশাদ জামান আর তার কুইন ছিলো সুস্মিতা কাইসার।

,,,, সুস্মিতা কাইসার ছিলেন খুব ধনি পরিবারের মেয়ে আর আরশাদ জামান ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তার ছেলে। দুজনের অবস্থানে ছিলো আকাশ পাতাল ব্যবধাব তবে ভালোবাসার অঙ্কে দুজনি ছিলেন সমান দোষী। তারা একে অপরকে এতোটা ভালোবাসতো,, যেই ভালোবাসার ডেফিনিশন আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কারোর কাছে ছিলোনা। তাদের সম্পর্কের সূচনা হয় ভার্সিটি থেকে,, আরশাদ ছিলো সিনিয়র আর সুস্মিতা ছিলো জুনিয়র ,, দুজনার মাঝে ৪ বছরের তফাৎ ছিলো । এক প্রকার বংশ মর্যাদা লুকিয়ে রেখেই প্রনয়ে লিপ্ত হয়েছিলেন সুস্মিতা কাইসার। বিষয়টা জানতে জানতে তারা একে অপরকে গভীর ভাবে ভালোবেসে ফেলে যার ফলে আরশাদ সুস্মিতাকে দূরে সরাতে পারেনি। সময় কাটে এভাবেই,, দুজন দুজনের মতো পড়ালেখা করতে থাকে,, ভার্সিটি শেষ হলে পড়ালেখার খাতিরে দুজনের মাঝে অবস্থানের দূরত্ব হলেও মনের সাথে মনের কোনো দূরত্ব ছিলোনা। সময় গড়ায় সময়ের স্রোতে,, সুস্মিতা কাইসারের পরিবার শিক্ষিত হওয়ায় এতোদিন বিয়ের কথা না বললেও মেয়ের যখন ২৪ পেরিয়ে যাচ্ছিলো তখনি বিয়ের জন্য চাপ দেন তারা। ততোদিনে আরশাদ জামানের ও চাকরি হয়ে গিয়েছিলো,, সুস্মিতা কাইসারকে বিয়ের জন্য প্রেসার দেওয়া হলে আরশাদ জামান তার মা আর বাবাকে নিয়ে সুস্মিতাদের বাড়িতে হাজির হয়,, অত্যন্ত ভদ্রতার সহিত সেদিন আরশাদ জামানের বাবা বিয়ের প্রস্তাব রেখেছিলেন।

তবে কাইসার বাড়ির কেউ সেই বিয়েতে রাজি হোননি, তাদের এতো যত্মে রাখা মেয়েকে, তাদের থেকেও মিম্নবর্তি ফ্যামিলিতে বিয়ে দিবেন না তারা। এসব নিয়ে সুস্মিতা কাইসার কান্নাকাটি করলে উনাকে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিতে চান। আরশাদ জামান আর সুস্মিতা একে অপরকে এতোটাই ভালোবাসতো যে কোনোকিছু না ভেবে বিয়ের দুদিন আগে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে নেয়। তারপর ওদের সুন্দর একটা সংসার হয়, বছর পেরোতেই একটা ফুটফুটে মেয়ে সন্তান হয়। আরশাদ জামান শখ করে মেয়ের নাম রাখেন অর্পনা,, আরশাদ জামান চাইতেন উনার প্রিন্সেস যেনো বড়ো হয়ে সবার কল্যানে আসে,, মন খুলে পরোপকার করে। লোকে বলে মানুষ নাকি তার নামের মতোই গুন পায় তাই আরশাদ জামান সেই সূত্র ধরেই মেয়ের নাম রাখেন অর্পনা। তারপর ধীরে ধীরে সময় কাটে,, অর্পনা বড়ো হয়, পাপ্পার হাত ধরে হাটতে শিখে, ধীরে ধীরে দোড়াতে শিখে। দৌড়াতে দৌড়াতে একটা সময় অর্পনা অনেকটা বড়ো হয়ে যায়,, তার বয়স তখন ৫ বছর ৪ মাস।

অর্পনা এখন পুরোপুরি গুছিয়ে কথা বলতে পারে, অন্যান্য বাচ্চাদের মতো তোতলায় না। অর্পনার রোজকার রুটিন হচ্ছে পাপ্পার তৈরি করা রুল্স ফলো করা। আরশাদ জামান চান উনার মেয়ে খুব স্ট্রং হবে,, উদারতার সাথে সাথে প্রতিবাদি হয়ে উঠবে। অর্পনাও পাপ্পার সব কথা শুনতো,, পাপ্পার একেকটা কথা তার কাছে নীতি বাক্যের মতো কাজ করতো। সে পাপ্পাকে আইডল মনে করতো,, পাপ্পাকে এমন ভাবে ফলো করতো যে,, সে সর্বদা পাপ্পার মতো সেইম সেইম ড্রেস পরতো,, পাপ্পার সাথে রোজ ভোর বেলা জিম করতো,, জগিং এ যেতো আবার জগিং থেকে ফিরে এসে মাম্মার হাতে বানানো নাস্তা খেতো। এভাবেই সময় পেরুচ্ছিলো,, অর্পনা বাবার মতো সাহসী হতে গিয়ে এক প্রকার ছেলেদের মতোই চলাফেরা করতো। নরমাল্লি মেয়েরা যেসব ড্রেস পরে সেসবের ধারে কাছ দিয়েও যেতোনা মেয়েটা। সে পাপ্পার মতো পোশাক পরতো,, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি এসব ছিলো তার প্রিয় খেলা। সেসব নিয়ে আরশাদ জামান কিংবা সুস্মিতার কোনো আপত্তি ছিলোনা,, তারা বরাবরি নিজেদের মেয়ের উপর হেপি ছিলেন। এভাবেই চলতে থাকে অর্পনাদের ছোট্ট সংসার।

হঠাৎ একদিন কি থেকে যেনো কি হয়ে গেলো,, অর্পনার তখন সাত বছর,, অর্পনা ইদানীং মাঝে মধ্যেই খেয়াল করে পাপ্পা আর মাম্মার মাঝে কি নিয়ে যেনো ঝগড়া হয়। ঝগড়া করার সময় পাপ্পা কিছু না বললেও মাম্মা বরাবরি চেচামেচি করতো,, কান্নাকাটি করতো,, চিৎকার করে বলতো “” আমার মুক্তি চাই আরশাদ,এই অপূর্নতার সংসার আমার চাইনা, আমাকে ডিভোর্স দেও”” আরশাদ জামান বিপরিতে শুধু সুস্মিতার হাত ধরতেন,, কখোনো গাল আকরে ধরতেন,, আবার কখনো কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলতেন”” কোথায় অপূর্নতা সুসি? আমরা তো খুব ভালো আছি, আমি তুমি আমাদের অর্পন সাথে আব্বু আম্মু। এতো সুন্দর একটা সংসারে তুমি পরিপূর্ণ হতে পারছোনা কেনো সুসি? এরকম করোনা, তোমার আমার বিচ্ছেদ আমাকে বড্ড পোড়াবে। আমাদের মেয়েটার কথা অন্তত ভাবো।”” এরকম হাজারটা বুঝ দিতেন তবুও মানতে চাইতেন না সুস্মিতা কাইসার। অর্পনা তখন বেশ বুঝদার,,ভালো মন্দ সব বুঝতে পারে,, পাপ্পার কাছে রেগুলার ইংলিশ চর্চার ফলে ডিভোর্স শব্দের অর্থটাও বুঝতো অর্পনা। মাম্মা পাপ্পার ঝগড়া দেখে অর্পনা শুধু কাদতো,, ওকে কাদতে দেখলে মাঝে মধ্যে থেমে যেতেন সুস্মিতা কাইসার কিন্তু ও ঘুমিয়ে গেলেই আবার ঝগড়া শুরু করে দিতেন।

একদিন ভোর রাতে চেচামেচির শব্দ শুনে অর্পনার ঘুম ভেঙে যায়। ছোট্ট অর্পনা চোখ কচলাতে কচলাতে ঘুম থেকে উঠে বসে সামনে তাকাতেই দেখলো আরশাদ জামান সুস্মিতা কাইসারকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বার বার বলছিলেন “” ভালোবাসি সুসি, খুব ভালোবাসি। আমার ভালোবাসাকে এভাবে পা দিয়ে পিশে চলে যেওনা,, আজ চলে গিয়ে হয়তো তুমি সর্গ সুখ পাবে কিন্তু তোমার সুখের বিনিময়ে আমি আর আমার মেয়েটা দুঃখের সাগরে ভেসে যাবো। আমাদের এভাবে একা ফেলে চলে যেওনা”” আরশাদ জামানের এতো আকুতি মিনতিতেও সেদিন গলেননি সুস্মিতা কাইসার। মাম্মার হাতে ব্যাগ দেখে অর্পনা বুঝলো তার মাম্মা তাদেরকে রেখে কোথাও একটা চলে যাচ্ছে। অর্পনা কাদতে কাদতে দৌড়ে গিয়ে মাম্মাকে জড়িয়ে ধরলো,, ফোপাতে ফোপাতে বললো — মাম্মা!! তুমি আমাকে, পাপ্পাকে রেখে কোথায় যাও? আমাকে নিবেনা? পাপ্পাকেও নিবেনা? আমি যাবো,, আমাকে নিয়ে যাও।
,,,অর্পনার কথায় সেদিন হাটু মুরে বসেছিলেন সুস্মিতা কাইসার,, মেয়ের মাথায় হাত ভুলিয়ে বলেছিলেন– আমার অর্পি, তুমি পাপ্পার কাছে লক্ষি হয়ে থাকবে কেমন? খেলতে গিয়ে একদম মারামারি করবেনা। রোজ স্কুলে যাবে,, মাম্মা তোমায় মাঝে মধ্যে স্কুলে দেখতে আসবো।

,,,অর্পনার ডাগর ডাগর চোখে তখন উপচে পরা পানি,, সে মাম্মার কথার মানে বুঝতে পেরে বারো ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললো — আমি তোমার সাথে যাবো মাম্মা, তোমাকে ছাড়া অর্পি থাকবেনা। অর্পি মাম্মাকে ছাড়া কষ্ট পাবে,, পাপ্পাও কষ্ট পাবে। পাপ্পা কাদছে মাম্মা,, তুমি পাপ্পাকে কাদতে মানা করো,, পাপ্পাকে আদর করে দাও। পাপ্পা তোমাকে বকেছে? কেনো যাচ্ছো মাম্মা? আমি পাপ্পাকে বকে দেই? তুমি যেওনা মাম্মা!! অর্পির খুব কষ্ট হচ্ছে।
,,, সুস্মিতা কাইসারের মন যেনো সেদিন পাথর বনে গিয়েছিলো। স্বামী সন্তানকে ফেলে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বাড়ি থেকে,, অর্পনা তখন গলা ফাটিয়ে কেদেছিলো। মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে মাম্মা মাম্মা বলে ডেকেছিলো। মায়া হয়নি উনার,, মেয়ের অবস্থা দেখে সেদিন আরশাদ জামান মেয়েকে বুকের মাঝে চেপে ধরে শব্দ করে কেদেছিলেন। এরপর থেকে ছয়টা মাস অর্পনার খুব কষ্ট হয়েছে। পাপ্পা ঠিকঠাক কাজে যেতোনা, সারাক্ষণ বাহিরে বাহিরে থাকতো,, রাতে নে*শাদ্রব্য পান করে বাড়ি ফিরতো।

পাপ্পাকে বাড়ি ফিরতে দেখে অর্পনা যখন ছুটে গিয়ে পাপ্পার কোলে চরতো তখন বাজে গন্ধে বমি করে দিতো। একদিন বমি করতে করতে খারাপ অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো অর্পনার, যার ফলে ওকে হসপিটালিস্ট করতে হয়। অসুস্থতার মাঝে অর্পনা শুধু মাকে খুজছিলো, আরশাদ জামান না পেরে সুস্মিতা কাইসারকে কল দিয়ে পায়ে পর্যন্ত ধরেছিলেন যেনো একটাবার এসে মেয়েকে দেখে যায়,, কিন্তু আসেনি সেই পাষান মানবী,, সেদিন নাকি তার বিয়ে ছিলো,, নতুন জীবনের সূচনায় মেতে থাকা সুস্মিতা ছোট্ট অর্পনার জন্য একটা ঘন্টা সময় ব্যায় করতে পারেননি। মেয়ের করুন অবস্থা দেখে আরশাদ জামান নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করেন,, এরপর থেকে শুরু হয় বাবা মেয়ের একে অপরকে ঘিরে বেচে থাকার লড়াই। অর্পনা অনেকগুলো বছর মাম্মার সাথপ রাগ করে থাকলেও একটা সময় সব রাগ মিলিয়ে গেলো। অর্পনা তখন ক্লাস টেইনে পড়ে,, স্কুল থেকে বেরুতেই গেইটে মাম্মাকে দেখতে পেলো। না চাইতেও দৌড়ে গিয়েছিলো অর্পনা, সব ভুলে মাকে জড়িয়ে ধরেছিলো। সেদিন অর্পনাকে নিয়ে নিজেদের বাড়িতে গিয়েছিলেন সুস্মিতা কাইসার।

মাম্মা পাপ্পার পালিয়ে বিয়েটা মেনে না নেওয়ায় অর্পনা কখনোই নানির বাড়িতে যায়নি। এবার যখন গেলো তখনো সবার চোখের কাটা স্বরুপ রয়ে গেলো। অর্পনাকে কেউ দেখতে পারতোনা শুধু নানাজান আর মাম্মা বাধে। সেখানে থাকা কালিন এক সুদর্শন যুবকের মাঝে আটকে যায় অর্পনা। সেটা ছিলো কিশোরী বয়সের আবেগ,, সেই আবেগে ভেষে অর্পনা কত্ত পাগলামি করতো। এরপর থেকে প্রায়শই কাইসার বাড়িতে যেতো অর্পনা,, সবার কটাক্ষ সহ্য করে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতো সেই বিদেশিদের মতো দেখতে পুরুষটিকে। ছেলেটি অর্পনার বড়ো মামুর ছেলে,, নাম তার আদ্রিয়ান কাইসার ইব্রাক। মা বিদেশিনী হওয়ায় তার নামটা একটু অদ্ভুত তবে এই নাম খানাও ভালো লাগতো কিশোরীর। আদ্রিয়ানরা সবসময় বাংলাদেশে থাকতোনা,, সে তার বাবা মা আর ভাই আমেরিকায় থাকতো। যখন যখন আদ্রিয়ান বাংলাদেশে আসতো, তখন অর্পনা ছেচরার মতো কাইসার বাড়িতে যেতো। নানাজান আর মাম্মার সাথে সাথে আদ্রিয়ান ও তার সাথে ভালো ব্যাবহার করতো। এই জিনিসটাকে প্লাস পয়েন্ট ধরে একদিন কিশোরী ঠিক করে সে আদ্রিয়ানকে ভালোবা,,,
,,,ফোনের রিংটোনে কথা থেমে গেলো অর্পনার। দ্বীপের দিকে তাকিয়ে দেখলো, সে এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অর্পনা মুচকি হেসে আবারও সকালের মতো দ্বীপের কপালে ঠোঁট ছুয়ালো। পরপর মোবাইলটা সামনে আনতেই স্ক্রিনে ভাসা নম্বরটা দেখে তাচ্ছিল্য হাসলো। কল উঠাতেই ওপাশ থেকে ধেয়ে এলো একজন মহিলার বাংলায় অপরিপক্ক কর্কশ ধ্বনি —

,,, আমার ছেলেকে মুক্তি দিবে কবে? তোমার মতো ছন্যছাড়া অভদ্র মেয়েকে আমি কোনোকালেই ছেলের বউ হিসেবে মানবোনা। তোমাদের বুঝতে হবে,, জামানরা কাইসারদের সাথে যায়না। কাইসার রা যেই পথ ধরে হাটে জামানরা সেই পথের কাটা হওয়ার ও যোগ্যতা রাখেনা। অনেক তো হলো, এবার আমার ছেলেকে আমার কাছে ফেরত দেও। ( আমি শুদ্ধ ভাষায় লিখে দিলাম)
,,,, অর্পনা দাতে দাত চাপলো, বিক্ষিপ্ত মনটা আরো বিক্ষিপ্ত করার জন্য কয়েকটা উটকো ঝামেলাই যথেষ্ঠ। সে ফোনটা কেটে, টেক্সট পাঠালো,৷

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২৫

,,,,আপনার ছেলেকে আমি চার বছর আগেই মুক্তি দিয়েছিলাম,, ৮ দিন আগে একেবারে দিয়ে দিয়েছি। আমি এখন ম্যারিড,স্বামিকে নিয়ে সুখে আছি। নিজের ছেলেকে দয়া করে সামলে নিন আর আপনার পছন্দ করা সেই রমনীর সাথে বিয়ে দিন। নেক্সট টাইম না জ্বালালে হেপি হবো,, পারলে আমার নম্বর টা ব্লক লিস্টে ফেলবেন। আপনাদের নম্বর ব্লক করতে করতে আমি ক্লান্ত।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২৭