প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৬
বন্যা সিকদার
মৌ’য়ের মুখে এই কথাটি শোনা মাত্রই উজান বিষম খেল। সে কাশতে কাশতে ল্যাপটপটা একপাশে সরিয়ে নিজের চোখ দুটো বড় বড় ও রাঙিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠল‚
“এই অভদ্র মেয়ে তোমায় আমি ধরলাম কখন যে ছেড়ে দেবো?
মৌ লাজুক হাসি দিয়ে বলতে লাগে।
”না মানে আপনি একদিন এমন করবেন তো তাই আগে ভাগেই প্র্যাকটিস করছি।
“শয়তানের হাড্ডি বলে কী?
এই বলেই উজান ক্ষিপ্ত পায়ে মৌ’য়ের পিছু নিল তাকে ধরার জন্য। মৌ খিলখিল করে হেসে এক লাফে সরে গেল। উজানও দমবার পাত্র নয়‚ সে-ও তার পিছু দৌড়াতে লাগল। মৌ পুরো রুম জুড়ে প্রজাপতির মতো এদিক থেকে ওদিক ছুটে বেড়াতে লাগল। উজানে’র হাত থেকে বাঁচতে তার এই চিলতে ছটফটানি দেখে উজান মাঝপথেই থেমে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠল।
“এই ইডিয়ট দাঁড়াও বলছি। এইটুকু বয়সে মুখ দিয়ে পাকা পাকা কথা বের করছি? এখনো দুধের দাঁতও পড়েনি অথচ অভদ্রদের মতো ব্যবহার।
মৌ বিছানার ওপাশে গিয়ে তড়িৎ গতিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে মুখটা বাঁকিয়ে নিলো। “সত্যি কথা বললেও আমার দোষ তাই না?
“চুপ কর অসভ্য মেয়ে। একবার যদি তোমায় হাতেনাতে ধরতে পারি‚ তবে মেরে একদম তক্তা বানিয়ে ফেলব মনে রেখো।
“আপনি চুপ করুন সভ্য পুরুষ। এই বা*লের কথা ছাড়া আর কি বা পারেন।
“ননসেন্স বলে কী ? এমন বেয়াদব মেয়ে আমার কপালেই জুটতে হলো। হে মাবুদ‚ দয়া করে হয় তুমি আমাকে নিজের কাছে তুলে নাও নয়তো এই খাচ্চর মেয়েটাকে তুলে নাও।
কথাটা মুখ থেকে বের হওয়া মাত্রই উজান নিজেই কেমন যেন থতমত খেয়ে থেমে গেল। এদিকে মৌ দৌড়াতে দৌড়াতে মাঝপথেই থমকে দাঁড়িয়ে উজানে’র দিকে তাকিয়ে মুখটা বিশ্রীভাবে ভাঙাল। তারপর বিছানার অন্য পাশে গিয়ে দু-হাতে নিজের কোমর শক্ত করে চেপে ধরে কর্কশ গলায় আওড়াল„ “অন্যদের ভাতার তার বউয়ের সাথে কত রোমাঞ্চ করে অথচ আমার ভাতার আমাকে দু-চোখেও সহ্য করতে পারে না। আচ্ছা সত্যি করে বলুন তো আপনার সিস্টেমে কোনো প্রব্লেম ট্রব্লেম নেই তো আবার? নয়তো আমাকে বারবার ওপরে তুলে নিতে কেন বলেন হুম?
উজানে’র জোড়া ভ্রু এবার কুঁচকে গেল। রাগে তার কপালের ও গলার শিরাগুলো স্পষ্ট ফুলে উঠেছে। এই মেয়েটা দিন দিন কতটা বেসরম আর অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে। বয়সে সে মৌ’য়ের চেয়ে বেশ অনেকটা বড়‚ অথচ মেয়েটার মনে সেই নিয়ে বিন্দুমাত্র ভয় বা সমীহ নেই। আচমকাই উজান আর কোনো কথা না বলে বাঘের মতো ক্ষিপ্ত গতিতে বিছানা পার হয়ে মৌ’কে ধরার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল। মৌ বিপদ টের পেয়ে পালানোর জন্য যেই না উল্টো দিকে এক দৌড় দিতে চাইল‚ ঠিক তখনই উজানে’র শক্ত হাতের টানে ভারসাম্য হারিয়ে সে সোজা বিছানার ওপর হুড়মুড় খেয়ে আছড়ে পড়ল। আর ঠিক একই সাথে নিজের শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৌ’য়ের ঠিক গায়ের ওপরে গিয়ে আছড়ে পড়ল উজান!
আকস্মিক এই পতনে তীব্র ভয়ে আর লজ্জায় মুহূর্তের মধ্যে নিজের চোখ-মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিল মৌ। আর ঠিক তখনই উজানে’র ঠোঁট দুটো গিয়ে সরাসরি স্পর্শ করল মৌয়ে’র নরম ঠোঁটের কোল। মুহূর্তের মধ্যেই মৌ যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। তার সারা শরীরের ভেতর এক তীব্র‚ অদ্ভুত ও অচেনা শিহরণ বিদ্যুৎ বেগে বয়ে গেল। সে নিজের দু-হাত দিয়ে বেডশিট শক্ত করে খামচে ধরল। তার বুকের ভেতরের হৃৎপিণ্ডটা যেন আজ খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসার জন্য পাগলের মতো লাফাচ্ছে। এদিকে উজান নিজের ঠোঁটে মৌ’য়ের উষ্ণ ছোঁয়া পেতেই কেমন যেন অবশ হয়ে গেল। মৌ’য়ের ওই আকুল‚ ভিতু আর লালচে হয়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে উজান যেন এক পলকে অন্য কোনো এক চেনা-অচেনা মায়াবী জগতে হারিয়ে গেল। সে পলকহীন স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মৌ’য়ের মুখের দিকে। তার গভীর চোখ জোড়া হুট করেই আটকে গেল মৌ’য়ের ঠোঁটের ঠিক কোণায় থাকা ছোট কুচকুচে কালো তিলটার ওপর। আবছা আলোয় তিলটা মেয়েটার মায়াবী মুখে বড্ড বেশি মানিয়েছে।
উজান যুক্তির খাতিরে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইল কিন্তু তার অবাধ্য মন ও শরীর যেন বারবার এই মায়াবিনীর দিকেই তীব্রভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এক অদ্ভুত অনুভূতিতে তার ভেতরটা তোলপাড় হতে লাগল। যে মেয়েটা সারাদিন তাকে জ্বালিয়ে শেষ করে ফেলে‚ ঠিক এই মুহূর্তে তাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শান্ত ও পবিত্র মায়াবিনী বলে মনে হচ্ছে উজানে’র। ঠিক তখনই নীরবতা ভেঙে মৌ’য়ের চোখের পাতা দুটো ধীরে ধীরে খুলে গেল এবং উজানে’র কানের কাছে অত্যন্ত ফিসফিসানি ও ভেজা গলায় ভেসে এলো।
”ভালোবেসে ফেললেন নাকি মি. প্রফেসর?
মৌ’য়ের এই চপল কথায় মুহূর্তের মধ্যে ঘোর কাটল উজানে’র। সে তীব্রভাবে হকচকিয়ে উঠে সটান বিছানার ওপর দাঁড়িয়ে পড়ল। নিজেকে দ্রুত সামলে নিয়ে সে যখনই রুম ছেড়ে দূরে সরে যেতে চাইল ঠিক তখনই বিদ্যুৎ গতিতে মৌ বিছানা থেকে উঠে উজানে’র হাতটা শক্ত করে টেনে ধরল। উজান কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৌ তাকে এক ঝটকায় ধাক্কা দিয়ে বিছানার ওপর ফেলে দিল এবং বিদ্যুৎ গতিতে নিজে উজানে’র শক্ত বুকের ওপর আয়েশ করে উঠে বসল। উজান নিচে শুয়ে থেকে মৌ’কে বারণ করার জন্য কিছু একটা বলতে চাইল কিন্তু তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না। সে যেন আবারও এক গভীর ঘোরের গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। মৌ নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মিষ্টি ও বিজয়ী হাসি ঝুলিয়ে উজানে’র মুখের দিকে খানিকটা ঝুঁকে এলো। অত্যন্ত নরম ও দাবিদার কণ্ঠে শুধাল।
”প্রফেসর সাহেব কবে বউ হবো আমি আপনার?
মৌ’য়ের কথাগুলো স্পষ্ট শুনতে পেল উজান কিন্তু তার শরীরে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতা রইল না। সে আগের মতোই অপলক‚ মুগ্ধ দৃষ্টিতে মৌ’য়ের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। মৌ এবার নিজের হাতটা বাড়িয়ে উজানে’র কপালে পরম মমতায় ধীরে ধীরে স্পর্শ করল এবং সেখানে নিজের উষ্ণ ঠোঁট দুটো ছুঁইয়ে দিল। তারপর নিজের ছোট্ট ও নরম আঙুলগুলো দিয়ে উজানে’র পরিপাটি করে আঁচড়ানো চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে এক চিলতে ম্লান হাসল। অত্যন্ত নিচু ও আকুল স্বরে সে বলতে লাগল।
”আমি আপনার লক্ষ্মী বউটা হতে চাই প্রফেসর সাহেব। জানেন প্রফেসর সাহেব আমি জীবনে কখনো এতটা বেহায়া হইনি যতটা প্রতিদিন আপনার বেলায় হচ্ছি। যে মৌ একসময় বন্ধুদের আড্ডায় বুক ফুলিয়ে সবাইকে বলত‚ সে নিজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব জীবনে কখনো অন্য কাউকে দেবে না‚ কাউকে নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসবে না। অথচ আজ দেখেন আমার পুরোটা জীবন‚ আমার বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা ও শেষ আশ্রয়স্থল আপনি নিজে হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
মৌয়ের চোখ দুটো এবার কানায় কানায় ভরে উঠল। সে উজানে’র শার্টের বোতামটা নিজের আঙুলে জড়াতে জড়াতে আরও ভাঙা গলায় বলল„ ”খুব ইচ্ছে হয় জানেন? আপনার ওই গম্ভীর মুখ থেকে অন্তত একটিবারের জন্য হলেও ‘ভালোবাসি’ শব্দটা শুনতে। সেই আশায় প্রতিদিন আমার বুকটা ছটফট করে কিন্তু দিনশেষে আপনার ডিকশনারিতে আমার জন্য শুধুই এক মস্ত বড় শূন্যতা।
যদি কখনো দেখেন আমি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। আমার শেষ নিঃশ্বাসটুকু চলার অপেক্ষায় আছে‚ তখন আপনি শুধু আমাকে শক্ত করে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে একটিবার বলবেন ‘ভালোবাসি মৌ’। দেখবেন এই বেহায়া মেয়েটা শুধুমাত্র আপনার ওই ভালোবাসার লোভে আবারও আপনার কাছে ফিরে আসবে।
মৌ উজানে’র বুকে নিজের হাতটা রেখে চোখ বন্ধ করে নিলে।
“এই বেহায়া মেয়েটা শুধু আপনাকেই চায়‚ একদম পুরোপুরি নিজের করে চায়। যেখানে মৌ ব্যতীত অন্য কেউ আপনার প্রতি বিন্দুমাত্র অধিকার ফলাতে আসবে না। ভালোবাসি প্রফেসর সাহেব ভীষণ‚ ভীষণ‚ ভীষণ ভালোবাসি আপনাকে!
উজান তখনও আগের মতোই নিথর দৃষ্টিতে মৌ’য়ের দিকে তাকিয়ে রইল। এতকাল এই মেয়েটার প্রতিটা বাচ্চামো আর পাগলামিতে সে ভীষণ বিরক্ত হতো‚ তার প্রতিটা কথা তার কানে কর্কশ শোনাত। অথচ আজ কেন জানি তার একটুও বিরক্তি লাগল না। বরং তার অবাধ্য মন বলছিল‚ এই বেহায়া মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে এভাবেই পুরোটা জীবন পার করে দেওয়া যায়। পর মুহূর্তেই উজান নিজের ভেতরের প্রবল পুরুষালী ঘোর কাটিয়ে উঠল। সে মৌ’কে আলতো করে নিজের বুক থেকে নামিয়ে বিছানার ওপর সোজা করে বসাল এবং নিজে তার একদম মুখোমুখি বসল। মৌয়ের অশ্রুসজল চোখের দিকে সরাসরি নিজের স্থির চোখ রেখে অত্যন্ত দৃঢ় ও গম্ভীর কণ্ঠে আওড়াল„
“শোনো মেয়ে ভালোবাসা কোনো ছেলেখেলা বা পুতুলখেলার নাম নয়। তুমি এখনো বড্ড ছোট‚ ইমম্যাচিউর তাই তুমি ভালোবাসার আসল নির্মম মানে জানো না। ভালোবাসা মানে হলো নিজের সাজানো সুন্দর জীবনটাকে নিজের হাতে ধ্বংস করা। আর একবার যদি সেই জীবনের সুতো কেটে ধ্বংসের মুখে পড়ে যাও‚ তবে দুনিয়ার কোনো শক্তি তোমাকে আর টেনে তুলতে পারবে না।
মৌ নিজের চোখের কোণের অশ্রুটা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে নিল। তারপর উজানে’র চোখের দিকে তাকিয়ে তীব্র আকুতি নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে।
”তবুও আমি আপনার দেওয়া সেই ধ্বংসটুকুই নিজের জীবনে চাই প্রফেসর সাহেব। আপনার ভালোবাসায় ধ্বংস হতেও আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই।
উজান তার গভীর দৃষ্টি দিয়ে মৌ’য়ের ওই অশ্রুসজল ও জেদি মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বুক চিরে এক দীর্ঘ ও ভারী দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই অবুঝ মেয়েটাকে সে কিছুতেই জীবনের কঠিন সমীকরণগুলো বুঝিয়ে উঠতে পারে না। সে যতই মৌ’কে দূরে ঠেলে দিতে চায়‚ মেয়েটা যেন ততটাই তীব্র এক মায়াবী আকর্ষণে তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চাইছে। উজান আর কথা বাড়িয়ে বিতর্ক দীর্ঘায়িত করতে চাইল না। সে কিছুটা অতিষ্ঠ হয়ে বড় বড় শ্বাস ফেলে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল এবং আবারও সোফায় গিয়ে নিজের ল্যাপটপের দিকে মনোযোগ দিল।
তবে এবার আর মৌ উজান’কে একটুও বিরক্ত করতে গেল না। সে শান্ত হয়ে বিছানার ওপর দু-হাঁটু মুড়ে বসে‚ এক হাত গালে দিয়ে অপলক চোখে সোফায় বসা উজান’কে দেখতে লাগল। তার চোখে তখন একরাশ মুগ্ধতা আর দাবিহীন ভালোবাসা। এদিকে ল্যাপটপের স্ক্রিনে কোডিং আর ভার্সিটির কাজের ফাঁকে ফাঁকে উজানও বারবার আড়চোখে বিছানার দিকে তাকাচ্ছিল। প্রতিবারই সে দেখছিল‚ মেয়েটা একটুও নড়চড় না করে চাতক পাখির মতো তার দিকেই চেয়ে আছে।
এভাবে কেটে গেল প্রায় ঘণ্টা দুয়েক। ঘড়ির কাঁটা যখন রাত বারোটা‚ তখন উজান কাজ শেষ করে ল্যাপটপটা অফ করল। সে মৌ’য়ের দিকে তাকিয়ে দেখল মেয়েটা এখনো ঘুমায়নি। বিছানায় একাকী এপাশ-ওপাশ করছে। মৌ কেন এমন ঘুমানোর জন্য ছটফট করছে আর কেনই বা সে একা ঘুমাতে পারছে না‚ তার কারণ উজান চৌধুরী খুব ভালো করেই জানে। উজান নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে নিঃশব্দ হাসি ফুটিয়ে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল।
তারপর ধীরপায়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে মৌ’য়ের পাশে ধপাস করে শুয়ে পড়ল। মৌ কিছু বুঝে ওঠার আগেই উজান নিজের এক জোরালো ও শক্ত হাত বাড়িয়ে মৌ’কে টেনে সরাসরি নিজের চওড়া বুকের মাঝে নিয়ে এলো। বুকের মাঝে চেনা উষ্ণতা আর উজানে’র শরীরের ঘ্রাণ পাওয়া মাত্রই মৌ’য়ের সমস্ত ক্লান্তি যেন এক নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে একটুও দ্বিধা না করে মুহূর্তের মধ্যে উজা’নের শক্ত বুকে নিজের নরম মুখটা গুঁজে দিল। আসলে কাউকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোটা মৌ’য়ের বহুদিনের পুরোনো অভ্যাস; চৌধুরী বাড়িতে আসার আগে নিজের বাসায় সে সবসময় মেহের’কে এভাবে জড়িয়ে ধরে ঘুমাত। আর আজ এই চৌধুরী বাড়িতে এসে উজান চৌধুরী নামক এই খিটখিটে মানুষটা খুব অল্প দিনেই তার বেঁচে থাকার প্রধান অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মৌ উজানে’র বুকে মুখ রেখেই নিজের ছোট্ট ও ভেজা গলায় অত্যন্ত আদুরে সুরে ফিসফিসি করলো।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫
“আপনি অনেক ভালো প্রফেসর সাহেব? লাভ ইউ!
কথাটা শেষ করতে করতেই মৌ’য়ের চোখের পাতা দুটো এক অদ্ভুত শান্তিতে ও ঘুমে বুজে এলো। উজানে’র বুকে নিরাপদ আশ্রয়ে সে নিমেষেই গভীর ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল। উজান নিজের বুকের ওপর মৌ’য়ের শান্ত নিশ্বাস অনুভব করে অন্ধকারে নিঃশব্দে ও পরম তৃপ্তিতে হাসল। তার নিজেরও জানা নেই‚ কখন এই পুঁচকে মেয়েটা তার পাথুরে হৃদয়ে কিছুটা অধিকার হরণ করে নিয়েছে। সে নিজের অলক্ষ্যেই‚ অত্যন্ত আলতো ও কোমল ছোঁয়ায় মৌ’য়ের রেশমি চুলগুলোর ওপর হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। একসময় উজান নিজেও মৌ’কে বাহুবন্ধনে আগলে রেখে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমাল।
