অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৫
Maha Aarat
আজকে সোমবার।আজকে আইরার নিকাহ’র সবকিছু ফাইনাল হবে।মাহদিন,মারুফ শাহরিয়ার আর তাদের পক্ষের গার্ডিয়ানসমেত আজকের আলোচনা।আর কনের পক্ষের সাথে মাহেরও আমন্ত্রিত।
গতকাল রাতে যখন আরহাম তাকে বারবার ফোন করে রিকুয়েষ্ট করছিলেন আসার জন্য ,তিনি খুব সুন্দর অজুহাত দেখিয়ে সরে এসতে চেয়েছিলেন।এসব মুরব্বিদের ব্যাপারে উনাকে কেন থাকতে হবে এটা মাহের বুঝতে পারছেন না।সন্ধ্যার পর ডিউটি শেষে বাসার ফেরার জন্য প্রস্তুত হতেই দেখেন আরহাম হাজির।তাকে হাত ধরে নিয়ে যেতে যেতে বলছিলেন, ‘তুমি আমার বন্ধু তাঁর আগে আমার পরিবারের একজন।আমি জানতাম তুমি খামোখা অজুহাত দিয়ে মিস করবে।তাই আসতে হলো।’
কক্ষময় এক অদ্ভুত নীরবতা।পাশের মসজিদ থেকেই ভেসে আসছে ইশারের আযান।আস্তে আস্তে সবাই অযু সেরে নিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতেই হাফসা চটপট কিচেন থেকে বেরোলো।সাথে আছেন নাওমি।আইরার কাজিন।হাতে হাত লাগিয়ে খাবারগুলো পরিবেশন চলছে।প্রায় শেষ পর্যায়ে আম্মু এসে হাফসাকে ইশারায় উপরে পাঠালেন।
আইরার রুমের দরজাটা এলিয়ে রাখা।দরজায় নক হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হাফসা ধীরপায়ে রুমে ঢুকলো।গায়ে কাঁথা জড়িয়ে উল্টোপাশ হয়ে চুপচাপ শুয়ে আছে আইরা।তাঁর পাশে বসে গায়ে হাত দিলেও তার কোনো নড়চড় নেই।কয়েকবার গলা খাঁকারি দিতেই হাফসার দিকে জিজ্ঞাসাদৃষ্টিতে তাকালো সে।
হাফসা চোখ বন্ধ করে দূ:খ প্রকাশ করলো তাঁর নীরবতায় ব্যঘাত ঘটানোর জন্য।জিজ্ঞেস করলো, কোনো কারনে তাঁর মন খারাপ?সে চাইলে যেকোনো কিছু শেয়ার করতে পারে।হাফসা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ,এদিক দিয়ে তাকে সেরা বিশ্বস্ত বন্ধু হিশেবে পাবে সে।
ভাবি’পুর নম্র প্রস্তাবে মলিন হাসলো আইরা।তাঁর মন যেনো ভেতর থেকে বলছে, যেখানে আপনার ভাই মুখের ওপর রিজেক্ট করে দিয়েছেন সেখানে আপনি কি সমাধান দিতে পারেন।
হাফসা তখনো প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে।আইরা খুব সতর্কের সহিত নিজের ভেতরের যন্ত্রণা আর চোখের অশ্রু সামাল দিয়ে বলল, ‘এমন কিছু নেই যেটা আমি আপনার সাথে শেয়ার করবো,ভাবি’পু।’
ঘড়িতে তখন দশটা।মেহমানরা এইমাত্র বিদায় নিয়েছেন।আগামী শুক্রবারই বিয়ে।সময় হাতে কম।যেনো হুলস্থুল কান্ড।মাহের যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ঘড়ির দিকে তাকালেন।শরীরটা ভালো লাগছে না।এক্ষুনি ফিরে রেস্ট নিতে হবে।অথচ আরহাম আর আহনাফ তাজওয়ার বাঁধ সেধে বসলেন।তাকে যেতে দিতে পুরোদমে নারাজ তাঁরা।মাহের চোখ সরু করে আরহামের দিকে তাকাচ্ছেন বারবার।কত অজুহাত দাঁড় করালেন তবুও আহনাফ তাজওয়ার এর অনুরোধের কাছে বাড়তি কথা বলার আর সাহস হলো না।
ঘুমোনোর আগে খেজুর নিয়ে আসলেন আরহাম।
মাইমুনা মিষ্টি হেসে বললেন, ‘থ্যাঙ্কস।’
‘থ্যাঙ্কস বললে হবে না।ভালোবাসি বলুন, ইন দি ডিপ কোর অব হার্ট!’
‘আমার হার্টে বেশী গভীরতা নেই।’
‘তাই?তাহলে ভালোবাসার পরিমাণ বুঝান।’
‘কীভাবে বুঝাবো?’
‘উমমম আচ্ছা সময় নিন।ধরে নিন এটা আপনার পরিক্ষা।উমায়েরও সেইম পরিক্ষা দিবেন।আমিও দেখি,আমার কোন ওয়াইফ আমাকে বেশি ভালোবাসেন।’
মাইমুনা ভাবুক হয়ে বলে, ‘শাহ আপনি তো ভয় ঢুকিয়ে দিলেন।যদি প্রমাণ হয় হাফসা আপনাকে বেশী ভালোবাসে?’
‘কেন মনে হয়?আপনার নিজের প্রতি বিশ্বাস নেই?’
‘আছে তবে আপনি আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস।তাই প্রিয় জিনিস নিয়ে পরিক্ষা দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকবো।’
‘আরে এত নার্ভাস হচ্ছেন কেন?আমি তো বুঝি,আপনি আমাকে কতোটা ভালোবাসেন।’
‘হাফসা যদি কমদিনে বেশী ভালোবেসে ফেলে?’
মাইমুনার বোকা বোকা প্রশ্নে হেসে ফেললেন আরহাম।তাকে কাছে টেনে বললেন, ‘আপনি কি বুঝতে পেরেছেন আপনি ইতোমধ্যে পরিক্ষা দিয়ে ফেলেছেন?’
মাইমুনা ভ্রু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকায়।উনার মুখে সিরিয়াসনেস।তাঁর মানে সত্যিই তিনি উত্তর খুঁজে পেয়েছেন?
আতঙ্কে আমতাআমতা করে বলল, ‘ম্ মানে?কী বলেন শাহ?আমি তো এতক্ষণে আবোলতাবোল বললাম।’
‘উত্তর পেয়ে গেছি।’
‘পাশ করলাম?’
‘রেজাল্ট কাল জানবেন ইন শা আল্লাহ।আমাকে একটু শক্তপোক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দিন।’
‘কিন্তু হাফসা?ওর পরিক্ষা কবে নিবেন?’
‘এখন।’
‘আচ্ছা চলুন আমিও আসি আপনার সাথে।’
আরহাম মুচকি হেসে বললেন, ‘না।আলাদা আলাদা।’
‘আচ্ছা আচ্ছা তাড়াতাড়ি যান।ওর পরিক্ষা কেমন হলো আমাকে জানাবেন এসে ঠিক আছে?’
‘উহু,রেজাল্ট কাল ইন শা আল্লাহ।শুনুন,আমার কাছে একটা ছোট্ট উপহার আছে।যদি আপনি জয়ী হোন,তবে সেটা আপনার।আর জয়ী হতে না পারলে…
‘হ্ হাফসার?’
‘আচ্ছা ঘুমিয়ে পড়ুন।কাল সারারাত আপনার জন্য।আমাকে কতোটা ভালোবাসেন সেটা প্র্যাক্টিক্যালি প্রুভ করবেন।’
মাইমুনা লজ্জ্বায় ডুবতে ডুবতে আরহামকে ঠেলতে ঠেলতে বলল, ‘ঘুমান গিয়ে।যান তাড়াতাড়ি।’
আরহাম সরে না গিয়ে তাঁর চোখেমুখে ভালোবাসা এঁকে তিনকুল,আয়াতুল কুরসীসহ দোয়া পড়ে ফু দিয়ে বললেন, ‘বি রেডি ফর টুমোরো,মাই লাভ।’
ড্রয়িং রুম জুড়ে এক পিনপতন নীরবতা।চার চারটে মানুষ অথচ কোনো রা নেই কারো মুখে।আয়বীর সাহেব চশমা ঠিক করতে করতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।খানিক চুপ থেকে জিজ্ঞেস করলেন , ‘হঠাৎ করে প্রতারকদের সাথে দেখা করার ইচ্ছে জাগলো কেন?আমি জানি, আপনি,আপনারা বিশেষ কোনো প্রয়োজনেই আসছেন।বিনা দ্বিধায় বলুন,সাধ্য থাকলে সাহায্য করবো নয়তো ফিরিয়ে দিবো।’
চশমার ছাড়া সবকিছু ঘোলাটে লাগে তাঁর।ছোট্ট একটা একসিডেন্ট চোখের ন্যাচারাল পাওয়ার টা লুটে নিয়েছে।নিবে নাই বা কেন,এ চোখ সাক্ষী ছিলো অতীতের সব অন্যায়ের।তবুও অনড় থাকা দৃষ্টি আজ ঝলসালো,ঝাপসা।
চোখ নামিয়ে নিলেন তিনি।অতীতের অধ্যায়ে স্থির না থেকে বর্তমানে ফিরে বললেন , ‘আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি।’
‘ক্ষমা?আরে কেন?আমার মেয়ে তো আপনাদের ছেলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলো আপনাদের সম্পদের লোভী হয়ে।’
‘চ্ চাচা আমি বুঝতে পারিনি।সত্যি টা জানতাম না তাই…
‘তাই অপমান করে ওর চরিত্রে দোষ দিয়ে গ্রাম ছাড়া করেছো বেশ।এখন মনে হচ্ছে ,শাস্তিটুকু যথেষ্ট হয়নি।নতুন করে আঘাত করতে এসেছেন?’
‘চাচা আমি আদওয়ার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি।আপনাদের কাছেও।দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন।আসলে বাবা যখন বলেছিলেন আমি পাগল পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম।সব জেদ,রাগ এক হয়ে আমার বিবেককে পুড়িয়ে ফেলেছিলো।আমরা অনুতপ্ত।’
‘পুরনো কথা তোলার সময় ,ইচ্ছে কোনোটাই নেই আমার।আমি বের হবো।আপনারা আসতে পারেন।’
দহনের জ্বালায় ছারখার হয়ে যাওয়া লোচনদূটো ঝাপসা হয়ে আসলো কেনো জানি।চুপচাপ বেরিয়ে যেতেই ঠাস করে দরজা লাগানোর আওয়াজ বাড়ি দিয়ে গেলো কানে।
‘ওই বুলবুলি!’
খুব পরিচিত কন্ঠস্বর।কর্ণ পেরিয়ে মস্তিষ্কে ধাক্কা দিতেই চোখের মনিটরে ভেসে আসলো এক ছোট্ট কিশোরী।আদওয়া তড়িৎ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো।
সাদা পান্জাবিতে আচ্ছাদিত যুবককে চিনতে তাঁর খুব বেশী সময় লাগলো না।চশমার ফ্রেম আর মাঝারি দাঁড়ি ছাড়া আর তেমন কিছুরই পরিবর্তন নেই।
‘কেমন আছো?আমি তোমাকেই খুঁজছি।’
‘কে আপনি?চিনতে পারলাম না?’
‘হুয়াট?সত্যি চিনছো না?’
‘না।’
‘তোমার ইমান ভাই।’
‘উমমম দূ:খিত আমি কাউকে মনে করতে পারছি না।রং এড্রেসে এসেছেন।’
সাহিলকে ইশারা করে গেটের বাইরে যেতে ইশারা করে আদওয়ার ঠিক মুখোমুখি এসে দাঁড়াতেই আদওয়া দূরে সরে গেলো।ইমান ঠায় সমানতালে এগিয়ে বললেন , ‘আমাকে তুমি ভুলে যাবে ,এটা আমাকে বিশ্বাস করতে বলছো?’
‘তো?চিনলাম তারপর?’
‘আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি।আমাকে ক্ষমা করা যায় না,আদওয়া?’
‘দাউদাউ করে জ্বলা কান্নার আগুন যার চোখে বিশ্বাস বা ভরসা বা জিজ্ঞাসা আনতে পারিনি সে চোখে চোখ রাখা আর স্বইচ্ছায় মৃত্যু ঢাকা সমান।আর কখনো আমার মস্তিষ্ক যেনো পুরনো স্মৃতি না ঘাটে,আর কোনোদিন চোখের সামনে এসে দাঁড়াবেন না।এটা অনুরোধ আমার।’
ইমান ভাই অস্থির হয়ে পড়লেন।অস্থির হয়ে বললেন , ‘আদওয়া এই তিন বছরে আমার অন্যায়ের শাস্তিটুকু আমি পেয়ে গেছি।সত্যি টা জানার পর প্রতিটা মুহুর্ত আমি দহনের অনলে পুড়েছি আমার হৃদয় প্রতিটা স্পন্দনে জখম হয়েছে।অনুশোচনায় ছারখার হয়ে যাওয়া হৃদয়কে একটু শান্ত করো।দয়া করে ফিরিয়ে দিও না।ক্ষমা করো আমাকে।’
আদওয়া এমন ভাব যেনো সে বিরক্ত।আর তাঁর চোখে বিরক্তি যেনো ইমানের জ্বলন্ত হৃদয়ের স্ফুলিঙ্গ।এই কঠিনক্ষতের মুহুর্তটুকু উপেক্ষা করতে তীর্যক কন্ঠে বলল, ‘যদি ক্ষমা দেই ,আর কখনো সাক্ষাৎ যেন না পাই।’
আদওয়া দ্রুতপায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো।পেছনে পড়ে রইলো এক আহত দৃষ্টি আর পুড়ে দগ্ধ হওয়া এক ভগ্ন হৃদয়।
শীতের এক দূর্দান্ত সকাল।তবে সঙ্গ হিসেবে সর্বোচ্চ এক কাপ গরম কফি ব্যাতীত কিছুই নেই।গরম কফি থেকে ছাড়া পাওয়া বিন্দু বিন্দু বাষ্পগুলো শীতল বাতাসের সাথে তড়িৎ মিলিয়ে যাচ্ছে।যেনো তাদের এই উষ্ণতা শীতলতার সাথে পাল্লা দিতে অনুৎসাহী।
মাহের কফিতে চুমুক দেওয়ার আগে এক লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।ব্যস্ত জীবনের অবিরাম ছুটে চলা থামবে না কখনোই।এ ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য একটু সময় বের করা বেশ কষ্টসাধ্য হলেও মাহের করেছেন।কেনো জানি ইদানিং অস্থির লাগে।কিন্তু ঠিক কি কারনে বা কোনো প্রেসারে এমন হচ্ছে কি না ঠাহর করা দায়।এই অস্থিরতা বা অস্বস্তি বাধ্য করছিলো মাঝরাতে মিথ্যে অজুহাত দিয়ে আরহামের বাসা থেকে ফিরার।তাই একটু ভিন্ন রকম সময় কাটানোর জন্যই গ্রামে নিজের বাড়িতে আসা! দীর্ঘদিন পর আপন নীড়ে!
দূরের মাঠটা আস্তে আস্তে ফর্সা হচ্ছে।কুয়াশা মাড়িয়ে প্রকৃতি তাঁর খোলশ ছাড়াতে।যতক্ষন কফির কাপটা খালি হলো না মাহের বসে রইলেন।উমের ব্লেজারের সাথে গলায় মখমলি মাফলার বেড়ানো।পায়ে বুট জুতা আর মাথায় ক্যাপ।একটু ঠান্ডা লাগলেই তাকে ভালো অসুস্থতায় ভোগতে হয় বলেই নিজেকে এতো প্যাকেট করা উনার।শীত ছেড়ে কাপ রেখে উঠে পড়লেন মাহের।মুখে সিগারেট লাগিয়ে তা জ্বালিয়ে বাড়ির গেট পেরোলেন।অমনি টুংটাং শব্দ করে মেসেজ টিউন বাজলো।
‘একটাবার ভেবে দেখা যায় না?যতদিন বলবেন ততদিন অপেক্ষা করবো তবুও যদি পজিটিভ কিছুর সম্ভাবনা থাকে?’
কীবোর্ড চেপে ‘নেই’ উত্তর দিয়েই পাওয়ার অফ করে নিলেন।প্রাত:ভ্রমনের দূর্লভ সুযোগটা মিস করা মানে মাঝরাতের দেড় ঘন্টার ড্রাইভিং টুকু ব্যর্থ।
বিয়ের পর বাবার বাড়ি এই প্রথম যাওয়া তাদের।অথচ সেই সকাল থেকেই মানুষটা লাপাত্তা।রাগে ,ক্ষোভে ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে তাঁর।এই বিষয়টা নিয়েও উনার খামখেয়ালি।তাঁর এতো এতো অপেক্ষা আর আগ্রহ নষ্ট হওয়ার জন্য লোকটার হেয়ালিপনা আচরণই যথেষ্ট।
প্রতিদিন বিকেল চারটার মধ্যে ফিরে আসলেও আজকে ফিরতে সন্ধ্যা গড়ালো রায়ানের।বারান্দার সোফায় চুপচাপ হয়ে বসে ছিলো এশা।রায়ান ক্লান্ত ভঙ্গিতে শার্টের বাটন খুলতে খুলতে বললেন, ‘একটু জুস তৈরি করে দাও।কমলার জুস।’
এশা বিনাবাক্যে বেরিয়ে গেলে রায়ান ধপ করে বিছানায় পড়লেন।ঘুমে চক্ষুদ্বয় জোট হয়ে লেগে আসছে।এখন প্রিয়তমার হাতের চমৎকার এক গ্লাস জুস পেলেই ডাট ঘুম লাগবে।রায়ান চোখবুজে অপেক্ষা করতে লাগলেন।
এশা ফিরে আসলো জুস নিয়ে।রায়ান চটপট জুস খেয়ে গা এলিয়ে দিতে গিয়ে চমকালেন।অন্যদিন সে ব্যস্ত হয়ে যায় অফিসের কাপড় চেন্জ করা নিয়ে বা শাওয়ার নিয়ে।আজকে কিছুই করছেন না কিন্তু কেন?
‘কোনো সমস্যা?এমন মুখ ফুলিয়ে আছো কেন?’
না বোধক উত্তর দিয়ে প্রস্থান করলো এশা।রায়ানও চোখ বুজলেন গভীর তন্দ্রায়।
অথচ গভীর রাতে তন্দ্রা ছেড়ে যখন ঘুম ছেড়ে হালকা হলেন পাশের জায়গাটা খালি দেখে চমকালেন রায়ান।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলেন রাত দেড়টা।ওয়াশরুমের লাইট বন্ধ।এশা একা থাকতে ভয় পায়।এতো রাতে কোথায় গেলো মেয়েটা?
রায়ান চট করে বিছানা ছেড়ে নামলেন।বেলকনি বা ওয়াশরুমে সে নেই।এতো রাতে ছাদে যাওয়ার মতো সাহসও তাঁর নেই।রুম খুঁজতে খুঁজতে তাকে পাওয়া গেলো নিচের একটা রুমে।মিতুর সাথে ঘুমিয়েছে।আশ্চর্য!জামাই থাকতে সার্ভেন্টের সাথে কেন ঘুমাবে সে?
রায়ান কিছুটা ইতস্তততা নিয়ে রুমে ঢুকলেও বউ ছাড়া কারো দিকে ভুল করেও চোখ পড়বে না উনার।এশার পাশে এসে তাকে পাজাকোলে তুলে নিলেন।অতপর ধীরে ধীরে দরজা আটকে দিয়ে নিজের রুমের দিকে এগোলেন।
রুমে আসতে আসতে তাঁর ঘুম উধাও।রায়ানও সুযোগ বুঝে জিজ্ঞেস করলেন , ‘তোমার হয়েছে কি এশা?আমি কোনো ভুল করেছি?আমাকে ছেড়ে নিচে কেন গিয়েছো?’
তাঁর মুখে যেনো কুলুপ এঁটে দেওয়া হয়েছে।রায়ান কয়েকবার জিজ্ঞেস করেও উত্তর না পেয়ে অধৈর্য হয়ে বললেন, ‘বলবে তো কেন রেগে আছো?না বললে কি করে বুঝবো?’
‘একা থাকার একটু অভ্যাস করুন।আমার মাকেও আমি একা রেখে এসেছি।আমার উনাকে প্রয়োজন।বাবার সাথে কথা হয়েছে আমার।কালকে উনিই পৌঁছে দিবেন আমাকে।’
দাঁত দিয়ে জিভ কাটলেন রায়ান।এই সেরেছে!সকালে বলে গিয়েছিলেন সে রেডি হয়ে থাকতে।বাসায় এসেই তাকে নিয়ে যাবেন।অথচ একটাবারের জন্যও উনার মনে হয়নি এ কথা।
একপাশ হয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়েছে সে।রায়ান ও শু’তে গিয়ে ধীরসুরে বলতে লাগলেন, ‘অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আমার।এখন যে খুব বড়োসড়ো একটা শাস্তি পাবো এটাতে সন্দেহ নেই।অন্তত দিনশেষে একা থাকার শাস্তি টা দিও না শুধু।’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৪
‘উমায়ের!’
সে তড়িৎ সোজা হয়ে তাকালো।গোল গোল প্রশ্নবিদ্ধ আঁখিদ্বয় আরহামের দিকেই টান টান রাখা।আরহাম কিছু সময়ের জন্য নিজের দৃষ্টিকে তাঁর স্নিগ্ধময়ী সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করে বেশ সিরিয়াস হয়ে জিজ্ঞেস করলেন , ‘আপনি আমার জন্য কি কি করতে পারবেন?’
