Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১২

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১২

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১২
মহাসিন

নিরব আহমেদ ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি এনে বলল, “আমার এখনো প্রেমিকা হয়নি। আমি তাকে ভালোবাসি, কিন্তু সে আমাকে ভালোবাসে না।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকে তাকাল। “কেন ভাইয়া? আপনি তাকে এখনো প্রপোজ করেননি?”
নিরব ধীরে মাথা নাড়ল। “না। সে আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট।”
শাপলা সহজ ভঙ্গিতে বলল, “তাতে কী হয়েছে? মনের কথা চেপে রাখবেন কেন? বলে দিন। পরে যা হবার হবে।”
নিরবের চোখে একরাশ দ্বিধা ভেসে উঠল। “সব কিছু এত সহজ না রে, শাপলা। আমি যাকে ভালোবাসি তার সাথে আমার একটা ভীষণ সুন্দর সম্পর্ক। যদি ভালোবাসার কথা বলি আর সে না করে দেয়? যদি তারপর আগের মতো আর হেসে কথা না বলে? তাহলে এই সম্পর্কটাই চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে যাবে। আমি সেই ভয়টা পাই।”
শাপলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “হুম, তাও ঠিক। আচ্ছা ভাইয়া, আপনার ভালোবাসার মানুষটির ছবি একবার দেখান না?”

নিরব স্নেহের হাসি হাসল। “এত তাড়াতাড়ি না। সময় হোক, একদিন দেখাব।”
শাপলার কৌতূহল তবু কমল না। “আচ্ছা, এটা তো বলেন, সে কি খুব সুন্দর?”
নিরবের চোখ দুটো হঠাৎ দূরে কোথাও হারিয়ে গেল। গলাটা নরম হয়ে এলো, যেন কারো নাম জপ করছে। “সুন্দর? শব্দটা ওর জন্য খুব ছোট, শাপলা। ওকে একবার দেখলে মনে হয়, সৃষ্টিকর্তা সবটুকু সৌন্দর্য দিয়ে ওকে গড়েছেন। তাকিয়ে থাকতে থাকতে সময় থমকে যায়। চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না, বুকের ভেতরটা কেমন শান্ত হয়ে আসে।”
একটু থেমে নিরব বলতে লাগল, “তার চোখ দুটো যেন গভীর কাজলের দিঘি। সেই চোখে এক অদ্ভুত মায়া, একবার তাকালে মনে হয় সমস্ত পৃথিবী ভুলে শুধু ওই চোখের অতলে ডুবে থাকি। সেই মায়ার টানেই আমি রোজ রোজ ওর দিকে ঝুঁকে পড়ি।”

“তার চুল… আহ্! কোমর ছাপিয়ে নেমে আসা ঘন কালো ঝর্ণা। রেশমের চেয়েও মসৃণ, রাতের আঁধারের চেয়েও গভীর। যখন হাওয়ায় ওড়ে, মনে হয় কালবৈশাখীর মেঘ উড়ছে আকাশে।”
“গায়ের রঙ দুধে আলতা। যেন প্রথম ভোরের আলো গায়ে মেখে নেমে এসেছে। এতটা স্নিগ্ধ, এতটা কোমল যে ছুঁতে গেলেও হাত কেঁপে ওঠে। মনে হয় এই বুঝি নরম তুলোর মতো মিলিয়ে যাবে।”
নিরবের কণ্ঠে মুগ্ধতা ঝরে পড়ল। “আর তার মুখ? লোকে চাঁদের সাথে তুলনা করে, কিন্তু আমি করি না। কারণ চাঁদের বুকেও কলঙ্কের দাগ আছে। কিন্তু তার মুখ নিষ্কলঙ্ক। একেবারে নিখুঁত। যেন কোনো শিল্পীর তুলির শেষ টান। হাসলে মনে হয়, হাজারটা পদ্ম একসাথে ফুটে উঠল। সেই হাসিতেই আমি প্রতিদিন নতুন করে ম*রি, নতুন করে বাঁচি।”

শাপলা হাঁ করে শুনছে। “আপনি যেভাবে বললেন ভাইয়া, আমার তো এখনই ওই মেয়েটাকে দেখতে ইচ্ছে করছে! এত সুন্দর মানুষও হয়?”
নিরব হেসে বলল,। “হয় রে পাগলি, হয়। ঠিক আছে, এখন অনেক রাত হয়েছে। ঘুমিয়ে পড়। আমি যাই।”
এই বলে নিরব ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
দরজা বন্ধ হতেই ঘরটা নিঝুম হয়ে গেল। শাপলা বিছানায় গা এলিয়ে দিল। চোখ বুজতেই নিরবের বর্ণনা করা সেই অপ্সরীর মুখ নয়, তার চোখের সামনে ভেসে উঠল সিয়ামের দুষ্টু, মায়াবী মুখটা। সিয়ামের কথা ভাবতে ভাবতে ঠোঁটের কোণে এক টুকরো লাজুক হাসি নিয়ে শাপলা ধীরে ধীরে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ল।

রাত গভীর। ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরিয়েছে। নীলাঞ্জনা খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে। পাশে তার ছোট্ট মেয়ে আলো, ঘুমের দেশে হারিয়ে গেছে। কী নিষ্পাপ, কী শান্ত মুখখানি!
ঘরের আরেক পাশে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে নীলাঞ্জনার বান্ধবী লিমা। তার দৃষ্টি নিচে, রাস্তার দিকে। সেখানে আরিফ বসে আছে বেঞ্চে। সেই দুপুর থেকে অপেক্ষা করছে। না খেয়ে, না নড়ে, শুধু নীলাঞ্জনা কে নিজের জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলে ।
লিমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীলাঞ্জনার দিকে ফিরে বলল “নীলু রে, আর জেদ করিস না। ছেলেটা সেই দুপুর থেকে বসে আছে। এখন রাত বারোটা বাজে। এভাবে কাউকে কষ্ট দিতে নেই।”
নীলাঞ্জনা মেয়ের চুলে আঙুল বোলাতে বোলাতে ফিসফিস করে বলল, “আমি কী করব বুঝতে পারছি না, লিমা। আমার সব কিছু এলোমেলো লাগছে। মাথাটা কাজ করছে না।”
লিমা এগিয়ে এসে নীলাঞ্জনার হাত চেপে ধরল। “শুধু একটা কথা বল, তুই আরিফকে এখনো ভালোবাসিস?”
নীলাঞ্জনার চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। “হ্যাঁ… অসম্ভব রকম ভালোবাসি। ওকে ছাড়া আমার নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।”

“তাহলে ফিরে যা আরিফের জীবনে। এত অভিমান কিসের? তোর ছোট মেয়েটার কথাও একবার ভাব।”
ঠিক তখনই আলো নড়ে উঠল। ঘুম ভেঙে মায়ের দিকে তাকাল। “মা… উঠো না। ঘুমিয়ে থাকো। আমি আছি তো পাশে,” নীলাঞ্জনা মেয়েকে বুকে টেনে নিল।
কিন্তু আলো ফুঁপিয়ে উঠল। “মা, আমার বাবাকে দেখতে ইচ্ছে করছে। বাবার কথা খুব মনে পড়ছে। আমাকে বাবার কাছে নিয়ে চলো না। ও মা, মা… কি হলো? আমি বাবার কাছে যাব।”
নীলাঞ্জনার বুকটা মুচড়ে উঠল। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, “সোনা মা, এখন তো অনেক রাত। দিন হোক, তারপর তোমার বাবার সাথে দেখা করবে। ঠিক আছে? এখন ঘুমিয়ে পড়ো।”
মায়ের আদরে, মায়ের গানের সুরে আলো আবার ঘুমিয়ে পড়ল।
সময় গড়িয়ে যায়। রাত ১২টা ৪০। নীলাঞ্জনার চোখে ঘুম নেই, শুধু ক্লান্তি। লিমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আর ওখানে দাঁড়িয়ে থাকিস না। আয়, ঘুমিয়ে পড়।”

এই বলে নীলাঞ্জনা মেয়ের পাশে শুয়ে পড়ল। লিমাও এসে তার পাশে জায়গা করে নিল।
কিন্তু ঘুম আসে না নীলাঞ্জনার। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে ওঠে একটাই মুখ, আরিফের মুখ। সেই চেনা হাসি, সেই অপেক্ষারত চোখ। এপাশ ওপাশ করতে করতে রাত আরও গভীর হলো।
অবশেষে বিছানা ছাড়ল নীলাঞ্জনা। পা টিপে টিপে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। গ্রিলের ফাঁক দিয়ে নিচে তাকাল। হ্যাঁ, আরিফ এখনো বসে আছে। রাস্তার সোডিয়াম লাইটের হলদে আলোয় তার মুখটা ফ্যাকাশে, ক্লান্ত, তবুও অপেক্ষায় অনড়।
নীলাঞ্জনা একটা চেয়ার টেনে জানালার পাশে বসল। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সেই মানুষটার দিকে, যাকে সে অসম্ভব রকম ভালোবাসে।
এভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে তার চোখ দুটো ভারী হয়ে এলো, টেরই পেল না। চেয়ারে হেলান দিয়েই ঘুমিয়ে পড়ল নীলাঞ্জনা। জানালার ওপাশে রাত জাগে আরিফ, আর এপাশে ঘুমের মাঝেও আরিফকেই আঁকড়ে ধরে নীলাঞ্জনা।

রাতের কালো চাদর সরিয়ে ভোর হলো। পূর্ব দিগন্তে রক্তিম সূর্য তার সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। ঘুমন্ত শহরটা ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। রাস্তায় রিকশার টুংটাং, ফেরিওয়ালার হাঁক, দূরে কোথাও কাকের কর্কশ ডাক— সব মিলিয়ে শহরটা আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
জানালার শার্সি গলে এক ফালি রোদ এসে নীলাঞ্জনার চোখে-মুখে লুটোপুটি খেল। উষ্ণ আলোর ছোঁয়ায় ঘুম ভেঙে গেল তার। চোখ কচলে চারপাশে তাকিয়ে নিজেই চমকে উঠল।
“আমি… এই চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে ছিলাম?” নিজের অজান্তেই ফিসফিস করে বলল নীলাঞ্জনা। “ধ্যাত, কখন যে চোখ লেগে এসেছিল, বুঝতেই পারিনি!”
হঠাৎ আরিফের কথা মনে পরলো।
বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। নীলাঞ্জনা দ্রুত উঠে জানালার গ্রিল আঁকড়ে ধরল। নিচে তাকাল।
হ্যাঁ, সে এখনো আছে। রাস্তার পাশের সেই বেঞ্চটায় ঠায় বসে আছে আরিফ। সারারাত নির্ঘুম অপেক্ষায় তার চোখের কোণে কালি জমেছে, গাল ভেঙে গেছে, মুখটা শুকিয়ে একেবারে কাঠ। ভোরের আলোয় তাকে আরও বিধ্বস্ত, আরও অসহায় লাগছে।

ভোরের নরম আলো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। লিমা ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে তাকাল নীলাঞ্জনার দিকে। নীলাঞ্জনা তখনও জানালার গ্রিল ধরে নিচে তাকিয়ে আছে, স্থির, নিস্পন্দ।
“কিরে, কী দেখছিস অমন করে?” লিমা হাই তুলে বলল। “আরিফকে দেখছিস বুঝি?”
নীলাঞ্জনা ধীরে ঘুরে তাকাল। কিন্তু মুখে কোনো কথা নেই। শুধু চোখে একরাশ শূন্যতা।
লিমা ভ্রু কুঁচকাল। “কিরে, চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছিস কেন? কিছু বল।”
নীলাঞ্জনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাসটা যেন ঘরের বাতাসকেও ভারী করে দিল। “হ্যাঁ, আরিফকেই দেখছি।”
লিমা এবার সোজা হয়ে বসল। “কী ভাবলি? আরিফের জীবনে ফিরে যাবি?”
নীলাঞ্জনা কোনো উত্তর দিল না। নিঃশব্দে গিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল।
লিমা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ বলল, “আচ্ছা নীলু, তোর রাকেশ স্যারের কথা মনে আছে?”
নীলাঞ্জনা চমকে তাকাল। “এত বছর পর হঠাৎ রাকেশ স্যারের কথা তুললি কেন?”
লিমা আলতো হাসল। “না, এমনি। দেখলাম, তার কথা তোর মনে আছে কি না।”
নীলাঞ্জনা জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, “রাকেশ স্যারের কথা খুব ভালো করেই মনে আছে। ভোলার মতো মানুষ ছিলেন না উনি।”

“রাকেশ স্যার বিয়ে করেছেন। তার একটা ছেলেও আছে। জানিস?”
নীলাঞ্জনার বলল, “না, জানি না। বিয়ের পর কারো সাথেই আর যোগাযোগ হয়নি। সব কিছু কেমন বদলে গেছে।”
লিমা একটু ঝুঁকে এলো। “রাকেশ স্যার তোকে কখনো কিছু বলেছিলেন?”
নীলাঞ্জনা অবাক হলো। “আমাকে আবার কী বলবেন? কেন, তুই কিছু জানিস নাকি?”
লিমার চোখ দুটো কেমন উদাস হয়ে গেল। “জানি তো অনেক কিছুই। কিন্তু এখন আর ওইসব বলে কী লাভ? তোর বিয়ের পর সব কিছু বদলে গেছে।”
নীলাঞ্জনা ম্লান হাসল। “তাহলে কিছু জেনে থাকলেও আর বলতে হবে না। পুরোনো জিনিস পুরোনোই থাক। তুই আমাকে এটা বল, বিয়ে করলি না কেন?”
লিমা বলল, “যাকে ভালোবাসছি, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হতে পারতাম না। তাই করিনি।”
নীলাঞ্জনা বলল, “তুই আমাকে একটা কথা কোনোদিন বলিসনি। আজ বলবি।”

“কী?”
“তুই কাকে ভালোবাসতি?”
লিমার ঠোঁট কেঁপে উঠল। “এমন একজনকে ভালোবেসেছি, যে আমাকে ভালোবাসেনি।”
নীলাঞ্জনা অধৈর্য হলো। “এসব না বলে নামটা বল।”
লিমা মাথা নিচু করল। “এত বছর যখন নামটা গোপন রেখেছি, এখনো না হয় গোপন থাক।”
নীলাঞ্জনা শক্ত গলায় বলল, “না, আজ তোকে বলতেই হবে সে কে। যদি আমাকে সত্যিই বান্ধবী ভাবিস, তাহলে বল, কে সে? তোর ভালোবাসার মানুষটা কে?”
ঘরে পিনপতন নীরবতা। শুধু দেয়ালঘড়ির টিকটিক শব্দ।
লিমা কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল, “রাকেশ স্যার।”
কথাটা শোনামাত্র নীলাঞ্জনার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। রক্ত শূন্য হয়ে গেল মুখ। “কিহ্? রাকেশ স্যার?”
লিমার চোখে জল চিকচিক করে উঠল। “হ্যাঁ, রাকেশ স্যার। যাকে আমি এখনো ভালোবাসি। আমি তাকে ভালোবাসার কথা বলেছিলাম। কিন্তু সে অন্য কাউকে ভালোবাসত। তাই আমার ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়েছিল।”
লিমা একটু থেমে দম নিল। “আর শেষে কী হয়েছিল জানিস? সে যাকে ভালোবাসত, তাকেও সে বিয়ে করতে পারেনি।”

ড্রয়িং রুমে থমথমে নীরবতা। মহুয়া, সায়েক আহমেদ, নিরব আর সিয়াম বসে আছে। ঘড়ির কাঁটা আটটা ছুঁই ছুঁই। সবাই এখনই অফিসের জন্য বের হবে।
সায়েক আহমেদ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নিরবের দিকে তাকালেন। গলায় উদ্বেগ, “আরিফ কি কোনো কল দিয়েছিল?”
নিরব মাথা নাড়ল। “না বাবা, কোনো কল দেয়নি। আমি কয়েকবার ওর নাম্বারে কল দিয়েছিলাম, কিন্তু রিসিভ করেনি।”
সিয়াম বিরক্তি চেপে বলল, “কোথায় গেছে তাও বলে যায়নি। শুধু শাপলাকে বলছে ভাবি কে আনতে গেছে।”
একটু থেমে সিয়াম আবার বলল, “আচ্ছা মা, ভাবি যে চলে গেছে, ব্যাপারটা তার বাড়িতে জানানো দরকার না?”
মহুয়া শাড়ির আঁচলটা গুছিয়ে নিয়ে বললেন, “আর দু’টো দিন দেখি। আরিফ যদি নীলাঞ্জনাকে ফিরিয়ে আনতে না পারে, তাহলে বলে দেব।”
তিনি সিয়ামের দিকে তাকালেন। “সিয়াম, তোর আজ অফিসে যেতে হবে না। বাড়িতেই থাক। শাপলাকে দেখে মনে হলো মেয়েটা বেশ ভয় পেয়েছে। আমার কাছে রেখে গেছে ওকে। যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে আমার বোনের কাছে কী জবাব দেব ?”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১১

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললেন, “দু-তিন দিন শাপলার স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই। বাসায়ই থাকুক। ওকে একটু দেখে রাখিস। মেয়েটা এখনো ঘুমোচ্ছে।”
কথা শেষ করে মহুয়া উঠে দাঁড়ালেন। “আচ্ছা, চলো সবাই। দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
এই বলে মহুয়া, সায়েক আহমেদ আর নিরব অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।
সিয়াম গুটি গুটি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল। শাপলার রুমের দরজাটা আলতো করে ঠেলে ভেতরে ঢুকল। শাপলা তখনো গভীর ঘুমে। নিষ্পাপ মুখখানি বালিশে লেপ্টে আছে, চুল এলোমেলো।
সিয়াম পা টিপে টিপে গিয়ে শাপলার পাশে বসল। কিছুক্ষণ অপলক তাকিয়ে রইল সেই ঘুমন্ত মুখের দিকে। তারপর ঝুঁকে আলতো করে শাপলার কপালে একটা চুমু এঁকে দিল।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here