রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৬
মহাসিন
সিয়াম বিছানা ছেড়ে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল দরজার দিকে। ওপাশ থেকে দরজায় একটানা টোকা পড়ছে, অধৈর্য, অস্থির।
দরজাটা খুলতেই শাপলা ভারসাম্য রাখতে না পেরে হুড়মুড় করে সিয়ামের বুকের ওপর এসে পড়ল।
আচমকা ধাক্কায় সিয়ামও তাল সামলাতে পারল না। দুজনে একসাথে লুটিয়ে পড়ল মেঝেতে। ঘরটা নিকষ কালো অন্ধকারে ডুবে আছে। নিচে সিয়াম, আর তার প্রশস্ত বুকের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে শাপলা। দুজনের নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে একে অন্যের সাথে।
সিয়াম ভয়ে চিৎকার করে উঠতে যাবে, ঠিক তখনই শাপলার নরম হাতটা এসে তার ঠোঁট চেপে ধরল। শাপলার বুকের ওঠানামা টের পাচ্ছে সিয়াম।
শাপলা সিয়ামের কানের কাছে ঠোঁট নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“শশ… চুপ। আমি… আমি শাপলা।”
তারপর ধীরে ধীরে হাতটা সরিয়ে নিল। শাপলার গরম নিঃশ্বাস তখনও সিয়ামের কানের লতিতে লেগে আছে।
সিয়াম হাঁপ ছেড়ে বলল,
“আমি তো ভেবেছিলাম চোর ঢুকেছে। এত রাতে তুই!”
এতক্ষণে শাপলার হুঁশ ফিরল। সে যে সিয়ামের বুকের ওপর শুয়ে আছে, এই বোধটা হতেই লজ্জায়, শিহরণে তার সারা শরীর কেঁপে উঠল। বিদ্যুৎ বেগে সিয়ামের ওপর থেকে উঠে দাঁড়াল।
সিয়ামও উঠে গিয়ে ঝট করে ঘরের আলোটা জ্বালিয়ে দিল। হলুদ আলোয় শাপলার লজ্জারাঙা মুখটা মায়াবী লাগছে। সিয়াম এগিয়ে গিয়ে দরজাটা ভেতর থেকে ছিটকিনি তুলে দিল। তারপর কোনো কথা না বলে শাপলার কবজি ধরে এক টানে নিজের একদম কাছে টেনে আনল।
শাপলার চোখে চোখ রেখে গম্ভীর, অথচ নে*শাধরা গলায় বলল,
“এত রাতে একটা ছেলের ঘরে কেন এসেছিস, শাপলা? এখন যদি তোর সাথে আমি কিছু ক*রে ফে*লি, সা*মলাতে পারবি নিজেকে?”
শাপলা এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। তবু সিয়ামের চোখ থেকে চোখ সরাতে পারল না। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
“আপনাকে… আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল। ঘুম আসছিল না। তাই…”
সিয়াম এক পা এক পা করে এগিয়ে এল। শাপলার এতটা কাছে চলে এল যে দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা যাচ্ছে। সিয়াম ঝুঁকে শাপলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল,
“যখন এসেই পড়েছিস, চল তবে আজ রাতটা আমরা দুজন আমাদের মতো করে রাঙিয়ে তুলি। রঙ্গ*লী*লায় মাতি।”
শাপলা ঢোক গিলল।
“মানে? কী বলতে চাইছেন?”
সিয়ামের ঠোঁটের কোণে দুষ্টু, মা*দক*তাময় হাসি।
“রো*মা*ন্স, শাপলা। তোর আর আমার রো*মা*ন্স।”
একটু থেমে শাপলার গালে আলতো করে আঙুল ছুঁইয়ে বলল,
“সত্যি করে বল তো, শুধু আমাকে দেখতে এসেছিস? নাকি আমার বুকে মাথা রেখে আজ রাতটা পার করার ধান্দায় এসেছিস?”
শাপলার গাল দুটো টমেটোর মতো লাল হয়ে গেল।
“ওই সব মানে? আপনি কী বোঝাতে চাইছেন, হ্যাঁ?”
কথা শেষ হওয়ার আগেই সিয়াম আচমকা শাপলাকে পাঁজাকোলা করে শূন্যে তুলে নিল।
শাপলা আঁতকে উঠল। দুই হাতে সিয়ামের গলা জড়িয়ে ধরল নিজের অজান্তেই। বুকের ভেতরটা হাতুড়ি পিটছে।
“এই! আমাকে কোলে নিলেন কেন? নামান বলছি! নাহলে আমি কিন্তু চিৎকার করব!”
সিয়াম শাপলাকে বুকের সাথে আরও নিবিড় করে চেপে ধরল।
“কর চিৎকার। করে কী বলবি? আমি তো তোর ঘরে যাইনি। তুই নিজে থেকে আমার নে*শার ঘরে এসে ধরা দিয়েছিস। তোকে এই অবস্থায় দেখে আমার নি*জে*কে সা*মলানো দায় হয়ে যাচ্ছে। তোকে পাগলের মতো কাছে পে*তে ইচ্ছে করছে।”
এই বলে সিয়াম শাপলাকে নিয়ে গিয়ে নরম বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর নিজেও ঝুঁ*কে পড়ল তার ও*পর। শাপলার দুই পাশে হাত রেখে তাকে নিজের শরীরের ঘেরাটোপে অবরুদ্ধ করে ফেলল। শাপলার শরীরের প্রতিটা রোমকূপ তখন সিয়ামের স্প*র্শের জন্য কাঁপছে।
শাপলা ছ*টফ*ট করে উঠল,
“ছাড়ুন… প্লি*জ ছাড়ুন। এবার কিন্তু সত্যিই বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।”
সিয়াম শাপলার কপালে পড়ে থাকা চুলটা ফুঁ দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল,
“এটা তোর শা*স্তি, শাপলা। এত রাতে একটা ছেলের সবথেকে দুর্বল জায়গায় এসে হানা দেওয়ার শাস্তি। তোকে এত কাছ থেকে দেখে আমার নে*শা ধরে গেছে। তোকে আমার বুকের ভেতর লুকিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে।”
বলেই সিয়াম শাপলার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে গেল। ছুঁই ছুঁই করেও ছুঁল না। তার গরম নিঃশ্বাস শাপলার ঠোঁটে এসে লাগছে।
শাপলা আর সহ্য করতে পারল না। অভিমান আর আকাঙ্ক্ষা মেশানো গলায় বলল,
“কী হলো? থেমে গেলেন কেন?
কথাটা শেষ করেই শাপলা নিজেই দুই হাতে সিয়ামের মুখটা টেনে এনে তার ঠোঁট দুটো দ*খল করে নিল।
সময় যেন থমকে গেল। সিয়াম স্তব্ধ, বিস্মিত। এই লাজুক শাপলা তাকে এভাবে চু*মু খাচ্ছে! শাপলার ঠোঁটের উষ্ণতা, তার আবেশ সিয়ামকে পা*গল করে দিল।
হঠাৎ শাপলা তার নখ দিয়ে সিয়ামের খোলা বুকে আলতো আঁ*চড় কে*টে দিল। ভালোবাসার সেই মিষ্টি য*ন্ত্র*ণায় সিয়াম কেঁপে উঠল।
আর ঠিক তখনই শাপলা সর্বশক্তি দিয়ে সিয়ামকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। এক মুহূর্ত দেরি না করে বিছানা থেকে নেমে দৌড়ে চলে গেল দরজার কাছে।
দরজা খুলে পেছন ফিরে সিয়ামের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু একটা ভেংচি কাটল। এর পর নিজের রুমের দিকে চলে যেতে লাগল।
সিয়াম তখনও বিছানায় হতভম্ব হয়ে বসে আছে। ডান হাতটা নিজের ঠোঁটে। সেখানে এখনও লেগে আছে শাপলার ঠোঁটের উষ্ণতা, তার দুষ্টুমি, তার ভালোবাসা।
বাইরে ঝিঁঝিঁ ডাকছে। আর সিয়ামের বুকের ভেতর তোলপাড় তুলছে শাপলা নামের এক অদ্ভুত, মিষ্টি ঝড়।
শাপলা কোনোমতে রুমে ঢুকে ধপ করে দরজাটা আটকে দিল। পিঠটা দরজার সাথে লেপ্টে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছে। নিজেকেই নিজে বলতে লাগল, “এই শাপলা, তুই এটা কী করলি? তুই কীভাবে সিয়াম ভাইয়াকে ওভাবে কি*স করলি! কাল সকালে ওনার সামনে দাঁড়াবি কী করে?” শাপলার ভাবতেই গা শিরশির করে উঠল।
গুটি গুটি পায়ে জানালার কাছে গিয়ে পাল্লাটা খুলে দিল। সাথে জোছনার আলো এসে পড়ল ওর গায়ে। চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে শাপলা আরও লজ্জা পাচ্ছে। কি*স এর কথা মনে পড়তেই গাল দুটো টমেটোর মতো লাল হয়ে গেল। কান গরম হয়ে গেছে একদম।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল, “আমি তো আমার ভালোবাসার মানুষকেই কি*স করেছি, তাতে কী হয়েছে? কিন্তু সিয়াম ভাইয়াকে তো এখনও বলিনি যে আমি ওনাকে ভালোবাসি। কবে বলব? যদি দেরি হয়ে যায়? যদি হারিয়ে ফেলি ওনাকে?” আবার নিজেই নিজেকে বোঝাল, “না, এত তাড়াতাড়ি বলা যাবে না। আরও সময় নিতে হবে।”
হঠাৎ বিছানার ওপর ফোনটা বেজে উঠল। এত রাতে কে কল দেবে? শাপলা অবাক হয়ে বিছানার কাছে গেল। বালিশের নিচ থেকে ফোনটা বের করে দেখে অচেনা নাম্বার।
শাপলার ফোনে তো সিয়ামের ছাড়া আর কারও নাম্বার সেভ করাই নেই। নিজের নাম্বারটা শুধু বন্ধুদের দিয়েছে। কিন্তু ওরা তো এত রাতে ফোন করবে না।
ফোনটা বেজেই যাচ্ছে। শাপলা শেষমেশ রিসিভ করল।
ওপাশ থেকে একটা ছেলের গলা,
“হ্যালো, কেমন আছো?”
শাপলা বিরক্ত হয়ে বলল,
“আমি ভালো আছি না খারাপ আছি, সেটা আপনাকে কেন বলব? আপনি কে? আমাকে কেন কল দিয়েছেন সেটা বলেন।”
ওপাশ থেকে হেসে উত্তর এল,
“তোমার ভালো থাকা, খারাপ থাকা—সব আমাকেই তো জানতে হবে।”
শাপলার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।
“এই চুপ করুন। আগে বলেন আপনি কে?”
লোকটা আস্তে করে বলল,
“আমি এক পাগল প্রেমিক।”
শাপলা এবার রেগে গেল।
“তাহলে আমার কাছে ফোন না দিয়ে পাবনায় গিয়ে ম*রেন!”
বলেই খট করে কলটা কেটে দিল।
ফোনটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল শাপলা। কে ছিল লোকটা? আবার নিজেকে পাগল প্রেমিক বলছে! মাথাটা গুলিয়ে যাচ্ছে।
ধীরে ধীরে জানালার পাশের চেয়ারটা টেনে বসল। হঠাৎ বড় বোন শিখা আপুর কথা মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। কী ভয়ংকরভাবে মে*রে*ছিল আপুকে!
চোখের কোণে পানি জমে উঠল শাপলার। জানালার গ্রিল চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল, “যে আমার আপুকে মে*রেছে, তাকে আমি একদিন ঠিক খুঁজে বের করব। আমার বোন যতটা ক*ষ্ট পেয়ে ম*রে*ছে, তার চেয়েও ভয়ং*কর অবস্থা করব ওর। কথা দিলাম, আপু।”
রাত গভীর হতে লাগলো। শাপলা চেয়ারে বসে জানালার গ্রিল ধরে বাইরে তাকিয়ে আছে।
ফোনটা এখন চুপ। কিন্তু মাথার ভেতর ওই “পাগল প্রেমিক” কথাটা ঘুরপাক খাচ্ছে। কে হতে পারে? সিয়াম ভাইয়া? না, ওনার গলা তো এমন না। তাহলে?
শাপলা ফোনটা হাতে নিয়ে নাম্বারটা আবার দেখল। আনসেভড। ব্লক করে দেবে কি না ভাবতে ভাবতেই আবার ফোনটা কেঁপে উঠল। এবার মেসেজ।
একই নাম্বার থেকে—
“রাগ করো না শাপলা। আমি তোমার খুব কাছের মানুষ। সময় হলে ঠিক চিনতে পারবে। শুভরাত্রি।”
শাপলার গা ছমছম করে উঠল। খুব কাছের মানুষ? কে?
শাপলা চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে
ফোনটা বন্ধ করে বালিশের নিচে ঢুকিয়ে রাখল।
এর পর বিছানায় শুয়ে পরল।
চোখ বন্ধ করলেই সিয়াম ভাইয়ের মুখটা ভেসে উঠছে। ওই চু*মুর কথা মনে পড়লেই লজ্জায় ম*রে যেতে ইচ্ছে করে। আবার ভালোও লাগে। কী অদ্ভুত অনুভূতি!
শাপলা উঠে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল। নিজের লাল হয়ে যাওয়া গাল দুটো দেখল। ঠোঁটে আঙুল ছোঁয়াল। এখানেই তো সিয়াম ভাইয়ের ছোঁয়া লেগে আছে।
আয়নাকে বলল, “তুই এত সাহস কোথায় পেলি রে শাপলা? ওনাকে কি*স করে চলে এলি!”
এর পর শাপলা আবার গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরল। ধীরে ধীরে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেল।
সকাল হয়ে গেছে। ঘড়িতে আটটা বাজে।
শাপলা গুটি গুটি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে। ও জানে, এই সময়টায় বাসা প্রায় ফাঁকা থাকে। সবাই অফিসে চলে যায়। সিয়াম ভাইয়া নিশ্চয়ই বেরিয়ে গেছেন।
কিন্তু রাতের সেই চু*মুর কথা মনে পড়তেই শাপলার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। সিয়াম ভাইয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে কী করে? লজ্জায় ম*রে যাবে তো!
ডাইনিং টেবিলের কাছে যেতেই শাপলা থমকে গেল। সিয়াম বসে নাস্তা করছে। শান্ত মুখে, যেন কিছুই হয়নি।
শাপলা পেছন ফিরে পালাতে যাবে, ঠিক তখনই নীলাঞ্জনা ভাবি ডেকে উঠল, “এই শাপলা, কোথায় যাচ্ছো? সকালের নাস্তাটা খেয়ে যাও।”
সিয়াম মুখ তুলে তাকাল। ঠোঁটের কোণে সেই চেনা বাঁকা হাসি।
শাপলার ইচ্ছে করল মাটি ফাঁক হয়ে যাক, আর ও ঢুকে পড়ুক ভেতরে। কিন্তু উপায় নেই। ধীরে ধীরে গিয়ে সিয়ামের সামনের চেয়ারটায় বসল।
নীলাঞ্জনা প্লেটে খাবার বেড়ে দিল। সিয়াম খেতে খেতে আড়চোখে শাপলার দিকে তাকাচ্ছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।
শাপলার গলা দিয়ে খাবার নামছে না। হাত কাঁপছে।
নীলাঞ্জনা বলল, “কী হলো শাপলা? খাচ্ছো না কেন?”
“এই তো, খাচ্ছি ভাবি,” বলেই শাপলা খাবার মুখে তুলতে যাবে, ঠিক তখনই টেবিলের নিচ দিয়ে সিয়াম পা দিয়ে ওর পায়ে আলতো করে ঘষা দিল।
শাপলা বিদ্যুৎ শক খাওয়ার মতো কেঁপে উঠল। সিয়াম ভাবলেশহীন মুখে খেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু চোখে দুষ্টুমি।
নীলাঞ্জনা আবার বলল, “এভাবে বসে না থেকে খেয়ে নাও। ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।” তারপর সিয়ামের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করল, “আজ অফিসে যাবে না?”
সিয়াম প্লেটের দিকে তাকিয়েই বলল, “না ভাবি। ভাবছি কয়েকদিন জরুরি দরকার ছাড়া অফিসে যাব না। একটু রেস্ট নেব।”
নীলাঞ্জনা ড্রয়িংরুমের দিকে চলে গেল।
ভাবি চোখের আড়াল হতেই সিয়াম শাপলার দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল, “কিরে, এভাবে লজ্জা পাচ্ছিস কেন?”
শাপলা মাথা নিচু করে আছে। কোনো কথা বলছে না।
সিয়াম আবার বলল, “কী হলো? কথা বল।” একটু থেমে গলাটা নামিয়ে বলল, “তুই তো আমাকে ভালোবাসিস, তাই না?”
শাপলা ঝট করে মুখ তুলে তাকাল। “আমি আপনাকে কখন বললাম যে ভালোবাসি?”
“তাহলে রাতে আমাকে কি*স করলি কেন?” সিয়ামের চোখে চাপা হাসি।
শাপলা আমতা আমতা করে বলল, “কেন? আমি কি আমার ভাইয়াকে কিস করতে পারি না?”
“তাহলে ঠোঁটে কেন করলি?”
“আমার ইচ্ছা।” শাপলা অন্য দিকে তাকিয়ে বলল।
সিয়াম চেয়ারে হেলান দিয়ে বলল, “আমিও তোকে এখন কি*স করব।”
শাপলা চমকে উঠল। “আপনার মাথা ঠিক আছে? আজব তো!”
“আমার মাথা একদম ঠিক আছে,” সিয়াম শান্ত গলায় বলল। “আমি তো আর গার্লফ্রেন্ড বা বউ হিসেবে কি*স করব না। বোন হিসেবেই করব।”
শাপলা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিয়াম চেয়ার ছেড়ে উঠে এল। এক মুহূর্তে ঝুঁকে শাপলার ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছোঁ*য়াল।
ঠিক তখনই আলো দৌড়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে আসছিল। পুরো দৃশ্যটা ওর চোখে পড়ে গেল।
শাপলার সারা শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল। সিয়াম আর শাপলা দুজনেই চমকে আলোর দিকে তাকাল।
আলো চোখ বড় বড় করে বলল, “চাচ্চু! এটা কী হলো? তুমি শাপলা ফুপিকে চু*মু দিচ্ছো? মা! ও মা! এসে দেখে যাও চাচ্চু কী করছে!”
সিয়াম লাফ দিয়ে আলোর কাছে গেল। “চুপ! চুপ! কাউকে বলবি না। যদি না বলিস তাহলে চকলেট আইসক্রিম দেব, ঠিক আছে?”
আলো ভ্রু কুঁচকে বলল, “সত্যি দেবে তো?”
মেয়ের চিৎকার শুনে নীলাঞ্জনা দৌড়ে এল। “কী রে আলো? কী হয়েছে? তোর চাচ্চু আবার কী করল?”
শাপলা সুযোগ পেয়ে প্লেট ঠেলে উঠে দাঁড়াল। “আমি খাব না,” বলেই প্রায় দৌড়ে ড্রয়িংরুমে চলে গেল।
নীলাঞ্জনা অবাক হয়ে বলল, “কী হলো আবার?”
সিয়াম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, “আরে কিছু না ভাবি। একটা টিকটিকি ছিল দেয়ালে। ওটা তাড়িয়ে দিচ্ছিলাম। তাই আলো ভয় পেয়ে চেঁচিয়েছে।”
নীলাঞ্জনা আলোর হাত ধরে বলল, “আয় তো মা, আমার সাথে।”
ওরা ড্রয়িংরুমে চলে যেতেই সিয়াম একটা লম্বা শ্বাস ফেলল। তাড়াতাড়ি নাস্তা শেষ করে সেও ড্রয়িংরুমের দিকে পা বাড়াল।
আর শাপলা? সোফার এক কোণে বসে আছে। বুকটা এখনও ধকধক করছে।
এখন ড্রয়িংরুমে বসে আছে তিন জন—নীলাঞ্জনা, শাপলা আর সিয়াম ।
সিয়াম নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে কৌতূহলী গলায় বলল, “আচ্ছা ভাবি, আপনি তো চলেই গিয়েছিলেন। ভাইয়া আবার কীভাবে রাজি করিয়ে আপনাকে ফিরিয়ে আনল?”
নীলাঞ্জনা হেসে ফেলল। “অনেক কাহিনী করে তারপর এনেছে। আমি তো আসতেই চাইছিলাম না। তোমার ভাইয়ার অবস্থা তখন দেখার মতো—কান্নাকাটি করে একাকার!”
একটু থেমে নীলাঞ্জনা এবার সিয়ামের দিকে তাকাল। চোখে দুষ্টুমি। “তা তুমি, কারো সাথে প্রেম-টেম করো নাকি?”
সিয়াম হাত দিয়ে মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে হাসল। “না ভাবি, কারো সাথে প্রেম করি না। তবে একজনকে ভালোবাসি। সমস্যা হলো, সে আমাকে ভালোবাসে না।”
কথাটা বলেই সিয়াম আড়চোখে একবার শাপলার দিকে তাকাল। শাপলা তখন মাথা নিচু করে নখ খুঁটছে।
নীলাঞ্জনা শাপলার দিকে তাকিয়ে একটু রহস্যময় হাসি দিল। তারপর আবার সিয়ামের দিকে ফিরল। “মেয়েটা কে?”
“কেন?” সিয়াম পাল্টা প্রশ্ন করল।
“বলো না,” নীলাঞ্জনা বলল। “যদি চেনা কেউ হয়, তাহলে না হয় আমিই রাজি করাব।”
সিয়াম মাথা নাড়ল। “না ভাবি, মেয়েটা কে তা এত তাড়াতাড়ি বলা যাবে না। সময় লাগবে।”
নীলাঞ্জনা এবার শব্দ করে হেসে উঠল। “আমাকে বলতেও হবে না। আমি জানি সে কে।”
সিয়াম চমকে উঠল। “কে সে?”
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৫
নীলাঞ্জনা কিছু না বলে শুধু শাপলার দিকে তাকিয়ে হাসল। শাপলা তখনও চুপচাপ, জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। গাল দুটো লাল হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে।
সিয়ামের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। নীলাঞ্জনা আবার সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলল, “আরে মজা করছি! আমি কীভাবে জানব সে কে? তুমি না বললে জানব কী করে?”
নীলাঞ্জনা আরও কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই কলিং বেলটা বেজে উঠল।
কথা থামিয়ে নীলাঞ্জনা উঠে দাঁড়াল। গুটি গুটি পায়ে হেঁটে গেল সদর দরজার দিকে।
দরজাটা খুলতেই অবাক হয়ে বলল, “কবিতা!”
