Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবাকে আরো কাছে আনার জন্য মেয়েকে বুকে জরিয়ে নিলো নুবা আর একটু সরে আসলো,, এদিকে আয়ারা যেনো বিরক্ত হলো,,কি করলো তার পাপা এতো সুন্দর মূহুর্তে দেখতে দিলো না বুকে চেপে ধরলো,,তবু দুষ্ট আয়রা মাথা ঘুরিয়ে উপরের দিকে তাকালো,,,,
মিনিট খানিক পর নুবা আরহামকে ছেড়ে দিলো,,, আরহাম কিছুটা শান্ত হলো,,নুবা আরহামের গালে এক হাত রেখে বললো
_ আমি যদি আয়রার পাপার না হতে পারি তবে আর করোই হবো না,,,, আমার উপর বিশ্বাস রাখেন,,,
আরহামের মন ভরলো না এগিয়ে এসে আবারো নুবাকে বুকে জরিয়ে নিলো,,,যেনো ছেড়ে দিলেই কোথাও চলে যাবে,,,নুবা আরহামের বুকে হাত বুলিয়ে আরহামকে শান্ত করতে লাগলো,,পরপর খেয়াল করলো আয়রা তার দিকে তাকিয়ে আছে,, কেমন ভুরু কুঁচকে,,,
নুবা হাসলো,,, এগিয়ে যেএ আয়রার কপালে চুমু খেএ বললো
_ হিংসুটে,, আপনার পাপা আমাকে আদর করছে দেখে আপনার হিংসা লাগছে হুম,,,
আয়রা নুবার কথা শুনে খিলখিল করে হাসলো,,আরহাম মা মেয়ের কান্ড দেখে নিজেও মুচকি হেসে দিলো,,

দুপুর গড়াতেই মির্জা বাড়ির সামনে একের পর এক বরযাত্রীদের গাড়ি এসে থামল। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাড়ি উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠল। আত্মীয়-স্বজনেরা হাসিমুখে বরযাত্রীদের বরণ করে ভেতরে নিয়ে গেলেন। চারদিকে অতিথিদের ব্যস্ততা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, শিশুদের দৌড়ঝাঁপ আর আপনজনদের হাসি-আনন্দে বাড়িটা যেন প্রাণ ফিরে পেল।
রিহানকে নির্ধারিত আসনে বসানো হলো। পরিবারের বড়রা এগিয়ে এসে কুশল বিনিময় করলেন। এদিকে বাড়ির ভেতরে আরশিকে শেষবারের মতো সাজিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। লাল খয়রি লেহেঙ্গা, সোনালি অলংকার, মাথাভরা ঘোমটা আর চোখেমুখে লাজুক আভা—আজ সে যেন এক রাজকন্যা।
নির্ধারিত সময়ে কাজি সাহেব উপস্থিত হলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বর ও কনের পক্ষের সাক্ষীরা নিজেদের আসনে বসে পড়েন। কিছুক্ষণ আগেও যে পরিবেশ হাসি-আনন্দে ভরে ছিল, তা ধীরে ধীরে গম্ভীর ও পবিত্র আবহে রূপ নেয়।

প্রথমে বরের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া হয়। তিনবার কবুল উচ্চারণের মাধ্যমে রিহান আরশিকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর পর্দার আড়ালে কনের কাছে একই নিয়মে সম্মতি নেওয়া হয়। লজ্জা, আবেগ আর নতুন জীবনের অজানা অনুভূতি নিয়ে আরশিও তিনবার কবুল উচ্চারণ করে রিহানকে নিজের স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে।
দুই পক্ষের সাক্ষীরা সম্মতি নিশ্চিত করার পর কাবিননামায় স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কাজি সাহেব নবদম্পতির জন্য দোয়া করেন। উপস্থিত সবাই হাত তুলে তাদের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য মোনাজাতে অংশ নেন।
মোনাজাত শেষে চারদিকে একসঙ্গে আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি ভেসে ওঠে। মুহূর্তটির সাক্ষী হয়ে থাকে দুই পরিবারের হাসিমাখা মুখ, স্বস্তির নিঃশ্বাস আর নতুন একটি সম্পর্কের পবিত্র সূচনা,,,
নুবা প্রত্যেকটা প্রদক্ষেপ দেখে আর মনে বুনে একদিন সেও এভাবে আরহমের বউ হবে,, আরহাম দূর থেকে দেখে তার নুবু আগ্রহ,,,কিভাবে সামনে দাঁড়িয়ে সব কিছু খুঁটে খুঁটে দেখছে,,,নুবার মুখে এক চিলতি হাসি দেখে আরহামো হাসে,,, এদিকে তৌসিফ এসেছিলো তবে সময় স্বল্পতার নুবাকে খুঁজতে পারেনি,,,খেএ চলে গেছে,,,
অতঃপর অনেকটা সময়ের পর এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে,,,

আরশি ভেবেছিলো প্রথমে কাঁদবে না তবে শেষ মূহুর্তে এসে সে বাচ্চাদের মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো,,,এই বাড়ি তার পরিবার সব কিছু আজ পর হয়ে গেলো,,,তার মা,,তার ভাই সবাই,,,
বিয়ের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে না হতেই সন্ধ্যার নরম আলো ধীরে ধীরে চারপাশকে মলিন করে তুলল। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িটি হাসি, আনন্দ, অতিথিদের কোলাহল আর গানের সুরে মুখর ছিল, সেখানে যেন আচমকা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এলো। সবাই জানে, আনন্দের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তটি এখন সামনে—মেয়ের বিদায়।
গেটের সামনে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ির চারপাশে আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়, কিন্তু কারও মুখে কোনো হাসি নেই। সবার চোখেই জমে আছে অশ্রু। বাতাস পর্যন্ত যেন ভারী হয়ে উঠেছে বিচ্ছেদের কষ্টে।
লাল খয়রি লেহেঙ্গায় মোড়ানো আরশি বারবার চারপাশে তাকিয়ে বাড়িটার প্রতিটি কোণ চোখে ভরে নিতে লাগল। এই বাড়িতে তার ছোটবেলা কেটেছে, এই বারান্দায় বসে অসংখ্য বিকেল পার হয়েছে, এই দেয়ালগুলো তার হাসি, অভিমান আর স্বপ্নের নীরব সাক্ষী। আজ সবকিছু রেখে তাকে চলে যেতে হবে এক নতুন জীবনের পথে।

আমিনা বেগমের চোখের পানি যেন কিছুতেই থামছে না। বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠছে বারবার। এত বছর যার হাসি-কান্না, যার খাওয়া-দাওয়া, যার অসুখ-বিসুখ নিয়ে প্রতিটি দিন কেটেছে, সেই মেয়েটিই আজ অন্য এক বাড়ির মানুষ হয়ে যাচ্ছে। মায়ের কাঁপতে থাকা হাত বারবার মেয়ের মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে, যেন শেষবারের মতো সেই মুখের স্পর্শ মনে গেঁথে রাখতে চাইছে তিনি,,
হারুন মির্জা বাইরে থেকে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলেও চোখের কোণে জমে থাকা জল তাকে বারবার দুর্বল করে দিচ্ছে। যিনি সব সময় পরিবারের সবচেয়ে দৃঢ় মানুষ ছিলেন, তিনিও আজ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। বুকের ভেতর হাজারো অনুভূতি জমে থাকলেও সেগুলো প্রকাশ করার শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছেন। কন্যাকে বিদায় দেওয়ার এই মুহূর্ত একজন বাবার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়ায়,,তার ক্ষেত্রেও ঠিক এরকম হচ্ছে,,,সে পাড়ছে না নিজেকে আঁটকে রাখতে,,
আরাফ কিছুতেই নিজের চোখের পানি লুকিয়ে রাখতে পারছে না। ছোটবেলা থেকে বোনের সঙ্গে হাজারো স্মৃতি, ঝগড়া, খুনসুটি, হাসি আর ভালোবাসার প্রতিটি মুহূর্ত একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। যে বোনকে সবসময় আগলে রেখেছে, আজ তাকে নিজের হাতেই বিদায় জানাতে হচ্ছে। বুকের ভেতরের শূন্যতা ক্রমেই আরও গভীর হয়ে উঠছিল।

ইশিতাও চোখের পানি সামলাতে পারছিল না। সবার কান্না মেয়েটিকেও কেমন নাড়িয়ে তুলছে,,,নিজের বিদায়ের কথা মনে পড়ছে তার,, সম্পর্ক কম দিনের হলেও বাড়ির প্রতিটি কাজ, প্রতিটি আড্ডা, প্রতিটি আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষটি আজ থেকে আর প্রতিদিন এই বাড়িতে থাকবে না—এই সত্য মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন হয়ে উঠছে,,,
আরশি এক এক করে সবাইকে আঁকড়ে ধরে,,,তার মাকে তার বাবাকে,, হারুন মির্জা কিছু বলতে পারছেন না তবে আমিনা বেগম বাচ্চাদের মতো কাঁদছে,,,আরাফো কেমন নিস্তেজ হয়ে গেছে,,
আরশি যেএ নিজের বাবা মায়ের কাছে ক্ষমা চায়,,তবে তারা বুকে জরিয়ে নেয় তাকে,,আরাফের সামনে যেতেই কিছু বলার আগেই আরফ বোনকে বুকে আঁকড়ে নেয়,,,আহত কন্ঠে হেসে সুধায়,,
_ যাক আপদ ঘাড় থেকে নামলো তবে,,,
আরশি ভাইয়ের কথা শুনে হাত পা ছুরে বলে

_ ভাইয়া,,, তুমি,,,
আরাফ হাসতে হাসতে কাঁদে,,আরশি তার সাথেই বেড়ে উঠেছে,,নিজের ছোটো বোনকে সে নিজ হাতে মানুষ করেছে কত খুনসুটি কত আবদার,,তবে হয়তোবা গত ১/২ বছর ধরে তেমন খুনসুটি হয় না,, কারণ বড় হয়েছে তারা,,,তবে আরশি সব জেনেও চুপ,, কারণ সে চায় না তার ভাই বা নুবার ব্যক্তিগত জিবনে আড়ি কাটতে,,,
পরপর আরশি হাজেরাকে জরিয়ে ধরেও কাঁদে,,,হাজেরা এই বিদায় দেখে তার মেয়ের কথা স্মরণ হয় তার,,,আরশিও তার তার মেয়ের মতো,,,এই বিদায় যন্ত্রণা সহ্য করার মতো না,,,হাজেরা শুধু আরশির মাথায় হাত দিয়ে মন ভরে দোয়া করে দেয়
_ আল্লাহ তোকে ভালো রাখুক,,,ভালোভাবে থাকবি,, ধৈর্য ধরবি দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে
আরশি মাথা ঝুকায়,,,পরপর আরশি এগিয়ে যেএ নুবার কোলে থাকা আয়রাকে চুমু খেলো,,এই বাচ্চাটার সাথে তার অনেক গভীর সম্পর্ক,,এটা তাদেল বাড়ির প্রথম মিনি পেকেট সবার আদরের,,আরশি আয়রাকে চুমু খেএ নুবার দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বললো
_ অনেক জ্বালিয়েছি তোকে আর জ্বালাবো না,,,আর না বুড়ো বরের সাথে বিয়ে দিবো,,,
নুবা কাদছিলো তবে আরশির কথায় কান্নার ভিতর হেসে দিয়ে আরশিকে জরিয়ে ধরে বললো
_ আপু তুমিও না,,,

আরশির ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো নিজের ছোটো বোনের চেয়ে কম ভাবেনি তাকে,,,,পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরহামের দিকে এক পলক তাকালো আরশি,,আরহাম চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে,,এতো চিল্লাচিল্লিতে তার মাথা ধরে যাচ্ছে তাও নুবার জন্য দাঁড়িয়ে আছে,,আরশির সাথে এই দেশে ফিরার পর দেখা,,কখনো তেমন ভাই বোনের সম্পর্কটা সুন্দর হয়ে উঠেনি তাই আরহামের তেমন খারাপ লাগছে না,,তবে আরশির লাগছে ভাই তো,,,
আরশি এগিয়ে গেলো,,আরহামের দিকে তাকিয়ে নাক টেনে বললো,,,
_ চলে যাচ্ছি ভাইয়া,,, শেষ বারের মতো একবার জরিয়ে ধরবে না,,,
আরহাম বোনের কথায় তাকায় আরশির দিকে,,,আরশি সময় অপচয় করে না বরং ভাইকে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,,,আর ফুঁপিয়ে উঠে,,,

আরহাম কিছু বলে না তবে আরশির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,,,আরশি হাসে ভাইয়ের কান্ডে,,,
আরশি অতঃপর আবার এগিয়ে যেএ নিজের মা বাবার সাথে কথা বলে,,,রিহান চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে,,এই মেয়ের সাক্ষাত কি হচ্ছে না,,কখন যাবে তারা,,,, ইচ্ছা তো করছে আরশিকে টেনে আনতে,,
আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই চোখ মুছছিলেন। কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন, কেউ মুখ ফিরিয়ে অশ্রু লুকানোর চেষ্টা করছে। চারদিকে শুধু কান্নার চাপা শব্দ আর দীর্ঘশ্বাসের ভারী আবহ ছড়িয়ে পড়ছে,,
ধীরে ধীরে আরশি বাড়ির চৌকাঠের দিকে শেষবারের মতো তাকাল। সেই পরিচিত দরজা,, বারান্দা, দেয়াল—সব যেন তাকে থেমে যেতে বলছে। কিন্তু সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য পুরোনো অধ্যায়কে পেছনে ফেলতেই হয়।
অবশেষে ভারী হৃদয় নিয়ে আরশি গাড়িতে উঠে বসল। গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের কান্না যেন আরও তীব্র হয়ে উঠল। কেউ হাত নাড়ছিল, কেউ চোখের পানি মুছছিল, আবার কেউ নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
ধীরে ধীরে গাড়িটি সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করল। বাড়ির গেট পেরিয়ে গাড়িটি যত দূরে যেতে লাগল, ততই মনে হচ্ছিল বাড়ির প্রাণটুকুও যেন তার সঙ্গে চলে যাচ্ছে। একসময় গাড়িটি চোখের আড়ালে মিলিয়ে গেল।

রিহান আরশিকে পানি এগিয়ে দিয়ে বললো
_ এবার তো থাম বোইন আর কত কাঁদবি,,
আরশি নাক টেনে সুধালো
_ আপনি মেয়ে হলে বুঝতেন এই সময়টা কতটা যন্ত্রণা দায়ক,,
_ হ্যাঁ তোকে তো নিয়ে যেএ মেরে ফেলবো,,,মরা কান্না করিস,,,পেট থেকে আমার বাচ্চাও তোর কান্না দেখে বিরক্ত হচ্ছে মনে হয়,,
আরশি গাল ফুলিয়ে বললো
_ আমি যাবো না কিন্তু,,,
_ তোকে তোর মা বাপ রাখবেও না দেখলি না কিভাবে বেড় করে দিলো,,আসতে খালুআব্বু কান্না করলেও মনে মনে খুশি হচ্ছিলো তোর মতো ডাইনিকে বাড়ি থেকে বিদায় করতে পেরে,,এখন তো সব জ্বালা আমার,,,
আরশি রেগে রিহানের বুকে কিল বসিয়ে দিলো,, অসভ্য লোক,,এটা নাকি মজা করার সময়,,একটু বুকে আগলে নিয়ে শান্ত করবে কি তা না করে মজা নিচ্ছে,,,
রিহান মৃদু হেসে আরশিকে বুকে টেনে নিলো,,তার পেটে হাত বুলিয়ে বললো
_ শান্ত হোন,,বেবির সমস্যা হবে তো জান,,,

আরশির চলে যাওয়ার পর পুরো বাড়িজুড়ে নেমে এলো এক গভীর শূন্যতা। কিছুক্ষণ আগেও যে বাড়িটি উৎসবের আলোয় ঝলমল করছিল, এখন সেখানে শুধু নিস্তব্ধতা। ফুলের সাজ, আলো, রঙিন সাজসজ্জা—সবকিছু আগের মতোই রয়েছে, অথচ যেন প্রাণহীন। প্রতিটি কোণ নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে, এই বাড়ির একটি প্রিয় মানুষ আজ নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমিয়েছে,,,,
হারুন মির্জা অসহায়ের মতো বসে আছে,,আমিনা বেগম এখনো কাঁদছে,,মেয়ের বিদায়ে তার বুক ছিরে যাচ্ছে,,হাজেরা আর তানিয়া পাশে বসে তাকে শান্তনা দিচ্ছে,,,
বাড়ির মেহমান সব চলে গেছে,, যেহেতু ছোটো অনুষ্ঠান ছিলো তবু ২/৩ শো মানুষের আয়জন ছিলো,, তাদের কাছে কম হলেও বেশ চাকচিক্য ভাবে অনুষ্ঠান হয়েছে ,,,

নুবা ফ্রেশ হয়ে বেড় হতেই চম্কে উঠলো আরহাম রুমে এসে বসে আছে,,,নুবা চোখ বড় বড় করে বললো
_ এখানে কি করছেন,,,
আরহাম নুবার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললো
_ কেনো আসতে পারবো না,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ লিভিং রুমে সবাই বসে আছে,,আর আপনি এখানে চলে আসলেন,,, please যান,,,কেউ দেখে ফেলবে,,
আরহাম আয়রাকে নিয়ে এগিয়ে যেএ মৃদু কন্ঠে বললো
_ এমন মরা কান্না করে তো চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছো,,,এতো কান্না কোথা থেকে আসে তোমাদের,,,
নুবা মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ আপনি তো পাষান তাই বোনের বিদায়েও কান্না করেননি তবে হয়তোবা একদিন আপনারো মন গলবে আপনিও এই অনুভূতি গুলো বুঝবেন,,,
_ তাই নাকি,,এখন ওতো সতো কথা বাদ দিয়ে মেয়েটাকে খাওইয়ে দেও,,,

রাত অনেকটাই গভীর হয়ে এসেছে,, বাড়ির কোলাহল ধীরে ধীরে থেমে গেছে,, আত্মীয়স্বজনের হাসি, গল্প, ব্যস্ততা সব যেন একে একে মিলিয়ে গেছে নীরবতায়,, ফুলের সুগন্ধে ভরে আছে পুরো করিডোর,,
রিহান ধীরে ধীরে বাসর ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো,, একবার গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে আলতো করে দরজাটা খুললো,, দরজা খোলার মৃদু শব্দে ঘরের ভেতরের নীরবতা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো,,
বিছানার এক কোণে লাল খয়েরি লেহেঙ্গা পরে মাথা নিচু করে বসে আছে আরশি,, দু’হাতের আঙুলগুলো শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে,, বুকের ভেতরটা কেমন অজানা অনুভূতিতে কাঁপছে,,রিহান তার স্বামী অনেক আগে থেকেই তবে আজ পুরো অধিকার পেলো,,,আজ সবার সামনে সে বলতে পারবে রিহানা তার স্বামী,,,
রিহান ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে দরজাটা আস্তে করে বন্ধ করে দিলো,, কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা বললো না,, শুধু মুগ্ধ চোখে আরশির দিকে তাকিয়ে রইলো,,
রিহান মুচকি হেসে বললো,,
_ এত চুপচাপ বসে আছো কেন,,
আরশি ঠোঁট কামড়ে হালকা হেসে আবার মাথা নিচু করে ফেললো,,
_কী বলবো বুঝতে পারছি না,,
রিহান ধীরে ধীরে একটু কাছে এসে সোফায় বসে বললো,,

_ এতো লজ্জা,,,যেখানে আমার বাচ্চার মা হতে চলেছো,,,তবু আজ কথা বলার দায়িত্ব আমার,, তুমি শুধু শুনবে,, কেমন,,
আরশি আস্তে করে মাথা নাড়লো,,এখন একটু স্বামী স্বামী আচরন করছে রিহান গাড়ির ভিতরে ইতরের মতো মাজ নিচ্ছিলো,,,
_সারাদিন অনেক ধকল গেছে,, খুব ক্লান্ত লাগছে ,,তাই না
_একটু,,তবে এতোটা না যতটা আপনি ভাবছেন,,,
রিহান হেসে এগিয়ে এসে নরম কণ্ঠে বললো,,
_ এখন কান্না থেমেছে আপনার,,সারা রাস্তা কাঁদতে কাঁদতে আসলেন,,
আরশির চোখ ভিজে উঠলো,, এগিয়ে এসে রিহানাকে জরিয়ে ধরে বললো,,
_ খুশিতে কান্না করছিলাম যে আপনি প্রকাশ্যে আমার হয়ে গেছেন
রিহান মৃদু হেসে বললো,,
_জীবনের নতুন একটা অধ্যায় শুরু হয়েছে,,, আর সেই অধ্যায়ে আমরা তিনজন এক সাথে হাটবো,,,
আরশি ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আচ্ছা মেয়ে হবে না ছেলে,,নাম কি রাখবো,,,
_ আগে আসুক তার পর ভাববো,,আগে থেকে অতিরিক্ত ভাবা ভালো না আম্মু বলে,,তবে আপনি এখন যেএ ফ্রেশ হয়ে আসেন,,, কান্ত লাগছে,,,
আরশি চোখ তুলে রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো
_ বাসর করার নিয়ত নেই নাকি,,
রিহান দুষ্টু হেসে বললো
_ নিয়ত কার না থাকে জান,,তবে বেবি আছে তো be careful,,,আপনিও ধৈর্য ধরেন,,,
আরশি গাল ফুলিয়ে হাসলো,,,বাসর রাতে সবাই নতুন ভাবে পরিচিত হয় আর তারা নিজেদের বাচ্চাদের নিয়ে আলাপ আলোচনা করছে,,কি সুন্দর ভাগ্যে,,,

রাত কোনো মতে শূন্যতায় কেটে গেছে,, আরশির চলে যাওয়ার বেদনায় পুরো বাড়িটা যেন প্রাণহীন হয়ে পড়ে আছে,, দেয়ালগুলোও যেন নীরবে কান্নার সাক্ষী হয়ে আছে,, কারও মুখে হাসি নেই,, কারও চোখে শান্তি নেই,, কিন্তু কেউ জানতো না,, এই নতুন সকাল কোনো সুখবর নিয়ে আসেনি,, সূর্যের আলো উঠলেও অশুভ এক ছায়া যেন পুরো বাড়িকে ঘিরে ফেলেছে,, বাতাসে অকারণ অস্বস্তি,, সবার মনে অজানা এক আতঙ্ক,, আজ এমন কিছু ঘটতে চলেছে,, যার পর আর আগের মতো থাকবে না কারও জীবন,,
সকাল পার হয়ে দুপুর হয়ে গেলো,আয়রাকে দুপুরে খাওইয়ে নিয়ে বাপ মেয়ে কোথাও বেড় হয়েছে নুবাকে বলে যায়নি তাই সে চিন্তিত দুপুর ৩ টা বাজে কোথা হতে যাচ্ছে তারা,,,,আজ শনিবার,, সোমবার দিন আরশিকে নিয়ে আসা হবে,,মানে ছেলের বাড়িতে অনুষ্ঠান হবে,,,
এদিকে আরহাম বেড় হয়েছে বিয়ের প্রস্তুতি নিতে,,, আজকে সব সেট করে রেখে আসবে,,,কাল কোনো এক সময় নুবাকে নিয়ে যেএ বিয়ে করে ফেলবে,,এই ধান্দায় বেড় হয়েছে চালাক আরহাম,,,

নুবা কম্পিত কন্ঠে সুধালো,,
_ এই সব কেনো মা,,,
হাজেরা আলমারি থেকে শাড়ি বেড় করলো,,সেই শাড়িটা যেটা আরহাম নুবাকে দিয়েছিলো নীল শাড়িটা,,,সব কিছু বেড় করতে করতে হাজেরা মৃদু কন্ঠে বললো
_ একটু পরেই দেখতে আসবে তোকে তৈরি হবি না নাকি,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,পায়ের তলা থেকে যেনো মাটি সরে গেলো তার,,,মুখে আত্মা শুকিয়ে গেলো তার,, ব্যস্ত হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ কালকেই তো আরশি আপুর বিয়ে হলো,,আজ হঠাৎ,আমাকেও কিছু বললে না,,
_ হঠাৎ না,,,আগে থেকেই তোর চাচার সাথে এই বিষয়ে কথা বলেছিলাম,,তবে মাঝখানে হঠাৎ করে আরশির বিয়ে পড়ে গেলো,,,তাই আজ দেখতে আসবে,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো
_ আমি এখন বিয়ে করবো না মা,, অন্ততপক্ষে পড়া লেখা,,,,
কথা শেষ হওয়ায় আগেই হাজেরা শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো
_ দেখতে আসলেই বিয়ে হয়ে যায় না নুবাইরা,, আমার বাড়িতে বরই ( কুল) গাছ আছে চোখে পড়লে ঝাঁকি তো সবাই মারবে কিন্তু সবাই কি আর কুল পাবে,,যার ভাগ্যে থাকবে সেই পাবে তাই সেয়ানা মেয়ে ঘড়ে থাকলে দেখাতেই হবে,,,আর যদি বিয়েও হয় তবু এমন জায়গায় দিবো যাতে পড়া লেখা করতে পারিস,,তোর চাচা তো আর খারাপ মানুষের হাতে তোকে তুলে দিবে না,,,
নুবার শরীর কাঁপতে লাগলো,,আরহামো বাড়িতে নেই আজি কেন বেড় হলো লোকটা,,, এখন কি করবে নুবা,,,

_ মা আমি ,,
হাজেরা নুবাকে থামিয়ে দিয়ে শাড়ি ঠিক করতে করতে বললো,,,
_ কোনো কথাই শুনতে চাচ্ছি না তোর,,,
নুবা ছটফট করে উঠলো,, চোখের পানি মুছে নাক টেনে বললো,,
_ আমি উনাকে ভাল,,,
হাজেরা চোখ মেয়ের দিকে তাকালো,,সে জেনো চাইছেই না তার মেয়ে এই কথা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করুক,,,হাজেরা রাগি চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে শাড়ির আঁচল ঠিক করে বললো
_ সব জানি আমি,বাতাসে চুল পাকেনি আমার,,আশা রাখছি কোনো রকম তামাশা করবি না কারণ এখনো মানুষ চিনতে শিখিসনি তুই,,,

নুবা মায়ের হাত ধরে আনুনয় করে বললো
_ যেরকমটা দেখা যায় উনি ওরকম না মা,,আর তুমি তো ওই ব্যপারটা নিয়ে রেগে আছো আমি জানি, তুমি,,,,
হাজেরা কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ আমি কোনো বিষয় নিয়ে পরে নেই,, শুধু এতটুকুই মনে রাখ কোনো অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের সাথে আমার মেয়েকে আমি দিবো না,,মায়ের কথা শুন সুখি হবি না হলে জীবনে টা শেষ হয়ে যাবে,,এই হাজেরা মানুষের চোখ দেখে বলে দিতে পারে মানুষের মনে কি চলছে,,,
নুবা দুই হাত দিয়ে শাড়ি খামচে ধরে বললো
_ মা, please ,,আমি উনার সাথে ভালো থাকবো,
হাজেরা এবার একটু রেগে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ যেটাকে তুই ভালোবাসা মনে করছিস ওটা কোনো ভালোবাসা না,,,ওই ছেলের চোখে কোনো দিনও তোর জন্য একট ফোঁটা দরদ আমি দেখিনি,,যা দেখেছি সব জেদ আর কামনা,, ভালোবাসা এমন হয় না নুবাইরা,,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো আর কিছু বলতে পারলো না,,,বলেও লাভ নেই তার মা শুনবে না তার কথা,,আর না নুবা তর্ক করে তার মাকে আঘাত করতে চায়,,সব দিক দিয়ে ফেঁসে গেছে সে,,না এদিকে যেতে পারছে না ওদিকে,,,

এর ভিতরে রুমে প্রবেশ করলো আমিনা বেগম আর ইশিতা,,,আমিনা বেগম এই ব্যপারে কিছু জানতোই না,,, হঠাৎ নুবাকে দেখতে আসবে শুনে যেনো তার পায়ের তলা থেকে জমিন কিছু মূহূর্তের জন্য সরে গেছিলো,,খবরটা পরিও পেলো তাই ধীরো পায়ে নুবাদের রুমে আসলো,,,,
আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করতেই নুবা অসহায় দৃষ্টিতে আমিনা বেগমের দিকে তাকালো,,,আমিনা বেগম পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব,,,একে মেয়ে চলে যাওয়ার কষ্ট তার উপর হঠাৎ এই ঝামেলা,,সামাল দিবে কি করে,,
নুবাকে শাড়ি চুরি সব পড়িয়ে পুতুলের মতো সাজিয়ে দিয়ে বিছানায় বসানো হলো,,নুবার বুকে হাহাকার শুরু হলো,,,হাজেরা সবাইকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বললো
_ তোমরা এভাবে দাড়িয়ে আছো কেন ভিতরে এসে বসো,,,
পরি আর ইশিতা ভিতরে এসে বসলো,,, অবশ্য ইশিতার পরিবার সকাল পর্যন্ত ছিলো এখানে তবে চলে গেছে,,সবারি কাজ আছে,,,
তারা রুমে আসতেই হাজেরা ইশিতাকে বলে উঠলো,,,
_ মা ওকে একটু সাজিয়ে দেও তো,,,এভাবে কি আর সবার সামনে নেওয়া যাবে,,,
ইশিতা মাথা ঝুকালো,,পরি অদ্ভুত দৃষ্টিতে নুবার দিকে তাকালো,,,তবে কি নুবার অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যাবে,,পরি একটু একটু আশার আলো পেলো তবে লোভ করলো না কারন আরহাম যে কেমন মানুষ সেদিন সে টের পেয়েছে,,,

ইশিতা হালকা করে নুবাকে সাজিয়ে দিতে লাগলো তবে নুবার চোখ দিয়ে বারবার পানি গড়িয়ে পড়ছে তা দেখে ইশিতা মৃদু কন্ঠে বললো
_ শুধু দেখতে আসছে নুবা,,এতো কান্না করার কি আছে,,,আর সব মেয়েদেরি এই সময়টা পার করতে হয়,, যেমন দেখো,, আমার,,,আরশির,,পরির,,
সবার,,কেউ কি ছাড় পায়,,
মেয়ের মরা কান্না দেখে হাজেরা শক্ত চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললেন
_ সব জেনেও চুপ আছি আমি,,, আমাকে চুপ থাকতে দে,,,নুবা,,,
মায়ের কথায় ভিতরে ভিতরে হাহাকার করে উঠলো নুবা,,,পরপর আমিনা বেগমের শুকনো মুখের দিকে তাকালো,,আমিনা বেগম চোখের ইশারায় চুপ থাকতে বললেন,,,এই আরহাম বাড়ি থেকে বেড় হওয়ায় আর সময় পেলো না,,,
যখন বিকালের আযান পড়ছে তখন নুবা পুরো তৈরি,,,লক্ষী মেয়ে লাগছে তাকে,,হাজেরা মেয়ের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে বললো

_ তোকে দেখে মনে হচ্ছে আমি তোকে মেরে ফেলতে চাইছি,,,না হলে নিজ ইচ্ছায় আগুনে ধাক্কা দিচ্ছি,,
নুবা অশান্ত হয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_ তুমি তাই”ই তো করছো মা,,সব জেনেও আমাকে আমাকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছো,,,
হাজেরা এগিয়ে এসে মেয়ের বাহু ধরে তেজি কন্ঠে বললেন
_ যেই ছেলে পরো নারীর গায়ে এভাবে অমানুষের মতো হাত তুলতে পারে,,যে ছেলে নিজের বাপেকে সম্মান করে না,,,বড়দের নিয়ে ত্যাচ্ছিলো করে,,,বোনের জামাইয়ের গায়ে হাত তুলে,, সবার সামনে অসম্মান করে আর তুই কি ভাবিস বিয়ের পর তোকে মাথায় তুলে সম্মান দিবে,,,
নুবা মাথা নিচু করে নিলু কিছু বলার নেই তার,,হাজেরা আবারো শুধালো
_ সামান্য কারনে মেহেরিমাকে কিভাবে মেরেছিলো মনে আছে তোর,, অন্ততপক্ষে তোকে কিভাবে অমানুষের মতো আঘাত করেছিলো তা তো মনে আছে,,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো মৃদু কন্ঠে সুধালো,,

_ উনি ভুল করেছে আমি মানছি তবে উনি এমন,,,,,,
হাজেরা মেয়েকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ পুরুষ মানুষের মিষ্টি কথায় গলে গেলেই মরণ,, তুই তো এমনিতেই নরম তাই তোকে দুটো ভালো কথা বলে,,দু দন্ড ভালো ব্যবহার করে নিজের মতো তৈরি করতে চাইছে যে যেভাবে বলবে সে সেভাবেই নাচবি,,,বিয়ের পর কথা এদিক থেকে ওদিক হলে মাথায় তুলে আছার মারতে সময় লাগবে না ওই ছেলের,,,,তার মেয়ের সাথে যদি ভুল ক্রমেও খারাপ আচরণ করিস তখন ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দিতে ১ মিনিট ও লাগবে না,,, আমার কথা গুলো লিখে রাখ,,,ওই ছেলে শুধু অমানুষ কোনো মানুষ না,,,
নুবার বুক ভারি হয়ে আসলো,,,তার মা তাকে বুঝতে পারছে না,,,হাজেরা মেয়ে চুপ থাকতে দেখে রাগি বললো
_ ওই ছেলে যে নেশা করে তুই জানিস না,,আর তুই কি ভাবিস নেশা খোররা ভালো হয়,,নেশা করে তোকে মেরে ফলতেও দুই বার ভাববে না,,
নুবা মায়ের কথাই হতভম্ব হয়ে গেলো,, অদ্ভুত দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো

_ তুমি কি করে জানে,,,
হাজেরা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ কেন সত্যি কথা বলে ফেললাম,,,
নুবা সরু চোখে মায়ের দিকে তাকালো,, কেমন ভয়ে বুকটা চিপে আসলো তার তবে কি তার মা সব জানে,,এই যে রাত বিরাত আরহামের রুমে,,,,
আর ভাবতে পারলো না নুবা,, নিজের প্রতি লজ্জা হলো তার,,তখনি হাজেরা কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ আরাফের বিয়েতে মরার মতো মদ খেয়েছে,,,তোর চাচি কে বলতে শুনেছি নেশাও করে,,,বিড়ি খায়,,,আর কি কি গু গবর খায় আল্লাহই জানে,,বিদেশে থেকেছে আর কি কি বাজে অভ্যাস আছে ওরটা ওই ভালো জানে,,,
নুবা মায়ের কথায় কিছুটা শান্তি পেলো,,যে না তার মা তেমন কিছুই জানে না,,,হাজেরা গজগজ করে বললেন
_ এই বাচ্চা বৈধ না অবৈধ তা তো ওই ছেলেই জানে,,,কার না কার বাচ্চা তুলে এনেছে এটারো ঠিক নেই,,,
নুবা মায়ের কথায় হতভম্ব হয়ে গেলো কাতর কন্ঠে বললো
_ এই সব কিরকম কথা বলছো মা,,আয়রা অবৈধ না,,উনাদের বিয়ে হয়েছিলো আর,,আর আয়রা উনারি সন্তান,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮২

হাজেরা মেয়েকে ধমক দিয়ে বললেন
_ তুই তো যেএ দেখে এসেছিস,,
_ তুমিও তো যেএ দেখে আসোনি,,,
মেয়ের পাল্টা উত্তরে রাগ চোখে মেয়ের দিকে তাকালেন হাজেরা,,,নুবা মাথা নিচু করে নিলো,,,হাজেরা এগিয়ে এসে মেয়ের এক বাহু চেপে ধরে বললো
_ ওই দুই দিনের ছেলের জন্য তুই আমার সাথে তর্ক করছিস,,ওই অমানুষের জন্য যার ভিতরে কোনো মানুষস্ত নেই,,, না আছে কথা বার্তার ঢক,,না আছে চাল চলন ভালো,,,আর না মনে মায়া দয়া,,,
নুবা উত্তর দিতে পারলো না,,,কে চাইবে নিজের সন্তান কে এরকম ছেলের হাতে তুলে দিতে,,,যে নেশা করে,, বিবাহিত,, বাচ্চা আছে তার উপর অস্বাভাবিক,,,কোনো মাই চাইবে না তার উপর যদি হয়

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here