Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮২
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ কোনো মা”ই কখনো চাইবে না তার সন্তান খারাপ থাকুক,, তেমন আমিও চাই আমার সন্তান ভালো থাকুক,,,যখন কেউ পিতা মাতার অবাধ্য হয় তখন সেই পিতা মাতার কতটুকু কষ্ট হয় তুই বুঝবি না,,,,এতো কাল মানুষ করে যদি সেই বাপ মায়ের বুকে পারা দিয়ে নিজের মতো চলে তবে কতটুকু যন্ত্রণা সেই মা বাবার হয় তোর ধারনাও নেই,, যেদিন তুই মা হবি,,তোর একটা সন্তান থাকবে তখন বুঝবি,,,ধরতে গেলে ১৯/২০ বছর তোকে মানুষ করেছি,,,এই নুবা নুবা করে আমি আমার জীবন শেষ করেছি,,,, আমি জানি আমার মেয়ে ওমন না তাও বলছি এই অভাগীকে ফেলে দিস না,,,খনেকের মানুষের জন্য এই হাজেরার বুকে লাথি দিস না,,, সেদিন আমার গলায় ফাস দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না,,,আমি যে তোকে ছাড়া কতোটা অসহায় তা তুই ছাড়া আর কেউ জানে না,, তুই”ই জানিস তোর মা তোকে কতটা ভালোবাসে,,,
বলতে বলতে হাজেরা মেয়ের মুখে ভাত তুলে দিলো,,নুবা শুকনো ঢোক গিললো,, হঠাৎ তার মা এভাবে বলছে কেন,,নুবার যন্ত্রণায় বুকটা ছ্যাত করে উঠতে লাগলো,,

_নাড়িছেঁড়া ধন তুই আমার নুবা… তোকে জন্ম দিতে টানা দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছি। কতটা ব্যথা সহ্য করেছি, সেটা শুধু এই মা,আর রবই জানেন। তোকে প্রথমবার বুকে জড়িয়ে ধরার পর মনে হয়েছিল, আমার সব কষ্ট সার্থক হয়ে গেছে। আজ সেই তুই যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাস, তাহলে এই মায়ের নিঃশ্বাসও যেন থেমে যাবে। আমার তো আর কেউ নেই, যার মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখব। তুই-ই আমার সকাল, তুই-ই আমার রাত, তুই-ই আমার পুরো পৃথিবী। তুই দূরে চলে গেলে আমি কাকে “মা” বলে ডাকতে শুনব? আমার কপালে যদি একা হয়ে বেঁচে থাকাই লেখা থাকে, তাহলে আল্লাহ যেন তার আগেই আমাকে নিজের কাছে তুলে নেন। তোকে ছাড়া এই মায়ের বেঁচে থাকা যে মৃত্যুর চেয়েও বেশি কষ্টের, মা,,
কথা গুলো বলতে বলতে হাজেরা ফুঁপিয়ে উঠলো,,,পরপর বলে উঠলো

_ এই সব বলছি দেখে ভাবিস না তোকে বিয়ে দিবো না,, হ্যাঁ দিবো তবে ভালো একটা জায়গায়,,যেখানে আমার মন টানবে,,, কারণ আমি তো জানি আমার মেয়ে কোথায় সুখে থাকবে,, এমন কোনো কাজ করিস না যাতে আমার মাথা নিচু হয়ে যায়,,, এমন কোনো কথা বলিস না যা শুনে আমার কলিজা পুড়ে,,আশা রাখছি তুই এমন কোনো কাজ করবি না যাতে আমার লজ্জিত হতে হয় বা মনের বিরুদ্ধে যেএ তোর কথা শুনতে হয়,,,
বলতে বলতে হাজেরা নুবাকে খাওয়ানো শেষ করলো,,,নুবা মায়ের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে সুধালো
_ তুমি এমন বলছো কেন মা,,, তোমাকে ছেড়ে কোথায় যাবো,,
_ শুধু এতটুকুই বলি খনের মানুষের জন্য আমার বুকে লাথি দিস না নুবাইরা,,,,তোকে মানুষ করেছি আমি অন্ততপক্ষে আমার কথার অবাধ্য হইস না,,আর কিছু বললাম না বাকি টুকু পরে নিজেই বুঝে যাবি,,,
বলেই হাজেরা চলে গেলো,,নুবার বুকটা ধুকপুক করতে লাগলো,,তার মনে হচ্ছে হাজেরা আরহাম আর তার ব্যপারে সব জানে,,,না হলে কখনো তো এরকম কথা বলেনি,,,

নুবা রেডি হয়ে নিলো,,আয়ারকে রেডি করে আমিনা বেগম দিয়ে গেছে,,নুবা সেই ড্রেস পড়েছে যেটা আরহাম আরাফের বিয়েতে দিয়েছিলো কারণ তখন ওটা পড়া হয়নি,,,নুবা আর হিজাব পড়লো না কারণ অনেক গড়ম পড়েছে তার উপর বাড়িতেই তো,,পরপর মাথায় ওরনা টেনে নুবা আয়ারকে নিয়ে বাইরে আসলো,,,
নরজে পড়লো আরহাম সুন্দর মতো রেডি হয়ে এদিকেই আসছে,,,আরহামকে এরকম ভদ্রের মতো রেডি হতে দেখে নুবা মুচকি হাসলো,,হাতেও ব্যান্ডেজ করেছে,,বেশ ভালো লাগছে তাকে,,, একদম ভদ্র লোকটা,,,
আরহাম এগিয়ে আসলো,,এখানে তেমন কেউ নেই সবাই বাড়ির বাইরে মেহমান নিয়ে ব্যস্ত,,, আরহাম এগিয়ে এসে পকেটে হাত গুজে বললো
_ সুন্দর লাগছে তবে ওরনাটা আর একটু টেনে নেও,,আর এতো না সাজলেও পারতে,,আমি ব্যতিত আর কে দেখবে তাই না,,
নুবা উত্তর দিলো না,,,নুবার উত্তর না পেয়ে আরহাম ভালো মতো তা্য নুবুর দিকে তাকিয়ে খেয়াল কেরলো কেমন মনটা খারাপ,, আরহাম ব্যান্ডেজ করা হাতটা নুবার থুতনিতে রেখে একটু উঁচু করে বললো
_ কি হয়েছে,মনটা খারাপ কেন,,
নুবার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো মৃদু কন্ঠে বললো
_ আম্মু হয়তোবা আপনার আর আমার ব্যপারে জেনে গেছে,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো

_ জানলে জানুক,,তাতে তো আরো ভালো,,কেনো তোমাকে কিছু বলেছে,,,
_ তেমন কিছু না আকার ইঙ্গিতে বলেছে,,,যা আগে কখনো বলেনি,,,আমি নিশ্চিত আম্মু কিছু টের পেয়েছে,,,
ভদ্র আরহাম এড়িয়ে এসে নুবার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,,,নুবা নাক টানলো,,,বাম চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো তার,,মায়ের বলা কথা গুলো এখন যেনো তার বুকে বিঁধছে,,, প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে,,,
আরহাম নুবার কান্না দেখে ভুরু কুঁচকে তার গালে স্লাইড করে আদুরে কন্ঠে বললো
_ আপনার মা তো বড্ড ব্রিটিশ,, ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে আমার নুবুকে কাঁদিয়ে ফেলেছে,,কত বড় ব্রিটিশ একটা শাশুড়ি পেয়েছি ভাবা যায়,,, আমার আর আপনার ভিতরে কেমন ষড়যন্ত্র করছে বোঝার উপায় আছে,,,
নুবা ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ খবরদার আমার মা কে নিয়ে কিছু বলবেন না,,,না হলে আমি কিন্তু সহ্য করবো না,,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবার গাল আলতো করে দুই আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে বললো
_ কয় একটা বাক্যে দিয়ে ব্রেইন ওয়াশ করে ফেলেছে তোর,,আর আমি,, আমার কি হবে ভেবেছিস তুই,,, আমার থেকে দূরে সরানোর জন্য ইমোশনাল কথা বার্তা বলে এমন ভাবে তোকে কাবু করা কি ঠিক,, তুই নিজেই ভেবে বল,,,

নুবা এক হাত দিয়ে আয়াকে ধরে অন্য হাত দিয়ে আরহামের ব্যান্ডের করা হাতটা আলতো করে ধরে বললো
_ আমার মা ব্রেইন ওয়াশ করেনি আমার,,, শুধু বুঝিয়েছে আমি কত বড় মা,,gi হয়ে গেছি,,,যে পর পুরুষের সাথে রাত কাটাই,,, আমার মা জানলে হয়তোবা নিজের রুহ নিজেই টেনে বেড় করবে,,, আমার নিজেকে ব্যা*** মনে ,,,,,
কথা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম নুবার মুখ চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_ একদম উল্টা পাল্টা কথা বলবি না,,, তুই আমার বউ,,, তুই আমার,,,এই কথা আর কত বার বালবো,, আমার কোনো মুড নেই এখন তোকে সব খুলে বলার আর না বলতে চাই,,,, তুই please এরকম কথা বলে আমাকে রাগিয়ে দিস না,,,,মুখটা বন্ধ রাখ,,,
নুবার শরীর কম্পিত হলো,, আরহাম আস্তে করে নুবাকে বুকে টেনে নিলো,,,নুবা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,, আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ কালকেই আমরা বিয়ে করবো,,,, তাও কান্না করিস না,,,
_ আমার মা”কে না জানিয়ে আমি কি করে কবুল বলবো,,
_ তুই তোর মাকে না জানিয়ে আমার সাথে থাকতে পারিস কিন্তু কবুল বলতে পারবি না,,যদি তোর মা আমাকে ছেড়ে দিতে বলে তবে কি তুই আমাকে ছেড়ে দিবি,,,
নুবার বুক ধুকপুক করে উঠলো,,,নুবা এক হাত দিয়ে আরহামের কালো কোর্ট খামচে ধরে বললো
_ আমি আপনাকে কি করে ছাড়বো,,,
আরহাম কিছু সময় চুপ থেকে অস্থির কন্ঠে বললো,,,
_ আমাদের দুই জনের ভিতরে যদি যেকনো একজনকে তোর বেছে নিতে হয় তবে তুই কি আমাকে ছেড়ে দিবি নুবু,,,,

নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কাঁদলো,,তার কাছে এতো কঠিন প্রশ্নের উত্তর নেই,,,
আরহাম উত্তর না পেয়ে অস্থির হয়ে বললো
_ কি হলো বল,,,ছেড়ে চলে যাবি আমাকে,,আমি কিন্তু মরে যাবোরে নুবু,,,আমি তোকে ছাড়া ছটফট করতে করতে মরেই যাবো,,, তুই আমাকে ছেড়ে যাস না,,,
বলেই আরহাম নুবাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নুবার দুই গালে হাত রেখে বিচলিত কন্ঠে বললো
_ তুই আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবলেও তোকে আমি শেষ করে দিবো,,না আমি সুখে থাকবো না তোকে থাকতে দিবো,, তুই আমার,,, শুধু আমার,,তোর দিকে কেউ তাকাক এটাও আমি সহ্য করবো না,,আমি ব্যতিত তুই অন্য কারো হতে চাইলে আমি তোকে তো ধংস করবো সাথে নিজেকেও,,,বুঝলি,,,,বুঝলি তুই,,,
আরহামকে উত্তেজিত হতে দেখে নুবা নিজেও অস্থির হয়ে পড়লো,,,আরহামের বুকে এক হাত রেখে সুধালো
_ আমি আপনারি,,আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না,,, please শান্ত হোন,,,
আরহামের ফর্সা মুখ কেমন লাল বর্ন ধারন করলো অস্থির হওয়ায়,,, আরহাম ছটফট করে উঠে বললো,,,
_ বল না তুই কাকে বেছে নিবি,,,

নুবার কাছে উত্তম নেই,,,কোনো দিনও এরকম পরিস্থিতি আসলে তার মরন ছাড়া উপায় নেই সে কাউকে ছাড়তে পারবে না,,,, কাউকে না,,আয়রা আর আরহাম তার শিরায় শিরায় আর তার মা তার রক্তে মিশে আছে,,, বর্তমানে সে দুটো ছাড়াই আঁচল,,,,
আরহাম বিচলিত হলো নুবাকে চিন্তিত দেখে,,,নুবা বুঝতে পারলো এই লোক শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই হাত পা ছুরতেই থাকবে,,আর তাকে শান্ত করবে কি করে সেটা সে জানে,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮১

নুবা দুই পা উঁচু করে এক হাত দিয়ে আরহামের গলা জরিয়ে ধরলো,,,পরপর অনাকাঙ্ক্ষিত কাজটা করেই ফেললো,,,, আরহাম ডান হাত দিয়ে আয়রাকে নিজের কোলে নিয়ে নিলো,,,নুবা এবার দুই হাত দিয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরলো,,,, অস্থির হয়ে দুই জন দুইজনেই মেতে উঠলো,, এদিকে আয়রা মুখে আঙ্গুল দিয়ে ড্যাবড্যাব করে তার মাম্মা পাপার দিকে তাকিয়ে আছে বোঝার চেষ্টা করছে তারা কি করছে,,,
আরহাম নুবাকে আরো কাছে আনার জন্য মেয়েকে বুকে জরিয়ে নিলো নুবা আর একটু সরে আসলো,, এদিকে আয়ারা যেনো বিরক্ত হলো,,কি করলো তার পাপা এতো সুন্দর মূহুর্তে দেখতে দিলো না বুকে চেপে ধরলো,,তবু দুষ্ট হায়রা মাথা ঘুরিয়ে উপরের দিকে তাকালো,,,,
মিনিট __

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here