Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮১

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮১

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮১
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবা চোখ বড়বড় করে দেখতে চাইছিলো আরহাম কি করতে চাইছে তবে তার আগেই নুবার হাতে টান পড়লো,,, তৌসিফ টেনে নিয়ে বললো,,
_ simple ডান্স নুবা just তালে তাল মিলাও,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,এই তৌসিফ আজ তার কবর খুঁড়ে ছাড়বে,, এদিকে বড় ভাইকে আসতে দেখে আরশি অনেকটাই খুশি হলো,,,আরশি পারছে না উঠে এসে নাচতে,,,

পরি ঘানচাক্কারের মতো শুধু ঘুরছে,, আরহাম পরিকে শুধু এদিক থেকে ঘুরাচ্ছে,,,পরি হতভম্ব আরহামের কান্ডে তবে আরহাম এতোটাই চালাক যে পরির বেনি করা লাম্বা চুল ধরে তাকে এদিক ওদিক করছে,,শরীরের সাথে ঘেঁষতেও দিচ্ছে না তাকে,,,
এদিকে তৌসিফ ডান্স করলেও নুবা শুধু বারবার আরহামের দিকে তাকাচ্ছে,,,নুবার পা চলছে হাত চলছে তবে মন আর দৃষ্টি আরহামের দিকে,,
এদিকে আরহাম পরির সাথে ডান্স করলেও পুরো ধ্যান তার নুবার দিকে,,,নুবার ভিতর ভিতর জ্বলছে,,,আরহামের রাগে শরীর ফাটছে,,যার জেদ সে বেচারি পরির চুলের উপর তুলছে,,
একটা সময় এমন আসলো গানের তালে তালে তৌসিফ নুবার হাত ধরে ঘুরানি দিলো,,,সেম টাইমে আরহামো একি কাজ করবে তবে পরির চুল ধরে,,,পরপর তৌসিফ নুবার এক হাত ধরে তাকে ঘুরিয়ে ছেড়ে দিলো তবে এক হাত ধরেই রাখলো,,নুবার মাথা ঘুরে উঠলো শাহরুখ খানের মতো দুই হাত ছেরিয়ে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করলো,,তবে হঠাৎ আরহাম পরিকে এক ঘুরনা মেরে ছেড়ে দিলো,,পরপর নুবার বাতাসে তুলা হাত এক টান দিয়ে নুবাকে নিজের কাছে নিয়ে আসলো,,
বেচারি পরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই তৌসিফের কাছে যেএ পড়লো,,, তৌসিফ হুতসে পরির হাত ধরে ফেললো,,

নুবাকে নিজের আয়েত্তে নিয়ে নিলো আরহাম,,,নুবা শাড়ি পড়েছিলো লেহেঙ্গার মতো করে,, শরীর যাতে না দেখা যায় সেভাবেই পড়েছিলো কিন্তু আরহাম নুবার শাড়ির পিন ছুটিয়ে কামড়ে হাত ঠেলে দিলো,,
ঘুরন্ত নুবা হঠাৎ স্বস্তি পেলো,,,আরহামের বুকে হেলে পড়তেই চাইলো তবে আরহাম সেই সুযোগ টুকু দিলো না ,,,নুবার কমড়ে নিজের শক্ত হাতের আঙ্গুল গুলো গেঁথে দিলো,, ব্যথায় নুবা কঁকিয়ে উঠলো,,,
আরহাম নুবাকে কন্ট্রোল করতে করতে ডান্স চালু রেখে সুধালো,,,
_ অনেক ডান্স করার সখ না,,আজ সেই সখ ঘুচিয়ে দিবো,,,
এদিকে পরির মাথা ঘুরছে,,তবে তৌসিফ আশ্চর্য ভাবে পরির দিকে তাকিয়ে আছে,,এই হুর পরি আবার কোথা থেকে চলে আসলো, তৌসিফ অন্যমনস্ক হলেও ডান্স চলমান রাখলো সেও পরিকে কোনো মতে সামাল নিলো,,পরপর ফিসফিস করে বললো
_ কে আপনি ভাই,,,?
পরি হকচকিয়ে উঠে বললো
_ আপনি কে,,,?

তৌসিফ হাত পা চলমান রেখে পাশে তাকিয়ে দেখলো নুবা আরহামের সাথে,, তৌসিফ ভুরু কুঁচকে সুধালো
_ what the h**** কি হলো,,
এদিকে হঠাৎ ডান্স পার্টনার চেন্জ হওয়ায় নিজ থেকে সবাই হৈ হুল্লোড় করে উঠলো,, আরহাম নুবাকে ছেড়ে ডান্স করার বদলে বারবার তাকে ঘুরাতে লাগলো,,,
নুবা ঘুরনোন খেতে খেতে খেলায় করলো আরহামের হাতে ব্যান্ডেজ নেই,,,শুকনো রক্ত তার শাড়িতে ভরছে,,নুবা অস্থির হয়ে বলে উঠলো
_ আপনার হাত,,,
কিন্তু আরহাম রাগে আর এক ঘুরনা দিলো বেচারিকে,,, আরহাম নুবার যেখানেই ধরছে সেখাইনে ব্যথা ব্যথা করে ছাড়ছে,,,হাতে ধরলে মনে হচ্ছে হাত ভেঙ্গে ফেলবে,,,কোমড় তো হাত দিয়ে পিষে ফেলছে,,,
নুবার মাথা ঘুরতে লাগলো ফিসফিস করে সুধালো
_ আস্তে কি করছেন,,পড়ে যাবো,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে এক পলক তৌসিফের দিকে তাকিয়ে বললো
_ নাগরকে(প্রেমিক) এখানেও ডেকে নিয়েছিস,,,তুই আজ রুমে আয়,,তোর শরীরে কত রস আজ তা বেড় করেই ছাড়বো,,এক্ষনি রুমে আসবি,, দ্বিতীয় দফা এখানে আসতে হলে আজ তোকে সহ ওই শালাকেও এখানে দাফন করবো,,,

বলেই আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিলো,,নুবা ঠাস করে পরে গেলো,,, আরহাম কথাটুকু শেষ করে আবারো রুমে আসতে বললো,,,পরপর গটগট করে চলে গেলো সে,,,
ইচ্ছা তো হচ্ছিলো তৌসিফকে এখানেই দাফন করতে তবে একটা অনুষ্ঠান চলছে তাই ঝামেলা করতে চাইলো না,,,,পরে ওকে দেখে নিবে,,,
হঠাৎ নুবাকে পড়তে দেখে গান অফ হয়ে গেলো,,, তৌসিফ বেচারি পরিকে ছেড়ে নুবার কাছে ছুটে এসে বললো
_ তুমি ঠিক আছো,, ব্যথা পাওনি তো,,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ না,,
বলেই আস্তে আস্তে স্টেজ থেকে নেমে গেলো,,আরশির মুখ কালো হয়ে গেলো,, হঠাৎ করে কি হলো,,কত সুন্দর পারফরম্যান্স চলছিলো,,আরশি উঁকি মেরে দেখলো,,,
তৌসিফ নুবার পিছন পিছন আসলো,, এদিকে পরি হেলে দুলে নিচে নামলো,,,সবাই একটু পরির দিকে লুক বেশি দিচ্ছে কারণ এখানে আসা সব কয়টা মেয়ে থেকে পরি সবার উপরে তাই তো সবাই আর চোখে চেয়ে দেখছে,,,
নুবা আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে লাগলো,,, তৌসিফ বিচলিত কন্ঠে বললো
_ এই নুবা কি হয়েছে,,
নুবা বিরক্ত হলো তবে শান্ত কন্ঠে বললো

_ please তুমি একটু এখানে বসো আমি আসছি,,, উফ্,,ভালো লাগছে না,,,
_ বলবে তো কি হয়েছে,,আর পড়লে কি করে,,
_ তেমন কিছু না,,,গড়ম লাগছে তুমি যেএ বসো আমি আসছি
তৌসিফ তাও বিচলিত কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা তুমি এখানে বসো আমি তোমার জন্য পানি নিয়ে আসছি,,
নুবা এবার বেশ রেগে গেলো,, কিন্তু তা প্রকাশ না করে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আমি ঠিক আছি,,,আর আমার কাজ আছে,, তুমি বসো,,,ওই যে,,যার সাথে ডান্স করলে উনার নাম পরি,,,যেএ পরিচিত সও,,,দেখো লাইন মারতে পারো কিনা বড্ড সুন্দর আছে,,,এবার যাও আমি আসছি,,
বলেই নুবা প্রায় পালিয়ে চলে আসলো,, তৌসিফ বাম হাত দিয়ে হালকা ঘামে ভেজা চুল গুলো পিছনে ঠেলে দিলো,,পরপর দেখলো পরি এদিকেই আসছে,,,
তৌসিফ ভালো মতো পরির দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেলো,,এতো সুন্দরো মেয়ে হয়,, তৌসিফ এগিয়ে যেএ বললো

_ আপনি ঠিক আছেন,,,
পরি এক পলক তৌসিফের দিকে তাকিয়ে বললো
_ হুম,,,
_ পানি আনবো,, আপনাকে দেখে ক্লান্ত মনে হচ্ছে,,
পরি মাথা ঝুঁকিয়ে একটা চেয়ারে বসে বললো
_ আনলে ভালো হয়,,

নুবা একবার এগিয়ে দুইবার পিছিয়ে গেলো,, অনেক সময় ধরেই সে আরামের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তবে ভিতরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না,,আজ যে তার মার একটাও মাটিতে পড়বে না সে বুঝতে পারেছে,,,
আরহাম টের পেলো নুবা এসেছে কিন্তু ভিতরে আসছে না তাই চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ তুই কি ভিতরে আসবি নাকি আমি আসবো,,,আমি আসলে আজ তোর কি দশা করবো তুই নিজেও জানিস না,,,
নুবা একটু একটু শুনলো তার চেচানি পরপর শুকনো ঢোক গিলে আল্লাহর নাম নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে করতে বললো
_ এবারের মতো বাঁচিয়ে নেও,,আর কক্ষনো ডান্স করবো না গোওও,,,
বিরবির করতে করতে নুবা দরজা ঠেলে প্রবেশ করলো,, আরহাম খেকিয়ে উঠে বললো
_ ডোর লক কর,,
চেঁচিয়ে উঠায় নুবা দুটো ফাল মেরে উঠলো,, শুকনো ঢোক গিলে বললো
_দ,,দরজা লা,,,লাগাতেই হবে,,না লা,,লাগালে হয় না,,,
আরহাম শুধু নুবার দিকে চাইলো,,নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আস্তে করে দরজা লক করে ওখানেই দরজার দিকে ফিরে,,, দরজায় কপাল ঠেকাতে দাঁড়িয়ে রইলো,,বিরবির করে বললো,,,
_ আজ মেরে ফেললেও গানের শব্দে আমার চিৎকার কে শুনবে,,,কি করবো,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো

_ এখন কি ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকবি,, দাওয়াত করে এখানে আনবো তোকে,,,,
নুবা দুই লাফে আরামের সামনে এসে লাড়ালো,, আরহাম বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে,,,
আরহাম মাথা উঁচু করে নুবার নিচু মাথার দিকে তাকিয়ে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো
_ কখন রুম থেকে বেড় হয়েছিস তুই,,,
নুবা মিনমিন করে বললো
_ সন্ধায়,,,
_ তুই কি বলে গিয়েছিলি,,,
নুবা একটু সময় নিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_আ,, আম্মু আ,,আসতে দেয়নি,, আম্মু সাথে ছিলো বিশ্বাস করুন,,না হলে আমি আসতাম,,
আরহাম ক্ষিপ্ত চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আর বেডা মানুষের সাথে ঢলাঢলি করছিলি কি মায়ের কথায় হুম,,
নুবা পিলে চম্কে তাকালো আরহামের দিকে,,,, ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ কেমন কথা বলছেন আপনি,,,
আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ তাহলে ওই ছেলের সাথে কি করছিলি তুই,,
আরহামের চিৎকারে নুবা ভয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,মেরে না বসে আবার,,,
নুবার ফুপানোর শব্দ শুনে আরহাম নুবার চুল আঁকড়ে ধরে বললো
_ চুপ,, একদম চুপ,,গলা দিয়ে একটা শব্দ বেড় হলে একদম বাঁশ ঢুকিয়ে দিবো,,, একদম ন্যাকা কান্না করবি না,,,

নুবা চোখ মুখ খিচে কান্না টুকু গিলে ফেললো,,তবে আরহামের দিকে তাকানোর সাহস পেলো না,,, আরহাম নুবার সাজ সজ্জা দেখে আরো তেতে উঠে বললো
_ আমার দিকে তাকা,,,না হলে চোখ দুটো তুমি লুডু খেলবো ,,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আস্তে আস্তে আরহামের দিকে তাকালো,,,তবে আরহামের রাগি লুক দেখে নুবা আবারো চোখ বন্ধ করে নিলো,,,মিনমিন করে বললো
_ এভাবে তাকাবেন না,,, ভয় লাগে,,,
আরহাম নুবার চুলের মুঠি আরো শক্ত করে ধরে বললো
_ এতো ভয় পাস তাহলে আমার কথা অমান্য কেন করিস,,, তুই আমাকে না বলে সেজে গুজে ওখানে চলে গেছিস,,,একটা বার আমার এখানে আসতে পারিসনি,, আমাকে অপেক্ষায় রেখে চলে গেছিস,,তোর কলিজা কত বড় হয়েছে তা আজ মেপে দেখতে ইচ্ছা করছে আমার,,,
নুবা ভেজা কন্ঠে বললো

_ আম্মু সাথে ছিলো,,আতসে পারিনি তো,,,এর জন্য sorry,,
_ তোর শাস্তি কি হওয়া উচিত তুই নির্ধারণ কর ,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে আরহামের দিকে তাকিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_ চুলে ব্যথা পাচ্ছি তো আয়রার পাপা,,, please ছেড়ে দিন,,,
মিষ্টি কন্ঠে কাজো হলো বটে,,নুবা আর একটু সুযোগ পেলো,,, আরহাম কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ কি হলো বল,,
নুবা আরহামের হাতের দিকে তাকিয়ে বললো
_ হাত,,হাতের ব্যান্ডেজ কেনো খুলেছেন,,, দেখুন কি অবস্থা,,
আরহাম নুবার গাল চেপে ধরে বললো
_কথা ঘুরাবি না বান্দির বাচ্চা,,,
নুবা আরহামের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেএ তাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো,,,বুকে মাথা গুঁজে বললো

_ sorry ,,আর হবে না,,,আর একবার সুযোগ দিন,,আমিও তো দিয়েছি আপনিও দিন,,,
নুবার এভাবে আবদারে আরহাম শান্ত হলো,,নুবার পেঠে হাত রেখে বললো
_ একটা জিনিস চাইবো দিবি নুবু,,,
আরহামের আবদারের কথা শুনে নুবা তথমত খেএ বসলো,,আবার কি না চেয়ে বসে,,তাও ভাগ্য ভালো আজ এতো রেগে থাকার পড়েও মারেনি,,,নুবার চান্দের মতো কপাল আজকে,,,,
নুবাকে চুপ থাকতে দেখে আরহাম বলে উঠলো
_ কি হলো,, উত্তর দিচ্ছেন না যে,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমি “না” শব্দ উচ্চারণ করতে পারবো নাকি,,,এটা তো আমার জন্য হারাম,,আর করলেও আপনি আমার কথা শুনবেন নাকি,,এতো ভনিতা না করে বলেই ফেলেন,,
আরহাম নুবাকে কোলে তুলে নিলো,,,সদ্য ফোটা হলুদ ফুলের মতো তাকে নিয়ে যেএ বিছানায় শুইয়ে দিলো,,নুবার আত্মা কেঁপে উঠলো,,,কি করতে চাইছে এই লোক ,,,পরপর আরহাম উঠে বসলো নুবার উপর,,নুবা কিছুটা ভয়ে ফাল দিয়ে দুই হাতের সাহায্যে উঠে বসে বললো
_ কি করেছেন,,,
আরহাম মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ শব্দ উচ্চারণ করে নুবার দিকে তাকালো,,এতো ভয়ংকর চাহনি দেখে নুবা আস্তে আস্তে শুয়ে পড়লো,,বিরবরি করে সুধালো

_ আমাদের বিয়ে হয়নি কিন্তু আরহাম,,, আপনি কিন্তু,,,
_ hsss মুখটা বন্ধ রাখেন,,
আরহাম শাড়ির আঁচলে হাত দিলো,,,নুবার কলিজা মুখে চলে আসলো,, কম্পিত হাতে আরহামের রক্তাক্ত হাত ধরে মিনমিন করে সুধালো
_ কি,,কি করতে চাইছেন,,,
আরহাম শাড়ির আচলের পিন খুলতে খুলতে বললো
_ একটাও থাপ্পর পড়েনি চেহারার উপর তাই হয়তোবা মুখ চলছে,,
নুবা ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,ভরসা করে তাকে এই ভরসা আবার ভেঙ্গে না দেয়,,,
ধৈর্য ছাড়া আরহাম আঁচলে লাগানো পিন না খুলতে পেরে বকা দিয়ে বসে উঠলো
_ কোন বাল ঢুকিয়েছো এই জায়গায়,,,সাওয়া তো খুলাই যাচ্ছে না,,
আরহামের বিরক্তকর মুখ দেখে নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আ,,আমি খুলে দিচ্ছি,,,
তবে আরহামের সেই ধৈর্য টুকু হলো না,,,এক টান দিয়ে আঁচল খুলে ফেললো,,,,নুবা চোখ মুখ কুঁচকে নিলো,,,ভয় হচ্ছে তবে বিশ্বাসো আছে,,, আঁচল সরাতেই নুবার লাচলচে ফর্সা বুকের ভাঁজ দৃশ্যমান হলো তবে আরহাম ভুলেও সেই দিকে নজর দিলো না,,,,সে যা খুঁজছিলো তা পেয়ে গেলো,,নুবার বুক ধুকপুক করছে তা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে,,নুবা চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে নিলো,, চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,, কম্পিত কন্ঠে সুধালো,,,

_আপনাকে অনেক বিশ্বাস করতাম আমি,,,
আরহাম নুবার বুকের সমোতল অংশের ব্যান্ডেজ খুলতে খুলতে বললো
_ কেন এখন করেন না,,,
নুবা উত্তর দিলো না,,, আগ্রহী আরহাম নুবার ব্যান্ডেজ খুলে ক্ষতো টুকু দেখে কাতর কন্ঠে বললো
_ অনেক লেগেছে তাই না,,,
নুবা হুতসে মাথা ঝুঁকিয়ে হ্য বললো,,
আরহাম আবারো ব্যান্ডেজ করে দিলো পরপর সাদা ব্যান্ডেজের উপর ঠোঁট ছুঁইয়ে নুবার বক্ষ স্থলে মাথা রাখলো,,,নুবার পিলে চম্কে উঠলো,,,,
আরহাম নিজের পুরো ভর নুবার উপর ছেড়ে দিলো,,নুবার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসলো,,, ছটফট করে উঠলো সে,,,বিরবির করে বললো
_ ষাঁড়ের মতো শরীর টা দিয়ে আমাকে চিপকে ফেলতে চান,, আল্লাহ উঠুন,,
আরহাম আরো আয়েস করে নুবার গলায় মুখ গুজে দিলো,,নুবা মৃদু কেঁপে উঠলো,,,আরহামকে দুই হাত দিয়ে সরাতে সরাতে বললো
_ আমাদের বিয়ে হয়নি এখনো,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ কালকেই আরমা বিয়ে করবো,,করবে,,,,
আরহামের কথায় ছটফট করতে থাকা নুবা থমকে গেলো,,, কালকে,,,তবে এখনো তো হাজেরাই রাজি হলো না,,তাকে বুঝানোই হলো না,,মাকে না বলেই বিয়ে করবে,,এটা কি ধোঁকা হবে না,,, কিন্তু না করলে উপায় আছে এই লোক যা শুরু করেছে কবে কি করে বসে ঠিক নেই,,,
নুবা পুরো শান্ত হয়ে গেলো,,, কম্পিত শরীর আর মন স্থির হলো,,, অন্যমনস্ক হয়ে আরহামের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো,,,পরপর মিনমিন করে বললো

_ কালকে,, সত্যি,,,
_ হুম,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো
_ আর আম্মু,,, আম্মুকে না জানিয়ে,,,
আরহাম নুবার গলায় মুখ গুজে বললো
_ সব দিকে ভাবলে হবে,, আমার দিকটা ভাবো নুবু,,কোন সময় কি করে বসি,,এর থেকে ভালো কালকে কবুল বলেই ফেলি,,,
নুবা কিছু সময় ভেবে বললো
_ কাল না পরশু,,কাল তো আরশি আপুর বিয়ে আগে এই ঝামেলা শেষ হোক,,
আরহাম ভালো বাচ্চার মতো” আচ্ছা” বললো,,
কিছু সময় পর নুবা টের পেলো আরহাম শুধু ঘুমানোর জন্য ছটফট করছিলো,,,এর থেকে বেশি কিছুই না আর বোকা নুবা আরহামের ব্যপারে কত কি ভেবে ফেলেছিলো,,,,
২০ মিনিট খানিকের ভিতরে আরহাম গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো,,, বর্তমানে নির্লজ্জ নুবা আরহামের চুলে অর্থাৎ মাথায় চুমু খেলো,,,পরপর অন্য হাত দিয়ে আরহামের পিঠে হাত বুলিয়ে দিলো,,
কিন্তু নুবার চোখে ঘুম নেই কত শত ভাবনা,,,ভয় লাগছে হাজেরা না খুঁজতে চলে আসে,, এদিকে আয়রা রাতে একবারি ফিড করেছে আবার কান্না না শুরু করে দেয়,,আবার আরহামের হাতে রক্ত গুলো কিভাবে শুকিয়ে আছে দেখো ভয় লাগছে,,তার উপর শাড়ি পড়ে ইচিং হচ্ছে,,আরহামের গড়ম নিঃশ্বাস খোঁচা খোঁচা দাড়ি,, আরহামের শরীরের ভার,,সব মিলিয়ে নুবা অতিষ্ঠ,, নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে তার,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আরহামের চুল গুলো একটু একটু টেনে দিলো,,তবে হাজার ভাবনা নিয়ে কখন যে তার চোখেও ঘুম চলে আসলো সে নিজেও টের পেলো না,,,

তৌসিফ একটু আগেই চলে গেছে,,নুবাকে আর হাজেরাকে খুজেছিলো তবে পাইনি,, অন্যদিকে পরি যেএ শুয়ে পড়েছে,,আরহাম তার চুল টেনে টেনে মাথা ব্যথা করে দিয়েছে,,,
আমিনা বেগমের কপাল দিয়ে ঘাম ছুটছে,,এই নুবা কোথায় গেলো,,হাজেরা খুঁজে খুঁজে পাগল হয়ে যাচ্ছে,,,আমিনা বেগম তখন থেকে আরহামের দরজায় কড়া নাড়ছে তবে কারো কোনো হুস নেই,,
আমিনা বেগম এবার আরহামের নাম্বারে কল করলো

আরহাম ফোনের শব্দে বিরক্ত হলো,,, টিপটিপ করে তাকিয়ে বললো
_ এই বালের ফোন,,,
বলেই আরহাম হাত লাম্বা করে মোবাইল হাতে তুলে নিলো,,,কল রিসিভ করে যেই না বকা দিবে তার আগেই আমিনা বেগম রাগি কন্ঠে বলে উঠলো
_ কখন ধরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে,,নুবা কোথায়,,,হাজেরা মেয়েকে খুঁজছে,,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_ ও আমার কাছেই আছে ,, তুমি please ওর ব্রিটিশ মাকে একটু সামাল দেও,,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে বললো
_ এই বান্দির ছেলে দরজা খুল,,ডোর লক করে কি করছিস ওর সাথে,
আরহাম নাক মুখ কুঁচকে নিলো বিরবির করে বললো
_ এখনো কিছু করিনি তবে তুমি বিরক্ত করলে সত্যি আমি কিছু করে বসবো,,,
_ আরহাম আমি তোকে বারবার বলছি কিন্তু,,জানা জানি হয়ে গেলে,,,,
_ mom please যাও তো,,আর মেয়ে কোথায়,,
_ ইশিতার কাছে,, ঘুমিয়ে গেছে,,,
_ আচ্ছা,, আমাকে একটু শান্তি দেও,,
বলেই আরহাম কল কেটে দিলো,,,আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো এই ছেলে কোনদিন তাকে মারবে,,,আমিনা বেগম আবারো কল দিলো,,তবে চালাক আরহাম ফোন বন্ধ করে দিয়েছে,,,
আমিনা বেড় কপাল চাপড়ালো,,এখন কি করে সামাল দিবে এই দিক এই ছেলে,,

আরহাম মোবাইল রেখে নুবার দিকে তাকালো,,যে কিনা গভীর ঘুমে মগ্ন,, আরহাম মুচকি হেসে নুবার ঘুমন্ত মুখে ঠোঁট ছুঁইয়ে সুধালো
_ You are only mine… আমার নুবু,,,
নুবা নড়েচড়ে উঠলো,,, আরহাম অনুভব করলো নুবার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে,, আরহাম ভদ্র ছেলের মতো নুবার উপর থেকে সরে গেলো,, বেচারি নুবা ঘুমের ভিতরে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো,,,
আরহাম মুচকি হেসে নুবাকে টেনে নিজের বক্ষ স্থলে দখল করে নিলো,,বিরবির করে বললো
_ আমার বিচ্ছু,,, আমার মিনি হাতি,,,
_ হ্যাঁ হ্যাঁ,,আরশির রুমে,,ওর ভালো লাগছে না তো তাই,,সবাই এক সাথেই আছে,,,
হাজেরা মৃদু কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা,,,তহলে আমি শুয়ে পরি,,,একটু খেয়াল রেখেন আপা,,
আমিনা বেগম মুচকি হাসলো,,,আর বললো
_ আচ্ছা,,, তুমি ঘুমাও,,
বলেই আমিনা বেগম কোনো মতে কেটে পড়লো ওখান থেকে,,পরপর বুকে হাত রেখে গভীর নিঃশ্বাস ফেললো,,

সকাল সকাল জানালার ফাঁক গলে আসা কোমল সোনালি রোদ নুবার চোখে পড়তেই ধীরে ধীরে তার ঘুম ভেঙে গেল। আধোঘুম চোখে চারপাশে তাকিয়ে নিজেকে এলোমেলো অবস্থায় আরহামের প্রশস্ত বুকে আবিষ্কার করতেই তার গাল লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল। আরহামের এক হাত এখনো আলতো করে জড়িয়ে আছে তাকে, যেন ঘুমের মধ্যেও ছেড়ে দিতে রাজি নয়। নুবা মৃদু হেসে নিঃশব্দে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, আর সকালের নরম আলো দুজনের শান্ত মুখে এক অন্যরকম প্রশান্তির ছোঁয়া ছড়িয়ে দিল। মুহূর্তটা এতটাই নিস্তব্ধ আর আপন ছিল, যেন সময়ও তাদের জন্য কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়ালো,,
পরপর নুবা উঠে বসতে চাইলো তবে আরহাম শক্ত করে জড়িয়ে আছে তাকে,,,নুবার কেমন অস্থির লাগলো,,,বিষয়টা দৃষ্টিকটু,,যে বিয়ের আগেই এক সাথে রাত কাটানো,, যতোই কিছু না হোক তাদের ভিতরে,, তারা উপর তার মা কি সারা রাতে খুঁজেনি তাকে,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,এই মানুষটাকে সে প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছে,,,,আয়রা,, আরহাম এই দুইনি তার অধিকার,,,তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়ে নুবা চোখের পানি ফেললো,, নিজেকে কেমন সেই সব মেয়েদের মতো মনে হলো,,,নুবার বুক কেঁপে উঠলো,, শুকনো ঢোক গিলে আরহামকে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো,,,একটু একটু কষ্ট লাগছে এভাবে একজন পরপুরুষের সাথে সে রাত কাটিয়ে ফেললো হয়তোবা কিছুই হয়নি তাদের ভিতরে তবু নুবার মনটা মানতে চাইলো না আনচান করে উঠলো,,
নুবা উঠতে নিলে আরহাম তার হাত ধরে ফেললো,, ঘুমঘুম কন্ঠে বললো
_ বিয়ের আগে গায়ে একটু কলঙ্ক লেগেই যাক। শেষ পর্যন্ত সেটা তো নিজের মানুষেরই দেওয়া হবে। এমন দাগ লুকানোর জন্য নয়, বরং হাসিমুখে আজীবন মনে রাখার জন্য হয়,,না হলে দিন গুলো স্মরণীয় হবে কি করে,,,

নুবা ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এই সমাজ বা আম্মু যদি জানে তবে হয়তোবা আমাকে ঘৃণার চোখে দেখবে আপনার আর কি,,,
_ লোকের কথায় গা ভাসিয়ে দেওয়ার মতো পুরুষ আমি নই,,, তুমি আমার ছিলে আমার থাকবে আমার আছো,,,এই কথা দুনিয়া উল্টে গেলেও এদিক থেকে ওদিক হবে না,,,
আরহামের কথায় ভরসা পেলো সে,,,এতোটা কাছে থাকার পড়েও আরহাম একবার ছুঁয়ে দেখেনি শুধু বুকে টেনে নিয়ে অশান্তির ঘুম শান্তিতে পরিনত করেছে,,,,এই মানুষ টাকে ভরসা করাই যায়,,,
নুবা মাথা নিচু করে চাঁপা কন্ঠে বললো
_ যতো যাই বলুন না কেন আমি ভালো মেয়ে হতে পারিনি,,, আম্মুর দেওয়া শিক্ষা আমি গ্ৰহন করতে পারিনি,,,না হলে এভাবে,,,আমি বড্ড খারাপ হয়ে গেছি,,,
আরহাম বিরক্ত হলো,,,ফট করে উঠে দাঁড়ালো নুবাকে টেনে বুকে ফেললো,,,নুবা চম্কে উঠলো,,, আরহাম তার রক্তাক্ত বাম হাত দিয়ে নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,,,
_ আমার নুবু কেমন আমি জানি,,,আর না এমন কিছু হয়ে গেছে যে তোমার আফসোস করতে হচ্ছে,,,, একদিন তোমার মায়ের চোখের সামনে দিয়ে তোমাকে নিয়ে রুমে নিয়ে এসে দরজার খিল দিবো,,, তোমার মা মুখ কালো করার বদলে খুশি হবে,, কারণ সে নানি হতে পারবে,,,আর আমাকে বাহবা দিবে,,,
নুবা ফিক করে হেসে ফেললো বেশ লজ্জাও পেলো,,,আরহামের বুকে চিমটি কেটে সুধালো
_ অসভ্য লোক,,,, আম্মু ঝাড়ু দিয়ে দিবে,,,
_ সমস্যা নেই শাশুড়ির মেয়ে যদি এমন হয় তবে শাশুড়ির হাতের হাতে দু একটা ঝাড়ুর বারি খেলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না,,
নুবা আবারো হাসলো এটা ভেবে সে আরহাম যখন তার মায়ের হাতে ঝাড়ুর বারি খাবে তখন কেমন দেখাবে তাকে,,,

আরহাম নুবার শাড়ির আঁচল সুন্দর করে টেনে দিয়ে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো
_ তোমার মায়ের জন্য,,না হলে কবে তোমাকে তুলে নিয়ে যেতাম,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আম্মু ভীষণ কষ্ট পাবে,,,আপনি ধৈর্য ধরেন আম্মুকে আমি বুঝিয়ে নিবো,,
পরপর নুবার কিছু মনে পড়তেই বললো
_ কয়টা বাজে,,,আর আয়রা,,,রাতে কিছু খায়নি,,, মেয়ে কোথায়,,,

নুবা রুমে এসে ডিরেক্টর গোসল করে চেন্জ করে নিলো,,সারা রাত শাড়িতে থেকে তার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে,,, সর্ব প্রথম রুম থেকে বেড় হয়ে আমিনা বেগমের কাছে গিয়েছিলো নুবা,,সে আয়ারকে দিয়ে পটিপটি করে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে কি বলে রাতে হাজেরাকে সামালা দেওয়া হয়েছিলো,তাই নুবার কোনো টেনশন নেই,,,
নুবা গোসল সেরে তাড়াতাড়ি বেড় হলো,,,আয়রা বিছানায় শুয়ে মুখে আঙ্গুল দিয়ে একটু পর পর কাঁদছে,,সকাল ৭ টা বাজে,,সেই রাত থেকে মেয়েটা কিছু খায়নি,,,,
এদিকে আরহাম সকালে উঠে আগে নুবার সাথে যেএ মেয়েকে কোলে নিয়েছে,,পুরো রাত তার কাছে ছিলো না,,, হয়তোবা ঘুম হয়েছে তবে মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তিত ছিলো এস,, অবশ্য আমিনা বেগম নাতনির খেয়াল রেখছে,,,

নুবা আয়ারকে ফিড করাচ্ছে,,, ক্ষুধার্ত আয়রা পারলে নুবাকে হাত দিয়ে ছিরে ফেলছে,,, হয়তোবা বাপের মতো জেদ দেখাচ্ছে যে সারা রাত কোথায় ছিলো,,,একটু খেতে দেয়নি কেন তাকে,,,
আয়রার কান্ড দেখে নুবা মৃদু হাসছে,, এদিকে হাজেরা মেয়ের গালে ভাত তুলে দিতে দিতে বললো
_ এতো সকালে গোসল করলি কেন,,,??
এতো সময় তার মা চুপি ছিলো,,নুবা রুমে এসেছে শুধু জিগ্গেস করেছিলো রাতে কিছু খেয়েছে কিনা,,নুবা না বলায় ভাত নিয়ে এসেছিলো,,তবে এখন এমন প্রশ্ন শুনে নুবার নিজের কাছেই কেমন লাগলো,,,নুবা পানি দিয়ে ভাত গিলে বললো
_ সারা রাত শাড়ি পড়ে ছিলাম,, ইচিং হচ্ছিলো তাই,
_ রাতে চেন্জ করেই আরশির রুমে যেতি,,,
নুবা জোরপূর্বক হেঁসে বলল
_ আপু ভিডিও,,ছবি টবি তুলছিলো তাই আর আসা হয়নি
_ ও,,,
হাজেরা ভাত মাখাতে মাখাতে বললো
_একটা কথা বলি নুবাইরা,,শুনবি,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ বলো,,,
হাজেরা মেয়ের মুখে ভাত তুলে দিয়ে বললো

_তোকে ছোটো বেলা থেকে কিভাবে মানুষ করেছি তা হয়তোবা তোর মনে থাকতেও পারে নাও পারে,,, কিন্তু তুই আমার জন্য সব,,,তোর জন্য দ্বিতীয় বার বিয়ের পিরিতে বসিনি,,,যাতে তোর সাথে আমার দূরত্ব তৈরি না হয়,, তুই কষ্ট না পাস,,এই বাড়িতে এসেছি এই একটা কারনেই যাতে তুই ভালো থাকিস,, আমার এই জীবন তুই তুই করেই শেষ করেছি,,,তোর বাপ যখন গতো(মৃত্যু) হয়েছিলো তখন আমার বয়স বেশি ছিলো না আমি চাইলেই তোকে রেখে চলে যেতে পারতাম তবে আমি তোর কথা ভেবেছি,,নিজে না খেএ তোকে মানুষ করেছি,,,আমি যেহেতু তোর কথা ভেবে নিজের জীবন এই পর্যন্ত এনেছি আশা রাখছি তুই তোর এই অভাগী মায়ের কথা চিন্তা করবি,,,,
হাজেরা একটু থেমে চোখে পানি মুছলো,, মাকে কাঁদতে দেখে নুবার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,,,হারেজা নুবার গালে ভাত তুলে দিয়ে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮০

_ কোনো মা”ই কখনো চাইবে না তার সন্তান খারাপ থাকুক,, তেমন আমিও চাই আমার সন্তান ভালো থাকুক,,,যখন কেউ পিতা মাতার অবাধ্য হয় তখন সেই পিতা মাতার কতটুকু কষ্ট হয় তুই বুঝবি না,,,,এতো কাল মানুষ করে যদি সেই বাপ মায়ের বুকে পারা দিয়ে নিজের মতো চলে তবে কতটুকু যন্ত্রণা সেই মা বাবার হয় তোর ধারনাও নেই,, যেদিন তুই পা হবি,,তোর একটা সন্তান থাকবে তখন বুঝবি,,,ধরতে গেলে ১৯/২০ বছর তোকে মানুষ করেছি,,,এই নুবা নুবা করে আমি আমার জীবন শেষ করেছি,,,, আমি জানি আমার মেয়ে ওমন না তাও বলছি এই অভাগীকে ফেলে দিস না,,,খনেকের মানুষের জন্য এই হাজেরার বুকে লাথি দিস না,,, সেদিন আমার গলায় ফাস দেওয়া ছাড়া আর

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here