সুইটহার্ট পর্ব ১৪
মোনালিসা মেহরোজ
—এতো কিছু থাকতে ওর নজর আমার পটলের দিকেই কেনো? হোয়াই গড? হোয়াই? সেদিন থেতলে দিতে দিতে বেঁচেছি, আর আজ সোজা কেটে? ওমা…!
মুখে আঙুল চেপে ধরলো যুবক। ভয়ে গলা শুকিয়ে এলো কেমন। তড়িঘড়ি করে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে গেলো সে। আর সে যেতেই ঘুমের মধ্যেই নড়েচড়ে বিড়বিড়িয়ে উঠলো মেহরিন।
নিজের মেইন পয়েন্ট চেপে করিডর ধরে জোড় কদমে এগিয়ে চলেছে আদ্রিয়ান। তবে পথিমধ্যে বাবাকে দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়ালো যুবক। হাত সরিয়ে মুখের ভাব অতি গম্ভীর করে নিলো। দু’হাত পকেটে পুরে সটান হয়ে এগিয়ে গেলো। আশিক চৌধুরী ছেলের অভিমুখে এসে থামলেন। আগাগোড়া পরখ করলেন সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে। বাবার এহেন তীক্ষ্ণ চাহুনিতে কপালে ভাজ পরলো আদ্রিয়ানের।
—কিছু বলবে?
—বলার তো অনেক কিছুই আছে।
বাবার হেঁয়ালিপূর্ণ কথায় চোখমুখ কুচকে নিলো যুবক।
—কি বলতে চাও পরিস্কার করে বলো।
—মেহুকে তুলে এনেছো কেনো?
বাবার এরূপ প্রশ্নে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো পুরুষটি। চোখের মণি উল্টে আওড়ালো—-
—সো হোয়াট, ড্যাড? ইচ্ছে হয়েছে এনেছি। ব্যাস!
আশিক চৌধুরীর মুখশ্রী এবার আরো গম্ভীর হয়ে পরলো। তিনি দু’হাত পিছনে ভাজ করে তীক্ষ্ণ কন্ঠে সুধালেন—–
—সে অভ্রের হবু স্ত্রী। ভুলে গেলি সেই কথা? নিজের হবু ভাবিকে এভাবে….
—ওহ জাস্ট ফা*ক অফ ড্যাড! বিয়ে কি হয়ে গেছে? না হবে?
আশিক চৌধুরীর কপালের ভাজ গাঢ় হলো।
—বিয়ে হবে না?
বাঁকা হাসলো যুবক। মাথার চুলে হাত বুলালো অলক্ষ্যে।তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বোলালো বাবার মুখশ্রীপানে। অতঃপর নিগুঢ় কন্ঠে আওড়ালো—-
—হবে তো অবশ্যই। তবে….
—তবে?
বিরক্ত হলো আদ্রিয়ান। তার বাবা তাকে এতো প্রশ্ন করছে কেনো? সবটা জেনেও এতো কৌতুহল দেখানোর মানে কি? এমনটা তো না যে এরপর কি হতে পারে তা আশিক চৌধুরী জানে না! তাহলে তাকে এতো প্রশ্ন করছে কেন? সে তো তার ছেলেকে খুব ভালো করেই চেনে। অভ্রকে যে আদ্রিয়ান এমনি এমনি ছেড়ে দেবে না তা আশিক চৌধুরীর অজানা নয়। তবে?
—মজা করছো? সবটা জেনেও ভান করছো কেনো?
—আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না তুই কি করতে চাইছিস।
—তাহলে চুপচাপ থাকো আর বোঝার চেষ্টা করো আমাকে কোন প্রশ্ন না করে। কজ, আমি বিরক্ত হচ্ছি তোমার এতো এতো প্রশ্নে৷
আশিক চৌধুরী দীর্ঘ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন। তিনি বুঝতে পারছেন এই ছেলে সহজে অভ্রকে ছাড়বে না। আর আদ্রিয়ানের’ই বা কি দোষ? অভ্র নিজেই তো ইচ্ছে করে আদ্রিয়ানের পেছনে লাগলো। এখন আদ্রিয়ান পাল্টা চাল দেবে না! আর তিনি নিজেও ছাড়বেন না-কি? বোন নাজমা তালুকদার যদি আবারো তাদের জীবনে বিপর্যয় ঘটানোর চেষ্টা করেন তাহলে আদ্রিয়ান কেনো! তিনি নিজেই তার প্রতিশোধ নিবেন।
বিকেলের দিকে সাহেলা চৌধুরী মেহরিনকে ড্রাইভার দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। অবশ্য ওবাড়ি থাকাকালীন মেহরিনের খুব একটা খারাপ কাটেনি। ঘুম থেকে ওঠার পর সাহেলা চৌধুরী পুরোটা সময় তার সাথে নানান গল্প করেই কাটিয়েছেন। কি মিশুক মানুষ তিনি! মেহরিনের বেশ মনে ধরেছে মানুষটাকে। আসার সময়ও কত আদর করলো। তখন অবশ্য আদ্রিয়ান ছিলো না, তার সাথে দেখাও হয়নি।
বাড়িতে ফিরেই মেহরিন ফ্রেশ হয়ে বিছানায় এসে বসলো। মাগরিবের আযানের সময় হয়ে এলো৷ সুফিয়া বেগম রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিফার সাথে কথা হয়নি মেহরিনের৷ শাওনের খবর নেই।
মেহরিন বসা হতে উঠে দাঁড়ালো। গুটিগুটি পায়ে এসে থামলো শাওনের ঘরের সামনে। ওপাশ থেকে দরজা লক করা দেখে কপাল কুঁচকে নিলো রমণী। একবার ধাক্কা দিলেও খুললো না দরজা।
—শাওন, কি রে! এসময় ঘরে কি করছিস? বাহিরে আয়।
—আর বলিস না। ছেলেটার যে কি হয়েছে আজ সকাল থেকে কে জানে! সারাদিন বাড়ি ছিলো না। খানিক আগেই এসছে ঘরে খিল আঁটকে বসে আছে৷ ডাকলাম সাড়া দিলো না।
রান্নাঘর হতে মায়ের চিন্তিত স্বরে কুঁচকানো কপাল আরো কুঁচকে গেলো মেহরিনের। ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না ঘটনা। সকালে তার করা আচরণেই কি এমন করছে সে! না-কি অন্য ব্যাপার?
মেহরিন আবারো দরজায় কড়াঘাত করলো বেশ কয়েকবার। তবে যুবক দরজা খুললো না। শেষের দিকে বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে বললো—
—কিরে? দরজা খুলবি না ভাঙবো? কি হয়েছে বলবি প্লিজ?
—মেহু! একটু পর বের হচ্ছি তুই যা।
শাওনের কথায় মেহরিন আর জোড় করলো না। বরং চুপচাপ সেখান থেকে নিজের ঘরে চলে গেলো। আর ঘরে প্রবেশ করে ফোন হাতে নিতেই দেখলো অভ্রের মেসেজ। মেহরিন ভ্রু কুঁচকে নিলো৷ মেসেজ ওপেন করতেই দেখলো কাল দেখা করার কথা বলছে। মেহরিন বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে ফেললো৷ অভ্রের সাথে দেখা করা তো দূর, কথা বলারও ইচ্ছে নেই তার। এছাড়াও সে জানে, অভ্র নিশ্চয়ই আদ্রিয়ানকে নিয়ে তাকে কিছু বলবে৷ এছাড়া আর কি!
—আদ্রিয়ানের সাথে কি সম্পর্ক তোমার?
হুট করেই অভ্রের এহেন তীক্ষ্ণ প্রশ্নে খানিক থতমত খেলো মেহরিন। আজকে ভার্সিটি একাই আসতে হয়েছে তাকে। সাথে ছিলো না শাওন-শিফা। অজানা কারণে দু’জনেই আজ আসেনি। তাই মেহরিন একাই এসেছিলো। আর ভার্সিটির গেটের কাছে আসতেই অভ্রকে দেখে অবাক হলো রমণী। এগিয়ে যেতেই ছুঁড়লো এহেন কঠিন একখানা প্রশ্ন।
মেহরিন অভ্রের কথার পাছে কি উত্তর করবে ভেবে পেলো না। কাল আদ্রিয়ানের ওমন ব্যবহারের কারণ তারও অজানা। তবুও অভ্রের এই প্রশ্নটা মোটেও পছন্দ হলো না তার। মেহরিন মুখ ফিরিয়ে নিলো অভ্রের দিক হতে। মুখে খানিক বিরক্তি আর বিষাদের ছাপ। অভ্রের হাতের মুঠোই শক্ত হয়ে এলো মেহরিনের উপেক্ষায়। দাঁতে দাঁত চেপে ফের আওড়ালো—-
—কি হলো? কিছু জিজ্ঞেস করছি তোমায়!
—ওনি আমার কে হন তা আপনি জানেন না?
মেহরিনের ধারালো জবাবে অভ্রের চোয়াল কাঁপতে লাগলো। একেই তো মেহরিন তার পছন্দের বাহিরে চলছে, তার উপর তাকে উপেক্ষা প্লাস মুখে মুখে তর্ক?অভ্র ভাবতে পারেনা। তীব্র আক্রোশে ফেটে পরে ভেতরে ভেতরে।
—তোমার মুখ থেকে জানতে চাই এই সম্পর্কে।
—তাহলে শুনুন,
এক মিনিট থামে মেহরিন। অতঃপর ফের আওড়ায়—–
—ওনি আমার প্রফেসর।
তাচ্ছিল্য হাসে অভ্র।
—প্রফেসর? বাহ্, বেশ ভালো জোকস বলো তো!
ভ্রু কুঁচকে গেলো মেহরিনের। আশেপাশে সুক্ষ্ম দৃষ্টি বুলিয়ে আওড়ালো—-
—কি বলতে চাইছেন আপনি?
—বলতে চাইছি এটাই যে কোন প্রফেসর তার স্টুডেন্টকে কোলে করে তুলে নিজের সাথে নিয়ে যায়? তারওপর স্টুডেন্ট-এর হবু স্বামীর সামনে থেকে! মজা পেয়েছো আমায়? হু!
—সেটা তো আপনার ভালো জানার কথা। ভাই না আপনার?
মেহরিনের তীক্ষ্ণ স্বরে অভ্র খানিক থমকে গেলো।
—মানে?
—মানেটা আপনি জানবেন ভালো।
—কি বলতে চাও?
—কি চলছে আপনাদের মধ্যে?
মেহরিনের কথায় অভ্রের দৃষ্টি খানিক নড়েচড়ে উঠলো। সে চোখ ফিরিয়ে নিলেও আবারো তাকালো মেহরিনের পানে।মেহরিন না দমে পুনরায় আওড়ালো—–
—সেদিন কি খেলার কথা হচ্ছিল? আমাকে কেনই বা স্যার আপনার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গেলো? হু!
—সেটা তুমিই ভালো জানবে, আফ্টারঅল ও তো তোমাকেই তুলে নিয়ে গেছিলো তাই না? তাও আবার কোলে তুলে! প্রফেসর না! অনেক দ্বায়িত্বশীল তার স্টুডেন্টদের প্রতি। বিশেষ করে তোমার প্রতি ওর একটু বেশিই ইন্টারেস্ট। তাই না বলো?
তাচ্ছিল্য স্বরে কথাটা বলে মুখ ফিরিয়ে নিলো অভ্র। তার এহেন কথায় চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো মেহরিন। ভিষন অপমানিত বোধ করলো রমণী। আদ্রিয়ানের কাজে যে তাকে এভাবে এখন অভ্রের সামনে ঝুঁকতে হবে তা সে জানতো। অভ্র তাকে তো আর এমনি এমনি দেখা করতে বলেনি। মজার ছলে আদ্রিয়ানকে সে যেভাবেই নিক না কেনো, আসল সত্য তো এটাই যে আদ্রিয়ান মেহরিনের প্রফেসর। একজন সম্মানীয় ব্যক্তি সে। আর এখন তাকে আদ্রিয়ানের সাথেই জড়ানো হচ্ছে।
—আমি আসছি।
কথাটা শেষ করে অভ্রকে আর কোন বাক্য ব্যায় করার সময় দিলো না মেহরিন। চোখের কোণে তার অশ্রু চিকচিক করছে কেমন। গটগট পায়ে সোজা ভেতরে ঢুকে গেলো রমণী। অন্যদিকে অভ্র সজোরে আঘাত করে বসলো গাড়িতে।
করিডর ধরে সামনে পা বাড়ালো মেহরিন। চোখমুখ কেমন লাল হয়ে এসেছে। অভ্রের কথাগুলো কানে বাজছে তার। চোখের কোণে পানি জমেছে অপমানের তাড়নায়। মেহরিন মাঝপথে থামলো একবার। চোখ মুছে নিজেকে শান্ত করে ফের পা বাড়াতেই সিঁড়িতে কয়েকটা ধাপ দিয়ে নিচের দিকে আসতেই মুখোমুখি হলো আদ্রিয়ানের। একে অপরকে দেখে দু’জনেই থমকে গেলো। আদ্রিয়ান সুক্ষ্ম দৃষ্টি বুলালো মেহরিনের পানে। আর মেহরিন সন্তপর্ণে চোখজোড়া ফিরিয়ে নিলো। মুখে আঁকলো না আগের ন্যায় দুষ্টুমির রেশ। অবাক হলো আদ্রিয়ান। পকেটে হাত গুঁজেই আওড়ালো—-
—হোয়াট হ্যাপেন্ড? ঠিক আছো?
মাথা নাড়ে মেহরিন।
—জ্বী।
এরমধ্যেই সেকেন্ডের ব্যবধানে সিঁড়ির উপর ছাত্র-ছাত্রীদের তুমুল ভিড় শুরু হয়ে গেলো হঠাৎ। আদ্রিয়ান-মেহরিন কথা বলার মাঝখানেই হুট করেই পিছন থেকে একজনের ধাক্কায় সিঁড়ির উপর থেকে হুড়মুড়িয়ে আদ্রিয়ানের উপর ঠাস করে পরলো রমণী।
—আহ….।
মুখ দিয়ে খানিক অস্ফুট আর্তনাদ বেড়িয়ে গেলো মেহরিনের। আর তার সাথে ঘটে গেলো অবিশ্বাস্য এক কান্ড। মেহরিনের পাতলা ফিনফিনে ঠোঁট জোড়া আচমকা ছুঁয়ে গেলো আদ্রিয়ানের উন্মুক্ত বক্ষদেশ। জমে গেলো মেহরিন। দু’হাত কবেই জায়গা করে নিয়েছে যুবকের বাহু। মেহরিনের হৃৎস্পন্দন যেনো থমকে গেলো আচমকা এহেন কান্ডে।
অন্যদিকে আদ্রিয়ান নিজেও হতভম্ব, হতবিহ্বল। কয়েক সেকেন্ডে ঠিক কি ঘটে গেলো তা ঠিক ঠাওর করে উঠতে পারলো না যুবক। বক্ষদেশের আড়ালে লুকায়িত একমুঠো হৃদয়টা কেমন থমকে আছে। মেহরিনের ঠোঁটের স্পর্শ যেনো তার শিরা-উপশিরায় অদ্ভুত এক দোলা দিয়ে গেলো। সর্বাঙ্গ কেমন কেঁপে উঠল যুবকের। এক আদিম উন্মাদনায় ভেতরটা থরথর করে উঠলো। বাহুতে রাখা মেহরিনে হাত আচমকা কেঁপে উঠলো সেই তালে। সাথে শক্ত করে নিজ আঁখিপল্লব বন্ধ করে নিলো রমণী। আদ্রিয়ান সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে পরখ করলো তা। চোখজুড়ে অদ্ভুত অনুভূতির জোড়ার ভেসে বেড়াচ্ছে পুরুষটির।
আশপাশ তখন আবারো একদম ফাঁকা নিস্তব্ধ হয়ে এলো। সকল স্টুডেন্ট ইতিমধ্যেই ত্যাগ করেছে করিডর।
—স…সরি।
ছিটকে দূরে সরে তোতলাতে তোতলাতে বলে উঠলো মেহরিন। গলার স্বর কাঁপছে কেমন অজানা শিহরণে। আদ্রিয়ান নিজেও হালকা কেঁশে পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করলো৷
—ইট’স ওকে।
আদ্রিয়ান কিছু না বললেও মেহরিনের ভেতরটা মানতে চাইলো না। সাথে মনে পরলো তখন অভ্রের বলা কথাগুলো। হুট করেই মনে হলো আদ্রিয়ানকে সে কিভাবে নেয় তা আদ্রিয়ানকে জানানো উচিত। ফলস্বরূপ সে বোঝাতে চেষ্টা করলো সে আদ্রিয়ানকে কি নজরে দেখে। কাঁপা ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে তড়িঘড়ি করে আওড়ালো—
—জ…জ্বী, দেখুন স্যার! কিছু মনে করবেন না। আমি জানি শিক্ষক পিতার সমতুল্য, আমিও আপনাকে সেভাবেই…..উহুম…
বাকিটুকু গলায় আঁটকে রইলো রমণীর। আচমকা আদ্রিয়ানের পুরুষালী থাবায় আঁতকে উঠল মেহরিন। ঘাড়ের পিছনে হাত দিয়ে আচমকা নিজের বুকের উপর মেহরিনকে আছড়ে ফেললো যুবক। অতঃপর নিজের পুরুষালী ঠোঁটের ভাজে মেহরিনের পাতলা ফিনফিনে ওষ্ঠদ্বয় নিয়ে নিলো আদ্রিয়ান। মেহরিনের ভেতরটা ধরাক করে উঠলো৷ আদ্রিয়ানের থাবার তীব্রতায় ঘাড়ের কাছে জ্বলন সৃষ্টি হলো। তখনি অনুভব করলো আরো এক গভীর স্পর্শ। আদ্রিয়ান অন্য হাতে তার কোমড় চেপে আচমকা দেওয়ালে ঠেসে ধরলো। মেহরিনের ব্যথা হলো প্রচুর। চোখ দিয়ে পানি বেড়িয়ে গেলো তীব্র ব্যথার তাড়নায়। অন্যদিকে হিংস্র আদ্রিয়ান নিজের খেই হারিয়ে একের পর এক কাম*ড় বসাতে লাগলো রমণীর নরম ওষ্ঠে। মেহরিন ছটফট করে উঠলো। গুঙিয়ে উঠলো ছাড়া পাওয়ার আশায়। তবে আদ্রিয়ান! সে কি ছাড়লো? তার কি মায়া হলো মেহরিনের প্রতি? সে তো তখন নিজের খেয়ালে।
পুরুষটির চোখজোড়া কেমন লাল হয়ে এসেছে। কোমড়ে রাখা হাত ক্রমশ শক্ত হচ্ছে তার। অন্যদিকে মেহরিন ভেতরে ভেতরে ভয়ে কাঁপছে এরূপ আচরণে। ফিনকি দিয়ে র*ক্ত ঝড়ছে ওষ্ঠ হতে।
আদ্রিয়ান নিজের ঠোঁট দ্বারা সেই র*ক্তটুকু নিজের ভেতরে শুষে নিলো৷ অতঃপর দীর্ঘ এক চুম্বন শেষে তার র*ক্ত লাল চোখজোড়া নিবদ্ধ করলো মেহরিনের ক্রন্দনরত চোখের পানে। কোমড়ে রাখা হাতে আর একটু চাপ প্রয়োগ করে আওড়ালো—-
—You are absolutely right. শিক্ষক পিতার মতো হয়। বাট জামাইয়ের বয়সী এতো হট অ্যান্ড হ্যান্ডসাম একজন প্রফেসর কি করে পিতার মতো হয়, সুইটহার্ট?
মেহরিন উত্তর করে না। আদ্রিয়ান তাকে চেপে দাঁতে দাঁত চেপে ফের আওড়ায়—-
—নেক্সট টাইম বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খাবে। যাতে হাঁটুতে থাকা ব্রেইনটা মাথায় আসতে পারে, ইডিয়ট।
তীব্র রাগে কাঁপতে কাঁপতে কথাখানা বলেই মেহরিনকে একপ্রকার ছিটকে ফেলে দিলো আদ্রিয়ান৷ অতঃপর গটগট পায়ে ত্যাগ করলো সেই স্থান।
সুইটহার্ট পর্ব ১৩
অন্যদিকে হতভম্ব মেহরিনের কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠলো তীব্র অপমানে। তবুও তার মন আপাতত সেই কথাগুলোর চেয়ে বেশি দাগ কাটলো আদ্রিয়ানের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শগুলোতে। মেহরিনের শরীর শিরশির করে উঠলো। চোখ বুজে নিলো রমণী। বুকের ধুকপুকানি বাড়ছে বই কমছে না যেনো! পুরুষটি যে আচমকা এহেন একটা কান্ড করে বসবে তা কল্পনাতীত মেহরিনের। রমণী কেমন ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো৷
