চেকমেট ২ পর্ব ৩০
সারিকা হোসাইন
ক্লাসে লেকচার দিচ্ছে শাহরান।কিন্তু মন পড়ে আছে নিজের কেবিনে।বার বার হাত ঘড়িতে সময় দেখে চলেছে সে।সময় যেনো আজ একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে।চোখের চশমা খানা ভালো করে পরিষ্কার করে ঠেলে ঠুলে চোখে লাগিয়ে ঘড়িতে সূক্ষ্ম নজর নিবদ্ধ করলো অস্থির মানব।ভাবলো ঘড়িই বোধ হয় নষ্ট।কিন্তু দিব্যি কচ্ছপের গতিতে সেকেন্ডের কাটা দৌড়ে চলেছে।
শাহরানকে আজকের ক্লাসে এহেন অধৈর্য আর অস্থির দেখে একজন স্টুডেন্ট দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো —
“স্যার কোনো প্রব্লেম হয়েছে আপনার?”
শাহরান তাৎক্ষনিক মাথা নাড়িয়ে টাইয়ের নট ঢিলে করে মেকি হেসে বললো –
“নো,নাথিং,কিচ্ছু হয়নি।আপনারা পড়ুন ।
“কিন্তু কি পড়বো স্যার?পনেরো মিনিট হয়ে যাচ্ছে অথচ আপনি এখনো মূল লেকচারই স্টার্ট করেন নি।
স্টুডেন্টের কথায় থতমত খেলো শাহরান।ঝটপট একটা পৃষ্ঠা বের করে বোর্ডে ঘস ঘস করে একটা অংকের সূত্র লিখলো।পুরো মনোযোগ রোদের থেকে সরিয়ে শাহরান যখন অংকের দিকে ঝুকলো ঠিক সেই মুহূর্তে তার প্যান্টের পকেটে থাকা ফোন কেঁপে উঠলো।
শাহরান কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফুটিয়ে সূত্র নিয়ে আলোচনা করতে ব্যস্ত হলো কিন্তু মিনিট দুই না গড়াতেই পুনরায় ফোন কেঁপে উঠলো।শাহরান ক্লাস হোল্ড করে দরজার কাছে এসে পকেট হাতড়ে ফোন বের করলো।স্ক্রিনে রূপকথার নম্বর।মায়ের নম্বর দেখেই চিন্তার চিকন ভাঁজ পড়লো শাহরানের মসৃণ কপালে।সে দ্রুত ফোন কানে তুলে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে তার মায়ের ক্রন্দনরত আওয়াজ ভেসে এলো —
“তোমার নানা ভাই হার্ট অ্যাটাক করেছে।শিগগির হাসপাতালে এসো।”
নানা ভাই হার্ট অ্যাটাক করেছে কথা খানা শাহরানের মস্তিষ্কে ঝড় তুললো।সে নিজের চিন্তা শক্তি খুইয়ে ফেললো।এহেন ভয়ানক সংবাদে কি ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত তাও ভুলে গেলো। শাহরান কতক্ষণ স্তব্ধ রইলো তার হিসেব রইলো না। সম্বিৎ পেলো স্টুডেন্ট এর ডাকে।হুশ হতেই ক্লাস থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো শাহরান এরপর পার্কিং লটে।কোনো মতে গাড়ি বের করে হাইওয়েতে উঠেই স্পিড বাড়িয়ে ছুটলো হসপিটাল অভিমুখে।
শাহরানের বদ্ধ কেবিনে পরপর দুটো পিরিয়ড বসে বসে সময় কাটালো রোদ।কিন্তু মানুষটার ফিরে আসার নাম গন্ধ নেই। রোদ কক্ষ জুড়ে পায়চারি করলো কিছু সময়।নেড়েচেড়ে দেখলো টেবিলের উপর গুছিয়ে রাখা জিনিসপত্র।একাকী সময় আর কাটতে চায়না।শাহরানের সুইভেল চেয়ারটায় একটু আরাম করে বসলো রোদ।এরপর টেবিলে মাথা রেখে চোখ বুঝে পরে রইলো।দু চোখ উপচে জল গড়াতে চাইছে। মনে বিষণ্নতার কালো মেঘ। এতো করে রোদ মানুষটাকে ভালোবাসার স্বীকারোক্তি জানিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলো।অথচ নির্দয় মানব তাকে ক্ষমা টুকুন না করে পালিয়ে গেলো।খুব করে অভিমান হলো শাহরানের উপর রোদের।না চাইতেও টুপ করে দু ফোঁটা জল শুষ্ক কপোল ডিঙিয়ে চিবুকে এসে জমা হলো। রোদ শাহরানের ড্রয়ার থেকে একটা নোট প্যাড নিলো।এরপর সেখানে গোটা গোটা হাতের লিখায় লিখলো—
“কোন পন্থায় ক্ষমা চাইলে তা মনজুর হবে ?তুমি বিহনে প্রাণ গেলে খুশি হবে বুঝি?”
চিঠী খানা ল্যাপটপের উপর রেখে চেয়ারে হেলান দিলো রোদ ।ক্লান্ত মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বুজিয়ে আনলো চোখের পাতা। রোদ ক্ষণকালের জন্য চোখ বন্ধ করলো ।শীততাপ নিয়ন্ত্রণের শিরশিরে বাতাস মুহূর্তেই গভীর ঘুমে তলিয়ে নিলো তাকে।
ধীরে ধীরে ঘড়ির কাটা পাঁচের ঘরে পেরুলো।শেষ হলো ভার্সিটির সমস্ত কার্যক্রম।সবাই ফিরে গেলো যার যার বাড়িতে।পিয়ন ড্যানো সব কিছু চেক দিয়ে ক্লান্ত শরীরে ফিরে গেলো বাড়ির পথে।শুধু একাকী পড়ে রইলো ঘুমন্ত রোদ।কেউ তার খবর অবধি জানলো না।
মুখে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে স্যালাইন লাগিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে সুফিয়ান চৌধুরীকে।আপাতত বিপদ কেটে গিয়েছে।তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।সঠিক সময়ে হসপিটালে আনার কারনে এবারের যাত্রায় বেঁচে গিয়েছেন তিনি।তবে ভবিষ্যতে তাকে বিশেষ দেখভালের মধ্যে রাখতে হবে।কোনো ভাবেই তাকে উত্তেজিত হতে দেয়া যাবে না।রাখতে হবে একদম চিন্তামুক্ত।নয়তো দ্বিতীয়বার আর তাকে জীবিত ফেরত নিয়ে বাড়ি ফেরা যাবে না।
রুপকথা সেই দুপুর থেকে কেঁদেই চলেছে।এখনো তার কান্না থামছে না।শাহরান, সারফরাজ কেউ কোনো ভাবেই তার কান্না থামাতে পারছে না।বাবাকে হারিয়ে সে কীভাবে বেঁচে থাকবে সেটাই বলে বলে মুখ ঢেকে কেঁদে চলেছে সারাটাক্ষণ ধরে। সারফরাজ নিজেও ব্যথিত সঙ্গে ভীত।দুটো প্রিয় মানুষকে তারা ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে।বাকি আছেন শুধু শ্বশুর নামক বটগাছ।এই ছায়াটাও হারিয়ে গেলে রুপকথা,শাহরান সর্বোপরি সারফরাজ একদম নিঃস্ব হয়ে যাবে।এই মানুষটাকে ঘিরেই তো তারা এখনো হাসিখুশি ভাবে বেঁচে রয়েছে।
মিনিট বিশেক অতিবাহিত হতেই নার্স এসে জানালেন —
“ম্যাম স্যারের ঘুম ভেঙেছে।আপনাকে ডাকছে।
নার্সের থেকে সংবাদ পেতেই শাহরান দৌড়ে ভেতরে ঢুকলো।পেছন পেছন গেলো রুপকথা আর সারফরাজ। শাহরান তার নানা ভাইয়ের কেবিনে ঢুকেই সুফিয়ান চৌধুরীকে জড়িয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।অভিমান করে বললো _
“যদি তোমার কিছু হয়ে যেতো তবে আমরা কীভাবে বেঁচে থাকতাম বলো তো নানা ভাই? নিশ্চয়ই আজকাল ঔষুধ পত্র খেতে অনিয়ম করছো তাইনা?দাঁড়াও মাকে বলে তোমার ব্যবস্থা নিচ্ছি।
নাতির পাগলামিতে ঠোঁট এলিয়ে হাসেন সুফিয়ান চৌধুরী।এরপর বহু কষ্টে বলে উঠলেন —
“তোর বউ বাচ্চা না দেখে মোটেও কবরে যাচ্ছি না আমি।তুই দেখে নিস।এই বুড়োটার জান বড্ড শক্ত বুঝলি?একদম কৈ মাছের প্রানের মতো।
সারফরাজ সুফিয়ান চৌধুরী পাশের চেয়ারটায় বসে বিমর্ষ মুখে সুফিয়ান চৌধুরীর হাত চেপে সিক্ত গলায় বলে উঠলো —
“আমাকে আর কতো দৌড় করাবেন বাবা?আপনাকে ছাড়া আপনার মেয়েকে সামলানোর ক্ষমতা আমার আছে? কেনো একা একা বাইরে দৌড়াতে গেলেন আপনি বলুন তো?বাসায় কি গার্ডের অভাব ছিলো?
সুফিয়ান চৌধুরী চোখ মুখ কুচকে বলেন —
“ওসব বিদেশি মানুষ ভালো লাগে না বুঝলি?ওদের ইংরেজি শুনতে শুনতে কান পচে গেছে।আর সব সময় কেমন নজরবন্দি নজরবন্দি লাগে।বন্দুক টন্দুক নিয়ে পিছে পিছে ছুটে।মরার আগে এসব জঞ্জাল আর ভালো লাগে না।তাই তো একা একা শান্তি খুঁজি।
গোপনে সারফরাজ চোখ মুছে বলে —
“আমি প্রতিদিন ছুটবো আপনার পিছু পিছু।আপনার ভালো লাগবে?
সুফিয়ান চৌধুরী অবাক নয়নে সারফরাজের হাত চেপে শুধায়—
“তুই সত্যিই যাবি?
নিঃশব্দে মাথা নাড়ে সারফরাজ।সুফিয়ান চৌধুরী রূপকথাকে আঙুল তুলে হাসতে হাসতে বলে —
“এই হৃদয়হীন মানুষটা সত্যিই আমায় এতোটা ভালোবাসে মা?
রুপকথা আঁচলে মুখ গুঁজে কেঁদে বলে উঠে —
“আর কি করলে তোমার বিশ্বাস হবে বাবা?
সুফিয়ান চৌধুরী শাহরানের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে উঠে —
“বিশ্বাস করি।তাইতো বার বার পরখ করি।এই অনুভূতি তোরা বুঝবি না।ভালোবাসার কথা শুনতে কি যে ভালো লাগে!ভালোবাসার কাঙাল ছাড়া আর কেউ বুঝবে না এই অনুভূতি।
কথার মাঝেই ডক্টর এলেন।এসে জানালেন সকালেই সুফিয়ান চৌধুরীকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন।আর কোনো রিস্ক নেই।শুধু নিয়মিত পূর্বের ন্যায় ফলোআপে থাকতে হবে।
ডক্টর চলে যেতেই রুপকথা সারফরাজ আর শাহরানকে বলে উঠলো —
“তোমরা বাড়ি ফিরে যাও।আমি রাতে বাবার সাথে থাকবো।
সারফরাজ ঘোর প্রতিবাদ করে শক্ত গলায় বলে উঠলো —
“দুজনেই সারাদিন অনেক পরিশ্রম করেছো তোমরা।তোমরা বাড়ি যাও।আমার শ্বশুরের খেয়াল আমিই রাখতে পারবো।
সারফরাজের কথার উপর রুপকথা আর কথা বাড়ালো না।শহরণ মাথা নাড়িয়ে মা কে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।এরপর লিফট ধরে নিচে নামতে লাগলো।
রুপকথা ফাঁকা লিফটে শাহরানকে শুধালো —
“রুদ্রের মেয়ের সংগে দেখা হয়?
মায়ের মুখের এই প্রশ্নে সহসাই মুখের রঙ পাল্টে গেলো শাহরানের।গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফটের দরজা খুলতেই শাহরান রূপকথাকে ব্যস্ত গলায় বলে উঠে—
“আমি ইয়ং আংকেলকে কল করে তোমায় বাড়ি পৌঁছে দিতে বলছি।খুব জরুরি কাজ পরে গেছে মা।আমাকে এক্ষুনি যেতে হবে।নয়তো বড় সর্বনাশ হয়ে যাবে।
বলেই দৌড়ে নিজের গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিয়ে হুইল ঘুরিয়ে ছুটে চললো শাহরান।রুপকথা অবাক হয়ে ছেলের যাবার পানে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো —
“কি এমন জরুরি কাজ পড়লো এই সন্ধ্যে বেলা?”
দেয়াল ঘড়ির ঘন্টা বাজার শব্দে রোদের তন্দ্রা ভাব কাটলো।দ্রুত চোখ কচলে ঘড়িতে এক পলক নজর বুলালো রোদ ।ঘড়িতে সাড়ে ছয়টা বাজে।ঘড়ির সময় দেখে রোদ ঘাবড়ে উঠলো।সে নিজের ফোন বের করলো।উনিশ টা মিসড কল।তার মধ্যে এগারোটা রুদ্রের।ফোন সাইলেন্ট থাকায় বুঝতে পারেনি রোদ।বাড়িতে নিশ্চিত তান্ডব বইছে।তার মা বাবা হন্যে হয়ে তাকে খুঁজে চলেছে বোধ হয়।এবার কি উপায়?
রোদ লাফিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।মস্তিষ্ক সকালের ঘটনার জানান দিলো।সেই ঘটনা মনে পড়তেই বুক মুষড়ে উঠলো।তার মানে শাহরান আর ফিরে নি। রোদ বিড়বিড় করে বেদনায় ক্লিষ্ট গলায় আওরালো —
“তবে কি আমাকে ফেলেই সে চলে গেলো?
বেদনার নীল কষ্টে জর্জরিত হয়ে নিজের ব্যাগ নিয়ে দুর্বল পায়ে দরজার দিকে এগুলো রোদ।দরজার হাতল ধরে টান দিতেই বুক কেঁপে উঠলো তার।দরজা বাইরে থেকে আটকানো।রোদের গলা শুকিয়ে উঠলো।সে ফাঁকা ঢোক গিলে জিভ দিয়ে ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নিলো।এরপর দরজায় কড়া নাড়লো।মিনিট পাঁচেক দরজায় জোরে জোরে আঘাত করলো।কিন্তু লাভ হলো না। রোদ এবার চিৎকার করে ডাকলো —
“প্লীজ ওপেন the door, is anyone there?প্লীজ সেইভ মা। হ্যালো!
কিন্তু কোনো সাড়া এলো না কারোর। না কেউ বাড়িয়ে দিলো সাহায্যের হাত।শাহরানের চূড়ান্ত নিষ্ঠুরতা রোদের মনকে ভেঙে গুড়িয়ে দিলো।শাহরানের মনের দুয়ার তার জন্য চিরতরে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে ভেবেই দরজা ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠলো রোদ।সে দরজায় হেলান দিয়ে কাদতে কাদতে হাঁটু মুড়ে বসে গেলো আর বলতে লাগলো —
“আমি হেলায় হেলায় তোমাকে হারিয়ে ফেললাম ।আমার ভালোবাসার আতর্নাদ তোমার হৃদয় অবধি পৌঁছায় না ।আমি তোমায় সত্যি সত্যিই ভালোবাসি ।একবার আমায় সুযোগ দিয়ে দেখলে না তুমি।তুমি ছাড়া বেঁচে থাকা বড্ড কষ্টকর।এই কষ্ট উপশম হবে কীভাবে?”
ধীরে ধীরে ঘড়ির কাটা রাতের দিকে এগিয়ে চলছে। রোদ দরজা থেকে উঠে নিজের ফোন থেকে তার বাবাকে কল করতে চাইলো।সে ফোন হাতে নিয়ে রুদ্রের নম্বর ডায়াল করার আগেই চার্জ শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে গেলো। রোদ নিজের ভাগ্যের পরিহাসে নিজেকে তাচ্ছিল্য করলো।
রোদ চারপাশে তাকিয়ে কক্ষ থেকে বের হবার পথ খুঁজলো।কিন্তু বের হবার কোনো পথ কোথাও অবশিষ্ট নেই। রোদ এগিয়ে গেলো জানালার দিকে । থাই কাচে হাত বাড়াতেই কিছু একটা আঁচড় কাটার মতো অদ্ভুত শব্দ করলো।ভয়ে ছিটকে সরে এলো রোদ।বুকে ধুকপুক কাপন উঠলো।কিন্তু ধীরে ধীরে শব্দের মাত্রা বাড়লো।এবার অশিরির ভয়ে রোদের হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলো সেই সাথে প্রচন্ড খিদে আর পিপাসায় পেটে গুড়গুড় করে ডেকে উঠলো ।পেট চেপে ধরে কক্ষের কোণে দেয়ালে হেলান দিয়ে সেটে দাঁড়িয়ে রইলো রোদ।জানালার কাছে অদ্ভুত কিছু ভয়ানক সুর তুলে ডাকতে লাগলো। মন বললো আজই জীবনের শেষ রাত।ওপাশের হিংস্র জন্তু তাকে আজ নিশ্চিত খেয়ে নেবে।প্রেম নিবেদন করতে এসে মৃত্যুর ফাঁদে ফেঁসে গিয়েছে ভেবেই নিঃশব্দে মুখ চেপে কেঁদে উঠলো রোদ।যাতে ওপাশের ক্ষুধার্ত জন্তু টের না পায় ভেতরে কোনো প্রানের অস্তিত রয়েছে।
রোদ মুখ চেপে চোখ বুঝে বিধাতার কাছে জীবন ভিক্ষা চাইতে লাগলো ক্রমাগত।এমন সময় করিডোরে খট খট শব্দ তুলে ছুটে আসছে কেউ। রোদ নিস্তব্ধ একাকী এই রাতে আরও গুটিয়ে গেলো।ধীরে ধীরে পদ্চ্ছাপ প্রকট হলো। রোদ মুখ ছেড়ে কান চেপে ঠোঁট টিপে কেঁদে বুক ভাষালো।
এমন সময় সে টের পেলো দরজার সামনে পদ জোড়া থেমে গেলো।ভয়ার্ত চিত্ত,ভাঙ্গা মন আর জলে ভেজা চোখ নিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে রইলো রোদ।বুকের ধুকপুকানি বাড়লো সহস্র গুণ।
চেকমেট ২ পর্ব ২৯
“কে আছে দরজার ও পাড়ে?
রোদের বিষন্ন ভাবনার মাঝেই খুট করে খুলে গেলো দরজা ।দরজা খুলতেই শাহরানের অস্থির ভয়ার্ত মুখের পানে নজর নিবদ্ধ হলো রোদের।কেঁদে কেটে মেয়েটা চোখ মুখ লাল টমেটোর মতো করে ফেলেছে।এলোমেলো চুল আর কান্না ভেজা বুক।
মেয়েটার এহেন বিধ্বস্ত হালে লম্বা শ্বাস ফেললো শাহরান।এরপর ছুটে এসে শক্ত আলিঙ্গনে রোদকে বক্ষমাঝে চেপে কম্পিত গলায় বলে উঠলো —
“আমি বড্ড অন্যায় করে ফেলেছি।এর জন্য আমাকে ঠিক কি কি শাস্তি পেতে হবে?
