রুহ এ ইশক পর্ব ২৩
আনান রোজ
উযাইনের থেকে ওর ঘাড়ের ট্যাটুর পেছনের, মিস্ট্রি টা যে, “I…for Uzyan’s Little Bride… In shira Kainat” — এটা শুনে ইনশিরা যেন এক অনন্য ও অপার্থিব দুনিয়ায় হারিয়ে গেল ! তার হৃদস্পন্দন থমকে দাঁড়াল। সে তীব্র বিস্ময়ে আর এক বুক গভীর ভালোবাসার আতিশয্যে উযাইনের দিকে তাকিয়ে কোনো কথাই বলতে পারল না। এই ভয়ংকর পজেসিভনেস ওর পুরো অস্তিত্বকে গ্রাস করে নিয়েছিল । ইনশিরার গোলগাল ফর্সা গাল, কান আর ঘাড় এক নিমেষে তীব্র লজ্জায় একদম লাল টমেটো হয়ে উঠল।
উযাইন পিচ্ছির এই চূড়ান্ত লাজুক রূপটা দেখা মাত্রই নিজের ভেতরের সমস্ত অবদমিত পুরুষালী তৃষ্ণা আর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলল। সে আর এক ইঞ্চি দূরত্বও সহ্য করতে পারল না। সে নিজের একটা বড় চওড়া হাত বাড়িয়ে ইনশিরার ফর্সা গলা আর চিবুকটা পরম মায়ায় আগলে ধরে ওর মুখটা আলতো করে ওপরের দিকে উঁচিয়ে ধরল প্রফেসর উযাইন আবরার নিজের শরীরটা সম্পূর্ণ ঝুঁকিয়ে দিয়ে— নিখুঁত এক উন্মাদনায় ইনশিরার মায়াবী নরম ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটের পূর্ণ দখলে নিয়ে নিল!
ঠোঁটের সেই চেনা তপ্ত ও বন্য ছোঁয়া লাগামাত্রই ইনশিরার পুরো শরীরে যেন এক তীব্র নিষিদ্ধ বৈদ্যুতিক শকের মতো শিহরণ বয়ে গেল। সে উযাইনের শুভ্র টিশার্টের কলারটা নিজের ছোট ছোট আঙুল দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরল। উযাইন লম্বায় পাক্কা ছয় ফিটের ওপর হওয়ায় ইনশিরা ওনার ওই তীব্র চুম্বনের গভীর নাগাল পাওয়ার জন্য—নিজের ছোট ছোট পায়ের পাতা জোড়া ফ্লোরের কার্পেট থেকে কয়েক ইঞ্চি উঁচিয়ে নিল ইনশিরার এই ছোট্ট আকুলতা আর ভালোবাসার তীব্র সাড়া পেয়ে উযাইন এক্কেবারে বেসামাল হয়ে উঠল।
উযাইন ইনশিরার এই পরম আত্মসমর্পণ দেখে নিজের দুই বলিষ্ঠ বাহুর শক্তি বাড়িয়ে এক ঝটকায় ওকে সোজা নিজের কোলের ওপর তুলে নিল ইনশিরা উযাইনের গলাটা দুই হাত দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে ওর ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে রাখল উযাইন ওকে কোলে নিয়েই ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে নিজের বেডরুমের দিকে। রুমে ঢুকে সে ইনশিরাকে খুব আলতো করে রাজকীয় নরম বিছানা বা বেডের ওপর শুইয়ে দিল। উযাইন নিজেও ইনশিরার একদম গায়ের ওপর ঝুঁকে এসে ওর ঠোঁটে আর গালের খাঁজে বেশ কিছুক্ষণ, গভীর উন্মাদনা প্রকাশ করতে লাগল ।
রোমান্সের তীব্র উত্তাপে উযাইনের নিজের শরীর তখন কামনায় কাঁপছিল। সে এক বুক নেশাতুর নিশ্বাস ফেলে বিছানার ওপর বসেই এক ঝটকায় নিজের গায়ের সাদা টিশার্টটা খুলে ফ্লোরে ছুড়ে ফেলে দিল! তার সেই ফরসা সুগঠিত বুক আর হাতের রাজকীয় কালো ট্যাটুটা অন্ধকারের মাঝে স্পষ্ট হয়ে উঠল। ইনশিরার নিশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল, সে কিছু টা ভয় পেল, বোধহয়! উযাইন আবার ইনশিরার একদম কাছাকাছি গিয়ে ওর উন্মুক্ত কোমরে হাত জড়িয়ে আরও কিছুক্ষণ তীব্রভাবে ঝুকে এলো ওর দিকে, চোখ জোরা নেশায় তলিয়ে যাচ্ছে উযাইনের….
বেশ কিছুক্ষনের বেসামাল উন্মাদনার পরমুহূর্তেই সে নিজের সমস্ত পুরুষালী আত্মনিয়ন্ত্রণ টেনে ধরল। সে ইনশিরার কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে এক বুক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিসফিসাল—
—”আজ এর বেশি আর কোনোভাবেই না,ইনশিরা! তুমি এখনও ছোট, সোনা! আমার এই তীব্রতা সইতে পারবে না!”
ইনশিরা ওনার এই “ছোট” বলার লাজুক চিমটি আর উযাইনের শার্টহীন ফরসা সুগঠিত বুকের উত্তাপ পেয়ে এক মহাসমুদ্রের লজ্জায় পুরো ডুবে গেল উযাইন যখন ইনশিরার ওপর থেকে সরে বিছানা ছেড়ে উঠে যেতে নিল, ইনশিরার মাথায় হঠাৎ ভেসে উঠল মেয়েদের ক্রাশ খাওয়ার কথা গুলো তার ভেতরের বাঘিনী রূপটা আবার ঈর্ষায় রি-রি করে জ্বলে উঠল। ইনশিরা বিছানার ওপর আলতো করে উঠে বসে, উযাইনের শার্টহীন পিঠের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল—
—”তা আগামীকালকেও আপনার পিএইচডির ক্লাস নিতে যেতে হবে?”
—”হুম, পুরো এক সপ্তাহ তো ওখানেই সেশন নিতে হবে বউ, কালকেও ক্লাস আছে।”
উযাইনের উত্তর শুনে, ইনশিরার বিছানার ওপর হাঁটু গেড়ে এক লাফে এগিয়ে গিয়ে উযাইনের চওড়া ফরসা কাঁধ আর গলার একপাশে নিজের মুখটা ঝুঁকিয়ে নিল তারপর কোনো সুযোগ না দিয়ে—নিজের ধারালো ছোট ছোট দাঁত দিয়ে উযাইনের গলায় এক তীব্র গভীর কামড় বসিয়ে দিতে লাগল!
উযাইনের ফরসা গলার চামড়ায় ইনশিরার আকস্মিক দাঁতের তীব্র কামড় লাগামাত্রই প্রফেসরের পুরো শরীরে যেন এক ৪৪০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক আছড়ে পড়ল! তার গায়ের প্রতিটা স্নায়ু অবশ হয়ে এক তীব্র অস্বস্তি আর আদিম কামনার চরম মাদকতায় কাঁপতে লাগল । উযাইন নিজের একটা হাত গলায় চেপে ধরে, চোখ দুটো বন্ধ করে এক তীব্র নেশাতুর ও থরথর করে কাঁপানো গলায় বলে উঠল—
—”কী… কী করছ কী এসব, ইনশিরা?! লুক… প্লিয স্টপ ! আমি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলব তবে কিন্তু তোমার নিজেরই বিপদ হবে!
ইনশিরা আজ প্রফেসরের কোনো ওয়ার্নিং পাত্তাই দিল না। সে উযাইনের গলার একপাশে কামড় ছাড়ার বদলে ওপাশে আরও একটা নতুন গভীর বাইট বসিয়ে দিয়ে নিজের অফিশিয়াল মালিকানার সিল মেরে দিল !
ইনশিরার এই অনড় অবাধ্যতা আর তীব্র উস্কানি দেখা মাত্রই প্রফেসরের মনের ভেতরের সেই ভয়ংকর অবদমিত শয়তান পুরুষটা এক সেকেন্ডে আক্ষরিক অর্থেই পুরোপুরি বেসামাল ও উন্মাদ হয়ে উঠল তার আইস ব্লু চোখ দুটো এক আদিম তৃষ্ণায় জ্বলজ্বল করে উঠল। উযাইন চোয়াল শক্ত করে, ঠোঁটের কোণে এক বন্য চতুর হাসি ফুটিয়ে বলল
—”অনেক হয়েছে পিচ্চি…! আর কোনো ছাড় নেই! এবার তাহলে প্রতিশোধ নেওয়ার পালা!”
—কি কর…করবেন?
ইনশিরার কথায়, উযাইন উত্তর না দিয়ে এক ঝটকায় নিজের দুই বলিষ্ঠ বাহুর শক্তি বাড়িয়ে ইনশিরাকে এক টানে নিজের নিচে বিছানার ওপর ধপাস করে আছাড় দেওয়ার ভঙ্গিতে ফেলে দিল! সে ইনশিরার দুটো হাত নিজের একহাতে মাথার ওপর শক্ত করে লক করে চেপে ধরল। তারপর নিজের শার্টহীন ভারী শরীরটা ইনশিরার ওপর পুরোপুরি সঁপে দিয়ে—কোনো রকম মায়া না রেখে ইনশিরার ফর্সা গলা, কলারবোন আর নরম কাঁধের চামড়ার ওপর নিজের ঠোঁট আর দাঁত ডুবিয়ে অনবরত বন্য ও তীব্র গতিতে কা*মড় বসাতে লাগল!
উযাইন ইনশিরার গলার খাঁজে নিজের মুখ ডুবিয়ে, রাগে ও কামনায় ফুঁসতে ফুঁসতে বলল—
—”৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তোমার এই কাম*ড়ের অত্যাচারের তীব্র বিষ আমি সহ্য করে এসেছি! আজ সবগুলোর হিসাব আমি সুদে-আসলে এক রাতে উসুল করব!”
উযাইনের এই অতর্কিত, বন্য ও তীব্র পুরুষালী তৃষ্ণার কামড় লাগামাত্রই ইনশিরা যন্ত্রণায় আর এক অপার্থিব আদিম সুখে প্রতিবার বিছানার চাদর খামচে ধরে ব্য*থায় কোঁকড়ে উঠছিল। তার পুরো ফর্সা শরীরটা উযাইনের ওই তীব্রতায় থরথর করে কাঁপছিল, কিন্তু উযাইনের আজ কোনো দুনিয়াবি খেয়াল নেই। সে এক অদ্ভুত অন্ধ ঘোরের মধ্যে ডুবে গিয়ে ইনশিরার পুরো শরীরে নিজের ভালোবাসার ক্ষত আর আধিপত্যের রাজকীয় সিল বসিয়ে যাচ্ছিল, আর পুরো বেডরুমে তখন কেবল দুজনের অনিয়ন্ত্রিত ও তীব্র নিশ্বাসের ওঠানামার আওয়াজ এক বন্য পূর্ণতার গল্প বুনে যাচ্ছিল।
পরদিন সকাল।
প্রফেসর উযাইন আবরার লেকচার শেষ করে ডায়েরিটা হাতে নিয়ে মাত্র নিজের পার্সোনাল কেবিনের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই ওনার ডিপার্টমেন্টের পিএইচডি করা এক অত্যন্ত মডার্ন ও সুন্দরী বিদেশি মেয়ে—এলিনা, হুট করে এসে উযাইনের পথ আটকে দাঁড়াল । সে নিজের ঠোঁটের কোণে এক চতুর, ফ্লার্টিং হাসি ফুটিয়ে পড়াশোনার উছিলায় উযাইনের সাথে অনর্গল কথা বলতে শুরু করল।
ইনশিরা উযাইনের কাছেই আসছিল। পরনে তার একটা ড্যাশিং ব্লু ডেনিম শার্ট আর চুলগুলো খুব সুন্দর করে একটা অগোছালো মেসি ব্যান করে আটকানো। ইনশিরা খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে—এই এলিনাই হলো সেই মেয়ে, যে গত ২ বছর ধরে তার শখের বর প্রফেসরের ওপর চোখ গেঁড়ে বসে আছে এবং ওনার পিএইচডির ক্লাসের সুযোগ নিয়ে ওনার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করে!
সে দু হাত বাড়িয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে দ্রুত এগিয়ে গেল এবং উযাইনের কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক ঝটকায়— উযাইনের চওড়া গলাটা নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
উযাইন তীব্রভাবে চমকে ওঠার আগেই, ইনশিরা নিজের পায়ের পাতা জোড়া ফ্লোর থেকে সামান্য উঁচিয়ে নিয়ে এক পরম মায়ায় ও তীব্র অধিকারে—নিজের নরম ঠোঁট জোড়া খুব আলতো করে উযাইনের ঠোঁটের ওপর ছুঁইয়ে দিল, উযাইনও রেসপন্স করল।
এই বিদেশি ইউনিভার্সিটির পরিবেশে, কাপলদের মধ্যে এমন হালকা কি*স করাটা অত্যন্ত ক্যাজুয়াল ও স্বাভাবিক বিষয় হলেও, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এলিনার মুখের সমস্ত রঙ এক সেকেন্ডে উধাও হয়ে গেল! সে চরম বিরক্তিতে নিজের মুখটা এক্কেবারে কুঁচকে ফেলল।
উযাইন নিজের ঠোঁটে ইনশিরার এই অতর্কিত ভালোবাসার ছোঁয়া পেয়ে মনে মনে খুশিতে লাফাচ্ছে। সে ইনশিরার কোমরটা একহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে এলিনার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল—
—”Meet my wife, Inshira Abrar!
এলিনা উযাইনের মুখ থেকে এই ‘ওয়াইফ’ শব্দটা শোনামাত্রই আক্ষরিক অর্থেই এক্কেবারে আকাশ থেকে পড়ল সে নিজের চোখ দুটো অবিশ্বাস্যভাবে বড় বড় করে উযাইনের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলল—
—”সরি, প্রফেসর…! but you married? আমরা পুরো ডিপার্টমেন্টের সবাই তো জানতাম আপনি…!”
—”Yes…we are married Since last three years! আচ্ছা, অলরেডি সময় পার হয়ে গেছে ক্লাসে যাও!”
বলে উযাইন ইনশিরার নরম হাতটা নিজের শক্ত বলিস্থ হাতের মুঠোয় জড়িয়ে ধরে লম্বা লম্বা পা ফেলে করিডোর দিয়ে নিজের কেবিনের দিকে এগিয়ে গেল ইনশিরা উযাইনের পাশে হাঁটতে হাঁটতে এলিনার ওই ফ্যাকাশে ফেসটার দিকে তাকিয়ে এক চোখ টিপল।
করিডোরের এই চরম অপমানের পর এলিনা রাগে আর ঈর্ষায় এক্কেবারে ফুঁসতে ফুঁসতে ইনশিরার পিছু নিল। কিছুক্ষণ পর, ইনশিরা যখন ওয়াশরুমের বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হাত ধুচ্ছিল, এলিনা হুট করে ভেতরের দরজা ঠেলে তীব্র গতিতে ওর ঠিক পেছনের দিকে এসে দাঁড়াল।
এলিনা আয়নায় ইনশিরার মেসি ব্যানের দিকে তাকিয়ে, অত্যন্ত ধারালো ও হিংস্র গলায় বলল—
—”তোমার বয়স কত, হ্যাঁ? পিচ্চি একটা বাচ্চা মেয়ে তুমি!”
ইনশিরা ওনার দিকে বিন্দুমাত্র না তাকিয়ে, খুব শান্ত ও ক্যাজুয়াল মুডে টিস্যু দিয়ে নিজের হাত মুছতে মুছতে ঠান্ডা গলায় জবাব দিল—
—”১৯ এ পা রাখলাম প্রায় একমাস হবে…কেন কোনো সমস্যা?”
এলিনা এক তাচ্ছিল্যের বাঁকা হাসি ফুটিয়ে ইনশিরার গায়ের ডেনিম শার্টের কলারের দিকে তাকিয়ে খোঁচা দিল—
—”নিউ ১৯ ?! হা হা! তোমাদের দুজনের মধ্যকার এজ-গ্যাপ কত, তা তোমার ওই ছোট্ট মগজে একটুও আন্দাজ আছে, মেয়ে?
ইনশিরা এবার টিস্যু টা ফেলে ধীর পায়ে পুরো শরীরটা ঘুরিয়ে এলিনার একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। সে নিজের দুই হাত কোমরে রেখে এক মরণজয়ী অহংকার নিয়ে বলল—
—”২০ বছরের এজ-গ্যাপ আমাদের… আই নো ইট ভেরি ওয়েল! তা এটা নিয়ে তোমার এত মাথা ব্যথার কী কারণ?”
এলিনা এক কদম এগিয়ে এসে ইনশিরার চোখ বরাবর নিজের আঙুল উঁচিয়ে ভয়ংকর থ্রেট দিয়ে বলল—
—”আমি প্রফেসর আবরারকে গত ২ বছর ধরে লাইক করি! ওকে এখনই ছেড়ে দাও তুমি, অন্যথায় তুমি কিন্তু জানো না আমি কে! আমার বাবা যদি জানতে পারে যে একটা পিচ্চি মেয়ে আমাকে ডিস্টার্ব করছে, তবে তোমার ক্যারিয়ার এক সেকেন্ডে শেষ হয়ে যাবে। আর তখন প্রফেসর আবরার নিজেই ওনার লাইফ থেকে বের করে দেবে, দেখে নিও!”
—”ট্রাই করে দেখতে পারেন, মিস! আই ট্রাস্ট হিম মোর দেন মাই সেল্ফ!”
—”লিসেন গার্ল, ইউ আর জাস্ট আ….”
এসব অধিকার খাটানো আর বাবার ক্ষমতা তুলে ব্ল্যাকমেইল করার সস্তা নেকামি দেখা মাত্রই ইনশিরার মুখের সেই তাচ্ছিল্যের হাসিটা এক সেকেন্ডে এক ভয়ংকর বাঘিনীর রুদ্রমূর্তিতে রূপ নিল সে আর মুখে কোনো কথা বলল না, কোনো রকম তর্ক করার সুযোগই দিল না এলিনাকে। সে এক কদম তড়িৎ গতিতে এগিয়ে গেল এবং নিজের হাতটা শক্ত করে মুঠো করে—এক্কেবারে বাতাসের গতিতে এলিনার সুন্দর ফর্সা মুখ বরাবর আস্ত একটা জোরালো ঘুষি মেরে বসল!
—”আহহহহ…!”
এলিনা আচমকা ইনশিরার এই ভয়ংকর বন্য শারীরিক আক্রমণ আর বাঘিনীর মতো রূপ দেখে মুহূর্তেই নিজের টাল সামলাতে পারল না ! সে তীব্র যন্ত্রণায় নিজের নাকে হাত চেপে ধরে ছিটকে গিয়ে ওয়াশরুমের পিচ্ছিল টাইলসের ফ্লোরের ওপর ধপাস করে আছাড় খেয়ে পড়ে গেল! তার নাক থেকে এক ফোঁটা লাল রক্ত গড়িয়ে পড়ল।
কিন্তু ইনশিরা সেখানেই থেমে থাকল না। তার ভেতরের বাঘিনী রূপটা আজ এক চরম জেদে রূপ নিয়েছে। সে এক কদম এগিয়ে গিয়ে ফ্লোরে পড়ে থাকা এলিনার দিকে ঝুঁকে পড়ল। তারপর নিজের ফর্সা হাতের আঙুলগুলো বাড়িয়ে—এক ঝটকায় এলিনার সুন্দর করে সেট করা সোনালী চুলগুলো শক্ত করে মুচড়ে ধরল!!
ইনশিরা এলিনার চুল মুচড়ে ধরে ওর মুখের একদম কাছাকাছি নিজের চোখ দুটো এনে, বরফ শীতল ভয়ংকর গলায় বলল—
—”লিসেন টু মি ভেরি কেয়ারফুলি, এলিনা অর হোয়াট এভার ইউ আর! আমি তুমার মত কোনো সস্তা বা অরডিনারি পারসন নই! কল মি মিসেস আবরার! আন্ডারস্ট্যান্ড?
বলে, ইনশিরা কিছুক্ষন এলিনার দিকে তাকিয়ে রইল। এলিনা রাগে কিছু বলতে নিলে ইনশিরা নিজের অন্য হাতে এলিনার গাল গুলো চেপে ধরে, আবার বলল —
—জাস্ট শাট ইয়োর ফা*কিং মাউথ আপ, সুইটি! এন্ড গেট দ্যাট ড্যাম থিং ইন ইয়োর ফা*কিং হেড! ”
বলেই ইনশিরা এক ঝটকায় এলিনার চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে শাট টা ঠিক করে নিল। আর ওর হাতে পা রেখে হাল্কা চাপ দিয়ে, ফ্লোরে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা এলিনাকে এক তীব্র তাচ্ছিল্যের চাউনি ছুড়ে দিয়ে হনহনিয়ে ওয়াশরুমের দরজা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে চলে গেল।
সময় গড়িয়ে দুপুর পার হয়ে বিকেল নেমে এলো। ইনশিরা ইউনিভার্সিটির ক্লাস শেষ করে উমায়েরকে সাথে নিয়ে ক্যাব ধরে বাসায় চলে এসেছিল। ওদিকে উযাইন ইউনিভার্সিটির কাজ শেষ করে, ওর বাবার অফিসে গিয়েছিল কিছু জরুরি বিজনেস ডিল কাগজপত্রের কথা বলতে।
সারাদিন ধরে ইনশিরা আর উমায়ের—দুজন মিলে লিভিং রুমে আর ব্যাকইয়ার্ডের বাগানে বেশ আনন্দ আর খুনসুটি করতে করতে লেগো ব্লক দিয়ে খেলা করল।
দেখতে দেখতে ঘড়িতে রাত তখন প্রায় ১১টা বাজল। পুরো লন্ডনের বুক জুড়ে এক অপার্থিব, নিঝুম নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। উযাইন বাইরে থেকে নিজের সব অফিশিয়াল কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে, ডিনার করে লিভিং রুমের সোফাটায় ল্যাপটপটা কোলে নিয়ে কিছু জরুরি ইমেইল চেক করছিল। আর ইনশিরা ওনার একদম গা ঘেঁষে, ওর চওড়া কোমরটা দুই হাত দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওনার কোলের ওপর পরম শান্তিতে মাথা রেখে শুয়ে ছিল।
উযাইন টাইপ করতে করতে বারবার আড়চোখে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে থাকা ইনশিরার ওই মায়াবী ফেসটার দিকে তাকাচ্ছিল। ড্রিম লাইটের আবছা আলোয় সে দেখল—ইনশিরার ফর্সা গলার লাল টকটকে বন্য লাভ বাইটের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে জ্বলজ্বল করছে!
উযাইন আর নিজের লোভ সামলাতে পারল না। সে ল্যাপটপটা একপাশে সরিয়ে নিজের ডান হাতের আঙুলের ডগা দিয়ে ইনশিরার গলার সেই মায়াবী ক্ষতগুলো খুব আলতো করে স্পর্শ করল। ওনার সেই তপ্ত পুরুষালী ছোঁয়া লাগামাত্রই ইনশিরা পুরো শরীরে তীব্র এক শিহরণ নিয়ে হঠাৎ হালকা কেঁপে উঠল।
উযাইন ইনশিরার কপালে ছড়িয়ে থাকা মেসি ব্যানের চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে, এক চরম নেশাতুর ও কাতর গলায় বলল—
—”হোয়াই আর ইউ সো বিউটিফুল…?”
ইনশিরা ওনার এই আচমকা নেশালো প্রশংসা শুনে লজ্জায় আর কোনো কথাই মুখ ফুটে বলতে পারল না। সে উযাইনের শার্টের ভাজে মুখটা ডুবিয়ে দেয়। উযাইন ইনশিরার সেই লাজুক ফেসটার দিকে তাকিয়ে নিজের মনে মনে এক প্রকাণ্ড তৃপ্তি নিয়ে ভাবল—
—” এই ছোট্ট দেহে যে, কখনও আমার নিজের দেওয়া তীব্র ভালোবাসার বন্য স্পর্শের দাগ থাকবে। দুদিন আগেও আমার দূরতম কল্পনা ছিল!”
উযাইন ইনশিরার চিবুকটা নিজের হাত দিয়ে উঁচিয়ে ধরে ওর মায়াবী চোখ দুটোর দিকে নিজের সেই বিরল আইস ব্লু চোখ দুটো নিবদ্ধ করল। তার চোখ দুটো তখন এক অজানা আশঙ্কায় পুরোপুরি ছলছল করে উঠল। উযাইন খুব নিচ, ভাঙা ও কাতর কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল—
— “লিটল বার্ড…ইদানীং আমার বড্ড বেশি ভয় লাগে! এই চাঁদের আলো, এই নিঝুম রাতের তোমায় জড়িয়ে থাকা পরম মুহূর্তগুলো দেখলে আমার কেমন যেন মনে হয়—হুট করেই সব মুহূর্ত, ফুরিয়ে যাবে! যেন চোখ মেললেই স্বপ্ন টা ভেঙে যাবে, আর আ… আমি আবার আমার সেই পুরোনো নরকীয় একাকীত্বের অন্ধকারে ডুবে যাব! তোমার সাথে কাটানো আমার লাইফের এই প্রতিটা সেকেন্ড আমার জন্য প্রাইসলেস! আর কোনো দূরত্ব বা নিষ্ঠুরতা সহ্য করতে পারব না! গত তিনটা বছর আমি তোমাকে ছাড়া যে মরণ যন্ত্রণায় তিলতিল করে পার করেছি, তা শুধু আমার এই একলা বুকটাই জানে!”
ইনশিরা উযাইনের চোখের এই চূড়ান্ত ভালোবাসার কাতর রূপ দেখে আর এক ইঞ্চি দূরত্বও রাখল না। সে একটু উঁচুতে উঠে এসে নিজের নাকটা খুব পরম মায়ায় উযাইনের তীক্ষ্ণ সুদৃশ্য নাকে আলতো করে ঘষে দিয়ে এক মরণজয়ী অমোঘ কণ্ঠে ভরসা দিল—
রুহ এ ইশক পর্ব ২২
—”আমি আমার এই শরীরের শেষ নিশ্বাস থাকা পর্যন্ত শুধু আপনাকেই ভালোবাসব উযাইন সাহেব…!”
উযাইন ইনশিরার কথা শুনে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে এক ঝটকায় ওর দুই ফরসা গাল শক্ত করে নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরল। সে নিজের চোয়াল শক্ত করে এক তীব্র পজেসিভ ও বন্য অধিকারবোধের গলায় বলল—
—”এই অনুভূতি যদি কোনোদিন ফুরিয়ে যায় ইনশিরা…তবে মনে রেখো, তোমার জন্য এই দুনিয়াটা মুহূর্তেই ছোট হয়ে যাবে! তোমাকে আমি চিরকালের জন্য এই ঘরে শিকলবন্দী করব। কারণ তুমি শুধু এই উযাইন আবরারেরই!
