Home বাঁধনহারা প্রেম বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১৪

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১৪

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১৪
shanta moni

রোদের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। চোখ উল্টে যায়। মনে হচ্ছে এখনি মরে যাবে। শুভ্র ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। রোদ কাশতে কাশতে বলে।
রোদ: ছেড়ে কেনো দিলেন মেরেই ফেলতেন। এই যন্ত্রণা সহ্য করার থেকে মরা যাওয়া ভালো।
শুভ্র কিচ্ছু বলছে না, রোদ দরজা দিয়ে আবার বেড় হয়ে যেতে নেয়। শুভ্র আবার হাত টেনে ধরে রোদ রেগে গিয়ে বলে।

রোদ: ছাড়ুন আমাকে। আমাকে যেতে দিন আমি থাকতে চাই না, আপনার এই খানে।
শুভ্র রাগি চোখে তাকিয়ে আছে, তারপর বলে।
শুভ্র : বাড়িতে যাওয়ার জন্য এতো উতলা হচ্ছিস কেনো। ওই আকাশ কে বিয়ে করার জন্য নাহ।
রোদ রেগে গিয়ে বলে
রোদ: হ্যা বিয়ে করার জন্য, এখন হাত ছাড়ুন যেতে দিন।
শুভ্র রোদকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় উপর ফেলে দেয়। তাঁরপর বলে।
শুভ্র: খুব সখ বিয়ে করার নাহ, আমি তোর সখ মিটচ্ছি ওয়েট।
রোদ: হ্যা খুব সখ আমার। আর আমি ওই আকাশকে বিয়ে করবো সমস্যা আপনার।
শুভ্র রেগে গিয়ে রোদকে বিছানা সাথে চেপে ধরে গাল চেপে ধরে বলতে থাকে।
শুভ্র: আর একটা বার আকাশের নাম মুখে নিবি তো তোকে যানে মেরে দিব।
শুভ্র রাগে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। শুভ্র যেতেই রোদ বিছানার উপর বসে ডুকরে কেঁদে উঠে।
সে শুভ্র মুখের উপর জবাব দিলেও তার ভিষন ভয় করছে। না জানি কি করে। জীবনে কল্পনা করেনি তাকে শুভ্র এই ভাবে তুলে নিয়ে আসবে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নিয়তি তাকে কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
সে এখন কোথায় যাবে।
প্রায় এক ঘন্টা পর শুভ্র রুমে আসে কিছু না বলেই। রোদের হাত ধরে টানতে টানতে নিচে নিয়ে যায়। সোফায় একজন উকিল আর সাথে হুজুর টাইপ একটা লোক বসে আছে।
সাথে শুভ্রের এসিস্ট্যান্ট রবিন। রোদকে টেনে এনে সোফায় বসায় রোদের কিছুই যেনো মাথায় ডুকছে না। হটাৎ শুভ্র গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে। কাগজ পত্র সব রেডি। পাশে থেকে রবিন বলে। →জ্বী স্যার
উকিল কাগজ সামনে দিতেই শুভ্র সাথে সাথে সাইন করে দেয়। বিপত্তি বাজে রোদকে নিয়ে সে কোনো ভাবেই সাইন করবে না।শুভ্র রেগে গিয়ে রোদের মাথায় বন্দুক ধরে বলে।

শুভ্র: ওকে ঠিক আছে, সাইন যখন করবি না, তো এই খানে তোর জীবন শেষ।
এতক্ষণ শুভ্রের মুখে মুখে তর্ক করলেও রোদ এখন ভয়ে সিঁটিয়ে যায়। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। শুভ্র রাগে গর্জে উঠে বলে। ২ মিনিট টাইম দিলাম সাইন কর। তা না হলে এখানে সবার লাশ পড়বেই। কাজি সাহেব উকিল সবাই ভয়ে কেঁপে ওঠে। রোদ থর থর করে কাঁপছে, সে ভালো করেই যানে শুভ্র তাকে ভালোবেসে বিয়ে করছে না। নিজের রাগ আর জেদের বসে এই সব করছে। আর তার সারাজিবন নরক বানাবে এই জন্য। রোদ কাঁপা কাঁপা হাতে সাইন করে দেয়।

কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করে। শুভ্রকে কবুল বলতে বললে শুভ্র সাথে সাথে কবুল বলে দেয়। কিন্তু রোদের মুখ বন্ধ চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে বলে।
শুভ্র: ইসলামের শরিয়ত মোতাবেক তুই আমার অনেক আগে থেকেই আমার বউ।এখন এতো ডং না করে কবুল বল। আর না বল্লেও কিছু যায় আসবে না।এখন কবুল বলবি নাকি সারাদিন এখানে বসে থাকবি।
রোদ ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। তাঁরপর আস্তে করে কবুল বলে দেয়। শুভ্র বাঁকা হাসে রোদের হাত ধরে টেনে রুমে দিকে নিয়ে যায়। রুমে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে বলে।
শুভ্র: যদি ভেবে থাকিস তোকে আমি স্বামী অধিকার দিব। তাহলে ভুল তোর জীবন নরক বানানোর জন্যই তোকে বিয়ে করেছি।

রোদ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায় তাঁরপর বলে।
রোদ: কেনো এমন করছেন? আমার ভুলটা কোথায় এতো বড়ো শাস্তি কেনো দিচ্ছেন।
শুভ্র তাচ্ছিল্য হাঁসে তাঁরপর বলে।
শুভ্র: বাহ এখন দেখি কিছুই জানিস না। সব কিছু করে এখন না জানার ভান করছিস।
রোদ চুপ করে আছে। সে আসলেই জানে না শুভ্র তাকে কেনো এতো কষ্ট দিচ্ছে তার অপরাধ টা কি?
শুভ্র রোদের গাল চেপে ধরে বলে।
শুভ্র: তোর জন্য আমি আমার জীবনের সব থেকে দামি জিনিস হারিয়েছি। তুই সুধু সারাজীবন আমার ঘৃণা নিয়ে বাঁচতে হবে। না তুই মরে যেতে পারবি। না তুই ভালো ভাবে বাঁচতে পারবি। প্রতি মূহুর্তে তোর মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে। ধাক্কা দিয়ে রোদকে ফেলে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
রোদ ফ্লোরে বসে কাঁদতে থাকে। তাঁরপর বলে
রোদ: এ কেমন পরিক্ষা নিচ্ছেন রব। কোন ভুলের শাস্তি দিচ্ছেন আমায়। আমি আর সহ্য করতে পারছি না।

রাত: ১২:৩০
রোদ বিছানার উপর ঘুমিয়ে আছে।
সারা দিনে শুভ্র আর রুমে আসেনি।
শুভ্র দরজা খুলে রুমের ভিতরে ডুকে রোদ বিছারার উপর গুটিসুটি হয়ে শুয়ে আছে।
শুভ্র বিছানার দিকে এক নজর তাকিয়ে বেলকনিতে চলে যায়। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

কেমন যেনো তার কাছে সব কিছু অসহ্য লাগছে৷ সে নিজেকে বুঝতে পারছে না। কি করছে আর কেনোই বা রোদকে আবার বিয়ে করলো। সে তো সব সম্পর্ক সাত বছর আগেই ভুলে গেছিলো। তাহলে আজকে কেনোই বা রোদকে বিয়ে করলো। আর কেনোই বা গভীর রাতে রোদকে ওই বাড়ি থেকে বের করে নিজের সাথে নিয়ে আসলো।
সেদিন রাতে.. 🍁
শুভ্র চিৎকার করে উঠে বসে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। কিছুটা সময় লাগে নিজেকে ঠিক করতে যখন বুঝতে পারে সে স্বপ্ন দেখছিলো। অনেক টা অস্তির হয়ে পড়ে শুভ্র। আফরিন বেগম ছবি সামনে দাঁড়ায় তাঁরপর বলতে থাকে।

শুভ্র: আম্মু আমি কি করবো আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কেনো এমন হচ্ছে। কেনো আমি মেনে নিতে পারছি না রোদের অন্য কারো সাথে বিয়ে।
শুভ্র আফরিন বেগম ছবি সামনে থেকে সরে গিয়ে শার্ট পড়ে। রোদের রুমে যায়, রোদ বিছানার উপর হাত পা ছুড়ে শুয়ে আছে।
শুভ্র ভালো করেই যানে, এই মেয়ে যে ঘুম কাতরে তাকে নিয়ে যদি এখন নদীতেও ফেলে দেয়। সে তা বুঝতে পারবে না। এতই ঘুম তার শুভ্র রোদকে কোলে তুলে নেয়। আস্তে করে বাসার ডয়িং রুমে আসে। নিলয় সোফার উপর বসে চুপিচুপি রসমালাই খাচ্ছিলো। এমন সময় সামনে কাউকে দেখে যখনি ভুত বলে চিৎকার দিবে এমন সময় শুভ্র গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে।

শুভ্র : নিলয়ের বাচ্চা একটা আওয়াজ যদি মুখ থেকে বের হয়। তো তোকে আমি এইখানে পুতে ফেলবো।
নিলয় শুভ্রের কন্ঠ পেয়ে সাথে সাথে চুপ হয়ে যায়।
নিলয় তোতলিয়ে বলে।
নিলয়: Bro তু মি এখানে, আর তোমার সাথে কে
নিলয় ফোনের ফ্লার্স লাইট অন করে দেখে রোদ শুভ্র কোলে, নিলয় হা করে তাকিয়ে আছে, নিলয় আবার বলে উঠে,,

নিলয়: Bro তুমি রোদকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছো এতো রাতে।
শুভ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে।
শুভ্র: আমার বউ আমি যেখানে ইচ্ছে নিয়ে যাব। তাতে তোর কিরে।
নিলয় কিছুটা অবাক হয়ে বলে।
নিলয়: বাহ বাহ Bro শেষে এসে এতো বড়ো গোল দিলে। তোমাকে তো মেডেল দিতে হয়। যে তোমার একটা বউ আছে। সেটা তোমার মনে আছে।
শুভ্র কিছুই বলে না, রাগি চোখে তাকিয়ে বেড়িয়ে যায়। রোদ এখনো ঘুমাচ্ছে।
শুভ্র গাড়িতে রোদকে কোলে নিয়ে বসে গাড়ি স্টাট দেয়। পুড়ো রাস্তায় রোদাকে জড়ানোই ছিলো।
বর্তমান

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১৩

রোদ সব কিছু ভেবে তাচ্ছিল্য হাঁসে
রুমের ভিতরে ডুকে রোদের দিকে এক নজর তাকিয়ে সোফায় শুয়ে পড়ে।
সকাল ৮:৩০
সূর্য আলো চোখে মুখে পড়তেই পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায় রোদ।
সামনে তাকিয়ে অবাক হয়। ভয়ে ঢোগ গিলে।

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১৫