Home ৪ বছরের চুক্তির মা ৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৬

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৬

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৬
সারা চৌধুরী

অর্ক সারার ঘুমনত স্যালাইন চলিত দুর্বল মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো…
-“না মানে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে সারার সাথে কেমন এক আত্মিক টান আছে!
অর্কের কথা শুনে শুভ্র চকিতে অর্কের দিকে তাকালো।শুভ্র অর্কের কথার অন্য মানে বের করে করেছে।শুভ্র অর্কের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো….
-“মানেতোর আত্মার টান বলতে কি বুজাস ও আমার বউ বিয়ে করা বউ।
অর্ক কপাল চাপড়ে আফসোস এর সুরে বলে উঠে

-“দোস্ত তুই পাগল..?
-“মানেহহহহ..?
-“আমি কখন বললাম তোর বউ আমার বউ টউ তুই কি সব মাইন্ড এ চিন্তা করিস এসব..?
শুভ্র মাথা নিচু করে নিলো আসলেই তো অর্কের কথা সে অন্য মাইন্ড এ নিয়ে অন্য কিছু ভেবেছিল।নিজের ভাবনায় নিজেই লজ্জিত। শুভ্রকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখে অর্ক আবারো বলে উঠলো..
-“আরে বল না ইয়ার সারার বাড়ি কই…?
শুভ্র মাথা ঠান্ডা করে বলে উঠলো..
-ঢাকা..!
-ওহ…!
শুভ্র অর্কের এমন নিরব কন্ঠ শুনে ভ্রু কুচকে বলে উঠলো..

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“হটাৎ সারার বিষয়ে জানতে ইচ্ছা করছে কেন…?
অর্ক মাথা উচু করে সোফার সাথে হেলান দিয়ে সোফায় মাথা এলিয়ে দিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো…
-“জানিনা দোস্ত সারা কে প্রথম দেখেই কেমন একটা অনুভব করেছিলাম।আর আজ যখন সারা পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো তখন আমার মনে হলো হটাৎ করে আমার হৃদয় কেও টেনে ধরেছে।
এটুকু বলে অর্ক থামে। শুভ্র বেশ মনযোগ দিয়ে শুনছে অর্কের কথা।শুভ্র ভ্রু নাচিয়ে বলে উঠে…
-“তুই টান অনুভব করছিস মানে…?
অর্ক বুজলো শুভ্র আবারো কথাটা অন্য মাইন্ড এ নিচ্ছে তাই অর্ক আবার বলা শুরু করে…
-“সারা নাম টা শুনে আমি থমকে গিয়েছিলাম।দোস্ত তুই জানিস আমার পুচকির কথা মনে পড়ছিলো সারা ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকালেও আমার পুচকির মুখ ভেসে উঠছে..!
অর্কের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে নোনাজল।শুভ্র আবারো নিজের ভাবনায় নিজে লজ্জিত হয়,, শুভ্র কৌতুহল কন্ঠে বলে…

-“তার মানে তুই বুজাতে চাচ্ছিস এই সারা তোর বোন…কিন্তু তোর বোন তো আগুনে পুড়ে মারা গেছিলো…?
অর্ক মাথা উচু করে বাম হাতের তালু দিকে চোখের পানি মুছে স্মীত হেসে বলে…
-“আমি সারাকে আমার বোন ভাবি নাই তবে ওরে দেখলেই আমার সেই ছোট্ট সারার কথা মনে পড়ে সেই পুচকো পুচকো হাত।।
বলতে বলতে অতীতে ডুব দিলো অর্ক….
সিলেট শহরে কাজিতলা তে অর্ক দের বাড়ি বেশ ছোট পরিবার তাদের। আফজাল রহমান ও নিলুফা ইয়াসমিন এর বড় সন্তান অর্ক। অর্ক হওয়ার ছয় বছর পর অর্কের বোন জারা হয়।এবং অর্কের বারো বছর বয়সে অর্কের ছোট বোন হয়।জারার সাথে নাম মিলিয়ে নাম রাখা হয় সারা।জারার বোন সারা।সারা ছোট থেকে একটু চঞ্চল প্রকৃতির ছিলো সেটা পরিবার এর সবার আদরে আরো বেশি হয়ে উঠে।সারা বড় হতে শুরু করে সারা দিন প্রায় অর্কের সাথে লেগে থাকতো ছোট্ট মেয়েটি।

অর্ক সব কাজ ফেলে সারার পিছনে ছুটতো খুব ভালোবাসতো নিজের পিচ্চি বোন কেন।জারা কে নাম ধরে ডাকলেও সারাকে পুচকো ছাড়া কখোনো অর্ক ডাকে নাই।অর্কের স্কুল থেকে শুভ্র শ্রাবন এর সাথে বন্ধুত্ত্ব হয় তারপর তাদের পরিবার এর সাথে আত্মীয়তা।প্রায় যাতায়াত চলতো একে অন্যের বাড়িতে।
সেদিন ছিলো গ্রাম এ বিশাল এক মেলা।আর ছোট অর্ক রা যাওয়ার জন্য বায়না ধরে।আব্রাহাম তালুকদার এর সাথে সকলে বের হয় মেলা দেখতে। তখন সারার বয়স তিন বছর। বেশ ভালোয় হাটতেই পারে।আব্রাহাম তালুকদার সারা পাকা বুড়ি বলে ডাকতো।সেদিন সারা প্রথম বার অর্কের কাছে বায়না দোলনায় চড়বে। অর্ক সারাকে দোলনায় দোলায়।হটাৎ সারা পানি খেতে চাওয়াই পনেরো বছর বয়সি দূরন্ত অর্ক ছুটে যায় নিজের বোনের জন্য পানি কিনতে দোকানে।বাড়ির সকলে একেক দিকে ঘুরছে।আর এই বাচ্চা দের সাইটে অর্ক আব্রাহাম তালুকদার আর সারা ছিলো ওদের বাড়ির মধ্যে।

অর্ক পানির বোতল নিয়ে দোকান থেকে ফিরতেই বিক্ট জোরে কিছু একটা শব্দ হয়। অর্ক কিছু বুজে উঠার আগেই মানুষ জন আগুন আগুন বলে দৌড়াতে শুরু করে।অর্ক তাকিয়ে দেখে তার বোনকে যে দিকে রেখে এসেছে সে দিক থেকেই মানুষ ছুটে আসছে।অর্ক ছুটে সেদিকে যায়।গিয়ে দেখতে পায় তার বোন যে দোলনার বসে ছিলো তার পাশেই আগুন লেগেছে পুরো চত্তর টা আগুন ছড়িয়ে গেছে।অর্ক সারা বলে চিল্লিয়ে আগুনের দিকে এগিয়ে যেতে নিলে মানুষ তাকে ধরে ফেলে অর্ক অনেক জোরাজোরি করেও ছাড়াতে পারে নাই।

কিছুক্ষনের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন লিভিয়ে দেই। আগুন লাগার কারন হিসাবে বলে পাশে থাকা জেনারেটর এর ইঞ্জিনের ক্রুটির কারনে ব্লাস্ট হয় সাথে আগুন লাগে।প্রায় বিশ জনের অধিক মানুষ নিহত আগুনে পুড়ে।আহত দের প্রথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।অর্ক সারাকে অনেক খুজে আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংস স্তুপ এর মাঝে।একটু পর আব্রাহাম তালুকদার এর পুরে যাওয়া মৃত শরীর পাওয়া যায়।মুখ টাও ভালো করে চেনা যাচ্ছে না।সবার ধারনা ছিলো ছোট্ট সারা পুড়ে ছায় হয়ে গেছে।দুই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। তালুকদার বাড়ি আব্রাহাম তালুকদার কে হারিয়ে আর অর্করা সারাকে হারিয়ে।নিলুফা নিজের ছোট মেয়ে হারানোর শোক নিতে না পেরে মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

শুভ্র রা কিছুদিন পর ঢাকা চলে যায়।অর্ক তখন আরো একা হয়ে যায়।নিলুফার পাগলামি বাড়তে থাকে এক পর্যায়ে দুই বছর পর আফজাল রহমান তাকে বিদেশ এ ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ে যায়।সাথে জারা আর অর্ক ও জায় পরে তারা ওখানে শিফট হয়ে যায়।অর্কের পরিবার কিছুবছর আগে ফিরে এলেও অর্ক কিছুদিন আগে ফিরেছে।
অর্কের ভাবনার মাঝেই শুভ্র ডেকে উঠলো…
-“এই অর্ক কি ভাবছিস কতক্ষন ধরে ডাকছি তোকে…?
অর্ক ভড়কে যায় হটাৎ শুভ্র কথায়।লাফ মেরে উঠে বুকে ফু দিয়ে বলে…
-“কি..কি বলছিস…?
শুভ্র অর্কের দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দেই। অর্ক ঢকঢক করে পানি খেয়ে নেয়।শুভ্র কপালে ভাজ ফেলে বলে উঠে…
-“কি ভাবছিলি তূই এতো…?
-“কই কিছু নাতো কি বলবি বল..?
-“নিচে নাস্তা করতে ডাকছে আম্মু চল।সারা ঘুমাক এখন ওরে ডিস্টার্ব না করি।
অর্ক একটা ঢোক গিলে শুভ্রর সাথে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

অহনা বিছানায় টানটান হয়ে সুয়ে আছে।তার বর্তমান মাথা যন্ত্রনা করছে খুব হটাৎ এক বিরক্তিকর কর্কষ আওয়াজে অহনার ফোন বেজে উঠে। অহনা ফোন হাতে নিয়ে দেখে স্ক্রীনে ভাই বলে সেভ করা নাম্বার।অহনা রিসিভ করে ফোন কানে ধরে..সাথে সাথে রিহান ওপাশ থেকে উৎফুল্ল হয়ে বলে উঠে…
-“আপু কি করিস…?
অহনা শান্ত করুন কন্ঠে বলে..
-“মাথা বেথা করে ভাই সুয়ে আছি,,তুই কি করিস…?
-“আমি বসে আছি.. তুই ওষুধ খেয়েছিস…?
-“হুম খেয়েছি।
-“আপু শোন…?
অহনা কপালে ভাজ ফেললো আবার কি জিজ্ঞাসা করবে,রিহান ওপাশ থেকে বলে উঠলো..

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৫

-“তুই এত দিন পর ও বাড়িতে গিয়েছিস কোনো ঝামেলা হয় নি…?
-“কেনো বলতো…?
-“আমার মন বলছে কিছু না কিছু হয়েছে তুই বলনা কিছু হয়েছে কি…?
অহনা বলবে বলে মুখ খুলতেই দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হয়। অহনা রিহান কে লাইন এ থাকতে বলে দরজার কাছে এগিয়ে। দরক
জার সামনে গিয়ে জোরে জোরে কয়েকটা দোম নিয়ে দরজায় খুলতেই অহনা চোখ বড় বড় করে বে উঠে…
-“তুমি এখানে…?

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৭