এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৩
আসিফা খান
টেবিলে নাস্তা সাজাচ্ছে মিসেস আসফিয়া আর ইয়াসমিন বেগম,, সাথে চলছে তাদের টুক টাক গল্প।।এরই মধ্যে চিয়ার টেনে বসে মিস্টার আফতাব আর ইব্রাহিম সাহেব।।বয়স ৭৫ পেরালেও এখনও ইব্রাহিম সাহেব ফিট অ্যান্ড ফাইন,,তার দুই ছেলে এখনও তার কথায় মাথা নাড়ায় এখনও তার কথা শীর্ষে অবস্থান করে। বয়স বাড়লেও গলার তেজ এখনও সতেজ,স্ট্রং মাইন্ড আর আগের যুগের মেট্রিক পাস ইব্রাহিম হোসেন।।
সিঁড়ি থেকে রিফাত কে নামতে দেখে ইব্রাহিম সাহেব বিস্তার হেসে,উল্লাস কন্ঠে বলল,,,”শুভ সকাল দাদুভাই।।শরীর কেমন আছে তোমার?”
রিফাত গম্ভীর্য বজায় রেখে চিয়ার টেনে বসতে বসতে বললো,,,”জ্বী ভালো।”,,তত্পর নিজেই খাবার নিয়ে খেতে আরম্ভ করলো।মিসেস আসফিয়া একবার করুন চোখে মিস্টার আফতাব এর দিকে তাকালো চোখের ইশারায় মন খারাপ করতে নিষেধ করলো নিজের স্ত্রী কে।মুখে না বললেও আসফিয়ার চোখের ভাষা বুঝতে অসুবিধে হয় না মিস্টার আফতাব এর।।।ইব্রাহিম সাহেব নাতির দিকে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেললো।তার নাতিও তারই মত,,,তিনি যেনো নিজেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় রিফাত এর মধ্যে।।
ইয়ানা আর আলেয়া দুই জনেই মেন ডোর থেকে চঞ্চলিত পায়ে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করতেই ইয়াসমিন বেগম এর চোখ পড়ে তাদের দিকে।।,,জোর গলায় বলে,,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“তোরা দুই জন কোথায় গিয়েছিলি?আর ইয়ানা তোর নাকি শরীর অসুস্থ আর এখন এরকম ধেইধেই করে ঘুরে বেড়াচ্ছিস।।”
ইয়ানা আর আলেয়া একে অপরের দিকে তাকিয়ে জিভ কাটলো।।দুই জনেই গুটি গুটি পায়ে ডাইনিং টেবিল এর কাছে এগিয়ে আসে।। ইয়ানা আমতা আমতা করে বলে,,,” ইয়ে,,মাম্মা,,,আসলে মিশি কে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না তাই ওকেই খুঁজতে গিয়েছিলাম।সকালেই ছিল তারপর কোথায় গায়েব হয়ে গেলো কি জানি।”
“এই মেয়ে কে নিয়ে আর পারিনা সারাদিন ওই বিড়াল,খরগোশ, মাছ এদের নিয়েই পড়ে থাকে।।এই তুই বড়ো হবি না,,,তোকে নিয়ে যে আমি চিন্তায় থাকি।।”
“ছাড় না,,বেকার মেয়েটাকে বকছিস।।আর ওকে নিয়ে চিন্তায় থাকার কি আছে ও নিজের খেয়াল নিজে রাখতে পারে। তাই না!”
মিসেস আসফিয়া ইয়াসমিন বেগম কে থামিয়ে দিল।। প্রিয় আন্টিমা ইয়ানার পক্ষ নিতে মন টা নেচে উঠল তার।। একটা টাইট হাগ করতে ইচ্ছে করলো মিসেস আসফিয়া কে,,,পরিস্থিতির কারণে ইচ্ছাটাকে দমিয়ে রাখলো ইয়ানা।।
আলেয়া বকা খাওয়ার ভয়ে সুরসুর করে মিস্টার আফতাব এর পাশে বসে পড়লো ভাব এমন যেনো সে ইয়ানার সাথেই ছিলো না।।ইয়ানা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো,,একদম ইনোসেন্ট মেয়ে।এরকম বকা সে প্রায় খায় তাই তার অভ্যেস হয়ে গেছে।।চোখ তুলে একবার টেবিলে চোখ বোলাতে রিফাত কে আপন মনে খেতে দেখলো।এই চেনা মানুষদের মাঝেও নিজেকে কেমন অচেনা করে রেখেছে।আসে পাশের কাওকেই মনে হয় চোখে পড়ছে না তার।। হুঁ কি ভাব।। মনে মনে ভাবলো কেটে পড়বে এখান থেকে,,,লোকটার ধরে কাছেও যাবে না সে।।চলে যেতে নিলে ইব্রাহিম সাহেব বলল,,,”ইনু মামনি,,,আসো বসে খেয়ে নাও।”
“দাদু আমার না খিদে নেই,,, পরে খাবো।”
মেয়ের কথা শুনেই খ্যাকিয়ে উঠলো ইয়াসমিন বেগম,,,বললো,,,,” এই খিদে নেই কি রে! কাল রাতেও রুম থেকে বেরহোসনি। ডিনার ও করিসনি তুই,,,এখন আবার খিদে নেই কি? চুপ চাপ খেতে বসবি।”
ঠোঁট উল্টে ফেললো ইয়ানা।এখন তার হাত পা ছড়িয়ে কাদদে ইচ্ছে করছে।।যার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে চাইছে সে,, সবাই যেন ইয়ানা কে তার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।।ইয়ানা অন্য পাশে চিয়ার টেনে বসতে নিলেই দাদু বাঁধা দিয়ে বললো,,,”ইনু,,,,,রিফাত দাদুভাই এর পাশে বসো।”
এবার সত্যি দুঃখে ইয়ানার চোখের কোনে পানি জমলো।।রিফাত এর কোনো হেলদোল নেই সে কিছু না শোনার ভান করে খেয়েই যাচ্ছে,,,খাওয়া টাই যেনো তার প্রথম লক্ষ্য এই মুহূর্তে।। ইয়ানার মন চাইছে চিয়ার সমেদ রিফাত কে ফ্লোরে আছার মারতে,,,কিন্তু তার শরীরে এত জোর নেই আর না আছে সাহস।।দাদুর আদেশ ফেলতে না পেরে ইয়ানা রিফাত এর পাশের খালি চিয়ারে বসে।। প্লেটের খাবার যেনো গলা থেকেই নামতে চাইছেনা।এক অসস্তি ঘিরে ধরেছে ইয়ানা কে,ডান পাশের বাহুটা কেমন শিরশির করছে,,,পেট গুড়গুড় করছে,,,দৌড় পালাতে মন চাইছে,,,,এই রিফাত নামক মানুষ টার ধারে কাছেও থাকতে চাইছেনা,মানুষটার সান্নিধ্য মনেপ্রানে উথাল পাথাল ঢেউ এর সৃষ্টি করছে।।
“রিফাত তোমার নার্সিংহোম এর কাজ তো প্রায় শেষ,,, এরপরে কি করবে ভেবেছো?”
মিস্টার আফতাব এর আওয়াজ কানে আসতেই রিফাত নড়ে চড়ে বসে।হালকা গলা কেশে গম্ভীর স্বরে বলল,,,”আমার সব আগে থেকে ঠিক করা,,,কিছু কাজ বাকি আছে সেগুলো হয়ে গেলেই একটা দিন দেখে ওপেনিং টা সেরে ফেলবো।।”
ছেলের কথায় মাথা নাড়ায় মিস্টার আফতাব।। ছেলের দক্ষতা সম্পর্কে তার কোনো সন্দেহ নেই। আগাগোড়া ছেলে তার কাজ খুব ভালো করেই গুছিয়ে নিতে জানে। কখনো হেল্পের প্রয়োজন পড়লেও মুখ ফুটে বলে না,,,আর এই চার বছরে তো কথা বলা টাই ছেড়ে দিয়েছে সে।। বিদেশে থাকা কালীন মিস্টার আফতাব বা ইব্রাহিম সাহেব ফোন করলেই কথা হতো ,,তাও হাতে গোনা কয়েকটি বাক্য,,তারপর কল কেটে দিত রিফাত নিজেই।।
“কোনো রকম এর সাহায্য লাগলে অবশ্যই আমায় বলো,,,”
মিস্টার আফতাব এর কথার সাথে সাথেই রিফাত বললো,,” ইনশাআল্লাহ্,,কোনো সাহায্য লাগবে না।,,”
বলেই আড় চোখে একবার ইয়ানার দিকে তাকিয়ে চিয়ার ছেড়ে উঠে গেলো রিফাত।। ছেলের কথায় খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই,,,ছেলের প্রখর অভিমান রয়েছে,,,আর কোথাও না কোথাও এই অভিমান এর জন্য তিনি ও দাই।।
ইনায়া যেনো এবার হাফ ছেড়ে বাঁচলো,,,এতক্ষণ রিফাত এর জন্য খেতে পারছিল না ভালো করে,কিন্তু তার পেটে ইদুর দৌড়াদৌড়ি করছে।। রিফাত যেতেই তৃপ্তি সহকারে খেতে লাগল ইয়ানা।।,,ধীরে ধীরে চিয়ার ছেড়ে সবাই উঠে গেলো।মিসেস আসফিয়া আর ইয়াসমিন বেগম দুই জনে খেয়ে নিল,,,এর পরে তাদের দুপুরের খাবার এর ও আয়োজন করতে হবে।।ইব্রাহিম সাহেব বাগানে হালকা রোদের মধ্যে চিয়ার নিয়ে বসলো হাতে তার পত্রিকা।। মিস্টার আফতাব অফিস চলে গেলেন।। আলেয়ার স্কুল নেই ছুটি।। আর ইয়ানা কলেজ যাবে না কারণ তার প্রিয় বান্ধবী কিছু দিনের ছুটিতে রাজ্যের বাহিরে ঘুরতে গিয়েছে।সে আসলে তারা দুইজন এক সাথেই যাবে আর এমনিতেও কলেজে আপাতত কোনো চাপ নেই,,,তাই এখন সে বিন্দাস, চাপলেস।।
বারান্দার মেঝেতে পা বিছিয়ে ইয়ানা আর আলেয়া একের পর এক চকলেট বল নিজের মুখে পুরে যাচ্ছে।। বাচ্চাদের মত হাতে, গালে, ঠোঁটের আসে পাশে চকলেট লাগাচ্ছে দুই জন।।
“আচ্ছা আলু,,,তুই যে আমায় চকলেট খাওয়াচ্ছিস তার কোনো বিশেষ কারণ?অন্য সময় তো ডেয়ারি মিল্ক এর একটা কোন ভেঙে ও দিসনা।”
“আরে আপি,,,এটা তো একটা বক্স সবে,,আমার কাছে আরো তিনটা বক্স আছে,,, হি হি হি।”
ইয়ানা চোখ বড় বড় করে বলল,,,”সত্যি!”চকলেট যে তার প্রাণ।আলেয়ার থেকেও বেশি চকলেট ভক্ত ইয়ানা।সেটা বাড়ির প্রায় সকলেই জানে।।এখন ইয়ানার একটাই জিনিস মাথায় চলছে,,,কিছু ভাবে আলেয়ার থেকে ছলে বলে কৌশলে ওই তিনটা বক্স এর মধ্যে দুটো হাতিয়ে নেওয়ার।সেই প্ল্যান এর ছক কষছে মাথায়।।
আলেয়া এবার একটু ভাব নিলো,যেনো সে কোনো গুপ্ত খাজানার মানচিত্র পেয়েছে।ভ্রু নাচিয়ে,মাথা নাড়িয়ে,ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,,,”আরে হ্যাঁ,,আমি কি আর মিথ্যে বলি।।এই গুলো এখানকার চকলেট নয় গো আপি,,,এটা ফর্সা মানুষদের দেশের চকলেট।দাদাভাই দিয়েছে আমায়।। আর তুমি তো জানোই আমি কত মহৎ মানুষ,,,তাই ভাবলাম তোমায় দিয়ে খাই।দোয়া দিতে ভুলনা আমায়।।”
মুখের সামনে আনা সদ্য প্যাক খোলা চকলেট, গালে পুরে ফেলার আগেই থেমে গেল ইয়ানার হাত।মুহূর্তে এক জন্য শরীর কেমন কেপে উঠল।চকলেট টা আবার তার নির্ধারিত জায়গায় রেখে দিলো।। আলেয়ার কথা শুনে,তার মিহিয়ে পড়া আত্মসম্মান বোধ জেগে উঠলো।কানে কেও চিৎকার করে বলল,,’ যে মানুষটা তোকে দেখার পর কথা বলারও রুচি রাখলনা,তুই তার আনা চকলেট অভুক্ত দের মত গিলছিস। ‘।। কিছুক্ষন আগে চকলেট এর প্রতি তার ভাবনা চিন্তা উবে গেল ফুড়ুৎ করে।খাওয়ার তো দূরের দেখার ও ইচ্ছে জাগলো না।।
ইয়ানা সময় ব্যায় না করে ধপ ধপ পা ফেলে চলে গেলো।। আর আলেয়া হা করে তাকিয়ে রইল তার যাওয়ার পথে,,,”আপির আবার কি হলো”,,,বলেই কাধ নাচিয়ে চকলেট গালে পুরে নিলো।।
মনে মনে এটা সেটা বলছে আর ছোট্ট গোল কাঁচ এর জার এর মধ্যে থাকা একটা গোল্ড ফিশ কে তার খাবার দিচ্ছে ইয়ানা।মাছটা তার ভীষণ শখের,,,মায়ের কাছে হাজার বায়না করার পর সে পেয়েছে এই ” ফিন” কে।।মিশি কে তার ধারে কাছেও আসতে দেয় না।।নিজের পড়ার টেবিলের উপর যতন করে রাখা।।পড়ার সময়,,পড়বে আর ফিনের সাথে কথা বলবে,,,এটা যেনো ইয়ানার অভ্যাস এ পরিণত হয়েছে।।
“আমার এখন খুব রাগ হচ্ছে ফিন,,,,চিরো চেনা মানুষটা কে একদম অচেনা অজানা লাগছে।।আচ্ছা তুই বল,,,চার বছর আগে যা হয়েছে,সেটা আমি করেছি? তখন তো আমি কত ছোটো ছিলাম,,,কিছু বুঝতাম ও না।।ধুর,,,কিছুই ভালো লাগছে না।”
এরই মধ্যে ইয়ানার কানে এলো ‘ মিয়াও ‘ ।।পাশে তাকাতেই দেখলো মিশি মুখ তুলে তার পায়ের কাছে দাড়িয়ে আছে।। ইয়ানা তাকে ধরতে নিলেই সে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।।
ইয়ানা ও তার পিছু পিছু রুম থেকে বেরিয়ে দেখে মিশি আপন মনে সিড়ির দিকে এড়িয়ে যাচ্ছে,,আর মুহূর্তেই ঘটে গেলো অপ্রত্যাশিত ঘটনা।। ইয়ানার চোখ বড় আকার ধারন করলো।।মিশি রিফাত এর রুমে ঢুকে পড়েছে,,,দরজার হালকা ফাঁক দিয়ে নিজের নরম শরীরটাকে ঠিক কায়দা করে ঢুকে পড়েছে মিশি।।
ইয়ানার মাথায় হাত।গলা শুকিয়ে আসছে।মন চাইছে মিশি কে ঠান্ডা পানিতে চুবাতে।।কি করবে,কি না করবে ভাবতে ভাবতে রিফাত এর রুমের সামনে এসে দাঁড়ায় ইয়ানা।।রিফাত যখন ছিলনা তখন ইয়ানাই তার রুম গুছিয়ে দিত,,,এই দায়িত্ব টা স্বয়ং দাদু দিয়েছিল তাকে।কিন্তু এখন অত্যাধিক সংকোচ বোধ করছে ইয়ানা।।যেখানে সে রিফাত এর সামনেই যেতে চায়না,, সেখানে মানুষটার রুমে প্রবেশ করা নিতান্তই অপ্রতুল।।কিন্তু মিশি কে তো আনতে হলে রুমে প্রবেশ করা লাগবেই।আর যদি রিফাত মিশি কে দেখে নেই তাহলে বাড়ি মাথায় তুলবে ছেলেটা।রিফাত এর অপছন্দের একটা প্রাণী বিড়াল।।
ইয়ানা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো,,মনটা আনচান করছে।।শত ভাবনা চিন্তার পর দরজা খুলে মুখ বাড়ালো রুমে,,,না রুমে কোথাও নেই রিফাত।।ইয়ানা একটা সস্থির নিশ্বাস ত্যাগ করলো।।ভাবলো রুমে ঢুকেই মিশি কে নিয়ে হওয়ার বেগে বেরিয়ে আসবে সে।।যেই ভাবা সেই কাজ।,,চঞ্চল পায়ে প্রবেশ করলো রুমে।
রুমে ঢুকে চারি দিকে চোখ বুলিয়ে মিশি কে খোজার চেষ্টা করলো,,আর পেয়েও গেলো মিনিটের মধ্যে সোফার নিচে বসে মনের আনন্দে লেজ দোলাচ্ছে মিশি।।
ইয়ানা হাঁটু মুড়ে বসে দুই হাত বাড়িয়ে মিশি কে ডাকতে থাকে,,,”মিশি,,, কাম হ্যায়ার।আমার কাছে আয় নাহলে তোকে আর আমাকে রাক্ষসটা নুন ছাড়া কাচা চিবিয়ে খাবে।।”
“উইথ আউট পারমিশন,,,কারোর রুমে প্রবেশ করা ব্যাডম্যানাস,,,এটা তুমি জানো না?”
রাশ ভারি কণ্ঠে চমকে উঠলো ইয়ানা।শিরদাঁড়া শিরশির করে উঠল।।মুহূর্তেই নিশ্বাস হলো সঘণ,,,গলা শুকিয়ে শরীর কেপে উঠলো প্রবল।।পিছনে তাকানোর সাহস হলো না।চঞ্চল মেয়েটা হঠাৎ করেই স্থির হয়ে গেলো।থমকে গেলো রিফাত এর বলা ‘ তুমি ‘ ডাক শুনে,,,,অবাক হলো, চার বছরে কি মানুষ এতটা বদলে যায়? প্রশ্ন করলো নিজেকেই।।’ মিয়াও ‘ শব্দ কানে আসতেই ইয়ানা ভরকে গেল,, চট জলদি হাত বাড়িয়ে মিশি কে কোলে তুলে নিলো।।পিছনে না ঘুরেই রুম থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগী হতেই টান পড়লো ইয়ানার বাহুতে।।
ইয়ানা কে হ্যাচকা টানে নিজের সান্নিধ্যে নিয়ে আসলো রিফাত।সে কেনো এমনটা করলো তাহ রিফাত এরও অজানা।।ইয়ানা ঘাবড়িয়ে যায়,,, হঠাৎ আক্রমণ বুঝ সীমানা অতিক্রম করে তার।ছোট্ট মনে সৃষ্টি হয় সীমাহীন চোটফটানি।বুক ধুরফুর করছে। রিফাত এর প্রশস্ত উন্মুক্ত বুকের সাথে তার বাঁশির মতো নাক টোকা খেতেই ইয়ানা চোখ তুলে তাকায়। মেয়েটার দৃষ্টি এমন যেনো,প্রদীপের নিভু আলোক শিখা যা হালকা ফু দিলেই নিভে যাবে ।।কিশোরী বয়স পেরিয়ে তরুণী বয়সে পদার্পণের পর এই প্রথম কোনো পুরুষের এত কাছে আর পুরুষটা যদি হয় তার স্বামী! ছোঁয়া একদম পবিত্র।।
কোমরে টাওয়াল জড়ানো।যাকে বলে অর্ধ নগ্ন।। হালকা লোমে ভরা বুকে পানির বিন্দু বিন্দু ফোঁটা সাথে চাপ দাড়ি আর চুলেও যা রিফাত এর ললাট ছুঁয়ে চোখের সামনে এসে পড়েছে।।ইয়ানা ভারী নিশ্বাস ফেলে চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিল। শরীর কেমন আলগা হয়ে আসছে।। হাত কাপছে তার।।তার কোলে থাকা মিশি অবলা হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।নিজেকে একদম গুটিয়ে ইয়ানার বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়েছে সে মিশি।।
“কিছু জিজ্ঞাসা করলাম,,,,উত্তর না দিয়ে যাও কোথায়?”
ইয়ানা এবার তেতিয়ে উঠলো।রিফাত এর দিকে তাকিয়ে ফুঁসে ওঠে বললো,,,,”চোখে দেখেন না মিশি কে নিতে এসেছিলাম,,,নাকি চোখে সমস্যা? আর হ্যাঁ আমি জানি কারোর রুমে উইথ আউট পারমিশন প্রবেশ করা ব্যাডম্যানাস শুধু মিশি আপনার রুমে ঢুকে পড়েছে বলে এই রুমে এসেছি,,,নাহলে এই রুমের দিকে তাকানোর ও কোনো ইচ্ছে নেই আমার।”
রিফাত আরো শক্ত করে চেপে ধরে ইয়ানার বহু।। বিস্মিত হয় ইয়ানার কথা শুনে।। যে মেয়েটা ছোটো থেকেই তার দিকে দৃষ্টি রেখে কথা বলত না,সে কিনা আজ তার চোখের দিকে তাকিয়ে কঠিন কন্ঠে কথা বলছে।।বেশি অবাক হয় ইয়ানার বলা ‘ আপনি ‘ শুনে।।সহসা রাগের সৃষ্টি হয়,,, ইয়ানার এরকম আচরণ রিফাত এর কাছে এক বিস্ময়কর ব্যাপার।।
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২
ইয়ানা নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গেলে রিফাত তাকে আরো বেশি নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসে।।মিশি আর থাকতে না পেরে ইয়ানার কোল থেকে ফুড়ুৎ করে লাফ দিয়ে বেড়িয়ে যায়।।ইয়ানা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রয় মিশির যাবার পানে,,, হাক দিয়ে দু’একবার ডাকেও ” মিশি মিশি,, দাড়া”,,, কে শোনে কার কথা।।এবার ইয়ানা চোখ পড়ে রিফাত এর দিকে,লোকটা কেমন লাল রাঙা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।চোয়াল শক্ত।।ইয়ানা ভয়ে এক ঢুক গিলে,এতক্ষণ হারিয়ে যাওয়া ভয় হুট করেই হানা দেয় ইয়ানার ছোট্ট মস্তিষ্কে।। বাহুতে ব্যাথা অনুভব হচ্ছে।অজানা কষ্টে কান্না পাচ্ছে প্রচুর।। গলা ভারি হয়ে আসছে।কার্নিশে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মিহি কন্ঠে উচ্চারণ করলো,,,
“ছাড়ুন,,,,ব্যাথা পাচ্ছি।”
