Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৬

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৬

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৬
আসিফা খান

অভিমান,,,বড়ই অদ্ভূত।। রাগে আমরা নিজের অনুভুতির বহিঃপ্রকাশ ঘটালেও,,অভিমানে আমরা মিহিয়ে যাই। দূরে সরে আসি সেই মানুষটা হতে, যার কাছ থেকে আমরা সেই কঙ্কিত পীড়াদায়ক অনুভূতির উপলব্ধি ঘটাই।।
এই মধ্যে কেটেছে চার দিন।। সেই দিন রিফাত ইয়ানার রুমের কাছে এসেও থেমে যায়। একটা ইম্পর্টেন্ট ফোন কল আসাতে রিফাত কে বেরিয়ে যেতে হয়। রাতে অনেক দেরিতে ফেরে। ক্লান্ত হওয়াতে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে রিফাত। সেই দিন আর কথা হয় না দুই জনের।।

রমণীর মোহ তে যেমন পুরুষ বেপরোয়া তেমনি রমণীর অভিমানে পুরুষ অগোছালো। রিফাত এর অবস্থাও কিছুটা অগোছালো। সে কি করবে কিনা করবে ভেবে পাচ্ছে না। মেয়েটাকে অভিমান তাকে এত উদ্বিঘ্ন করছে কেনো? কেনো বার বার মেয়েটাকে চোখের দেখো হলেও দেখতে চাইছে। চার দিন হতে চললো ইয়ানা কে সে চোখের দেখাও দেখিনি। কাজের চাপে তাকে সকাল সকাল বেরিয়ে যেতে হয়। যখন সে যায় তখন ইয়ানা ঘুমায় আর যখন সে ফিরে আসে তখনও ইয়ানা ঘুমে বিভোর। মাঝে একদিন সবার সাথে নাস্তা করার সময়ও রিফাত ইয়ানা কে দেখতে পায়নি। কাওকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করতেও দ্বিধা বোধ করছিলো রিফাত।।
ওই বেয়াদবির জন্য রিফাত আলেয়া কে দুই চারটা ধমক দেয়। আজ তার ওই কাজ টার জন্য এত কিছু। মেয়েটার বয়স এখনও কিশোরীর খাতায়,,,দুষ্টুমি তার হাতের মোয়া। তাই তাকে বেশি বকলে হিতের বিপরীত হতে পারে তার উপর বোন তার বড়ই আদরের।। আলেয়া কান্না করে দেয় ধমক শুনে। তত্পর রিফাত তাকে বোঝায়। আর বলে এরকম কাজ যেনো দ্বিতীয় বার না করে।।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

হাল্কা উষ্ণ রোদের মাঝে হাতে নোকিয়া সেট এর কিপ্যাড ফোন নিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন ইব্রাহিম সাহেব। সামনের ছোট্ট টেবিলে রাখা আদ খাওয়া গরম চা,পত্রিকা আর তার সাধের ডাইরি। এটা শুধুই ডাইরি না এটা তার সম্পত্তি, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর ৭৫ বছর বয়স ধরে তৈরি করা পুঁজি। আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব,আরো কতই চেনা জানা মানুষদের ফোন নম্বর।। কার মেয়ে বিবাহ উপযুক্ত , কার ছেলে সুপাত্র, এই সব ধরনের প্রস্তুতি তার মাথায়। কতই বিয়ের ঘটক হিসাবে তিনি নিযুক্ত।। তানাকে শুধু বলতে দেরি ‘ যদি আপনার চোখে আমার মেয়ের জন্য একটা সুপাত্র থাকে তাহলে আমায় বলবেন।’ তাদের কথা শেষ হওয়ার আগেই ইব্রাহিম সাহেব নিজের ম্যাজিকাল ডায়েরি থেকে ৫ ৬ জন বিবাহ উপযুক্ত ছেলের নাম্বার বের করে দেবে।

অনেক চিন্তা ভাবনার পর ইব্রাহিম সাহেব ফোন করে তার ছেলে মিস্টার আফতাব কে।। আব্বুর নাম্বার ভেসে ওঠার সাথে সাথেই ফোন রিসিভ কোরে কানে ধরে আফতাব হোসেন।। সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করে,,,
“আব্বা,,,তুমি ঠিক আছো তো! হঠাৎ এরকম ভাবে ফোন করলে।”
ইব্রাহিম সাহেব ডাটো স্বরে বলে,,,” আরে হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছি আমি। দাদুভাই এর ঘরের ছেলে মেয়ে না দেখে আমি কোথাও যাচ্ছি না।।”
ইব্রাহিম সাহেব এহেন কথায় অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে মিস্টার আফতাব। গলা কেশে কিছু বলতে যাওয়ার আগে ইব্রাহিম সাহেব বলতে শুরু করে,,,

“আমার কথা মন দিয়ে শোনো,,,এবার সময় চলে এসেছে দাদুভাই আর ইনু মামনির রেজিস্ট্রির। বিয়ের সময় ইনু মামনি অনেক ছোটো ছিল তাই তখন রেজিস্ট্রি হয়নি কিন্তু এখন ইনু উপযুক্ত আর দাদুভাই ও চলে এসেছে। আর বেশি দেরি করা উচিত নয় আমাদের। তুমি রেজিস্ট্রি পেপার তৈরি করতে দাও,,,আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই শুভ কাজ সেরে দিতে চাই।”
মিস্টার আফতাব কে কোনো কথা বলতে না দিয়ে ফোন কেটে দিলো ইব্রাহিম সাহেব।। এদিকে আফতাব মিয়া পড়লো এক দুভিদার মধ্যে। ছেলের আচরণ সম্পর্কে অবগত তিনি। এক রুদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন তিনি। ইব্রাহিম সাহেব এর কথা তারা দুই ভাই কোনো দিন ফেলেননি।। তাই তো, ইব্রাহিম সাহেব এর আদেশ পেয়ে কিছু না ভেবেই মুঠো ফোনে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন তার পারিবারিক উকিল উরফে কাজীর সঙ্গে,,যিনি রিফাত আর ইয়ানার আকদ সম্পন্ন করেছিলেন।

হাতে থাকা সমস্ত ফাইল এক কর্মরত ছেলের হাতে দিয়ে রিফাত উদ্যোগী হলো নার্সিং হোম এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে যাবার জন্য।।লন্ডনে এক সিনিয়র ডক্টর হিসাবে নিযুক্ত ছিল রিফাত। তার উপার্জন করা মোটা অংকের টাকা ইন্ডিয়ায় পাঠিয়ে দিত সে,,তার সমস্ত সখ,আহ্লাদ এই নার্সিং হোম টার প্রতি উৎসর্গ করেছে।মিস্টার আফতাব তার ছেলের কথায় এই নার্সিং হোম নির্মাণে নিযুক্ত হন,, এ যে তার ছেলের সপ্ন।তিনি অবশ্য একা সব করেননি সাথে ছিল রিফাত এর বন্ধু আহিল। প্রয়টাই ছিল আহিল এর কাধে।। পেশায় সে একজন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্ট।বন্ধুর সপ্ন পূরনে সেও নিজের সব টুকু লাগিয়েছে।।
লিফ্ট থেকে বেরিয়ে আসার সাথেই বেজে উঠলো রিফাত এর তিন চোকো ফোন। জ্বলজ্বল করে ভেজে উঠলো ‘ Dadu ‘ নামে সেভ করা ঝকঝকে অক্ষর লেখনি ।।সময় না নিয়ে কানে ফোন রাখতেই শোনা গেলো দাদুর সুদক্ষ কণ্ঠস্বর,,,

“দাদুভাই,,,তুমি কি এখন কাজ মুক্ত?”
দাদুর কথায় ভ্রু কুঞ্চিত হলো রিফাত এর,,,কিছুটা জিজ্ঞেসু চিত্তে প্রশ্ন করলো,,,”না আপাতত কিছু কাজ আছে,,,কেনো?”
“সে যে কাজই থাক না কেনো,,,সব রেখে তুমি ইনু মামনি কে আনতে যাও।”
“কোথায়,,,আর কেনো?”
“আহা এত প্রশ্ন কেনো? কলেজ থেকে ইনু কে নিয়ে বাড়ি ফিরে এসো দুই জনে,,,আজ সবাই এক সাথে দুপুরের খাবার খাবো।।”
বরাবর এর মত নিজের কথা শীর্ষে রেখে ফোন কেটে দিলেন ইব্রাহিম সাহেব,,কটার আগে ইয়ানার কলেজের ঠিকানা দিলেন তিনি।। এদিকে রিফাত ও দাদুর কথায় অসম্মতি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে। দাদুর উপর প্রখর অভিমান থাকলেও ,তার আদেশ পালন করা তার বংশ পরম্পরায় রক্তে বহমান। তারপর ভাবে,, সেও তো মেয়েটার সাথে কথা বলতে চায়,,এক কাজে দুই কাজ।। সময় নষ্ঠ না করে করে,,,রিফাত বেরিয়ে গেলো।

হলদে ফর্সা মুখশ্রীতে ব্যথার্থ ভাব স্পষ্ট। চোখ মুখ খিচে পায়ের পাতার উপর দুই হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে ইয়ানা। চোখ ছলছল করছে,,,জোরে নিশ্বাস ফেলছে সে। ব্যাথায় বুকটা ভারী হয়ে গেছে। আশেপাশে কলেজের ছেলে মেয়ে দের সমাহার তাই ব্যাথা অপ্রকাশ্যে রেখেছে মেয়ে টা।।কলেজের মেন গেটে পেরাতেই হঠাৎ করেই অপ্রত্যাশিত কারোর সাথে ধাক্কা খেয়ে পায়ে অত্যন্ত মন্দভাবে ব্যাথা পায় ইয়ানা। চেপে ধরে তার প্রিয় বান্ধবীর আতিকা – র হাত। মেয়েটা ইয়ানার কর্মে বিচলিত হয়,,,রাজ্যের বাহিরে ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতার গল্পের পর্বটা থামিয়ে ইয়ানা কে নিয়ে কলেজের সামনে ফুটপাত এর কাছে বসিয়ে নিজেও পাশে বসে।বৃহৎ আকারের শিউলি গাছের তলায় বসে তারা।। আসে পাশের মানুষ ঘুরে তাকালেও তাতে খুব একটা পাত্তা দিলো না আতিকা,,,

” অনেক ব্যাথা পেয়েছিস তাইনা!একদম হাঁটতে পারবি না?”
খুবই মোলায়েম কন্ঠে বলল আতিকা। ইয়ানা মাথা নিচু রেখেই না সূচক মাথা নাড়ল।আতিকা আবার বললো,,,
“আন্টি বা দাদু কে কল করবো?নাকি আমি তোকে ছেড়ে আসবো?”
ইয়ানা উত্তর দিতে পারলো না।এবার কথা বলতে গেলে সে নির্ঘাত কেঁদে ফেলবে। বান্ধবীর মৌনতায় উত্তর পেলো আতিকা। দুটো শ্বাস ছেড়ে ভাবতে লাগলো কি করা উচিৎ।।
রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে রিফাত যেই না কলেজের দিকে পা বাড়াবে তার আগেই চোখে পড়ে রাস্তার ওপর পাশের ফুটপাতে মাথা নিচু করে বসে থাকা ইয়ানার দিকে সহসা ভ্রু কুঞ্চিত হলো। মেয়েটার শরীর কেমন কাপছে,,,কি হয়েছে ওর?চমকে উঠলো রিফাত। বুকের বা পাশ ধক করে উঠল ক্ষণেই।। উতলা পায়ে রাস্তার ওপারে গিয়ে,,,ফট করে বসে পড়লো ইয়ানার সামনে। শঙ্কিত হলো ইয়ানা সাথে আতিকা।
আচমকা রিফাত কে আশা করেনি ইয়ানা।সংগোপনে উচ্চারণ করলো,,,”আপনি! ”

“কী হয়েছে তোমার? পায়ে হাত দিয়ে বসে আছো? ব্যাথা পেয়েছো?,,,দেখি,,,”
ইয়ানা শুধুই তাকিয়ে রইল রিফাত এর দিকে। এত বিচলিতো কণ্ঠ কেনো উনার?এত উদ্বিগ্নতা কিসের ? এখানেই বা কি করছে উনি?এই মানুষটাই চার দিন আগে তার সাথে কি করেছে,ভুলে গেছে নাকি লোকটা!চার দিন পালিয়ে বেরিয়েছে ইয়ানা,,লোকটার সম্মুখে হতে দূরে থেকেছে।।ইয়ানা এবার মাথা নিচু রেখেই চোখ চারিদিকে ঘুরিয়ে দেখলো তার ক্লাস মেট,সিনিয়র সহ সমস্ত মেয়েদের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রিফাত এর উপর। চোখ দিয়েই মূলত গিলে খাচ্ছে তাকে।।ইয়ানা চোয়াল শক্ত করে রাখলো কিছুই বললো না। লোকটার প্রতি রাগ হঠাৎ যেনো দ্বিগুণ আকার ধারণ করলো।,,

ইয়ানার চুপ থাকা দেখে রিফাত আবার প্রশ্ন করলো,,,”ইয়ানা,,,আমি কিছু জিজ্ঞাসা করলাম উত্তর দাও। পায়ে ব্যাথা পেয়েছো? নাকি অন্য কিছু?”
“আপনি এখানে এসেছেন কেনো?আমার যাই হোক তাতে আপনার কি?চলে যান আপনি,,,”
ইয়ানার শক্ত ভাষী স্পষ্ট কাটব্য কথায় মাথা গরম হয়ে যায় রিফাত এর।চার দিন পর মেয়েটাকে দেখছে সে,,,একই বাড়ি থেকেও এত দূরত্ব। দূরত্ব রিফাত নিজেই চেয়েছে কিন্তু রিফাত নিজের করা কর্ম ভুলে যায়নি।সে জানে তার ভুলের অনুতাপে ইয়ানার খোঁজে মশগুল ছিলো। তার কর্মের জন্য মেয়েটা তার উপরে রেগে আছে।। জোরে নিশ্বাস নিতে শুরু করে। চোয়াল শক্ত সাথে হাত মুঠো বদ্ধ করে নেয়। নিজেকে সংযত রাখতে চেষ্টা চালাতে থাকে।
এদিকে ইয়ানা আর রিফাত এর কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে যায় বেচারি আতিকা। আমতা আমতা করে রিফাত এর উদ্দেশ্যে বলে,,,

“আসলে দাভাই,,,ইয়ানা পায়ে অনেক ব্যাথা পেয়েছে হাঁটতে পাচ্ছে না ও।”
ইয়ানা আতিকার দিকে ফুটন্ত গরম চোখে তাকালো।। আতিকার কথা শুনে রিফাত ইয়ানার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। সমস্ত রাগ সাইডে করে মেয়েটার পানে তাকিয়ে বললো,,,,” আমার হাত ধরে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করো,,,”
“আমি কোথাও যাবো না আপনার সাথে,,,বললাম তো চলে যেতে,,,”
ইয়ানার কথা শুনে রিফাত এর মনে হচ্ছে মেয়েটাকে ধরে উল্টো এক আচার মারতে। মেয়েটা ভাঙবে তবু মচকাবে না। রিফাত নিজের চার আঙ্গুল কপালে কিছুক্ষণ ঘষে এদিক সেদিক তাকিয়ে দাঁতের দাঁত পিষে বলে,,
“সিনক্রেট করোনা ইয়ানা, যা বলছি সেটা শোনো না হলে আমি সিনক্রেট করতে শুরু করলে তোমার জন্য খুব একটা ভালো হবে না।”

ভয়াবহ হুমকি শুনে ইয়ানার শরীর কেপে উঠল। মনে মনে ভয়ের হাওয়া বয়ে গেলেও নিজেকে শক্ত পাথরের মত একই জায়গায় বসিয়ে রাখল। সে যাবে না মানে যাবেনা।।
ইয়ানা ঘাড় ত্যাড়া হলে রিফাত সেই স্কুলের হেডমাস্টার।।আর কি ,,সময় ব্যয় না করে ইয়ানাকে এক ঝটকায় শূন্যে তুলে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল রিফাত।। ইয়ানা হতগম্ভ হলো,,,চমকে উঠলো,,ভয় পেলো,,,আকড়ে ধরলো রিফাত এর কাধ।। আতিকা সহ আশেপাশের সমস্ত ছেলে-মেয়ে এই ঘটনায় হতবাগ হলো। কেউ কেউ কানাঘোষা তো কেউ মিটিমিটি হাসির সাথে এ দৃশ্য উপভোগ করতে লাগলো।।
ইয়ানা পারলে লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যায়। কিছুটা ছটফট করলে রিফাত তাকে আরও বেশি গভীরভাবে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয়।।,,, আর খুবই স্বাভাবিক কণ্ঠে ইয়ানার উদ্দেশ্যে বলে,,,

“আমি আগেই ওয়ার্নিং দিয়েছিলাম।।তাই এখন চুপচাপ গাড়িতে বসানোর আগ অব্দি এভাবেই থাকো বেশি ছটফট করলে পায়ের সাথে কোমর ও ভাঙবে। মাইন্ড ইট,,,, and you know I never change my words.”
বুকটা হুহু করে উঠলো ইয়ানার।শুকনো গলায় ঢেও খেলে গেল বারংবার।।উথাল পাথাল ঢেউ খেলানো অনুভুতিরা ইয়ানা কে কাপিয়ে তুলছে।। রিফাত ও কেমন অগোছালো হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটার সান্নিধ্য মনেপ্রানে অজানা অচেনা এক অদ্ভুত অস্থিরতার জন্ম দেয়।। রিফাত ইয়ানার দিকে তাকাতেই দেখলো মেয়েটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। দুই জনেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।।

প্রায় পনেরো মিনিট ড্রাইভ করার পর রিফাত গাড়ি থামালো।।কোনো এক নিলিবিলি রোড এর পাশে।
ইয়ানা ঘাড় ঘুরিয়ে রিফাত এর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে নেবে তার আগেই রিফাত বললো,,,
“পা দেখাও,,,,”
ইয়ানা ভরকানো চিত্তে বললো,,,”জ জ্বী!”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৫

রিফাত উত্তর দিল না সোজা ইয়ানার ব্যাথা পাওয়া ডান পা নিজের কোলের ওপর রাখলো। ইয়ানার শরীর জুড়ে শিহরণ খেলে গেল। পা নিজের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করলে রিফাত গরম চোখে তাকালো।। ইয়ানা থেমে গেল।।
কিছুক্ষন ব্যাথা পাওয়া যায়গায় হাত বুলিয়ে রিফাত ইয়ানার প্লাজু কিছুটা তুলে দেয়। এবার ইয়ানা থরথর করে কেঁপে উঠল। শরীর অবশ হয়ে আসছে।। হাত বাড়িয়ে রিফাত এর হাতের উপর হাত রেখে ছলছল চোখে তাকিয়ে কম্পনরত কন্ঠে বলল,,,
“ছাড়ুন না,,,,ব্যাথা লাগছে।”
এবার রিফাত ঘটিয়ে ফেললো অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ঘটনা,,,,,,

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৭