Unpredictable part 4
Jannatul firdaus mithila
রেসিং শেষ হতেই সদ্য বিজয়ী Shadow Man কে নিয়ে একপ্রকার হৈ-হুল্লোড় পড়ে গিয়েছে চারপাশে। সবাই একে একে ছুটে এসে ঘেরাও করেছে তাকে। কেউ কেউ মুখ দেখতে চাচ্ছে, তো আবার কেউ কেউ ছবি তুলতে চাচ্ছে। Shadow Man কিয়তক্ষন চুপচাপ বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে হুট করেই আবার বাইক স্টার্ট দিলো।তা দেখামাত্রই আশেপাশের সবাই সরে দাঁড়ালো বাইকের সামনে থেকে। বাইক ফের ছুটলো হাওয়ার বেগে। ব্যস্ত রাস্তার ধুলো উড়িয়ে Shadow Man চলে গেলো নিজ গন্তব্যে।এদিকে তার চলে যাওয়ার পথে একরাশ আকুলতা নিয়ে তাকিয়ে আছে সকলে। এবারের উইনারকে ও তারা দেখত পারলোনা, এ যে বড় কষ্টের ব্যাপার!
নেব্রাস্কা মিডওয়েন্ট থেকে থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের জনমানবহীন রাস্তার একপাশে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে একটি রোলস রয়েস ড্রপটেইল গাড়ি। চারপাশের সাদা তুষারের কোলে কালো গাড়িটি কেমন চিকচিক করছে যেন! রাত গভীর! আশেপাশে নেই কারো উপস্থিতি। তবে কিয়তক্ষন বাদেই সেখানে শো শো করে ছুটে এলো Shadow Man এর বাইকটি। কালো জ্যাকেট,কালো হ্যালমেট পরিহিত Shadow Man তার বাইকটিকে গাড়ির কাছ থেকে খানিকটা দূরে দাঁড় করালো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
তারপর আশেপাশে একপলক সর্তক দৃষ্টি ফেলে পরক্ষণেই হাতদুটো থেকে গ্লাভস গুলো খুলতে খুলতে এগিয়ে গেলো গাড়ির দিকে। গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে আছেন একজন বিদেশি মধ্যবয়স্ক পুরুষ। গায়ে তার সাদা-কালো মিশেলের ড্রাইভারের পোশাক। মাথায় কালো রঙা টুপি। ড্রাইভার ঠায় বসে আছেন নিজ স্থানে। ওদিকে শেডো ম্যান নিঃশব্দে গাড়ির ব্যাকসিটে বসলো। হাত বাড়িয়ে গা থেকে জ্যাকেটটা খুলে নিলো ধীরে ধীরে। পরক্ষণে নিজের বলিষ্ঠ গায়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা স্কিনি টিশার্টটা একটানে খুলে নিলো সে। মুহুর্তেই সুদর্শন যুবকের লোমহীন বুক এবং পেটানো দেহখানা উম্মুক্ত হলো! সে-ই সাথে উম্মুক্ত হলো যুবকের ঘাড় থেকে পিঠ অবধি একেঁ রাখা ঈগলের ট্যাটুখানা। আজ বুঝি তার বলিষ্ঠ বাহুতেও গোটা কয়েক ল্যাটিন শব্দের ট্যাটুদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বোধহয় সদ্যই সে করিয়েছে তা। যুবক উম্মুক্ত গায়ে-ই দু’হাত সিটের ওপর সটান করে বিছিয়ে দিয়ে ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে শান্ত কন্ঠে বললো,
“ এসির পাওয়ার বাড়াও!”
ড্রাইভার বাধ্য মানুষ। মাথাটা খানিক ঝাঁকিয়ে তিনি তক্ষুনি বাড়িয়ে দিলেন এসির পাওয়ার। মিনিট খানেকের মধ্যেই গাড়ির ভেতরকার পরিবেশ হয়ে গেলো হিমশীতল! যুবক চোখবুঁজে পেছনে সিটের গায়ে মাথা এলিয়ে বসলো। গম্ভীর কন্ঠে আদেশ ছুড়ে বলল,
“ স্টার্ট দা কার!”
ড্রাইভার তৎক্ষনাৎ গাড়ি স্টার্ট দিলেন।মুহূর্তেই অন্ধকার তুষার পড়া রাস্তাটায় আলো ছড়িয়ে পড়লো গাড়ির ফ্রন্ট লাইটের। ধীরে ধীরে গাড়ি ছুটলো নিজ আঙ্গিকে। এদিকে যুবক এখনো চোখ বুঁজে আছে। তার বন্ধ চোখের পাতায় এখনো ভাসছে সে-ই পয়জন রাইডারের প্রতিচ্ছবি।আর কেউ জানুক বা না জানুক, সে বেশ জানে সেটা আয়রা! তাইতো যুবক আজ অংশ নিয়েছে সেখানে। আয়রার কথা ভাবতে ভাবতেই যুবক বাঁকা হাসলো খানিকটা। বিরবির করে বলল,
“ মাই ফা*কিং লেডি টুইঙ্কেল! ওহহ! আ’ম ইয়েগারলি ওয়েটিং ফর ইউ।”
রাত তিনটে!
মধ্যরাত হলেও বোস্টনের সাউথেন্ড শহর তার ককলেট এবং আর্টি বার গুলোর জন্য বরাবরই জমজমাট থাকে।আজও হলো তাই। ককটেল বারের চারপাশে জ্বলছে বিভিন্ন রঙের ঝিলিক বাতি। চারিদিকে হাটাহাটি করছে প্রেমিক যুগল।কেউ কেউ আবার নিজেদের মাঝে বেহায়াপনায় ব্যস্ত! চারিদিকে যখন ব্যাপক কোলাহল, ঠিক তখনি ককটেল বারের টিকিট কাটার লম্বা লাইনে এসে দাঁড়ালো এক অজ্ঞাত যুবক। যুবকের ঈগল দৃষ্টি চারদিকে কেমন এলোমেলো দৃষ্টি ফেলছে।বরাবরই তা গিয়ে নিবদ্ধ হচ্ছে মেয়েদের ওপর। যুবকের কপাল অবধি ঢেকে আছে গ্রে রঙের হুডির ক্যাপে। হাতদুটো তার ঢুকিয়ে রাখা পেটের কাছের পকেটে। যুবক কাঁপা কাঁপা শরীরে দাঁড়িয়ে আছে লাইনের ভেতর। আজ শরীরে তার ড্রা*গ যায়নি এখনও। তাই বোধহয় শরীরে এতো কাঁপুনি হচ্ছে তার! যুবক মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে রইল চুপচাপ। ঠিক তখনি টিকেট কাউন্টারে বসে থাকা নিগ্রো ব্যাক্তিটি তাকে ডেকে বলে ওঠে,
“ হেই মিস্টার! সামনে আসুন তারাতাড়ি! আপনি দেখছেন না? আপনার পেছনে কতবড় লাইন দাঁড়িয়ে আছে। টিকেট কাটতে চাইলে সামনে আসুন, নাহলে লাইন ছেড়ে সরে দাঁড়ান।”
কাউন্টারে বসা ব্যাক্তিটির এহেন শক্ত কন্ঠে যুবকের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো অলক্ষ্যে! সে ধীর পায়ে এগিয়ে আসে কাউন্টারের কাছে। একহাতে টিকেটটা হাতে নিয়ে, চুপচাপ কিছুক্ষণ লোকটার দিকে তাকিয়ে থেকে চলে গেলো সেখান থেকে।শরীরের যা অবস্থা তার! আপাতত ঝামেলা না করাই ভালো। যুবক ঘোলাটে চোখে ঢুলু ঢুলু পায়ে বারে ঢুকলো। চারিদিকে ঝিকমিক করছে রঙিন লাইট, বারের একপাশ পুরোটা জুড়ে এলকো*হল কাউন্টার। বারের ঠিক মাঝ বরাবর কিছু শর্ট ড্রেস পড়া নারীগণ আবেদনময়ী নাচঁন ভঙ্গিতে ব্যস্ত! যুবক একপলক তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়। তারপর নিজের দুলতে থাকা শরীরটা কোনোমতে টেনেটুনে নিয়ে গিয়ে বসলো এলকোহল সেকশনের দিকে। কিয়তক্ষন সময় নিয়ে ওয়েটারকে ডাক দিয়ে বলে,
“ গিভ মি আ স্ট্রং ভোডকা!”
ওয়েটার মাথা নাড়িয়ে ব্যস্ত হলো ভোডকা তৈরীতে। মিনিট দুয়েক পরেই তৈরি হয়ে গেলো তা! ওয়েটার মহাশয় ছোট্ট একটা কাঁচের গ্লাসে পানীয়টা ঢেলে যুবকের দিকে ঠেলে দিলেন।যুবক কিছুক্ষণ গ্লাসের নীলচে রঙা পানীয়টার দিকে তাকিয়ে থেকে বাঁকা হাসলো কেন যেন! নিভু নিভু চোখদুটো বহুকষ্টে খুলে রেখে যুবক যেই না গ্লাসটা হাতে নিবে ওমনি কেউ একজন এসে ফট করে তুলে নিলো গ্লাসটা। যুবক তৎক্ষনাৎ শক্ত চোখে তাকায় পাশের মানুষটার দিকে। তবে সে চাহনি খুব বেশিক্ষন স্থায়ী হলোনা তার। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কমবয়সী বিদেশিনীকে দেখেই তার সকল বিরক্তি, রাগ গুলো যেন একপ্রকার হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো! এদিকে বিদেশিনী চোখের পলকে গ্লাস থেকে ভোডকা টুকু গিলে নেয় একসাথে। পুরোটা গিলে নিয়ে সে কেমন হাসিমুখে তাকালো যুবকের দিকে! নিজে থেকে নিজের ডানহাতটা যুবকের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিজস্ব ভাষায় সহাস্যে বলল,
“ হাই! আ’ম লুসি! আর তুমি?”
যুবক তার কাঁপা কাঁপা হাতটা দিয়ে চেপে ধরল লুসির কোমল হাতখানা। মুহুর্তেই চমকে উঠে সে। এতো নরম হাত? এই মেয়ে মানুষ তো? যুবক হতবাক চোখে তাকিয়ে রইলো শুধু! ওদিকে লুসি ফের বললো,
“ কী হলো? বললে না যে! নাম কী তোমার?”
যুবক এবার মাথা তুলে তাকায় লুসির দিকে। হাত বাড়িয়ে নিজের মাথার ওপর থেকে হুডি ক্যাপটা সরিয়ে দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,
“ স্যামুয়েল,স্যামুয়েল টেইলর। লোকে স্যাম বলেই ডাকে।”
লুসি হা করে তাকিয়ে আছে। যুবকটা দেখতে তো বেশ হ্যান্ডসাম! এতক্ষণ হুডি মাথায় দিয়ে রাখায় ঠিকঠাক মতো দেখা যায়নি তার মুখ। তবে এখন দেখতে পাচ্ছে সে। এদিকে লুসিকে নিজের দিকে ওমন হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে মনে মনে বাঁকা হাসলো স্যাম। পরক্ষণে লুসির কোমল হাতের মুঠো থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
“ কোথায় থাকো তুমি? আব… আই হোপ তোমাকে ‘ তুমি’ করে বললে রাগ করবে না।”
লুসি তৎক্ষনাৎ ডানে-বামে মাথা নাড়ায়। যার অর্থ সে বিলকুল রাগ করবেনা। স্যাম চমৎকার হাসলো এবার। তা দেখে লুসি বোধহয় আরেকটু বেপরোয়া হলো। সে তৎক্ষনাৎ নিজেদের মধ্যকার দুরত্বটা খানিক ঘুচিয়ে দাঁড়াল। স্যামের বুকের ওপর হাত রেখে ফ্লার্টি সুরে বললো,
“ তুমি খুব হ্যান্ডসাম! আর তোমার হাসিটা…উফফ!”
এটুকু বলেই নিজের নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে লুসি। স্যামও কেমন ঠোঁট কামড়ে হাসলো! সে তৎক্ষনাৎ মেয়েটার কোমর চেপে তাকে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে দিলো একটানে। হাত বাড়িয়ে আলতো করে লুসির কোমল গালে আঙুলের নরম স্পর্শ একেঁ দিয়ে বলতে লাগলো,
“ আই নো আ’ম হ্যান্ডসাম। বাট ইউ আর অলসো ড্যাম হট!”
এটুকু প্রশংসাতেই গলে পানি লুসি। সে কেমন লাজুক হেসে স্যামকে নিচু কন্ঠে বলল,
“ তুমি দেখছি ভালোই ফ্লার্টিং জানো!”
এপর্যায়ে লুসির কোমরের ওপর বেঁধে রাখা হাতদুটো আরেকটু শক্ত হয়ে এলো স্যামের। মেয়েটার লিপস্টিক পড়া ঠোঁটের পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে সে বলল,
“ কেনো তুমি ইনজয় করছোনা? আমি কী তবে ফ্লার্ট করা বন্ধ করে দিব?”
তৎক্ষনাৎ হকচকিয়ে ওঠে লুসি।দু’ধারে মাথা নাড়িয়ে বলে ওঠে,
“ এই না না! আমি এভাবে বলতে চাইনি। আসলে আমি…”
“ আর ইউ ইন্টারেস্টেড ইন আ ক্যাজুয়েল নাইট টুগেদার?”
মুখের বাক্যটুকু শেষ অবধি করতে পারেনি লুসি।তার আগেই কথার পিঠে স্যামের এহেন সোজাসাপটা প্রস্তাবে হতভম্ব বনে গেলো মেয়েটা। হতবাক চোখে তাকিয়ে রইলো শুধু। এদিকে স্যাম তাকিয়ে আছে উত্তরের আশায়। কিয়তক্ষন যেতেই সে কেমন ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ায় বসা ছেড়ে। লুসিকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলেই পেছন থেকে তার হাতের কব্জি চেপে ধরে লুসি। স্যাম থামলো। ঠোঁটের কোণে স্পষ্ট পৈশাচিক হাসি ফুটিয়ে পরক্ষণেই তা নিভিয়ে ফেললো। মনে মনে বেশ খুশি হলো স্যাম। ঘাড় বাকিয়ে পেছনে ফিরে সর্তক কন্ঠে জানতে চাইলো,
“ আর ইউ শিওর?”
লুসি লাজুক হাসলো। সম্মতি জানালো নিরবে…
গাড়ির ব্যাকসিটে দু’জন সদ্য পরিচিত যুগল মত্ত হয়েছে তাদের আদিম খেলায়।গাড়ির ব্যাকসিটে বসে আছে স্যাম,তার কোলে বসে আছে লুসি।মেয়েটার পরনের একমাত্র কাপড়খানাও পড়ে আছে অন্য কোথাও। স্যাম আশ্লেষে টানছে মেয়েটার ওষ্ঠপুট। তার হাতের অবাধ্য বিচরণ চলছে মেয়েটার সর্বাঙ্গে। সে স্পর্শে বারংবার কেঁপে কেঁপে ওঠছে লুসি।চোখবুঁজে নিজেকে সামলে রাখার বৃথা প্রয়াসে মত্ত সে।তবে স্যাম থামছে না। প্রায় মিনিট পাঁচেক পর স্যাম মেয়েটার ওষ্ঠপুট ছেড়ে দিলো। লুসির কপাল বরাবর কপাল ঠেকিয়ে হাঁপিয়ে ওঠা কন্ঠে বলতে লাগলো,
“ উঁহু! ফিল পাচ্ছি না!”
লুসি ভ্রু কুঁচকায় এহেন বাক্যে।পরক্ষনে বাকাঁ হেসে খানিকটা ঠেস দিয়ে বলে ওঠে,
“ আর ইউ ট্রায়িং টু বি আ লিটল ওয়াইল্ড?”
স্যাম ঠোঁট পিষে হাসলো। একহাতে মেয়েটার চুলগুলো পেছন থেকে মুঠোবন্দি করে নিয়ে হিসহিসিয়ে বলল,
“ মেবি! আ’ম শিওর ইউ উইল ইনজয় ইট।”
পশ্চিমা সংস্কৃতির মেয়ে লুসি! ক বললেই কলিকাতা বুঝে নেয় নিজ আঙ্গিকে। সেক্ষেত্রে স্যামের এহেন কথায় মেয়েটা কেমন আপ্লূত হলো মনে হচ্ছে! সে তৎক্ষনাৎ নড়েচড়ে বসলো স্যামের কোলে।দু’হাতে স্যামকে জড়িয়ে ধরে মাথা রাখলো তার কাঁধে।লুসির উষ্ণ নিশ্বাস এসে পড়ছে স্যামের কাঁধ বরাবর। তক্ষুনি কেন যেন গা শিরশির করে ওঠে স্যামের।সে তড়াক একহাতে ঘাড় চেপে ধরে লুসির। মেয়েটার মুখটা নিজের মুখের একদম কাছাকাছি নিয়ে এসে নিচু কন্ঠে বলে,
“ তুমি তোমার চোখদুটো একটু বন্ধ করো তো!”
লুসি তেমন কিছু না ভেবেই চোখদুটো বন্ধ করলো। তবে লুসির বন্ধ চোখের পাতা তিরতির করে কাপঁছে দেখে স্যাম দিলো এক ধমক!
“ স্টপ মুভিং ইউর আইস!”
ভড়কে যায় লুসি।তড়াক চোখদুটো মেলে তাকায় মেয়েটা।হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে থেকে বলল,
“ কী হলো? এভাবে ধমকাচ্ছো কেনো?”
স্যাম নাক ফুলিয়ে নিশ্বাস ফেললো খানিকটা। সুদর্শন যুবকের চোখেমুখে কেন যেন স্পষ্ট ফুটে উঠেছে রাগের আভাস। স্যাম ফের শক্ত গলায় বললো,
“ চোখ বন্ধ করো!”
লুসি এবার ভয় পেলো মনে হচ্ছে! সে তৎক্ষনাৎ শুকনো ঢোক গিলে চোখদুটো বুজলো। স্যাম একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার মুখের দিকে। কিন্তু পরমুহূর্তেই লুসির নিশ্বাস পড়তে দেখে ভ্রু কুঁচকে আসে স্যামের।ছেলেটা তক্ষুনি দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে,
“ নিশ্বাস ফেলা বন্ধ করো আয়রা!”
তৎক্ষনাৎ কপাল কুঁচকে আসে লুসির। চোখদুটো সঙ্গে সঙ্গে মেলে তাকায় স্যামের দিকে।এমুহূর্তে মেজাজ বিগড়ে গেলো মেয়েটার। তার সাথে থাকাকালীন কি-না এই ছেলে অন্য একটা মেয়ের কথা বলছে? এটা আবার কেমন অভদ্রতা? লুসি মেজাজ দেখিয়ে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো,
“ হোয়াট দা হেল! আমি কোনো আয়রা নই,আমি লুসি!”
পরক্ষণেই আবার দাঁত খিঁচে নিচু কন্ঠে বললো,
“ অল ম্যানস আর ডগ!”
কথাটা বলতে দেরি,তার ঘাড় বরাবর শক্ত হাতের থাবা পড়তে দেরি হলোনা। স্যাম শক্ত হাতে চেপে ধরেছে লুসির ঘাড়। ব্যাথায় চোখমুখ কেমন কুঁচকে আসছে লুসির। সে স্যামের হাতদুটো থেকে নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা চালাতেই স্যাম ঘটালো আরেক কান্ড। একহাতে প্যান্টের পকেট থেকে বেশ ছোটোখাটো আকারের একটা ইনজেকশন বের করে তৎক্ষনাৎ বসিয়ে দিলো লুসির ঘাড় বরাবর। লুসি ছটফটাচ্ছে ছাড়া পেতে,তবে স্যামের হাত থেকে ছাড়া পাওয়া কি আর ওতো সহজ? প্রায় মিনিট পাঁচেক চললো মেয়েটার ছটফটানি, অতঃপর …. সবটা শান্ত, নিরব হয়ে গেলো। মেয়েটার উষ্ণ দেহখানা ধীরে ধীরে শীতল হতে লাগলো। নিশ্বাস থমকে গেলো মুহুর্তেই।স্যাম একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার বুক বরাবর। যে-ই দেখলো বুকের উঠানামার গতি থেমে গিয়েছে ওমনি তার ঠোঁটের কোণে আবারও দেখা মিললো সে-ই পরিচিত পৈশাচিক হাসির। স্যাম আলতো করে মাথা রাখলো লুসির উম্মুক্ত বক্ষে। সেথায় নাক ঘষে নেশালো কন্ঠে বলতে লাগলো,
“ এবার ফিল আসবে!”
ধরণীর নিকষ কালো অন্ধকারের বুক চিঁড়ে দেখা মিলেছে ভোরের আলোর।মাত্র HER ওমেন্স হোস্টেলের সামনে এসে দাঁড়ালো একটি প্রাইভেট কার। আশেপাশে তখনও ঠিকঠাক আলো ফুটেনি ভোরের। কিয়তক্ষন বাদে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে আয়রা। সেই চিরায়ত গম্ভীর মুখাবয়বে। গাড়ি থেকে নেমেই সে হাঁটা ধরলো হোস্টেলের মেইন গেটের দিকে। সেখানকার দায়িত্বরত দারোয়ান তাঁকে দেখেই গেট খুলে দিলেন। আয়রাও আর কিছু না বলে ঢুকে পড়লো ভেতরে। হোস্টেলের সামনের ড্রাইভওয়ে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই গা থেকে লং কোটটা খুলে নিলো আলগোছে। তারপর সেটা হাতে ঝুলিয়ে একহাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে হাঁটতে লাগলো নিজ আঙ্গিকে।
ওমেন্স হোস্টেল — সেকশন (১)
মেইন দরজার কাছে এসে দাঁড়াতেই আয়রার সামনে এসে দাঁড়ালো মার্টিন। তিনি এসেই জিজ্ঞেস করে ওঠেন,
“ লাস্ট নাইট কোথায় ছিলে আয়রা?”
আয়রা কিয়তক্ষন চুপ থেকে বলল,
“ পেশেন্টের বাড়িতে স্টে করতে হয়েছে।”
মার্টিন বোধহয় বিশ্বাস করলো সে বাক্য।তার চোখেমুখে তো তেমনটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সে তৎক্ষনাৎ রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ালো। আয়রাও চুপচাপ ঢুকে পড়লো বাড়িতে। বড় লিভিং রুমটা পেরিয়ে সিঁড়ির কাছে যেতেই মিস এমিলি পেছন থেকে ডেকে ওঠেন আয়রাকে।
“ আরু!”
আয়রা থমকায়।ঘাড় বাকিয়ে পেছনে তাকায়। মিস এমিলি গায়ে শাল জড়িয়ে এগিয়ে আসেন ধীর কদমে। মেয়েটার সারা মুখে একবার স্থির দৃষ্টি বুলিয়ে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
“ কোথায় ছিলে আরু?”
আয়রা কিছুক্ষণ নিরব চোখে তাকিয়ে রইলো।হয়তো মনে মনে কথা সাজাতে ব্যস্ত মেয়েটা।এমিলি তখন আলতো হেসে বলে ওঠেন,
“ ভুলেও মিথ্যে বলোনা আরু। কেননা তুমি নিজেও খুব ভালো করেই জানো, তুমি মিথ্যে বলার ক্ষেত্রে ঠিক কতোটা কাঁচা!”
আয়রা ফোঁস করে নিশ্বাস ফেললো। বুকের কাছে দু’হাত বেঁধে সটান দাঁড়িয়ে বললো,
“ রেসিং এ গিয়েছিলাম মিম্মি!”
হঠাৎ এহেন কথায় আঁতকে ওঠেন এমিলি। ভড়কে যাওয়া কন্ঠে বললেন,
“ আবারও? তুমি আবারও সে-ই রিস্কি রেসে গিয়েছিলে আরু? কিন্তু কেনো? তোমার কী একটুও ভয় লাগেনা আরু? যদি কিছু হয়ে যেত?”
শেষের কথাটুকু শুনে কেন যেন শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে হেসে ওঠে আয়রা। বুকের কাছ থেকে হাতদুটো ছেড়ে দিয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়ে বললো,
“ হলেও নাহয় হতো! এটলিস্ট মরে গিয়ে বেঁচে যেতাম।ইশশ্ কেনো যে হয়না একবারও!”
সিঁড়ি বেয়ে চলে গেলো আয়রা।অথচ তার চলে যাওয়ার পথে ছলছল চোখজোড়া নিয়ে তাকিয়ে রইলেন এমিলি। প্রতিবার মেয়েটার এরূপ কথাগুলো কেন যে এতো কষ্ট লাগে তার!
ক্লান্ত দেহটা নিয়ে ঘরে ঢুকে আয়রা।তবে ঘরে ঢুকতেই ভ্রু দ্বয়ের মাঝে গোটাকতক ভাজ পড়লো তার। বিছানার দু’ধারে গা গুটিয়ে বসে আছে স্নেহা আর আরোহী।আয়রা তেমন কিছু না বলেই ভেতরে ঢুকলো।এদিকে আয়রাকে দেখে দুজনেই কেমন হকচকিয়ে বলে ওঠে,
“ আরু! বিডি থেকে কল এসেছিল তোর জন্য।”
কাবার্ডের কাছে দাঁড়িয়ে আছে আয়রা। হয়তো খুঁজছে কিছু। স্নেহা এবং আরোহীর এহেন কথায় সে তেমন পাত্তা না দিয়েই বলল,
Unpredictable part 3
“ হুম! কী বললো?”
এপর্যায়ে থেমে গেলো আরোহী। স্নেহা কিছুক্ষণ সময় নিয়ে শোকাবহ কন্ঠে বলল,
“ তোর বড় ফুপার ভাই না-কি গতকাল রাতে গুরুতর এক্সিডেন্টে মারা গেছে আরু। গতকাল রাতেই বিডি থেকে কল দিয়েছিল তোর আম্মি।তিনিই বললেন কথাটা!”
হঠাৎ এহেন মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাতদুটো থেমে গেলো আয়রার।পেছন থেকে আরোহী ইন্না-লিল্লাহ পড়লেও আয়রা কেমন সশব্দে বলে উঠল,
“ আলহামদুলিল্লাহ!”
