তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩০
নওরিন মুনতাহা হিয়া
আদ্রিয়ানের কান্না মিশ্রিত কণ্ঠ হয়ত মেঘ শুনল কয়েক মুহূর্তে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শান্ত হয়ে নীরব থাকল। আদ্রিয়ান চোখ বন্ধ করে মেঘের শরীরের ঘ্রাণ অনুভব করছে কি অদ্ভুত মিষ্টি এক সুভাস ভেসে আসছে মেঘের শরীর থেকে। নরম মোমের ন্যায় তুলতুলে শরীর মেঘের, যেনো একটু ছুঁয়ে দিলেই গলে পড়বে।দীর্ঘ সময়ের নীরবতা ভেঙে মেঘ তার হাত দিয়ে ঠেলে আদ্রিয়ানের থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রয়াস করে। আদ্রিয়ান এইবার আর বাধা দিল না মেঘকে ছেড়ে দেয় তবে কোল থেকে উঠে যেতে দেয়নি।
আদ্রিয়ানের কোলে বসে থাকা অবস্থায় মেঘ তাকায় একপলক আদ্রর চোখের দিকে। চোখের পাপড়ির নিচে বিন্দু বিন্দু পানি জমে রয়েছে এখন শুকায়নি তার মানে আদ্রিয়ান সত্যি কান্না করেছে? কিন্তু কেনো? শুধুমাএ মেঘের সাথে সংসার করার জন্য? আর হঠাৎ আদ্রিয়ান আমেরিকা ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যেতে চাই কেনো? হাসপাতালে জিয়া আ’ত্মা’হ’ত্যা করার ঘটনা নিয়ে কি কোনো ঝামেলা হয়েছে? আদ্রিয়ানের মতো এমন শক্ত মনের মানুষ হঠাৎ করে ভেঙ্গে পড়ার কারণ কি? মেঘ শান্ত স্বরে বলে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
— হঠাৎ আপনার কথার ধরণ পাল্টে যাওয়ার কারণ কি আদ্রিয়ান স্যার? হাসপাতালে জিয়ার আ’ত্মা’হ’ত্যা করার বিষয় নিয়ে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?
আদ্রিয়ান হয়ত ভাবল যে মেঘ তার শেষ সুযোগ দেওয়ার কথার কোনো উত্তর দিবে। কিন্তু মেঘ তা করল না! মেঘের ভাবভঙ্গি দেখে সন্দেহ হয় আদ্রিয়ানের, মেঘই কি মালিহা?মেঘের কথার বিপরীতে আদ্রিয়ান হাসপাতালে জিয়ার ঘটনা কথা বলল
— হুম , জিয়া আত্মাহত্যা করার আগে একটা সু’ই’সা’ই’ড নোট লিখে গেছে?
আদ্রিয়ানের মুখে সুইসাইড নোট শব্দটা শুনে মেঘ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল
— সু’ই’সাই’ড নোট মানে!
— হুম সুই’সা’ইড নোট যেখানে জিয়া স্পষ্ট লিখে গেছে যে ওর আ’ত্মা’হত্যা করার মূল কারণ আমার প্রতারণা। আমি জিয়াকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওর সাথে অবৈধ শা’রি’রীক সম্পর্ক করেছি।
— কিন্তু আপনার সাথে তো জিয়া ম্যামের কোনো শারি’রী’ক সম্পর্ক ছিল না? তবে ওনি সুই’সাই’ড নোটে এই মিথ্যা কথা কেনো লিখেছেন?
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ার মৃদু হাসি দিয়ে উত্তর দেয়
— মেঘ তুমি এখন জিয়ার আসল রূপ দেখনি। জিয়া একপ্রকার সাইকো আর লোভী মেয়ে ও জানে যদি ওর আত্মাহত্যা করার মিথ্যা নাটক সাজায়৷ আর সুইসাইড করার আগে চিঠিতে আমার নাম লিখে যায় তবে আমি ফেঁসে যাব। আমেরিকার নারী নিযার্তন আইন অনুযায়ী আমাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। হয়ত প্রতারণার অভিযোগ আমার জেল হতে পারে যার ফলে আমার ডক্টরি কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে। আমার ডক্টরি লাইসেন্স বাতিল হয়ে গেলে আমি কোনো হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে জয়েন করতে পারব না। আর ও খুব ভালো করে এইটা ও যানে আমার কেরিয়ার কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে । যদি আমি পুলিশ কেস ডক্টরির লাইসেন্স বাতিল হওয়া থেকে বাঁচতে চাই। তবে আমাকে বাধ্য হয়ে জিয়াকে বিয়ে করতে হবে, এইটাই হয়ত জিয়ার পরিকল্পনা।
আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘ অবাক হয়ে যায় জিয়া এতো কুৎসিত পরিকল্পনা করেছে আদ্রিয়ানকে ফাঁসাতে? জিয়ার মতো এমন লোভী, মিথ্যাবাদী মহিলার জন্য মেঘ এতোখন টেনশন করছিল! মেঘ আদ্রিয়ানকে জিজ্ঞেস করে
— আদ্রিয়ান স্যার এখন কি করবেন আপনি? ইরফান স্যার কি বলেছে আপনাকে?
মেঘ কথাটা উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে জিজ্ঞেস করে আদ্রিয়ান শরীর ছেড়ে দিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসে শান্ত গলায় বলে
— কি আর করব বিনা দোষে জেল খাটব। ইরফান স্যার বলছে বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে দিবে আমাকে গ্রেফতার করার জন্য। খুব শীঘ্রই পুলিশ আসবে হয়ত।
মেঘ এখন বুঝল আদ্রিয়ান তখন কেনো কান্না করছিল আর হাসপাতাল থেকে ফিরার পর এতো চিন্তিত কেনো লাগছিল তাকে। মেঘ পুনরায় প্রশ্ন করে উঠে
— পুলিশ কি সত্যি আপনাকে গ্রেফতার করবে? তবে আপনার ডক্টরির লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে! তখন কি করবেন আপনি ?
—- হুম পুলিশ আসবে হয়ত আজ রাতের মধ্যে আসবে। আমেরিকার আইন খুব স্ট্রং প্রতারণা করার শাস্তি স্বরূপ আমার পাঁচ থেকে দশ বছরের জেল হবে। আর ডক্টরির লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে এরপর আর কি আমি ধ্বংস হয়ে যাব। আমার কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে, মান সম্মান আমার স্বপ সব শেষ।
আদ্রিয়ান খুব শান্ত হয়ে কথাগুলো বলছিল কিন্তু তার চোখে মুখে যে কান্না আর কষ্ট ছিল তা হয়ত মেঘ অনুভব করতে পারে। যেই মানুষ দীর্ঘ নয় বছর নিজের পরিবার থেকে দূরে থেকেছে নিজের বিয়ে করা বউকে ফেলে আমেরিকায় শুধুমাএ তার কেরিয়ারের জন্য এসেছে। হঠাৎ যদি তার এই কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যায় হয়ত এই মানুষের ভীষণ কষ্ট হবে। মেঘ বলে
— আপনি কি এই কেরিয়ারের জন্য এতোখন কান্না করছিলেন আদ্রিয়ান স্যার?
মেঘের প্রশ্ন শুনে আদ্রিয়ান ছোফার থেকে মাথা তুলে এপাশ অপাশ মাথা নাড়িয়ে না বোধক সম্মতি দেয়। আদ্রিয়ান বলে
— না, আমি ডক্টরি লাইসেন্স বা জেলে যাওয়ার ভয়ে কান্না করিনি। আমি কান্না করেছি অনুশোচনা থেকে। এই ডক্টরির জন্য নিজের বাবার থেকে দূরে সরে গিয়েছি নিজ পরিবারের মানুষজনের উপর অভিমান করেছি। বিয়ের করা বউকে রেখে বিদেশে চলে এসেছি আজ সেই ডক্টরি আমার ধ্বংসের কারণ। যদি আমি আমেরিকায় না আসতাম তবে হয়ত আমার কাছে সবকিছু থাকত মা – বাবা, ভাই_ বোন, বউ – বাচ্চা সব।এই আপসোস আমার চোখের পানি হয়ে ঝড়ছে।
আদ্রিয়ানের চোখে যে আক্ষেপ বা অনুশোচনা ছিল তা হয়ত মেঘ অনুভব করে। কিন্তু সময় ফুরিয়ে গেলে সময়ের মূল্য দেওয়া শিখে লাভ কি? আদ্রিয়ান এখন যতই চেষ্টা করুক তার আর মেঘের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। হয়ত মেঘই হতে দিবে না। মেঘ আর আদ্রিয়ান দুইজনে একে অপরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।
বাহিরে জানালা দিয়ে আসা শীতল ঠান্ডা বাতাসে মেঘের কপালে থাকা ছোট ছোট চুলগুলো বারবার চোখে এসে পড়ছিল। আদ্রিয়ান খেয়াল করল সে তার হাত দিয়ে যখন মেঘের কপালে থাকা চুল সরাতে যাবে। তখন হঠাৎ মেঘ আদ্রিয়ানের কনুই ধরে ফেলে, এরপর বলে
— আদ্রিয়ান স্যার, রাত হয়ে গেছে আপনি ঘুমান। আমার পড়াশোনা রয়েছে আমি বরং রুমে যায়।
মেঘ কথা বলা শেষ করে আদ্রিয়ানের কোল থেকে উঠে পড়ে। এরপর দ্রুত উঠে যখন সেখান থেকে চলে যেতে চাই তখন হঠাৎ পিছন থেকে আদ্রিয়ান আলতো করে মেঘের হাত ধরে বলে
— মেঘ, আমাকে কি একটা শেষ সুযোগ দেওয়া যায় না?
আদ্রিয়ানের কথা মেঘ শুনল তবে পিছনে ফিরে তাকায় না, সামনের দিকে মুখ রেখে বলে উঠে
— আদ্রিয়ান স্যার অতীতকে ভুলে যান। যে মানুষকে হারিয়ে ফেলেছেন তাকে ফিরে পাওয়ার বৃথা চেষ্টা করবেন না। সব জখমের যেমন মলম হয় না, ঠিক তেমন সব ভুলের ক্ষমা হয় না।
মেঘের কথার বিপরীতে আদ্রিয়ান আর কোনো কথা বলল না হাত ছেড়ে দিল মেঘের। রুম থেকে বের হয়ে যায় পিছন ফিরে একবার তাকায় ও নি আদ্রিয়ানের দিকে। আদ্রিয়ান এক দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আবার ছোফায় বসে অন্য সিগারেট জ্বালিয়ে মুখে দিল।
মেঘ আদ্রিয়ানের রুম থেকে চলে আসার পর টেবিলে বসে পড়াশোনা করল কিন্তু তার পড়াশোনায় মন বসছিল না। চোখের সামনে শুধু আদ্রিয়ানের কান্না, অনুশোচনা আর পুলিশ আদ্রিয়ানাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে এই কথা ভাসছিল। জিয়া এমন নিকৃষ্ট কাজ করবে তা মেঘ ভাবেনি! কিন্তু বিনা অপরাধে আদ্রিয়ান যদি শাস্তি পাবে তা হয় না। জিয়ার মতো মিথ্যাবাদী মহিলার জন্য আদ্রিয়ানের কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে তা মেঘ চাই না। কিন্তু এখন মেঘ কি করবে? কি করে আদ্রিয়ানের জেল হওয়া থেকে আটকাবে?
হঠাৎ করে মেঘের মনে পড়ে মিরাজ সাহেবের কথা মানে আদ্রিয়ানের মামার কথা। মিরাজ সাহেব আর ফারহানা বেগম কি জানে জিয়ার আত্মাহত্যা কথা? শুনেছি মিরাজ সাহেব আর ইরফান সাহেব তারা বিজনেস পার্টনার। যদি মিরাজ সাহেব বলে তবে হয়ত ইরফান সাহেব আদ্রিয়ানের নামে কোনো কেস না ও করতে পারে। আর মিরাজ সাহেব আমেরিকার একজন বড়ো ব্যবসায়ী ওনি নিশ্চয়ই মামা হয়ে আদ্রিয়ানকে জেলে যেতে দিবে না।
টেবিলে থাকা ফোন হাতে নিয়ে মেঘ দ্রুত কল করে মিরাজ সাহেবের ফোনে। মিরাজ সাহেব আর ফারহানা বেগম বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন হঠাৎ মিরাজ সাহেবের ফোন বেজে উঠে, বালিশের নিচে থাকা ফোন হাতে নিয়ে ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখে মেঘ কল করেছে। হঠাৎ এতো রাতে মেঘ কল করেছে দেখে মিরাজ সাহেব অবাক হয়ে যায়, আদ্রিয়ান কি আজ ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে? না বাসায় কোনো বিপদ হলো। ফারহানা বেগম ও ফোনের শব্দ শুনে বলে
— মিরাজ কে ফোন করেছে? এতো রাতে!
মিরাজ সাহেব ফারহানা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলে
” মেঘ ফোন করেছে।
” হঠাৎ মেঘ এতো রাতে ফোন করেছে কেনো? বাসায় কোনো সমস্যা হয়েছে কি? ফোন রিসিভ কর।
মিরাজ সাহেব দ্রুত ফোন রিসিভ করে অপর পাশ থেকে মেঘ সালাম দিয়ে বলে
” আসসালামু আলাইকুম মিরাজ আঙ্কেল।
“ওয়ালাইকুম সালাম। হঠাৎ এই মাঝ রাতে তুমি ফোন করলে যে, কোন সমস্যা?
” জি আঙ্কেল। আঙ্কেল আপনি কি শুনেছেন যে জিয়া আ’ত্মা’হ’ত্যা করেছে!
মেঘের মুখে জিয়ার আত্মাহত্যার কথা শুনে মিরাজ সাহেব অবাক হয়ে বলে
” কি? জিয়া আ’ত্মা’হ’ত্যা করেছে? কিন্তু কেনো? হঠাৎ করে আ’ত্মা’হত্যা কেনো করতে যাবে জিয়া?
মিরাজ সাহেবকে মেঘ জিয়ার আত্মা’হত্যা সহ আদ্রিয়ানকে পুলিশে দেওয়া সকল ব্যাপার খুলে বলে। মিরাজ সাহেব সব কথা শুনে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে জিয়ার মতো এমন ভদ্র আর ভালো মেয়ে এমন কাজ করতে পারে তা ওনি ভাবেনি৷ ফারহানা বেগম বিশ্বাস করতে পারছে না। মিরাজ সাহেব বলে
—- ” মেঘ তুমি বরং কাল কলেজে না গিয়ে বাসায় থাকো আর আদ্রিয়ানকে ও যেতে দিও না। বাসায় যদি পুলিশ আসে তবে আমাকে ফোন করবে তুমি। আর আমি ইরফানের সাথে এই বিষয়ে এখুনি কথা বলব। আদ্রিয়ানের কোনো ক্ষতি আমি হতে দিব না।
— ওকে আঙ্কেল আমি কাল কলেজে যাব না। তবে খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে এর সাথে আদ্রিয়ান স্যারের কেরিয়ার জড়িয়ে রয়েছে।
— হুম অবশ্যই।
মেঘ ফোন রেখে দেয় যাক সে কিছুটা চিন্তামুক্ত হয়েছে। মেঘ আর পড়াশোনা করে না টেবিলে থাকা বইপত্র সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে দেয়। এরপর ঘরের লাইট বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
(সকাল ৮:০০)
সকাল সাড়ে আটটার সময় ঘুম ভাঙ্গে মেঘের। ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে যায় এরপর ফ্রেশ হয়ে আসে। আজ যেহেতু মেঘ কলেজে যাবে না তাই তাড়াতাড়ি রেডি হওয়ার বা খাওয়া দাওয়া করার কোনো তাড়া নাই। মিরাজ সাহেব মেঘকে বলেছে আদ্রিয়ান ও যাতে কলেজে না যায়। কিন্তু আদ্রিয়ান তা জানে না। হয়ত আদ্রিয়ান কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্য রেডি হয়ে বসে আছে। মেঘ দ্রুত তার রুম থেকে বের হয়ে যায় আদ্রিয়ানের রুমের দিকে তাকে কলেজ যেতে নিষেধ করতে।
আদ্রিয়ান সারারাত ছোফায় বসেছিল মাঝ রাতের দিকে কখন ছোফায় ঘুমিয়ে পড়ে তা খেয়াল নাই। আদ্রিয়ান ঘুম থেকে উঠার পর সৃষ্টি তাকে ভিডিও কল দেয় তার সাথে কথা বলছিল সে। আদ্রিয়ান যখন সৃষ্টির সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিল তখন হঠাৎ তার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হয়। ফোনটা টেবিলের কাছে রেখে আদ্রিয়ান দরজা খুলতে যায়, সৃষ্টি এখন ও ভিডিও কলে রয়েছে।
আদ্রিয়ান রুমের দরজা খুলে দেখে বাহিরে মেঘ দাঁড়িয়ে আছে। আদ্রিয়ান বলে
— মেঘ তুমি এখানে? কলেজে যাওয়ার জন্য কি রেডি হয়ে গেছো এখনি?
— না, আদ্রিয়ান স্যার আজ কলেজে যাব না। মিরাজ আঙ্কেল আপনাকে আর আমাকে আজ বাসায় থাকতে বলছে।
— মামা আমাদের বাসায় থাকতে বলেছে কেনো? আজ কি মামা আর মামি বাড়ি ফিরবে?
মেঘ যে মিরাজ সাহেব জিয়ার আ’ত্মা’হ’ত্যা’র তা কি আদ্রিয়ানকে বলে দেওয়া উচিত হবে? কিন্তু আদ্রিয়ান যদি রাগ করে? তখন! মেঘ মিথ্যা অযুহাত দিয়ে বলে
— আজ মিরাজ আঙ্কেলের একজন বন্ধু আর তার পরিবার বাসায় আসবে। যার জন্য আমাদের কলেজে যেতে নিষেধ করেছে।
— ওহ্ আচ্ছা। ঠিক আছে। তবে কলেজে না গেলে ও বাসায় বসে পড়াশোনা করতে হবে কিন্তু তোমাকে মেঘ। পরীক্ষার কিন্তু খুব বেশি দেরি নেই।
— জি স্যার অবশ্যই।
সৃষ্টি ভিডিও কলে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মেঘকে দেখে অবাক হয়ে যায়। মেঘ এখানে কি করছে? আদ্রিয়ান ভাই আর মেঘ একসাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছে? তার মানে কি আদ্রিয়ান জানে মেঘ তার বউ? সৃষ্টি কিছু বুঝতে পারে না। আদ্রিয়ার মেঘের সাথে কথা বলে সৃষ্টির কাছে আসে এরপর টেবিল থেকে ফোন হাতে নিয়ে বলে
—” সরি সৃষ্টি, তোকে অপেক্ষা করালাম। আসলে মেঘ এসেছিল ওর সাথে কথা বলছিলাম।
আদ্রিয়ানের কথা হয়ত সৃষ্টির কানে পৌঁছায় না এর আগেই সৃষ্টি বলে উঠে
— ” ভাইয়া দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ে মেঘ ছিল? তুমি মেঘের সাথে কথা বলছিলে? মেঘের সাথে কি তোমার দেখা হয়েছে? তোমরা কি একসাথে থাকো?
সৃষ্টির কথা শুনে আদ্রিয়ানের মনে হলো সৃষ্টি মেঘকে চিনে? তবে কি আদ্রিয়ানের সন্দেহ ঠিক মেঘই মালিহা? আর যদি মেঘ তার বউ হয় তবে সৃষ্টি তাকে অবশ্য চিনবে? আদ্রিয়ান সত্যি জানার জন্য একটু নাটক করে বলল
— “- সৃষ্টি ওর নাম মেঘ নয় বরং মালিহা। আমি আর মাহা একসাথে থাকি এক রুমে, এক বিছানায়। মালিহাকে তো ভালোবাসি। ওর নাম মালিহা সৃষ্টি।
— হ্যাঁ মালিহা আর মেঘ তো একই। মেঘের নামই তো মালিহা।
সৃষ্টির কথা শুনে আদ্রিয়ান নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না সত্যি কি মেঘই মালিহা? তার মানে আদ্রিয়ানের সন্দেহ ঠিক? কিন্তু তাকে আরো সিউর হতে হবে আদ্রিয়ান বলে
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ২৯
— এখন যে দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল ওই মালিহা মানে মেঘ! যার সাথে আব্বু নয় বছর আগে আমার বিয়ে ঠিক করছিল তাই না? মেঘই আমার স্ত্রী?
আদ্রিয়ানের কথার চালাকি সৃষ্টি বুঝল না সে অবুঝের মতো বলে দিল
— হুম ওই তো মালিহা মানে মেঘ। তোর বউ
