Home The Silent Manor The Silent Manor part 68

The Silent Manor part 68

The Silent Manor part 68
Dayna Imrose lucky

মায়া ভ্রু ভাঁজ করে শুধু হা হয়ে তাকিয়ে রইল আপাতত। বুলবুল নাস্তা রেখে চলে যায়।মায়া ব্যস্ত পায়ে হেঁটে আমজাদ, শালুক দের বৈঠকখানায় যেতে চাইল। কিন্তু কিছু পা সামনে এগোতেই থামে সে।বাইরে থেকে কো’লাহল এর শব্দ ভেসে এল। একাধিক কণ্ঠে শোনা গেল একটি শব্দ- বর এসেছে। মায়া থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল।দোতলা থেকে সদর দরজার দিকে তাকাল।সবাই বাইরের দিকে ছুটে ছুটে যাচ্ছে।

শালুক এলেন। মায়াকে ঘরের বাইরে দেখে বললেন “তুই এখানে গোমড়া মুখে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?”
মায়া জবাবে কি বলবে এখন? তাঁর প্রথম মন খারাপ এর কারণ মীর! দ্বিতীয়ত বুলবুল এর বলা শেষ কথাগুলো। তৃতীয়ত বাড়ির পেছনের দিকে অজানা কারো আগমন।সে কিছু বলতে পারল না।মুখ ভরে গোপনে দম ফেলল।মাকে সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস মায়া কখনো পায়নি।আজও পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর তাঁকে এ বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে,হয়ত তাঁর মায়ের সাথে এটাই শেষ দেখা। বুলবুল বোধহয় ভুল শুনেছে। তাঁর মা কেন কাউকে খু’ন করার আদেশ দিবে?সে তাৎপর্যপূর্ণ কোন জটিল সমস্যা,কারণ দেখতে পাচ্ছে না।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

শালুকের বুকের ভেতর সামান্য পরিমাণ চাপ সৃষ্টি হল, মেয়ের মুখে হঠাৎ অন্ধকার গভীর ছাপ দেখে।মায়ার মন খা’রাপ থাকলেও এতটা সে কখনো চুপচাপ থাকে না। চোঁখের আকার কিছুটা বড় তাঁর।মনে হচ্ছে ভয় পেয়ে আছে। শালুক আবার জিজ্ঞেস করলেন “হ্যাঁ রে মা, কিছু হয়েছে?আজ বিয়ে বলে মনে খা’রাপ? না কি বর পছন্দ হয়নি!অবশ্য তুইতো এখন পর্যন্ত দেখিসনি বরকে, না দেখেই রাজি হয়েছিস। এখন বল হঠাৎ কি হয়েছে!”
মায়া ধীরে ধীরে ঠোঁট প্রসস্থ করল।এক টুকরো চাপা হাঁসি আনল।বলল “তোমাকে ছেড়ে চলে যাব মা,খুব কষ্ট হবে আমার। অনেক ভালোবাসি মা তোমাকে।” বলে মায়া শালুক কে জড়িয়ে ধরল। শালুক কঠিন মনের মানুষ।খুব সহজে চোখ থেকে জল পড়ে না।অতি সহজে কান্না আসে না। কিন্তু হঠাৎ যেন তাঁর ভীষণ কান্না পাচ্ছে। ভীষণ। মেয়েকে কাছছাড়া করতে চাইছে না। একমাত্র মেয়ে। কিভাবে থাকবে ওকে ছাড়া!মা যে! বড্ড চিন্তাশীল,মায়াশীল ব্যক্তি। সন্তান দূরে থাকলে সে যেন চেতনার পাতায় ডুবেই শেষ হয়।এই ভালোবাসার ব্যখ্যা যেন আজও কেউ দিতে পারেনি। সবকিছুর বোধহয় অর্থ হয়, শুধু অর্থহীন মায়ের ভালোবাসা।

শালুক মেয়েকে ছেড়ে দিলেন। বললেন ‘যখন নিচে ডাকবে চলে আসবি।এখন ঘরে যা” মায়া বাধ্য মেয়ের মতন মাথা নাড়িয়ে মায়ের কথায় সম্মতি দিল।চলে যায় নিজের ঘরের দিকে।মেয়ের নরম আদবে শালুক খানিকটা খুশি হলেন। কিছুটা বিভ্রান্তও হলেন।তবু এখন আলাদা করে কিছু ভাবতে চাইলেন না। তিনি চলে যান নিচে।
মায়া ঘরে ঢুকে জানালার পাশে গেল।এখন আর কাউকে দেখা গেল না।ডানে বামে যতদূর চোখ যায়, ততদূর দেখল, ফাঁকা। সন্দেহজনক কাউকে দেখা গেল না। তৃষ্ণা খেয়াল করল মায়ার উঁকিঝুঁকি মারার দৃশ্য।বলল “তোর হবু জামাই বাড়ির পেছনে বুঝি!” তাঁর রসিকতায় সবাই হেসে ফেলল।মায়া তৃষ্ণার ইয়ার্কির জন্য জানালা থেকে ধ্যান ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে চলে এল।

জয়ন্তন নাতনি কে দেখেন মনভরে।যেন তাঁকে দেখে না বহুদিন।আজ দেখা হয়েছে সবেই। তার নির্বিকার চাহনি মায়াকে আবেগ আপ্লুত করে তুলে।সে জয়ন্তন এর দিকে এগিয়ে গেল।তাঁকে জড়িয়ে ধরে মায়া বাঁধভাঙা নদীর মত কেঁদে উঠল। তাঁর সবটুকু কষ্ট একটু একটু করে জেগে উঠছে।কবুল বলার সময়টা যতটা এগিয়ে আসছে,ততটা যেন মায়া ভেঙ্গে পড়ছে।

জয়ন্তন বেগম বললেন “কাঁনতে মানা করমু না, আজকের দিনে মাইয়াগো চোখে জল আইবোই।আমিও অনেক কানছি। আমার বিয়ের সময়। কিন্তু তখন তোর দাদা,আমার হাতটা ধইরা কইলো,আর কাইন্দো না।সুখের সংসার অপেক্ষা করতেছে। সুখের ঘরে পা রাখার আগে একটু কানতেই হয়।”
মায়া কিছু বলল না। চোখের সামনে বারবার মীর এর মুখখানি ভেসে উঠছে।জঙ্গলে প্রথম দেখা, তাঁকে মাটি থেকে তোলা, হাঁটুতে ভর দিয়ে অশ্বেচাপা।কথায় কথায় মায়াকে অপমান করা, দুজনের খুনসুটি,সব স্মৃতি গুলো হাঁতড়ে বেড়াচ্ছে যেন তাঁর চারপাশে।ঘরের দেয়াল গুলো তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিঃ ছিঃ করছে। যাকে ভালোবেসেছে, তাঁকে নিজের করে পায়নি। বুকভরা চাপা আর্ত’নাদ নিয়ে চলে যাচ্ছে পরের ঘরে। দেয়ালগুলো হাসছে। ওদের হাসির শব্দ মায়া পাচ্ছে। তাঁর ভীষণ লজ্জা লাগছে।

শেফালী আসে মায়ার ঘরে। তাঁরা নাস্তা করেছে কিনা জিজ্ঞেস করল। তাঁরা জবাব দিল,সবাই খেয়েছে মায়া বাদে।আজ আর তাঁকে খেতে বলে লাভ নেই‌।সে খাবে না। খাবার গলা দিয়ে নামবে না।
শেফালী বলল “মায়া আপাকে নিয়া একটু পর নিচে যাইতে কইছে মালকিন।” বলে শেফালী চলে যায়।
মায়ার বুকের ভেতর ধক করে উঠল। নিঃশ্বাস হয়ে ওঠে বড্ড ভারী। তাঁর অস্বাভাবিক শান্ত অভিব্যক্তি দেখে জয়ন্তন ঘনিষ্ঠ হলেন তাঁর। জিজ্ঞেস করলেন “কি হইছে,ভয় পাইতেছো মনে হয়,ভয় নাই,বিয়ার কলেমা যহন পাঠ করবে,তখন সব ডরভয় পালাইবে। স্বামীর মুখখান দেখলেই আমগো ভুইলা যাইবি।” বলে খিলখিল শব্দে হেঁসে উঠলেন। তাঁর হাসিতে মায়া বিরক্ত হল।

স্বামীর মুখখানি দেখলেই সে সব ভুলে যাবে না।বরং আরো রাগ হবে,চরম রাগ। কষ্ট হবে।
তাঁর গাম্ভীর্য নীরবতা দেখে গৌরী বলল “আর ম’রার মত বসে থাকিস না।চল,নিজে যাই।”
একই কথা তৃষ্ণা সহ সবাই বলল।মায়া আর থম মেরে বসে থাকতে পারল না। রওনা হল নিজেকে অন্যের হাতে বিসর্জন দেয়ার আসরে।

মায়ার লাল রঙের পাথরযুক্ত ঘোমটা টা কপাল অবধি ছুঁয়েছে। জয়ন্তন চেয়েছিলেন সম্পুর্ন মুখ ঢেকে দিতে,মায়া রাজি হয়নি। দুধেআলতা কিরণের মত দেহের উপর লাল রঙের শাড়িতে মনে হচ্ছে পরীর জগতের সরদারিনী নেমে আসছে।মায়ার আগমনে সকল অতিথিদের দৃষ্টি চলে যায় তাঁর দিকে।সবাই মুগ্ধতার সাথে তাঁকে দেখছে।
ফুলের মতন পথ তৈরি করা হয়েছে মায়ার জন্য। তার দুই পাশে সারি বদ্ধ মেয়েরা হাতে ফুলের থালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মায়া ঠিক পথের সামনে এসে দাঁড়ায়।সারি বদ্ধ দুই দলের মেয়েরা গায়ের সাথে গা মিশিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মায়ার পাশে এসে দাঁড়ালেন শালুক। মায়া বলল “মা, মেয়েরা পথ রোধ করে এভাবে দাঁড়িয়ে আছে কেন!আমি যাব কিভাবে?

“ওঁরা পথ ছেড়ে দাঁড়াবে।” বললেন শালুক।
তৃষ্ণা পাশ থেকে বলল “ওঁরা সরে গেলেই তোর হবু স্বামীকে দেখতে পাবি।” মায়া অসন্তুষ্ট হল। ঘোমটার আড়ালে একবার মীর কে খুঁজল। কোথাও তাঁর দেখা মিলল।চোখ পুনরায় নামিয়ে ফেলল।
তৃষ্ণা বলল “সামনে দেখ,তোর হবু স্বামী বর সেজে দাঁড়িয়ে আছে। কতটা সুন্দর দেখাচ্ছে আদ্রিয়ান দুলা- ভাইকে।”
মায়া চোখ তুলে দেখছে না। তাঁর অজান্তেই চোখ থেকে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। আশেপাশে থেকে সবাই বলাবলি করছে,চোখ তুলে দেখ, বিয়ের সময় যাচ্ছে।হবু স্বামীর দিকে এগিয়ে যা।মায়া তাকাচ্ছে না। শালুক এবার একটু কঠিন গলায় আস্তেধীরে বললেন “আজকের দিনে মা কাছে থাকে না,তবু আমি এখানে দাড়িয়ে আছি শুধুমাত্র তোর জন্য,কারণ আমি জানতাম তুই এমনটাই করবি।দেখ চোখ তুলে।”

শালুক কথা থামাতেই মায়া চোখ তুলে তাকায় সামনের দিকে। তাঁর ঘাড় উঁচু করার সাথে সাথে সারিবদ্ধ মেয়েরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেল ধীরে ধীরে।সারির শেষ দু’জন দুদিকে সরে যেতেই দেখা মিলল তাঁর প্রাণপ্রিয় হবু স্বামীর – মীর জাফান শন। রাজকীয় বিয়ের সাজে সজ্জিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মায়া প্রথমে ভাবল হ্যালুসিনেশন।চোখ সরিয়ে ফেলল।তখন পাশ থেকে তৃষ্ণা বলল “ভুল না,মীর-ই দাঁড়িয়ে আছে।” মায়া পুনরায় চোখ তুলে তাকায়।মীর দাঁড়িয়ে আছে।মায়ার দিকে চেয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। শালুক দূরে সরে গেলেন।মায়া থ’হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মীর মায়ার অপেক্ষা না করে নিজেই এগিয়ে আসল ফুলের পথ ধরে মায়ার দিকে। সারিবদ্ধ মেয়েরা তাঁর দিকে ফুল ছিটিয়ে দিতে শুরু করে।মায়া বিনা পলকে তাকিয়ে রইল।

মীর এসে তাঁর সামনে দাড়িয়ে পড়ল।মায়া এখনো ভাবছে, তাঁর সাথে কি হচ্ছে।ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।এত এত অতিথিবৃন্দ এর সামনে মীর মজা করছে। আজকের দিনটাও ছাড়ল না।মায়া বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে মীর এর দিকে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল “আপনি এসব কি করছেন,সবাই দেখছে। আমি আর আপনাকে অ’সভ্য বলব না।বাকি যা বলেছি তাঁর শা’স্তি অন্য একদিন দিয়েন। আড়ালে।”
মীর তাঁর নেশা ভরা চোখ দুটো ফেলে রেখেছে মায়ার অস্থিরতার দিকে।মায়া উসখুস উসখুস করছে।মীর কে নিশ্চুপ থাকতে দেখে মায়া পুনরায় বলল “বেহায়ার মতন দাঁড়িয়ে আছেন যে, যাচ্ছেন না কেন?”
মীর অতঃপর দম ছাড়ল।মায়ার ডান হাতটা ধরে নিজের দিকে নিল।বলল “আমি চলে গেলে বিয়েটা কার সাথে হবে?” বলে মীর মায়ার হাতে চুমু খেল।মায়া তাৎক্ষণিক পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেল।মীর বলল “তোমার আদ্রিয়ান এসেছিল তোমাকে বিয়ে করার জন্য।পড়ে আমি কি বলেছিলাম ওকে জানো?”
মায়া আমতা আমতা করে বলল “কি বলেছেন?

“বলেছি,যাকে বিয়ে করতে এসেছেন তাঁর মাথায় সমস্যা। আধপাগ’ল।রাত হলে একা একা বাইরে বেরিয়ে যায়।তার উপর অনেক বড় রা’ক্ষুসে।একাই সব খেয়ে নেয়।এসব শুনে আদ্রিয়ান পালিয়েছে। এরপর তোমার বাবা আসলেন আমার কাছে, বললেন, আমার মেয়ে তো পা’গল, তুমি ওকে বিয়ে করো।নয় আমার মানসম্মান শেষ হয়ে যাবে। এরপর আমি বললাম, আচ্ছা,আমি মীর- পা’গল ভালো সামলাতে পারি।”

মায়া রাগ করবে, না খুশিতে আপ্লুত হবে কোনটাই বুঝে উঠতে পারল না।সে ছলছল চোখে তাকিয়ে রইল। প্রথমে দৃষ্টি নিচু করল। এরপর মাথা তুলে একবার রাফিদ কে খুঁজল। রাফিদ এক পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর বোনকে দেখছে। রাফিদ মাথা- চোখ দিয়ে এমন ইশারা করল যা থেকে মায়া বুঝতে পারল,বিয়েটা মীর এর সাথেই হচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তে তাঁর মনে পড়ল আদ্রিয়ান এর কথা। জিজ্ঞেস করল “আদ্রিয়ান সত্যিই চলে গেছে?
তাঁর প্রশ্নে সবাই হেসে উঠল।পাশ থেকে তৃষ্ণা ফের বলল “আরে বুদ্ধু মেয়ে,তোর সামনেই আদ্রিয়ান দাঁড়িয়ে আছে।মীর ভাইয়ের আরেক নাম আদ্রিয়ান।”

মায়া হাত সরিয়ে ফেলল।মীর কে বর সাজে নিদারুণ দেখাচ্ছে।তবু তাঁর মুখে হাঁসি নেই।মীর এর সাথে তাঁর বিয়ে হচ্ছে,অথচ সেই জানত না। এতদিন তিলে তিলে যেন মরছিল।
গম্ভীর মুখেই প্রশ্ন ছুঁড়ে মীর এর দিকে “এতদিন আপনি আমার সাথে মিথ্যা কেন বলে বেরিয়েছেন?আর বাড়ির সবাই কেন মিথ্যা বলেছে?”
“দ্বিতীয়বার বিয়েটা করে নেই, তারপর সব বলি!”
“দ্বিতীয় বিয়ে মানে? মায়া এবার আর একটু ধাঁধায় পড়ল।
মীর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে তৃষ্ণার দিকে চাইল। এরপর তাকাল জয়ন্তন এর দিকে। জয়ন্তন বেগম বললেন “অহন সব বইলা দে,ছেড়িডা অনেক কষ্ট পাইছে।”

“আমি তুমি,খুব ছোট থাকতেই ছোট মা চেয়েছিলেন আমার বউ তুমিই হবে। এবং এই প্রস্তাব সবাই মেনে নেন। এরপর আমি যখন বড় হলাম,বাবা আমাকে নিয়ে যান থাইল্যান্ডে।আর তোমাকেও বিদেশ পাঠাল পড়াশোনার জন্য। তুমি ফিরে এলেই তোমার সাথে আমার বিয়ে হবে এটাই ছিল সবার পরিকল্পনা। এবং পরিকল্পনা মোতাবেক তাই হল।আমি থাইল্যান্ডে থেকে কিছুদিন আগে তোমাকে আমার বউ করার জন্যই এসেছিলাম। সেদিন জঙ্গলে তোমাকে দেখেই চিনতে পেরেছিলাম,এটাই আমার মায়াবতী।বিয়ের বিষয়টি আমি সবাইকে আড়ালে রাখতে বলি, তুমি জানবে তোমার বিয়ে অন্য কারো সাথে হচ্ছে, শুধু আমরা জানব সত্যটা। তুমি আমি রাত করে বাইরে ঘোরা, তোমাকে বিরক্ত করা,সবার চোঁখের সামনে বসে কথা বলার পড়েও কেউ কিছু না বলা, তোমার দাদীর তোমাকে রহস্যময় চোখে দেখা,এই সবকিছু আমাদের পরিকল্পনা। কিন্তু তারপরেও তোমার চোখে যেদিন জল দেখেছি, সেদিন বুঝতে পেরেছি, আমার মুখে অন্য কোন মেয়ের নাম তুমি শুনতে পারছ না।সহ্য হচ্ছে না। কষ্ট হচ্ছে। সেদিন তোমার চোখের জল আমার সহ্য হয়নি। বুলবুল কে দিয়ে ম’দ আনিয়ে খেয়েছিলাম। কষ্ট দূর করতে।” শেষ কথাটা মীর চুপিসারে বলল।

“পরদিন আমি তোমাকে আদ্রিয়ান এর নাম করে দুটো চিঠি পাঠিয়েছিলাম।একটাতে সমস্ত সত্য লেখা ছিল।আমি ভেবেছি তুমি হয়ত চিঠিটা পড়েও আমার সাথে নাটক করছো।আমিও আর নিজে থেকে তোমাকে কিছু বলিনি।পড়ে জানতে পারি, তুমি সেই চিঠি পড়ইনি।যাক গে,ভালো হয়েছে।একটু তো কষ্ট পেয়েছো। আজকে থেকে তোমাকে আর কষ্ট পেতে দেব না।”
মীর থামে। মায়া বলল “আপনার দ্বিতীয়বার বিয়ে মানে, সে-ই প্রশ্নের জবাব তো মিলল না।”
“কিছুক্ষন আগে মসজিদে বিয়ে হয়। মূলত বিয়ের কাজ মসজিদে করাই উত্তম। সেখানে তোমার ভাই,বাবা উপস্থিত ছিলেন। এবং আমি‌,বাবা। কিছুক্ষণ আগে তাই আমরা বাড়িতে ছিলাম না। বুলবুল নিশ্চয়ই তোমাকে সংবাদ দিয়েছিল।আরো কিছু মিথ্যা বলেছে তোমাকে বোকা বানাতে”

“আমার মতামত ব্যতীত বিয়ে কবুল হয়নি।” মীর মায়ার হাতটি পুনরায় ধরে বলল “এই যে,এখন হয়েগেছে। এতক্ষণ আসমানের নিচে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। এখন আল্লাহর কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সুতরাং বিয়ে কবুল।”
“আপনি দেখছি সব জানেন। কবুল নাও হতে পারে”
“আল্লাহর উপর সু-ধারণা রাখতে হয়।উনার উপর যেমনটি ভরসা রাখবে,উনি ঠিক তেমনটি উপহার দিবেন।”
“তাহলে মোহিনী কে?”

“সব জবাব এখুনি দিতে হবে, আগে সবার সামনে পুনরায় বিয়ে হোক। এরপর বলব।”
মীর কথা শেষ করতে না করতেই ডাক পড়ল কাজির।উনি তাড়া দিলেন। বললেন “ছেলে মেয়ে নিয়ে আসুন, পরপর দুইবার বিয়ে। আমার আরো একটা বিয়ে পড়াতে যেতে হবে।”
মীর ও মায়াকে নিল বিয়ের আসরে। দু’জন কে পাশাপাশি বসায়।কাজি কাবিননামার খাতা-খানা খুললেন।মায়া খুশি হতে পারছে না ঠিক এই মুহূর্তে। বুকের ভেতর কুগাইছে।এ কেমন বিয়ে? যেখানে সে আনন্দিত হতে পেরেও পারছে না।মনে হচ্ছে,কেউ একজন টেনেটুনে ধরছে তাঁকে।হাত পা কাঁপছে। তার বাপ,ভাই কিছুক্ষণ আগে বিয়ে তো সম্পন্ন করিয়েই ফেলেছে।তবু যেন তাঁর মীর এর সেসব কথা বিশ্বাস করতে পারছে না। আবার অবিশ্বাস্য করতে পারছে না। বর্তমান সময়ে এরকম অহরহ দাম্পত্যর বিয়ে হচ্ছে, যেখানে কণে পড়ে জানতে পারছে। কঠিন কিছু নয়।সে আপাতত মেনে নিচ্ছে সবকিছু।

কাজি আনুষাঙ্গিক তথ্যাদি লেখা শেষ করলেন।হাতটি এসে থামল দেনমোহর নির্ধারণ করার খালি স্থানে।উনি মাথা উঁচিয়ে তাকালেন আমজাদ চৌধুরীর দিকে। বললেন “দেনমোহর কত ধার্য করব?”
মীর বলল “কিছুক্ষণ আগে আপনি তো কুড়িলাখ বেঁধেছেন। এখন আবার জিজ্ঞেস করছেন!”
“কিছুক্ষণ আগের কথা বাদ দাও বাপ,মেয়ে সম্মুখে,এখন তাঁর সম্মতি নেয়া হোক।” কাজি থেমে মায়ার দিকে তাকায়। “তুমি বলো মা, দেনমোহর কত ধার্য করব?”
মীর মায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল “বলো,এক টাকাও না। তাহলে দ্রুতই তোমার কাছে যেতে পারব।টাকার অঙ্ক বেশি হলে গুনে গুনে দিতেও সময় লাগবে,আমি অতটা সময় অপেক্ষা করতে পারব না।”
মায়া ঠোঁট চেপে হেঁসে নিচু স্বরে সবার আড়ালে বলল “নির্লজ্জ লোক।”

“কিছু বললে?
“বলেছি আপনি কিপটে, দেনমোহর নির্ধারণ করতে ভয় পাচ্ছেন।”
মীর তখন উচ্চ কণ্ঠে বলল “দেনমোহর হিসেবে আমার বাড়িগাড়ি,টাকা পয়সা সহ সব ধার্য করুন। যদি সম্ভব হয় আমার প্রাণটাও লিখে দেন। বিনিময়ে আমি আমার বউকে চাই।”
সকলে মীর এর কথায় অবাকের অভিব্যক্তিতে দেখছে। আমজাদ বললেন “কুড়িলাখ-ই লিখুন।” কাজি লিখলেন।বিবাহ এর তারিখ দিলেন “০১/০১/১৯৫৩

কাজি লেখার কাজ শেষ করলেন। কাবিননামার খাতাখানা এগিয়ে দিল প্রথমে মেয়ে পক্ষের স্বাক্ষীর কাছে। আমজাদ সাক্ষর করলেন। এরপর এগিয়ে দিলেন থমাস শন এর দিকে।সে ছেলে পক্ষের সাক্ষী দিলেন।
এরপর কাজি কাবিননামার খাতাখানা মায়ার দিকে দিল।মায়ার হাত কাঁপছে।শাড়ি ঝাপটে ধরে রেখেছে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে।মীর দেখল।মায়া সাক্ষর করার জন্য কলমটি তুললে কাঁপুনির জন্য লিখতে পারছে না।মীর তখন মায়ার হাতটি আলগোছে ধরল।মায়া মীর এর সাহায্যে সাক্ষর করতে সক্ষম হয়।
মীর কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই সাক্ষর করে দিল।

কাজি সাহেব সবার সম্মুখে মায়ার দিকে চেয়ে নিকাহনামা পড়তে শুরু করলেন।পড়া শেষে মায়াকে কবুল বলতে বললেন।মায়া বলছে না। কোথাও খুশি মনে তাঁর কবুল বলার উচিত,তা নয়,সে ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে।এ যেন অজানা ভয়। মৃ’ত্যুর যমদুয়ারে এসে যেন হাজির হয়েছে সে।এই অনূভুতির ব্যখ্যা কি?
মায়ার নীরবতা দেখে মীর বলল “চুপ করে আছো যে? তুমি আমাকে ভালোবাসো তো নাকি,তবে আমাকে কবুল করতে এত দ্বিধা কিসের!”

মায়ার জবাব এলো না কোন।মীর তাঁর হাতটি পুনরায় শক্ত করে ধরল।বলল “এই যে তোমাকে ছুঁয়ে কথা দিচ্ছি,আজকেই তোমার ডরভয়,পালাবে।আর কোনদিন তোমাকে ওরা ছুঁতে পারবে না। তোমার এই আলতোমাখা পবিত্র হাতখানাতেই যেন সৃষ্টিকর্তা আমার মৃ’ত্যু লিখেন।”
মীর এর কথাগুলো শুনে মায়ার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আবিষ্কার করল তাঁকে কবুল করতে হবে।সে ভালোবাসে তাঁকে।কতই না ছটফট করত মানুষটির জন্য।আজ সে-ই দিনটি চলে এসেছে,যেই দিনটি নিয়ে সে কল্পনা করত।কাজি আবার বললেন “বলো মা কবুল।”
মায়া বলল “আলহামদুলিল্লাহ কবুল।” শুনে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠল। সে-ই সাথে মীর ও কবুল বলে ওঠে।আজ তাঁরা দু’জন দু’জনকে চিরদিনের জন্য কবুল করল। পবিত্র বন্ধনে সম্পর্কটা আবদ্ধ হল।মায়ার এতদিন এর চাওয়া পাওয়া পূর্ণ হল।

শালুক দূরে বসে কাঁদেন। তাঁর কান্নার শব্দে শরীর যেন ঝাঁকি দিয়ে উঠছে। জয়ন্তন শালুক কে বউ করে আনার পর এভাবে কাঁদতে দেখেনি।আজ কাঁদছে।ঘরের এক কোণে বসে। আগামীকাল মেয়েকে বিদায় দিবে। আগামীকাল দুপুরের পর মীর,মায়া,থমাস, থাইল্যান্ডে পাড়ি জমাবেন। শালুক মীর কে দূরে সরাতে চান না, তাঁর উপর একমাত্র মেয়ে। জয়ন্তন তাঁকে বোঝান “আজ যদি মীর এর লগে বিয়া না হইয়া,অন্য কারো লগে হইতো,তখনো কি তুমি মায়ারে নিজের কাছে রাখতে চাইতা!চাইলেও কি রাখতে পারতা!পারতা না।”
শালুক শাড়ির আঁচলে চোখ মুছলেন। “আম্মা, নিজের মেয়েকে ভালোবাসি,সত্য। কিন্তু আমি মীর-কেও খুব ভালোবাসি।কি দো’ষ হত, যদি আমার কাছেই থেকে যেত।ও চলে যাবে দূর দেশে, আমার মনটা সায় দিচ্ছে না।আজ খুশির দিনেও আমার চিৎকার করে কেন যেন কাঁদতে ইচ্ছে করছে।”

“তুমি মা,মায়ের মন সবসময় উত্তাপ থাকবো,হেইডাই স্বাভাবিক। নিজেরে সামলাও।মীর তোমারে কাঁনতে দেখলে, সমস্যা।দুঃখ পাইবো।”
শালুক ভেজা চোখ জোড়া চটজলদি মুছে ফেললেন। নড়চড়ে বসলেন।মাথার ঘোমটা টানলেন। বললেন “আমি আর কাঁদছি না। বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।মীর থাইল্যান্ডের নাগরিক।ওর বাসস্থান সেখানে। যেতেই হবে।যাক। তবে আমার দোয়া থাকবে সবসময় ওদের সাথে।”
“হুঁ। দোয়া করতেই হইবো।আর বইসা থাইকো না।ছেলের বাসর ঘর সাজাও।আজ যে সোহাগ রাইত।নিয়ম হইছে ছেলের মায়ের বাসরঘর সাজানো।ওর মা তো অহন তুমিই।যাও,কামে লাইগা পড়ো।”

শালুক নিজেকে সামলে শাশুড়ির আদেশ পালনের পথে পা বাড়ান। জয়ন্তন নিচে চলে গেলেন।বিয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সবাই আরেক ধাপ আনন্দে মেতে উঠল। মায়াকে বোকা বানানো হয়েছে।মীর বারবার সে-ই প্রসঙ্গ তুলছে।আজ তাঁর মুখে যেন দুনিয়ার সবটুকু হাঁসি ফুটে উঠেছে। কোথায় লুকিয়ে ছিল এই আনন্দ?
বিয়ের আসরেই তাঁরা বসে আছে।বড়রা চলে গেছেন তাঁদের কাজ থেকে। খাওয়া দাওয়া করছেন উনারা। একদল এসে মায়া ও মীর কে দোয়া করছেন। উপহার দিচ্ছেন। মায়ার বান্ধবীরা তাঁকে ঘিরে রেখেছে। গৌরী নেই তাঁদের মাঝে।আহির খুঁজছে তাঁকে।মীর এর কাছে আসল।মুসায়বা করল মীর এর সাথে। অভিনন্দন জানালো নতুন জীবনের জন্য।

আহির মায়াকে জিজ্ঞেস করল “গৌরী কোথায়?
মায়া ভেবে বলল “বোধহয় ছাদে। ওঁর মনটা ভালো নেই।” আহির সংবাদ পেয়ে সেদিকে ছুটে যায়।
মায়া অন্যদের থেকে উপহার নিতে নিতে মীর কে বলল “আপনি খুশি তো?
“খুব খুশি। তোমাকে নিজের করে চেয়েছিলাম। অবশেষে পেয়েছি।আজ আমার মত আর কেউ খুশিতে নেই।বলো কি চাও আমার থেকে!”
“আপনিই আমার জন্য অনেক বড় উপহার। আলাদা করে আপনার কাছে আর কিছু চাওয়ার নেই।”
“তবে তোমার জন্য আমি বিশেষ এক উপহার রেখেছি। আজকে বাসর রাতে তোমাকে উপহার দিব।”
“কি সেটা?

“বলে দিলে, উপহার থাকল কোথায়? অপেক্ষা করো।”
মায়া জিজ্ঞেস করল না উপহার সম্পর্কে। ঘুরেফিরে উদিত হল মোহিনীর অধ্যায়। ঝুঁকে মীর এর দিকে জিজ্ঞেস করল “মোহিনীর সাথে আপনার সম্পর্ক কি ছিল?’
“মোহিনী আমার নয়, তোমার ভাইয়ের হবু বউ।” বলতে বলতে মীর এর সামনে অতিত এর সে-ই সময়টা ভেসে উঠল। রাফিদ আর সে অশ্বচড়ে ফিরছিল বাড়ির পথে। তখনই মীর এর কানে নূপুর এর শব্দ ভেসে আসে। তাঁরা দাঁড়িয়ে পড়ল। রাফিদ বলল “মাস্টার এর মেয়ে নাচ করছে। মোহিনী।”
“তুই জানলি কিভাবে?
“আমার পাড়ার মেয়ে,আমি জানব না।” বলা শেষে রাফিদ এর মুখটা সেদিন গুমড়ে গিয়েছিল।মীর বলল “পছন্দ করিস?’
রাফিদ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল “ভালোওবাসি। কিন্তু বাবার ভয়ে বলতে পারছি না। ওঁর বাবা একজন মাস্টার।হলেও আমাদের মতন জমিদার তো আর না।মানবেন না বাবা, মা। বিশেষ করে মা।”
মীর রাফিদ এর কথা শেষে একনজর মোহিনী কে দেখে আসে।

মায়া বলল “তারপর?
“আমি মোহিনী কে দেখলাম। পরদিন আমি রাফিদের হয়ে চিঠি লিখলাম। এরপর ওঁর কাছে পৌঁছে দেই। মোহিনী দ্বিতীয় চিঠিতে সম্মতি জানায়। এভাবেই চলছিল ওঁদের প্রেম কাহিনী। তুমি জানো! ওঁরাও আজ বিয়ে করবে।কাজি তখন ওঁদের কথাই বলেছে। তবে লুকিয়ে লুকিয়ে।”
“লুকিয়ে লুকিয়ে মানে?ওর এত বড় সাহস একটা দুই টাকার মেয়েকে চৌধুরী বাড়ির বউ করবে?”
শালুক এর ক্রোধের স্বরে আগ্নে’য়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মত আহভাস পাওয়া গেল।তাঁর সামনে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে বুলবুল। কিছুক্ষণ আগে মীর এর মায়াকে বলা কথাগুলো বুলবুল দুর্ভাগ্যক্রমে শুনে ফেলে। তাৎক্ষণিক খবর পৌঁছে দিয়েছে শালুক এর কাছে। শালুক মীর ও মায়ার জন্য বাসর ঘর সাজাচ্ছিল। বুলবুল হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসাতে উনার হাত থেমে যায়। অবস্থান বারান্দায়।ঘরের ভেতরে দু’জন দাসী।
“হুঁ মালকিন।শুনে আমিও অবাক হই। রাফিদ দাদা ওই মেয়েকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে, গভীর প্রেম।এই প্রেমের নেশা খুব সহজে কাটাতে পারবেন না। বিয়ে বোধহয় আজই করে ফেলবে।যদিও কাজি সাহেব এখনো খানাপিনা করছেন।”

শালুক গভীর চিন্তায় ডুব দিলেন। তাঁর একমাত্র ছেলে সামান্য একজন মাস্টার এর মেয়েকে বিয়ে করবে,এটা তাঁর সিদ্ধান্ত এর বাইরে।উনি কোনকালেই তা চাননা। রাফিদ এমন কাজ করলে লজ্জায় উনাদের মাথা নিচু হবে। দু পা এগিয়ে রেলিঙ ধরল। কর্কশ কণ্ঠে বললেন “বুলবুল।”
“জ্বী মালকিন।”
“তোকে একটা কাজ দিব।বিনিময়ে তোকে যা দেব,তা দিয়ে তুই সারাজীবন বসে খেতে পারবি।”
“আপনার হুকুমের অপেক্ষায়। বিনিময়ে কিছুই চাই না।”
“সবাই বিয়ে বাড়িতে ব্যস্ত। মাস্টার এখানেই আছে। মোহিনী কোথায়! সে-ই খবরটা জলদি এনে দে”

The Silent Manor part 67

“খবর নিয়েই এসেছি।আজ রাতে দিঘীর পাড়ে অপেক্ষা করবে। আমার তো মনে হচ্ছে বিয়ে করে হয়ত পালিয়ে যাবে।” বুলবুল জানে রাফিদ পালাবে না।তবু শালুক কে আরো ক্ষেপাতে, এবং তাঁর মন রক্ষার্থে বলল।
“সেই সুযোগ আর দিস না।তুই এখুনি চলে যা দিঘীর পাড়ে। দু’জন অনুচর নিয়ে। ওঁদের নিয়ে তুই মোহিনী কে মে’রে ফেলবি।চিহ্ন রাখবি,যাতে সবাই মনে করে আগে ওকে ধ’র্ষণ করে পড়ে মা’রা হয়েছে।বলে রাফিদ কষ্ট পাবে না,আরো ঘৃণা করবে।কারণ আমরা রটাব মোহিনী নাগর এর সাথে জঘন্য কাজ করেছে।বলে ওকে জীবন দিতে হয়েছে। চরিত্রহীন।”
“আজ্ঞে মালকিন। আপনি যা বলবেন। আমার জন্য দোয়া রাখবেন।” বলে বুলবুল শালুক এর পা ছুঁয়ে সালাম করল। এরপর চলে যায় ওর উদ্দেশ্য সফল করতে।

The Silent Manor part 69