Home ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৭+৮+৯

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৭+৮+৯

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৭+৮+৯
তানিশা ভট্টাচার্য্য

-“রুমে নেই মানে!!”
কথাটা অভিক সাহেব অবাক হয়ে বেশ জোরেই বললেন। রান্নাঘর থেকে তানভী আর আর্ভিকের মা দুজনেই ব্যাস্ত পায়ে বেরিয়ে এলেন। রুদ্র বাবু তোজো জিজ্ঞেস করলেন
-“তোজো, তুমি ভালো করে দেখেছিলে?”
-“হ্যাঁ বাবা।”
অভিক সাহেব বেশ চিন্তিত হয়ে আর্ভিক কে অনেক বার ডাকেন, কিন্তু কোনো উত্তর পেলেন না। তিনি অত্যন্ত রেগে রাখী রায়চৌধুরী কে বললেন

-” তোমার এই ছেলে কি আমাকে কখনো শান্তিতে থাকতে দেবে না! কালকেই দেশে ফিরল আর আজ সকাল থেকে নিখোঁজ। বার বার করে বললাম আজকের দিনে যেন বাড়িতে থাকে, কিন্তু কার কথা কে শোনে।”
রুদ্র বাবু অভিক সাহেব কে বললেন
-“শান্ত হ্ । এভাবে রাগারাগি করলে কি সব সমাধান হবে! আর্ভিক যদি বাইরে কোথাও যায়, তাহলে রমেশ দাদা নিশ্চয়ই দেখেছে। ওনাকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে।”
এই বলে রুদ্র বাবু রমেশ কাকা কে ডাকলেন রমেশ আসতেই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“আর্ভিক কে দেখছ ? ও কি সকালে কোথাও বেরিয়েছে?”
-“হ্যাঁ সিনু বাবা তো সকাল সকাল তৈরি হয়ে কোথাও বেরিয়ে গেল।”
অভিক সাহেব এবার অত্যন্ত গম্ভীর কন্ঠে বললেন
-“কোথায় গিয়েছে?”
-“সেটা তো বলল না। শুধু বলল যে একটু কাজ আছে।”
-“আচ্ছা ঠিক আছে তুমি এখন যাও।”
-“জি বাবু ”
রমেশ কাকা চলে যেতেই অভিক সাহেব ঋষি বললেন

-“তোমার ভাইয়া কে একটা কল করো। কোথায় কি এমন রাজকার্য করছে জিজ্ঞাসা করো।”
ঋষি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে দ্রুত আর্ভিকের নাম্বারে কল করল। দুবার রিং হতেই কল রিসিভ হল। ফোনের ওপাশ থেকে জবাব এল
-“হ্যালো”
অভিক সাহেব ঋষির হাত থেকে ফোনটা নিয়ে রাগী গলায় বললেন
-“কোথায় আছো ? তোমাকে না বারন করেছিলাম আজকের দিনে বাইরে যেতে।”
-“নীলাদ্রিদের বাড়ি।”

আর্ভিক অত্যন্ত শান্ত কন্ঠে উত্তর দিল।
অভিক সাহেব ফোনের এপাশ থেকে হুঙ্কার দিয়ে বললেন
-“ওই খানে কি করছো তুমি বেয়াদব ছেলে!!”
-“বিদেশে থাকাকালীন মেঘাদ্রি আমাকে বলেছিল দেশে ফিরে সবার আগে রাখী যেন তার থেকেই বাঁধি। আমিও কথা দিয়েছিলাম ওকে, তাই চলে এলাম।”
-“এক বোন দেওয়া কথা রাখতে গিয়ে নিজের আর এক বোন কে ভুলে গেলে কী ভাবে..?”
-“কে বোন?”
-“তানভী”
-“ওকে বোন বলে মানলে তো ওর থেকে রাখী পড়ব। তাছাড়া ওকে বোনের অধিকার দিয়েছে কে ? আমার দুইটাই বোন আর্ভি আর মেঘাদ্রি। ”

-“বেয়াদব ছেলে এসব কি বলছো তুমি!!”
অভিক সাহেব আগের তুলনায় আরও অনেক বেশি রেগে হুঙ্কার দিয়ে বললেন। কল টা স্পিকারের থাকার দরুন বাকি সবাই সব কিছুই শুনতে পেল। আর্ভিকের কথাটা শুনে তানভীর চোখ বেয়ে সমানে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। অভিক সাহেব আরও কিছু বলতে যাবেন তার আগেই রুদ্র বাবু না সূচক মাথা নাড়িয়ে থামিয়ে দিলেন। অভিক সাহেব আর কিছু বললেন না রেগে কল কেটে দিলেন। তারপর তানভীর পাশে বসে পড়লেন তানভীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন

-“বিদেশে গিয়ে যে এই রকম অভদ্র অপদার্থ তৈরী হবে জানা ছিল না”
এরপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তারপর আবার বললেন
-“যে তোমাকে মূল্য দেয় না তার জন্য কান্না করো না মামনি। তুমি তোজো আর ঋষি ভাইয়া কে পড়িয়ে দাও ”
এই বলে তিনি উঠে গেলেন। রুদ্র বাবু ও রুমে চলে গেলেন। তানভী ওদের দুজনকে রাখী বেঁধে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে ওপরে চলে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। তানভী আর আর্ভিকের মা দুজনেই রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। তার জানে যে তানভী বেশীক্ষন রাগ করে থাকতে পারে না তাই তারা নিজেদের মতো ব্যাস্ত হয়ে গেল।
তারপর বিছানায় শুয়ে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগলো। আজকে সে অনেক কষ্ট পেয়েছে। সে ভেবেছিল লোকটা হয়ত পাল্টে গেছে এতগুলো বছরে কিন্তু আজ এই ব্যাবহার তাকে বুঝিয়ে দিল যে পৃথিবী উল্টে গেলে ও আর্ভিক কখনো পাল্টাবে না।

সকাল গড়িয়ে ঘড়িতে এখন দুপুর ১২টা বাজে কাঁদতে কাঁদতে একসময় তানভী ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আর্ভিকের মা অনেকক্ষণ থেকে তানভীকে ডাকছেন কিন্তু সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় শুনতে পায় নি। বাধ্য হয়ে তিনি নীচে নেমে আসেন, ঋষি সোফায় বসে ফোন চাপ ছিল মা কে আসতে দেখে ঋষি বলল

-“কি হল মা?? দরজা খোলে নি ??”
-“না”
আর্ভিকের মা ছোট করে উওর দিল।
-“আচ্ছা আমি দেখছি”
এই বলে ঋষি বাইকের চাবি নিয়ে বেরিয়ে গেল। পিছন থেকে তার মা বলে উঠে
-“ঋষি কোথায় যাচ্ছিস এখন ? খাবারটা খেয়ে যা”
-“এসে খাব। চিন্তা করো না মা এখনি চলে আসব”

-“আর্ভিক তুই কিন্তু কাজটা ঠিক করলি না, ওই ভাবে কেউ বলে.!!”
-“আমি কেন এমন বলেছি, এর কারণটা তো তোর জানা নীল…”
-“তাও ভাই, তানভী তো তোকে ওই ভাবে ভাবে না। মেয়েটা নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পেয়েছে।”
-“শুধুই কি আর কষ্ট পেয়েছে নীলদা, সেই সকালে রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়েছে এখনও খোলে নি। সারাদিন কিছু খাইনি পর্যন্ত।”
কথাগুলো বলতে বলতে ঋষি নীলাদ্রিদের বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।
-“আরে, ঋষি যে আয় বস”
নীলাদ্রির কথা মতো বাইকের চাবিটা ডান হাতের তর্জনীতে ঘোরাতে ঘোরাতে সোফায় বসে ঋষি। নীলাদ্রি এবার মেঘাদ্রি কে বলে

-“বোনু যা ঋষি ভাইয়ার জন্য শরবত নিয়ে আয়!”
মেঘাদ্রি দ্রুত ঋষির জন্য শরবত আনতে গেল। নীলাদ্রি মৃদু হেসে ঋষি কে বলে
-“ঋষি, ভালো হয়েছে এসছিস। দুপুরের খাবার না খাইয়ে কিন্তু তোকে ছাড়ছি না।”
ঋষি একটু চিন্তিত হয়ে দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বলল
-“এই না না নীলদা, আজকের খাওয়াটা বরং থাক অন্য একদিন এসে খেয়ে যাব। আমি ভাইয়াকে নিতে এলাম।”
-“কেন??”
ঋষির দিকে শরবতের গ্লাস এগিয়ে দিয়ে মেঘাদ্রি প্রশ্ন করে। ঋষি একগাল হেসে বলল

-“ভাইয়া আমার ছোট্ট বোনুটাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে আজ। আর একমাত্র ভাইয়া-ই পারবে ওর রাগ ভাঙ্গাতে।”
ঋষি শরবতটা শেষ গ্লাসটা মেঘাদ্রির হাতে দিয়ে দিল। তারপর আর্ভিকের দিকে তাকিয়ে বলল
-“চলো ভাইয়া দেরি হয়ে যাচ্ছে। নীলদা এলাম”
মেঘাদ্রি আর নীলাদ্রির থেকে বিদায় নিয়ে দুই ভাই যখনই চৌকাঠ পেরোতে যাবে, তখনই নীলাদ্রির মা রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললেন

-“তোরা না খেয়ে চলে যাচ্ছিস বাবা, কিছু অন্তত খেয়ে যা।”
ঋষি কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই ওকে থামিয়ে আর্ভিক বলল
-“না আন্টি বাড়িতে কিছু না বলে সকাল সকাল বেরিয়ে এসেছি বাবা মা না খেয়ে অপেক্ষা করছে আমার জন্য।”
-“ওহ্ ,ঠিক আছে বাবা সাবধানে যা। একদিন এসে কিন্তু ঘুরে যাস”
-“হুম অবশ্যই আন্টি।”
তারপর দুই ভাই বেরিয়ে গেল।

আর্ভিক আর ঋষি দুজনে বেরিয়ে যেতেই নীলাদ্রির বোন তাকে জিজ্ঞাসা করে
-“দাদাভাই, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব ?”
-“হুমম বল।”
-“আচ্ছা সিনু দাদা তানভীর সাথে ওই রকম ব্যবহার করে কেন? আর ওর থেকে রাখী পড়তে সমস্যা কোথায়!”
-“কারন আর্ভিক তানভীকে বোন ভাবে না তাই।”
-“কিন্তু কেন??”
নীলাদ্রি কোন উত্তর দিল না। তাকে চুপ হয়ে থাকতে দেখে মেঘাদ্রি আবার বলল
-“দাদাভাই প্লিজ বলো না। প্লিজ প্লিজ।”
নীলাদ্রি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে
-“ঠিক আছে, তাহলে শোন। আজ থেকে প্রায় ৮ বছর আগে….”

“Do Lafzon Ki Hai Dil Ki Kahaani
Yaa Hai Mohabbat Yaa Hai Jawaani
Do Lafzon Ki Hai Dil Ki Kahaani
Yaa Hai Mohabbat Yaa Hai Jawaani
Laaa…Laaaaa..Laa..Laaa..Laaaaa..”

-“wow!! অনেক সুন্দর হয়েছে আর্ভিক। তুই কবে থেকে এতো ভালো গান গাইতে শিখলি।”
সামনে থাকা ব্যক্তির কথায় কোলে থেকে গিটারটা নামিয়ে রেখে বিছানায় লম্বা করে দুইপা ছড়িয়ে, দুই হাত বুকের কাছে গুঁজে রেখে আর্ভিক বলল
-“নীল..! তুই আদেও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তো!! ছোট থেকেই আমি ভালো গান গাই। তুই জানিস না।”
নীলাদ্রি আর আর্ভিক একে অপরের প্রাণের বেস্ট ফ্রেন্ড। ওরা ছোট থেকেই একই স্কুলে পড়াশোনা করেছে।
-“আরে ভাই ওটা তো কথার কথা।”
নীলাদ্রির কথায় আর্ভিকের মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে। হঠাৎ ঋষি আর্ভিকের রুমে এসে বলে

-“ভাইয়া রুদ্র আঙ্কেল আর তানভী এসেছে। তাড়াতাড়ি নীচে আসো।”
পরশু দিন আর্ভিকের মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হয়েছে। আর্ভিক অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে। তাই রুদ্রবাবু এসেছেন আর্ভিককে অভিনন্দন জানাতে, আর নিজের সাথে করে এনেছেন ওনার ৮ বছরের ছোট্ট তানভীকে। রুদ্র বাবুর স্ত্রী তখন ৭ মাসের গর্ভবতী তাই ওনাকে সাথে আনেন নি।
ঋষির কথা বলার মাঝে রুদ্র বাবু আর্ভিকের রুমে আসেন, ওনার পিছনে পিছনে তানভী দৌড়ে এসে পাশে দাঁড়ায়। আর্ভিক বিছানা থেকে নেমে এসে রুদ্র বাবু কে প্রনাম করল। রুদ্র বাবু তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন

-“অনেক বড়ো হোও। আর মানুষের মতো মানুষ হোও।”
এই বলে তিনি বুকপকেটে রাখা একটা ছোট বাক্স থেকে একটা সোনার চেন বের করে আর্ভিককের গলায় পড়িয়ে দিলেন। তারপর সেখান থেকে চলে গেলেন। কিন্তু তানভী সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। বিছানার উপর গিটারটা দেখে তানভী গিয়ে সেটা নিয়ে বলল
-“আমাকে এটা বাজিয়ে শোনাবে?”
আর্ভিক মুচকি হেসে তানভীর পাশে গিয়ে বসে এবং বলে

-“তোর গিটার ভালোলাগে?”
-“হুমম। অনেক ভালো লাগে।”
-“শিখবি বাজানো?”
-“তুমি শেখাবে??”
আর্ভিক হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়াল। তানভী গিয়ে আর্ভিকের কোলের উপর বসে। আর্ভিক গিটারটা নিয়ে বলল
-“কোন গানটা বাজিয়ে শোনাবো??”
-” আমার পছন্দের গানটা”
আর্ভিক মৃদু হেসে গিটারে সুর তোলে

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৪+৫+৬

“Janam janam janam sath chalna yunhi
Qasam tumhe qasam aake milna yahin
Ek jaan hai bhale do badan hon juda
Meri hoke humesha hi rehna
Kabhi na kehna alvida
Meri subha ho tumhi
Aur tumhi shaam ho
Tum dard ho tum hi aaram ho
Meri duaaon se aati hai bas yeh sadaa
Meri hoke humesha hi rehna
Kabhi na kehna alvida…
Aa ha ha ha
Aa aa oh oh oh…”

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১০+১১+১২