মিহি পর্ব ৩৫
রুপন্তী সরকার
মিহি এবার কল্পনার মুখে একটা থাপ্পর মারলো। হঠাৎ মিহির বিড়াল কোকো এসে কল্পনার মুখের উপর হিসু করে দিলো। ও মিহির সাথে এসেছে এতক্ষন মিহির মারামারি দেখছিলো। এখন সুযোগ বুঝে সুযোগের সৎ ব্যবহার করে নিলো। মিহি কোকোর দিকে রাগি চোখে তাকালো। কোকো লেজ নাড়িয়ে টেবিলের নিচে ঢুকে পড়ল। রিদ আকাশ কোকোর কাজ দেখে হাসতে হাসতে শেষ। কল্পনার বমি আসছে। সাথে কান্না পাচ্ছে। এক সেকেন্ড ও দেরি না করে দৌড়ে চলে গেলো।
এইদিকে মিহি রিদের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো
“ভালো খুব ভালো”
এটা বলেই মিহি চলে যেতে নিলো তখনি রিদ মিহি কে পেছন থেকে হাত টেনে ধরলো
“আপনি কি জ্বলছেন? আমি কিন্তু একটা পোড়া পোড়া স্মাইল পাচ্ছি”
মিহি বললো
“না জ্বলবো কেনো”
“আসলেই? তাহলে একটা চুমু দিন তাহলে বুঝবো আপনি আপনি জেলাস না”
মিহি বললো
“লজ্জা শরমের মাথা কি দিন দিন খেয়ে ফেলছো? কোথায় কি বলতে হয় ভুলে গেছো? ”
রিদ বললো
“কাছে আসো তো”
রিদের কথায় মিহি ওর কাছে আসে। রিদ বললো
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“চলো করি?”
মিহি রিদের পেটে চিমটি দিয়ে হাসার চেষ্টা করে বললো
“হেহে আকাশ ভাইয়া আছে মুখে লাগাম দিন”
রিদ বললো
” আমি তো লাঞ্চ করার কথা বলছি। কেনো তুমি কি ভেবেছো?”
মিহি নিজের কপালে নিজেই বাড়ি দিলো
“নির্লজ্জ”
রিদ মিহি কে বললো
“আজকে বাইক রেসিং করলে কেমন হয়?”
মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে বললো
“একটা বাইক দিয়ে কিভাবে
রেস করবো?”
“কে বলেছে একটা?”
“একটাই তো”
“না আমার সাথে চলো”
মিহি কোকো কে কোলে নিয়ে রিদের পিছু পিছু যায়। অফিসের নিচের একটা বড় পার্কিং স্পেস আছে। সেখানে অনেকগুলো বাইক সাজিয়ে রাখা আছে। মিহি বেশ অবাক হলো। ও রিদ কে বললো
“এতো গুলো বাইক? এসব কি তোমার?”
“না সব আমার না তবে তুমি যেটা তে টাচ করবে সেটা আজকে থেকে আমার”
মিহি রিদের কথা মতো একটা বাইকে হাত রাখলো। মিহি যেই বাইক টা পছন্দ করেছে ওইটা রিদেরও খুব পছন্দ।
মিহি রিদ কে বললো
“আমি জিতলে কি দিবা?”
“তুমি যা চাইবা সব তোমার। কিন্তু আমি যদি জিতে যায় তাহলে আমাকে ৬০০+ চুমু দিতে হবে”
“ওকে ডান”
সন্ধ্যা বেলা….
বাহিরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।
রিদ আর মিহি রেসিং এর জন্য একদম প্রস্তুত হয়ে আসে। রাইডিং গ্লাভস, লেদার জ্যাকেট, হেলমেট, ইত্যাদি। মিহি ওর বাইকের উপর বসে। আর রিদ বসে ওর বাইকের উপর। এবার রেসিং স্টার্ট হলো। মিহি প্রথমে আস্তে আস্তে চালাচ্ছে। কারণ রিদ বলেছে যেকোনো কাজ করতে গেলে ধিরে শুরু করতে হয়। রিদ শুরু থেকেই স্প্রিট দিয়ে চালাচ্ছে। মিহি ও এবার ফুল স্পিডে চালাতে লাগলো। এক পর্যায়ে গিয়ে মিহি রিদ কে ছাড়িয়ে চলে গেলো। রিদ গাড়ি থামিয়ে দিলো। ও দেখতে চাচ্ছিলো মিহি বাইক চালানো তে কেমন পারদর্শী হয়েছে। রিদ ভেবেছিলো মিহি হয়তো ওর সাথে পারবে না। তবে ওর বউ যেই জিনিস। মিহি রিদের কাছে আসলো। রিদ মিহি কে বললো
“মিসেস রিদ রায়ান চৌধুরী আপনি তো আমাকে হারিয়ে দিলেন। এই খুশি একটু চুমু হয়ে যাক?”
মিহি চুপ করে রইলো। আজ প্রথম রিদের মুখে মিসেস রিদ রায়ান চৌধুরী ডাকটা শুনছে। বেশ অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করছে। আজকাল মিহি রিদের প্রতি একটু বেশিই টান অনুভব করে। যদিও ছোট থেকেই রিদের প্রতি ওর একটা টান রয়েছে। তবে এখন একটু বেশিই আপন আপন লাগে। মনে হয় এই মানুষ টা ছাড়া ও বাঁচবে না। রিদের সব কিছু এখন ওর ভালো লাগে। রিদের পাগলামি। বাচ্চাদের মতো চুমু খাওয়ার আবদার। মিহি মাঝে মাঝে ভাবে এটাই কি ওর সেই পচাঁলোক যে ওকে ছোট্ট থেকে বড় করেছে?
রিদ মিহি কে চুপ করে থাকতে দেখে নিজের বাইক থেকে নেমে মিহির বাইকে উঠে পড়লো। ওর দুহাত মিহির কোমরে রাখলো। ঠান্ডা হাতের স্পর্শে মিহির ছোট্ট দেহটি কেঁপে উঠলো। মিহি কে কাঁপতে দেখে রিদ বললো
“এখনো কিছুই করলাম না তাতেই কাঁপা কাঁপি শুরু। করবো যায় হোক গাড়ি স্টার্ট দাও”
মিহি বললো
“তো তোমার বাইক এইখানে থাকবে?”
“ওইটা আকাশ এসে নিয়ে যাবে। তুমি নামো বাইক থেকে”
মিহি নেমে রিদের পিছে বসে। রিদ বললো
“ধরে বসো জান নাহলে ফেলে দিবো”
মিহি রিদ কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। রিদ গাড়ি স্টার্ট দিলো। মিহির কাছে এই মুহূর্তটা খুব ভালো লাগছে। বৃষ্টিটা হালকা জোরে নামলো।
ওরা দুইজন একটা চায়ের দোকানে নামলো। রিদ মিহি কে বললো
“চা খাবে?”
“হুম”
রিদ দুইকাপ চা নিয়ে এসে মিহির পাশে বসলো। চায়ে ফু দিয়ে পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর মিহির হাতে দিলো
“ঠান্ডা হয়ে গেলো আমি গরম চা খাবো”
“চুপ গরম চা খাওয়া ভালো না”
রিদ চায়ে চুমুক দিয়ে বললো
“যানো সেই ১৩-১৪ বছর আগে ৫ বছরের একটা প্রিন্সেসের মায়ায় আবদ্ধ হয়েছিলাম আমি। সে ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত নারী আমার কাছে বিষের সমান। আমি যখন তার মায়াবি চোখ গুলোর দিকে তাকাতাম তখন মনে হতো রিদ রায়ান চৌধুরীর ধ্বংস লুকিয়ে আছে সেই চোখে। আমি আজ ও বুঝতে পারি না সে আমাকে এ কেমন দহনে পোড়ায়।”
মিহি রিদের কথায় ওর দিকে আড়চোখে তাকায়। রিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
রাতে…..
রিদ মিহি কে কোলে নিয়ে বাড়িতে ডুকলো। ড্রয়িং রুমের সোফায় অভ্র শুয়ে আছে। মিহি কে কোলে নিয়ে আসতে দেখে অভ্র ছুটে গেলো।
“কি হয়েছে টুইঙ্কেলের? দেখি নামা কি হয়েছে?”
রিদ বললো
“বাল হইছে। তোর জ্বালাই কি বউরে কোলে নিতে পারবো না?”
মিহি লাফ দিয়ে কোল থেকে নেমে গেলো। অভ্র বললো
“ওর কি পা নাই? তাছাড়া তোর শরম করা উচিত। আমি তোর ১ মাসের বড় তুই আমার সামনে কেমনে ওরে কোলে নিয়া ড্যাং ড্যাং কইরা আসিস”
মিহি সুর মিলিয়ে বললো
“ঠিক ঠিক”
রিদ কিছু না বলেই মিহির দিকে এগিয়ে যায়। অভ্রকে দেখিয়ে মিহির গালে একটা চুমু খায়। অভ্র বললো
“ঢং দেখলে বাঁচি না”
এবার রিদ বললো
“প্রিন্সেস চুমু দাও”
মিহি হঠাৎ বলে উঠলো
“চুমু দিবো কোনখানে? রিদ রায়ানের মাঝখানে”
এই বলেই ঝেড়ে কোষে দৌড়। অভ্র মিহির কথায় হাসতে হাসতে শেষ। রিদ তাজ্জব বনে চলে গেলো। মিহি এটা কি বললো
রিদ একটা শয়তানি হাসি দিয়ে উপরে চলে গেলো। ঘরে ডুকে গেলো। মিহি আয়না মুছার নাটক করছে রিদ মিহি কে পেছন থেকে জড়িয়ে নিলো। ওর গরম নিঃশ্বাস মিহির ঘাড়ে পড়ছে।
মিহি কিছুটা অস্থির হয়ে উঠলো। রিদ ধিরে ধিরে মিহি কে নিজের আরো কাছে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু মিহি খুব ছটফট করছে। রিদ বললো
“নড়ো না তো বাল”
মিহি রিদকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। রিদ ওকে যেভাবে ওর কাছে টানছে মনে হচ্ছে মিহি কে ওর দেহের ভিতর ডুকিয়ে নিবে। রিদ এখন নিজের মধ্যে নেই। রিদ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। মিহি কে কোলে নিয়ে খাটের উপরে ফেলে দিলো। এরপর রিদ ও মিহির গায়ের উপর শুয়ে পড়লো। এমন সময় খাট মট করে ভেঙে গেলো। রিদ গিয়ে বাড়ি খেলো খাটের এক কোনায়। মিহি রিদ কে বলছে
মিহি পর্ব ৩৪
“একটা হাতি পড়েছে গায়ের উপর নাড়িভুড়ি বের হয়ে যাচ্ছে উঠো”
রিদ নিজেকে ব্যালেন্স করে মিহির উপর থেকে উঠে গেলো। কথা সেটা না কথা হলো কিছু না করতেই খাট ভেঙ্গে গেলো? কেনো? রিদ কি এতোই ভারি ওর ওজন খাট নিতে পারলো না? সব থেকে বড় কথা কালকে সবাই যখন দেখবে খাট ভাঙা তখন কি ভাববে? ছি ছি
