Home মিহি মিহি পর্ব ৩৮

মিহি পর্ব ৩৮

মিহি পর্ব ৩৮
রুপন্তী সরকার

দীর্ঘ সময়ের উন্মাদনা শেষে অবশেষে রিদ ক্লান্ত শরীর নিয়ে মিহির কাছ থেকে একটু সরে এল। তবে দূরে নয় সে হাত বাড়িয়ে মিহিকে টেনে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। মিহির বুক ওঠানামা করছে অনিয়মিতভাবে, সমস্ত শরীর তার ক্লান্তি আর ব্যথায় ভারাক্রান্ত।
মিহি কাঁপা হাতে রিদের বুকে হাত রাখল,
রিদ তার আঙুলগুলো আলতো করে চুলের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল।
মিহির দিকে দৃষ্টি দিল, ওর চোখের কোণ ভিজে উঠেছে, ঠোঁট কাঁপছে,রিদ অবশেষে নরম কণ্ঠে প্রশ্ন করল,

“ বেশি খারাপ লাগছে পাখি ?”
রিদের কথাটা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ মিহি শব্দ করে কেঁদে ফেলল। তার কণ্ঠ কাঁপছে, শরীর ব্যথায় জর্জরিত।
ওর ছোট্ট প্রিন্সেস কে এমন ফুপিয়ে কাঁদতে দেখে রিদের বুকটা হাহাকার করে উঠল। সে মিহির অশ্রুতে ভেজা মুখে আলতো করে একের পর এক চুমু আঁকলো। ফিসফিস করে বলল,
“সরি জান আবার ঠিক হয়ে যাবে, প্লিজ কান্না করো না। আমি বুঝতে পারি নি”
তারপর ধীরে ধীরে রিদ উঠে বসলো। মিহির চুলে হাত বুলিয়ে একটু দিয়ে, প্যান্ট টা তুলে এবার নিজেকে গোছালো। চোখ ফিরিয়ে আবার তাকাল মিহির দিকে। দেখল, তার প্রিন্সেস চাদরে গলা অব্দি জড়িয়ে গুটি মেরে শুয়ে আছে, চোখ বন্ধ করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

রিদের বুকের ভেতরটা ভেঙে যেতে লাগল। সে আস্তে করে চাদরটা দিয়ে আরো ঢেকে দিল,তার প্রিন্সেস কে নিজের বাহুতে নিয়ে কোলে তুলল। ধীর পায়ে এগিয়ে গেল ওয়াশরুমের দিকে।
ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার অন করতেই ঠান্ডা পানির ছোঁয়ায় মিহির শরীর ঝাঁকিয়ে উঠল। ব্যথায় জর্জরিত শরীর নিয়ে সে এক চুল নড়তে পারল না, বরং শক্ত করে রিদের আঁকড়ে ধরল। সরে আসতে চাইলো, কিন্তু ব্যথা আর দুর্বলতায় শরীর তার কথা মানল না। মাথা হালকা হয়ে ঘুরে উঠল। শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে হলো আজ তাকে রিদের হাতেই গোসল সেরে নিতে হলো।

রিদ খুব যত্ন করে মিহিকে গোসল করিয়ে দিল। তারপর ঘরে ফিরে গিয়ে নিজের তার ধূসর রঙের শার্টটা হাতে নিল। বিছানায় পড়ে থাকা চাদর আর মিহির জামা-কাপড়ও তুলে গুছিয়ে নিল ওয়াশরুমে দিয়ে সবগুলো বালতিতে রেখে দিল।
ওয়াশরুমে দাঁড়ানো মিহি গায়ে আলতো করে নিজের শার্ট জড়িয়ে দিল। তারপর তাকে আস্তে করে কোলে তুলে আবার ঘরে ফিরে এল।
বিছানায় শুইয়ে দিয়ে, আলমারি থেকে আর একখানা চাদর নিয়ে এসে মিহির গায়ে টেনে দিল । রিদ তোয়ালে দিয়ে ওর ভেজা চুল মুছে দিল ধীরে ধীরে। শেষমেষ শুকনো একটা চুমু দিল ঠোঁটে, মাথায় হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল,

— “ঘুমিয়ে পড়ো প্রিন্সেস আমি আসছি।”
বলেই চলে আসতে চাইলে মিহি তার হাত আঁকড়ে ধরল। রিদ মৃদু হেসে নিচু হয়ে বলল,
“ওয়াশরুমে যাচ্ছি, ফ্রেশ হয়ে এখনই আসছি। তুমি ততক্ষণ ঘুমাও।”
এরপর সে ওয়াশরুমে গেল। ভেতরে থাকা সমস্ত জামাকাপড় ভালো করে ধুয়ে নিল। নিজেও ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো। বাইরে এসে বালতিটা বারান্দায় নিয়ে গিয়ে জামা-কাপড়গুলো মেলে দিল।
সব কাজ শেষ করে রিদ আবার বিছানায় গেল। দেখল, মিহি ইতোমধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছে। তার মুখটা শান্ত, গভীর ক্লান্তির ঘুম তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
রিদ ধীরে ধীরে ওর পাশে শুয়ে পড়ল। মিহিকে নিজের কাছে টেনে নিল, মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে তাকিয়ে রইল ওর মুখের দিকে। কখন যে নিজেও ঘুমিয়ে গেল, বুঝতেই পারল না।

পরদিন সকাল। সূর্যের আলো ঘরের জানালার পর্দা ভেদ করে আলো ভরিয়ে তুলেছে। ঘড়িতে তখন সকাল দশটা।
মিহি এখনো রিদের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। অন্যদিন হলে ভোরে উঠে যেত, কিন্তু আজ ক্লান্তি তাকে গভীর ঘুমে আবদ্ধ করে রেখেছে।
রিদের হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল চোখ খুলে, মিহির দিকে তাকালো মিহির পরনে তার নিজের শার্ট, একবার মুখটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলো। ঘুমিয়ে থাকার দরুন আরও মায়াবী লাগছে তার প্রিন্সেসকে তারপর শার্টটাতে হাত বাড়িয়ে দু’একটা বোতাম আলগা করে নিয়ে, মুখ গুঁজে দিল বুকের গভীরে। নাক বোলাতে বোলাতে মাঝেমধ্যে হালকা চুমু এঁকে দিতে লাগল।
গভীর ঘুমের মধ্যেও এভাবেই স্পর্শ করাই মিহির ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলো। পিটপিট করে চোখ খুলে, রিদকে এভাবে তার এত কাছে থাকতে দেখে লজ্জায় লাল হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে রাতের কথা স্মরণ হতেই লজ্জায় রিদকে হাত দিয়ে সরাতে চাইলো।
কিন্তু এই নিলজ্জ রিদ কি সহজে সরতে চাই? সে নিজের কাজে বাঁধা পেয়ে, জেদি ভঙ্গিতে মিহির বুকের উপর মুখ গুঁজে রেখেই বলল মৃদু স্বরে,

“তুমি যতই সরাতে চাও, আমি ছাড়ছি না। রাতের পরেও আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে আমি তোমাকে এখনো পুরোটা পাইনি।”
মিহি চোখ বড় বড় করে তাকাল। বুক ধকধক করছে, মনে হচ্ছে শরীরের ভেতরটা আবার আগুনের মতো জ্বলে উঠছে। তবুও লাজুক কণ্ঠে মিনমিন করে বলল,
“উঠো তো ভারি শরীর টা তখন থেকে আমার গায়ে ফেলে রেখেছে। অনেক বেলা হয়ে গেছে, পচাঁ লোক। ”
রিদ এক ঝটকায় মুখ তুলে তাকাল ওর দিকে। চোখে-মুখে এক অদ্ভুত উন্মাদনা, ঠোঁটে হালকা এক চওড়া হাসি টেনে বললো

“ বেলা হতে দাও ১৪ বছর পর কাছে পেয়েছি এটার ঘোর এতো সহজে কাটবে? ।”
কথাটা বলে আবারও নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনল। এবার একের পর এক চুম্বনে ভরিয়ে তুলল মিহির গলা আর বুকের মাঝামাঝি অংশ।
মিহি হাত দিয়ে ওকে ঠেকাতে গেলেও, রিদ তার হাতদুটো ধরে খাটের ওপর চেপে ধরল। তারপর দাঁত বসিয়ে দিল নরম চামড়ায়।
“আহ্…” ব্যথা মিশ্রিত এক গুমরে ওঠা শব্দ বেরিয়ে এলো মিহির ঠোঁট থেকে।
রিদ সেই শব্দ শুনে আরও পাগল হয়ে উঠল। দাঁত বসানো জায়গাটাই সঙ্গে সঙ্গে মুছে দিল ভেজা চুম্বনে। যেন ব্যথা আর লজ্জা দুটোই চুষে নিয়ে শুধু আদরে ভরিয়ে দিতে চাইছে।
মিহির চোখ ভরে উঠছে অশ্রুতে, কিন্তু সেটা আর পুরোপুরি দুঃখের নয়। তার বুকের ভেতর মিশে আছে ভালোবাসা, আবেগ আর স্বামীর ছোঁয়ার প্রতি অদ্ভুত এক আত্মসমর্পণ।
রিদ গম্ভীর গলায় করে বলল,

মিহি পর্ব ৩৭

“তুমি আমার। পুরোটাই আমার। তোমার সব কিছু আমার। সব কিছু। আমার আদেশ ছাড়া মরার কথা চিন্তা করলেও তোমার কলিজা টেনে ছিড়ে ফেলবো। আমাকে রেখে মরার কথা সপ্নেও ভাববে না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি প্রিন্সেস। তোমার অস্তিত্ব জুড়ে শুধু এবং শুধু মাত্র রিদ রায়ান চৌধুরীর বিরাজ। আর কারো না। আজীবন তুমি আমার।”
মিহি আর কিছু বলল না। শুধু চোখ বন্ধ করে মাথা গুঁজে দিল রিদের বুকে, আর জড়িয়ে ধরল তাকে।
ঘর আবারও ভরে উঠল দুজনার নিঃশ্বাসে, একে অপরের দমবন্ধ করা আবেগে।

মিহি পর্ব ৩৮ (২)