নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৫
রূপন্তী সরকার
পরেরদিন…
সকাল সকাল গায়ে হলুদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মুগ্ধর মামার বাড়ির সবাই এসেছে। মুগ্ধর মামা মামি মামাতো ভাই বোন। আবার খালার বাড়ির সবাই এসেছে। বাহিরের মানুষ কে বলা হয় নি তবে নিজেদের মানুষই বেশি। এতো তাড়াহুড়ো করে বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়াতে বেশি কাউকে বলা হয় নি।
এইদিকে বাড়ির সব ছেলেরা হলুদ রংয়ের পাঞ্জাবি পড়েছে। আর মেয়েরা পড়েছে হলুদ আর গোলাপি রঙের লেহেঙ্গা। সবাই মিলে স্টেজে নাচ গান করছে। মুগ্ধ নিজেই নিজের গায়ে হলুদে নেচে ফাটিয়ে দিচ্ছে।
সকাল থেকে বাড়ি ভর্তি মেহমান। মিহি আর তিথি সব সামলাচ্ছে সাথে তিথির বোন ও ভাইয়ের বউ ওরাও হাতে হাতে সব এগিয়ে দিচ্ছে। আরেকটু পর ই হলুদ শুরু হবে। তিথি রান্না ঘরে হলুদ বাটছে। মিহি ভেজা হাত আঁচলে মুছতে মুছতে তিথি কে বললো
“ঋশ কোথায়? ওকে দেখতে পাচ্ছি না যে?”
তিথি মিহির দিকে তাকিয়ে বললো
“ঋশ তো ঘুম থেকেই উঠে নি। কাল সারারাত বাড়িতে আসে নি আজকে ভোরে এসেছে। ও বলছিলো ওর মাথাটা ভিষণ ব্যাথা। ও উঠলে যেনো ওকে এক কাপ কফি বানিয়ে দেই”
তিথির কথা শুনে মিহি ভয় পেয়ে গেলো। কি হলো ছেলেটার? এসব অশান্তি আর ভালো লাগে না। মিহি দ্রুত এক কাপ কফি করে তিথির হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো
“এটা গিয়ে ঋশ কে দিয়ে আসো। আমি বাকিটা করে নিচ্ছি”
এরমধ্যেই রান্না ঘরে তিথির ভাইয়ের মেয়ে আরাধ্যা আসলো। আরাধ্যা কে দেখে মিহির মুখে হাসি ফুটলো। তিথি কফির মগটা আরাধ্যার হাতে দিয়ে বললো
“আরু তুই একটু গিয়ে ঋশ কে কফিটা দিয়ে আয়”
আরু খুব খুশি হয়ে গেলো। মেয়েটা এই বাড়িতে এসেছেই মুলত ঋশ কে দেখার জন্য। ছোট থেকেই ঋশ কে পছন্দ করে। মেয়েটা খুব শান্ত আর লক্ষ্মী। মিহির ওকে খুব পছন্দ।মিহি মনে মনে ঋশের জন্য আরু কে পছন্দ করেছে। আরু গুটিগুটি পায়ে ঋশের রুমের দিকে এগিয়ে গেলো। হাত টা কেমন কাঁপছে। ভয় ও লাগছে বেশ। যদি ঋশ বকা দেয় তখন? ঋশের রুমের দরজার সামনে এসে পা থামিয়ে দিলো। দরজা খোলাই আছে।আরাধ্যা দরজায় একবার নক করলো। কিন্তু ভেতর থেকে ঋষভের কোনো সারা শব্দ নেই। এবার আরাধ্যা আস্তে করে দরজা ঠেলে রুমের ভেতরে প্রবেশ করলো। রুমে ডুকেই দেখতে পাই ঋশ উবুর হয়ে শুয়ে আছে। আরাধ্যা হাতের কফি টা টেবিলে রেখে একভাবে ঋষভের দিকে চেয়ে আছে। হুট করেই ঋষভের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভাঙতেই দেখতে পায় আরাধ্যা দাড়িয়ে আছে।
ঋষভ বিরক্ত মুখ নিয়ে বললো
“কি রুমে কেনো এসেছো?”
আরাধ্যা হাসি মুখে বলে
“তোমার জন্য কফি নিয়ে এসেছি ঋশ ভাইয়া”
ঋষভ কফির দিকে এক নজর তাকিয়ে বললো
“আউট”
আরাধ্যা মুখ ছোট করে বললো
“কি?”
“ঘর থেকে বের হও”
আরাধ্যা মন খারাপ করে চলে গেলো। কান্না পাচ্ছে খুব। এতো চেষ্টা করেও ঋশের মন পায় না। মিহি উপরে এসে দেখতে পায় আরাধ্যা কাঁদো কাঁদো চোখে নিচে নেমে যাচ্ছে। মিহি আরাধ্যার কাছে এসে ওর গালে হাত দিয়ে বলে
“কি হয়েছে মা? কাঁদছো কেনো?”
আরাধ্যা মিহি কে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে উঠে। মিহি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে
“কি হয়েছে বলো? ঋশ কিছু বলেছে?”
আরাধ্যা সব কথা মিহি কে বলে দেয়। মিহি ও আরাধ্যা কে বুঝায় যে ঋশ ওমনই। এটপর আরাধ্যা কে নিচে পাঠিয়ে নিজেই ঋশের রুমে যায়। মিহি দরজায় নক করতেই ঋশ এসে দরজা খুলে দিলো। ঋশের চুল দিয়ে জল পড়ছে। কালো রংয়ের পাতলা শার্ট ও কালো রংয়ের ট্রাউজার পড়েছে। মিহি ভেতরে ডুকে শাড়ির আঁচল দিয়ে ঋশের মাথা মুছিয়ে দিয়ে বলে
“মাথা মুছতে পারো না? ঠান্ডা লাগবে তো। আর এইসব পাতলা বডি দেখানো শার্ট চেঞ্জ করে পাঞ্জাবি পড়ে নিচে যাও হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে”
ঋষভ গম্ভীর গলায় বললো
“যাবো না আমি বের হতে হবে কাজ আছে আমার”
মিহি রাগি চোখে ঋষভের দিকে তাকিয়ে বললো
“আজকে ভাইয়ের গায়ে হলুদ ঋশ আজকে অন্তত কাজের অজুহাত দেখিয়ো না। তাছাড়া তোমার কিসের এতো কাজ? কোম্পানি ও ঠিকমতো দেখো না তাহলে কিসের কাজ করো তুমি? কালকে সারারাত কোথায় ছিলে?”
ঋষভ বিরক্ত নিয়ে বললো
“জানি না। আমি নিচে যাবো না”
মিহি রুম থেকে যেতে যেতে বলে
“নিচে আসো ঋশ আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো”
কথাটা বলেই মিহি চলে নিচে চলে যায়। ঋষভ বিরক্ত নিয়ে একটু পর নিচে যায়। ঋশ কে নিচে আসতে দেখে সবাই অবাক তার থেকেও বেশি অবাক হয় ওর ড্রেসআপ দেখে। কালো রংয়ের পাতলা শার্ট পড়েই চলে এসেছে।
শুভ্র ঋশের কাছে এসে বলে
“কিরে ভাই কি পড়েছিস এসব মিল্ক দেখা যাচ্ছে। মেয়েরা তো চোখ দিয়ে গিলে যাবে।”
ঋষভ কটমট করে তাকিয়ে বললো
“কানের নিচে খেতে না চাইলে চুপ করে থাক”
শুভ্র শয়তানি হাসি দিলো। ঋশ বললো
“অদ্রীত কোথায়? কখন আসবে ও?
কথা বলার মাঝেই অদ্রীত এসে হাজির হয়। অদ্রীত ও হলুদ রংয়ের পাঞ্জাবি পড়েছে। বাড়ির সব ছেলের হলুদ পাঞ্জাবি পড়েছে ঋষভ বাদে।।সবাই বারে বারে ওর দিকেই দেখছে। রিদ ও ছেলের কাছে এসে বলে
“তোমার কি শার্টের অভাব পড়েছে বাপজান? এটা কি পড়েছো? আজকের দিনে অন্তত একটা পাঞ্জাবি পড়তা”
ঋষভ গম্ভীর মুখে বললো
“বেশি কথা বললে তোমাকেও রুমে নিয়ে গিয়ে এমন শার্ট পড়িয়ে আনবো”
রিদ চুপ করে গেলো কারণ ওর ছেলে সুবিধার না। দেখা গেলো সত্যিই এমন শার্ট পড়িয়ে আনবে। আর মিহি ওর পিঠে লাঠি ভাঙবে। আরাধ্যা দূর থেকে ঋষভ কে দেখছে আর লজ্জা পাচ্ছে। একটু পর ঋষভের পাশে এসে দাড়ায়। আরাধ্যা কে দাড়াতে দেখে ঋশ সরে গেলো।
এইদিকে নাচ গানের মধ্যে দিয়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হলো।
পরেরদিন
বরযাত্রী যাওয়ার জন্য সবাই তৈরি হয়ে গেছে। ঠিক করা হলো বাড়ির বড়ো রা বরযাত্রি যাবে না। শুধু সব কাজিন এবং মুগ্ধর বন্ধু বান্ধব এরাই যাবে। তবে এরমধ্যেই অভ্র এসে বলে কয়েকজন বড়ো মানুষ যাওয়া উচিৎ তিথি এবং তিথির ভাইয়ের বউ যাবে বাকিরা বাসায় থাকবে। মুগ্ধ একটা মেরুন রঙের শেরওয়ানি পড়েছে। দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। মুগ্ধ মিহির কাছে এসে বললো
“ছোটমা ভাইয়া কোথায়?”
মিহি বললো
“ও হয়তো ঘুমিয়ে আছে মনে হয় বরযাত্রী যাবে না”
মুগ্ধ মুখ কালো করে বলে
“না না ছোটমা ভাইয়া কে যেতেই হবে নইলে আমি বিয়েই করবো না”
রুহি মিহির পেছন থেকে উকি দিয়ে বললো
“তো তোকে বিয়ে করতে কে বলেছে? আমরা জি কেউ জোর করেছি?”
মুগ্ধ রুহি কে মারতে তেড়ে গেলো। রুহি ও দৌড়াতে লাগলো। এমন সময় ঠাসস করে অদ্রিতের সাথে ধাক্কা খেয়ে ওর গায়ের উপর পরে গেলো। অদ্রিত রুহি কে ধরে নিলো। এইদিক থেকে তিথি চেচিয়ে বললো
“এর বলে আজকে বিয়ে দেখে কেউ বলবে ওর বিয়ে?”
মিহি মুগ্ধ আর রুহির কাহিনি দেখে ফিক করে হেসে দিলো৷
অদ্রিত রুহির থেকে একটু সরে গিয়ে বললো
“এমন দৌড়াদৌড়ি করছো কেনো? আর লেহেঙ্গার ওরনা ঠিক মতো নাও। নেক্সট টাইম যদি ওরনা এদিক ওদিক হয় তাহলে খবর আছে তোমার”
রুহি তাড়াতাড়ি করে লেহেঙ্গার ওরনা ঠিক করে নিলো। ওরনা টা সরে গেছিলো যার কারণে পেট দেখা যাচ্ছিলো।
এইদিকে তিথি আরাধ্যা কে একটা লাল রংয়ের পাঞ্জাবি দিয়ে বললো
“মা ঋশ কে ডেকে নিয়ে আয় আমরা এখনি বের হবো। আর এই পাঞ্জাবি টা ওকে পড়তে বল”
আরাধ্যা মাথা নাড়িয়ে চলে যেতে নিলে মিহি এসে বলে
“তোমাকে যেতে হবে না আরু। ও ঘুম থেকে উঠলে ওর মন মেজাজ এমনিতেই খারাপ থাকে। আবার বকাবকি করবে আমাকে দাও আমি যাচ্ছি”
কথাটা বলেই পাঞ্জাবি নিয়ে ঋশের ঘরে চলে গেলো। ঋশ বেলকুনি তে কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। মিহি এসে পাঞ্জাবি বিছানায় রেখে ঋশের কাঁধে হাত দিলো। ঋশ সঙ্গে সঙ্গে ফোন টা কেটে দিলো। মিহি ঋশের আচরণে একটু অবাক হলো।
“ঋশ পাঞ্জাবি পড়ে তৈরি হয়ে নাও বরযাত্রী যেতে হবে”
“যেতে হবে ঋশ মুগ্ধ তোমাকে ছাড়া যাবে না”
এর মধ্যেই রুমে মুগ্ধ শুভ্র আর অদ্রিত এলো। মুগ্ধ এসেই ঋশকে জড়িয়ে ধরে বললো
“ভাইয়া রেডি হয়ে নাও প্লিজ”
ঋশ গম্ভীর গলায় বললো
“আচ্ছা রুম থেকে বের হ। যাচ্ছি আমি”
কথাটা শুনেই সবাই খুশি হয়ে গেলো। শুভ্র মুগ্ধ কে বললো
“বড়ো ভাই রে রেখে ছোট ভাই বিয়া কইরা নিচ্ছে। এর থেকে কষ্টের আর কি হতে পারে?”
ঋশ শুভ্রর পেটে একটা আলতে ঘুষি মেরে দিলো। অদ্রিত চুপ করে দাড়িয়ে আছে।
সবাই গ্রামে পৌঁছে যায়। আরাধ্যা আর রুহি আসে নি। গ্রামের সবাই বর দেখতে এসেছে। রাহা ঘরে বসে হালকা সাজুগুজু করছিলো। জামাই এসেছে দেখে ওর খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে। রাহা চুপ করে এসে দূর থেকে ঋষভ কে দেখে যায়। ঋষভ কে দেখে ও পুরাই পাগল হয়ে গেলো। ওর বর টা এতো সুন্দর। রাহা ওর একটা বান্ধবী কে বললো
“দেখ আমার জামাই। কি সুন্দর তাইনা?”
মেয়েটা বললো
“কোনটা তোর জামাই? ওইখানে ৪ জন বসে আছে। তার মধ্যে একজন মেরুন রঙের শেরওয়ানি আর একজন লাল রঙের পাঞ্জাবি। তোর জামাই কে?”
রাহা খেয়াল করলো মুগ্ধ মেরুন রঙের শেরওয়ানি পড়েছে। আর ঋশ পড়েছে লাল পাঞ্জাবি। তাহলে কি ওর জামাই মুগ্ধ? না না এ হতে পারে না। ও কিছুতেই মুগ্ধ কে বিয়ে করবে না। রাহা দৌড়ে ওর মায়ের কাছে চলে গেলো৷
“মা আমার বর কে? মিহি ফুফির ছেলে ঋষভ নাকি তিথি আন্টির ছেলে?”
ওর মা অবাক হয়ে বললো
“ও মা এ কেমন কথা। তোর বর তিথির ছেলে মুগ্ধ”
রাহা অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেলো। ও ভেবেছিলো হয়তো ঋষভ। মনে মনে ঋষভ কে নিয়ে অনেক সপ্ন বুনেছিলো। কান্না পাচ্ছে ওর।
“মা আমি ঋষভ কে বিয়ে করতে চাই”
রাহার মা বলে
“পাগল হয়ে গেছিস? নাকি সকাল থেকে না খেয়ো থাকার কারণে পেট খারাপ হয়েছে? ”
রাহা বআর কিছু বললো না ও ভালোই বুঝেছে এখন বলেও কোনো লাভ নেই। সত্যি টা মেনে নিতে হবে।
এইদিকে…
গ্রামের মাস্টারমশাই রাজের খুব ভালো বন্ধু। উনিও এসেছেন উনার মেয়ে কে নিয়ে। রাজ ওদের দেখে খুব খুশি হয়। মেয়েটার নাম ইয়াশফা। বয়স ১৪ বছর। দেখতে একটা পুতুলের মতো। রাজ ইয়াশফার কাছে গিয়ে বলে।
“মা তুই রাহার ঘরে যা দেখ তো ওর হয়েছে কিনা”
ইয়াশফা মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো। এরমধ্যেই একটা মেয়ে এসে ইয়াশফা কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটা হলো ইয়াশফার বান্ধবী আশা।
“ছাড় আমাকে দম আটকে তো মারা যাবো”
আশা বললো
“মরে যা তুই তোর মরে যাওয়াই উচিৎ। আমাকে একটু ও ভালোবাসিস না। তাই তুই মরেই যা”
ইয়াশফা মুচকি হাসি দিয়ে বললো
“আচ্ছা রাগ করিস না চল রাহা আপু কে ডেকে আনি”
ঋশ মুগ্ধর পাশে বসে ফোন স্কোল করছিলো। গ্রামের সবাই ওদের কাছে এসে ভিড় করে। বিশেষ করে ঋষভের কাছে। এতো ভিড়ের মধ্যে ওর অস্বস্তি লাগছে। ও চুপ করে ওইখান থেকে উঠে যায়। এরপর বাড়িতে গিয়ে দেখে কোনো রুম ফাকাঁ আছে কিনা। গিয়ে দেখলো একটা রুম ফাঁকা আছে। ওইটাই হয়তো রাহার রুম। ঋশ গিয়ে দরজা টা ভিড়িয়ে দিয়ে লাইট টা অফ করে দিলো। মাথা ধরেছে ভিষন। বাহিরের চেচামেচি কানে আসছে। ও ভাবলো বাহিরে এখন বিয়ে হবে এইদিকটাই কেউ আসবে না। ঋশ বিছানার এক কোণায় গিয়ে বসলো। এরপর ফোন স্কোল করতে লাগলো।
ইয়াশফা আর আশা রাহা কে খুঁজতে এসে দেখে রাহার রুমের দরজা ভিড়ানো আর লাইট ওফ করা। ওরা ভাবলো রাহা হয়তো নেই। হুট করেই আশা ইয়াশফা করে ঘরের মধ্যে ডুকিয়ে বাহিরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলো। ইয়াশফা অন্ধকার রুমে চেচিয়ে উঠলো অন্ধকারে অনেক ভয় লাগে। শ্বাস আটকে যায়। আশা বাহিরে থেকে হেসে বলে
“আমাকে ভালোবাসিস না এখন ওইখানেই থাক ২ মিনিট পর এসে খুলে দিবো এটা তের শাস্তি”
কথাটা বলেই আশা চলে যায়। এইদিকে ঋশ হকচকিয়ে যায়। হুট করে একটা মেয়ে রুমে ডুকে গেলো। কি হয়ে গেলো কিছুই বুঝলো না। ইসাশফা অন্ধকারে ঋশ কে দেখতে পেলো না। অ সুইচবোর্ড খুঁজতে লাগলো। ঋশ এসে ফোনের ফ্লাশ ইয়াশফার উপর দিলো। ইয়াশফার চোখ দিয়ে জল পড়ছে। অন্ধকারে কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। ঋশ লাইট জ্বালাতেই ইয়াশফা মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো ও ঋশের গায়ের উপর পড়ে গেলো। এমন সময় এক মহিলা দরজা খুলে ঋষভ আর ইয়াশফা কে একসাথে দেখে চিৎকার দিয়ে উঠলো। ওইদিকে শুভ্র আর রাহার বিয়ে পড়ানো শেষ। ওরা তাড়াতাড়ি রাহার ঘরে ছুটে আসলো। ঋষভ আর ইয়াশফা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। রাজ মহিলাটার দিকে তাকিয়ে বললো
“কি হইছে চাঁচি? ”
মহিলা ঋষভের দিকে তাকিয়ে বললো
“এই পোলা এই মাইয়ার লগে খারাপ কাজ করতাছিলো আমি নিজ চোক্ষে দেখছি”
তিথি এসে ঋশ কে ধরে বলে
“মানে কি বলছেন এসব? আমার ছেলে এমন করতেই পারে না। খবরদার এমন মিথ্যা দোষ দিবেন না”
মহিলাটা খেপে গিয়ে বললো
“আমি মিথ্যা কইতাছি? আমি নিজের চোখে দেখছি অগোরে এক লগে চিপকাইয়া থাকতে। ছি ছি কি অবস্থা”
মাস্টার মশাই এসে ইয়াশফা কে নিজের কাছে নিয়ে বলে
“আমার মেয়ে ছোট। তাছাড়া ও এমন কাজ কখনো করবে না। মিথ্যা বলবেন না”
ঋষভ খুব মনোযোগ দিয়ে সবার কথা শুনছে। ও কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না। কিসের মধ্যে কি হয়ে গেলো। সব ওর মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। ঋষভ এক নজর ইয়াশফার দিকে তাকালো। মেয়েটা একদমই বাচ্চা। বেবি পিংক কালারের একটা ফ্রক পড়ে আছে। মাথার দুপাশে গোলাপি রঙের ক্লিপ। ঋষভ ওই মহিলা কে বলে
নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪
“আপনি কি কিছু খেয়েছেন নাকি আপনি? আমি এই বাচ্চা কে চিনিও না। ও হঠাৎ কই থেকে চলে আসলো কিচ্ছু জানি না।”
কেউ কারো কথা শুনলো না। গ্রামের মোড়ল আসলো। তিথি শুভ্র সবাই কে বুঝানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পুরা গ্রামবাসি ওই মহিলাকেই বিশ্বাস করলো। তিথি অভ্র কে কল দিলো। অভ্র কল ধরছে না। এইদিকে মোড়ল ঘোষণা দিলো ইয়াশফা আর ঋশ কে বিয়ে দিয়ে দিবে। এসব শুনে ঋষভ অনেক রেগে গেলো। ও কিছুতেই একটা বাচ্চা কে বিয়ে করবে না। তাছাড়া ও কোনো অন্যায় করে নি। এইদিকে মোড়ল বলেছে ঋশ যদি ইয়াশফা কে বিয়ে না করে তাহলে রাহা কেও যেতে দিবে না। রাজ রা ভালোই বিপদে পড়েছে। ইয়াশফা মেয়েটা কান্না করছে। মাস্টার মশাই অনেক বার করে সবাই কে অনুরোধ করছে কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ঋষভ রিদ কে কল দিলো। দুইবারের বেলাই রিদ কল ধরে বললো
“ঋশ তোমার মা পড়ে গেছে আমি একটু পর কথা বলছি”
ঋষভ রাগে দেওয়ালে ঘুষি মারে। সবাই এসে ঋশ কে থামায়। এক প্রকার জোর করেই বিয়ে দিয়ে দেই ওদের। তবে কি আবারো অতীতের পুনরাবৃত্তি হলো?
