হৃৎস্পন্দন পর্ব ৯
সাঞ্জেনা শাজ
পিছনে কারো পায়ের শব্দ পেয়ে ঘার ঘুরিয়ে পিছনে তাকালো শুভ্রতা। মেহরাদকে পিছনে দেখে রাগ, দুঃখ, কষ্ট সব যেন একসাথে ঝেকে ধরলো তাকে। পা’য়ের গতি বাড়ালো। হাতের চ্যাপ্টা বোতলটা ছুড়ে ফেললো সামনে ফুসতে ফুসতে সেই সাথে চোখে জল।
তার এমন কেন লাগছে? নিজেকে নিজের কাছে খুব ছোট ছোট লাগছে! সে কি বড় হয়েছে! ছোটই তো! এক মন প্রশ্রয় দিচ্ছে আরেক মন তা দমিয়ে রাখছে। তার মস্তিষ্ক এলো মেলো।
এই এলো মেলো মস্তিষ্ক নিয়েই সামনে পরে থাকা বোতলটা পা দিয়ে লাথি মা’রতে গিয়ে বেকায়দায় পা’য়ে চোট লাগলো। কিন্তু শুভ্রতা ‘উফফ’ পর্যন্ত করলো না।
পিছন থেকে মেহরাদ কদমের গতি বাড়ালো। ঘারের রগ গুলো একটু ফুলে ফেঁপে উঠলো। সেই সাথে চোয়ালটা তীক্ষ্ণ। মেয়েটা জেদ দেখিয়ে নিজের ক্ষতি করছে। জিদ্দি কোথাকার!
হাটতে হাটতে ওয়াশরুমের দিকে না গিয়ে একটা প্রাইভেট কর্নার টেবিলের দিকে চলে এসেছে শুভ্রতা। এখানেই শেষ আর যাওয়ার জায়গা নেই। কিন্তু সে তো এখন মেহরাদ ভাইয়ের মুখোমুখি হতে চাচ্ছে না!
পাঁচ তারকার হোটেল হওয়ায় সব ধরনের প্রাইভেসির ব্যাবস্থাই আছে। মচকানো পা নিয়েই সেই প্রাইভেট কেবিনে ঢুকে স্লাইডিং ডোরটা আটকে দিতে চাইল শুভ্রতা। কিন্তু এর আগেই মেহরাদ এসে হাত দ্বারা আটকে দিলো তা। হীম শীতল চোখে তাকালো শুভ্রতার দিকে, শুভ্রতাও তাকালো লাল লাল চোখ জোড়া নিয়ে। নাকের পাটা এখনো কাপছে। যেকোনো মূহুর্তে গলা ভেঙে কেদে ফেলবে নিশ্চিত। থুতনিটাও তিরতির করে কাপছে।
শুভ্রতাকে কিঞ্চিৎ ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে ভিতরে ঢুকে শব্দ করে স্লাইডিং ডোরটা লক করে দিলো মেহরাদ। শুভ্রতা সড়ে যেতে চাইলো মেহরাদের সামনে থেকে কিন্তু বিনা বাক্য ব্যায়ে মেহরাদ শুভ্রতার কোমড় ধরে টেবিলের উপরে বসিয়ে দিলো। চোট পাওয়া পা টেনে উপরে উঠিয়ে জুতোটা খুলে দিল। ব্লক হিলস পড়া ছিল পা’য়ে। যা এখন মেহরাদের হাতে শোভা পাচ্ছে।
শুভ্রতা মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছে। তার দিকে ঝুকে মেহরাদ খুব কাছাকাছি। কিন্তু সে সেদিকে তাকাবেনা। তাকালেই কেদে ফেলবে ভ্যা ভ্যা করে।
এক হাতে শুভ্রতার ঘার চেপে তার মুখোমুখি করলো মেহরাদ। শুভ্রতা তবুও তাকায়নি। তিরতির করে কাপতে থাকা ঠোঁটগুলো চেপে আছে, দৃষ্টি নিচে।
“পায়ে লেগেছে, খেয়াল আছে সেদিকে??”
শুভ্রতা নিশ্চুপ, ক্ষনে ক্ষনে নাক টেনে কান্না আটকাচচ্ছে।
মেহরাদের চোয়াল আরও খানিকটা কঠিন হলো। ঘার চেপে তার দিকে তাকাতে বাধ্য করলো শুভ্রতাকে। সাথে সাথেই টুপ করে একফোঁটা চোখের পানি পড়লো।
“জেদ দেখাচ্ছিস কেন?কার সাথে দেখাচ্ছিস, হু? রিজন কি ? ”
শুভ্রতার রাগ, দুঃখ, কষ্ট যেনো আরও বাড়ল। তাকে রিজন দেখাতে বলছে! সে কি তার স্বামীর সাথে একটু রাগ জীদ’ও দেখাতে পারবেনা!
“কোন কারণ নেই।” কিছুটা তেজ দেখিয়ে বললো শুভ্রতা। আবারও ঘার ঘুরিয়ে নিল আরেক দিকে।
তপ্ত শ্বাস ছাড়লো মেহরাদ। শুভ্রতার ঘার চেপে আবারও নিজের দিকে ঘুরাতে ঘুরাতে বললো,,
“আমায় তেজ দেখাচ্ছিস? আবার চোখের জল ও ফেলছিস। সো চাইলডিশ! তুর তেজ কমাতে আমার দু’সেকেন্ড ও লাগবেনা। ”
“কমবে না। আমি এমনিই, ভালো না। ” আবারও মেহরাদ থেকে দূরে যেতে চেয়ে বললো।
“তুর তেজ কমাতে আমার একটা চুমু’ই যথেষ্ট। ”
সময় ব্যয় করলো না মেহরাদ। ঘার চেপে নিজের মুখোমুখি করে রক্তিম উষ্ঠ জোড়া দখল করে নিল। শুভ্রতা শান্ত হলো না, আরও ফুপিয়ে উঠলো। তবে মেহরাদ ছাড়লো না। গভীর করলো ওষ্ঠের ছোঁয়া। একসময় শুভ্রতাও সাড়া দিল, কিন্তু চোখের কোনে জল গড়িয়ে পড়ছে। এই মানুষটাকে সে ভালোবাসে। খুউউউব ভালোবাসে।
কিছুটা সময়ের ব্যায়ে শুভ্রতাকে বুকে আগলে নিলো মেহরাদ। এক বাহু দ্বারা পিঠ চেপে বক্ষপিঞ্জরে লেপ্টে রাখলো। শুভ্রতার মুখ গিয়ে ঠেকেছে মেহরাদের গলার কাছে। শুভ্রতার বড় বড় নিশ্বাসের তালে তালে বক্ষপিঞ্জরে আলোরন ঘটছে মেহরাদের। এখনো ফুপাচ্ছে মেয়েটা। মেহরাদ মুখ নামিয়ে মাথায় বার কয়েক চুমু খেলো। তবে মুখে কিছুই আওড়ালো না।
শুভ্রতার হৃদয় ভেঙে ফোপানোর কারণ তার জানা। সে জানে,যতবার তাদের আলাদা হয়ে যাওয়ার কোন ইশ্যু সামনে আসে মেয়েটা ঠিক ততোবার নিজেকে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে ফেলে। বিক্ষিপ্ত, রক্তাক্ত হৃদয়ে তার সাহারার জন্য বসে থাকে।
“মেহরাদ ভাই,, আপনি তো জানেন ; আমি আপনায় ছাড়া বাচতে পাড়বো না। একদম না। ”
“হুশশশ! জানি, সব জানি। আমি আছি তো।” শুভ্রতাকে চুপ করিয়ে আরও নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো মেহরাদ।
শুভ্রতার ছোট্ট দেহখানা এখনো কিছুটা কেপে কেপে উঠছে। তবে ফোপাঁনো বন্ধ হয়েছে। নিশ্চুপ লেপ্টে আছে…। সে জানে, তার মনের আশংকা, ভয় সব কিছু তার কিশোরী মনের অযাচিত অতিরিক্ত আবেগ। তার ম্যাচুরিটি কম তাই-ই হয়তো এতটা খারাপ লাগে ভিতর থেকে, যতবার ভাবে তার আর তার মেহরাদ ভাইকে আলাদা হয়ে যেতে হবে। তাদেরকে কেউ মানবেনা। এই চিন্তাভাবনা গুলো মাথায় আসলে তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় কেউ গলা চেপে ধরেছে তার। এই বুঝি মৃত্যুর দুয়ার খুলে গেল তার সামনে। শেষ তার জীবনের পথযাত্রা।
এই মানুষটা তার জীবনের পথ চলার সঙ্গী। এখন থেকে না সেই তার দশ বছর বয়স থেকেই। ছোট্ট মেয়ে সে তখন, হটাৎ এক দুর্ঘটনা! তার জীবন থমকে দিলো। সেই সাথে পরিবারের সকলেরও দিল। সবচেয়ে বেশি দিল তার মা’য়ের। তাকে দেখলেই মা’রতো, বকতো, অপয়া বলতো, আরও কতো কি!! মানসিক রুগীই হয়ে যাচ্ছিলো একপ্রকার। বাবা নিয়ে গেল তখন মা কে সাথে করে। বাড়ির সকলে রেখে দিল তাকে তাদের সাথে। সেই থমকে যাওয়া জীবন আবারও শুরু হলো এই মানুষটার হাত ধরে। সেই থেকে তার আশা, ভরসা, ভালো লাগা, খারাপ লাগা যা আছে সব কিছু বলতে সে এই মানুষটাকেই বুঝে। বুঝতে বুঝতে ভালোবেসেছে। এখন এ মানুষটাকে ছাড়া জীবন মানে তার কাছে পথযাত্রা শেষ হওয়া একিই। কোন পার্থক্য নেই তার কাছে।
বলেনা, মানুষ সুখের চেয়ে দুঃখ মনে রাখে বেশি? ঠিক সেটারিই প্রতিফলন তার বেলায়। এই যে দশ বছরের পূর্বের ঘটনা এখনো যেনো স্বর্নাক্ষরে তার কলিজায় ক্ষত হয়ে রয়ে গিয়েছে। ভুলবে কি করে? সম্ভব তা কখনো? কক্ষনো না!
শুভ্রতাকে বুকে চেপেয় পকেট থেকে মোবাইল বের করে এসিট্যান্ট রুবেলকে মেসেজ করে মিস আয়রার সাথে বাকি সব বিষয় গুলো হেন্ডেল করতে বললো।
আরেকটা মেসেজ দিলো আদনান কে। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। আর বাহিরে থাকা ঠিক হবেনা। আদনান কে বললো, শান্তা আর সোহানা কে বাড়ি পৌছে দিতে। আদনান সাথে সাথেই রিপ্লাই করে জানালো,
“ওকে ব্রু। স্পেন্ড ইউর কোয়ালিটি টাইম উইথ ইউর ওয়াইফ। আ’ম হেয়ার। ডোন্ট ওয়ারি। ”
মোবাইলটা আবারও রেখে দিল। আদনান জানে তার আর শুভ্রার বিয়ের ব্যাপারে। তার বেস্ট বাডি জানবে এটাই স্বাভাবিক। তাদের রেজিস্ট্রির সময়ও ছিল। আরও দু জন ছিল তারিই ফ্রেন্ড। সে জানে আদনান ওর বোনদের সুস্থ ভাবে বাড়ি পৌছে দিবে। রুবেল ও ওদিকটা সামলে নিবে। তাই সে রিলেক্স হলো কিছুটা। স্বস্থির নিশ্বাস বেড়িয়ে আসলো বুক চিড়ে।
শুভ্রতার দিকে নজর দিল মেহরাদ। মেয়েটা শান্ত হয়ে বুকে লেপ্টে আছে তার। দু হাতে জড়িয়েও ধরে আছে। সে কাধ থেকে মাথাটা তুলে তার মুখোমুখি আনলো। অশ্রুজলে ভেজা মুখশ্রীটা দু হাতের আজলায় ভরে পর পর কয়েকটা চুমু খেয়ে নিল সারা মুখে। এক হাতে মুছিয়ে দিল সাড়া মুখ ট্যিসু দিয়ে নিজের হাতে।
শুভ্রতার অন্তর শীতল হয়ে এসেছে। তার হৃদয় শীতল কারী পুরুষ এটা। রবের কাছে খুব চাওয়ার। হৃদয় শীতল না হয়ে উপায় আছে! অভ্যন্তরে কোথাও যেন ফুরফুরে প্রানোচ্ছল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এই ছোট্ট ছোট্ট কেয়ার গুলোই তো তাকে মে’রে ফেলে। বারে বারে ক্ষনে ক্ষনে ফিদা করে ফেলে এ তার মেহরাদ ভাইয়ের উপরে। উনি রাগলে যেমন আগুন, তেমনি শান্ত থাকলে যেনো কোন প্রবহমান শান্ত ধারা। যে তাকে বারে বারে আগলে রাখে বক্ষপিঞ্জরায়। ছোট্ট আদুরে বিড়াল ছানার মতো।
শুভ্রতাকে নিয়ে মেহরাদ যখন হোটেল থেকে বের হলো তখন সন্ধ্যা ছেয়ে গেছে ধরনীতে। চারদিকে আর্টিফিশিয়াল লাইটের ঝলকানি। শুভ্রতা তখন মেহরাদের পাজোকুলে। মেহরাদের কোলে শুভ্রতার শুভ্র মুখ খানা শুভ্র ওরনা দ্বারা ঢাকা। লজ্জায় ঢেকে ফেলেছে শুভ্রতা। বাহিরে কতো মানুষ! আর মেহরাদ ভাই তার কথা শুনলোই না! একটুও না! একটু পা মচকেছে তো কি হয়েছে? এভাবে সকলের সামনে কোলে করে আনতে হবে? আশ্চর্য!
শুভ্রতা রাগে লজ্জায় কুন্ঠিত। মুখে বলার ভাষা নেই আপাতত তার। মানুষ গুলো কি ভাবছে কে জানে! টেবিল থেকেই কোলে তুলে নিয়ে বের হয়েছে মেহরাদ ভাই। সে চোখ বন্ধ করেই বুঝতে পারছে তাকে এক হাতে ধরে রেখেছে মেহরাদ ভাই আরেক হাতে তার ব্ল্যাক হিলস গুলো মেবি ।
এ লোক তার মতো লিলিপুট কে এক হাতেই তুলে নিতে পারবে এটা অস্বাভাবিক কিছু না। সে মেহরাদ ভাই থেকে ভালোই ছোট খাটো। বাচ্চা টাইপ। ইশশ! সে আরেকটু মোটা হলে, আরেকটু লম্বা হলে কি হতো! আফসোস! আফসোস! এতো আফসোস কোথায় রাখবে শুভ্রতা! জায়গাটা কইইইই!
পার্কিং লটে এসে গাড়ির দরজা খুলে শুভ্রতাকে বসিয়ে দিল মেহরাদ। শুভ্রতার মুখে এখনো ওরনা দ্বারা ঢাকা। সিট বেল্ট লাগাতে লাগাতে শুভ্রতার দিকে তাকিয়ে মৃদু মাথা দুলিয়ে হেসে ফেললো মেহরাদ। চাপা হাসি যাকে বলে -সামান্য ঠোঁট বাকা।
গাড়ির দরজাটা লাগিয়ে দিল মেহরাদ। দরজা লাগানোর শব্দে শুভ্রতা ওরনা সড়িয়ে দেখলো মেহরাদ গাড়িতে না উঠে কোন শপে যেনো গেল। গিয়ে কি কি যেনো কিনল। আবার আসছে এদিকে। সে তাড়াতাড়ি আবার ঢেকে ফেললো মুখ। মটকা মেরে সিটে মাথা এলিয়ে পড়ে রইলো।
মেহরাদ এসে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসলো। শুভ্রতার দিকে এক পলক তাকিয়ে হাতের ছোট্ট ব্যাগটা রেখে গাড়ি স্টার্ট দিল। শুভ্রতা সেভাবেই পরে রইলো কোন নড়াচড়া করলো না।
গাড়ি চালাতে চালাতে মিনিট বিশেক পর গাড়ি থামালো মেহরাদ। শুভ্রতা মুখ থেকে ওরনা সড়িয়ে ফেললো, সে ভেবেছে বাড়ি চলে এসেছে বোধহয়। ওমা! এটা তো বাড়ি না। একটা নির্জন রাস্তা। চারিদিকে নিরিবিলি। শুধু বাহিরে গুটগুটে আলোর মধ্যে তাদের গাড়ির হেড লাইট দুটো জ্বলছে আর ল্যাম্পপোস্টের বাতিটা।
শুভ্রতা অবাক হয়ে তাকালো মেহরাদের দিকে। তাকিয়েই দেখলো মেহরাদ আহে থেকেই তাকিয়ে আছে তার দিকে। সিট বেল্টও খুলে ফেলেছে ইতিমধ্যে। এখান থেকে বের হবে নাকি? কোথায় যাবে? এটা আবার কই? সে চিনতে পারছেনা কেন? অন্ধকার দেখে না-কি!
শুভ্রতার এতো সব ভাবনার মধ্যেই মেহরাদ শুভ্রতার সিট বেল্টটা খুলে দিল আকস্মিক, সেই সাথে মচকে যাওয়া পা টা টেনে নিল তার কোলের উপর। শুভ্রতা হকচকিয়ে চমকে উঠলো। এই নিস্তব্ধ গুমোট জায়গায় তার রিনরিনে হকচকানো কন্ঠ ধ্বনিত হলো,,
“কি করছে? কি করছেন? পা’য়ে ধরছেন কেন?”
মেহরাদ শুভ্রতার কথায় কোন জবাব দিলনা। দেওয়ার কোন ভাবান্তর ও দেখা গেল না তার। সে তার মতোই তখন কার শপ থেকে কিনে আনা প্যাকেটটা থেকে ‘ফ্রোজেন চিলড কিউকাম্বার’ বের করলো। ছোট্ট কিউবের মিধ্যে ছিল। এটা ভালো ব্যাথা যুক্ত স্থানের জন্য।
শুভ্রতা চোখ বড় বড় করলো। এগুলো নেওয়ার জন্য গিয়েছিল তখন! কি আশ্চর্য! তার মেহরাদ ভাই এত্তো ক্যায়ারিং কেন? হোয়াই!! এ কারণেই তো সে এ লোকটাকে কাউকে দিবেনা। কোন ভাবেই না।
“মাথা ঠান্ডা হয়েছে? ” মেহরাদ জিজ্ঞেস করলো। হাতে বরফে জমা শশার স্লাইড যেটা পা’য়ে লাগাতে নিচ্ছে।
শুভ্রতা পা টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসতে চেয়ে বললো,,
“মাথা, মন সব ঠান্ডা। আপনি এটা কি করছেন? আমায় দিন আমি ঘষছি পায়ে! ”
“উঁহু। আমি করছি। চুপচাপ বস।”
শুভ্রতা চুপচাপ বসলো না, মোচড়ামুচড়ি করলো। পা টেনে আনতে চাইলো কিন্তু কোন লাভই হলো না বেচারির।
“থামবি?? না-কি মচকানো পা আরও মচকে দিবো? ”
মুখ আনত করলো শুভ্রতা। মুখ ভার করেই বললো,,
–“আপনি পা’য়ে হাত দিয়েছেন ভালো লাগ….” আর বাকিটা বলতে পাড়লো না। এর আগেই পা টা কিঞ্চিৎ তুলে মচকানো স্থানে চুমু খেলো মেহরাদ।
শুভ্রতা হতভম্ব হয়ে একটু পিছন দিকে এলে গিয়েছে। সারা শরীর শিরশির করছে।
“আপনার মাথা গেছে। কি করছেন? পা’য়ে কেউ… কেউ.. ” আমতা আমতা করলো সে। ভেঙে বলতে পাড়ছেনা সে। লজ্জা লাগছে তার।
মেহরাদ ভাবলেশহীন। স্বাভাবিক ভাবেই পা’য়ে বরফ ডলতে ডলতে বললো,
“এতোদিনে আরও অনেক জায়গায়ই এই ঠোঁট গুলো ছুঁয়ে দেওয়ার কথা ছিল। ”
শুভ্রতার আরষ্ঠতা আরও বাড়ল। পা ঠান্ডা লাগলেও সাড়া শরীরে তাপদাহ কেমন ছড়িয়ে পরছে৷ পা’য়ে মেহরাদের শান্ত কোমল ছোঁয়া তার দেহের তুড়নে তুড়নে অনুভূতিরা জোয়ারে ভাসাচ্ছে।
“আমরা হাসবেন্ড ওয়াইফ শুভ্রা। এভাবে রিয়েক্ট করে নিজেকে কষ্ট দেওয়ার মানে কি? ”
শুভ্রতার রাগ হলো। সে রিয়েক্ট করেছে! আর মেয়েটা যে ওনার সাথে ঢলে ঢলে কথা বললো সেটা?
“বিয়ে হয়েছে তো কি হয়েছে? কেউ জানে বিয়ের কথা? আপনি আমি একসাথে খাই? একসাথে থাকি? ”
“তুই কি চাস আমরা এক সাথে থাকি? তুই চাইলে সব হবে। ” মাধকতা ভরা চোখে চেয়ে শুধালো মেহরাদ।
শুভ্রতা চুপ করে গেল। কথা ঘুরাতে বললো,
“আর লাগবেনা। ঠান্ডা লাগছে পায়ে এটা ফেলে দিন। ”
মেহরাদ ফেললো না। টুপ করে মুখে পুরে নিল।
“এটার প্রয়োজন ছিল। বিকজ তুই সাথে আছিস। ”
শুভ্রতা গোল গোল চোখে চেয়ে আর্তনাদ করে বললো,,
“ইয়াক, ছিঃ!! এটা কি করলেন? আল্লাহ, আপনি সত্যি সত্যিই পাগল হয়ে গেছেন। ফেলুন এটা। ফেলুন। ” সে এগিয়ে গিয়ে মেহরাদের মুখোমুখি হয়ে চোখ মুখ কুচকে বলতে থাকলো।
মেহরাদ টুকরোটা গিলে ফেললো, সেই সাথে আড্যামাস আপ্যেলটা ভেসে উঠলো। শুভ্রতার এতো কাছাকাছি তাকে কন্ট্রোললেস করে৷ তুলছে। সে তার দিকে ঝুকে থাকা শুভ্রতাকে নিজের কোলে বসিয়ে দিল। শুভ্রতার উন্মুক্ত ঘারে নাক ঘষে হাস্কি স্বরে বললো,,
“তুই এখনো ছোট আছিস শুভ্রা?
শুভ্রতা ঢুক চাপলো একটা। মেহরাদের তপ্ত শ্বাস, ঘাড়ে ছোট ছোট ছোঁয়া তার নারী দেহে ঝংকার তুলে দিচ্ছে। তলপেটে হাজারো প্রজাতিরা ডানা মেলে উরছে।
“আপনি না চাইলে আমি আর আসবো না আপনার কাছাকাছি। আপনাকেও আর হেল্পলেস হতে হবেনা। ” মেহরাদের দু কাধে হাত চেপে বললো শুভ্রতা মিন মিন গলায়।
“উম,আমি চাই। খুব করে চাই, তুই আমার কাছে আসিস। যতটা কাছে আসলে তুর আর আমার মাঝে সুতো পরিমাণ দুরত্বও থাকবেনা। ” এযাত্রায় শুভ্রতার গায়ের শুভ্র ওরনা খানা খুলে ব্যাক সিটে ফেলে দিল মেহরাদ। শুভ্রতাকে মিশিয়ে নিলো তার সাথে।
শুভ্রতার গলায় আরও ভালো ভাবে মুখ ডুবাতে ডুবাতে হাস্কি স্বরে বললো,,
“তুই জানিস তো এই তাশদীদ মেহরাদ তালুকদার শুধু তুর। শুধুই তুর। তাহলে কেন কষ্ট পাস জান? ”
“ওনার বাবা আপনাদের বিয়ের জন্য প্রপোজাল দিয়েছে বড় বাবার কাছে। ”
“সো হোয়াট? দিলেই হবে? ”
শুভ্রতা কিছু বললো না। সে জানে মেহরাদ ভাই এগুলো কখনো কানে তুলবেনা।
মেহরাদ শুভ্রতার এলো মেলো নিশ্বাসের গতির আভাস পাচ্ছে। বড় বড় করে শ্বাস ফেলছে মেয়েটা। শুভ্রতার কমলার কোয়ার ন্যায় রক্তজবার মতো ওষ্ঠগুলো দখন করে নিল মেহরাদ। নিঃশব্দ, গভীর, ভেজা চুমুতে বুঝিয়ে দিচ্ছে নিজের ভিতরের দাবদাহের অবস্থা। এর মধ্যেই সে করে বসলো আরেক কান্ড। এক টানে শুভ্রতার জামার পিছনের চেইনটা খুলে দিল। আৎকে উঠলো শুভ্রতা। ওষ্ঠগুলো ছাড়িয়ে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলে মেহরাদের চোখে চোখ রেখে কুন্ঠিত হয়ে বললো,
“কি… কি করছেন? ”
মেহরাদ জবাব দিলনা। শুভ্রতার উন্মুক্ত পিঠের সেই লাল তিলটার উপর আঙুল ছোয়াল। কেপে কেপে উঠছে শুভ্রতা। সাড়া শরীর শিরশির উঠছে। গলা শুকিয়ে কাঠ।
“এটা ছুয়ে দেওয়ার কথা ছিল আমার সেদিন। যেটা আজ পরিপূর্ণ করবো আমি। ”
শুভ্রতা দু পাশে মাথা নাড়াল। তার দ্বারা অসম্ভব এটা। মেহরাদ ভাই তাকে আরও গভীর ভাবে ছুয়ে দিলে সে এই মুহূর্তে নির্ঘাত মূর্ছা যাবে।
“প্লিজ জান। ” শুভ্রতা তখনো মাথা নাড়াচ্ছে, অর্থাৎ না।
হৃৎস্পন্দন পর্ব ৮
মেহরাদ কি শুনার মানুষ? সে একটানে শুভ্রতাকে ঘুরিয়ে বসিয়ে দিল। খোলা চেইনের অংশটা ভালো ভাবে উন্মুক্ত করে ঠোঁট দুটো অগ্রসর করলো বহু আকাঙ্খিত জায়গাটায়। চুম্বুকের মতো ছুয়ে দিল সেটা।
পিঠে এক জোড়া তপ্ত কোমল ওষ্ঠের ছোয়ায় চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করে নিল শুভ্রতা। দু হাতে খামচে ধরলো পরিহিত জামা। শুভ্রতা নিশ্বাসও ফেলছে যেনো গুনে গুনে। পা’য়ের তলায় জ্বলুনি অনুভূত হচ্ছে।
সময় নিয়ে শুভ্রতার লাল তিলকটা ছাড়লো মেহরাদ। জায়গায়টা জ্বলছে। লালও হয়ে গিয়েছে বোধহয়। শুভ্রতার পিঠে নাক ঘষলো মেহরাদ। শুভ্রতার মনে হচ্ছে এ মেহরাদ ভাইয়ের এ আদর তাকে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দিবে। একদম নিঃশেষ।
