হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৮
সাঞ্জেনা শাজ
মেহরাদের তীব্র চিৎকারে সকলের কানে তব্দা লেগে যাওয়ার মতো। সেই সাথে আতংক! মেহরাদ গিয়ে জাপ্টে ধরেছে শুভ্রতার ছোট্ট দেহটা। সকলে এক ছুটে পৌছে গিয়েছে মেহরাদ শুভ্রতার কাছে ব্রিজের সেফটি দেয়ালের সাথে।
শুভ্রতার থর থর করে কাপতে থাকা দেহটা মেহরাদের বক্ষ পিঞ্জিরাবদ্ধ। তার মন মস্তিষ্ক সকল কিছু থমকে আছে এখনো। এটা….এটা কিভাবে সম্ভব! সে সামনে থাকতে তার শুভ্রা এরকম একটা কাজ করতে গেলো! শুভ্রা….শুভ্রা….. এটা কেন করতে গেলো? কেন?কেন?
শুভ্রতাকে জাপ্টে ধরেই হাটু গেড়ে কংক্রিটের ব্রিজটায় বসে পড়ল মেহরাদ। তার এখনো এসব কিছু বিশ্বাস হচ্ছে না। সে যদি শুভ্রতার দিকে না তাকাতো! কি হতো তখন? কি হতো!
শুভ্রতা নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে আছে মেহরাদের বুকে মাথা ঠেকিয়ে দূর অন্ধকারে। তার মস্তিষ্কে কি চলছে বা আদও কিছু মাথায় এসেছে কি-না সন্দেহ!
সকলের আতংকে ভরা ফ্যাকাসে চেহারার চাহনির মাঝখানেই হটাৎ ই শুভ্রতা চেচিয়ে উঠলো। দূরে ঠেলে দিলো মেহরাদকে নিজের থেকে। চেচাতে চেচাতে বললো,
“ছাড়ুন, ছাড়ুন আমায়। কেন আটকালেন আমায়? বাচতে দিন আমায়! আপনারা আমায় তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছেন। এর থেকে একেবারে মুক্তি পাওয়া ভালো।”
মেহরাদ শুভ্রতার কাছে গিয়ে ওর দু বাহু শক্ত হাতে চেপে ধরলো, রাগে তার মস্তিষ্ক টগবগ করছে এই মূহুর্তে শুভ্রতার মুখ থেকে নিঃসৃত বাক্য গুলো শুনে।।
মেয়েটা কিছু হলেই এরকম স্টেপ নিতে চায় কেন? তার কথা ভাবে না! সে যে ওকে পাগলের মতো ভালোবাসে সেটা চোখে পড়েনা? প্রতিবার তাকে কু*ত্তা পাগল করে ছাড়ে। তাকে কি মানুষ মনে হয় না! এমন সার্থপর মা’য়ের জন্য বার বার তার ভালোবাসাকে টেকেন ফর গ্রান্টেড হিসেবে নেওয়ার মানে কি? তার উপর এমন মা’য়ের জন্য তো আরও আগেই না!
“এই এই বেশি মাথায় তুলে ফেলেছি তোকে না? বার বার এমন করে আমায় পাগল বানিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাতে চাস? তোর জন্য কি না করছি আমি! বল, কি না করছি! তুই তবুও কেন বারবার এমন করতে যাস? কার জন্যে যাস? ঐ রকম জঘন্য সার্থপর একজন মহিলার জন্য যে তোকে এতো বছর পর মায়ের দোহাই দেখাচ্ছে তার জন্য? আর আমি! আমরা যে এতদিন ভালোবেসে গেলাম! আগলে রাখলাম! সেটা?” চেচাতে চেচাতে বললো মেহরাদ। ঘাড় গলার রগ গুলো ফুলে উঠেছে চেচানোর তোপে। সকলে আরও চমকিত স্থম্ভিত হয়ে গিয়েছে মেহরাদকে এতো রাগতে দেখে। তাদের কাছে মেহরাদের এ রূপ নতুন না। অতিরিক্ত রেগে গেলে মেহরাদ হুশে থাকে না। কিন্তু শুভ্রতার সাথে এরকম, এটা সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন এক ঘটনা তাদের জন্য।
আদনান এসে ওকে টেনে দূরে সড়িয়ে নিয়ে এলো শুভ্রতার কাছ থেকে। ওকে বোঝানোর সুরে বললো,
“কি করছিস? ও মেন্টালি আনস্টেবল। তুই এরকম করলে ও আরও উইক হয়ে যাবে। ওকে এক্ষুনি ডক্টর দেখানো উচিৎ। সকলে মিলে ওকে বুঝাতে হবে। রাগারাগি করিস না।”
“কোন আনস্টেভেল টানস্টেবেল কিচ্ছু না। ওর দরদি বেইমান মায়েরটা বুঝতে পাড়লে আমারটা বুঝে না কেন? কেনন বল? প্রতিটা ভুল পদক্ষেপে আমি ওকে আগলে রেখেছে। এই যে একবার, দু’দু বার এই কাজটা করতে চাইলো, এটা! কেন করে ও এটা? আমার কথা ভাবতে পাড়েনা? আমি কিচ্ছু না!”
“আপনি বুঝতে পাড়েন না, আমিও তো একজন মেয়ে। একজনের সন্তান। এক বেইমান মায়ের সন্তান আমি। সে আমায় সন্তান হিসেবে না মানলেও আমি তো তাকে মা হিসেবে মেনে এসেছি! তার অসুস্থতায় একটু দেখতে যাওয়াতে কি এমন অন্যায় করেছিলাম আমি, হে? কি অন্যায় করেছিলাম? আপনি সেদিন কেন ফেলে রেখে এসেছিলেন? বলেন কেন? ” মেহরাদের কাছে কদম বাড়িয়ে এগিয়ে গেল শুভ্রতা। নিজের ক্ষতবিক্ষত হাতের তালু দুটো দেখিয়ে বললো,
“এগুলো দেখেছেন? ভালো করে দেখুন! আপনার কাছে যেতে গিয়ে হয়েছে এগুলো। আর আপনি কি করেছিলেন মনে আছে? তার চেয়েও বেশি ক্ষতবিক্ষত এই ভিতরটা জানেন! নিজের মা’য়ের কথার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এ হৃদয়টা। জানেন কতো কি শুনতে হয়েছে? আপনি শুনেছেন কখনো এগুলো? আমি শুনেছি, শুনছি আর শুনবোও! ঐ যে উঁড়ে এসে জুড়ে বসা সার্থপর মহিলাটা না জানুক আপনি তো জানতেন আমি কেমন! তাহলে, কথায় কথায় রাগ দেখান কেন? আমায় একটু বুঝা যায় না! ছাড় দেওয়া যায়না একটু! আপনাদের এই রাগ জেদ,মান-অভিমানের মধ্যে আমার ভিতরে কি বয়ে যায় কে খেয়াল রাখে বলেন! দিন শেষে নিজেকে মূল্যহীন মনে হয় খুব। সবাই সবার মাঝে দম্ভ নিয়ে বসে থাকে আর আমায় চিরা চ্যাপ্টা হতে হয়। ”
এক নাগাড়ে বিরতিহীনভাবে কথাগুলো বলে হাপিয়ে উঠলো শুভ্রতা। স্তব্দ সকলে ওর দিকেই তাকিয়ে। এতোক্ষণ রেগে রণমুর্তি ধারন করে থাকা মেহরাদও থমকে আছে শুভ্রতার ভারী ভারী কথার পিছে। রিমা বেগমও থমকালেন কিছুটা, সবসময় নিশ্চুপ থাকা মেয়েটার মুখে নিজেকে সার্থপর উপাধি পেতে দেখে। নিজের গর্ভজাত সন্তানের মুখে এরকম একটা শব্দ শুনতে কেমন লাগে!
প্রায় মিনিট দু’য়েক পের হলো। মেহরাদ শুভ্রতার দিকে নিস্প্রভ চোখে চেয়ে শান্ত কন্ঠে শুধালো,
“আমি তোকে বুঝিনা? তাহলে কে বুঝে? ”
“কেউ বুঝে না! ”
“কেউ বুঝে না?”
“নাহহহহহ!”
“আচ্ছা! ওকে, আজ থেকে তোর বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপ করবো না। তোর মতো যা ভালো মনে করিস কর। তোর বিষয়ে কিছু বলতে গেলেই যদি তোর মনে হয় তোকে বুঝিনা। তাহলে সব বাধ! তোর মতো তুই থাক! তবুও ভালো থাক! আজ থেকে তোর লাইফে তাশদীদ মেহরাদ তালুকদারের কোন ইন্টাফ্যারেন্স থাকবে না। Just exist as yourself. I don’t need anything else. ”
“আপনি এখনো আমায় বুঝলেন না। ” ব্যাথিত সুরে বলে উঠলো শুভ্রতা। সে তো এমনটা বুঝাতে চায়নি। ভুল বুঝলো মেহরাদ ভাই। সে শুধু নিজের দিকটা দেখাতে চেয়েছে। কিন্তু…..
“শুভ্রতা তুমি টলছো। প্লিজ আর কিচ্ছু বলে পরিস্থিতি খারাপ করো না। যা কথা হবে পরে হবে। এখন কেউ-ই নিজের রাইট সেন্সে নেই। কোন কথা বলো না এখন দয়া করে। চলো গাড়িতে উঠো। ” আদনান গিয়ে ওর সামনে দাড়িয়ে বললো ওকে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে যেতে।
“আমি নিতে পাড়ছি না আদনান ভাই। এগুলো থেকে মুক্তি চাই আমি। চাই একটা হয় আরেকটা। এসব মানসিক দন্ধ, টানাপোড়েন আমায় জাহান্নাম থেকে ঘুড়িয়ে আনে মনে হয় আমার। এগুলো থেকে মুক্তি চাই আমার…. ”
দূরে দাঁড়িয়ে থেকেই মেহরাদ সবটা শুনলো, সেই সাথে নিগূঢ় দৃষ্টিতে দেখলেও গাড়ির কাছে টলটলে পায়ে হেঁটে যাওয়া মেয়েটা আদনানের পাশ থেকে কংক্রিটের রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছে। বাজ পাখির ন্যায় ছুঁ মেরে নিস্তেজ দেহটাকে কোলে তুলে নিলো সকলের সামনে। বড় বড় কদমে গাড়ির সামনে যেতে যেতে শক্ত চোয়ালে আওড়ালো,
“তোর এসব বা*ল সা*ল কথা বার্তার ধার ধারতে বসে আছি আমি! তোকে রে শুভ্রা…! মুক্তি চাওয়া কাকে বলে তোকে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়াবো আমি। আমি মেহরাদ তোকে মুক্তির অলি গলি ঘুড়িয়ে আনবো। তারপর…… ”
সেই দুর্ঘটনার কেটে গিয়েছে ‘এক মাস’। এই একমাসে শুভ্রতা পনেরো দিন’ই অসুস্থ হয়েছিলো। তবে এবার অসুস্থতায় তার বাবা নামক বট গাছের ছায়া ছিলো মাথার উপরে।
সেই দুর্ঘটনার পরপরই শায়ন তালুকদার বাড়ি এসেছিলেন পাগল পাগল হয়ে। মেয়ের অসুস্থতার জন্য সবার আগে স্ত্রীকে শাসিয়েছেন। কোন অনির্দিষ্ট কারণে রিমা বেগমও সেদিনের পর থেকে যথেষ্ট শান্ত স্থীর হয়ে আছেন। সকলের সাথে মিলেমিশে থাকছেন। তবে মা মেয়ের সম্পর্ক আগের মতোই। আর মেহরাদ তার দেখা হয়না বললেই চলে। দু’জনকে দেখলে দু’জনায় নীরব যুদ্ধ ঘোষণা করে নিজেদের মধ্যে এটা তাদের চোখের চাহনিতেই বোঝা যায়।
সেদিনের পর থেকে শুভ্রতা আর মেহরাদের বিয়ে সম্পর্কে তালুকদার বাড়িতে টু শব্দও করা হয়নি। এমনকি মেহরাদ আর শুভ্রতাকে কেউ এক সাথেও দেখেনি। এক সাইক্রাটিকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে শুভ্রতাকে। প্রতি মাসে রেগুলার চেক’আপ চলে। ডক্টরটা ভালো। বেশ ক্যায়ারিং আবার ড্যাশিং ও! কি সুন্দর ব্যাবহার!
ডক্টর কড়া ভাবে নিষেধ করে দিয়েছে শুভ্রতাকে কোন প্রকার মানসিক চাপের মধ্যে রাখতে। শুভ্রতা মানসিক ভাবে খুব বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে৷ একিই ভুল আবারও করতে পারে ও। মানসিক স্ট্রেস থেকে দূরে রাখতে বলা হয়েছে ওকে।
শায়ন তালুকদার এক বাক্যে সকলকে তার মেয়েকে সব ঝায় ঝামেলা সকল কিছু থেকে দূরে রাখতে বলে দিয়েছে। বলেছে এর বেশি কিছু হলে সে তার মেয়েকে নিয়ে এখান থেকে চলে যাবে তার কাছে। রিমা বেগমকে বেশ কড়া ভাষায় শাসিয়ে গিয়েছে সকলের সামনে। ভাতিজার সাথেও বোঝাপড়া করে গিয়েছে দরজার আড়ালে। কিন্তু কি করেছে সেটা সকলের অজানা।
এদিকে শুভ্রতাদের টেস্ট এক্সাম এসে পড়েছে সপ্তাহ খানেক পর। সে আর সোহানা বেশ ব্যস্ততায় সময় পার করছে প্রাইভেট, ক্লাস কোচিং সব মিলিয়ে। তালুকদার বাড়িতে সব স্বাভাবিক দেখতে গেলে। কিন্তু, ভিতরে ভিতরে সব কেমন গোমট আধারে ডাকা!
সকালের ডাইনিং এ নাস্তার টেবিলে সকলে উপস্থিত হয়েছে একে একে। যে যার যার মতো নাস্তা সেড়ে একে একে বেড়িয়ে যাবে। ইতিমধ্যে সকলে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। সকলের শেষে উপস্থিত হলো মেহরাদ। একদম ফিটফাট হয়ে অফিসের জন্য।
চেয়ার টেনে বাবার পাশের চেয়ারটায় বসে পড়ল মেহরাদ। সে আসাতা সকলেই যেন একটু নড়েচড়ে বসলো। এই কয়েকদিনে মেহরাদের গাম্ভীর্যতা আকাশ ছুঁয়েছে। কেমন যেন সকলের মধ্যে উপস্থিত থেকেও নেই এমন টাইপ।
শুভ্রতা খাচ্ছে নিজের মতো। তার আর সোহানার ক্লাসের আগে কোচিং আছে, দেরি হয়ে গেলে স্যার বকা দিবে। কে আসলো গেলো তার দেখার সময় নেই। মেহরাদও কোন দিক তাকালো না। কে কি করছে তার দেখার সময় কই। এই যে রিমা বেগম তাকে দেখে তাকে দেখে কিচেনে চলে গেল এতে তার কি! কিছুই না! গোল্লায় যাক সব!
“চৌধুরিরা তাদের কোম্পানির সাথে আমাদের কোম্পানির কোলাবরেশনের জন্য একটা ডোয়াল পার্টি রাখতে চাচ্ছে। কি বলো তুমি মেহরাদ?” আকরাম তালুকদার বললেন ভাতিজার উদ্দেশ্যে।
“হুম। আমায়ও জানিয়েছিলো মিস আয়রা সেদিন মিটিং এ। ভেবে জানাচ্ছি। মনে হয় না, না উত্তর উনি গ্রহণ করবে। ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে চাচ্চু। ” খাবার মুখে পুড়তে পুড়তে জানালো মেহরাদ।
এদিকে আয়রার নামটা শুনে কিঞ্চিৎ হাত’রা থেমে গেলো শুভ্রতার। সেকেন্ডের মধ্যেই আবারও খাওয়ায় মনযোগ দিলো। একিই ভাবে সকলেই খাবার শেষ করতে থাকলো।
খাবার শেষে উঠার আগে শুভ্রতা গলা ঝাড়লো। তার বড় বাবার উদ্দেশ্যে বললো,
“বড় বাবা, সামনে তো টেস্ট এক্সাম। একজন হায়ারম্যাথের হোম টিউটর হলে ভালো হতো। মাঝখানে তো কিছু ক্লাস কোচিং ছুটে গিয়েছে অনেক পড়াই বাকি।”
শুভ্রতার কথা শুনে আকরাম তালুকদার ছেলের দিকে তাকালেন। ছেলে ভাবলেশহীন ভাবে খেয়ে উঠে যাচ্ছে টেবিল ছেড়ে। তিনি গলা ঝাড়লেন। ছেলেকে ডেকে উঠলেন,
“মেহরাদ! শুভ্রতার জন্য একটা টিচার খুঁজে দিও আর্জেন্ট। মেয়েটার সপ্তাহ পেরুলেই এক্সাম শুরু।”
মেহরাদ কোন দিক তাকালো না। তবে যেতে যেতে তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে বলে গেলো,
“এসব মুক্তি টুক্তি চেতে চাওয়া মানুষের আগে পিছে আমি নেই বাবা। কখন আবার কিসের জন্য বলে, আপনার থেকে মুক্তি চাই, আপনার এনে দেওয়া টিচারের কাছ থেকে মুক্তি চাই! তোমারটা তুমি দেখো!”
হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৭
ছেলের দিকে কটমট করে চেয়ে রইলেন আলতাফ তালুকদার। শুভ্রতা তাকিয়ে আছে শক্ত চোখে, নাক ফুসছে তার। এমনিতেই কথা টথা বলে না তার সাথে। আবার যখন মাঝে মধ্যে যা-ই দেখা হয় তাচ্ছিল্য ভরা এমন চাহনি দেয়! শুভ্রতার মনে হয় সে কাউকে খুন টুন করে ফেলেছে। নয়তো এনার পাকা ধানে মই দিয়েছে। সে বুঝতে পারলো না এখনো! সে আসলে করেছে টা কি! অবশ্য সে এখন থেকে আর বুঝতেও যায় না। যে যাটা ভাবার ভেবে বসে থাকুক! সে আর যাবে না কারো কাছে। কারো কাছেই না…..
