Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫৯

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫৯

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫৯
ইনান হাওলাদার

সকাল সকাল আহিকে ঘুম থেকে উঠিয়ে হলুদ রঙের শাড়ি পরিয়ে রাখা হয়েছে।তবে কোনো সাজগোজ করানো হয়নি।একেবারে গোসলের পর সাজানো হবে। শাড়ি পরিয়ে যাওয়ার সময় মারুফা বেগম মেয়েকে বলেছেন অন্তত আজ আর কালকের দিনটা একটু স্থির থাকতে । পাশে দুইজন গোয়েন্দাও রেখে গিয়েছেন তিনি।একজন ওনার ভাইয়ের মেয়ে — নাম আলো,এবারে দশম শ্রেনীর ছাত্রী সে । আরেকজন তাহি। তাছাড়াও সবসময় লোকজন আসা-যাওয়া করছে।এই দুইজনই কেবল স্থির হয়ে পড়ে আছে।
এর আগে এত বোরিং সময় আহি কখনো কাটায়নি। বাইরে ধুম-ধারেক্কা গান বাজছে, হৈ-হুল্লোড় চলছে আর সে ম’রা মানুষের মতো রুমে পড়ে আছে। তারিনটাও এখনো এসে পৌঁছায়নি।ও আসলে অন্তত গল্প করার একটা মানুষ পেত।

এদিকে, প্রায় এগারোটা বেজে গিয়েছে এখনো খেতে দেওয়ার নামে খোঁজ নেই কারো।ক্ষুধায় পেট জ্বলছে একাধারে।রুম থেকে একবার ডাকও ছেড়েছে সে।কিন্তু এত সাউন্ডের মধ্যে সে ডাক কারো কান পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা না। পৌঁছায়ও নি।অতঃপর প্রায় আধ ঘন্টা পর খাবার দিয়ে গেলেন লতা বেগম।সাথে গোয়েন্দা দুটোকেও খেতে নিয়ে গিয়েছেন।এতক্ষণ ধরে ওর মোবাইলে রিলস দেখছিল আলো।খেতে ডাকার দরুন সেটাকে বিছানার এক কোণায় রেখে চলে গিয়েছে।আহির আবার একা একা খাওয়ার অভ্যেস নেই। যৌথ পরিবার তাদের।ছোটকাল হতেই সবার সাথে খেয়ে অভ্যস্থ।তাই মোবাইল দেখে দেখে খাবার জন্যে প্রস্তুতি নিলো।ফোন আনলক করতেই দেখতে পেল তূর্যের পনেরোটা মিসড কল।চোখ বড়বড় করে ফেললো ও।এতগুলো কল যেহেতু করেছে নিশ্চয় কোনো ইমারজেন্সি।বিড়বিড় করে হাজারটা ব’কা দিলো আলোকে। কিছু সংখ্যক ভাত মাখাতে মাখাতে কল ব্যাক করলো। পুক করে শব্দ হতেই ফোনের রিংটোন কানে ভেসে আসলো।খুব কাছেই বাজছে মনে হচ্ছে।ও দ্রুত সম্মুখ দিকে তাঁকালো।কল কাটতে কাটতে দরজা ঠেলে প্রবেশ করছে তূর্য। মোবাইলটাকে পাঞ্জাবির পকেটে রাখতে রাখতে প্রশ্ন ছুড়লো,

” কল যখন রিসিভ করতেই পারবি না ফোন রেখে কি লাভ?দিয়ে দে আমাকে , বিক্রি করলে কিছুটা হলেও বিয়ের খরচ উশুল হবে”
গাল ভরা ভাত আহির।সেগুলোকে তড়িঘড়ি করে চিবিয়ে সাফাই দিলো,
” আলোর কাছে মোবাইল ছিল।শ’য়তানটা বলেনি আমাকে। ” নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ শেষে কৌতূহল নিয়ে বলল,
” কি জন্যে কল করেছিলেন তূর্য ভাই ?”
” এখন আর দরকার নেই।কাজ হয়ে গিয়েছে ”
অন্য সময় হলে হয়তো কথাটাকে ঘাটতো। কাজ হয়ে গিয়েছে তো কি হয়েছে? কেন ডেকেছে জেনে ছাড়তো।কিন্তু এই মুহূর্তে ক্ষুধার অনেক বেগ।কথা বলে সময় নষ্ট করতে চায় না ও।তাই বলল,
” আচ্ছা। খেয়েছেন আপনি?”
তারপর উত্তরের অপেক্ষা করে আরেক লোকমা ভাত গালে তুললো আহি। পেটে প্রচন্ড টান।তূর্য ওর বিপরীতে চেয়ার টেনে বসলো।আহি প্লেটের ভাত নাড়াতে নাড়াতে পুনরায় বলল,

” খেয়েছেন আপনি ? ”
” উহু ”
” কেন? ক্ষুধা লাগে না ? খেয়ে আসুন ” বলে আরেক লোকমা ভাত মুখে তুলবে তার আগেই ওর হাতের কব্জি ধরলো তূর্য । ভাতগুলো সময় নিয়ে নিজের মুখে পুরলো। আহি চোখ বড়বড় করে তাঁকালো। তূর্যও ওর চোখে চোখ রেখে সময় নিয়ে ভাতগুলোকে মুখে পুরলো। ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে আহি হাতটাকে গুটিয়ে নিলো। কিন্তু ভাতগুলো মুখে নিয়ে সুবিধা করতে পারলো না ছেলেটা। মুখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ পড়ে রইলো।তারপর নাক-ভ্রু কুঁচকে রেখে সেগুলোকে পানি দিয়ে কোনো রকমে গিললো। অতঃপর বলল,

” কত লবণ খাস ই’ডিয়ট? ”
ছোট বেলা থেকেই বাড়ির মধ্যে সব থেকে বেশি লবণ আহি খায়। তবে সেটা সে মানতে নারাজ।তর্ক করলো ও,
” আমি বেশি খাই না ,আপনি কম খান সেটা বলুন ”
তূর্য নিষ্প্রভ চোখে কতক্ষন ওর দিকে তাঁকিয়ে খাওয়া দেখলো।বাচ্চাদের মতো তর্ক করার কোনো ইচ্ছা তার নেই।আহি শেষ লোকমা গালে পুরে হাত ধুয়ে প্লেটটাকে টেবিলে রেখে আবার পূর্বের জায়গায় গিয়ে বসলো।তারপর কিছু একটা মনে করার ভাব করে বলল,
” ভালো কথা ! তূর্য ভাই আপনি সাদা পাঞ্জাবি পরেছেন কেন?”
” তো কি পরবো? তোর মতো ক্যাটকেটে হলুদ?”
বাড়ির তিন গিন্নি হাজার জোর করা সত্ত্বেও তূর্যকে হলুদ পাঞ্জাবি পরাতে পারেননি।পাঞ্জাবি পরার বিষয়ে ওর কোনো আপত্তি নেই।কিন্তু সেটা অবশ্যই সাদা হতে হবে।আজ পর্যন্ত সাদা রং ব্যতীত অন্য কোনো রঙের পাঞ্জাবিতে দেখা যায়নি তূর্যকে। মা-চাচিরা যখন হাজার চেষ্টা করেও হলুদ পাঞ্জাবি পরাতে পারেনি তখন দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন সবাই। অন্যসব নিয়ম-কানুন মানবে তো ছেলেটা? আহিকে শাড়ি পরাতে পরাতেও এ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন তারা।এখন আহি নিজেও দুশ্চিন্তায় ভুগছে।ও আবদারের সুরে বলল,

” আমার একটা কথা শুনবেন তূর্য ভাই?”
তূর্য কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিজে থেকেই বোঝার চেষ্টা করলো প্রেয়সীর আবদার।তারপর বলল,
” কি,বল”
” বড়রা যা বলে এই দুইদিন একটু শুনে চলুন প্লিজ ” অনুরোধ করলো ও।এটাই ভেবেছিল তূর্য। বলল,
” সে তো আমিও তোর বড়।শুনিস আমার কথা?”
” কি বলেছেন আপনি আর আমি শুনিনি? ” অভিমানী কন্ঠস্বর আহির।
তূর্য তেমন কোনো কথা খুঁজে পেল না।অতঃপর বলল,
” সেসব কথা আমি মনে রেখেছি নাকি?”
আহি ফের অনুরোধ করলো,

” শুধু আজকের দিন- রাত আর কালকের দিন, তাদের কথা শুনলেই হবে।তারপর যা খুশি করিয়েন কেউ বাঁধা দিবে না ” বলে মনে মনে আউড়ালো ‘ তারপর সব নিয়ম মানা শেষই তো হয়ে যাবে ‘ তূর্য ওর ভাবনার মাঝে প্রশ্ন ছুড়লো,
” বড়দের কথা শুনে কি করব? তোর মতো পেট বের করে শাড়ি পরে বসে থাকবো? ”
তূর্যের দৃষ্টি লক্ষ্য করে আহি ওর পেটের দিকে তাঁকালো।তারপর দ্রুত শাড়ি ঠিক করলো।কেমন সরু চোখে তাঁকিয়ে আছে বেহায়া লোক।তূর্য ওর কাজকর্ম দেখে ফিচলে হাসলো। চোখ সরিয়ে আহির মুখের দিকে তাঁকালো।দুই গালে লাল রং ভর করেছে ।মেয়েটা নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাল। মিনমিনে কন্ঠে করে বলল,
” আপনি কেন শাড়ি পরতে যাবেন? তাছাড়া ওনারা কি আপনাকে শাড়ি পরতে বলবেন নাকি! বাকি যা বলে তাই করবেন ”

” ওকে,ফাইন।আজ থেকে কাল সারাদিন সবকিছু তোর মর্জি মতো হবে।বিনিময়ে কালকের রাতটা আমার মর্জি মতো হওয়া চাই।”
বিপরীতে আহি কি করবে বুঝতে পারলো না। ইদানিং একটা কথা বলে শান্তি পাচ্ছে না মেয়েটা।প্রত্যেকটা কথার ডাবল মিনিং বের করে ছাড়বে লোকটা।নাহলে অ’শ্লীল কোনো না কোনো কথা বলেই ক্ষান্ত হবে। লজ্জায় যখন মেয়েটার আধ ম’রা অবস্থা তখন তূর্য বিষয়টা নিশ্চিত হতে বলল,
” ডিল ডান তাহলে ?”
কথাটা বলে দম ফেলার আগেই নাবিল আর তাসিন হুড়মুড়িয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো। নাবিলের একটু ভুলের জন্যে মূলত তারা ধরাটা খেল।তারও বা কি দোষ ! তাসিনের মতো একটা ধা’মড়াকে কতক্ষণই বা নিজের কাঁধের উপর সহ্য করবে ছেলেটা।ওদের হুড়মুড় শব্দে তূর্য-আহি দুজনেই তড়িৎ বেগে দরজার দিকে চাইলো।ওরা যে আড়ি পেতে ছিল বুঝতে বাকি রইলো না তাদের ।কষ্ট করে হাসার চেষ্টা করলো তাসিন-নাবিল।তূর্য রুষ্ট চোখে তাঁকিয়ে আছে ওদের দিকে। দুইজনেই জোর করে হাসতে হাসতে এগিয়ে এলো ওদের দিকে।আহিকে বলল,

” কেমন আছো,আহি?”
” জ্বি,ভালো। আপনারা?”
” আলহামদুলিল্লাহ ! ” বলে আরেকটা হাসি দিল ওরা।তূর্যের দিকে তাঁকিয়ে বলল,
” বন্ধু তুই?”
” কখন থেকে দরজার পিছনে তোরা? ” উল্টে প্রশ্ন করলো ও। তাসিন আরেক গাল হেসে বলল,
” শুধু লাস্টের আয়াতটা.. মানে লাইনটা শুনেছি ” নাবিল সাঁই মেলালো তাতে,
” হ,খালি ডিলের ব্যাপারেই শুনছি।কিন্তু , তোরা ডিল ফাইনাল করার আগেই ধরা পইড়া গেলাম বা’ড়া ”
মেয়েটা যতটানা লজ্জা তূর্যের কথায় পেয়েছিল এখন তার থেকে তিন গুণ বেশি পাচ্ছে। রুম থেকে বের হওয়ার অজুহাত খুঁজতে লাগলো ও।পেয়েও গেল।উঠতে উঠতে বলল,
” আপনারা আড্ডা দিন। আলিয়া আর পিংকি আপু এসেছে না?আমি ওনাদের সাথে দেখা করে আসি। ”
তূর্য আহির অস্বস্তি বুঝলো।ওকে থামিয়ে বলল,
” বস তুই।ওদের পাঠিয়ে দিচ্ছি ”
তারপর দুই গরুকে নিলে উঠলো ও।আহি সম্মতি দিয়ে জায়গায় বসলো।যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।

রুমে এসে ভাঙ্গা রেডিও চালু করেছে তাসিন-নাবিল। একের পর এক উস্কানি মূলক কথা বার্তা । ভাগ্যিস তূর্য অসম্ভব ধৈর্য শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে নাহলে এতদিনে বন্ধুত্বের সমাপ্তি কবে ঘটে যেত তার ঠিক নেই।সে নিরিবিলি দাঁত চেপে বসে রইলো । পারলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়াতো দুইটাকে। এদিকে শত চেষ্টার পরও তূর্যের থেকে আশানুরূপ ফলাফল না পেয়ে আশাহত হলো ওরা। নাবিল সুর তুলে গান আরম্ভ করলো,
” ও বন্ধু কথা কও…কবে হইবা তুমি ছেলের বাপ আমাগো কানে কইয়া যাও ”
তাসিন তূর্যকে খোঁচানো ছেড়ে বলল,
” তুই তো ভাই গানটার সানডে-মানডে ক্লোজ করে দিলি ”
” ধুর,গান রাখ বা’ড়া ” ওকে ধ’মকালো নাবিল।তারপর তূর্যের দিকে তাঁকিয়ে দুষ্টু হেসে ভ্রু নাচাতে নাচাতে বলল,
” বা’সর রাতের প্ল্যান কি ভাই?”
” তোকে বলতে হবে? “মে’জাজ হারিয়ে বলল তূর্য।তারপর আবার গম্ভীর গলায় বললো,
” কোনো প্ল্যানিং নেই ”
” ডিলের ব্যাপারে নিজেগো কানে না শুনলে অন্তত বিশ্বাস করতাম ” বলে হায় ছাড়লো নাবিল।
তূর্য শান্ত কন্ঠে বলল,
” রুম থেকে তোরা বেরোবি ? নাকি আমিই বেরিয়ে যাবো কোনটা?”
” ভাই,এমন করলে আর জীবনেও তোর বিয়েতে আসবো না ” কপট মন খারাপের নাটক করলো তাসিন।এমনভাবে বলল যেন সামনে আরো কয়েকটা বিয়ে করবে তার প্রাণের দোস্ত।
তূর্য ভ্রু কুঁচকালো।একটা বিয়ে করতে গিয়ে কত কিছুর মধ্য দিয়ে পার হলো তার ঠিক নেই।সে আর কয়টা বিয়ে করবে?ও বলল,
” আসিস না ”

বর-কনের গোসলের তোড়জোড় করা হয়েছে চৌধুরী বাড়ির ছাদে। আর তাদের একসাথে , পাশাপাশি পিঁড়িতে বসিয়ে গোসল করানো ব্যবস্থা হয়েছে। তূর্যের গায়ে লুঙ্গি আর স্যান্ড গেঞ্জি।গেঞ্জির উপরে দিয়ে আবার একটা গামছা দেওয়া।আর আহির পরনে সকালের সেই কাপড় ।ওর গায়ের উপরেও একটা গামছা জড়িয়ে দেওয়া।কেন জানি লুঙ্গি পরা তূর্যকে দেখে মেয়েটার খুব হাসি পাচ্ছে।জীবনের প্রথমবার দেখলো কিনা!
মুখে হলুদ দিতে দিতে কোনো জায়গা অবশিষ্ট রাখেনি মানুষজন।তবুও যেন দেওয়া হচ্ছে না।তূর্য বিরক্তি আটকে ভদ্র ছেলের মতো বসে আছে।একটা দিনই তো! একটু নাহয় সহ্য করেই নিলো।
এদিকে ফিসফিস করে বারবার মাকে বলেছে গায়ে শুধু হলুদ লাগাতে ,পানি না ঢালতে।আহিকেও হাজার বার ইশারা করেছে এসব করতে না দেওয়ার জন্য ।ইভেন গোসল আনার আগেও বলে দিয়েছে।কিন্তু কোনো কথায় কাজ হয়নি।
পুরোটা সময় তূর্য রাগে-ক্ষো’ভে গম্ভীর মুখ আরো গম্ভীর করে রাখলো।
গ্রামীণ সংস্কৃতি অনুযায়ী লোকে বলে বর গোসলের সময় ও পরে কথা বললে নাকি বউ বেশি কথা বলে।সবাই ভাবলেন হয়তো এই কারণে তূর্য চুপ করে আছে।বউয়ের বেশি কথা বলা নিয়ে খুব চিন্তায় হয়তো ছেলেটা।তবে এটা কেবল বাড়ির বাইরের লোকের ধারণা। কেউ কেউ মজা করে বললেনও,

” তূর্য দেখছি বউয়ের বেশি কথা বলা নিয়ে খুব সাবধান। কিন্তু যতই চেষ্টা করো বউ জাতি বেশি কথা বলবেই।আর সেটা তোমাকে সহ্য করতেও হবে।” বলে তারা খিলখিল করে হাসলেন।
চৌধুরী পরিবার বিয়ের রীতি-রেওয়াজ সবকিছু একদম গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে করছেন।গোসলের আগে ও পরে বর বউকে কোলে করে নেওয়া-আনাটাও বাদ পড়েনি তার থেকে।এক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে । গোসলের আগে নাবিল তূর্যকে আর তাসিন আহিকে পাজকোলা করে পিঁড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসলেও গোসল শেষে কোনো প্রকার কথা-বার্তা ছাড়া তূর্য নিজে আহিকে কোলে করে নিয়েছে।আহি চোখ খিঁচিয়ে বারবার মানা করা সত্ত্বেও সে গায়ে লাগায়নি ওর কথা। ছাদ শুদ্ধ সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে দেখেছে শুধু। কেউ কেউ মুখে কাপড় চেপে হেসেছেনও।
তূর্য একেবারে রুমে নিয়ে নামলো আহিকে। দুজনেই আধ ভেজা।আহি মেজাজ দেখাতে চাইলো তার আগেই পুরুষালি ভরাট কন্ঠটা ওকে আটকে দিলো,
” মারাত্মক লাবণ্যময়ী লাগছে তোকে। আর একটু বউ-বউ। ”
মুগ্ধ নয়নে চেয়ে আছে সে। এমন চাহুনি সহ্য করতে পারে না আহি । লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করলো।রিনরিনে আওয়াজে বলল,

“শুধু একটু ? ”
মুচকি হাসলো তূর্য।দুই হাতে প্রেয়সীর কোমর টেনে নিজের নিকটে আনলো। হিসিসিয়ে বলল,
” হুঁ,একটু! আমার নামে কবুল পড়ার পর পুরোটা লাগবে ” বলে কোমর থেকে এক হাত সরিয়ে সামনে আনলো। আহির মুখের সামনে ধরে বলল,
” মাখিয়ে দে ”
তূর্যের হাতের হলুদ দেখে অবাক হলো আহি।হলুদ কখন আনলো লোকটা?কিন্তু প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করলো না।দরজা হা-হাক করছে।বিয়ে বাড়ি লোকের অভাব নেই।কখন কে চলে আসে তার ঠিক নেই।ও বাধ্য মেয়ের মতো তূর্যের হাত থেকে বেশি অর্ধের হলুদ বাটা নিলো।সেগুলোকে আড়ষ্টতার সহিত কাঁপা কাঁপা হাতে তূর্যের বাম গালে ডলে দিলো। তারপর বলল,
” এবার আসুন তূর্য ভাই।কেউ যদি চলে আসে! ”
” আমি তোকে দিবো না?” লাজুক লতা প্রেয়সীকে আরেকটু কাছে টেনে জানতে চাইলো তূর্য। আহি আমতা-আমতা করতে করতে বলল,
” আচ্ছা দিন ”
পুনরায় দুই হাতে ওর কোমর আঁকড়ে ধরলো তূর্য। একদম সন্নিকটে এনে ওর হলুদ মাখা গাল আহির ঘাড়ে ঘষতে আরম্ভ করলো। আর হাতের বাকি অংশ কোমরে। আহি কুণ্ঠায় একদম নুইয়ে পড়লো। খাঁমচে ধরলো তূর্যের বুকের কাছের গেঞ্জির একটু অংশ।হাসফাস করে দূরে সরতে চাইলো।কিন্তু ব্যর্থ হলো।তূর্য বশ করতে চাইলো ওকে।নিজে তো বশীভূত হয়েই আছে। ভরাট কন্ঠে ডাকলো,

” জা’ন! ”
কোনো সাড়া এলো না।ও পুনরায় ডাকলো,
” জা’ন? ” এবারেও একই কান্ড।
তূর্য ফের বলল,
” ডাকছি তো !শুনতে পাচ্ছিস না, জা’ন ? ”
” দিল ইবাদাত কার রাহা হ্যেঁ
ধারকান হ্যেঁ ম্যেরি সুন
তুঝকো ম্যায় কার লু হাসিল
লাগি হ্যেঁ ইয়্যেহি ধু ”
হঠাৎ করেই তূর্যের কানে ভেসে আসলো এই চারটা লাইন। কেউ সাউন্ড বক্সে বাজাচ্ছে নাকি ওর হৃদয় থেকে ভেসে আসছে বুঝে ওঠার আগেই কানে আরো চারটা শব্দ ভেসে আসলো,

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫৮

” তূর্য ভাই , বড় মা ”
আচানক আহির মুখে এমন কথা শুনে ছিটকে দূরে সরলো তূর্য।আহিকেও দূরে ঠেললো। জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ঠেলে পিছু ঘুরল। উদ্দেশ্য অতি দ্রুত রুম ত্যাগ করা ।কিন্তু ফাঁকা দরজা দেখে পরপর আবার আহির দিকে ফিরল।অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে মেয়েটা।রাগ হলো তূর্যের। দাঁত খিঁচিয়ে বলল,
” স্টু’পিড !”
তারপর হনহন করে বেরিয়ে গেল।আহি তখনও হাসিতে মাতোয়ারা।প্রিয় পুরুষকে বোকা বানাতে পেরে খুশির যেন শেষ নেই তার।

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫৯ (২)