মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৬
jannatul firdaus mithila
ডেড পোয়েটস বার! পুরনো কাঠের তৈরী ইন্টেরিয়রে সাজানো গোছানো লিকুয়্যের বার, চারিদিকে ম্লান আলো বিরাজমান। বড়সড় এ বারটি শহর থেকে বেশ দূরে, যেখানে মূলত বিভিন্ন অপরাধীদের গোপন আস্তানা। বারের প্রতিটি দেয়ালে ঝুলছে কবি-লেখকদের ছবি! অদূরের বার কাউন্টারে তিনজন বারটেন্ডার, দক্ষ হাতে কাস্টমারদের বানিয়ে দিচ্ছেন ককটেইল। খানিকটা দূরে বাজছে স্লো জ্যাজ। পুরো বারে থৈথৈ করছে মানুষ, কেউ কেউ নিজ টেবিলে বসে বুদ হয়েছে নেশায়। বারের একদম কর্নারের শেষ টেবিলটায় গা এলিয়ে বসে আছে এক আফ্রিকান যুবক। লম্বাচওড়া গায়ের গড়ন, মাথায় ছোট ছোট চুল। তার চোখদুটো কেমন নিবুনিবু! বোধহয় আয়েশি নেশায় বুদ হয়েছেন তিনি। যুবক নেশায় ঢুলতে ঢুলতে টেবিলের ওপর থেকে রা*মের বোতল তুলে, আরেকটু অ্যালকোহল গ্লাসে ঢালতে উদ্যোত হতেই খেয়াল করে — বোতল ফাঁকা! মোটা কাঁচের বোতলটায় আর একটুও লিক্যুয়ের অবশিষ্ট নেই। যুবক বিরক্তিতে মুখ কুঁচকায়। কপালে গোটাকতক ভাঁজ ফেলে গলা উঁচিয়ে ডেকে ওঠে বার্টেন্ডারকে,
“ হেই ইউ মাদারফা*কার! তারাতাড়ি আরেক বোতল রা*ম নিয়ে আয়।”
বারটেন্ডার তেতেঁ গিয়েও বললেন না কিছু। শত হলেও যুবক তার বারের ডেইলি কাস্টমার। এখন মুখ খুলে প্রতিবাদ করে তিনি থোড়াই নিজের পেটে লাথি মারবেন? বারটেন্ডার তক্ষুনি কাউন্টার শেলফ থেকে আরেক বোতল রা*ম বের করে এগিয়ে দিলেন ওয়েটারের দিকে। চাপা গলায় আদেশের সুরে বললেন,
“ দিয়ে আয় বাস্টার্ডটাকে।”
ওয়েটার মুচকি হাসলো এহেন কথায়। হাত বাড়িয়ে বোতলটা তুলে নিয়ে একটুখানি এগুতেই হঠাৎ করে তার চোখ গেল বারের সম্মুখ দুয়ারের দিকে। বলা নেই কওয়া নেই, কোত্থেকে যেন কতগুলো কালো পোশাকধারী সশস্ত্র বডিগার্ড ছুটে আসছে দেখো! বারটেন্ডার হকচকালেন এহেন কান্ডে। তড়িঘড়ি করে কাউন্টার থেকে বেরিয়ে আসতেই দুপাশ থেকে দু’জন বডিগার্ড তাকে আঁটকে ফেললো পথের মাঝে। এদিকে বারে উপস্থিত সাধারণ জনগণ সবাই কেমন আতঙ্কিত, হুটহাট এমন সশস্ত্র বডিগার্ড দেখলে কেই-বা আতঙ্ক না হয়ে থাকে শুনি? বডিগার্ডেরা একে একে সকলের মাথা বরাবর নিজেদের বন্দুকের নল তাক করল। মুহুর্তেই মানুষের কোলাহলে গিজগিজ করতে থাকা বারটায় ছেয়ে গেল এক অদ্ভুত নিরবতা! অদূরের টার্নটেবিলে এখনো বাজছে স্লো জ্যাজ। হাঁটতে থাকা ওয়েটার মহাশয়ও থেমে গেলেন তক্ষুনি। মাথা বরাবর বন্দুকের নল ঠেকতেই ভয়ে বেচারার হাত থেকে অবহেলায় পড়ে গেল রামের বোতলটা! বডিগার্ডেরা তখন রাশিয়ান ভাষায় হুংকার ছুঁড়ে সকলের উদ্দেশ্যে বললেন,
“ আপুস্তি গোলাভু!”
(মাথা নিচু করো সবাই।)
কথাটা শোনা মাত্রই সকলে নিজেদের মাথার ওপর দু’হাত চেপে ঘাড় নুয়ালেন। ওদিকে আফ্রিকান যুবক এতক্ষণ কানে হেডফোন গুঁজে, চোখবুঁজে কি যে শুনছিলো কে জানে! তার ধ্যান ফিরল মাত্র। চোখ খুলে চারপাশে তাকাতেই থমকে গেল একমুহূর্তের জন্য! এই বডিগার্ডদের সে চেনে…সে চেনে ওরা কারা। তারমানে? তারমানে মনস্টার তাকে খুঁজে পেয়েছে? যুবক ত্রস্ত উঠে দাঁড়ায় বসা ছেড়ে। আতঙ্কে ঢোক গিলে ছুটতে নিলেই দুপাশ থেকে বেশ ক’জন গার্ড এসে আঁটকে ফেলল তাকে। কপালের একদম মাঝ বরাবর ঠেকালো বন্দুকের নল। যুবক ভয়ে তটস্থ! কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগলো,
“ ভুল হয়েছে আমার। ছেড়ে দাও আমায়!”
গার্ডেরা প্রতিত্তোর করেনি। এরইমধ্যে বারের সদর দরজা দিয়ে গটগটিয়ে প্রবেশ করল এডউইন। এদিক ওদিক নজর ঘুরিয়ে খুঁজতে লাগলেন কাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তিকে। যে-ই দেখলেন কাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তিকে আটক করা হয়েছে ওমনি তিনি ত্রস্ত পায়ে চলে এলেন আটককৃত যুবকের সামনে। এসেই ভয়ার্ত যুবকের মুখখানায় এক-আধবার নজর বুলিয়ে কুটিল হেসে বললেন,
“ কেমন আছো বার্গান্ডি?”
বার্গান্ডি কাঁপছে ভয়ে। এতক্ষণে নেশায় বুদ হয়ে থাকা যুবকের তীব্র নেশাগুলো হুট করেই কোথায় পালালো কে জানে! সে এবার সজ্ঞানে আতঙ্কিত কন্ঠে শুধায়,
“ আমায় ক্ষমা করুন এডউইন! আমি ভুল করেছি, হ্যা আমি মানছি আমি ভুল করেছি। প্লিজ আমায় মাফ করে দিন। প্লিজ আমার প্রাণে মারবেন না।”
এডউইন বাঁকা হাসলো এপর্যায়ে। খানিকটা ঝুঁকে এসে দাঁড়াল বার্গান্ডির মুখোমুখি। অতঃপর ক্রুর চোখে তাকিয়ে থেকে আচমকা শান্ত কন্ঠে বলল,
“ তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো বার্গান্ডি, মনস্টারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা মানে নিজ হাতে নিজের কবর খোঁড়া। তুমি তো বহুদিন আগেই নিজের কবর খুঁড়ে রেখেছো, সেখানে এতদিন যে বেঁচে ছিলে এটাই তো অনেক।”
বলেই এডউইন শীরঁদাড়া সোজা করে দাঁড়ালেন। দু’হাত পকেটে গুঁজে, তক্ষুনি গার্ডদের উদ্দেশ্যে আদেশ ছুড়ঁল,
“ কিপ ইউরস হেড ডাউন !”
কথাটা শোনার সাথে সাথে সকল গার্ডেরা নিজেদের মাথা নুইয়ে দাঁড়ালেন। প্রায় মিনিট খানেক পেরুতেই বারের সদর দরজা দিয়ে ব্যুট জুতোর দাম্ভিক শব্দ তুলে, বেশ ভাব নিয়ে ঢুকলো শ্যাডো মনস্টার। মাথায় বড় গোলাকার কালো টুপি, মুখ দেখা যাচ্ছে না তার। দেখা যাচ্ছে কেবল পিয়ার্সিং করা ঠোঁটদুটো, যার ভাঁজে জ্বলছে মোটা সিগার। সিগারের কলুষিত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন যুবকের মুখমন্ডলের চারপাশ। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে, যাকে যাকে অতিক্রম করছে তারা সবাই কেমন ভয়ে তটস্থ! নিশ্বাস আঁটকে রাখছে যতক্ষণ না মনস্টার তাদের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিচু দৃষ্টি এখনো মেঝেতে তাক করা, দেখছে কেবল ব্যুট পরিহিত দুটো পা। কেননা তারা তো জানে, ভুলক্রমেও তাদের দৃষ্টি একবার ওপরে উঠলে, পরমুহূর্তে তাদের মাথাটা শরীর থেকে আলাদা হবে চিরতরে!
শ্যাডো মনস্টার তার দাম্ভিক কদমে এগিয়ে এসে দাঁড়াল বার্গান্ডির মুখোমুখি। বার্গান্ডি মাথা নুইয়ে রেখে কাপছে, শরীরটা দরদর করে ঘামছে তার। মনস্টারের উপস্থিতি টের পেতেই বেচারা হাউমাউ জুড়ে দেয়। কাঁদতে কাঁদতে বলে ওঠে,
“ প্লিজ ফরগিভ মি মনস্টার। আমি ভুল করে ফেলেছি, আর কোনোদিন এমনটা হবে না মনস্টার। প্লিজ গিভ মি আ সেকেন্ড চান্স।”
গোলাকার টুপির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাদামী ঠোটঁজোড়া বুঝি কুটিল হাসল। জ্বলতে থাকা সিগারটা একহাতে নিয়ে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলল , তারপর তার চিরচেনা ভয়ানক শান্ত কন্ঠে বলল,
“ হয়ার ইজ মা’ই পেনড্রাইভ?”
বার্গান্ডির নিশ্বাস আঁটকে গেল বোধহয়! বেচারা বেশ কয়েকবার শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করছে। সময় নিয়ে বলে ওঠে,
“ আম-আমার কাছে নেই মনস্টার।”
এপর্যায়ে বাঁকা হাসে মনস্টার। তক্ষুনি নিজের ডানপা-টা উঠিয়ে রাখল সম্মুখের টেবিলের ওপর। হাত বাড়িয়ে ব্যুট জুতোর পেছনে লুকিয়ে রাখা ছুরিটা বের করে এনে, একটানে ধারালো ছুরির গা থেকে মেটালের খাপটা টেনে খুলে ফেলে। অতঃপর এক-কদম এগিয়ে এসে খপ করে চেপে ধরে বার্গান্ডির ঘাড়। বার্গান্ডি হকচকায়! ভয়ার্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর পূর্বেই তার গলা বরাবর বসল ধারালো ছুরির চাপ। মনস্টার থামছেনা, একপ্রকার নৃশংসভাবে জ**বা**ই করছে বার্গান্ডিকে। মুহুর্তেই বার্গান্ডির গলা থেকে ফিনকি দিয়ে বেরুতে লাগল লহু, সে লহু গিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে মনস্টারের মুখ এবং গায়ে। তবুও নির্দয় মনস্টারের হাতদুটো একটুও ছাড়ছেনা বার্গান্ডিকে। মৃ*ত্যু*র শেষ মুহূর্তে এসে বার্গান্ডির দেহ ঝাঁকুনি খাচ্ছে বেশ, বেচারা চোখদুটো যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, জিভ বেরিয়েছে বহু আগে! তার শেষ নিশ্বাসটুকু বেরুনোর আগ অব্ধি মনস্টার তার গলায় ছুরি চালিয়েছে। যখনি সে টের পেল, বার্গান্ডির দেহ আর নড়ছেনা, নাক দিয়ে আর বেরুচ্ছে বা নিশ্বাস ঠিক তখনি তার ঘাড় ছেড়ে দেয় মনস্টার। বার্গান্ডির নিথর মুখখানায় তাকিয়ে থেকে, হাতে থাকা লাল তরলে রঞ্জিত চাকুটা বার্গান্ডির গায়েই উল্টেপাল্টে কোনমতে মুছতে মুছতে শান্ত কন্ঠে আওড়াল,
“ যা মাফ করলাম! তুই তো জানতি, আমার কাছে ক্ষমা মানে মৃত্যু!”
মনস্টারের এহেন নৃশংসতায় বরাবরই অভ্যস্ত এডউইন। তবে বাকি বডিগার্ডদের অবস্থা করুণ। রোজ রোজ এতো নতুন নতুন নৃশংসতার সাক্ষী হচ্ছে না! কোনটা ছেড়ে কোনটায় ভয় পাবে তারা কে জানে! এদিকে মনস্টারের মুখমণ্ডল ভরে গিয়েছে র*ক্তের ছিটেফোঁটায়। গায়েও পড়েছে বেশ তবে কালো রঙা হওয়ায় কাপড়ে সে দাগ দেখা যাচ্ছে না তেমন। মনস্টার নিজের মুখ থেকে লহুর ছিটেফোঁটা গুলো মুছে নেবার মোটেও তাড়া দেখালো না। উল্টো পথে পা বাড়িয়ে চুপচাপ গিয়ে বসল কাউন্টার টুলের ওপর। ওভারকোটের পকেট হাতড়ে ফের একখানা সিগার বের করে এনে ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজল সে। লাইটার জ্বালিয়ে সিগারের শেষ ভাগ ধরাতেই হঠাৎ তার বাজপাখির ন্যায় দৃষ্টি গিয়ে পড়ল বারটেন্ডার বয়ের ওপর। যিনি কি-না মনস্টারকে আড়দৃষ্টিতে লুকিয়ে চুরিয়ে দেখছিলেন। তবে মনস্টারের ঐ বাদামী চোখজোড়ার সাথে চোখাচোখী হতেই ভয়ে কেঁপে উঠলেন বারটেন্ডার। তক্ষুনি নজর ঝুঁকালেন নিচে। মনস্টার দেখল তা, সিগারের শেষভাগে লম্বা একটা টান বসিয়ে সিগার মুখেই ক্রুর হাসল কেমন! পরক্ষণে ডানহাতের তর্জনী এবং মধ্যমার ভাঁজে সিগারটা ধরে রেখে, একটু একটু করে কদম বাড়িয়ে এগিয়ে গেলো বারটেন্ডারের নিকট। বেচারা বারটেন্ডার মনস্টারকে নিজের সামনে এসে দাঁড়াতে দেখেই ভয়ে আটখানা! ত্বরিত নিচু হয়ে মনস্টারের পাদু’টো বুকে জড়িয়ে আর্তনাদ করে বলতে লাগলো,
“ ভুল হয়ে গেছে মনস্টার। আমি ভুলে তাকিয়েছি আপনার দিকে। আর কক্ষনো এমন করব না মনস্টার! বিশ্বাস করুন, আর কোনোদিন করব না।”
মনস্টার শ্লেষাত্মক হাসল কেন যেন। ধীরে ধীরে ওভারকোটের ভেতর দিয়ে কোমরের পেছনে হাত নিয়ে বলতে লাগলো,
“ নেক্সট টাইম বেঁচে থাকলে তো!”
বারটেন্ডার হতভম্ব! হতবাক দৃষ্টি তুলে ওপরে তাকাতেই টের পেল তার খুলির ঠিক মাঝ বরাবর বন্দুক তাক করেছে মনস্টার। বারটেন্ডার বয়টা বুঝি নিশ্বাস ফেলতে ভুলে গেল একমুহূর্তের জন্য। মনস্টার তার দিকে সরু চোখে তাকিয়ে আছে, হঠাৎ করেই সে দেখল — সুদর্শন যুবক তাকে চোখ মারল। বারটেন্ডার হতবুদ্ধিভাব নিয়ে তাকিয়ে থাকতেই মনস্টার তক্ষুনি ট্রিগার চাপলো। একবার, দুবার, পরপর চারবার! এবারেও বারটেন্ডারের লাল ক্ষারীয় তরল এসে ছিটকে পড়ল মনস্টারের গায়ে। তবুও মনস্টার প্রতিক্রিয়াহীন। বন্দুকের ধূমায়িত নলের আগায় ফুঁ দিয়ে হঠাৎ আদেশ ছুড়ঁল,
“ ফায়ার!”
শুনলেন সকলে। বডিগার্ডেরা তড়িঘড়ি করে নিজেদের রাইফেলগুলোর সেফটি সুইচকে ফায়ার অবস্থায় আনলো। অতঃপর উপস্থিত সাধারণ জনগণেরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ওপর চললো অমানবিক গুলিবর্ষণ! একমুহূর্তেই পুরো বারে ছড়িয়ে পড়ল আত্মচিৎকার। চারিদিকে অনবরত রাইফেলের গুলীর শব্দ! বারের মেঝে ভরে গিয়েছে লহুর উপস্থিতিতে অথচ মনস্টার নামক সুদর্শন ভয়ংকর যুবক মাথা দোলাচ্ছে আনন্দে! মনের সুখে একের পর এক টান বসাচ্ছে সিগারের শেষ ভাগে।
কাজ শেষ! বার্গান্ডিকে মারতে এসে পুরো বার উড়িয়েছে বোম মে*রে। শত হলেও মনস্টার কখনো নিজের উপস্থিতির ছাপ রাখেনা। জনমানবহীন রাস্তার একপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি কালো রঙা মার্সিডিজ বেঞ্জ। তার ঠিক মাঝে দাঁড় করিয়ে রাখা মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস-ক্লাস পুলম্যান। সগৌরবে গাড়ির দিকে হেঁটে আসছে মনস্টার মুগ্ধ। তার পিছুপিছু গার্ডস। মুগ্ধ গাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই এডউইন আগ বাড়িয়ে গাড়ির দরজা খুলে দেয়। গম্ভীর মুখো মুগ্ধ গাড়িতে ঢোকার আগে কি মনে করে হঠাৎ বলে ওঠে,
“ দুটো ট্রাক নিয়ে আয় এডউইন!”
হতভম্ব এডউইন! মনস্টার আবার হুটহাট ট্রাক আনতে বলল কেনো? তাও আবার দুটো? মনে উত্থাপিত হাজার কৌতূহলী প্রশ্ন তবুও ঠোঁটের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরুলোনা একটা শব্দও। এডউইন কেমন গম্ভীর মুখে স্রেফ মাথা নাড়িয়ে জানায়,
“ ওকে মনস্টার!”
মুগ্ধ ততক্ষণে গাড়ির ব্যাকসিটে আয়েশ করে বসেছে। এডউইন ঘুরে গিয়ে উঠে বসল ড্রাইভারের পাশের সিটে। ড্রাইভার মহাশয় গাড়িতে স্টার্ট বসাতেই মুগ্ধ কেমন গম্ভীর বাজখাঁই কন্ঠে শুধায়,
“ গাড়ি শপিং মলের দিকে নিয়ে চল।”
ত্বরিত বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় এডউইন! লোকটার মুখাবয়ব দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সে বোধহয় বেশ অবাক হয়েছে এহেন কথায়। মুগ্ধ দেখেও দেখলোনা তার মুখভঙ্গি। গম্ভীর মুখে মাথা থেকে টুপিটা নামিয়ে পাশে রেখে ফের বাজখাঁই কন্ঠে বলল,
“ আই সেইড গো টু দা শপিং মল!”
এহেন বাজখাঁই কন্ঠে তৎক্ষনাৎ গাড়িতে স্টার্ট বসায় ড্রাইভার। এডউইনও রয়েসয়ে সোজা হয়ে বসল। তার বিচক্ষণ মস্তিষ্ক টের পাচ্ছে অনেককিছু। যা ভাবতে গিয়েই বেচারা চিন্তায় শেষ! শেষে কি-না তাদের মনস্টার শপিং মলে যাচ্ছে? সিরিয়াসলি?
মস্কোর বিখ্যাত শপিংমল — আভিয়াপার্ক মলের সামনে এসে গাড়ি থামিয়েছে মনস্টার বাহিনী। কিয়তক্ষনের মধ্যেই প্রতিটি গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে গার্ডস। এডউইন এখনো ঠায় বসে আছে গাড়িতে, তার মনিবের পরবর্তী আদেশ না পাওয়া অব্ধি সে কি করে যাবে বাইরে? এদিকে মুগ্ধের ঠোঁটের ভাঁজে জ্বলছে পাঁচ নম্বর সিগার। যা শেষ হয়েছে প্রায় অর্ধেকটা! ছেলেটার চোখেমুখে নির্বিকার ভঙ্গি স্পষ্ট। এডউইন খানিক রয়েসয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“ মনস্টার! উই আর ইন ফ্রন্ট অফ দা মল।”
মুগ্ধ শুনলো। তৎক্ষনাৎ প্রতিত্তোর না করে খানিক সময় নিলো। পায়ের ওপর পা রেখে দোলাতে দোলাতে, সিগারে টান বসিয়ে গমগমে গলায় বলল,
“ ভেতরে যা! ওম্যান্স কালেকশনের যা যা আছে সব নিয়ে আয়।”
আকাশ থেকে পড়ল এডউইন। চেয়ে আছে অবিশ্বাস্য নেত্রে! কানে বাজছে কেবল একটাই কথা — ওম্যান্স কালেকশন! এ বাবা, মনস্টার আবার কোন মেয়ের জন্য এতো কেনাকাটা করতে চাইছে? কে সেই মেয়ে? মেয়েটাকে দেখার কৌতূহল যেন তরতর করে বাড়ছে এডউইনের। কিন্তু আপাতত সে কৌতূহলকে বেশ ভালোমতো দমিয়ে রাখল এডউইন, রয়েসয়ে খানিক ঢোক গিলে আওড়াল,
“ ইয়ে মানে বলছিলাম কি মনস্টার….ভেতরে তো অনেক বড় বড় ব্র্যান্ড আছে, আপনি ঠিক কোন ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র চাইছেন সেটা বললে নাহয় আমি…”
এডউইন মহা ব্যগ্র কন্ঠে কথাগুলো বলেই যাচ্ছে তবে তার কথাটা শেষ হবার আগেই শোনা গেল মুগ্ধের একরোখা ভারী কন্ঠ!
“ সব! যা যা আছে সব।”
চক্ষু ছানাবড়া করে কিয়তক্ষন তাকিয়ে রইলো এডউইন। ওদিকে মুগ্ধ ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে সিগার ফুঁকছে। এডউইনকে এখনো বসে থাকতে দেখে সে কেমন বাজখাঁই কন্ঠে আলটিমেটামের সুরে বলে ওঠে,
“ আমার সিগার শেষ হবার আগে যেন কাজ হয়ে যায়। আদারওয়াইজ, তোর একদিন আর আমার একদিন!”
তক্ষুনি টনক নড়লো এডউইনের। বেচারা কেমন ভয়ে ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে গেল গাড়ি থেকে। গার্ডদের নিয়েই ছুটলো ভেতরে। ওদিকে মুগ্ধ কি সুন্দর বসে আছে গাড়িতে। ভাব এমন, এ দুনিয়ায় তারচেয়ে বড় শান্ত মানুষ হয়তো আর দুটো নেই বলে।
সশস্ত্র বডিগার্ড নিয়ে মলে ঢুকে এডউইন। তাদের দেখেই মলে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা এগিয়ে আসেন তৎক্ষনাৎ। গম্ভীর মুখে সন্দিহান গলায় বলে ওঠে,
“ আপনারা অস্ত্র নিয়ে ঢুকলেন কেনো? কারা আপনারা?”
এডউইন তাড়া দেখাচ্ছে ওম্যান্স সেকশনে যেতে। তবে মাঝপথে নিরাপত্তাকর্মীর এহেন কথায় ভ্রুযুগল কুঁচকে আসে তার। বিরক্তিতে তেঁতো মুখে বলে,
“ উই আর দি মনস্টারস আর্মি। আর কিছু শুনবে?”
নিরাপত্তা কর্মীরা তৎক্ষনাৎ ভয়ে সিটিয়ে গেলেন। একে-অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে খানিক ঢোক গিললেন যেন। গলায় বেশ নমনীয়তা ঢেলে বলতে লাগলো,
“ আপনারা? আজ হঠাৎ এখানে?”
এডউইন এবার মহাবিরক্ত। একে-তো হাতে সময় কম, তার ওপর লোকগুলোর এতো প্রশ্ন! এডউইন বিরক্তি ভরা কন্ঠে আওড়ায়,
“ শপিং মলে নিশ্চয়ই কেউ হাডুডু খেলতে আসেনা? সো উইল ইউ প্লিজ শাট ইউর মাউথ? পারলে একটু হেল্প করেন। এই পুরো মলে ওম্যান্স সেকশনে যা যা আছে সব আমাদের ট্রাকে তুলুন। মনস্টার গাড়িতেই আছে!”
শেষ কথাটুকু শুনতেই সর্বাঙ্গে ঝংকার বয়ে গেল সকলের। নিরাপত্তা কর্মীরা তৎক্ষনাৎ ছুটে গেলেন মেনেজারের কাছে। ব্যস্ত কন্ঠে সবকিছু বলতেই মেনেজার কেমন উদ্বিগ্ন হলেন। তক্ষুনি ছুটে এলেন মনস্টার আর্মিদের কাছে। দরদর করে ঘামতে থাকা কপালখানা শার্টের হাতা দিয়ে মুছে নিয়ে বললেন,
“ আপনাদের যা যা লাগে নিয়ে যান। আমাদের স্টাফরা আপনাদের হেল্প করবে। আপনারা জাস্ট বলুন আপনাদের কি কি লাগবে?”
এডউইন হাঁটছে দ্রুত কদমে। সঙ্গে পা মিলিয়ে হাঁটতে থাকা মেনেজারকে কেবল উত্তর দিল,
“ সব লাগবে! সব।”
মেনেজার হতভম্ব! দাঁড়িয়ে পড়লেন তক্ষুনি। হতবাক কন্ঠফুড়েঁ অস্ফুটে বেরুলো,
“ সব?”
প্রায় মিনিট দশেকের মধ্যেই ওম্যান্স সেকশনের সকল কালেকশন — ছোট বড় সকল সাইজের ব্যাগ হতে শুরু করে পায়ের জুতো অব্ধি, সবকিছু বিশাল দুটো ট্রাকে তুলেছে মনস্টার আর্মি এবং মলের স্টাফরা। শুধু ট্রাকেই নয়, প্রতিটি গাড়ির ডিঁকিতেও তুলেছে যাবতীয় কালেকশন। ট্রাকে জায়গা হয়নি সব, তাইতো উপায়ন্তর না পেয়ে এ ব্যাবস্থা নিয়েছে এডউইন। বেচারা ভয়ে শেষ! মনস্টারের সিগার শেষ হবার আগে কাজ শেষ করতে হবে তার। ওদিকে মেনেজার সাহেব ততক্ষণে এগিয়ে এসেছেন বাইরে। কিয়তক্ষন বাদেই তিনি খেয়াল করলেন, সারিবদ্ধ আকারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর ঠিক মাঝের গাড়িটার জানালা নিচে নামছে ধীরে ধীরে। একটু পরেই জানালা থেকে বেরিয়ে এলো একখানা ভেইনি হাত, যার কব্জিতে ঝুলছে “ মনস্টার সিগনেচার ব্রেসলেট ” তা চক্ষু গোচর হতেই শরীর জমে গেল মেনেজারের। বেচারা আতঙ্কে দু-কদম পেছাতেই হঠাৎ গাড়ির জানালার বাইরে থাকা হাতটা দু- আঙুল চালিয়ে তাকে এগিয়ে আসতে বলল নিঃশব্দে। মেনেজারের মন সায় দিলোনা এগুতে। মনস্টারের নিকট যাবার সাহস কিংবা দুঃসাহস কোনোটাই নেই তার। তবে উপেক্ষাও তো করতে পারবেনা! তাই মনের মধ্যে একরাশ ভয়ডর নিয়ে, মেনেজার সাহেব একটু একটু করে এগিয়ে গেলেন গাড়ির নিকট। কিয়তক্ষন বাদেই দু’হাত দুরত্বে দাঁড়িয়ে পা থামালেন তিনি। মাথাটা নুইয়ে রেখে কুর্নিশ জানিয়ে বললেন,
“ হেলো মনস্টার।”
মুগ্ধ জবাব দিলোনা। তক্ষুনি একখানা কাগজ ছুঁড়ে মারল মেনেজারের মুখে। মেনেজার হতভম্ব! পায়ের কাছে পড়ে থাকা কাগজটা তুলে এনে খেয়াল করতেই দেখলেন — এটা কোনো সাধারণ কাগজ নয়, এটা একটা চেক তাও আবার মনস্টারের সাক্ষর দেওয়া! মেনেজার সাহেব সন্দিগ্ধ ভাঁজ ফেললেন কপালে। পরমুহূর্তেই তার কর্ণকুহরে ভেসে এলো মনস্টারের গম্ভীর শান্ত কন্ঠ!
“ মনমতো সংখ্যা বসিয়ে নিন।”
বলেই জানালার কাচঁ উঠালো মনস্টার। এদিকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মেনেজার সাহেব এখনো আশ্চর্যান্বিত চোখে তাকিয়ে আছেন কেমন! তিনি তো ভেবেছিলেন মনস্টার বোধহয় এমনিতেই জিনিসপত্র নিয়ে যাবে তবে তার ধারণা একদম পাল্টে দিলেন মনস্টার! দিয়ে গেলেন তার প্রাপ্য।
সারাদিন শুয়ে-বসে থেকে গা ধরে গিয়েছে মাহির। এতো অলস ভাবে সময় কাটে? না আছে কথা বলার কেউ, না আছে কথা শোনার! তারওপর যে-ই বাড়ি! এটা বাড়ি তো নয়, যেন একটা গোলকধাঁধা। একবার বেরুলে নিজ কক্ষের রাস্তাই ভুলে যায় মেয়েটা। আবার চোখের চশমাটাও তো নেই তার! বেশ খানিকটা দূরের জিনিস ঝাপসা ঝাপসা দেখে সে, এ হলো আরেক কষ্ট। মাহি চুপচাপ দুহাঁটু বুকের কাছে ভাঁজ করে বসে আছে। বাড়ির কথা খুব মনে পড়ছে তার। না জানি বাড়ির সবাই কেমন আছে! মেয়েটার জন্য কাঁদছে হয়তো খুব। মেইডেন ইরাকে কয়েকবার বলেছিল ফোনের কথা তবে তিনি জানালেন এক অদ্ভুত কথা। এ বাড়িতে না-কি ফোন চালানো নিষিদ্ধ! এমনকি কারো হাতে একটা বাটন ফোনও না-কি নেই। মাহি এ কথা শোনার পরপরই বেশ অবাক হয়েছে। এ যুগে এসেও কেউ ফোন না চালিয়ে থাকতে পারে? তাও আবার এতগুলো মানুষ এতগুলো দিন ধরে ফোন ছাড়া চলছে! ভাবা যায় এসব?
মাহির ভেতরটা বড্ড অস্থির। মনটা আনচান করছে বাড়ির লোকজনকে দেখতে। ঠোঁট ভেঙে কান্না আসছে একাকীত্বে! পরনেও ছিঁড়েফাটাঁ জামা। সব মিলিয়ে মনের অবস্থা বড্ড করুণ মেয়েটার। মাহি মুখ লুকায় হাঁটুর ভাঁজে। নিঃশব্দে কাঁদতে গেলেই হঠাৎ শুনলো অদূর থেকে এক অদ্ভুত ঝনঝনানি শব্দ ভেসে আসছে।কেউ হয়তো ভারী কিছু টেনেটুনে হিচঁরে আনছে। মাহি কান খাঁড়া করল, আওয়াজটা ধীরে ধীরে খুব নিকটে আসছে। মেয়েটা কেমন ভয়ে ভয়ে হাঁটু থেকে মুখ তুলে সামনে তাকাতেই দেখে — কয়েকজন মেইড বেশকিছু ক্লদিং এবং রোলিং রেক টেনে টেনে ঘরে ঢুকছেন।মাহি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো কেমন! এতো এতো কাপড়চোপড় কে আনলো হঠাৎ? মনে উত্থাপিত প্রশ্নটা ঠোঁটের আগায় ঠিক নিয়ে আসে মাহি। নড়েচড়ে সোজা হয়ে বসে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ এগুলো কী? কে এনেছে এসব?”
তক্ষুনি কক্ষের দুয়ার থেকে ভেসে আসে মাহির সবচেয়ে অপছন্দনীয় পুরুষের বাঁকা কন্ঠ!
“ তোর কোন নাগর আছে এখানে যে এনে দিবে?”
এহেন খোঁচা মারা কথায় দাঁতে দাঁত চাপল মাহি। নাক ফুলিয়ে ঘাড় ঘুরালো অন্যত্র। মুগ্ধ তখন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। একহাতে তার হুইস্কির বোতল, গায়ে এখনো বাইরের পোশাক। অন্ধকারে বসে থাকা মাহি খেয়াল করেনি শ্যাডো মনস্টারের রক্তাক্ত মুখ। এদিকে মনস্টার ঘরে পা রাখতেই মেইডরা সাথে সাথে যে যার মতো বেরিয়ে যায় কক্ষ থেকে। মুগ্ধ কেমন বাজখাঁই কন্ঠে আদেশের টোনে বলে,
“ যা কাপড় চেঞ্জ করে আয়।”
অবাধ্য মাহি! মারও খাবে আবার অবাধ্যতাও করবে! ঘাড়ত্যাড়ামি করে এবারেও সে বলল,
“ পরবো না আমি আপনার দেওয়া কাপড়চোপড়!”
মুগ্ধ চোখ সরু করল এপর্যায়ে। কাঠকাঠ কন্ঠে শুধায়,
“ যেটা গায়ে দিয়ে রেখেছিস সেটা কী তোর বাপে এসে কিনে দিয়ে গেছে বান্দীর মেয়ে? কার সাথে ঘাড়ত্যাড়ামি করিস বেয়াদবের বাচ্চা? একদম ঘাড় ভেঙে ফেলব!”
মাহি ভয় পেলেও অনড় নিজের ঘাড়ত্যাড়ামিতে। মার খেলে খাবে, তাও পরবেনা ঐ লোকের আনা কাপড়। সে ঠায় বসে রইলো নিজ জায়গায়। এদিকে মুগ্ধের ঘাড়ের রগ ফুলছে এবার। দাঁত হয়েছে কটমট! চোখদুটোতে আগুন লেপ্টে নিয়ে সে কেমন ঝাঁঝাল কন্ঠে বলল,
“ ড্রেস চেঞ্জ করবি কি-না বল?”
“ করবো না, করবো না, করবো না!”
ব্যস! এটুকুই যেন যথেষ্ট ছিল বেপরোয়া পুরুষকে ধৈর্য্য হারা করতে। মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ কটমট করতে করতে হাতে থাকা হুইস্কির বোতলটা খুলে নিয়ে, একে একে সবগুলো ক্লদিং রেকে হুইস্কি ছেটাতে লাগল। মাহি আড়দৃষ্টিতে দেখছে সব। লোকটার পরবর্তী পদক্ষেপ আচঁ করতে পারছেনা মেয়েটা। কাপড়ের গায়ে ওসব কি ছেটাচ্ছে কে জানে! তবে মাহির টনক নড়লো তখন যখন দেখলো, মুগ্ধ তার হাতে থাকা হুইস্কির খালি বোতলটা মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলেছে। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ওভারকোট হাতড়ে লাইটার বের করতেই চেচিয়ে উঠে মাহি। তক্ষুনি দুলাফে এগিয়ে আসে মুগ্ধের নিকট। হাত বাড়িয়ে মুগ্ধের হাত ধরতে গেলেই আচমকা মাহির গলা চেপে ধরে মুগ্ধ! আরেকহাতে জ্বলন্ত লাইটারটা কাপড়ের রেকে ছুঁড়ে মারতেই কাপড়গুলোতে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। সে আগুনের লেলিহান শিখায় স্পষ্ট হলো মুগ্ধের র*ক্তাক্ত কঠিন মুখাবয়ব। মাহির নিশ্বাস আঁটকে গেল একমুহূর্তের জন্য। এ কি দেখছে সে! লোকটার মুখে ওসব কী? মুগ্ধের অগ্নি দৃষ্টিতে চোখ পড়েছে তার, বুকটা এবার কাঁপছে বেশ। ওদিকে শক্তিশালী পুরুষের চোয়াল কাঁপছে রাগের চোটে, ঘাড়ের রগ ফুলেছে ইতোমধ্যে। মাহির মুখপানে তাকিয়ে থেকে সে আচমকা চড় বসালো মেয়েটার গালে। একহাত তার এখনো চেপেছে মাহির কন্ঠা! সেদিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা নেই যুবকের। সে রীতিমতো ভীষণ ক্ষেপেছে মেয়েটার ওপর। মাহির নরম গালে আরেকবার চড় বসিয়ে, সে কেমন দাঁতে দাঁত চেপে হুংকার তুলে বলে ওঠে,
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫
“ ওসব সাধাসাধি এন্ড অল দোস ফা*কিং বুলশিট আর নট ইন মাই নেচার! তোর কত বড় কলিজা তুই আমার অবাধ্য হবার চেষ্টা করিস জানোয়ারের বাচ্চা! একদম ঘাড় বরাবর ঘুষি মেরে ঘাড় ফাটিয়ে ফেলব ঘাড়ত্যাড়ার ঘরে ঘাড়ত্যাড়া। নেক্সট টাইম তোর গায়ে যদি ভুলক্রমেও ওসব মেইডদের কাপড় দেখি, আই সয়্যার তোকে আমি জ্যান্ত পু*ড়ি*য়ে মা*র*ব চাশমিস! এন্ড মার্ক মাই ওয়ার্ডস ইন ইউর হেড।”
