হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৪
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
বাড়িময় বিয়ের আমেজ। আজ মির্জা বাড়ির একমাত্র মেয়ে ইসরাত সুলতানা ইকরার বিয়ে। একমাত্র মেয়ের খাতিরে বেশ আয়োজন করে বিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও সেটা থেকে বিরত থাকলেন মির্জা পরিবার। সম্পূর্ণ ইসলামিক ভাবে বর পক্ষ থেকে হাতে গণা পাঁচ, ছ জন লোক এসে বিয়ে পড়িয়ে মেয়ে নিয়ে যাবেন। কোনোরূপ অনুষ্ঠানিকতা নেই। এটাই দু পরিবারের সিদ্ধান্ত।
বিয়ে উপলক্ষে আত্মীয়র মাঝে শুধু ইকরার একমাত্র ফুপি আমেনা মির্জাকে অমন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে ভদ্রমহিলার নাকি শরীর খারাপ তাই দুই মেয়ে আরিবা ও আয়াতকে পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। বড়ো মেয়ে আরিবা বয়সে ইকরার সমান। আর ছোট মেয়ে আয়াত তাদের থেকে দুই বছরের ছোট। এইবার স্কুল থেকে এসএসসি দিবে সে। মেয়েটা বড্ডো বেশিই কথা বলে। আসার পর থেকে একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে হুমায়রাকে সবগুলো প্রশ্নই কৃশানকে জড়িয়ে। ব্যাপারটা কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগছে হুমায়রার কাছে। সে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে তো কিছু এড়িয়ে যাচ্ছে। শান্তিমত ইকরার হাতে মেহেদিটাও পড়াতে পারছে না প্রশ্নের জন্য।
“ কৃশান ভাই কি এখনো নেশা করে? ”
” এই তুই চুপ হবি না? আরেকটা কথা বললে তোকে বাসায় রেখে আসবো। এই জন্যই আম্মুকে বলেছিলাম এই গর্দভটাকে না পাঠাতে। ”
আয়াতের কথার পৃষ্ঠে এইবার তাকে ধমকে উঠল আরিবা। তা দেখে অগোচরে ভেংচি কাটল মেয়েটা। পাশ থেকে ইকরা বলল,
“ থাক বকিস না। নে আয়াত এবার তুই মেহেদি লাগা। আমার শেষ। ”
মুচকি হাসল আয়াত। ইকরার জায়গায় বসে মেহেদি লাগাতে ব্যাস্ত হলো। মেহেদি দেওয়ার পুরোটা সময় হুমায়রার দিক তাকিয়ে ছিল সে। হাতের দিক মনোযোগ রেখেও তা বুঝতে পারল হুমায়রা।
“ কিছু বলবে? ”
হুমায়রার আকস্মিক কণ্ঠে কিছুটা থতমত খেল আয়াত। মেকি হেসে বলল,
” না না, এমনিতেই দেখছিলাম আপনাকে। ”
উত্তরে মুচকি হাসল হুমায়রা। পরপর মনোযোগ দিলো মেহেদি আর্টে।
সাদা টিশার্টের উপরে কালো জিন্সের জ্যাকেট পড়ে ভার্সিটির জন্য তৈরি হলো কৃশান। দুহাতে চুলগুলো পিছন ঠেলে দর্পণে নিজেকে একবার পর্যবেক্ষণ করল। সবকিছু একদম পারফেক্ট দেখে শিস বাজাতে বাজাতে মিঠুকে যাওয়ার আগে একবার কোলে নেয়ার উদ্দেশ্যে বারান্দার দিক হাঁটা ধরল। মাঝপথেই শুনতে পেল রিনরিনে কণ্ঠের মিষ্টি ডাক,
” শুনছেন? ”
ডাকটার মাঝে কি ছিল জানা নেই কৃশানের। চলন্ত পদ যুগল মুহূর্তেই থেমে গেল তার। একটা ডাকের মাঝেও বুঝি এতটা মায়া থাকে? তার ভাবনার মাঝেই হুমায়রা সংকীর্ণ কণ্ঠে আবারও ডেকে উঠল,
“ শুনছেন…? ”
“ হ্যাঁ শুনছি তো, খুব করে শুনছি। এই শুনছেন শুনছেন বলেই তো দিনদিন আমার আমিটাকে বাড়াবাড়ি রকমের মায়ায় জড়িয়ে নিচ্ছিস। আজকাল এক তোর ডাক ছাড়া অন্য কোনো ডাক শুনতে আমার এই বখাটে মন বড্ডো নারাজ! ”
সহসা ভিতরের সত্ত্বা হতে বাক্যগুলো ধ্বনিত হলো। তবে তা মুখ অব্দি পৌঁছানোর সুযোগ দিল না কৃশান মির্জা। তার আগেই নিজের পরিচিত গাম্ভীর্যতা নিয়ে ঘুরে তাকাল সে। সামনে দেখতে পেল একটা দ্বিধান্বিত মুখ। এক পল মুখটিকে পরখ করে ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ কি চাই.? ”
মানুষটার ভারী কণ্ঠে খানেক মিইয়ে গেল হুমায়রা। নিজেকে ধাতস্থ করে সময় নিয়ে বলল,
“ আপনি কি আজকেও ভার্সিটি যাবেন? ”
“ দেখে বুঝতে পারছিস না? ”
উত্তরে বলার মতো শব্দ খুঁজে পেলো না হুমায়রা। অগ্যতা মাথা নিচু করে রইল। পরপর রুম থেকে বেরোতে নিবে এর আগেই শুনতে পেল মানুষটার কণ্ঠ,
“ সকালে ড্রপ দিয়েছিলি? ”
দাঁত দিয়ে জিভ কাটল মেয়েটা। সে তো ভুলেই বসেছে এসব। চোখ ভালো হয়ে গেছে বিদায় আর মাথাতেই আনে নি ড্রপের কথা। মিনমিন করে সাফাই গেয়ে বলল,
“ আসলে চোখ তো ভালো হয়ে গেছে তাই আর দেইনি। ”
” চোখ ভালো হয়ে গেলে দিতে হবে না-কে বলেছে তোকে? এমবিবিএস ডাক্তার নাকি তুই? ”
“ আচ্ছা আমি ইকরাকে দিয়ে ড্রপ নিয়ে নিব আপনি চিন্তা করবেন না। ”
“ তোকে নিয়ে চিন্তা করে কে! আমি তো জাস্ট তোকে কোলে নেওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য বলেছি। ”
মানে কি পরিমাণ ঘাড়ত্যাড়া লোক ভাবা যায়! তাকে নিয়ে ভাববে, যত্ন নিবে অথচ তা কোনোভাবেই স্বীকার করবে না। আর আর সে ও যে কেন লোকটার সাথে কথা বাড়াতে যায়! সে কি ভুলে যায় এটা আর কেউ নয় তার একমাত্র বখাটে স্বামী।
তার ভাবনার মাঝেই তাকে পাশ কাটিয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল কৃশান। হুমায়রাও আর দাঁড়িয়ে থাকল না। গতবারের মতো এবারও বিশ্বাস রাখল মানুষটা ঠিক সময়ে চলে আসবে।
” আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন কৃশান ভাই? ”
ড্রয়িং রুমে আসতেই কৃশানের সামনে পড়ল আয়াত। বরারের মতোই সামনের ব্যক্তির বিনয়ী কণ্ঠকে উপেক্ষা করল কৃশান। হাঁটার মধ্যেই ছোট করে জবাব দিল,
“ ভালো। ”
পৃষ্ঠে তার সম্পর্কে কিছু জানতেও চাইল না। এতে দমল না কিশোরি। কণ্ঠে আগের মতোই উচ্ছাস মিশিয়ে বলল,
” ভার্সিটি যাচ্ছেন? আজকে তো ইকরা আপুর বিয়ে তাও ভার্সিটি যাবেন? ”
ইকরার বিয়ে শব্দটা শুনতেই থেমে গেল কৃশান। প্রথমেই মাথায় আসলো আজাদের কথা। বিয়ে মানে তো ঐ লাফাঙ্গা আজকে এখানে আসবে ভাইয়ের সাথে। সে তো অতসব ভাবেই নি। তাহলে তো আজকে ভার্সিটি যাওয়া যাবে না কোনোভাবেই। ঐটাকে নজরে রাখতে হবে। যা ভাবা তাই কাজ- যেভাবে ত্রস্ত পায়ে নিচে নেমেছিল ঠিক সেভাবেই আবারও রুমে ফিরে গেল সে। তার কান্ড কারখানা কিছুই মাথায় ঢুকল না আয়াতের। তবে কৃশান যে ভার্সিটি যায়নি এতেই মহাখুশি মেয়েটা। মনে মনে তো ভেবেই নিয়েছে কৃশান তার জন্যই যায়নি।
এইদিকে রান্নাঘরে যাওয়ার সময় পুরোটা ঘটনাই চোখে পড়ল হুমায়রার। কৃশানের যাওয়ার পানে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সে। কেন যেন ব্যাপারটাতে বড্ডো গা জ্বালা করছে তার। আজকে প্রথম কৃশানের প্রতি এতো রাগ হচ্ছে। মন চাচ্ছে মানুষটাকে গিয়ে কটা কথা শুনিয়ে আসতে। সে যখন জিজ্ঞেস করল- আজকেও কি ভার্সিটি যাচ্ছেন? তাকে কি ত্যাড়া উত্তরটাই না দিল। আর এখন কিনা ডিরেক্ট ভার্সিটি যাওযার মত ই পাল্টে ফেলল? বখাটে পুরুষ!
“ ভাবী আপনি কি ভাইয়াকে নিষেধ করেননি আজকে ভার্সিটিতে যেতে? আমি যদি এখন না বলতাম তাহলে তো ভাইয়া আজকেও ভার্সিটি চলে যেত। ”
আয়াতের কথায় সম্বিত ফিরল হুমায়রার। কথাগুলো কর্ণপাত হতেই রাগের মাত্রাটা আরও বেড়ে গেল মেয়েটার। তবে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে মুচকি হাসল। বলল,
“ ভালো কাজ করেছো। ”
বলেই হনহন করে রান্নাঘরে চলে গেল।
মেয়েরা সবকিছু সহ্য করতে পারলেও নিজের প্রিয় পুরুষের সাথে অন্য মেয়েকে সহ্য করতে পারে না। কোনো মেয়ের সাথে সামান্য হেসে কথা বললেও তাদের হিংসে হয়। এবেলায় এসে নিজের সকল ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে তারা। হুমায়রার ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। মেয়েটা যতই নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে ততই কৃশানের করা কান্ডের কথা মনে পড়ে মাথায় রাগ চড়ে বসছে। আর সাথে তো আয়াত নামক মেয়েটা আছেই তার রাগ আরেকটু বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। এই সতেরো বছর বয়সে আজকের মতো অসহ্য দিন আর একটাও কাটেনি হুমায়রার। সবসময়ই তো সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করে নিয়েছে। আজকে কেন পারছে না? সব ধৈর্য্য কোথায় উধাও হয়ে গেল তার? গুনে গুনে তিনবার ওযু করেছে নিজের রাগ সংবরণ করার জন্য। অথচ ফলাফল স্বরূপ একটু শান্তি পেলেও পরক্ষনেই আয়াতের কান্ড কারখানায় পুনরায় মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে।
অসহ্য হয়ে এবার রুমে এসে শাওয়ার নিতে ঢুকে গেল। বিছানায় মিঠুকে কোলে নিয়ে ফোন স্ক্রোল করছিল কৃশান। কাঙ্ক্ষিত রমণীর উপস্থিতি টের পেতেই তাকে আড়চোখে অবলোকন করল। কিন্তু সেদিকে ফিরেও তাকাল না মেয়েটা। গটগট পায়ে ডিরেক্ট ওয়াশরুমে ঢুকে গেছে।
কিছুক্ষনের মধ্যেই শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো হুমায়রা। বরাবরের মতোই শরীরে জড়ানো ফুলহাতা বিশিষ্ট লং গোলজামা। মন মেজাজ এখন একটু হালকা লাগছে মেয়েটার। তবে পুরোপুরি শান্ত হয়নি। এখনো কিছুটা তিরিক্ষি ভাব রয়ে গেছে।
হুমায়রাকে টকটকে খয়েরী জামায় দেখে কিছুক্ষন অপলক দৃষ্টিতে তার দিক তাকিয়ে রইল কৃশান। ফর্সা গায়ে রঙটা একদম ফুটে উঠেছে। এই জামা টা আজকে নতুন পড়েছে হুমায়রা। অন্যান্য রঙের তুলনায় এই রঙটাতে একটু বেশিই মায়াবি লাগছে মেয়েটাকে। যে কেউ এক দেখায় পিছলে পড়বে নির্ঘাত- যেটা মোটেও সহ্য হবে না তার। সে রাগী স্বরে হুমায়রার উদ্দেশ্যে বলল,
“ এভাবে নতুন বউয়ের মতো সেজেছিস কেন? ”
সরু চোখে স্বামীর পানে চাইল মেয়েটা। গায়ে কাপড় জড়ানো ছাড়া তো আর কিছুই করল না সে। সাজ আসলো কোথা থেকে? সে নিজের তিরিক্ষি ভাবটা লুকিয়ে রেখে স্বাভাবিক গলায় বলল,
“ নতুন বউ এভাবে থাকে না এভাবে ঘোমটার আড়ালে থাকে! ”
বলতে বলতেই নাক অব্দি একটা বড়ো সড় ঘোমটা টেনে দিল। হুমায়রার সরল মুখশ্রীতে স্পষ্ট রাগের আভাস বুঝা যাচ্ছে। কপাল কুঁচকে কিয়ৎক্ষণ তাকে পর্যবেক্ষণ করল কৃশান। পরপর ধীরে পায়ে এগোতে লাগল সামনের রমণীর পানে। মানুষটাকে ক্রমান্বয়ে নিজের দিক এগোতে দেখে কিছুটা মিইয়ে গেল হুমায়রা। তবে কৃশানের চেহারা স্বাভাবিক দেখে বুকে সাহস জুগিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। ঘোমটার আড়াল হতে পল্লব ঝাপটে ঝাপটে বুঝতে চাইল একান্ত মানবের অভিব্যক্তি।
হুমায়রার একেবারে মুখোমুখি এসে কিছুটা ঝুঁকল কৃশান। তা দেখে শুষ্ক ঢোক গিলল রমণী। মুখ খুলে কিছু বলতে নিবে এর আগেই মাথা নিচু করে তার মুখের উপর ফুঁ দিয়ে উঠল কৃশান। সাথে সাথেই পাতলা ঘোমটা খানা সরে গেল মুখ থেকে। জবান লুপ পেল হুমায়রার। এক অদ্ভুত শিহরন বয়ে গেল তার পেলব কায়া জুড়ে। দুহাতে গায়ের জামা খামচে ধরে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাল সে।
তার মুখপানে কিছুক্ষণ পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কৃশান। সহসা নীরবতা ভেঙ্গে বলে উঠল,
“ মাশাআল্লাহ, একেবারে আমার ক্ষেতের দেশি টমেটো! ”
তৎক্ষনাৎ তড়াক দৃষ্টিতে মানুষটার দিক চাইল হুমায়রা। ভরকানো স্বরে বলল,
“ কিহ..? ”
“ নতুন বউ যেহেতু সাজলি কমপ্লিমেন্ট তো দিতেই হয়। সবার কাছে বউকে ঘরের চাঁদ মনে হলেও তোকে আপাতত আমার টমেটো মনে হয়েছে- তাই সত্যটাই বললাম। আমি আবার সর্বদা সত্য কথা বলি। ”
চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইল হুমায়রা। রাগে দুঃখে ক্ষণে ক্ষণে নাকের পাটা ফুঁসে উঠছে তার। আজকে বুঝি রাগ সংবরণ করতে আর সক্ষম হবে মেয়েটা।
“ তা হঠাৎ গাল মুখ এমন টমেটোর মতো করে রেখেছিস কেন? ”
“ কই গাল, মুখ কেমন করে রেখেছি! “
” কথা না বাড়িয়ে কারণ বল। নয়তো মার খাবি।
এবেলায় এসে রাগের বদলে বড্ডো খারাপ লাগল মেয়েটার। বলল,
“ বলবো না, যার কথায় ভার্সিটি যাননি তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। আমার বেলায়ই শুধু মারামারি! ”
বলেই উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরল। কিছুদূর যেতেই জামার ফিতায় টান পড়ল। ওমনিই পদ যুগল থেমে গেল। ফিতায় টেনে ধরা ব্যাক্তির উদ্দেশ্যে কিছু বলতে নিবে এর আগেই হ্যাঁচকা টানে তাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল সে। ফিতা ধরে রাখা হাতগুলো এবার স্থান পেল হুমায়রার সরু কোমরে। মেয়েটার পিঠ ঠেকে আছে তার শক্ত বুকে।
ঘটনার আকস্মিকতায় অচেতন প্রাণীর মতো অনড় হয়ে রইল হুমায়রা। মুখ দিয়ে কিচ্ছুটি বের হচ্ছে না তার। মস্তিষ্কের নিউরন গুলো যেন কাজ করতে ভুলে বসেছে। নিভে আসা গলায় থেমে থেমে উচ্চারণ করল দুটো শব্দ,
“ কি করছেন? ”
“ তুই কি কোনোভাবে জেলাস? ”
“ ওসব জেলাস টেলাস বুঝি না আমি। আপনি আয়াতের কথায় ভার্সিটি যাননি অথচ আমি কিছু বললেই বলেন- আমার থেকে তিন মাইল দূরে থাক! ”
সরল স্বীকারোক্তি রমণীর। পৃষ্ঠে কৃশান হতাশার স্বরে বলল,
“ তিন মাইল দূরে থাক বলে লাভ কি? তিন ইঞ্চি দুরত্বও বজায় রাখতে পারিনা তোর জন্য! ”
কোনরূপ উত্তর পাওয়া গেল না অপরপক্ষ থেকে। মুখে কুলুপ এঁটে রইল হুমায়রা। সহসা কানের কাছে উপলব্ধি করল মানুষটার তপ্ত নিঃশ্বাস সাথে ফিসফিসানো স্বরে বলা কিছু বাক্য,
“ শুন তোর চুলের ঘ্রাণটা বড্ডো বাজে। ওসব জেলাসি টেলাসি বাদ দিয়ে চুলের যত্ন নে। আর কৃশান মির্জা কারও কথায় চলে না। সে নিজের মর্জি মতো চলে। সুতরাং অন্য কারও কথায় আমি ভার্সিটি গ্যাপ দেয়নি। নিজের ইচ্ছেতেই দিয়েছি। ”
বলেই হুমায়রাকে ছেড়ে দিল সে। ছাড়া পেয়ে আর পিছু ঘুরল না হুমায়রা। ত্রস্ত পায়ে রুম ছাড়ল। দরজার কাছ গিয়ে বলল,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৩
“ আমার চুলের ঘ্রাণ ঠিক আছে! আপনার নাকটাই ভালো না বখাটে পুরুষ! ”
“ এই বখাটের জন্যই তো জ্বলিস জাওড়া হুজুরনী! ”
কৃশানের মুখে জাওড়া শব্দটা শুনতেই ফিক করে হেসে উঠল হুমায়রা। মেয়েটার হাসির শব্দ কর্ণপাত হতেই ঠোঁট জোড়া কিঞ্চিৎ প্রসারিত হলো কৃশানের। তবে তা দৃষ্টিগোচর হলো না রমণীর।

Apu next part gula arektu boro kore dio.. r minimum 2 ta kore part upload dio please