মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৫
jannatul firdaus mithila
“ ওকে ছাড়ুন! ও আমার।”
থামল মুগ্ধের হাত! চোখদুটোতে এক পশলা আগুন নিয়ে তাকাল মেয়েটার পানে। ভাব এমন — এই বুঝি চোখের আগুনে ঝলসে দিবে মাহিকে। ব্লেডের ন্যায় তীক্ষ্ণ চোয়ালটা কেমন কাঁপছে রীতিমতো! মাহি আগ বাড়িয়ে হাত ধরতেই বুঝি গায়ে আগুন ধরে গেল মুগ্ধের। যুবক কেমন হিংস্রের ন্যায় তক্ষুনি সিডের বুকের ওপর থেকে পা সরিয়ে ঝাপিয়ে পড়ল মাহির ওপর। একহাতে শক্ত করে চেপে ধরল মাহির গলদেশ! আরেকহাতে একের পর এক চড়াঘাত বসাতে লাগল মেয়েটার নরম নাকমুখ বরাবর। বিকট কন্ঠে গর্জন তুলে বলতে লাগল,
“ ও তোর মানে? এ্যাই জানোয়ারের বাচ্চা, ও তোর মানে? ইউ স্লাট! এক পুরুষে হয়না তোর কু*ত্তার বাচ্চা? তোর এইটুকু শরীরে এতো ঝাঁঝ? আমার অবর্তমানে আমারই বাড়ির কেয়ারটেকারের সাথে স্লাটগিরীতে নেমে গেলি? ইউ ব্লা*ডি বি*চ!”
এহেন অর্তকিত ঘটনার জেরে দূর্বল মাহি! গলা ফাটিয়ে আর্তনাদ করতে লাগল কেমন। পুরো ঘরময় গুঁজছে মেয়েটার কান্না! মুগ্ধ থামছেনা। তীব্র রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য মানব, মাহির গলা চেপে রেখেছেই তো রেখেছে! একটু ছাড়ছেওনা দেখো! এদিকে মাহির জান বেরিয়ে যাবার উপক্রম। মেয়েটা বিছানায় পড়ে থেকেই ছটফটিয়ে যাচ্ছে। তার ওমন ছটফটানোতে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেনি নির্দয় মানব। উল্টো বাড়িয়েছে হাতের জোর। মাহির চোখ বেরিয়ে আসছে কোটর ছেড়ে, দম ফুরিয়ে যাবে এক্ষুণি! মুগ্ধের কি হলো কে জানে! ছেলেটা কটমট করতে করতে তৎক্ষনাৎ মাহির কন্ঠা ছাড়ল। এদিকে মুগ্ধের ওমন দানবীয় হাতের থাবা থেকে ছাড়া পেতেই পাগলপ্রায় মাহি, অস্থির হয়ে হাঁপাতে লাগল কেমন। কিন্তু এই হাঁপানোর স্থায়িত্ব রইল না বেশিক্ষণ। এরইমধ্যে মুগ্ধের শক্তপোক্ত হাতের থাবা ফের আক্রমণ চালালো মাহির মাথার তালু বরাবর। একহাতে খামচে ধরল তালুর চুলগুলো। ব্যথায় ককিয়ে ওঠে মাহি, চোখমুখ কুঁচকে হাতদুটো দিয়ে চুলগুলো ছাড়াতে চাইলেই আবারও থাপ্পড় বসল তার গালে। আজকের একেকটা থাপ্পড় না যেন বেত্রাঘাত! যতবার গালে পড়ছে ঠিক ততবার আঙুলের ছাপ বসাচ্ছে।
ঠোঁটের অবস্থা তো নাই-বা বলি! একেকটা থাপ্পড়ের তীব্রতায় ঠোঁটের সঙ্গে দাঁত লেগে গিয়ে কেটেছে কয়েকবার। লহুতে ভরে গিয়েছে মেয়েটার মুখগহ্বর! এদিকে মুগ্ধ তখন একহাতে মাহির চুল চেপে রেখে, মেয়েটাকে এক ঝটকায় বিছানা থেকে ছুড়ে ফেলল মেঝেতে। সঙ্গে সঙ্গে খট করে একখানা শব্দ পৌঁছুল মাহির কানে, সেই সাথে অনুভূত হলো কোমরের তীব্র যন্ত্রণা! নাহ..এবার বোধহয় বেচারির কোমরটা একেবারেই শেষ! পরবর্তীতে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে কি-না কে জানে! মাহি কাঁদছে, মাতাল মেয়েটা কি আর ওতো কিছু বুঝছে? সে কেবল বুঝছে — কেউ তাকে খুব মারছে। মাহি হেঁচকি তুলতে তুলতে চোখ তুলল ওপরে। সম্মুখেই দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল দেহী পুরুষ! মোমবাতির নিবুনিবু আলোকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকায় যুবকের মুখাবয়ব স্পষ্ট নয় মাহির নিকট। মেয়েটা কেমন দূর্বল নয়নে তাকিয়ে রইল। ওদিকে যুবক এবার কি করছে কে জানে! বিছানায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকা সিডের গা থেকে একটানে খুলে ফেলেছে পরনের শার্টটা। অতঃপর উদ্ভ্রান্তের ন্যায় সিডের ক্ষত বুকটায় যেথায় আগে থেকেই ব্যান্ডেজ করে রাখা সেখানে টান বসিয়ে এক ঝটকায় ছিঁড়ে ফেলল ব্যান্ডেজটা। মুহুর্তেই উম্মুক্ত হলো সিডের র*ক্তাক্ত ক্ষত বুক। ক্ষত জায়গা থেকে গড়িয়ে পড়ছে অবাধ লহু। মাহি ছলছল চোখে তাকিয়ে রইল একমুহূর্ত। তার কন্ঠরোধ হয়েছে এপর্যায়ে। বহু চেষ্টা করেও যখন দেখল — তার কন্ঠ ফুঁড়ে কথা বেরুচ্ছে না, ঠিক তখনি মেয়েটা তেমন উপায়ন্তর না পেয়ে ফের উঠে এলো মুগ্ধের কাছে। এবারেও মুগ্ধের হাত ধরতে চাইলে তক্ষুনি পাশ ফিরে মাহির কন্ঠা চেপে ধরে মুগ্ধ। মাহি থমকায়! গলার ব্যথায় গোঙাতেই শুনল মুগ্ধের হিংস্র কন্ঠ!
“ ও তোর তাইতো? এই ব্লা*ডি এসহোল তোর? তোর সারা গায়ে ওর স্পর্শ লেপ্টে আছে তাই-না? ওকে দ্যান। আ’ল টেক কেয়ার অফ হিম!”
বুঝলোনা মাহি। হতবাক চোখে তাকিয়ে থাকতেই মুগ্ধ তাকে ফের ছুঁড়ে ফেলল মেঝেতে। অতঃপর একমুহূর্ত ঘাড় বাকিয়ে এদিক ওদিক খোঁজাখুঁজি চালিয়ে, পরক্ষণে হাঁটা ধরল আলমিরার দিকে। কাঠের তৈরী ভারী কারুকার্যে শোভিত আলমিরার কাছে এগিয়ে এসে একটানে আলমারির দুয়ার খুলল মুগ্ধ। শক্ত মুখে চারপাশ হাতড়ে অবশেষে পেয়ে গেল কাঙ্ক্ষিত বস্তু। মুগ্ধ একপলক তাকিয়ে রইল বস্তুটির দিকে। তারপর আর কোনরূপ কালবিলম্ব না করে তক্ষুনি বস্তুটি হাতে নিয়ে এগিয়ে গেল সিডের দিকে। মেঝেতে পড়ে থাকা মাহি ফোঁপানো বাদ দিয়ে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। লোকটার হাতে কিছু একটা চকচক করছে! কিন্তু সেটা কী? মাহি চোখ সরু করল এপর্যায়ে। তার তাকিয়ে থাকার মাঝেই ঘটল ভয়ানক কিছু। নির্দয় মানব তার হাতে থাকা লম্বা সরু দড়ির ন্যায় বস্তুটা দিয়ে হঠাৎ সিডের ক্ষত বুকটায় প্রবলভাবে আঘাত বসায়। অতঃপর সেকেন্ড খানেক বাদে যেইনা দড়িটা হেঁচড়ে আনতে লাগল সিডের গা থেকে ওমনি দেখা গেল বেচারা সিডের গায়ে লাল তরলের প্রবল বন্যা। মাহি হতভম্ব! তার আর বুঝতে বাকি নেই, লোকটার হাতে খাঁজকাটা চাবুক রয়েছে। সেই চাবুকের তীব্র ঘর্ষণে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে বেচারা সিড! মাহি আর সইতে পারলোনা। তক্ষুনি দু’হাতে খামচে ধরল নিজের মুখ। ভয়ে-আতঙ্কে জড়সড় হয়ে চেঁচিয়ে যাচ্ছে অনবরত! ওদিকে মুগ্ধ থামছেনা। সিডের বুকটা ক্ষত-বিক্ষত করা শেষ হলে, ফের উদ্যোত হলো বেচারার পিঠের ওপর অমানবিক অত্যা*চার চালাতে। হাতের বদলে পা দিয়ে ঠেলে সিডকে উল্টে দিল বিছানায়। একের পর এক বেত্রাঘাতে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে সিডের শরীরটা! ইতোমধ্যেই পুরো বিছানা রাঙিয়ে গিয়েছে সিডের লহুর দাগে। অথচ তবুও থামছেনা মুগ্ধ। তার মুখাবয়বের কঠিন ভাবস্রোত এখনো কমেনি বিন্দুমাত্র।
প্রায় মিনিট পাঁচেকের অমানবিক বেত্রাঘাত শেষে থামল মুগ্ধ। দাঁত কিড়মিড় করতে করতে ডান হাতে পেঁচাতে লাগল চাবুকটা। ওদিকে মাহি হু হু করে কাঁদছে। সে-ই কান্নার শব্দ কানে যেতেই রাগে ঠোঁট কামড়ে ধরল মুগ্ধ। নাক ফুলিয়ে বড় বড় নিশ্বাস ফেলে, তক্ষুনি খানিকটা এগিয়ে এসে একহাতে চেপে ধরল সিডের মাথার তালুর চুল। অতঃপর ছেলেটার চুল ধরে টানতে টানতে তাকে নামালো বিছানা থেকে। অচেতন সিড! গায়ে কী আর জোর আছে? নিস্তেজ শরীরটা বিছানা থেকে গড়িয়ে নামতেই উল্টে পড়ল মেঝেতে। তৎক্ষনাৎ নাকমুখ থুবড়ে গেল বোধহয়! এতে অবশ্য তোয়াক্কা করেনি নির্দয় মানব। ফের সিডের চুলগুলো টানতে টানতে তাকে নিয়ে চলল দরজার কাছে। মার্বেলের স্বচ্ছ তকতকে মেঝেতে গড়াচ্ছে সিডের দেহ! দাগ ফেলছে তাজা র*ক্তের। কয়েক-কদম এগুতেই সামনে পড়ল মাহি। মেয়েটা মেঝেতে বসে হু হু করছে। মুগ্ধের তেজ বাড়ল এতে।
তৎক্ষনাৎ পা দিয়ে মাহিকে সজোরে পাশে ঠেলে দিতেই মেয়েটা কেমন হকচকিয়ে সরে গেল! মার্বেলের মেঝে হওয়ায় গড়াতে গিয়ে খুব একটা সমস্যা হয়নি তার। নাহলে যে কি হতো! ওদিকে মুগ্ধ ততক্ষণে চলে গিয়েছে দরজার কাছে। হালকা ভিড়িয়ে রাখা দরজাটা একটানে খুলে দিয়ে, সিডকে কেমন ছুঁড়ে ফেলল বাইরে। এতক্ষণ যাবত দরজার কাছে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে এডউইন। এরইমধ্যে পায়ের সামনে ওমন হুট করেই কাউকে গড়াতে দেখে অবাক হলো যেন। র*ক্তা*ক্ত ক্ষত-বিক্ষত দেহের মালিক কে তা চেনার জন্য একটুখানি মগজ খাটাতেই শুনল — মুগ্ধের ভারী অথচ গম্ভীর কন্ঠ!
“ ওকে লবন পানিতে চুবিয়ে রাখ! আমি আসছি। আর খেয়াল রাখবি — ভুলেও যেন ওর নিশ্বাস বন্ধ নাহয়। ও কার শিকারে হাত দিয়েছে — সেটা আগে বুঝিয়ে নেই। তারপর নাহয় সাইকিকে খাওয়াব। যাহ!”
ভয়ার্ত এডউইন বারকয়েক শুকনো ঢোক গিলে মাথা নাড়ল ওপর নিচ। মুগ্ধ তখন আলগোছে এক-কদম পিছিয়ে গেল। অতঃপর এক ঝটকায় এডউইনের মুখের ওপর দোর লাগিয়ে চলে গেল ভেতরে। এদিকে এডউইন কেমন ব্যথাতুর হাসল সিডকে দেখে। রয়েসয়ে একহাঁটু গেঁড়ে মেঝেতে বসে বিরবির করল,
“ এতোবড় দুঃসাহস দেখানোর দুঃসাহস তো আমারও নেই সিড! সেখানে তোমার এলো কোত্থেকে?”
ধীর কদমে এগুচ্ছে মুগ্ধ! চোখদুটো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মাহির পানে। বুকটা কেমন যেন করছে তার! ঠিক কেমন যেন। না করছে ব্যথা, না দিচ্ছে স্বস্তি! স্রেফ এক অদ্ভুত অস্থিরতায় ছেয়ে আছে হৃদয়। মাথাটা কেমন হঠাৎ করেই কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে মনে হচ্ছে। হাতদুটো নিশপিশ করছে কাউকে খুন করতে। মুগ্ধ নিরবে এসে দাঁড়াল মাহির একদম পেছনে। হালকা ঝুঁকে তক্ষুনি মেয়েটার চুলগুলো পেছন থেকে চেপে ধরতেই গুঙিয়ে উঠে মাহি। মুগ্ধ তখন মুখ নামিয়েছে মাহির কান বরাবর। কন্ঠে এক অদ্ভুত কঠিন ভাব ঢেলে হিসহিসিয়ে শুধালো,
“ কী কী করেছিস তোরা? ডিড ইউ গায়েস হেড এভরিথিং? জাস্ট টেল মি চাশমিস! ডিড ইউ গায়েস হেড এভরিথিং?”
অবোধ মাহি! বুঝেনি এহেন কঠিন কথার মানে। ঠোঁট কামড়ে ধরে কেবল ফুপিয়ে গেল কিয়তক্ষন। এদিকে তার এমন মৌনতাকে ❝ হ্যাঁ ❞ ধরে নিলো মুগ্ধ। মুহুর্তেই ছেলেটার চোখেমুখে ফের লেপ্টে গেল আগুন। চোয়াল ফুটঁল কটমটিয়ে। রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য মানব একহাতে মাহির চুলগুলো মুঠোয় চেপে রেখে দাঁড় করালো মেয়েটাকে। মাহি টলছে ব্যথায়! মুগ্ধের হেঁচড়ানোর সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেনা তবুও এগুচ্ছে কোনরকম। কিয়তক্ষন বাদেই মুগ্ধ মেয়েটাকে টানতে টানতে নিয়ে এলো দেয়ালের কাছে। অতঃপর আর একমুহূর্তও দেরি না করে, দেয়ালের সঙ্গে মেয়েটার মাথাটা একের পর এক বারি দিতে লাগল কেমন! মাহির কষ্ট হচ্ছে এবার! মাথায় যন্ত্রণা বাড়ছে তীব্রভাবে। কপালের চামড়া ফেটে গিয়েছে ইতোমধ্যে। ওদিকে মুগ্ধের হাত চললেও তার কন্ঠে হঠাৎ করেই শোনা গেল এক ভারী মোটা অভিযোগ!
“ দোষ আমারই! আমি ভুলে গিয়েছিলাম — সাপের ঔরসে কখনো মানুষ জন্মায়না! যার বাপ একটা চরিত্রহীন লম্পট, তার মেয়ে হিসেবে তুই নিজেই বা কতটা ভালো হবি? শত হলেও তোর শরীরের প্রতিটা শিরায় শিরায় ঐ জানোয়ারের র*ক্ত বইছে! এমনটা তো হওয়ারই কথা।”
এহেন অভিযোগ কেন করছে মুগ্ধ? সে কি আদৌও জানে সে কী বলছে? না-কি খামোখা রাগের বশে বলে যাচ্ছে কথাগুলো? মুগ্ধের অস্থিরতা স্পষ্ট বলছে সে নিজের মধ্যে নেই! তার পুরো বদন কাঁপছে রাগে। চোখের সামনে বারবার চলছে একই দৃশ্য। মাহি আর সিড — একই বিছানায়, একি সাথে! কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ করে পুরো শরীর ঝাঁকিয়ে উঠল মুগ্ধের। ছেলেটা কেমন সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিল মাহিকে। দূর্বল মাহি আর দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতায় নেই। তৎক্ষনাৎ পাদু’টো গুটিয়ে গেল আপনাআপনি। নিবুনিবু চোখে গা বাকিয়ে পড়ে রইল মেঝেতে। ওদিকে মুগ্ধের অস্থিরতা বাড়ছে ক্রমশঃ মাথাটা হুট করেই ঝিমঝিম করছে তার! মুগ্ধ শক্ত হাতে থাপ্পড় বসাচ্ছে নিজ মাথায়। নাহ! তবুও মাথাটা ঠান্ডা হচ্ছে না তার। বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে কথাগুলো। অবচেতন মনে উত্থাপিত হচ্ছে বহু কথা। সিড আর মাহি কী তবে সত্যি সত্যি একে অপরের মাঝে গভীরভাবে ডুব দিয়েছে? মাহির পুরো অঙ্গে ছুঁয়েছে সিড? মাহি ধরেছে সিডকে? মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়েছে সিডের দিকে? মুগ্ধের মস্তিষ্ক বিগড়ে যাচ্ছে! একমনে ওতো কিছু ভাবলেও পরক্ষণে তার বিচক্ষণ মস্তিষ্ক তাকেই শাসিয়ে বলছে — যা ইচ্ছে করুক ঐ মেয়ে! তারজন্য তোর ওতো অস্থিরতা কেন? ও তো কেবলই তোর শত্রুর মেয়ে! আর শত্রুর মেয়ে তো শত্রুই হয়!
নিজের মস্তিষ্কের এহেন বিচক্ষণ যুক্তি এই প্রথম খণ্ডাল মুগ্ধ। যখনি তার অন্তরে লুকিয়ে থাকা রুহটা বলে উঠল,
“ হোক শত্রু! তবুও ও কেবল তোর। তোর মানে তোর! আর তোর ভোগে অন্য কেউ কেনো হাত দিবে? কেনো?”
প্রথমবার! হ্যাঁ, আজ ঠিক প্রথমবারের মতো নিজের অন্তরের ডাক শুনল মুগ্ধ। তক্ষুনি দিনদুনিয়ার সকল চিন্তাভাবনা ভুলে গিয়ে, যুবক হয়ে উঠল একপ্রকার হিংস্র বন্য বাঘের ন্যায় উম্মাদ। মুহুর্তেই তৎপর হলো সবকিছু ধ্বংস করে ফেলতে। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় এদিক ওদিক খোঁজাখুজিঁ চালিয়ে, বেডসাইডের টেবিলের ওপর থেকে মোমবাতি স্ট্যান্ডটা হাতে নিয়ে তক্ষুনি তা ছুঁড়ে ফেলল ড্রেসিং টেবিলের আয়না বরাবর। সঙ্গে সঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল আয়নাটা। পুরো ঘরময় ছড়িয়ে গেল কাঁচের টুকরো। এতটুকুতে ক্ষ্যান্ত হননি মনস্টার। চূর্ণবিচূর্ণ কাঁচের টুকরো গুলোর ওপর দিয়ে নির্দ্বিধায় হেঁটে গিয়ে হাতের সামনে যা পেল তাই ধ্বংস করতে লাগল উম্মাদ ছেলে। তার উম্মাদ কন্ঠ তারই অজান্তে আওড়াচ্ছে,
“ এই ঘর! এখানে…এক হয়েছিস তুই? কেনো….”
শব্দ ভীষণ এলোমেলো! কন্ঠ যাচ্ছে গুলিয়ে! অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ন্যায় জ্বলতে থাকা বাদামী চোখদুটো আচানক চিকচিক করছে কেন যেন! উম্মাদ ছেলেটার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে — কেউ বুঝি তার বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু কেঁড়ে নিয়েছে তারই পিঠ পিছে। সে উম্মাদ হয়েছে আজ! দি রেড ফ্ল্যাগ রুশদী কিং শ্যাডো মনস্টার আজ উদ্ভ্রান্তের ন্যায় আচরণ করছে। পুরো ঘরটাকে এক জলজ্যান্ত আস্তাকুঁড়ে রুপান্তর করা শেষে যুবক আচমকাই কাঁচের টুকরো ভরা মেঝেতে হাঁটু গেঁড়ে বসল। সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুর অংশে দেবে গেল কাঁচের খণ্ডাংশ। এতে তেমন ভ্রুক্ষেপ নেই যুবকের। সে কেমন দু’হাতে নিজের মাথাটা চেপে ধরে বিকট গর্জনধ্বনি তুলল। ভাব এমন — ছেলেটার বুকটা বুঝি ফেটে যাচ্ছে কোন এক বিষয়ে। পাশে জড়সড় হয়ে পড়ে থাকা মাহি ভয়ে তক্ষুনি গুটিয়ে গেল। চোখমুখ কুঁচকে কানদুটোতে হাত চেপে ধরল। ওদিকে মুগ্ধ এখনো গর্জন তুলছে! সময় নিয়ে থামল সে গর্জন। কাঁপছে সম্পূর্ণ বদন! রয়েসয়ে চোখ মেলল হিংস্র যুবক। বাজপাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল মাহির পানে। মাহি হকচকায়। ত্বরিত শোয়া ছেড়ে উঠতে চাইলেই ঘটল আরেক কান্ড! মুগ্ধ একলাফে এগিয়ে এসে ফের চুলের গোছা টেনে ধরল মাহির। ভীষণ রাগে গজগজ করতে করতে মেয়েটাকে এবার টানতে টানতে নিয়ে গেল শাওয়ার রুমের দিকে।
সম্পূর্ণ কাঁচের তৈরী শাওয়ার রুম! মুগ্ধ মাহিকে টানতে টানতে নিয়ে আসছে ভেতরে। অদূরেই পানিভর্তি বাথটাব। মেঝেতে পানির উপস্থিতি থাকায় বেশ কয়েকবার পা পিছলেছে মাহির, পড়তে গিয়েও বারবার বেঁচেছে মেয়েটা। তবে সে বাঁচা কী আর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়? মুগ্ধ তাকে টেনে এনেই ধুম করে ছুঁড়ে ফেলল পানিভর্তি বাথটবে। মুহুর্তেই একটুখানি সময়ের জন্য তলিয়ে গেল মাহি। হাতেপায়ে চোটও লেগেছে ভীষণ! রয়েসয়ে পানি থেকে ঘাড় উঠাতেই ঝাপসা চোখদুটো কেমন স্পষ্ট হলো ধীরে ধীরে। মাতাল ভাবটা বোধহয় পুরোপুরি না কমলেও ক্রমশ কমছে তার, সেই সাথে বাড়ছে মাথার যন্ত্রণা। মাহি কিয়তক্ষন একদৃষ্টিতে সম্মুখে তাকাতেই হঠাৎ করে পুরো শাওয়ার রুম ঝলমলিয়ে উঠল সফেদ রঙা আলোতে। হুট করে আসা তীব্র আলোর ঝলকানিতে চোখদুটো খানিক কুঁচকে ফেলল মাহি, এরইমধ্যে বাহাতে টের পেল এক হেঁচকা টান! ত্বরিত চোখ খুলল মাহি। সামনে তাকাতেই দেখে — মুগ্ধ কেমন শক্ত মুখে তার হাতগুলো রাব করছে। প্রথম প্রথম ব্যথা না লাগলেও এবার যেন বড্ড ব্যথা পাচ্ছে মাহি। লোকটা এভাবে চামড়া ঘষছে কেনো তার? সে-কি চাইছে তার গা থেকে চামড়াটা তুলে ফেলতে? মাহি এরূপ ব্যথা সইতে পারলোনা বেশিক্ষণ। মেয়েটা কেমন আধো আধো স্বরে কোনমতে বলল,
“ আহ! কষ্ট হচ্ছে আমার। ব্যথা পাচ্ছি আমি! ছাড়ুন আমার হাত।”
শুনছেনা মুগ্ধ! মেয়েটার কথা আদৌও কানে তুলল কি-না কে জানে! ছেলেটা কেমন বেপরোয়ার ন্যায় মাহির গা ঘষছে। ভাব এমন — মাহির গায়ে বুঝি লেপ্টে আছে ভীষণ ময়লা, আর সেই ময়লা ঘষে ঘষে তুলছে মুগ্ধ। ছেলেটা আজ এতো বেপরোয়া হলো কেন কে জানে! সে মাহির হাতদুটো ঘষে দিয়ে হঠাৎ করেই দৃষ্টি তাক করল মাহির মুখপানে। এই মুখ? ঐ ঠোঁট! এগুলোতে সিড স্পর্শ করেছে? কথাগুলো ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতেই নিশ্বাস ভারী হলো মুগ্ধের। ছেলেটা মুহূর্তেই হয়ে গেল এগ্রেসিভ। তৎক্ষনাৎ মাহির গলা চেপে ধরে, মুখটা বেশ খানিকটা এগিয়ে এনে কটমট করতে করতে আওড়াল,
“ এই তুই আমার না? এই কু*ত্তারবাচ্চা উত্তর দে, তুই আমার না? আমারটা খাচ্ছিস, আমারটা পড়ছিস, আমার কাছে থাকছিস তার মানে তুই আমার হলি না? বল! হলি না আমার তুই? আমার হয়ে থাকলে আমার জিনিসে অন্য কেউ হাত লাগাল কেন? এই বান্দীর মেয়ে উত্তর দে। তুই হাত লাগাতে দিলি কেন? তোর এত শখ কেন পর পুরুষের ছোঁয়া পাবার? উত্তর দে জা*নোয়ারের বাচ্চা নাহলে আজকে তোকে মেরে ফেলব আমি।”
অর্ধেকটা শরীর পানিতে ডুবে আছে! বাকিটা অবশ হয়ে যাচ্ছে ব্যথায়। তারওপর এহেন গলা চেপে ধরা। কোথায় যাবে মাহি? কিভাবে কথা বলবে সে? লোকটার কথাবার্তা কিছুই তো মাথায় ঢুকছেনা তার। মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে মনে হচ্ছে! এদিকে এবারেও মাহির মৌনতা দেখে কঠিন হলো মুগ্ধ। একবার চাইলো মেয়েটাকে এক্ষুনি মে’রে ফেলতে। তবে কিছু একটা যেন বাঁধা দিচ্ছে তাকে।কিন্তু সেটা কী? তার কোনো হদিস নেই তার কাছে। মুগ্ধ মাহির গলা ছেড়ে দিতে উদ্যোত হতেই হঠাৎ তার নাকে ভেসে এলো এক অতিপরিচিত উটকো গন্ধ! মুগ্ধ ভ্রু গোটায়। সন্দিহান হয়ে ফের নাক এগিয়ে আনে মাহির মুখের কাছে। আবারও এক লম্বা নিশ্বাস টেনে হতবাক হয় যুবক। অদ্ভুত দৃষ্টিতে মেয়েটার পানে তাকিয়ে থেকে শুধালো,
“ এসব কে দিয়েছে তোকে?”
এবারেও নিশ্চুপ মাহি! শক্ত হলো মুগ্ধের চোয়াল। বিচক্ষণ পুরুষ একে একে দুই মিলালো। অতঃপর কঠিন মুখে ফের তৎপর হলো মেয়েটার গা ঘষতে। তার ওমন ঘষামাজায়, সত্যি সত্যি মেয়েটার গায়ের চামড়ার বেশ কিছু জায়গা ছিলে গিয়েছে ইতোমধ্যে। মাহি কাঁদছে অনবরত। বারবার আর্তনাদ করে জানাচ্ছে,
“ আল্লাহ! ব্যথায় কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে আমার। একটু রহম করুন দয়া করে, প্লিজ ছেড়ে দিন আমায়। কেন এতো কষ্ট দিচ্ছেন?”
মাহির কথাগুলো এখন আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক। তখনকার ওমন মাতলামি কিংবা পাগলামি নেই কন্ঠে। এগ্রেসিভ পুরুষ খেয়াল করেনি সে কন্ঠ! সে-তো মত্ত নিজের পাগলামিতে। মাহির হাত-পা ঘষা শেষ হলে, মুগ্ধ এবার এগোয় মাহির গলার কাছে। শক্ত হাতে সেখানেও ঘষতে ঘষতে বিড়বিড়িয়ে আওড়াল,
“ আর কোথায় ছুঁয়েছে তোর? আর কোথায় কোথায় স্পর্শ করেছে ঐ বাস্টার্ডটা?”
শরীর আর মাথার যন্ত্রণায় মরিয়া মাহি। সারা গা জ্বলছে পানির স্পর্শে। হাতদুটোর তালুর চামড়া ফেটে লহু গড়াচ্ছে। তাতে লাল হয়েছে বাথটাবের একাংশ। মুগ্ধের হঠাৎ চোখ পড়ল সেথায়। সে থামল! একমুহূর্ত লহুতে রঞ্জিত পানির দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ ভাবল,
“ এতকিছু কেনো করছি আমি? কেনো এমন করছি ওর মতো একটা চরিত্রহীন, বিশ্বাসঘাতক মেয়ের জন্য? কেউ মাতাল হলেও নিজেকে এতো সস্তায় অন্যের কাছে বিলিয়ে দিতে পারে? ও তো আমার শত্রু! ও ম*রলেই কী? বাঁচলেই কী? ও তো স্বেচ্ছায় সিডের কাছে এসেছে। বলতে গেলে ওর আর বাদবাকি স্লাটদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই!”
থমকায় মুগ্ধ! আগের তুলনায় রাগ অনেকটাই কমে গিয়েছে তার। মনে মনে জমেছে এক আকাশসম ঘৃণা। ঘৃণার তোড়ে জ্বলছে মস্তিষ্ক! তাকে শক্ত করে জানাচ্ছে —
“ শি ইজ আ স্লাট! ও মোটেও নরম স্বভাবের যোগ্য নয়! এখন সময় এসেছে — ওকে ওর যোগ্য ব্যবহারটুকুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার। ফ্রম টুডে — দি মনস্টার উইল শো হার দা একচুয়েল বিস্ট! ”
মুগ্ধ উঠে দাঁড়ায়। বাথটবে ভিজে শরীরে বসে আছে মাহি। গায়ের পাতলা ফিনফিনে কাপড়টার আড়াল দিয়ে নারী কায়ার বেশিরভাগ অঙ্গ স্পষ্ট চক্ষু গোচর হচ্ছে। মুগ্ধের দৃষ্টি একমুহূর্ত সেথায় পরতেই যুবক তৎক্ষনাৎ নিজের দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে অন্যত্র। কঠিন মুখাবয়বে চাপা স্বরে ঠোঁট নাড়িয়ে আওড়াল,
“ ব্লা*ডি স্লাট!”
কথাটা বিড়বিড়ানোর মতো শুনিয়েছে অনেকটা। বাথটবে ভিজে চুপেচুপে হয়ে পড়ে থাকা মাহি শুনেনি কিছুই। মেয়েটার শরীর খারাপ লাগছে এবার। মাথাটা আর দাঁড় করিয়ে রাখতে পারছেনা কোনমতেই। মনে হচ্ছে এক্ষুনি গা গুলিয়ে বমি বের হবে মুখ দিয়ে। এদিকে মুগ্ধ মহাশয় অন্যত্র তাকিয়ে থেকে, গায়ে জড়ানো ওভারকোটটা টান মেরে খুলে এনে তৎক্ষনাৎ মাহির মুখের দিকে ছুঁড়ে মারে। মাহি হকচকায়নি মোটেও। উল্টো সেকেন্ড খানেক পেরুতে না পেরুতেই মেয়েটা কেমন ভক ভক করে ব’মি করে ভরিয়ে দিল পুরো বাথটাব। মুগ্ধ নাক সিটকে তাকাল একবার। পরক্ষণেই মেয়েটার প্রতি একরাশ ঘৃণা জন্মাল তার মনে। উঁহুম বমির জন্য না, বরং মেয়েটার স্বভাবগত চরিত্রের জন্য। মুগ্ধ আর একমুহূর্তও দাঁড়াল না সেথায়। তক্ষুনি গটগট পায়ে বেরিয়ে গেল। এদিকে বাথটবে বসে একাধারে ব’মি করে যাচ্ছে মাহি। মেয়েটা এখন ক্লান্ত! বড্ড ক্লান্ত। এহেন ক্লান্ত শরীরে উঠে যাবার শক্তি পাচ্ছে না সে। দূর্বল আখিঁদুটো সেভাবেই মুদে যেতে লাগল কেমন।
দাম্ভিক কদমের জোরালো শব্দে হাঁটছে মুগ্ধ। ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে রাখা জ্বলন্ত সিগার। দু’হাত পকেটে গুঁজে রেখে যুবক এগুচ্ছে মাহির ঘরের দিকে। তার পেছন পেছন কচ্ছপের গতিতে হাঁটছে এডউইন। মনস্টারের এহেন হুটহাট শান্তভাবসাব বড্ড সন্দেহ জনক তারজন্য! এডউইনের বিচক্ষণ মস্তিষ্ক আচঁ করতে পারছে আসন্ন প্রলয়ের আগমনকে। মনস্টার চুপচাপ এসে দাঁড়াল মাহির ঘরের সম্মুখে। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদুজন মাথা নুইয়ে রেখেছে বরাবরের ন্যায়। মনস্টার প্রতিক্রিয়াহীন! ডানপকেট থেকে আলগোছে নিজের ছোট ধারাল চাকুটা মেঝেতে ফেলে দিতেই, সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ড দু’জনের মধ্য থেকে একজন তক্ষুনি ভীষণ বিনয়ের সাথে হালকা ঝুঁকে, চাকুটা মেঝেতে থেকে তুলে এনে মনস্টারের দিকে এগিয়ে ধরল। মনস্টার একমুহূর্ত চাকুটার পানে তাকিয়ে থেকে হুট করেই একহাতে চাকুটা তুলে নিয়ে অন্যহাতের বাহুতে পেঁচিয়ে ধরল গার্ডের ঘাড়। অতঃপর চোখের পলকে ধারাল চাকুর তীক্ষ্ণ আগা দিয়ে একের পর এক আঘাত বসাল গার্ডেন ঘাড় বরাবর। বাহুর ভাঁজে আটকা পড়া গার্ড ছটফটাচ্ছে! কিয়তক্ষন বাদেই তার এহেন ছটফটানি থামল। শরীরটা হয়ে গেল একদম স্থির! মুগ্ধ ছেড়ে দিল গার্ডের নিস্তেজ দেহটা। তা গিয়ে লুটিয়ে পড়ল মেঝেতে। এদিকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ড যিনি কি-না এখনো নুইয়ে রেখেছেন ঘাড়, বেচারা ভয়ে আতঙ্কে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছে। এডউইন আড়দৃষ্টি দেখল সবটা। তার মধ্যে তেমন একটা হেলদোল নেই।
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৪
মুগ্ধ নিজের হাতে থাকা র*ক্তা*ক্ত ধারালো চাকুটা কেমন ধীরে ধীরে অপর গার্ডের গায়ে মুছে দিচ্ছে। এহেন কান্ডে তটস্থ গার্ড! মুখ খুলে যে কিছু বলবেন তার-ও তো জো নেই। মুখগহ্বরে জিভের উপস্থিতি থাকলে না বলতেন! এদিকে মুগ্ধ ধীরে ধীরে গার্ডের গায়ে চাকুটা মুছতে মুছতে আচমকা গার্ডের বুকের বাঁপাশে খট করে বসিয়ে দিল পুরো চাকুটা। মুহুর্তেই গার্ডের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো লহু। মুগ্ধ একহাতে চাকুর গোড়া মোচড়াচ্ছে , আরেকহাতের তর্জনী এবং মধ্যমার ভাঁজে সিগার চেপে সুখটান দিচ্ছে একটু একটু করে। যুবকের মুখে নেই তেমন উদ্বেগ! সে আদৌও রেগে আছে না-কি নেই, তা নিয়ে রয়েছে একরাশ সংশয়! অপর গার্ডের মৃ*ত্যু নিশ্চিত হলেই থামে মুগ্ধ। একটানে গার্ডের বুক থেকে চাকুটা বের করে এনে গমগমে গলায় আদেশ ছুড়ঁল,
“ কল মেইডেন!”
